শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

কিউবার রাষ্ট্রীয় পদক পেলেন বাংলাদেশের দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী

আপডেটেড
৭ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৩৮

কিউবায় রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত হলেন বাংলাদেশের দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও জাপানের ঔতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল এন্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজেজ-এর ভিজিটিং রিসার্চার ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। গত ১ এপ্রিল দেশটির ভারাদেরো শহরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে সে দেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাদের হাতে ''কার্লোস জে. ফিনলে অর্ডার'' তুলে দেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী এডওয়ার্ডো মার্টিনেজ ডায়েজ।

উল্লেখ্য,''কার্লোস জে. ফিনলে অর্ডার'' বিজ্ঞান গবেষনায় কিউবার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক। কিউবার রাস্ট্রপতি এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারী করেন (নম্বর ৭৮৯; তারিখ ২৬ মার্চ, ২০২৪)। ইয়েলো ফিভারের আবিস্কারক ও নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রথম কিউবান নাগরিক কার্লোস জে. ফিনলের নামে কিউবান সরকার এই পদকটি প্রবর্তন করেছেন।

বিজ্ঞানে অবদান রাখার জন্য কিউবার সরকার প্রতি বছর দেশী-বিদেশী বিজ্ঞানীদের ''কার্লোস জে. ফিনলে অর্ডার'' এ সন্মানিত করে থাকেন। ২০১৮-এ রসায়নে নোবেল বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জর্জ পি. স্মিথও এই পদক লাভ করেন।

পদক প্রাপ্তির পর অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল বলেন,''চিকিৎসক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীর দ্বৈত সত্তা বজায় রাখাটা এদেশে বিশেষ করে খুবই চ্যালেন্জিং। কিউবার সরকারের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। কারন এ ধরনের স্বীকৃতি সমস্ত কস্টকে ভুলিয়ে দিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহ যোগায়''।

উল্লেখ্য,''ন্যাসভ্যাক'' নামক হেপাটাইটিস বি’র একটি নতুন ওষুধ উদ্ভবনের জন্য কিউবান একাডেমি অব সাইন্সেস ২০১৯ সালে অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল ও ডা. আকবরকে কিউবান ও জাপানী কো-রিসার্চারদের সাথে একাডেমি অব সাইন্সেসের সর্বোচ্চ পদক ''প্রিমিও ন্যাশনাল'' প্রদান করে। এ ছাড়াও অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল ২০২১-এ বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসর সর্বোচ্চ পুরস্কার ''বাস গোল্ড মেডেল এওয়ার্ড'' এ ভূষিত হন।

''ন্যাসভ্যাক'' ছাড়াও অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যন্সার চিকিৎসায় স্টেম সেল এবং হার্বাল মেডিসিন নিয়ে গবেষনা করছেন।


ঢাকায় ‘নকল’ অ্যানেসথেশিয়ার ওষুধ, সারা দেশে অভিযানের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনের একটি ফার্মেসি থেকে নিষিদ্ধ অ্যানেসথেশিয়ার হ্যালোথেন গ্রুপের ওষুধ ‘হ্যালোসিন’ উদ্ধার করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার এ অভিযান চালানো হয়। পরে দুপুরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ব্যাপারী ফার্মেসিতে অভিযান চালান র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে নকল হ্যালোথেন বিক্রির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়। তার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিটফোর্ড এলাকায় এবং আজিজ সুপার মার্কেটের একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সোসাইটি অব অ্যানেসথেশিওলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা সভা করে সংকট উত্তরণে একটা পরিপত্র জারি করেছি। এই হ্যালোথেন ব্যবহার করা যাবে না। এটা একদম নিষিদ্ধ। তার পরও এটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যে বিক্রি করছে, সে যেমন দোষী তেমনি যে চিকিৎসক এটি ব্যবহার করছেন তিনিও দোষী।’

এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি ব্যবহারে যাকে যেখানে পাব, যেই হাসপাতালে পাব, যেই চিকিৎসককে পাব, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। যেই ওষুধ নিষিদ্ধ, সেটি ব্যবহার করার এখতিয়ার বাংলাদেশের কোনো চিকিৎসকের নেই। আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, এ অভিযান আমি আরও চালাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনার তদন্তে পাওয়া গেছে এই অ্যানেসথেশিয়া ড্রাগের জন্য এমনটি হয়েছে। সুতরাং এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না যে, একটি শিশু বা কারও জীবন এভাবে চলে যাবে। আমি ডিজি ড্রাগকে নির্দেশ দিয়েছি সারা দেশে অভিযান চালানোর জন্য।’

