গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৩১ জন আর এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও আটজনের। তাদের নিয়ে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। আর এ মাসে মৃত্যু হলো ৩ শতাধিক মানুষের। দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে এত রোগী আর এত মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৩১ জন। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে ৯১৮ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৩ জন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৩৩১ জনকে নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেবল সরকারি হিসাবেই হাসপাতালে ভর্তি হলেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ জন। এর আগে দেশে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। গত ২১ আগস্ট সে রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ৩২৭ জন আর ঢাকা মহানগরের বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৫১৫ জন।
অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ছয়জন আর ঢাকা মহানগরের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দুজন। তাদের নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হলো ৫৫৬ জনের। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪১০ জন আর ঢাকা মহানগরের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৪৬ জন।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের আগে সেটাই ছিল মৃত্যুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। কিন্তু গত ৩ আগস্ট সে রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড হয়। এরপর গত ২৩ আগস্ট মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ৫ শতাধিক।
চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এবং এত মৃত্যু দেশের ইতিহাসে আগে আর হয়নি। সেই সঙ্গে চলতি মাসেও যে পরিমাণ রোগী ও মৃত্যু হয়েছে কোনো একক মাসেও এত রোগী আর মৃত্যু দেখেনি দেশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ১০ জন আর মৃত্যু হলো ৩০৫ জনের।
এর আগে জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল ২০৪ জনের। জুন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন। সে সময় মারা যান ৩৪ জন। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। মারা যান জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন এবং এপ্রিল ও মে মাসে দুজন করে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং প্রথম কর্মদিবসেই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নেন এবং সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তার প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন।
প্রথম দিনেই তিনি ব্যস্ত সময় পার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। কর্মদিবসের শুরুতে তার কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্যের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, ডিন, রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ইনটার্নশিপ করেছি। আরপি, হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করেছি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন সুনাম আছে তেমন নানাবিধ সমস্যাও আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা অনেক। সমস্যা সমূহ সমাধানের মাধ্যমে গণমানুষের সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে হবে। সবাইকে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, যে যে পদে চাকুরী করেন সেই পদের কাজ ও দায়িত্ব কি কি সেটা উপলব্ধি করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মনোযোগী হতে হবে। যার যে দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে পালন করলেই বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে।
সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম তার বক্তব্যে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, কোর্স ডিরেক্টর, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করেন।
বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্য থেকেই বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। প্রত্যেক মাসে বিভাগের কর্মকান্ডের অগ্রগতি ও মূল্যায়ন করতে হবে।
মেডিক্যাল অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সেবার শুরুর ভিত্তি হলো মেডিক্যাল অফিসারগণ। মেডিক্যাল অফিসারগণ চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মনোভাবের প্রতিফলন বহন করেন। ব্যক্তি জীবনে, কর্মস্থলে যত সমস্যা ও দুঃখ কষ্ট থাক না কেন রোগীদেরকে হাসিমুখে সেবা প্রদান করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনার থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর সকলেরই একটি ধ্যানে থাকতে হবে তা হলো সঠিকভাবে প্রত্যেক এর কাজটি যথাসময়ে পালন করা। শৃঙ্খলা বজায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোগীসহ সকলের সাথে হাসিমুখে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিগত কঠিন সময়ে দেশে যখন ন্যায় বিচার ছিল না, মেধার মূল্যায়ন ছিল না তখনও আমি নির্ভয়ে কথা বলেছি, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। আমি মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আমার সাহসের মূল বিষয় হলো সততা। তাই আমি চাই এখানে কর্মরত সকলে শৃঙ্খলার সাথে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।
