বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

২৪ ঘণ্টায় ২৯ জনের করোনা শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৪

সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউই মারা যাননি।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩৪২ নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৯ জন নিয়ে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫২ জন।

ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৪ জন। দেশে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৮৩ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।


করোনায় নতুন শনাক্ত ৮৩, ঢাকাতেই ৮০ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬০ জনে।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৫টি পরীক্ষাগারে ১৩২৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৮০ জনই ঢাকার রোগী। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৬ দশমিক শূন্য ২৫ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৭০ জনে। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে জিরো টলারেন্স: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু ইস্যু নিয়ে কথা হচ্ছে। ঘটনাগুলো যেকোনো মানুষের মনকেই নাড়া দেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আমাকে শক্তহাতে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স মেইনটেইন করতে বলেছেন। আমি দ্ব্যার্থহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলবো। আমি পরিস্কারভাবে বলতে চাই, বৈধ প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক/ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো আমরা বন্ধ করতে চাই না, তবে এগুলো চালাতে হলে যতগুলো চিকিৎসক, নার্স প্রয়োজন তা থাকতে হবে; যা যা যন্ত্রপাতি থাকার কথা সেগুলো থাকা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘সেটা করা না হলে, আমি কঠোর ব্যবস্থা নিতে জিরো টলারেন্স মেইনটেইন করবো। কোনো অনুরোধ বা তদবিরেই এ সকল অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার সচল রাখা হবে না। আমরা এক মাসে প্রায় ১২২৭টি অবৈধ ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করেছি, এখনও অভিযান চলমান আছে। এর সাথে আরও বলে রাখি, বৈধ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত লোকবল ও যন্ত্রপাতি না থাকলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়াদির উপর মিডিয়া ব্রিফ্রিংকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি রোগীদের সুরক্ষা নিয়ে যেভাবে ভাবছি, একইভাবে আমি চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিয়েও কাজ করছি। ভালো সেবা পেতে হলে ভালো চিকিৎসক লাগবে। ভালো সুযোগ-সবিধা না পেলে ভালো চিকিৎসক পাওয়াও মুশকিল হবে।’

ব্রিফ্রিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতে কী কী হয়েছে সেগুলো নিয়ে না ভেবে এখন থেকে কী কী করা হচ্ছে সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্যসেবার সঠিক মান একা কেউই শতভাগ ঠিক করতে পারবে না। এজন্য দায়িত্ব কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার নয়, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নততর করতে চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ প্রত্যেককেই এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল/ক্লিনিক সেবা শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও কর্মকর্তাদের সাথে আলাদা করে একটি বৈঠক করেন।

এসময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বিএমডিসি সভাপতি অধ্যাপক ডা মাহমুদুল হাসান, বিএসএমএমইউ এর এনেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর দেবব্রত বণিক, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের এনেস্থিসিওলজি বিভাগের প্রধানগণ সহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো অবস্থাতেই নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) ছাড়া যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচার করা যাবে না।

অ্যানেসথেসিয়া দিতে গিয়ে পরপর দুটি শিশুসহ তিন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান সেই অফিস আদেশে সই করেন।

ওই অফিস আদেশে মোট ১০টি নির্দেশনা বা শর্ত জারি করা হয়েছে। এসব শর্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই অফিস আদেশে।

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে (জে এস হাসপাতাল) খতনা করার সময় আহনাফ তাহমিদ (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্বজন ও পুলিশ সূত্র বলছে, চিকিৎসকরা শিশুটিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে অবেদন (অ্যানেসথেসিয়া) করে তার খতনা করেন। কিন্তু শিশুটির আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর আগে গত মাসে রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার পর পাঁচ বছর বয়সি শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গতকাল চিকিৎসার জন্য গিয়ে মারা যান আরেক ব্যক্তি। এ পরিপ্রেক্ষিতে এমন নির্দেশনা জারি করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, নিয়ম না মেনে অস্ত্রোপচার করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেই হাসপাতাল বা ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ১০ দফা শর্ত:

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ১০টি শর্ত আবশ্যিকভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেগুলো হচ্ছে:

১. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের কপি ওই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছাড়া কোনোভাবেই নামে উল্লেখিত সেবা দিতে পারবে না।

৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার/প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, শুধু সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

৫. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী সব শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬. হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদগুলো, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

৭. হাসপাতাল/ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।

৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত/নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর করা যাবে না।

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

১০. নিবন্ধিত/লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই অপারেশন থিয়েটার এটিকেট (শিষ্টাচার) মেনে চলতে হবে।


গাফিলতির প্রমাণ পেলে ল্যাবএইড-ইউনাইটেডকে ছাড় নয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসায় গাফলতির কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলার মাধ্যমে বিচার হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ছোট হাসপাতাল নয়, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ল্যাবএইড কিংবা ইউনাইটেড হাসপাতালকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ বুধবার সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টার পর্যবেক্ষণে এসে এ হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান।

তিনি বলেন, ‘ল্যাবএইড হাসপাতালে সোমবার রাতে অ্যান্ডোস্কোপি করাতে গিয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত আছি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম ল্যাবএইড পরিদর্শন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর ল্যাবএইডের ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। আমরা সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। একই সঙ্গে তাদের কাছে আরও তথ্য-উপাত্ত চেয়েছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘এর আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছি। মামলা চলমান আছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি থাকে, তাহলে চলমান আইন অনুযায়ী মামলার মাধ্যমে তার বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গত কয়েকদিনে সারা দেশে ১ হাজার ২৭টি ক্লিনিক বন্ধ করেছি। আমরা আবারও বলছি, ল্যাবএইড-ইউনাইটেডসহ যেকোনো হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় যদি চিকিৎসকের গাফিলতি থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডা. মইনুল আহসান বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিশু আয়হামের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা জেনেছি গতকাল সামান্য একটা মুসলমানির জন্য শিশুটিকে এ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডা. ইশতিয়াক নামে একজন সার্জন ছিলেন, আর ডা. মাহবুব মুর্শেদ শিশুটির অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার সময় শিশুটিকে অজ্ঞান করার পর আর তার জ্ঞান ফেরেনি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা মারা হয়েছে।’

অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আরও বলেন, ‘হাসপাতালটির সব তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ-পর্যালোচনা করছি। যতটুকু পেয়েছি, প্রতিষ্ঠানটির হাসপাতাল কার্যক্রম চালানোর কোনো অনুমোদন ছিল না। তবে তাদের ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। সুতরাং তারা যদি কোনো রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে থাকে, সেটি অন্যায় করেছে। আর যিনি অপারেশন করেছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’


আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে এক দিনে ৩৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় এসব রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৫ হাজার ১৪৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয় ৪০৩টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুই দিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৮৬ জন।


অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ল্যাবএইড-ইউনাইটেডকেও ছাড় নয়: অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চিকিৎসায় গাফলতির কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলার মাধ্যমে বিচার হওয়ার পাশাপাশি শুধু ছোট কোনো হাসপাতাল নয়, এ রকম অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ল্যাবএইড কিংবা ইউনাইটেড হাসপাতালকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টার পর্যবেক্ষণে এসে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান।

অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, এর আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছি। মামলা চলমান আছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি থাকে, তাহলে চলমান আইন অনুযায়ী মামলার মাধ্যমে তার বিচার হবে।

