দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশ অসংক্রামক রোগে। ২০৪০ সালে এই হার ৮০ শতাংশে উঠে যেতে পারে। দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। আর সরকারি হাসপাতালে যত রোগীর মৃত্যু হয় তার মধ্যে শতকরা ২০ শতাংশই স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ১১ দশমিক ৪ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে স্ট্রোকের চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোটাই রাজধানীকেন্দ্রিক। এ কারণে ঢাকার মানুষ চিকিৎসকের কাছে যত দ্রুত পৌঁছাতে পারে, গ্রামের মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হয় না।
এই অবস্থায় আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে হৃদ্রোগের পরেই স্ট্রোকের স্থান। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বা শারীরিক অক্ষমতার জন্য স্ট্রোককে বেশি দায়ী করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোকের মূল কারণ উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৪ গুণ বেড়ে যায়। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২০ অনুযায়ী, মৃত্যুর শীর্ষ কারণগুলোর মধ্যে স্ট্রোক দ্বিতীয়। দেশে বছরে ১৮ লাখের বেশি মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রতি ৪ জনের ১ জন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। চল্লিশোর্ধ্বদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে শিশুদেরও স্ট্রোক হতে পারে।
আইসিডিডিআরবি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের যৌথ সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ব্যাপকতা: জাতীয় সমীক্ষার’ ফলাফলে জানা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে মোট ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার পুরুষ। বাকিরা নারী। এই ডিমেনশিয়ার অন্যতম কারণ স্ট্রোক।
আইসিডিডিআর,বির ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল এলাকায় জরিপকালে দেখা গেছে, প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন, যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি। দেশজুড়ে ষাটোর্ধ্ব মানুষ নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১০ জনে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত। যাদের স্ট্রোক হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছেন, এমনকি মৃত্যুও ঘটছে।
স্ট্রোক নিয়ে ভুল ধারণা
চিকিৎসকরা বলছেন, স্ট্রোক ব্রেন বা মস্তিষ্কের অসুখ- এই সচেতনতা প্রথম দরকার। কারণ অনেকেই এখনো স্ট্রোককে হৃদ্রোগ বলে মনে করেন এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। ফলে তার চিকিৎসায় অনেক সময়ক্ষেপণ হয় এবং চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়।
কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে তাকে স্ট্রোক বলে। চিকিৎসকরা বলছেন, স্ট্রোক দুই প্রকার- ইসকেমিক স্ট্রোক (রক্ত জমাট বাঁধা) ও হেমোরেজিক স্ট্রোক (রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ)। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ইসকেমিক স্ট্রোক হয়। আর মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে বা ফেটে রক্ত মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির আধিক্য, অলস জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের কারণেও স্ট্রোক হয়।
স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে যাওয়া, হাত বা পায়ের দুর্বলতা, হঠাৎ করে চোখে কম দেখা, অচেতন হয়ে পড়া, কথায় অস্পষ্টতা ও শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল ২০১৮ সালে দেশের ৬৪টি জেলার ২৫ হাজার ২৮৭ জনের ওপর স্ট্রোক নিয়ে এক জরিপ পরিচালনা করেছে। সেখানে জানানো হয়, দেশে এখন প্রতি হাজারে ১১ দশমিক ৩৯ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী আছেন। ৬০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৭ গুণ বেশি। নারীর চেয়ে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। স্ট্রোকের প্রকোপ শহরের চেয়ে গ্রামে কিছুটা বেশি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এক গবেষণার ফলাফল হিসেবে বলেন, ‘দেশে যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের রোগী। স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ রোগী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন। ১৯ শতাংশ রোগীর শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকে। ১৭ শতাংশ রোগী মানসিক চাপের শিকার।’
স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবীব হেলাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্ট্রোকে এখন ক্যানসারের চেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে। চল্লিশোর্ধ্বদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি হলেও যেকোনো বয়সেই স্ট্রোক হতে পারে। বয়স যত বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি ততই বাড়তে থাকে।’
সাধারণত কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে স্ট্রোক অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেন ডা. আহসান হাবীব হেলাল। তিনি বলেন, ধূমপান পরিহার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পরিমিত ব্যায়াম, নিত্যদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং সকাল ও সন্ধ্যায় ২০ মিনিট থেকে আধাঘণ্টা হাঁটতে হবে। অত্যধিক তেল-চর্বির খাবার পরিহার করে শাকসবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
