রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

মানুষের উপকারে আসবে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৪ ২১:২৮

মানুষের উপকারে আসবে এমন প্রকল্প গ্রহণ ও হাসপাতাল তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষের উপকারে আসবে এমন প্রকল্প, হাসপাতাল তৈরির কাজই আমি করব। একটা দরিদ্র মানুষ রংপুর থেকে ডায়ালাইসিসের জন্য ঢাকা আসবে সেটা তো হয় না। আমি এমন প্রকল্প নিয়েই কাজ করব যেটা আমি শেষ করতে পারব। সেটা এখন থেকেই করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার সদ্ব্যবহার করতে পারলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য অভিঘাতের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা যদি আমি নিশ্চিত করতে না পারি, ঢাকায় বসে যতই লেকচার দিই কোনো লাভ হবে না। গ্রামাঞ্চলে এবং প্রান্তিকপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করাটাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

অ্যান্টিবায়োটিকের পর্যাপ্ত ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সামান্য সর্দি জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেসিস্টেন্ট ভয়ানক একটা জিনিস। এ প্রসঙ্গে আমি বলব ডিজি ড্রাগকে আরও শক্ত হতে হবে। ফার্মেসিতে গিয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশন সিস্টেম যদি চালু করা যায় তাহলে যথাযথ মনিটরিং করা সম্ভবপর হবে, ওষুধের যথেচ্ছ এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমি মন্ত্রী হবার মেয়াদ মাত্র ছয় মাস। এ ছয় মাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আমি অন্তত সাতটি সভা করেছি। আমি যেভাবেই হোক এটা মহান জাতীয় সংসদে নিয়ে যাব। কারণ রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা আমার দায়িত্ব।’

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ পারিবারিক আয় ব্যয় জরিপের ২০২২ (এইচআইইএস) ভিত্তিতে তার গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য সনদ ছাড়াই পশু জবাই, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অ্যানথ্রাক্স ভাইরাস আতঙ্কে কসাই ও ক্রেতারা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই যত্রতত্র নিজেদের ইচ্ছেমতো জবাই করা হচ্ছে গরু ও ছাগল। এ বিষয়ে কোনো প্রকার কার্যক্রম ও নেই উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে কসাই ও ক্রেতারা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, এ উপজেলার সব চেয়ে বড় পশুর হাট পিংনা ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ পশুর হাট। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পশু আসে এই হাটে। অনেক অসাধু কসাই (মাংস বিক্রেতা) বেশি লাভের আশায় অসুস্থ গরুগুলো কম দামে কিনে বিভিন্ন স্থানে জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

ইতোমধ্যে গবাদিপশুর মাধ্যমে সংক্রমিত মারাত্মক রোগ অ্যানথ্রাক্স পশুর পাশাপাশি মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্রবিহীন অসাধু কসাই যেন কোনো অসুস্থ পশু জবাই করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মাংস ক্রেতা মনি মিয়া, মেহেদী হাসান বাধন, আমজাদ হোসেনসহ একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতের আঁধারে বা খুব ভোরে এসব গরু-ছাগল জবাই করা হয়। অন্য জায়গায় জবাই করে ভ্যানের মাধ্যমে মাংস বাজারে আনা হয়। কেমন গরু-ছাগল জবাই হচ্ছে, সেটা অসুস্থ নাকি সুস্থ ছিল সেটাও আমাদের জানার বা দেখার সুযোগ নেই। জবাই করাটাও কী ইসলামিকভাবে হুজুর দিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত জায়গা বা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে হচ্ছে কিনা। সেটাও জানি না। অনেকে আবার মাংসের সাথে ফ্রিজের মাংস মিশিয়ে বিক্রি করেন। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কসাইরা যেন অধিক লাভের আশায় অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২৫ জন কসাইকে নিয়ে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। তবে সমস্যা হলো পৌরএলাকা বা ইউনিয়নগুলোতে স্বীকৃতিকৃত বা অনুমোদিত কোনো কসাইখানা নেই। এই সুযোগে বিভিন্ন বাজার বা মোড়গুলোতে গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি হচ্ছে।


রূপ বদলে হচ্ছে করোনার চেয়েও ভয়ংকর বার্ড ফ্লু

*বিশ্বে নতুন আতঙ্ক এ এইচ৫এন৫ *মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণে সক্ষম *নেই কোনো অ্যান্টিবডি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বার্ড ফ্লু ভাইরাস নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুসারে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের এক বিরল উপরূপের খোঁজ মিলেছে। অনুমান করা হচ্ছে, সেই উপরূপটির কারণেই দেশটিতে মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের গবেষকরা বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নতুন উপরূপটিকে চিহ্নিত করেছেন, এর নাম এইচ৫এন৫।