সভায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ‘গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে হ্যালোথেন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসিআই একমাত্র অনুমোদিত কোম্পানি ছিল, যারা এটি তৈরি করত। একটি ওষুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক বছর পরও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। যখনই দুই-তিনটি দুর্ঘটনা ঘটার পর আমাদের সন্দেহ হলো, আমরা বাজার থেকে স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট করলাম। টেস্টে দেখা গেল এই ওষুধে ভেজাল আছে। যেহেতু ভেজাল পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে অল্টারনেটিভ ভালো ওষুধ ব্যবহার করার জন্য সবাইকে বলেছি।’

উল্লেখ্য, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অজ্ঞান করতে ‘হ্যালোথেন’ নামের একটি এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি অ্যানেসথেশিয়ার কারণে কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে এই নকল ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। তখনই এটি নিষিদ্ধ করা হয়।

গত ২৭ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করে জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের অস্ত্রোপচারকালে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার সময় বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবার রোগীর মৃত্যু ও আকস্মিক জটিলতা প্রতিরোধ এবং অ্যানেসথেশিয়ায় ব্যবহৃত ওষুধের মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অ্যানেসথেশিয়ার কারণে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহারে ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ শীর্ষক এই চিঠিতে বলা হয়, অ্যানেসথেশিয়ায় ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য হ্যালোথেন ব্যবহার ও এর বিকল্প নির্ধারণ করতে হবে। সেই সঙ্গে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার ঘটনায় মৃত্যু ও এর অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করতে সুপারিশ করা হলো। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

সারা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কক্ষে ইনহেলেশনাল অ্যানেসথেটিক হিসেবে হ্যালোথেনের পরিবর্তে আইসোফ্লুরেন অথবা সেভোফ্লুরেন ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের সব হাসপাতালে বিদ্যমান হ্যালোথেন ভেপোরাইজার পরিবর্তন করে আইসোফ্লুরেন, সেভোফ্লুরেন ও ভেপোরাইজার প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রাক্কলন করতে হবে। অর্থাৎ এ বিষয়ে খরচের পরিমাণ জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া হ্যালোথেন বেচাকেনা ও ব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সারা দেশের সব অবেদনবিদকে (অ্যানেসথেশিওলজিস্ট) সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হ্যালোথেনের পরিবর্তে আইসোফ্লুরেন ব্যবহার করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হ্যালোথেন ভেপোরাইজারের বদলে আইসোফ্লুরেন ভেপোরাইজার প্রতিস্থাপনের জন্য চাহিদা মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নতুন অ্যানেসথেশিয়া মেশিন কেনার বেলায় স্পেসিফিকেশন নির্ধারণে স্পষ্টভাবে ভেপোরাইজারের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।


ঢাকার সরকারি হাসপাতালের ৩২ ভাগ টয়লেট ব্যবহার অযোগ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার সরকারি হাসপাতালের ৩২ শতাংশ টয়লেট ব্যবহার উপযোগী নয়। এ ছাড়া হাসপাতালের ৬৮ শতাংশ ব্যবহার উপযোগী টয়লেটের মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিচ্ছন্ন থাকে। এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ৯২ শতাংশ টয়লেট ব্যবহার উপযোগী হলেও সেগুলোর মধ্যে ৪৪ শতাংশই সব সময় থাকে অপরিচ্ছন্ন।

সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বির পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার ১২টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গবেষণায় ২ হাজার ৪৫৯টি টয়লেট পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে টয়লেট ব্যবহারের সুবিধা, ব্যবহার উপযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির গবেষকরা, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এই গবেষণাটি সম্প্রতি ‘প্লাস ওয়ান’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

আইসিডিডিআর,বি জানায়, ব্যবহার উপযোগী ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের অপ্রাপ্যতা কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগের জীবাণু ছড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং এর প্রাপ্যতা হাসপাতালগুলোতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলো ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে।