চিকিৎসাব্যবস্থা তৃণমূলে নিতে হবে
অধ্যাপক আহসান হাবীব হেলাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্ট্রোকে শহরের মানুষ যেভাবে চিকিৎসা পায়, গ্রামের বা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য চিকিৎসাব্যবস্থা সেভাবে নেই। এ জন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের মতো হাপসাতাল তৈরি করা গেলে স্ট্রোক নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা থাকলেও এর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সবুজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, “স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির ১৯ লাখ করে মস্তিষ্কের কোষ (নিউরন) প্রতি মিনিটে মরে যেতে থাকে। মস্তিষ্কের কোষ যত মারা যায়, তত ক্ষতি হতে থাকে। যত সময় যায়, তত ক্ষতি বাড়ে। তাই বলা হয় ‘টাইম ইজ ব্রেন’ (সময়ই মস্তিষ্ক)। এই ক্ষতি হওয়া বন্ধে দ্রুত চিকিৎসা দরকার। সে কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে হবে, রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।”
পবিত্র ঈদ উল ফিতরের ছুটির মাঝে রোগীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর বহির্বিভাগ আগামী ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার এবং ২২ মার্চ রবিবার খোলা থাকবে। ওই দুই দিন রোগীরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসক এর পরামর্শ সেবা নিতে পারবেন।
এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে পরিচালক (হাসপাতাল) মহোদয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯ মার্চ ও ২২ মার্চ ছাড়া ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে। বন্ধের দিনগুলোতে হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগ প্রচলিত নিয়মে খোলা থাকেবে। তবে ক্লাসসমূহ, অফিস, বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সার্ভিস, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালটেশন সার্ভিস, পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকবে।
ঈদের বন্ধ শেষে মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে প্রচলিত নিয়েমে খোলা থাকবে এবং পবিত্র ঈদ উল ফিতর পরবর্তী ঈদ পুনর্মিলনী ২০২৬ ওই দিনই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন।
গত ১২ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি ডেন্টিস্ট মো. হারুন অর রশিদ (আওরঙ্গ)-এর নেতৃত্বে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
সাক্ষাৎকালে সোসাইটির পক্ষ থেকে দেশের দন্তচিকিৎসা ও মৌখিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্য খাতের চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করার পাশাপাশি ডেন্টাল সেক্টরের আধুনিকায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন।
সংগঠনের সভাপতি ডেন্টিস্ট মো. হারুন অর রশিদ (আওরঙ্গ) বলেন, "দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ডেন্টাল স্বাস্থ্যসেবাকে আরো গতিশীল ও জনবান্ধব করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
ভবিষ্যতে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের খরচ খুবই কম-এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেন, সময়মতো কিডনি রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং চিকিৎসা ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন।
আজ ১১ মার্চ ২০২৬ইং, বুধবার, শের-ই-বাংলা নগরস্থ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কিডনী ডিজিস এ্যান্ড ইউরোলজি এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। আলোচনা সভায় ড্যাবের সম্মানিত মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, নিটোরের সম্মানিত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কেনান, ড্যাবের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ মেহেদী হাসান, ড্যাবের সম্মানিত সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. একেএম খালেকুজ্জামান দিপু, বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ রেজাউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান।
কিডনি দিবসকে সামনে রেখে আজকের অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যায়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দূরহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। একটা আশার বিষয় হচ্ছে কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য এবং আবেদিক পেলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে কিডনী রোগ সনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও সক্ষমতার ভেতরে চলে আসবে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে।”
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বলেন, নীরবঘাতক কিডনী রোগের প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। কিডনী রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে ৮ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গন বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।
অ্যাপোলো চিলড্রেন’স হাসপাতাল, চেন্নাই সফলভাবে তামিলনাড়ুর প্রথম Cochlear™ Nucleus® Nexa™ ইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ব শ্রবণ দিবস (৩ মার্চ) উপলক্ষে আয়োজিত এই অস্ত্রোপচারটি রাজ্যের উন্নত শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ডঃ ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি-এর নেতৃত্বে এই যুগান্তকারী পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয়, যা অ্যাপোলো হাসপাতালকে ভারতে এই পরবর্তী প্রজন্মের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রযুক্তি চালু করা প্রথম সারির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।