প্রথম কর্মদিবসেই তিনি বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন একটি কিডনি প্রতিস্থাপন রোগীর খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি ১৯৮২ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, সাবেক আইপিজিএমআর ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আইইডিসিআরে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতালে কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই চিকিৎসক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে শতাধিক গবেষণা প্রকাশ করেছেন এবং ক্লিনিক্যাল ও জনস্বাস্থ্য গাইডলাইন প্রণয়নেও অবদান রেখেছেন।
গাজীপুরে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না এবং প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন-আমাদের সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, আমরা সেগুলো চিহ্নিত করে পূরণ করছি। টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “কোনো রকম ঘাটতি আমরা রাখব না। আপনারা সবাই সহযোগিতা করুন, সচেতনতা বাড়ান যাতে প্রতিটি শিশু টিকা নেয়। যত বেশি শিশু এই কর্মসূচির আওতায় আসবে, আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকব।”
ডা. এম এ মুহিত জানান, ইতোমধ্যে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে, যারা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত করছে এবং সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করছে।
তিনি বলেন, “ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা তথ্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা নিশ্চিত করতে চাই—একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে। ইতোমধ্যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে, ইনশাআল্লাহ ভয়ের কোনো কারণ নেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ দিন বয়সী আফরিন জান্নাত নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান।
আফরিন জান্নাত খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের খগারহাট এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে স্বজনেরা শিশুটিকে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
পরে রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলায় এটি হামে প্রথম মৃত্যু।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে এখন হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৫ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে তিন শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৭৭ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৮ শিশু।
ঢাকায় আগামীকাল সকাল ৯টায় হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালেও একজন মারা গেছেন।
হাম আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু থেকে বয়স্করা। দুপুরে ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল লতিফা রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানান, এই হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন রোগী। এখন পর্যন্ত সর্বমোট চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০৪ জনের বেশি। শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নেই। হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ড ও বেডের সংকট নেই। তবে টিকা প্রদান শুরু হলে সংক্রমণের হার কমে আসবে বলে আশার কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসক সংকট ও এক্সে-মেশিন বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘদিন অপারেশনের ডাক্তার ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। সেই সাথে নষ্ট হওয়ার পথে মূল্যবান মেশিনপত্র। এছাড়াও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের অপারেশনের মেশিন বন্ধ থাকায় অপারেশন করতে এসে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।
বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে বেশি টাকা খরচ করেই অপারেশন করাতে হয় রোগীদের। তাই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সবার উপযোগী করে তোলার অনুরোধ স্থানীয় জনগণের।
গ্রামীন জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষে ১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করা হয়। রোগীর চাহিদা বিবেচনায় ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনে ২০১৭ সালে রুগীদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকার কারনে ৪ লক্ষাধিক মানুষের সেবা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। এক্সরে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার সবই আছে শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। এ কারণে অপারেশনের সরঞ্জাম ও এক্সরে মেশিনের উপর ধোলার আস্তরণ পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। আর কতদিন এভাবে পড়ে থাকলে সুনজরে আসবে কর্তৃপক্ষের এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্র জানায়, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ১১৭ টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৭০ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭ জন। চিকিৎসক পদ রয়েছে ৩১ টি, আছে ১৮ জন, শূন্য রয়েছে ১১ টি, নার্সের পদ রয়েছে ৩০টি, আছে ২৯ জন, শূন্য রয়েছে ১টি, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে ১ জন, শূন্য রয়েছে ২ টি, সেকমো ২ জনই আছে, ফার্মাসিস্ট মোট ২ জন, আছ ২ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী পাঁচজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৪টি, পিয়ন চারজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৩টি, অফিস সহকারী তিনজনের একজনও নেই, নিরাপত্তা কর্মী দুই জনের একজনও নেই, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ২টি, এক্সরে একজন শূন্য, ওটিতে একজন শূন্য।
