বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভালোবাসুন নিজের চোখকে

চলছে চোখের পরীক্ষা - নিরীক্ষা
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:০৭

‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে।’ মায়াবী কাজল কালো চোখ নিয়ে মানুষের রোমান্টিকতার শেষ নেই। পাশাপাশি অঙ্গ হিসেবেও চোখের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, বহির্জগতের সঙ্গে মানুষের সংযোগ রক্ষায় চোখ অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। একজন দৃষ্টিহীন মানুষই কেবল বুঝতে পারে চোখের কত মূল্য! তাই দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য চোখের যত্ন নেয়ার বিকল্প নেই। সারা বিশ্বে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও নিবারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে পলিসি বিনির্মাণে আরও উদ্যোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ পালন করা হয়। এ বছরও আগামীকাল ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন করা হবে। সেই দিবস এবং চোখের গুরুত্ব নিয়েই আজকের ‘স্বাস্থ্যকথার’ সব আয়োজন। লিখেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল হক

দৃষ্টিহীনতা বা অন্ধত্ব চোখের নানান রোগের কারণে হতে পারে। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগই প্রতিরোধযোগ্য। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চক্ষু রোগের সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার মাধ্যমে বেশির ভাগ অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমস্যা হচ্ছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রান্তিকপর্যায়ে চক্ষুসেবার অপ্রতুলতা প্রকটভাবে বিদ্যমান। এই সমস্যা নিরসনে প্রান্তিকপর্যায়ে চক্ষুসেবাকে বিস্তৃত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্রজেক্ট’-এর অধীনে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ভিশন সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নানান বেসরকারি সংস্থাও কাজ করে চলেছে। প্রতিরোধযোগ্য চোখের অসুখের কারণে একটি মানুষও যেন অন্ধ না হন- এ লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সব উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদেরও চোখের অসুখগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং কোথায় এ সব অসুখের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে তা জানতে হবে। চোখের সাধারণ কিছু রোগ সম্পর্কে দৃষ্টিপাত ও তার মাধ্যমে এই কাজকে আরেকটু এগিয়ে নেয়াই আজকের আলোচনার উদ্দেশ্য।

নবজাতক ও শিশুদের চোখের রোগ

নবজাতক শিশুদের চোখের রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চোখ ওঠা বা কনজাংক্টিভাইটিস, রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি (আরওপি), জন্মগত ছানি, জন্মগত গ্লুকোমা, রিফ্র্যাক্টিভ এরর বা চোখের পাওয়ারের সমস্যা, অলস চোখ, ট্যারা চোখ, চোখে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি। এর প্রায় সবই যথাসময়ে ডায়াগনোসিস হলে চিকিৎসায় ভালো করা সম্ভব। যেসব বাচ্চা প্রিম্যাচুর তাদের অবশ্যই জন্মের এক মাসের মধ্যে চক্ষুবিশেষজ্ঞ দিয়ে চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। কারণ, আরওপি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। কিন্তু সঠিক সময়ে ডায়াগনোসিস না হলে অন্ধত্ব নিশ্চিত। এ ছাড়া প্রতিটি শিশুকে স্কুলে ভর্তি করার সময়ই একবার অন্তত চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। ট্যারা চোখ নিয়েও আমাদের সমাজে রয়েছে নানান কুসংস্কার। যার ফলে অনেকেই এর চিকিৎসা করান না। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এটা নিরাময়যোগ্য। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাচ্চাদের খেলাধুলার সময়ে চোখে আঘাত পাওয়া। মাঝে মাঝে এসব আঘাত এমন মারাত্মক হয় যে, চোখ অন্ধ হয়ে যায়। তাই সুচালো, ধারালো বা এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খেলনা বাচ্চাদের দেয়া উচিত নয়। বাচ্চাদের চোখের যেকোনো সমস্যায় নিবন্ধিত চক্ষুবিশেষজ্ঞ ছাড়া চিকিৎসা নেয়াও উচিত নয়।

অনেকের ধারণা যে ছানি এবং গ্লুকোমা এসব বয়স্কদের রোগ। কিন্তু বাচ্চাদেরও এসব রোগ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা না করালে স্থায়ীভাবে বাচ্চা অন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পরে চিকিৎসায় তেমন একটা লাভ হয় না। দেশের সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে এসব চিকিৎসা ও অপারেশন প্রায় বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল অন্যতম, যেখানে বাচ্চাদের সব রোগের চিকিৎসা প্রায় বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বর্তমানে আরও একটি সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেটি হচ্ছে শিশুদের মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব শিশু মাত্রাতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারে আসক্ত তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও চোখের পাওয়ারজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে যেন একদম ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস তৈরি না হয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের নিরাময়যোগ্য চক্ষুরোগ