এই অগ্রগামী অস্ত্রোপচারের প্রাপক বাংলাদেশ থেকে আসা ৯ বছর বয়সী এক কন্যা শিশু। সে বিশেষভাবে এই পদ্ধতির জন্যই চেন্নাই ভ্রমণ করেছে, যা শিশু শ্রবণ সেবায় এই হাসপাতালের ক্রমবর্ধমান খ্যাতির বহিঃপ্রকাশ। শিশুটি জন্মের পর থেকেই উভয় কানে তীব্র শ্রবণশক্তিহীনতা এবং কথা বলা ও ভাষা জনিত সমস্যায় ভুগছিল।
আগামী সপ্তাহগুলোতে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে, যেখানে এক্সটার্নাল সাউন্ড প্রসেসরটি সক্রিয় এবং প্রোগ্রাম করা হবে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছে এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী প্রোটোকল অনুযায়ী নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
Cochlear Nucleus Nexa হলো NEXOS™ চিপসেট দ্বারা চালিত বিশ্বের প্রথম স্মার্ট কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সিস্টেম। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপগ্রেড করা যায়, ফলে কোনো অতিরিক্ত অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীরা আধুনিক সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এটি ক্লাসরুম বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে শব্দ পরিষ্কারভাবে শুনতে এবং কথা বুঝতে সাহায্য করে।
এই মাইলফলক সম্পর্কে অ্যাপোলো চিলড্রেন’স হাসপাতালের ইএনটি ও হেড নেক রোবটিক সার্জন ডঃ ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি বলেন, “শিশুদের জন্য এই স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি তাদের কথা বলা এবং ভাষার বিকাশ, একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আমরা আধুনিক উদ্ভাবনের সাথে সঠিক পুনর্বাসনের সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করি।”
অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই অঞ্চলের সিইও ডঃ ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি বলেন, “এই সফল অস্ত্রোপচারটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বিশ্বমানের উন্নত শ্রবণ সমাধান প্রদানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকেও পুনর্নিশ্চিত করে। আমরা ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শিশুদের জন্য এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এক সময়ের ডিসপেনসারি বর্তমানে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। দূর থেকে দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই এটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জীর্ণ একটি টিনের ঘর চতুর্দিকে ভাঙাচোড়া। তিন কক্ষের এই ঘরটিই নাকি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বাইরে থেকে কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও বারান্দায় একটি ছোট প্যানায় লেখা রয়েছে এটি যে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এটি পৌর এলাকাসহ আশপাশের মানুষদের সেবার অন্যতম ভরসাস্থল। গরীব ও অসহায়দের বিনামূল্যে চিকিৎসায় একসময় সুখ্যাতি ছড়ানো উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবকাঠামোর দিক দিয়ে আজ চরম অবহেলিত। নেই চিকিৎসকও। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি যেন নিজেই অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে।
এমন ভঙ্গুর দশা ও নাজেহাল চিত্র ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদরের বড়পুকুর পাড় সংলগ্ন প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনতম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালের দিকে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রথমে রুরাল ডিসপেনসারি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে সেটিকে সরকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপ নেয়। কাগজপত্রে এখানে ৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার,একজন মিডওয়াইফারি, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহাকরী রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, মেডিকেল অফিসার মো. আহসানুল হক ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে জেলার ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্তিতে পাঠানো হয়। যদিও গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগদিতে চিঠি দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। এখানে কাগজপত্রে কর্মরত থাকা মিডওয়াইফারি লুৎফুন্নাহার ও অফিস সহায়ক রুহুল আমিন কাজ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বাস্তবে সেবা দেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফার্মাসিস্ট মো. নূরুল আমিন। জনবল না থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা সংকট, টিনশেডের তৈরি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দরজা, জানালা, সিলিং ভাঙা, সৌচাগার নেই, পানির ব্যবস্থা না থাকায় রুগ্ন অবস্থায় চলছে কার্যক্রম।
সরেজমিনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে রোগীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। এ দিন বেলা দেড়টা পর্যন্ত ৪৬ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। আগেরদিন সেবা নেন ৩২ জন। অবশ্য ২ ফেব্রুয়ারির পর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ওষুধ সরবরাহ না থাকায় প্রায় বন্ধ ছিলো সেবা কার্যক্রমও।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা অন্তত ১০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলে অনেকে মধ্যে সেবা নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। মেডিকেল অফিসার না থাকায় মানুষ প্রকৃত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না এবং মিডওয়াইফারি না থাকা গর্ভকালীণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারীরা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য (গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী), টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা (জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া) ও ওষুধ বিতরণ, এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদন করার কথা থাকলেও এখানে সাধারণ, জ্বর, কাশি ও গর্ভকালীণ মায়েরা আসলে তাদের আয়রন ও ক্যালসিয়াম ওষুধ ছাড়া আর কোনো ধরণের সেবা দেওয়া হয় না। রোগী আসলে তাদের পরামর্শ দিয়ে ২ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যে এ হাসপাতালে দিনের বেলায় চলে চিকিৎসা আর রাতের বেলায় বখাটেদের দখলে থাকে । এতদসত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই রোগীদের সেবা প্রদান করছেন দায়িত্বরতরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে এক একর ১৭ শতক জমি আছে। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে জবর দখল নিয়ে নেয়। তৎকালীন সংসদ সদস্যের নির্দেশে ৫ শতক জায়গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য দখলে নিয়ে ভবন করে নেয়। এনিয়ে জনমনে দেখা দেয় প্রশ্ন, জমি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আর ভবন নির্মাণ হয় ভূমি অফিসের।
চিকিৎসা নিতে আসা আবদুল মজিদ বলেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত দুরবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। ভবনের ভেতরের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। চেয়ার-টেবিল ভাঙাচোরা, দরজা ও জানালার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর ভুতোরে পরিবেশ, অন্ধকারে আছন্ন হয়ে পড়ে পৌরসভার বাতির ব্যাবস্থা নেই। অভিযোগ আছে অনেক সময় নেশাগ্রস্তরা ছিনতাইয়ের মত ঘটনাও ঘটিয়েছে।
গোলাপ হোসেন নামে আরেকজন রোগী বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে দুর্গন্ধ আর নোংরা পরিবেশে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে। এমন নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া নিজের স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। হাসপাতাল যেমন চিকিৎসাও তেমনই হয়।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত উপ সহকারি কমিনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান,বলেন, ঝাড়ু দার নেই,পায়খানা নেই,পানির ব্যবস্থা নেই। আমরা মসজিদের ওয়াশরুম ব্যবহার করি। এমন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্যও উদ্বেগের। রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সংস্কার জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, আমি এই অবকাঠামোর বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকা ও ময়মনসিংহ যোগাযোগ করছি। আশা করি বর্তমান সরকার খুব দ্রুত সময়ের মাঝেই জনকল্যাণে অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিবেন।
ময়মনসিংহ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, ডাঃ ফয়সল আহমেদ দৈনিক বাংলা কে বলেন, কিছুদিন আগে জরাজীর্ণ ফুলবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দীর্ঘদিন যাবৎ টিনসেড এর তৈরী এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে একটি কমিটি গঠন সেইসাথে সেখানে একজন চিকিৎসককে সংযুক্ত করে দিয়েছি। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় দ্রততম সময়ে ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ভেঙ্গে নতুন করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এই জরাজীর্ণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মশার উপদ্রব ভয়াবহভাবে বেড়েছে- এটি সত্য। এই সমস্যা থেকে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধলপুর এলাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত মশক নিধন কার্যক্রম ও ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মাত্র ৭ দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং শপথ নেওয়ার পরপরই মশা নিধনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী আরো জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মশা নিধনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তার মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আমদানি করা ওষুধের একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলোর কার্যকারিতা দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় কার্যকারিতা সন্তোষজনক না হলে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ব্যবহৃত ওষুধ কার্যকর হবে এবং মশক নিধন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং বিশেষ নজর দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্বজনদের মোটা অংকের নগদ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রফাদফা হয়। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ডিকেএমসি নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার কাউসার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে।
