মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন

চিকিৎসক হওয়ার চাপে ওএমআর ছেঁড়ার ‘বানোয়াট গল্প

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৮

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়ার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে ডাক্তার হওয়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ থাকায় তিনি পর্যবেক্ষক কর্তৃক ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার গল্প বানিয়েছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সব তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়।

তদন্ত কমিটি জানায়, অভিযোগকারী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার বাবা-মায়ের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, শুরু থেকেই তার ওপর পরিবার ও সমাজের ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশার চাপ ছিল। এমনকি এর আগের বছরও এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেননি। এ বছরও পাস করেননি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, সব সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, অভিযোগকারীর সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও (টেস্ট স্কোর ২৭.২৫) বাবাকে মায়ের পরামর্শে মিথ্যা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আরও ভালো রেজাল্ট/স্কোর করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির মিথ্যা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন হুমাইরা। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষায় ৫৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে তার ব্যর্থতার দায় হল পরিদর্শকের উপর চাপিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজান তিনি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত বছরসমূহের ধারাবাহিকতায় সবার আন্তরিকতা ও ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে তৃতীয় কোনো পক্ষের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন কি না, তা উন্মোচনের সুপারিশ করা হলো।

পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের এ ধরনের প্রেশার না দেওয়া।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে চলে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী এবং তার পরিবারের সদস্যরা সামন্ত লাল সেনের পথ আগলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার সময় ওই পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন পরীক্ষাকেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক।

নারী শিক্ষার্থীর কেন্দ্র ছিল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র (শেখ কামাল ভবন, অষ্টম তলা)। পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বনের সন্দেহে একজন পর্যবেক্ষক ওই শিক্ষার্থীসহ তিনজনের ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানান হুমাইরা। পরে পর্যবেক্ষক তার ভুল বুঝতে পেরে নতুন ওএমআর শিট দেন বলেও দাবি করেন এ পরীক্ষার্থী। তার দাবি, তখন পরীক্ষা শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। অনুরোধ করার পরও পর্যবেক্ষক তাদের জন্য পরীক্ষার সময় বাড়াননি।


নির্বাচিত

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮ জন। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

বিগত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৮৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫৪ জন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১ জন। এই দীর্ঘ সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।


নির্বাচিত

আরও ১৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবং টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের যেসব সুনির্দিষ্ট এলাকায় (পকেট এরিয়া) শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে টিকাদান অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষে সরকারের মজুত থাকা ১৬ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা ব্যবহার করা হবে। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয় যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশেরই বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর। মূলত এই বয়সসীমার শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্যসচিব আজ সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ে যে সকল ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে এই ১৬ লাখ টিকা প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি শিশুকে হামের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৯১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৮১৫ জনের হামের উপসর্গ ছিল এবং ৯৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁরা কোনো ধরণের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেননি।

সংকট উত্তরণে সরকার শুধুমাত্র টিকাদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্বাচিত

ধূমপায়ীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত, বাড়ছে হৃদরোগের অদৃশ্য ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিবেশগত দূষণ ও ধূমপানের প্রভাবে মানুষের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, যারা নিয়মিত বায়ুদূষণ কিংবা ধূমপানের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশের হার অনেক বেশি। এছাড়া রক্তের এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সাথে হার্ট অ্যাটাকের একটি নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অক্সফোর্ড একাডেমিক এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালির রোমে অবস্থিত সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে একদল গবেষক হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন যে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে এই প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। এর বিপরীতে যারা হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদরোগে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ রক্তনালির অধিকারীদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।’ তাঁর মতে, গবেষণার এই ফলাফল মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদরোগের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত প্রদান করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, বায়ুদূষণ ও ধূমপানের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। যারা বায়ুদূষণ ও ধূমপান—উভয় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যারা এই কোনো ঝুঁকির মধ্যেই নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেয়নি, তবে পরিবেশগত দূষণ ও শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হলেও এর ফলাফল আধুনিক জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

বিশ্বে প্রথম মডার্নার নতুন এমআরএনএ টিকার অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের সফলতার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দিকাশি মোকাবিলায় এমআরএনএ প্রযুক্তির নতুন একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার তৈরি এই টিকাটির নাম রাখা হয়েছে ‘এমফ্লুসিভা’। মূলত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই প্রতিষেধকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মডার্নার এই টিকায় মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় শরীরে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম এবং ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা অনেক সময় প্রবীণদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, এমফ্লুসিভা এই জীবনঝুঁকি কমিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, প্রচলিত প্রতিষেধকের চেয়ে মডার্নার এই টিকাটি ইনফ্লুয়েঞ্জা দমনে অনেক বেশি শক্তিশালী।

উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই বিশেষ প্রযুক্তিতে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ফ্লু টিকা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৭৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৫৯ জনকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচ শিশুর কারও মৃত্যুই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৯৬ জনের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তসহ দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫-এ উপনীত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকা বিভাগেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

বিভাগভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন এবং বরিশালে ১১৪ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬০, ৩৭, ৩১ ও ১০ জন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার এবং সময়মতো বাচ্চাদের হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মূলত প্রান্তিক ও জনবহুল অঞ্চলগুলোতে এই রোগের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।


নির্বাচিত

পিৎজা, বার্গার, পোড়া তেলের সমুচা খেয়ে দেশটা রোগে ভরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষম খাদ্যের অভাব এবং জাঙ্ক ফুড গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্তব্য করেছেন যে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে দেশ আজ নানা রোগে জর্জরিত। শনিবার ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ এবং শিশুদের সঠিকভাবে বুকের দুধ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চিজ দিয়ে পিজা খাই, চিজ দিয়ে বার্গার খাই, পোড়া তেলের সমুচা খাই। এগুলো খেতে খেতে আজকে আমাদের দেশটা রোগে ভরে গেছে।’

শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মায়ের শাল দুধ শিশুদের জন্য উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান উৎস। বর্তমান সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্রমবর্ধমান হার এবং আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিশুকে মায়ের থেকে দূরে রাখা বা সঠিক সময়ে বুকের দুধ না দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ আর নেই কফি হাউসের সেই আড্ডাটা, ঠিক তেমনি আমাদের মাতৃ-শিশু সেবাও আজ নেই। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি।’ এই তথাকথিত আধুনিকতার কারণেই ব্রেস্ট ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগগুলো সমাজকে গ্রাস করছে বলে তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং জনসচেতনতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শুধুমাত্র দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর প্রতিটি গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে গত রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ সময় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ১০৫ জন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।

এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ১০ হাজার ছাড়াল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও একজন। এডিস মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে এইডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর ৩৩ জনের মৃত্যু হল। যার মধ্যে জুলাই মাসেই ১৫ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৭৭ জন। ৩৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে আরো আরও ২১ জন ভর্তি হয়েছেন।

দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে ১০ জন, চট্টগ্রামে ৩৮ জন, খুলনায় ৪০ জন ও ময়মনসিংহে ২১ জন হাসপাতালে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়ে ২৪১ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯ হাজার ৬৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।


নির্বাচিত

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরও পাঁচ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর। এছাড়া সারাদেশে আরও ৯৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯০ শিশুর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় দুই এবং সিলেট ও বরিশালে একটি করে শিশু মারা গেছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৬৬৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৪ শিশু। এ পর্যন্ত মোট ৭৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ শিশুর। হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ শিশু।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯০ হাজার ৬০৫ শিশু। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৪৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৩ শিশু।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩৫০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, খুলনা বিভাগে ৭০ জন, বরিশালে বিভাগে ৯৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন রয়েছেন।

এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন। ৭ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৭২৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।


নির্বাচিত

হাম ও উপসর্গে ১১৭ দিনে সারা দেশে ৭৫০ জন শিশুর প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হাম ও এর উপসর্গজনিত প্রাদুর্ভাবে গত ১১৭ দিনে সারা দেশে মোট ৭৫০ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে শুক্রবার এই আশঙ্কাজনক তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কারও মৃত্যু না হলেও ৩ জন মারা গেছে হামের উপসর্গে।

একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে রোগটি নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ৯০১ জনের। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু প্রাণহানি বেড়ে ৭৪১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৪১টি শিশু মারা গেছে। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৬টি শিশু।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৪১টি শিশু মারা গেছে।

বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৪৭। এই সময়ে ৮৯০টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪০টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৭৯১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ রোগী, যাদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৬২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


নির্বাচিত

হাসপাতালে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে দেশের সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেবার রুম স্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। নরমাল ডেলিভারি উৎসাহিত করতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোর জন্য এটি একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফারি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই স্বাস্থ্য খাতে আসন্ন ১ লাখ নতুন জনবল নিয়োগের মধ্যে ৮০ হাজারই হবে নারী এবং তাঁদের অধিকাংশই হবেন মিডওয়াইফারি কর্মী। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওষুধের সরবরাহ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।" চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রোগীর জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের চূড়ান্ত সন্তুষ্টি ছাড়া কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা মোকাবিলায় নিবিড় নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো এবং সরকার হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দ্রুত এই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close