১. চোখের ছানি বা ক্যাটারেক্ট- এটি বয়স্কদের অন্যতম একটি রোগ যার কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়। বয়সজনিত এবং আরও কিছু কারণে আমাদের চোখের স্বচ্ছ লেন্সটি ঘোলা হয়ে যায়। এটাই ক্যাটারেক্ট বা ছানি রোগ। এই রোগের চিকিৎসা হচ্ছে যথাসময়ে ছানি অপারেশন করানো। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে চোখের ছানি অপারেশন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও বিনামূল্যে ছানি শনাক্ত ও অপারেশন করে থাকে। তবে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া ছানি অপারেশন করানো উচিত না। অপারেশন এবং হাসপাতালের সার্বিক মান ভালো না হলে বরং আরও ক্ষতি হতে পারে।

২. রিফ্যাক্টিভ এরর বা চোখের পাওয়ারের সমস্যা- এই সমস্যার কারণেও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, যা অতি সহজেই চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। প্রায় প্রতিটি মানুষের বয়স ৪০ পার হলেই কাছের দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এটি একটি বয়সজনিত সাধারণ সমস্যা। এটাও চশমার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

৩. ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি- যাদের দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের চোখের রেটিনা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এগুলো পুরোপুরিই প্রতিরোধযোগ্য অসুখ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না করালে পুরোপুরি অন্ধত্বও হতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে তাদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথির অগ্রগতি থামানো সম্ভব। এ ছাড়া কিছুটা মারাত্মক অবস্থায় চলে গেলেও লেজার, ইনজেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে আরও মারাত্মক ক্ষতি থেকে চোখকে রক্ষা করা সম্ভব। ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও এ হাসপাতালে তা প্রায় বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে।

৪. গ্লুকোমা- এটি চোখের ভেতরের প্রেশার বৃদ্ধিজনিত একটি রোগ। একে বলা হয়ে থাকে নীরব ঘাতক। কারণ একদম মারাত্মক অবস্থায় না গেলে রোগী বুঝতেও পারেন না যে তার এই রোগটি রয়েছে। এটি চোখের স্থায়ী অন্ধত্বের একটি কারণ, যা প্রতিরোধযোগ্য। বিশেষ করে যাদের পরিবারে এই রোগের হিস্ট্রি রয়েছে, নিকটাত্মীয় যেমন, বাবা-মা ও ভাই-বোনের কারো এই রোগ থাকলে তাদের উচিত গ্লুকোমা স্ক্রিনিং নিয়মিত করানো। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ডায়ালোসিস ও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৫. কর্নিয়ার অসুখ- আলসার বা ক্ষত তৈরি হওয়া কর্নিয়ার একটি মারাত্মক অসুখ। আঘাতের কারণে, বিশেষ করে যারা কৃষিকাজ করেন, তাদের কর্নিয়ায় ছত্রাক দ্বারা আলসার তৈরি হতে পারে যা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া যারা ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন, তারা প্রায়ই ওয়েল্ডিংয়ের লোহার টুকরার আঘাত পান কর্নিয়ায়, যাতে কর্নিয়ায় স্থায়ী দাগ পড়াসহ আলসার বা ক্ষত তৈরির ঝুঁকি রয়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি এবং প্রটেকটিভ চশমা ব্যবহার করে কাজ করার উৎসাহ প্রদান করতে হবে। কর্নিয়ার অসুখের কারণে অনেক মানুষ অন্ধত্বের শিকার হন, যা কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। কিন্তু ধর্মীয়সহ নানা কারণে আমাদের দেশের মানুষ মরণোত্তর চক্ষুদানে তেমন উৎসাহ পান না। এ ব্যাপারে ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের ব্যাপক কাজ করার ক্ষেত্র রয়ে গেছে।

৬. বিবিধ- এ ছাড়া উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালি ব্লক, চোখের নার্ভের রক্তনালি ব্লকসহ নানান অসুখ হতে পারে। ধূমপান, মদপানের কারণেও এসব রোগ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

চোখ অমূল্য সম্পদ। চোখের যত্ন এবং চোখের নানা প্রতিরোধযোগ্য অসুখের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনেক আগে থেকেই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে আমাদের জনগণের নিজেদের সচেতন হওয়ার। আপনার দৃষ্টি, আপনার সম্পদ। তাই আপনার চোখের যত্ন নিন, নিজের চোখ দুটোকে ভালোবাসুন।