গবেষরা বলছেন, বন্য পাখি, হাঁস-মুরগি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু ভাইরাসটি যদি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত, তাহলে এটি করোনাভাইসের (কোভিড-১৯) চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমনটি জানিয়েছেন ফ্রান্সের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের শ্বাসতন্ত্রসংক্রান্ত সংক্রমণ কেন্দ্রের পরিচালক মারি-অ্যান রামেইক্স ওয়েল্টি।

মারি-অ্যান রামেইক্স ওয়েল্টি বলেন, আমরা আশঙ্কিত কেননা ভাইরাসটি ইতোমধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে বিশেষত করে মানুষের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং পরবর্তীতে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণে সক্ষম হয়ে উঠছে। আর এ কারণেই ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপের ল্যাবগুলোর মধ্যে পাস্তুর ইনস্টিটিউটই প্রথম কোভিড-১৯ সনাক্তকরণ পরীক্ষা কিট তৈরি করেছে। পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বের অন্য ল্যাবগুলো তাদের কাছ থেকে এই কিট সংগ্রহ করে।

ওয়েল্টি আরও বলেন, সাধারণ এইচ-১ এবং এইচ-৩ মৌসুমী ফ্লুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি আছে সবার কাছে, কিন্তু পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন এইচ-৫ বার্ড ফ্লুর বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবডি নেই, যেমনটি ছিল না কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে।

রামেক্স-ওয়েল্টি বলেন, কোভিড-১৯ সাধারণত দুর্বল মানুষকে বেশি প্রভাবিত করলেও ফ্লুও ভাইরাসগুলি শিশু সহ সুস্থ ব্যক্তিদের শরীরে সংক্রমিত হয়ে তাদের মেরে ফেলতে পারে।

একটি বার্ড ফ্লু মহামারি সম্ভবত বেশ তীব্র হবে, সম্ভবত আমরা যে মহামারিটি অনুভব করেছি তার চেয়েও বেশি গুরুতর, তিনি তার প্যারিস পরীক্ষাগারে বলেন।

অতীতে এইচ-৫ বার্ড ফ্লু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত অনেক লোকের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাঁস-মুরগি এবং দুগ্ধজাত গরুর মধ্যে প্রচলিত এইচ-৫ এন-১ও, যদিও তারা সংক্রামিত প্রাণীদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিল। এই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যে এইচ-৫ এন-৫এর প্রথম মানব কেস পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গত সপ্তাহে মারা গেছেন।

বার্ড ফ্লু সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মিসর, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো অঞ্চলগুলোতে প্রায় ১,০০০ জনের মধ্যে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ লোকই মারা গেছে।

তবে বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান গ্রেগোরিও টোরেস রয়টার্সকে বলেছেন, এখনো মানব মহামারি হওয়ার ঝুঁকি কম রয়েছে। তিনি বলেছেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে আপাতত, আপনি আনন্দের সাথে বনে হাঁটতে পারেন, মুরগি এবং ডিম খেতে পারেন এবং আপনার জীবন উপভোগ করতে পারেন। মহামারির ঝুঁকি একটি সম্ভাবনা।’

রামেইক্স-ওয়েল্টি আরও বলেন, যদি বার্ড ফ্লু মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হওয়ার জন্য পরিবর্তিত হয়, তবে বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারীর তুলনায় ভালভাবে প্রস্তুত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোভিডের তুলনায় ফ্লুর ইতিবাচক দিক হলো, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের কাছে ভ্যাকসিন উপাদান রয়েছে এবং এছাড়াও আমরা জানি কিভাবে দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি করতে হয়।’

ওয়েল্টি বলেন, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও রয়েছে, যা নীতিগতভাবে এই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে।


আবারও কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ দফা দাবিতে আবারও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুরুল হক হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবি আদায়ের জিও প্রকাশ না হলে আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মবিরতিতে যাবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ওয়াসি উদ্দিন রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরী, মুখ্য সংগঠক জিয়াউল হক কাবুল, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