রোগীর স্বজনদের দাবি ভুল চিকিৎসায় রোগী মারাগেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে।
জানা যায়, সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু প্রসবব্যথা নিয়ে উপজেলার ডি কে এমসি নামক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার (সিজার) শেষে রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক প্রসূতিকে আইসিইউতে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তিতে রোগীর আত্মীয়-স্বজন ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হসপিটালে ভাঙচুর চালান। এই নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে ভিকটিমের বাবা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মোটা অংকের নগদ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয় এবং বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়।
নিহত সুমাইয়ার চাচা জাহিদ আমির বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু ভাতিজিকে আর ফিরেই পাব না। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে মীমাংসা শেষ ভাতিজির মরদেহ নিয়ে এসেছি।’
ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। সেখানে শোয়া অবস্থায় রোগীকে তার স্বজনরা পানি ও রুটি খাওয়ান। শুয়ে থাকা অবস্থায় রুটি খাওয়ানোর সাথে সাথেই খাবারটা লান্সে চলে গেছে। খাবার শ্বাসনালীতে চলে যাওয়ায় রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হয়ে যায়। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দেই। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে প্রসূতির মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না। অসাবধানতাবশত খাবার খাওয়ানোর কারণেই এমনটি ঘটেছে।’
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। রোগীর স্বজনদের দাবি ভুল চিকিৎসার রোগী মারাগেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে। তবে একপর্যায়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসায় গেলে আমরা চলে আসি।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ঢাকায় শপথ গ্রহণ শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরেই ভিন্ন বার্তা দিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সংবর্ধনা কিংবা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে তার প্রথম গন্তব্য ছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উদ্দেশ্য ছিলো জনগণের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গলে প্রবেশমুখে অবস্থিত চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত শহর প্রদক্ষিণ শেষে নির্ধারিত পথসভা বাতিল করে সরাসরি হাসপাতালে যান। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছে নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে তিনি একাই ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে, কারও হাতে হাত রেখে শোনেন তাদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা।
মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত মেহেরপুর ক্লিনিক নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকের এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী ও প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমান ও তার ছেলে চিকিৎসক অভি মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত বতর্মানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
জানা গেছে, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজিবার রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেগম জরায়ু টিউমার অপারেশনের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসক দিনভর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে আসা হয়। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডা. অভিকে ব্যাপক মারধর করে।
পরে তারা অপারেশন থিয়েটারের আসবাবপত্র ও দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। আহত চিকিৎসকদের পুলিশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিহত রোগীর ছেলে নাজমুল বলেন, ‘আমার মাকে অপারেশন থিয়েটারে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মারা গেছে। ইনজেকশন দেওয়ার পরেই তিনি চিৎকার করে ওঠেন। কিন্তু ডাক্তার অন্যকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডা. মিজান নাক, কান, গলার চিকিৎসক সে কীভাবে জরায়ুর অপারেশন করে।’
এ বিষয়ে অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অপারেশন টেবিলে নেওয়ার পরপরই রোগী হার্ট অ্যার্টাক করলে রোগীর কনভারশন শুরু হয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। রোগীর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।’
মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু বলেন, ‘ঘটনার পরপরই সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তবে সে বিষয়েও আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ‘হাউ টু রাইট রিসার্চ প্রোটোকল’ (How to Write Research Protocol) শীর্ষক এই দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। গবেষণার সঠিক পদ্ধতি ও প্রায়োগিক দিকগুলো নতুন প্রজন্মের গবেষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। কর্মশালায় প্রধান রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ জিয়াউল ইসলাম, পিএইচডি। তিনি গবেষণা প্রোটোকল রচনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যেমন—গবেষণার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, কার্যকর স্ট্যাডি ডিজাইন নির্বাচন, স্যাম্পল সাইজ গণনা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং গবেষণার নৈতিক দিক তথা এথিক্যাল ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত ও সচিত্র আলোচনা পেশ করেন।