লেখক : চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন,

লং টার্ম ফেলো ইন ভিট্রিও-রেটিনা,

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।


ভোলায় স্কয়ার গ্রুপের স্বাস্থ্যসেবা পেল আড়াই হাজারেরও বেশি রোগী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের উদ্যোগে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হলো দিনব্যাপী মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ‘৫৬ হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় সোমবার (৪ মে) উপজেলার মনিরাম এলাকার হাফিজ ইব্রাহিম কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

‎স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ. চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া এই বিশেষ উদ্যোগে একদিনেই ২ হাজার ৫৬৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‎সকালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’ তিনি স্কয়ার গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

‎কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেকেই দীর্ঘদিনের অসুস্থতা নিয়ে এসে এখানে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‎এই মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অংশ নেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের একটি দল। তারা সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরীক্ষা করেন এবং রোগীদের স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক পরামর্শ দেন। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা লাভ করেন, যা তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্কয়ার গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৫ মে) দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার হালিমা খাতুন মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কর্মসূচির শেষ দিন ৬ মে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা বাসটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেবে।


হাম ও উপসর্গে একদিনে রেকর্ড ১৭ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে এ ভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৬ জন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


গাজীপুরে ২৪ ঘণ্টায় হামে দুই শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজিপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুরে হাম আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গাজীপুর তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত দুই শিশু গাজীপুরের বাসন চৌরাস্তা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে রাইহান (৯) এবং শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে সিফাত (৫)।

হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত দুই শিশুর চিকিৎসা চলছিল। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর মৃত্যু হয়। পরে তাদের পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। তবে বর্তমানে কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


হাম ও উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৬১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম উপসর্গে নয় শিশু ও নিশ্চিত হামে এক শিশু মারা গেছে। এই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ২৬১।

রোববার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫০ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৪৪ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৫ হাজার ৩১৩ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৯৭৬ শিশু।

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।


চুয়াডাঙ্গায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুটির মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুটির নাম আমির হামজা (৮ মাস)। সে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীমের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে আমির হামজাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৭৪ রোগী। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ জনে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুস সাকিব জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এ পর্যন্ত ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২২ শিশু ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ২২ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব শিশু ভর্তি হয়। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৫ শিশু। এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।

এদিকে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৭২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৮২ শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি হতে শুরু করলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।

হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে, যেখানে তিনটি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।


২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫ শিশু ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব শিশু ভর্তি হয়। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৪ শিশু। গুরুতর অবস্থায় ২ শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৫৭ শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি হতে শুরু করলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।

হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে, যেখানে তিনটি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবে গুরুতর অবস্থায় দুই শিশুকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।


হামে শিশুমৃত্যুতে আসকের উদ্বেগ, অতীতের অবহেলায় দায়ীদের জবাবদিহি দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হাম সংক্রমণে শিশুদের ব্যাপকহারে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানিয়েছে এ মানবাধিকার সংস্থাটি।

হামের টিকাদানের ক্ষেত্রে অতীতের অবহেলা, গাফিলতি বা সিদ্ধান্তহীনতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিদিনই নতুন করে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং দুঃখজনকভাবেভাবে প্রাণ হারাচ্ছে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এভাবে শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, নীতি পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, হাম এমন একটি রোগ, যার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে কার্যকর, নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী টিকা বিদ্যমান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, যথাসময়ে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কেন নিশ্চিত করা গেল না? কেন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে প্রতিরোধযোগ্য রোগ আজ মহামারিসদৃশ আকার ধারণ করে শিশুদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে?

আসক বলে, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামপ্রতিরোধী টিকা সংগ্রহে বিলম্ব, ঘাটতি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। যদি তা সত্য হয়ে থাকে, তবে বিষয়টিকে নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খতিয়ে দেখা জরুরি যে টিকা ক্রয় কেন আটকে ছিল, কোন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত থেমে গিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের শীর্ষ পদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন কি না, কিংবা অবহেলা, অদক্ষতা বা সমন্বয়হীনতার কারণে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, একই সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরও জাতির জানা প্রয়োজন, যদি পূর্ববর্তী সরকার টিকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সরকার কীভাবে একই বা অনুরূপ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই টিকা সংগ্রহ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করতে সক্ষম হলো? এ পার্থক্যের কারণ কী? কোথায় ছিল বাধা, কারা ছিলেন দায়ী এবং কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিলম্বিত হয়েছিল? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং টিকার দুই ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান, সীমান্ত এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালগুলোয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার সুস্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছে। আসক বলে, আন্তর্জাতিক সংস্থার এই সতর্কতা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কেবল স্বাস্থ্য খাতের সংকট নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও জননিরাপত্তার প্রশ্ন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে চিকিৎসা ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশেষত শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে রক্ষা করার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র। সনদের ২৪ অনুচ্ছেদে শিশুদের সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু তাই শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষায় ব্যর্থতারও প্রশ্ন।