স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এক্সরে মেশিন দাও অনেকদিন হলো বন্ধু রয়েছে। অপারেশনও হয় না। একটি হাসপাতালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম এভাবে নষ্ট হচ্ছে অথচ চিকিৎসকের অভাবে চালু হচ্ছে না। কবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর পড়ে আল্লাহ ভাল জানেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে সেবার মান ভালো করার জন্য।
হাসপাতাল বাজারের বাসিন্দা তপন বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি হাসপাতাল অথচ এখানে কোন ডেলিভারি রোগীর অপারেশনই হয় না। যে এক্সরে মেশিন টা আছে সেটাও বন্ধ। এখানে আমরা কম খরচে অপারেশন করতে পারব কিন্তু তা আর হয় না। অপারেশন দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সেবা নিতে আসা অসহায় মানুষেরা। অল্প খরচে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি গাংনীর অনেক মানুষ। কতদিনে এভাবে পড়ে থেকে এগুলো নষ্ট হবে তা কেউ জানে না। দুই থেকে তিনটা চিকিৎসক নিয়োগ দিলেই এই অপারেশন থিয়েটারটি চালু হবে। কিন্তু সব নিয়োগ হয় এগুলো আর হয় না।
রাশিদা খাতুন বলেন, গাংনী সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি অপারেশন হয় না।তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মতো অসহায় মানুষকে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। তাই দ্রুত অপারেশনের ডাক্তার প্রয়োজন। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের ডাক্তার খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আব্দুল বারী বলেন, কিছুদিন আগে আমার পা ভেঙে গেছে। গাংনী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম পরে জানতে পারলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে হয় না। তাই অন্য ক্লিনিক থেকে এক্সরে করিয়েছি।যদি হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা চালু থাকে তাহলে আমার অল্প খরচে হয়ে যেত। কারণ বাইরে অনেক খরচ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ধুলাবালির আস্তরণ পড়েছে এক্সরে মেশিনে। কিন্তু পদটি শূন্য থাকার কারণে এটা চালু হচ্ছে না। রুমটির দরজা থাকে তালাবদ্ধ।
কাথুলী গ্রামের আলেয়া খাতুন বলেন, আমার অল্প দিন হলো সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এটা যদি সরকারি হাসপাতালে হতো তাহলে আমার অনেক খরচ কমে যেত। প্রাইভেট ক্লিনিকে করার কারণে আমার খরচ অনেক বেড়ে গেছে জা পরিবারের জন্য একটা বড় বোঝা। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এসেছিলাম। এসে দেখি এখানে অপারেশন হয় না। তাই প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করতে হয়েছে। অনেক অসহায় পরিবার আছে যাদের সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে চরম অভাবে পড়ে যায়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব ইন সার্চ মাহাবুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন বন্ধ থাকার কারণে অত্র এলাকার জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরকার বিষয়টি দ্রুত নজরে নিয়ে শূন্য পদটি পূরণ করলে এলাকার মানুষ অনেক উপকার পাবে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন,দীর্ঘদিন এনেস্থিসিয়া ও সার্জারি ডাক্তার না থাকার কারণে অপারেশন হচ্ছে না। এনেস্থিসিয়া, সার্জারি ডাক্তারসহ যেসকল সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান হলে আমরা অতি দ্রুত অপারেশন শুরু করতে পারবো। গত ৪ বছরে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে।
তিনি আরও বলেন, আর এক্সরে মেশিন যিনি চালাতেন তিনি গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে অবসরে গেছেন। তারপর থেকেই এক্সরে বন্ধ আছে। আশা করছি অতি দ্রুত সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্য কোনো সমস্যা নেই।
মেহেরপুর-২ (৭৪ গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, সার্জারি ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে দীর্ঘদিন অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও এক্সরে কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে পদটি শুন্য থাকার কারণে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েই চলেছে হামের প্রকোপ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৩২ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। এই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ জন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস।
তিনি জানান, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ৩৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া সব রোগীকে প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে হাম কি না তা পরীক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং বর্তমানে রাজশাহীতে এই পরীক্ষার সুবিধা নেই। তবে গত এক মাসে রামেক হাসপাতালে হামে নিশ্চিতভাবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুধু রাজশাহী বিভাগই নয়, খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর এবং ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার রোগীরাও বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ প্রসঙ্গে ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, রোগীর সংখ্যা যদি আরও বাড়ে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আইসোলেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
প্রচণ্ড তাপদাহ আর গ্রীষ্মের এই মৌসুমে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে পুষ্টিবিদরা এমন সব খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এমনই এক চমৎকার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হলো বাঙ্গি। কম ক্যালোরিযুক্ত এই ফলটিতে প্রায় ৯০ শতাংশই পানি, যা ডিহাইড্রেশন রোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় বাঙ্গি কেবল একটি সুস্বাদু ফলই নয়, বরং এটি সুস্বাস্থ্যের এক শক্তিশালী উৎস।