জরিপে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে রোগীদের জন্য টয়লেটের বিপরীতে ব্যবহারকারীর অনুপাত বেশি দেখা গেছে। দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতি একটি টয়লেটের বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টয়লেটপ্রতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৪ জন।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রে ওয়াটার এইড প্রণীত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ২০-২৫ জন রোগী বা পরিচর্যাকারীর জন্য প্রথম ১০০ জনের ক্ষেত্রে একটি করে টয়লেট এবং অতিরিক্ত প্রতি ৫০ জন রোগী বা পরিচর্যাকারীর জন্য একটি অতিরিক্ত টয়লেট থাকতে হবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো বাংলাদেশ জাতীয় ওয়াশ (ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন) স্ট্যান্ডার্ড ও ব্যস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১ অনুযায়ী অন্তর্বিভাগে প্রতি ছয়টি বেডের জন্য একটি টয়লেটের মানদণ্ড পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে।

জরিপে টয়লেট সুবিধায় প্রতিবন্ধীরা উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা টয়লেট সুবিধা পাওয়া গেছে ১ শতাংশেরও কম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। মাত্র ৩ শতাংশ হাসপাতালে মাসিকের সময় ব্যবহৃত প্যাড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ময়লা ফেলার ঝুড়ি ছিল।

গবেষণায় টয়লেটের ব্যবহার উপযোগিতা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ ব্যবহৃত মানদণ্ড অনুযায়ী। দৃশ্যমান মলের উপস্থিতি, মলের তীব্র গন্ধ, মাছি, থুতু, পোকামাকড়, ইঁদুর এবং কঠিন বর্জ্যের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণার বিষয়ে আইসিডিডিআর,বির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট এবং এই গবেষণার প্রধান তদন্তকারী ডা. মো. নুহু আমিন বলেন, ‘ঢাকার হাসপাতালগুলোর প্রকৃত স্যানিটেশন পরিস্থিতি আমরা যা দেখছি তার চেয়েও খারাপ হতে পারে। কারণ আমরা গবেষণাটি করেছিলাম কোভিড-১৯ মহামারির ঠিক পরে। তখন অনেক হাসপাতাল কোভিড রোগীদের চিকিৎসা থেকে সাধারণ চিকিৎসাসেবার দিকে মনোনিবেশ করেছে। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা ও কার্যক্ষম টয়লেট বজায় রাখার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে, লিঙ্গভিত্তিক প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’


ভারত-বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা ভাষায় লিভার চর্চা আর লিভারের সর্বাধুনিক চিকিৎসাগুলো বাঙালি লিভার রোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত ও বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাংলা লিভার ককাস (বালিকা) নামের নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ‘পঞ্চম পদ্মা-গঙ্গা-গোমতি লিভার সম্মেলন’-এ পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠিত হয়।

বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালি লিভার বিশেষজ্ঞ, লিভার বিষয়ে আগ্রহী বাঙালি বিশেষজ্ঞ, লিভার বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহী বাঙালি বিজ্ঞানী ও লিভার রোগ সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে আগ্রহী বাঙালি সমাজকর্মীদের একক, সমন্বিত প্লাটফর্মে কাজ করবে এ সংগঠনটি।

আগরতলার লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রদীপ ভৌমিককে সভাপতি ও জাপানের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবরকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি কলকাতার লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. সন্জয় ব্যানার্জী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও কার্যকরী সদস্য হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বালিকার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন, গুরগাওয়ের অধ্যাপক ডা. গুরদাস চৌধুরী,নয়া দিল্লীর অধ্যাপক ডা. প্রেমাশিষ করও কোলকাতার অধ্যাপক ডা. জ্যোতির্ময় পাল।

উল্লেখ্য, বালিকা আয়োজিত পঞ্চম পদ্মা-গঙ্গা-গোমতি লিভার সম্মেলন উপলক্ষে এক বাণীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সম্মেলনটি বাঙালি লিভার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


ঢামেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যেন বিবাদ না হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে রোববার বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সাংবাদিকদের সঙ্গে যেন বৈষম্য বা বিবাদ না হয় সে বিষয়ে পরিচালককে ডেকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ সকালে পরিচালককে ফোন করেছি যে, কেন এ ধরনের ঘটনা হচ্ছে। আমার কাছে কিছু রং ইনফরমেশন আজ আসছে। পরিচালক আমাকে বললেন, স্যার আপনার সঙ্গে আমি দেখা করব। তিনি কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাকে যেটা বলেছি যে, দেখেন, সাংবাদিকদের তাদের মতো কাজ করতে বলেন। এখানে যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা কোনো ধরনের বিবাদ না হয়। এটা আমি উনাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে একটা কথা সত্যি আমি নিজেও ফেস করি। অনেক সময় দেখা যায় আমরা যখন রোগী দেখি আমার ক্ষেত্রে আমি অনেক সাংবাদিকদের সঙ্গে এত বড় বড় ম্যাসিভ ঘটনা বাংলাদেশ ঘটেছে, নিমতলী থেকে শুরু করে যেগুলো আমি ট্যাকেল করেছি।’