বিশেষজ্ঞ প্যানেল বা প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বারডেমের জিএইচপিডি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আজম এবং বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মোস্তফা। তাঁরা গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রোটোকল রচনার সময় সাধারণ ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলামের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগ নিয়মিতভাবে এ ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক মানে গবেষণা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মূলত দক্ষ গবেষক তৈরির মাধ্যমেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে কর্মশালায় পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের মতোই বাদুড়বাহিত রহস্যজনক ও প্রাণঘাতী আরও একটি ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এতদিন নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বলে মনে করা হলেও নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি আসলে ‘প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস’ বা পিআরভি (PRV)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রকাশিত জার্নাল ‘ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজ’-এ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এই ভাইরাসের উপস্থিতি দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা নিপাহ ভাইরাসের মতোই কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন।
গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচজন রোগী রহস্যজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তীব্র জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং লালা নিঃসরণের পাশাপাশি গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। আক্রান্তরা সবাই অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। চিকিৎসকরা শুরুতে একে নিপাহ ভাইরাস বলে সন্দেহ করলেও ল্যাব পরীক্ষায় সবার ফলাফল নেগেটিভ আসে। কয়েক সপ্তাহ পর রোগীরা ছাড়া পেলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তিনজন রোগী দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি এবং হাঁটাচলায় সমস্যার সম্মুখীন হন এবং তাদের মধ্যে একজন ২০২৪ সালে অজানা স্নায়বিক জটিলতায় মারা যান। এই ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের আরও নিবিড় গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে এবং শেষ পর্যন্ত পিআরভি ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস এর আগে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে শনাক্ত হলেও সেখানে এর সংক্রমণ ছিল অত্যন্ত মৃদু এবং মূলত সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে পাওয়া এই নতুন ঘটনায় ভাইরাসের ভয়াবহতা ও তীব্রতা অনেক বেশি দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, এই ভাইরাসটির জিনগত কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন বা পুনর্গঠন (রিঅ্যাসর্টমেন্ট) ঘটেছে, যার ফলে এটি মানুষের শরীরে আরও শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর অববাহিকার কাছে পাওয়া বাদুড়গুলোর লালা ও মলে এই ভাইরাসের জিনগত মিল পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে বাদুড়ই এই ভাইরাসের প্রধান উৎস।
গবেষণার অন্যতম লেখক নিশ্চয় মিশ্র ও আরিফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন যে, কাঁচা খেজুরের রস পান করার ঝুঁকি এখন আর কেবল নিপাহ ভাইরাসে সীমাবদ্ধ নেই। এই নতুন ভাইরাসটি প্রমাণ করেছে যে বাদুড়বাহিত আরও অনেক উদীয়মান ভাইরাস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান করার প্রচলন আছে, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের বা স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি পিআরভি পরীক্ষাকেও নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে যাতে এই নতুন ও অজানা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। মূলত এই নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে নিপাহর পাশাপাশি আরও একটি অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী ‘অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন সভাপতি এবং সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান আমিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকীর যৌথ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডা. হাসনাত আহসান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ আনিছ উর রহমান, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন (শামীম), মোঃ আনিছুজ্জামান, মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, মইনুল হক মুন্না এবং মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান ও এম.জি. আজম তৌহিদসহ সাতজন কর্মকর্তা বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের কল্যাণ ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ ও প্রচার বিভাগে অভিজ্ঞদের পদায়ন করা হয়েছে। মোহাম্মদ বদরুল হুদা কোষাধ্যক্ষ এবং শামীম আহম্মদ প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিনকে বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক এবং আইনগত বিষয়সমূহ তদারকির জন্য আবদুল্লাহ হাসানকে আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ম, সাহিত্য, প্রকাশনা, মহিলা বিষয়ক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পৃথক পৃথক সম্পাদকীয় ও সহ-সম্পাদকীয় পদে দক্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এ্যাসোসিয়েশনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বেগবান করবে।