বাঙ্গির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শ্বেতকণিকা উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করে, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত বাঙ্গি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য বাঙ্গি একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। এতে থাকা উচ্চ খাদ্যআঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সহজ হয়।
হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বাঙ্গি বিশেষ কার্যকরী। ফলটিতে বিদ্যমান পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং এর ফাইবার উপাদান রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে নিয়মিত বাঙ্গি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়। একই সাথে বাঙ্গি আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য অর্থাৎ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও আশীর্বাদস্বরূপ। এটি শরীরের কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে, যার ফলে অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং বলিরেখা দূর হয়।
পাচনতন্ত্র বা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে বাঙ্গির জুড়ি নেই। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যায়। বাঙ্গিতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এসব সমস্যা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বাঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ এবং ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চোখের পেশী শক্তিশালী করে এবং বয়সের সাথে সাথে হওয়া ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।
সবশেষে, কিডনি সুরক্ষা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে বাঙ্গি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি একটি শক্তিশালী মূত্রবর্ধক ফল হওয়ায় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের সার্বিক বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি প্রতিটি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা প্রয়োজন। তাই সুস্থ ও সতেজ থাকতে এই মৌসুমে বাজারের কৃত্রিম পানীয়র পরিবর্তে পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঙ্গি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে এখন হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই শিশুর সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ ছিল।
এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৪ শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ জন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে দশজন শিশু এবং একজন যুবক রয়েছেন। তবে তারা হামে আক্রান্ত কিনা এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা।
ছয় ঋতুর দেশে তপ্ত প্রকৃতিতে এখন বসন্ত ঋতু চলছে। ঋতু অনুযায়ী অনেকেই মৌসুমি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে হাম নামক রোগের প্রাদুর্ভাব।
বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের আইসোলেশনে ভর্তি করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. গোপাল জানান, হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন শিশু ওয়ার্ডে। অপর একজন প্রাপ্ত বয়স্ক কেবিনে ভর্তি রয়েছে।
চিকিৎসকেরা বলেন, আমরা রোগীদের কাছ থেকে রোগ নির্ণয় করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করছি। সেই নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেই নমুনার রির্পোট হাতে পেলে রির্পোট পেলে জানা যাবে হাম কি না। এর মধ্যে আমরা বাড়তি সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। যারা আক্রান্ত হয়ে আসছেন, তাদেরকেও আমরা আলাদা রাখছি। অন্য রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেটি ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। তাই বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগের ধরন দেখে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
বর্তমানে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত সুপারিশ অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় তা কমিয়ে ৬ মাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত জুনের শুরুতে এক মাসব্যাপী একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় সারা দেশের প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের একটি আশঙ্কাজনক দিক হলো—৯ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরী এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অনেক রোগী শনাক্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে বিশেষ এই কর্মসূচির জন্য টিকার বয়সসীমা কমানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র বিশেষ কর্মসূচির জন্যই প্রযোজ্য হবে। নিয়মিত বা রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ ৯ মাসেই অপরিবর্তিত থাকবে, কারণ এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্থায়ী কোনো নতুন সুপারিশ এখনও আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের টিকার কার্যকারিতা বয়সের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও ইমিউনোলজিস্ট ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী জানান, ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে বর্তমানের মতো জরুরি সংকট বা প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মাসের