রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এই আইনের অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মাসিটিউক্যালস ঘুরে জানা যায়, অধিকাংশই জানে না এ আইন সম্পর্কে। দু-একজন জানলেও প্রয়োগ নেই সেভাবে। ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচি, র্যালির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে এ সপ্তাহ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সম্মিলিতভাবে অণুজীব প্রতিরোধী সক্ষমতা নিশ্চিত করুন।’
অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতার ধারণাটি এসেছে এর রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যাওয়ার কারণে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী, এটি হওয়ার কারণ, প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং এটি নিয়ে আইন সম্পর্কে কথা হয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোভায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মানুষের শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ অথবা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হলে শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে নিজ থেকেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। একে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ করবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘যত বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হবে, ব্যাকটেরিয়া নিজেদের মতো করে রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে নেবে।’
কারণ
‘আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ করার অন্যতম কারণ সাধারণ জ্বর বা ঠাণ্ডাজনিত কারণে ফার্মেসিতে গেলে একটা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেয়া হয়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এভাবে চাইলেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায় না। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সব দেশে কেউ কিনতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ব্যাপার অনেকেই জানেন না যে, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাসজনিত যেকোনো রোগে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। এগুলো ৯৯ শতাংই ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল না। তবে সর্দি-কাশিতেও পরবর্তী সময়ে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। ভাইরাল ইনফেকশনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে আমাদের শরীরে যে অ্যান্টিবায়োটিক যেমন মুখে বা পেটে যেটা থাকে, এগুলো তখন রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ করে।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান বলেন ‘এটি আশার কথা যে এখন যেহেতু আইন হয়েছে তাই যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমে আসবে। কারণ আগে কোনো দোকানে গিয়ে চাইলেই সহজে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিলে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এখন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এমন কিছু পেলেই আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে পারবেন।’
ঔষধ প্রশাসনের বক্তব্য
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও আইন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর ৫০ লাখ লোকের মৃত্যু হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সজনিত কারণে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বড় উদ্বেগের কারণ হলেও আগের আইনগুলোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্যাকেটে লাল রঙের মার্কিংয়ের নির্দেশনাসহ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।’
আইনে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও বিতরণ করা যাবে না- এই বিধান রেখে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ অনুমোদন দেয় সরকার। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ওষুধের দোকানের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
অনেক ফার্মাসিটিউক্যালস জানে না, এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি আছে। অ্যান্টিবায়োটিক সপ্তাহে বিশেষ কর্মসূচি রাখা হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি, আরও আলোচনা করব। মিডিয়ার মাধ্যমেও আমরা জানাচ্ছি।
প্রতিরোধ
অধ্যাপক শামসুজ্জামান বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের আগে অ্যান্টিবায়োটিক কালচার সেনসিটিভিটি করে নিতে হবে। কোন রোগে এটি সেনসিটিভ, সেটি নিশ্চিত হতে হবে। ইউরিন এবং ব্লাড কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই টেস্টের নাম সেনসিটিভিটি টেস্ট। কালচার করার উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাবে- সেটি কোন অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করবে, সে অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করা। কিন্তু আমাদের দেশে এক শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেও এটি করা হয় না। কারণ এই টেস্ট সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাছাড়া সব জায়গায় এটি করার ব্যবস্থাও নেই।
করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স থেকে প্রতিকার পেতে হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পলিসি থাকতে হবে। সঠিক গাইডলাইন থাকতে হবে যে কোন রোগে কোন অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হবে।’
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮ জন। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
বিগত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৮৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫৪ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১ জন। এই দীর্ঘ সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবং টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের যেসব সুনির্দিষ্ট এলাকায় (পকেট এরিয়া) শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে টিকাদান অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষে সরকারের মজুত থাকা ১৬ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা ব্যবহার করা হবে। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।
স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয় যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশেরই বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর। মূলত এই বয়সসীমার শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্যসচিব আজ সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ে যে সকল ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে এই ১৬ লাখ টিকা প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি শিশুকে হামের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৯১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৮১৫ জনের হামের উপসর্গ ছিল এবং ৯৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁরা কোনো ধরণের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেননি।
সংকট উত্তরণে সরকার শুধুমাত্র টিকাদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
পরিবেশগত দূষণ ও ধূমপানের প্রভাবে মানুষের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, যারা নিয়মিত বায়ুদূষণ কিংবা ধূমপানের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশের হার অনেক বেশি। এছাড়া রক্তের এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সাথে হার্ট অ্যাটাকের একটি নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অক্সফোর্ড একাডেমিক এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালির রোমে অবস্থিত সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে একদল গবেষক হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন যে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে এই প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। এর বিপরীতে যারা হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদরোগে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ রক্তনালির অধিকারীদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।’ তাঁর মতে, গবেষণার এই ফলাফল মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদরোগের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত প্রদান করে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, বায়ুদূষণ ও ধূমপানের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। যারা বায়ুদূষণ ও ধূমপান—উভয় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যারা এই কোনো ঝুঁকির মধ্যেই নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেয়নি, তবে পরিবেশগত দূষণ ও শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হলেও এর ফলাফল আধুনিক জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের সফলতার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দিকাশি মোকাবিলায় এমআরএনএ প্রযুক্তির নতুন একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার তৈরি এই টিকাটির নাম রাখা হয়েছে ‘এমফ্লুসিভা’। মূলত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই প্রতিষেধকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মডার্নার এই টিকায় মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় শরীরে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম এবং ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।