সামন্ত লাল সেন বলেন, ওইটা একটু নিজেকে ইয়ে করে ট্যাকেল করতে হয়। সেটা আমিও উনাকে (ঢামেক পরিচালক) বলেছি, এখানে যেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ না করা হয়। এটা আমি সকালে উনাকে ডেকে বলে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, অনুমতি ছাড়া ঢামেক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দিতে পারবেন না, এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই নোটিশ জারি করেন।

বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাবের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা।


‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের উন্নয়ন’

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড ৬ জুন, ২০২৪ ২০:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের উন্নয়ন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের উন্নয়ন। এই হেলথ কেয়ারের আওতায় কীভাবে আরও উন্নত সেবা দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে এরইমধ্যে আমরা মন্ত্রণালয়ে সভা করেছি।’

তিনি বলেন, রোগীদের জন্য যথাযথ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীর চাপ কমবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতের একজন রোল মডেল। তার নেতৃত্বে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাধারণ সভাসহ নানা ইভেন্টে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ বিষয়টি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত গর্বের।’

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষ যেন ডাক্তারদের দেখে আস্থা পায়, সম্মান করে, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, সংসদে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন পাসের জন্য উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), এইচইডির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর সারোয়ার হোসাইন চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মশিউর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভী ফেরদৌস প্রমুখ।


স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে প্রথম বর্ষ এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বুধবার বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসকের মান ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও উন্নত করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে পুরো বিশ্বে সেটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

আজ বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে প্রথম বর্ষ এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডে সরকারি সফরে গিয়েছি। আমি যেখানেই গিয়েছি দেখেছি বিদেশে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের মান নিয়ে সবার মাঝে ইতিবাচক ধারণা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণের কাছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কমিউনিটি ক্লিনিক এখন পুরো বিশ্বে স্বাস্থ্যখাতের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

ডা. সামন্ত লাল সেন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারাটা একটা কষ্টসাধ্য ও সাধনার ব্যাপার। এ জন্য তোমাদের অভিনন্দন। চিকিৎসকরা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ নিয়ে জন্ম নেন। ডাক্তারদের অ্যাপ্রোনের যে মর্যাদা সেটা তোমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য যথাযথভাবে পড়াশোনা করে একজন যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতে হবে।’

ডিজিটাল ব্যবস্থা শিক্ষায় যে অবারিত সুযোগ-সুবিধা আনছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার সুবিধার্তে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই বাইরে পড়াশোনা করে নিজেদের দক্ষ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারে সেজন্য নানামুখী প্রচেষ্টা চলমান আছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল আলম চৌধুরী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা প্রমুখ।


কুষ্ঠ নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে মঙ্গলবার সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ জুন, ২০২৪ ১৭:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া ইয়োহেইয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ নির্মূলে যে অঙ্গীকার করেছেন, তা পূরণে স্বাস্থ্য বিভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানকে জানান, কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে বাংলাদেশ সরকার বড় রকমের সফলতা অর্জন করেছে। ১৯৯১ সালে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে কুষ্ঠ বিস্তারের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ যা সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বর্তমানে ০.১৮ তে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিরো কুষ্ঠ অর্জনে ইতোমধ্যে বিশদ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এইজন্য যথা শিগগির সম্ভব কুষ্ঠ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, কুষ্ঠ রোগীদের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানামুখী প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। ৫ম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় এইজন্য কুষ্ঠ নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৈঠকে সাসাকাওয়া ইয়োহেইকে বাংলাদেশে কুষ্ঠ নির্মূলে অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত একটা হাসপাতাল নির্মাণে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। কুষ্ঠ রোগ ছাড়াও স্বাস্থ্য সেবার নানান পর্যায়ে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে সেটাও অবহিত করেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিশ্বস্বাস্থ্য) ড. মো. জিয়াউদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সরকারসহ নিপ্পন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ডেঙ্গু চিকিৎসায় সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্র, স্যালাইনসহ হাসপাতালে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. সামন্ত লাল সেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেনেভা ও লন্ডন ট্যুর নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি যথেষ্ট। তবে এডিস ঠেকাতে না পারলে চিকিৎসা প্রস্তুতি হাজারো নিয়ে লাভ নেই।

ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আলোচনার জন্য দ্রুতই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত।’

যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ হয়নি, এটি আপাতত স্থগিত আছে।


দেশে রাতকানা রোগ প্রায় নির্মূল হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মহাখালীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনে ‘জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধনের সময় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন সফল হওয়ায় দেশে রাতকানা রোগ প্রায় নির্মূল হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ শনিবার মহাখালীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনে (নিপসম) জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন পর্যালোচনার জন্য ক্যাম্পেইনের দিন প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বছরে ২ বার শতকরা ৯৮ ভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ফলে ভিটামিন ‘এ’ অভাবজনিত অন্ধত্বের হার শতকরা ১ ভাগের নিচে কমে এসেছে এবং এতে শিশু মৃত্যুর হারও কমেছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো চলমান রাখতে হবে।’

ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন পর্যালোচনার জন্য ক্যাম্পেইনের দিন প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মাঝে অভিভাবকদের স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে গিয়ে শিশুকে ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার ফলে বাংলাদেশে অপুষ্টির হার কমেছে এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

তিনি আর বলেন, যাদের ঘরে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে সেসব মা-বাবা এবং অভিভাবকরা যেন অবশ্যই তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে (ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র) নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান।

জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনের সফলতা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এবার প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ শিশুকে দিনব্যাপী এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ। ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ও প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এই আয়োজনে যুক্ত আছেন।

তিনি বলেন, এবার ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১ হাজার ২২৪টি কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান সম্ভব হবে না। তবে পুনর্বাসন সমস্যা সমাধান হলে সেখানে পরে খুব দ্রুত সময়ে ভিটিমিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেয়া হবে।

সামন্ত লাল সেন বলেন, ভিটামিন এ-প্লাস কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্যাম্পেইন সফল করতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আর তা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিশ্বস্বাস্থ্য) ড. মো. জিয়াউদ্দীন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।


‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা পেলেই ব্যবস্থা’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৪ ১২:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেকোনও প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

তামাক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমায় তামাকের দৃশ্য দেখানো বন্ধ করতে হবে। নেশা হয় এমন ফ্লেভার ও রং তামাকে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। সামনের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম ৫০ থেকে ৯০ শতাংশে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

এ ছাড়া ২০৪০ সালে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান ডা. সামন্ত লাল সেন।

সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তাসহ স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা উপস্থিত ছিলেন। তামাক নিয়ে কাজ করে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন সাংবাদিক, ইউএনওসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করি, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করি’।


ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে ঢাকার ১৮ ওয়ার্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দুই সিটির মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে মশার ঘনত্ব বেশি। বহুতল ভবনে সবচেয়ে বেশি এডিস মশার লার্ভা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘মৌসুমপূর্ব এডিস সার্ভে ২০২৪-এর ফলাফল অবহিতকরণ সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আওতাধীন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীন গত ১৭ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাক্‌–বর্ষা মৌসুম জরিপ চালানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯৯টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ১৫২টি বাড়িতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক শেখ দাউদ আদনান। তিনি বলেন, ৩ হাজার ১৫২টি বাড়ির মধ্যে ৪৬৩টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বহুতল ভবনে ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।

এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। আর কতগুলো বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা পরিমাপের সূচক হলো হাউস ইনডেক্স। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ বছরের প্রাক্‌–বর্ষা মৌসুম জরিপে দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতেই ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। এই ৪১টির মধ্যে দক্ষিণ সিটির ২৯টি ও উত্তর সিটির ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে।

উত্তর সিটিতে ব্রুটো ইনডেক্স ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং হাউস ইনডেক্স ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া দক্ষিণ সিটিতে ব্রুটো ইনডেক্স ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং হাউস ইনডেক্স ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এ ছাড়া দুই সিটিতে ব্রুটো ইনডেক্স ১৮টি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। দক্ষিণ সিটির বাকি ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ৪, ৫২, ৫৪, ১৬, ৩, ৫, ১৫, ১৭ ও ২৩। উত্তর সিটির ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১২, ১৩, ২০, ৩৬, ৩১, ৩২, ১৭ ও ৩৩।