তিনি বলেন, ‘ল্যাবএইড হাসপাতালে গত সোমবার রাতে এন্ডোস্কোপি করতে গিয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত আছি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম ল্যাবএইড পরিদর্শন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর ল্যাবএইডের ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গত কয়েকদিনে সারাদেশে ১ হাজার ২৭টি ক্লিনিক বন্ধ করেছি। আমরা আবারও বলছি, ল্যাবএইড- ইউনাইটেডসহ যে কোনো হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় যদি চিকিৎসকের গাফিলতি থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে থেকে শিশু আহনাফের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা জেনেছি গতকাল সামান্য একটা মুসলমানির জন্য শিশুটিকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডা. ইশতিয়াক নামে একজন সার্জন ছিলেন, আর ডা. মাহবুব মুর্শেদ শিশুটির এনেসথেসিওলজিস্ট ছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, এনেসথেসিয়া দেওয়ার সময় শিশুটিকে অজ্ঞান করার পর আর তার জ্ঞান ফেরেনি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা মারা হয়েছে।’- যোগ করে বলেন ডা. মইনুল আহসান।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আরও বলেন, ‘হাসপাতালটির সমস্ত তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ-পর্যালোচনা করছি। যতটুকু পেয়েছি, প্রতিষ্ঠানটির হাসপাতাল কার্যক্রম চালানোর কোনো অনুমোদন ছিল না। তবে তাদের ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। সুতরাং তারা যদি কোন রোগীকে এনেসথেসিয়া দিয়ে থাকে, সেটি অন্যায় করেছে। আর যিনি অপারেশন করেছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’


আবারও হাসপাতালে খতনার সময় শিশুর মৃত্যু 

আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ঘটনায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর মালিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করার সময় চিকিৎসকের অবহেলায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারা যাওয়া শিশুর নাম আহনাফ তাহমিদ (১০)। বাবার নাম ফখরুল আলম। শিশুটি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে (জে এস হাসপাতাল) শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

তাহমিদের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রাতেই দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মোক্তাদির হোসেন ও মাহবুব হোসেন।

পুলিশের তথ্যমতে, মোক্তাদির জে এস হাসপাতালের মালিক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিক সার্জন। মাহবুব একই হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা (অ্যানেসথেসিওলজি) বিভাগের চিকিৎসক।

আজ বুধবার সকালে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটির বাবা গতকাল রাতে একটি মামলা করেন। চিকিৎসকের অবহেলায় তাঁর সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তিনি। হাতিরঝিল থানায় করা এ মামলায় হাসপাতালটির মালিক মোক্তাদির, অবেদনবিদ মাহবুব ও অস্ত্রোপচারবিশেষজ্ঞ ইশতিয়াক আজাদকে আসামি করা হয়েছে। মোক্তাদির ও মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর ইশতিয়াক পালিয়ে গেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা তিন আসামির কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বজন ও পুলিশ সূত্র বলছে, গতকাল রাত সাড়ে সাতটার দিকে ফখরুল ও তাঁর স্ত্রী খায়রুন নাহার তাঁদের বড় সন্তান তাহমিদকে খতনা করাতে জে এস হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে অবেদন (অ্যানেসথেসিয়া) করে তার খতনা করেন। কিন্তু শিশুটির আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।


‘দুই ডোজ টিকা নিলেও করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হতে পারেন’

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই ডোজ টিকা নিলেও করোনাভাইরাসের নতুন জেএন.১ সাব-ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। মঙ্গলবার করোনার সর্বশেষ জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফলাফল জানানোর সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছরের শুরুতে নতুন এ সাব-ভ্যারিয়েন্টের কথা জানিয়েছে। বিএসএমএমইউ গত জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত ৪৮ রোগীর নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছে। গবেষণায় তিনজনের নমুনায় সাব-ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন সম্প্রতি দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। তাদের আগেই করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়া ছিল।

অধ্যাপক শরফুদ্দিন বলেন, এ সাব-ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ করোনার অন্য ধরনগুলোর মতো। এতে আক্রান্তদের জ্বর, ঠাণ্ডা, গলাব্যথা, মাথাব্যথা এবং হালকা কাশির হালকা উপসর্গ ছিল। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। পাশাপাশি যাদের এ ধরনের হালকা উপসর্গ দেখা যাবে, তাদেরও কোভিড পরীক্ষা করা উচিত বলে পরামর্শ দেন তিনি।


১৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে আলাদা হলো জোড়া লাগানো শিশু নুহা-নাবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা জটিল অস্ত্রোপচারের পর আলাদা হলো জোড়া লাগানো দুই শিশু নুহা ও নাবা।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচারে তাদের পৃথক করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তারা ভালো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের মতো এগিয়ে যাচ্ছে... আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিলে বাংলাদেশ থেকে এখন জটিল সব রোগেরই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।’