প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা অনেক সময় প্রবীণদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, এমফ্লুসিভা এই জীবনঝুঁকি কমিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, প্রচলিত প্রতিষেধকের চেয়ে মডার্নার এই টিকাটি ইনফ্লুয়েঞ্জা দমনে অনেক বেশি শক্তিশালী।
উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই বিশেষ প্রযুক্তিতে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ফ্লু টিকা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৫৯ জনকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচ শিশুর কারও মৃত্যুই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৯৬ জনের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তসহ দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫-এ উপনীত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকা বিভাগেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।
বিভাগভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন এবং বরিশালে ১১৪ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬০, ৩৭, ৩১ ও ১০ জন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার এবং সময়মতো বাচ্চাদের হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মূলত প্রান্তিক ও জনবহুল অঞ্চলগুলোতে এই রোগের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
সুষম খাদ্যের অভাব এবং জাঙ্ক ফুড গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্তব্য করেছেন যে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে দেশ আজ নানা রোগে জর্জরিত। শনিবার ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ এবং শিশুদের সঠিকভাবে বুকের দুধ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চিজ দিয়ে পিজা খাই, চিজ দিয়ে বার্গার খাই, পোড়া তেলের সমুচা খাই। এগুলো খেতে খেতে আজকে আমাদের দেশটা রোগে ভরে গেছে।’
শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মায়ের শাল দুধ শিশুদের জন্য উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান উৎস। বর্তমান সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্রমবর্ধমান হার এবং আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিশুকে মায়ের থেকে দূরে রাখা বা সঠিক সময়ে বুকের দুধ না দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ আর নেই কফি হাউসের সেই আড্ডাটা, ঠিক তেমনি আমাদের মাতৃ-শিশু সেবাও আজ নেই। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি।’ এই তথাকথিত আধুনিকতার কারণেই ব্রেস্ট ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগগুলো সমাজকে গ্রাস করছে বলে তিনি মনে করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং জনসচেতনতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শুধুমাত্র দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর প্রতিটি গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
সারাদেশে গত রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ সময় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ১০৫ জন।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
দেশে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও একজন। এডিস মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে এইডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর ৩৩ জনের মৃত্যু হল। যার মধ্যে জুলাই মাসেই ১৫ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৭৭ জন। ৩৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে আরো আরও ২১ জন ভর্তি হয়েছেন।
দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে ১০ জন, চট্টগ্রামে ৩৮ জন, খুলনায় ৪০ জন ও ময়মনসিংহে ২১ জন হাসপাতালে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়ে ২৪১ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯ হাজার ৬৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরও পাঁচ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর। এছাড়া সারাদেশে আরও ৯৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯০ শিশুর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় দুই এবং সিলেট ও বরিশালে একটি করে শিশু মারা গেছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৬৬৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৪ শিশু। এ পর্যন্ত মোট ৭৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ শিশুর। হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯০ হাজার ৬০৫ শিশু। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৪৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৩ শিশু।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, খুলনা বিভাগে ৭০ জন, বরিশালে বিভাগে ৯৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন রয়েছেন।
এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন। ৭ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৭২৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হাম ও এর উপসর্গজনিত প্রাদুর্ভাবে গত ১১৭ দিনে সারা দেশে মোট ৭৫০ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে শুক্রবার এই আশঙ্কাজনক তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কারও মৃত্যু না হলেও ৩ জন মারা গেছে হামের উপসর্গে।
একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে রোগটি নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ৯০১ জনের। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হচ্ছে।
দেশে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৪১টি শিশু মারা গেছে। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৬টি শিশু।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৪১টি শিশু মারা গেছে।
বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৪৭। এই সময়ে ৮৯০টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৭৯১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ রোগী, যাদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৬২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে দেশের সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেবার রুম স্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। নরমাল ডেলিভারি উৎসাহিত করতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোর জন্য এটি একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফারি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই স্বাস্থ্য খাতে আসন্ন ১ লাখ নতুন জনবল নিয়োগের মধ্যে ৮০ হাজারই হবে নারী এবং তাঁদের অধিকাংশই হবেন মিডওয়াইফারি কর্মী। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওষুধের সরবরাহ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।" চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রোগীর জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের চূড়ান্ত সন্তুষ্টি ছাড়া কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা মোকাবিলায় নিবিড় নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো এবং সরকার হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দ্রুত এই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।