নেতারা জানান, নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন জানিয়ে আসছে। যৌক্তিক ঘোষণা সত্ত্বেও ৫-বার আশ্বাস দেওয়ার পরও এসব দাবি বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ।

ফলে সারাদেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন গত ১ অক্টোবর থেকে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ টিকাকেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এবং সদ্য সমাপ্ত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচির সব রিপোর্ট তৈরি ও প্রদান বন্ধ রেখে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করে।

এ কর্মবিরতির কারণে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য সহকারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

নেতারা জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রায় ৫ কোটি শিশুকে টিসিভি টিকা সফলভাবে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতির কোনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। বরং টিসিভি বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ২৩ নভেম্বর চাঁদপুর জেলার দুই সহকর্মী- স্বাস্থ্য সহকারী আরিফ মোহাম্মদ রুহুল ইসলাম ও শাহজালালকে কুমিল্লা জেলায় বদলি করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক। এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে আবারও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।

নেতারা বলেন, আমরা আমাদের দুই সহকর্মীর বদলির আদেশ প্রত্যাহার চাই। এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের ৬ দফা দাবির জিও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।

স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতা যুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান। ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের ১১তম গ্রেডসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়া। পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা এবং সকল স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শককে প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা। অন্যদিকে বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণের সময় প্রাপ্ত টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল সংযুক্ত করাসহ ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।


৪১ শতাংশ আইসিইউ রোগীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না

আইইডিসিআরের পর্যবেক্ষণ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এখন ৪১ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার দিন দিন এই সংকটকে গভীর করছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে এক অনুষ্ঠানে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। আইইডিসিআর মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে এই পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক জাকির হোসেন।

অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ও অতিরিক্ত ব্যবহার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে (এএমআর) বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এটি এখন দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্যঝুঁকি। সবার প্রতি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে নিজের জীবন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানাবোঝার জন্য আইইডিসিআর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে। দেশের পাঁচটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের শরীরে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।

আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় ৫টি জীবাণুর ক্ষেত্রে ৭১টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫টি অ্যান্টিবায়োটিকের সংবেদনশীলতা ৮০ শতাংশের ওপরে। একটির সংবেদনশীলতা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। বাকিগুলোর সংবেদনশীলতা ৬০ শতাংশের নিচে।

আইইডিসিআরের সময়ে যত রোগীর নমুনা পরীক্ষা করেছে, তার মধ্যে ৭ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী অণুজীব প্যান–ড্রাগ–রেজিট্যান্স (পিডিআর) পাওয়া গেছে। প্যান ড্রাগ হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য ব্যবহৃত সব ধরনের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক। আইসিইউ রোগীদের ক্ষেত্রে পিডিআরের উপস্থিতি ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের ৪১ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো ওষুধ কাজ করছে না।

আইইডিসিআর জানায়, তারা ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে এই ‘জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সার্ভিলেন্স’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত অণুজীব বা প্যাথোজেনগুলোর মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

আইইডিসিআর তাদের পর্যবেক্ষণে ১২৩টি ‘ড্রাগ-বাগ কম্বিনেশন’ (অণুজীব ও ওষুধের পারস্পরিক সম্পর্ক) বিশ্লেষণ করেছে। কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য পূর্ববর্তী বছরের প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ক্ষেত্রে কার্যকরিতা বেড়েছে, ৭৯টি ক্ষেত্রে কমেছে এবং ৬টির ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত রয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তারা একটি বড় ডেটাবেস (তথ্যভাণ্ডার) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে এই আহ্বান পৌঁছাতে চাই, যাতে মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে ভবিষ্যতে গুরুতর সংকট তৈরি হবে।’

আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত সারাদেশে মোট যত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়েছে, তার ৫৭ শতাংশই হয়েছে ঢাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে রোগীর সংখ্যা বেশি, বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালের সংখ্যা বেশি এবং স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলক সহজলভ্য হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও বেশি হচ্ছে।

ঢাকার পরের অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট। এছাড়া মূত্রনালি সংক্রমণের (ইউটিআই) রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক হলো সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজল, ক্লক্সাসিলিন, পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাকটাম ও ভ্যানকোমাইসিন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এগুলোর অযথা ব্যবহারের ফলে কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখনই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে (এএমআর) মোকাবিলায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তারা বলেন, দ্রুত সময়ে জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষ যেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজেদের ইচ্ছেমতো ফার্মেসি (ওষুধের দোকান) থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে ব্যবহার করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আগামী এক দশকেই চিকিৎসা খাতকে বড় সংকটে পড়তে হবে। তারা বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক যত কম ব্যবহার করবেন, তত বেশি কার্যকর থাকবে।