জোড়া লাগানো দুই শিশুর এ অস্ত্রোপচারের ব্যপারে তিনি বলেন, ‘এটি সাধারণ কোনো অস্ত্রোপচার নয়। এখানে আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক টিম টানা ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় অপারেশনের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করেছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই অপারেশন বিনামূল্যে হয়েছে। দুই শিশুর চিকিৎসা ব্যয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করেছেন। অন্য দেশে করতে গেলে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হতো।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চিকিৎসাক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনার দেশ। এ দেশে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবছর মেডিকেলে পড়ালেখা শেষ করে চিকিৎসক হচ্ছেন। তারা মেধাবী ও দক্ষ। তাদের জন্য একটু সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ থেকে কোনো রোগীকে আর বিদেশ যেতে হবে না।’


চিকিৎসক হওয়ার চাপে ওএমআর ছেঁড়ার ‘বানোয়াট গল্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়ার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে ডাক্তার হওয়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ থাকায় তিনি পর্যবেক্ষক কর্তৃক ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার গল্প বানিয়েছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সব তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়।

তদন্ত কমিটি জানায়, অভিযোগকারী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার বাবা-মায়ের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, শুরু থেকেই তার ওপর পরিবার ও সমাজের ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশার চাপ ছিল। এমনকি এর আগের বছরও এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেননি। এ বছরও পাস করেননি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, সব সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, অভিযোগকারীর সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও (টেস্ট স্কোর ২৭.২৫) বাবাকে মায়ের পরামর্শে মিথ্যা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আরও ভালো রেজাল্ট/স্কোর করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির মিথ্যা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন হুমাইরা। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষায় ৫৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে তার ব্যর্থতার দায় হল পরিদর্শকের উপর চাপিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজান তিনি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত বছরসমূহের ধারাবাহিকতায় সবার আন্তরিকতা ও ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে তৃতীয় কোনো পক্ষের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন কি না, তা উন্মোচনের সুপারিশ করা হলো।

পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের এ ধরনের প্রেশার না দেওয়া।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে চলে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী এবং তার পরিবারের সদস্যরা সামন্ত লাল সেনের পথ আগলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার সময় ওই পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন পরীক্ষাকেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক।

নারী শিক্ষার্থীর কেন্দ্র ছিল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র (শেখ কামাল ভবন, অষ্টম তলা)। পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বনের সন্দেহে একজন পর্যবেক্ষক ওই শিক্ষার্থীসহ তিনজনের ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানান হুমাইরা। পরে পর্যবেক্ষক তার ভুল বুঝতে পেরে নতুন ওএমআর শিট দেন বলেও দাবি করেন এ পরীক্ষার্থী। তার দাবি, তখন পরীক্ষা শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। অনুরোধ করার পরও পর্যবেক্ষক তাদের জন্য পরীক্ষার সময় বাড়াননি।


বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের প্রশংসা

আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ম্যাট ক্যানেল। বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তা করতে তার দেশের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন ক্যানেল।

রোববার বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ম্যাট ক্যানেল। স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটু মিয়া এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাই কমিশনার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রসংশা করেন। করোনা মহামারিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে ভালো করেছে বলে জানান ব্রিটিশ হাই কমিশনার। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সাত লাখ বাংলাদেশী রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে মেডিকেল পড়ালেখা করতেও যাচ্ছেন বলে জানান ব্রিটিশ হাই কমিশনার।

এসময় ব্রিটিশ হাই কমিশনার বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তা করতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতেও ব্যাপক উন্নতি শুরু হয়েছে। করোনাকালেও বাংলাদেশে হাজার হাজার চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম স্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে এখন দরকার চিকিৎসক, নার্সদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের কাছে চিকিৎসক নার্সদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট করার অনুরোধ জানালে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের পক্ষ থেকে এটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন তার সরকার বলে জানান ম্যাট ক্যানেল।