জরিপের ফলাফলে জানানো হয়, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে প্লাস্টিকে ড্রামে ১৮ শতাংশ, মেঝেতে জমানো পানি ১৫ শতাংশ এবং বালতিতে জমানো পানিতে ১৪ শতাংশ চিহ্নিত হয়েছে।

জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সব পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কারও একার কাজ নয়। এটার সঙ্গে যুক্ত সব কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক রোবেদ আমিন প্রমুখ।

বিষয়:

কাল ডা: সামছুল আলম- এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ মে) বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর প্রথম দিকের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান, মানবতাবাদী, দলমত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ডা: সামছুল আলম (এস. আলম)-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

সরকারি চাকুরী জীবনে অসংখ্য মানুষকে সেবা দিয়ে, অনেক অনুজকে পথ দেখিয়েছেন তিনি। শেষ জীবনে কুমিল্লায় স্থায়ী হওয়ার ফলে কুমিল্লার চিকিৎসা জগতের কিংবদন্তী এই মহান চিকিৎসক এ দিনে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন এতিমখানায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমের পরিবারবর্গ সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।


এবার প্রকাশ্যে এল করোনার কোভ্যাক্সিন টিকার ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাসের টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বীকার করে বাজার থেকে সব টিকা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ব্রিটিশ–সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিটি এই ঘোষণা দেওয়ার কিছুদিন না যেতেই এবার সামনে এল আরেক টিকার ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আর তা হলো ভারত বায়োটেকের করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, কোভ্যাক্সিনের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) একদল গবেষক। সম্প্রতি সেই গবেষণার প্রতিবেদনের ফলাফলে দাবি করা হয়েছে, কোভ্যাক্সিনের যথেষ্ট ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন এমন ৯২৬ জনের ওপর এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের দেহে শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে চর্মরোগ, স্ট্রোক, গিলান-বারি সিনড্রোম ও রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাডভার্স ইভেন্ট অব স্পেশাল ইন্টারেস্ট (এইএসআই) বলা হয়। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে ঋতুস্রাবজনিত নানা জটিলতা দেখা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নারীদের ক্ষেত্রে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪.৬ শতাংশ নারীর দেহে টিকার প্রভাবে ঋতুস্রাবজনিত নানা সমস্যা দেখা গেছে। এ ছাড়া ২.৭ শতাংশ নারীর মধ্যে চোখের সমস্যা এবং ০.৬ শতাংশের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা দেখা যায়। ০.৩ শতাংশের স্ট্রোক এবং ০.১ শতাংশের মধ্যে গিলান-বারি সিনড্রোম (জিবিএস) দেখা গেছে। এই রোগের প্রভাবে দেহ ধীরে ধীরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করোনার টিকায় আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানাল অ্যাস্ট্রাজেনেকাকরোনার টিকায় আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানাল অ্যাস্ট্রাজেনেকা সম্প্রতি জার্নাল অব স্প্রিঞ্জার নেচারে এই প্রতিবেদনের প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক বলছে, কোভ্যাক্সিন নিয়ে আগেও এমন অনেক গবেষণা করা হয়েছে। আর সেসব গবেষণায় পাওয়া গেছে, করোনার বিরুদ্ধে এই টিকা বেশ কার্যকর।

করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করলে শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়—এমন অভিযোগ কয়েক বছর ধরেই। তবে এ নিয়ে টিকা উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন চুপ করেই ছিল। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে এক মামলার জেরে সম্প্রতি মুখ খুলেছে একটি প্রতিষ্ঠান, অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তারা স্বীকার করেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া একটি নথিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকা স্বীকার করেছে, তাদের তৈরি করোনার টিকার কারণে খুব বিরল টিটিএসের লক্ষণ দেখা যেতে পারে। টিটিএসের পূর্ণরূপ হলো থ্রম্বোসিস উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম, যার ফলে মানুষের রক্তে প্লাটিলেট কমে যায় এবং দেহের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

এর জেরে গত সপ্তাহে নিজেদের করোনার টিকা সারা বিশ্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ–সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিটি। এতে জানানো হয়, বাজারে বর্তমানে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বৈশ্বিকভাবে টিকার আর সেই চাহিদাও নেই। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর বৃহস্পতিবার অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানায়, এই টিকা গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্ত জমাট বাঁধার ডিসঅর্ডার ভ্যাকসিন–ইনডিউজড ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া অ্যান্ড থ্রম্বোসিস (ভিআইটিটি) দেখা দিতে পারে। তবে, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল।


banner close