শরণার্থীশিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা তুলনামূলক বেশি রয়েছে। কারণ হিসেবে আইইডিসিআর জানায়, সেখানে মানুষ তুলনামূলক চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে টেট্রাসাইক্লিনের কার্যকারিতা ১০০ শতাংশ, অর্থাৎ সব রোগী এটা সেবন করে সুফল পাচ্ছেন। আর অ্যাজিথ্রোমাইসিন কাজ করছে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জনের শরীরে। সেখানে ডায়রিয়াজনিত রোগ সারাতে অ্যাজিথ্রোমাইসিন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।


মাগুরায় নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের স্মারকলিপি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

নার্সিং ও মিড ওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে তাদের ভিন্ন অধিদপ্তর ও ভিন্ন পেশাজীবীর মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন মাগুরা জেলা শাখা। সোমবার দুপুরে তারা মাগুরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন।

তাদের অন্য দাবি হলো- স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ১৪ মাসেও পূরণ না হওয়া।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি সুফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনা খাতুন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


বাল্যবিয়ে ও ত্রুটিপূর্ণ প্রসবে বাড়ছে ফিস্টুলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা

বাল্যবিয়ে এবং অনিয়মিত বা বিলম্বিত প্রসবের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ফিস্টুলা রোগী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী জীবনে যার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গাইবান্ধার জেলার চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলায় ১৭২ জন নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৩৮জন, সদর ৩৪, সুন্দরগঞ্জ ৩১, পলাশবাড়ী ২৭, সাদুল্লাপুর ২২, ফুলছড়িতে ১২ এবং সাঘাটা উপজেলায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ জন। এসবের মধ্যে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখা ১৮ জন।

সোমবার গাইবান্ধার একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে সাংবাদিকদের জন্য নারীদের ফিস্টুলাবিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে ফেরি প্রজেক্ট (Elimination of Genital Fistula by Capturing, Treating, Rehabillitating and Reintegrating in Bangladesh) সভায় ল্যাম্ব ও ইউএনএফপিএ-এর উদ্যোগে ফিস্টুলা নির্মূল কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। যেখানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডা. তাহেরা আকতার মনি। তিনি ফিস্টুলা রোগের কারণ, প্রতিকার এবং চিকিৎসা পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।

সভায় ল্যাম্বের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটর মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ ফিস্টুলা নির্মূল ও সচেতনতা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এ রোগে আক্রান্ত নারীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব আলোকপাত করেন।

সভায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন ও সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ যেখানে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

ফিস্টুলার কারণ ও লক্ষণ: এদিন মূল আলোচনায় ডা. তাহেরা আক্তার মনি জানান, ফিস্টুলা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রসব বা অন্য কোনো কারণে মূত্রথলী, মলাশয় বা জরায়ুর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক ছিদ্র তৈরি হয়। যার ফলে প্রস্রাব বা মল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা রোগীরা। প্রস্রাব বা পায়খানার বেগ ছাড়াই প্রস্রাব পায়খানা অনবরত ঝড়তে থাকে। বিশেষ করে মাসিকের রাস্তা দিয়ে অনবরত প্রস্রাব ঝরতে থাকে। সবসময়ই পড়নের কাপড় ভেজা থাকে। ঘন ঘন সংক্রমণ ও পেলভিক অঞ্চলে জ্বালাপোড়া করে।

এর সবচেয়ে বড় কারণ- বাধাগ্রস্ত বা দীর্ঘ প্রসব, যেখানে শিশুর অবস্থান বা মায়ের পেলভিস অপর্যাপ্ত থাকায় প্রসব সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। আর এসব অদক্ষ ধাত্রী বা প্রতিবেশীর মাধ্যমে প্রসব, জরুরি চিকিৎসার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া অন্য কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কারণ হিসেবে রয়েছে কম বয়সে গর্ভধারণ বা বাল্যবিবাহ।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ডা. মনি আরও জানান, এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেশের সব চিকিৎসাকেন্দ্রে পাওয়া যায়না। আমাদের জেলা হাসপাতালেও নেই এই চিকিৎসা। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।