বিএমইউ অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ১৭ জন সদস্যকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন, খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), মাসুদ রানা, ড. মোস্তফা কামাল পাশা এবং মোঃ আকতারুজজামানসহ অন্যান্যরা রয়েছেন। ৬৩ সদস্যের এই সুবিশাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রক্টর ও পরিচালকের স্বাক্ষরিত এই আদেশ জারির পর নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং কর্মকর্তাদের নায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই কমিটি গঠনের ফলে বিএমইউর প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মকর্তারা।
শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠছে মিনি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। আর এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের কালিতলা থানার সামনে বেসরকারি মাদার কেয়ার হাসপাতালের ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। হালিমা বেগম (২৮) নামে ওই গৃহবধূর সিজার করানোর সময় পেটে তুলা সুতা গজ রেখে সেলাই করে দেন ডাক্তার হযরত আলী।
ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকেন সেই গৃহবধূ। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ২৯ জানুয়ারি রাতে প্রায় তিন মাস পর আবার অপারেশন করে বাহির করা হয় ব্যান্ডেজের তুলা সুতা গজটি। ওই গৃহবধূ এখন সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। তবে এসব কর্মকাণ্ডের পরও দায়সারা ভাব করছে মাদার কেয়ার হাসপাতাল চেয়ারম্যান হযরত আলী । যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
গৃহবধূ হালিমা সদরের ২নং সুন্দরবন ইউনিয়নের রামডুবি সদরপুর গ্রামের সবুজের স্ত্রী। বর্তমানে পাহাড়পুর লাইফ কেয়ার হসপিটালে ভর্তি রয়েছে।
এ ব্যাপারে হালিমা বেগমের দুলাভাই মো. সোহরাব হোসেন জানান, গত ১০ আগস্ট ২০২৫ তার সেলিকাকে সিজার করানোর জন্য শহরের কালিতলা মাদার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী ভর্তি করানো হয়। ওই দিনই রাতে মাদার কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার হযরত সিজার করেন। সিজারের সময় হালিমার পেটের ভেতরে ড্রেসিং করার তুলা সুতা রেখেই সেলাই করে দেন ডাক্তার। এরপর হালিমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিজারের কয়েকদিন পর থেকেই পেটের ভেতরে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন হালিমা। দিন যত গড়ায় ব্যথা তত বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড ব্যথা অুনভব করায় কয়েকদিন পর ৪ বার মাদার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এ সময় ডাক্তার হালিমাকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় পর কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়ে দেন ডাক্তার। কয়েকদিন পরে ব্যথায় কাতরাতে থাকলে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মমতাজ বেগম পলি দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার রাতেই হালিমাকে অপারেশন করেন।
এদিকে অপারেশন শেষে পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া এসব তুলা, সুতা, ময়লা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তার স্বজনরা। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পূর্বের ঘটনার সাথে জড়িত ডাক্তার হযরত আলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানান।
সাক্ষাতে ডা. হযরত আলীকে সুতা, তুলা, ময়লা দেখালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, এমনটাতো হওয়ার কথা নয়। রোগীর লোকজনের পছন্দমতো ডাক্তারকে দিয়ে সিজার করেছে। এখানে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’
এ ব্যাপারে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য ২০১৬ সালে ২ জুলাই বিরল উপজেলার পাকুড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী আনোয়ারার পাথর অপারেশন করতে গিয়ে ভুলবশত কিডনি কেটে ফেলে মাদার কেয়ার হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাক্তার হযরত আলী। এরপর ভুল চিকিৎসায় সদরের ৩নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিরামপুর গ্রামের মুনতাহিনা নামে রোগীর মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন পরেই দিনাজপুর সদরে গোপালগঞ্জ উত্তর বংশীপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী বিউটি আরা (২৬) ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হলে সেই সময় রোগীর লোকজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে এ ছাড়া ডাক্তার হযরত আলীর একটি অবৈধ গর্ভপাত মামলায় ৯ বছরের সাজা হয়। ১ বছরের জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে মুক্ত হয়।