আসকের বিবৃতিতে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা; ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, বস্তি, পাহাড় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া; আক্রান্ত শিশুদের বিনা মূল্যে ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা; টিকা সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং অতীতের অবহেলা, গাফিলতি বা সিদ্ধান্তহীনতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।


ডেনমার্কের প্রযুক্তিতে দেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু করল এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই উপলক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত “সাবাশ বাংলাদেশ: ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি” শীর্ষক অনুষ্ঠানটি দেশের উচ্চমানের ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং বায়োলজিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভো নরডিস্ক নভোমিক্স ও নভোর‌্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি করা হবে। দেশে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে নভো নরডিস্কের বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে, উচ্চমানের ইনসুলিন সরবরাহ সহজ করবে এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।”

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, “এই অংশীদারিত্ব স্বাস্থ্যখাতে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে- জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক মান বজায় রেখে জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, “স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসকেএফ-এর সঙ্গে নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয় উৎপাদনের এই উদ্যোগ দেখায়, কীভাবে ডেনিশ উদ্ভাবন মানসম্মত ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে, পাশাপাশি দেশের বায়োম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করে।”

নোভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি বলেন, “এই স্থানীয় উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ উপলক্ষে নভোমিক্স ও নভোর‍্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮% কমানো হচ্ছে, তবে গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।”

ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, “আজ আমরা একটি গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের প্রথম আধুনিক পেনফিল ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হলো। এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন আরও বাড়ছে।

নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ডায়াবেটিস চিকিৎসার উন্নয়ন এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সাল থেকে তারা দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।


হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হামে তিনজন ও হামের উপসর্গে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গে ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৭৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৬২ জন। নিশ্চিত হামরোগী ১৬৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত হামরোগী চার হাজার ৮৫৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৩৪৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৯১ জন।


বিএমইউতে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উদযাপিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আজ সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে বি ব্লকের সামানে থেকে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘আইপি এ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি সেট, ইনোভেট’। এই আয়োজন জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিএমইউ এর শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল এর উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেন বিএমইউর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিরাট অবদান রাখছে। উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনভেনশন হাব চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএমইউতে উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার উদ্ভাবিত বিষয়ের মেধাস্বত্ব অধিকার নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। বর্তমান জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নিত্য নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের এই যুগে বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদের পেটেন্ট, কপিরাইটসহ স্বত্ত্বাধিকার অর্জনের দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই দিক থেকে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে বিএমইউর সম্মানিত সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সচিব উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার বেগম। সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. দীনে মোজাহিদ মোঃ ফারুক ওসমানী। অনুষ্ঠানে বিএমইউ এর সম্মানিত শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।


হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে ১৭ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ৮৪ শিশু।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২১ এপ্রিল সাড়ে ৩ বছরের শিশু মেয়েটিকে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়া নিয়ে জেলার ত্রিশাল থেকে এসে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরমধ্যে গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৫৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৩ শিশু। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ৭৫৫ শিশু।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮তলায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।


উপজেলা হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন: ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী রক্ষায় হাজার ৯৫০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। মূলত হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সুরক্ষা প্রদান এবং মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতির চুরির ঝুঁকি রোধ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য তিন শিফটে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নিরাপত্তা দলে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) এবং আটজন সাধারণ আনসার সদস্য থাকবেন। তাঁদের বেতন, উৎসব ভাতা, রেশন চিকিৎসা সুবিধাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ১৫০ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র পাহারা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত এলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক হাসপাতালে মূল্যবান যন্ত্রপাতি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছিল, যা এখন এই নিয়মিত পাহারার মাধ্যমে সমাধান হবে।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতেই এই সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, শুধু নিরাপত্তা বৃদ্ধিই নয়, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান জনবল সংকট দূর করতে খুব শিগগির আরও এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ চিকিৎসকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো চিকিৎসাসেবার বড় বাধা ছিল। সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করার ফলে চিকিৎসকদের মনোবল চাঙ্গা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও মানবিক করার এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। জনবল বৃদ্ধির ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ কমবে এবং পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হবে।


banner close