এ সময় ফিস্টুলা প্রতিরোধে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ এড়িয়ে চলা, নিরাপদ প্রসব ব্যবস্থা, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর জীবনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হলো সার্জারি, যা প্রায় ৮০-৯৫% ক্ষেত্রে সফল হয়। ছোট ফিস্টুলা ক্যাথেটার বা অন্যান্য সহজ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা যায়। সার্জারির পর মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পুনর্বাসনও অপরিহার্য।

ডা. মনি বলেন, আমাদের কোনোভাবেই ১৮ বছরের আগে নারীদের বিয়ে নয় এবং ২০ বছরের আগে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


নভেম্বরেও ভোগাচ্ছে ডেঙ্গু,বাড়ছে মৃত্যু

*একদিনে মৃত্যু আরও ৮, হাসপাতালে ৭৭৮ *এ পর্যন্ত সবমিলিয়ে মৃত্যু ৩৬৪ জনের *হাসপাতালে ভর্তি ৯০,২৬৪ রোগী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রামপুরার বনশ্রীতে শরীফ আহমেদের (ছদ্মনাম) গেল মাসটা কেটেছে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত স্বজনদের নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। রোগী আর হাসপাতাল—এ নিয়ে ছোটাছুটিতে কেটেছে পুরো মাস। সময়, অর্থ, ভীতি—সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ সময়। বাড়ির শিশুদের নিয়েও ছিল বড় ভয়। ভেবেছিলেন নভেম্বরে বুঝি সেই ভয় কিছুটা কাটবে। কিন্তু ডেঙ্গু কিন্তু এই মাসেও কমছে না। কারণ, নভেম্বরে সাধারণত এডিস মশাবাহিত এ রোগের প্রকোপ কমে আসে। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম। এ ব্যতিক্রম শঙ্কা জাগাচ্ছে জনস্বাস্থ্যবিদদের।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত জার্নাল অব মেডিকেল এন্টোমোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের মাসিক বৃদ্ধির গতিপথ ঠিক থাকছে না।

জনস্বাস্থ্যবিদ, চিকিৎসক ও কীটতত্ত্ববিদদের কথা, ডেঙ্গুর বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আবার চিকিৎসাব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হয়নি। এদিকে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৭৮ জন।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২১ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন, খুলনা বিভাগে ১১২ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৯ জন ও সিলেট বিভাগে ৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এতে বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৯০ হাজার ২৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৪ জনের।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

এ বছর এখন পর্যন্ত মাসের হিসাবে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে গত অক্টোবর মাসে। ওই মাসের প্রথম সাত দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২২ ও ৫ হাজার ৭২৬। অক্টোবরের শেষ সাত দিনে (২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর) ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ১১৫। আর মৃত্যু হয়েছিল ২৮ জনের।

২০২২ সালের ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং এতে মৃত্যু কমে আসে। ওই বছর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল অক্টোবর মাসে। আর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নভেম্বরে। কিন্তু নভেম্বরে সংক্রমণ কমে গিয়েছিল আগের মাসের তুলনায়। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম হলো।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, নভেম্বরে সংক্রমণ আগে কখনোই এভাবে বাড়েনি। এখন দেশে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরও অন্তত কয়েকদিন চলতে পারে। আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যুর আরও ঘটনা ঘটতে পারে।


কিশোরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৩ টাকার টিকিট নিচ্ছে ৫ টাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে রোগীপ্রতি টিকিটের মূল্য ৩ টাকা নির্ধারিত হলেও আদায় করা হচ্ছে ৫-১০ টাকা। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিট বিক্রি করছেন হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেন। প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে তিনি ৫-১০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে করেন দুর্ব্যবহার।

উপজেলার কেশবা থেকে আসা রোগী ইয়া ইয়া বলেন, ‘কাউন্টারে এসে টিকিট চাইলে পাঁচ টাকা দাবি করেন কাউন্টারে থাকা লোকজন। তিন টাকার কথা বললে তিনি আমাকে লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বলেন, বেশি কথা বললে টিকিট দেবনা। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ টাকাই দিয়েছি।’

