দেশের মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ২০১০ সালে মিডওয়াইফারি কার্যক্রমের সূচনা করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অনুমোদিত বাংলাদেশের সকল মিডওয়াইফদের নিয়ে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বলে জানিয়েছে বিএমএস।
সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের নসরুল হামিদ অডিটোরিয়ামে সরকারী ও বেসরকারী স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তারা এসব তথ্য জানায়।
অনুষ্ঠানে মিডওয়াইফদের কাজের স্বীকৃতি, মাতৃত্ব, নবজাতক এবং কিশোরীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে মিডওয়াইফারি পরিষেবাগুলোর শক্তিশালীকরণ এবং মানসম্পন্ন মিডওয়াইফারি শিক্ষা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে, বাংলাদেশে ৭২৩০ জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ (বিএনএমসি রিপোর্ট ৩১-জুলাই-২০২৩ অনুযায়ী) রয়েছেন। যাদের মধ্যে ২,৫৫৭ জন মিডওয়াইফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন সাব সেন্টারে কর্মরত, আনুমানিক প্রায় ৫০০ জন মিডওয়াইফ রোহিঙ্গা রিফুজি ক্যাম্পগুলোতে এবং বাকিরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। মোট ১৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫,৭০৫টি আসন রয়েছে; ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১,৮২৫টি এবং ১০৮টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩,৮৮০ টি আসন রয়েছে ।
বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সংগঠিত মোট স্বাভাবিক প্রসবের ৭৪% মিডওয়াইফরা সম্পন্ন করছেন। মিডওয়াইফরা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে মা ও নবজাতক শিশুদের জীবন বাঁচাতে পারলেও স্বীকৃতির দিক থেকে তারা পিছিয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা অপর্যাপ্ত সংখ্যায় কাজ করছেন।
সভায় আরও বলা হয়, মা ও নবজাতক শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সিজারিয়ান ডেলিভারি কমানো ও নরমাল ডেলিভারি বাড়ানোর জন্য সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অনতিবিলম্বে আরও মিডওয়াইফ নিয়োগ প্রয়োজন।
মিডওয়াইফ পেশাটিকে সাধারন মানুষের কাছে আরো বেশী পরিচিত করা প্রয়োজন যাতে তারা সেবা নিতে পারে এবং সরকার কর্তৃক মিডওয়াইফদের নির্ধারিত কর্ম বিবরণী অনুযায়ী কাজের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্যও সভায় জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি আছমা খাতুন্, সাধারণ সম্পাদক সংগীতা সাহা প্রেমাসহ মিডওয়াইফ সৈয়দা মাহফুজা ঝুমু, নির্বাহী সদস্য জেরিন তাসনিম ও প্রজেক্ট ম্যানেজার শারমিন শবনম জয়া বক্তব্য রাখেন।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে রোগটি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুরা ঢাকা, হবিগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ছিল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৮৩ জন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে।
এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৬৪ জনের দেহে সংক্রমণটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ১৫ জনে পৌঁছেছে।
দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে, বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।
এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, এ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।
ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।
পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।
এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।
তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’ সূত্র: বাসস
দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক মান বৃদ্ধি করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের হরমোন ও বিপাকজনিত জটিলতা ‘পিসিওএস’-এর বিস্তারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বন্ধ্যাত্বের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের স্বাভাবিক মাতৃত্বের পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রযুক্তি দ্রুত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে গড়ে ৮ থেকে ১০ জন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই শারীরিক সমস্যাটি নারীদের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও বিপাকীয় প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রজনন সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং গর্ভধারণে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে।
সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৮ জন খুলনা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৪ জন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনবহির্ভূত এলাকায় ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৮২ জন, ময়মনসিংহে ৫৪ জন, রংপুরে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছেন।
চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৭০ জন এবং এ যাবত রোগটিতে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ববর্তী ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ৪১৩ জন মারা যান। তার আগের বছর ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এছাড়া ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে গত ১০ এপ্রিল থেকে চলমান পরিস্থিতিতে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে।
রক্তের সম্পর্ক বা আত্মীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্বেচ্ছায় দান করা যে কারও কিডনি সংযোজনের দ্বার উন্মোচিত হলো বাংলাদেশে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমইউ উপাচার্য জানান, "বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এর মাধ্যমে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিকট আত্মীয় ছাড়াও স্বেচ্ছায় যে কেউ কিডনি দান করতে পারবেন৷"
দাতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, "ইমোশনাল ডোনার যাচাই বাছাইয়ের জন্য কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। আইনগত ভিত্তিগুলো সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন করা হবে। হাসপাতালের একটি টিম আছে, তারা মেডিকেল ও অন্যান্য জটিল বিষয় দেখে তদন্ত করে ইমোশনাল ডোনার সঠিক কিনা তা জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"
অর্থনৈতিক লেনদেন প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, "কোনো অবস্থাতেই অর্থ লেনদেন হতে পারবে না। দীর্ঘদিন জটিলতায় কিডনি ট্রান্সফার বন্ধ ছিল। তবে এখন থেকে নিয়মিত কিডনি রোগীরা সেবা পাবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি কিডনি সফলভাবে ট্রান্সফার হয়েছে।"
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ৯৪৮ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামসংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।
এ ছাড়া নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে এসব মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের।
বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ হাজার ৯৪১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৫৮৬ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, বরিশালে ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ জন এবং রাজশাহীতে ১৩৮ জন।
দেশে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে বিচ্ছিন্ন কাঠামো থেকে বের করে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরাম আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রেখে কোনোভাবেই একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
জনমিতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশের নগর জনসংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ৩০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই শহরে বসবাস করবে। এ কারণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওভিত্তিক খণ্ডকালীন ব্যবস্থার বদলে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যৌথ নেতৃত্বে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আরও নতুন এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীকে আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল অ্যাপের সুবিধায় সজ্জিত করা হবে।
শহরাঞ্চলের নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক স্থাপন এবং বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ ও প্রতিবন্ধী নারী-শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনসংখ্যার জন্য একটি করে ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দশকের ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে জনকল্যাণমুখী এ নগর স্বাস্থ্য রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের(ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে ২৮টি মামলায় ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী মশক নিধনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।
এসময় এডিস মশা লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে এই জরিমানা আদায় করেন। এ সময় মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাও, উত্তরা, নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকা থেকে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক ও দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশার বংশ বিস্তার ও প্রজননক্ষেত্র পরিদর্শন করবেন।
এসময় তারা বাসা-বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদ বাগান পরিদর্শন, জনসচেতনতাবিষয়ক মাইকিং, নোবালিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষক দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করা হয়েছে। এছাড়া নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসস’কে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনা’য় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করবো। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে এ সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।
নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এছাড়াও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা; এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।
সূত্র: বাসস
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮৫৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার বিকেলে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে কেবল রাজধানীতেই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। এই মোট প্রাণহানির মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ১০০ জনের এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে দেশব্যাপী হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষাগারে সুনির্দিষ্টভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬ জন রোগীর শরীরে।
প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও আরোগ্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত প্রায় ছয় মাসে হাম ও এর জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা শেষে তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ায় এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছয় সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে আহ্বায়ক এবং অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢামেক হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ও মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। তবে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন বন্ধ করে দেন এবং তাদের দেওয়া শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা ও উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে শুরু করেন। এতে তাঁর রক্তের শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’-এ আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং এর যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।