আগেও টিকা দেওয়া সম্ভব। যদিও ৬ মাস বয়সে এই টিকার কার্যকারিতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের জীবন বাঁচাতে একে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া ৩০ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার শিশু পর্যাপ্ত সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকা সংগ্রহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল সুবিধা চালুকরণ, আইসিইউ বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে সংক্রমণের চেইনটি দ্রুত ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এখন হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইপিআই কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে দেড় হাজার অতিক্রম করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান যাচাইয়ের কাজ চলছে। উল্লেখ্য যে, দেশের ৯৫ শতাংশ টিকা সহায়তা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) থেকে আসলেও গত বছরে আসা টিকার একটি বড় অংশ অব্যবহারযোগ্য রয়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার দ্রুততম সময়ে টিকাদান সম্পন্ন করাই এখন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী জুনের বিশেষ কর্মসূচিটি দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভাগের ১০টি জেলার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইতিমধ্যে ২৬ জনের শরীরে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলায় এই সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার বাইরে অন্যান্য জেলাগুলোতেও সংক্রমণ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আউটডোরে বিপুল সংখ্যক শিশু তীব্র জ্বর, সর্দি, গায়ে ব্যথা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে আসছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই অত্যন্ত অল্পবয়সী, যাদের বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। মূলত যেসব শিশু এখনও নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আসেনি অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই এই ভাইরাসের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর দ্রুত বিস্তার ঠেকানো স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন জানিয়েছেন, হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তাই রোগীদের মূলত সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট বা উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, হামের জটিলতা হিসেবে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি থাকা তিন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এনআইসিইউ (NICU) বা নবজাতক নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তীব্র সংকট। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অধিকাংশ জেলা হাসপাতালেই পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা নেই, ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অবকাঠামো পুরোনো হওয়ায় খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। অধিদপ্তরের পরিচালক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এনআইসিইউ সংকট বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। তবে বড় জেলাগুলোতে দ্রুততম সময়ে এনআইসিইউ সাপোর্ট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো শিশুর মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণ যেমন—তীব্র জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রেখে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে হবে। দ্রুততম সময়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু না করলে এই সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রতি বছর জন্ম নেয় ৪০ লাখের বেশি শিশু। তাদের সুরক্ষায় ১২টি রোগ প্রতিরোধে দেয়া হয় নয় ধরনের টিকা। জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এসব টিকা পায় শিশুরা। তবে ফুরিয়েছে ৬ ধরনের টিকার মজুত। এগুলো হলো হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার, হেপাটাইসিস-বি। তবে এ সব টিকা মাঠ পর্যায়ে থাকার দাবি করেছে অধিদফতর।
মূলত, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অপারেশনার প্ল্যান--ওপি বাতিল হলে সংকটে পড়ে টিকা কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা বঞ্চিত হয় অনেক শিশু। কমে যায় টিকাদানের হার।
পরে সব ধরনের টিকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয় হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে শুধু শিশুদের টিকায় রাখা হয় ৮৪২ কোটি টাকা। সিদ্ধান্ত হয় সরাসরি কেনার পাশাপাশি টেন্ডারেও টিকা কেনার। কিন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই প্রক্রিয়া শেষ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কেটে যায় দীর্ঘ সময়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, টিকাগুলো সরাসরি ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হতো। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। সিদ্ধান্ত আসে অর্ধেক ইউইসেফের কাছ থেকে এবং অর্ধেক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বাস্তবায়না রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তা বাতিল হয়ে গেছে এর কোনও বিকল্প হাতে রাখা হয়নি। এর ফল আমরা ভোগ করছি। এখন পরিকল্পনা চলছে আবারও সরাসরি ক্রয় করতে পারি কী না। যদি হয় বাকি অর্ধেক টাকা আমরা সরাসরি ক্রয়ে ব্যয় করতে পারবো। এই ভ্যাকসিন মজুত থাকবে। যেখানে সংকট আছে সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সারাদেশেই শুরু হয়েছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।