চাদখানা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মজিবর রহমান বলেন, আমি ১০ টাকার নোট দিয়েছি আমাকে ৫ টাকা ফেরত দিয়েছে। যদি টিকিটের দাম ৩ টাকা হয় তাহলে কেন ৫ টাকা নিল। এভাবে টিকিট প্রতি ২ টাকা বেশি নিলে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হয়। এভাবে বছরে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এসব দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ শতাধিক রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখান। মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯-১২ হাজার। মাসে ৯ হাজার হিসেবে বছরে টিকিট কাটা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার। সে হিসেবে রোগীপ্রতি ২-৭ টাকা বেশি নিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২-৬ লাখ টাকা। এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, বহির্বিভাগে যদি টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা কেউ নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি টিকিট ৫ টাকা রাখার বিষয়ে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেনকে বলেন, দুই টাকা খুচরা দেয়া সম্ভব নয় তাই ৫ টাকা করে রাখা হচ্ছে। কেউ আবার ২টাকা ফেরত না নিয়ে চলে যায়।


বরিশালে চিকিৎসা অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

সিজার অপারেশনের পর চিকিৎসক ও বেসরকারি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় সাথী আক্তার পরি (২২) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে গেছে।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পরলে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে মৃতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সন্ধ্যায় বরিশালের বাটাজোর এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

মৃত সাথী আক্তার পরি উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠী গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী। মৃতের শ্বশুর নজরুল আকন জানিয়েছেন, ‘গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে তার পুত্রবধূর প্রসব বেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে পাঁচ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরবর্তীতে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) সিজারে আপত্তি জানালে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ করে নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরি। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যায়। পরবর্তীতে আধাঘণ্টা পর পরিকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায় ক্লিনিকে কোন অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

অভিযোগ করে মৃত পরির শ্বশুর আরও বলেন, পরির শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি। এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোন কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে বের হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লিনিকের সব স্টাফরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরি মারা গেছে। তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরির সিজার অপারেশন করেছে।

এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়া কোন ধরনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নওগাঁয় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৫৬, অক্টোবরে ১২০ এবং সেপ্টেম্বর ১১৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
নওগাঁ পৌরসভার জনকল্যাণ মহল্লা থেকে উঠানো।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ পৌরসভায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌরবাসী। বাসা-বাড়ি, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না কেউই। মশার কয়েল, ধোয়া ও স্প্রে সব কিছুই যেন মশার কাছে হার মানছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও যেন রেহাই নেই। এতে বাড়ছে ডেঙ্গু। দুশ্চিন্তায় পৌরবাসীন্দা।

পৌরবাসীর অভিযোগ- পৌরকর বাড়ানো হলেও পৌর সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মশা নিধনে প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫৬ জন। আর অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১২০ জন এবং এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১৬ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছর নওগাঁ সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩২১ জন।

এদিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ দিলরুবা সুলতানা বলেন, গত তিন মাসে আমাদের হাসপাতালে মোট ১২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

নওগাঁ পৌরসভা প্রথম শ্রেণি। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজারের ওপর।

পৌরসভায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ। অধিকাংশ ড্রেনে নেই ঢাকনা। এতে ময়লা আর্বজনায় চাপে ড্রেনের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আর্বজনায় মশা ও মাছি জন্ম নেয়। নিয়মতি ড্রেন পরিষ্কার না করা। এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। পৌরসভার মশকনিধন কার্যক্রমের অভাবে মশার বিস্তার চরম আকার ধারণ করেছে। এতে পৌরবাসী মশার উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। উপদ্রব এমনভাবে বেড়েছে যে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার আগেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না মশা থেকে। মশা কামড়ানোর পর সেই স্থানে ফুলে যন্ত্রণা করে।

বাসা-বাড়ি, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না কেউই। মশার কয়েল, ধোয়া ও স্প্রে সব কিছুই যেন মশার কাছে হার মানছে। দিনের আলোতেও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে কয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। মশার কয়েল কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।

শহরের মাস্টারপাড়ার বাসীন্দা শামিম বলেন, ‘সন্ধ্যার আগেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করতে হয়। তারপরও যেন রেহাই নেই। কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। এমন অবস্থা যে কয়েলের ওপরও মশা ঘোরাঘুরি করে। দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। আর মশা যেখানে কামড়ায় সেখানে জ্বালা-যন্ত্রণা করে ও ফুলে উঠে। কয়েল কিনতে প্রতিদিন ১০ টাকা খরচ হয়। যদি এমন অবস্থা চলতে থাকে তাহলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা আছে।’

শহরের ডিগ্রীমোড় এলাকার শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, ‘এত বেশি মশার উপদ্রব বেড়েছে যে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায়, কয়েল জ্বালিয়ে মশারির ভেতরে পড়তে হচ্ছে।’