ব্রিটিশ হাই কমিশনার উভয় দেশের চিকিৎসক, নার্সদের অধিক হারে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথা বলেন। একই সাথে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ আরও টেকনোলজিক্যাল সহায়তা বৃদ্ধি ও ভকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যাপারেও কথা হয়। বাংলাদেশে যত্রতত্র এন্টিবায়োটিক এর ব্যবহার হ্রাস করা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে বলে জানান ব্রিটিশ হাই কমিশনার। এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হ্রাস করতে বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাংলাদেশ হাতে নিয়েছে বলে এসময় ব্রিটিশ হাই কমিশনারকে আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা সামন্ত লাল সেন।

আগামী ১০ বছরে বিশ্বে কোভিডের মত আবারও কোনো প্যান্ডামিক চলে আসতে পারে বলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গবেষণা আরও বাড়ানো যায় কি না সে ব্যাপারে ভাবার পরামর্শ দেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার। উভয় দেশে ভ্যাকসিন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্যসেবার হার বৃদ্ধি করা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ বিনিময় করা নিয়েও কথা বলেন তারা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রকৃতপক্ষে কোনো অবসর নেই: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৭৪ জন বিভিন্ন স্তরের গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তাদের সংবর্ধনা দেন।

অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর আমি প্রতিদিন নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকলের পদের যথাযথ মর্যাদা দিতে কাজ করেছি। প্রত্যেক শিক্ষক যাতে তার প্রাপ্ত সম্মান পান সে পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মেধা যাতে কাজে লাগানো যায় সে লক্ষ্যে একাডেমিক ও গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত করেছি। তারা যাতে সপ্তাহে এক বা দুইদিন ক্লাস নিতে পারেন সেই বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশনা প্রদান করেছি। এরকম অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকরা একাডেমিক ও গবেষণার কাজে বেশ সাফল্য দেখিয়েছেন। বর্তমান প্রশাসনের আমলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদের প্রকৃতপক্ষে কোনো অবসর নেই। অবসরের পর তাদের নানান কাজে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল পর্যায়ের শিক্ষক পরিবারের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেছেন মানুষের সেবায় ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। তারা যে সময় পরিবারে ব্যয় করেছেন সেই সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। এ সকল শিক্ষকরা ছাত্রদের নিজেদের সন্তানের মতো করে মানুষ করেছেন। এ মহান শিক্ষকরা একদিকে যেমন মানুষদেরকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছেন অন্যদিকে গবেষণা করে রোগ প্রতিরোধ করার উপায় বের করেছেন। মানুষ গড়ার এই কারিগররা আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক অবসর নিলেও তারা দেশের প্রয়োজনে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাই শিক্ষক চিকিৎসকদের প্রকৃতপক্ষে কোন অবসর নেই। এই মহান শিক্ষকরা কখনো বার্ধক্যের কাছে হার মানেননি।’

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দাবি করেন, তাদের যেন এমন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশের মানুষের প্রয়োজনে তারা সর্বদা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেন জানান এই গুণী শিক্ষকরা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগড় মোড়ল, ব্যাসিক সাইন্স ও প্যারা ক্লিনিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ্, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, টেকোনোলোজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবতোষ পাল, প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মানিক কুমার তালুকদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহম্মদ হাফিজুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকবৃন্দ ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।


ফাইব্রোমায়ালজিয়া: এক অদ্ভুত বাতরোগ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:৩৪
ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান

সুমাইয়া (ছদ্মনাম) পড়ালেখা শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করছেন। ৩-৪ মাস হলো বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। বেশি পরিশ্রম করলে ব্যথা ও ক্লান্তি লাগে। রাতে যখন ঘুমাতে যান ব্যথা বেড়ে যায়। তবে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করায় ব্যথা কমে আসে। সুমাইয়া বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়ে কোনো ফল পাচ্ছিলেন না। পরে জানতে পারেন তার ফাইব্রোমায়াইজিয়া রোগ হয়েছে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা, যার প্রধান উপসর্গ হচ্ছে মাংসপেশি, টেন্ডন এবং অস্থিসন্ধি গুলোতে প্রদাহ হওয়া। মধ্যবয়সী লোকজনের মধ্যে এই রোগের সূত্রপাত হয়। পুরুষের তুলনায় নারীরা সাতগুন বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার কারণ

১. বিষন্নতা এবং উদ্বেগ ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ

২. পেশি ব্যথা

৩. দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা। যেমন, টেনশনের মাথাব্যথা (প্রায়ই ঘাড়ের অস্বস্তির সাথে শুরু হয়।)

৪. ঘুমের সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে পা নাড়ানো (নিশাচর মায়োক্লোনাস)।

৫. ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম।

৬. কোভিড-১৯ পরবর্তী জটিলতা।

৭. হরমোন পরিবর্তন।

৮. মানসিক চাপের ভিন্ন মাত্রা।

৯. জলবায়ু পরিবর্তন।

১০. বংশগতির প্রভাব।

১১. ট্রমা: শৈশবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

১২. বাইপোলার ডিজঅর্ডার থেকে কো-মরবিডিটি হিসেবে হতে পারে।

১৩. অতিরিক্ত পরিশ্রম

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার লক্ষণ

১. মাংসপেশিতে যন্ত্রণা, জ্বালাভাব ও টান দেওয়ার মত অনুভূতি, খিচুনি অনুভব করা।

২. অস্থিসন্ধির চারপাশে আঙুল দিয়ে চাপ ফাইল ব্যথা অনুভব করা।

৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি।

৪. ঘুম না আসা।

৫. সব সময় চিন্তিত, অবসন্ন থাকা।

৬. পেট ব্যথা, পেট ফুলে থাকা।

৭. কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া।

৮. মুখ, চোখ ও নাক শুষ্ক হয়ে থাকা।

৯. মাথা যন্ত্রণা, মাইগ্রেইনের উপসর্গ দেখা দেয়।

১০. ঠান্ডা, গরম, আলো ও শব্দে অনুভূতি বেশি হওয়া।

১১. হাত, পা, মুখের নানা জায়গা আসার হয়ে থাকা ও ঝিঁ ঝিঁ ভাব।

১২. মনে রাখা বা চিন্তা করায় সমস্যা তৈরি হওয়া।

১৩. কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

১৪. বিপাকে ও রেচনে সমস্যা দেখা দেওয়া।

১৫. প্রচন্ড মাসিকের ব্যথা।

১৬. পেটের চামড়ায় ব্যথা হওয়া।

১৭. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া।

১৮. Fibrofog ব্যথার জন্য কাজে বা কথায় মনোযোগ দিতে না পারা।

১৯. চামড়াতে জ্বালাপোড়া করা।

২০. হাতের তালুও পায়ের তালু ঘেমে যাওয়া, শরীরে ঘাম হওয়া।

২১. বুকে ব্যথা হওয়া।

২২. শরীর ফুলে যাওয়া।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ট্রিগার পয়েন্ট (মানে যে সকল জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা লাগে):

- মাথার পেছনের দিক

- কাঁধের উপর দিক

- বুকের উপরিভাগ

- নিতম্ব

- হাঁটু

- কনুইয়ের বাইরের দিক

চিকিৎসা

১. ওষুধ: নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক, এন্টিডিপ্রেসেন্ট, এন্টি-সিজার ড্রাগ, প্রবায়োটিকস, ভিটামিন ও মিনারেলস ইত্যাদি। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করতে হবে।

২. ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা (ইলেক্ট্রোথেরাপি, স্ট্রেচিং ব্যায়াম, ট্রিগার পয়েন্ট মেনুপুলেশন, বায়োফিডব্যাক)

৩. উত্তপ্ত পুল চিকিৎসা, গরম পানিতে প্রশিক্ষণ

৪. বেদনা দায়ক এলাকায় তাপ প্রয়োজন

৫. জীবনধারা পরিবর্তন:

- স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া

- শারীরিক ও মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে শেখা

- নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা

- নিয়মিত ব্যায়াম করা

- হাঁটাচলা করা

- সাঁতার কাটা

ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় করণীয়

- নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস অনুশীলন

- বেশি বেশি আমিষ গ্রহণ

- বেশি করে শাকসবজি খেতে হবে।

- ঘনঘন পানি পান করা।

- লবণ থেকে সাবধান

- নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক (আইআইএইচএস) ও কনসালটেন্ট, ডিপিআরসি


banner close