শহরের কোমাইগাড়ী মহল্লার আসফাক উদ্দিন বলেন, ‘বাসা থেকে কিছুদূরে পৌর ময়লার ভাগাড়। এ এলাকায় মশা নিধনের তেমন একটা কার্যক্রম চোখে পড়ে না। পৌরসভার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মশক নিধনের কার্যক্রম করা হলেও বাকিগুলোতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বছর বছর বাড়ানো হয় পৌরকর। অথচ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী।’

নওগাঁ পৌরসভা প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘মশক নিধনের জন্য তিনটি ফগার মেশিন ও তিনটি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন আছে। গত দুই বছর থেকে পৌরসভায় মশক নিধনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে পৌর রাজস্ব আয় থেকে মশক নিধনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌরসভার প্রতিটি মহল্লায় পর্যায়ক্রমে মশক নিধনের কাজ করা হয়। তবে ফগার মেশিনের চেয়ে হ্যান্ড স্প্রে মেশিনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে মশার লাভা ধ্বংস করা হচ্ছে।’

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ দিলরুবা সুলতানা বলেন, গত তিন মাসে আমাদের হাসপাতালে মোট ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। হাসপাতাল থেকে তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।’

এ নিয়ে নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিন মাসে পুরো জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ৩২১ জন। মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন অবহেলা করে ঘরে বসে না থাকেন। যেকোনো ধরনের জ্বর হোক না কেন জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


বিএমইউতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট ২০০৬ ও রুলস ২০২৫ নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-তে অর্থ ও হিসাব অফিসের উদ্যোগে বিএমইউতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট ২০০৬ ও রুলস ২০২৫ নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ রবিবার ২৩ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত ২ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএএমইউ এর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন)। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মশালায় রিসোর্চ পারর্সন হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) আফরোজা পারভীন এবং ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর চীফ ইনস্ট্রাক্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মশালায় বিভিন্ন বিভাগের ক্রয় কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ৪০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএএমইউ এর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, রোগীদের প্রয়োজন ও কল্যাণে, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে ক্রয় কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিহার্য। তবে ক্রয় কার্যক্রম হতে হবে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। ক্রয় কার্যক্রমে বিধি বিধান মেনে চলতে হয় যে কারণে কিছুটা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়। অনেকে এবার এসব কারণে ক্রয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। এটা একেবারেই ঠিক না। নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, পুরাতন যন্ত্রপাতি মেরামতসহ নানা ধরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। মনে রাখতে হবে ক্রয় হবে রোগীদের কল্যাণে, আর আইনও মেনে চলতে হবে। আইন হয়েছে আটকানোর জন্য নয়, আইন হয়েছে উন্নয়নের জন্য। তাই যারা ক্রয়ের দায়িত্বে আছেন বিশেষ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্রয় কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরকে রোগীদের স্বার্থে, চিকিৎসা শিক্ষার স্বার্থে, বিভাগের উন্নয়নে ক্রয়ের দায়িত্ব অবশ্যই নিতে হবে। অবশ্যই তাদেরকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। উদ্যোগী হলে নিময় মেনেই ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। জরুরি যেসকল যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বা মেরামত প্রয়োজন তাও নিময় মেনে ক্রয় সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই আগামী এক দু মাসের মধ্যেই ক্রয় করা সম্ভব। এজন্য আরএফকিউ, ডিপিএম, ওপেন টেন্ডারসহ বিভিন্ন ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাও প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মশালায় অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব নাছির উদ্দিন ভূ্ঞাঁ, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ বদরুল হুদা, উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ মাসুদ আলম, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ আবু নাজির, অডিট এ্যান্ড একাউন্টস অফিসার মোঃ আব্দুল মতিন, সেকশন অফিসার (অর্থ ও হিসাব) শামীম আহম্মদ প্রমুখ ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সিলেটবাসীর জন্য নতুন উদ্যোগ: সিলডক.কম স্বাস্থ্যসেবা তথ্য এখন এক প্ল্যাটফর্মে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাস্থ্যসেবার তথ্যপ্রবাহ আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সিলডক.কম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।

সিলেট জেলায় প্রথমবারের মতো এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে যেখানে এলাকার সকল ডাক্তার, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

সিলডক.কম–এ ব্যবহারকারীরা ডাক্তারদের নাম, চেম্বার লোকেশন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর এবং বিশেষজ্ঞ বিভাগের ভিত্তিতে সাজানো তালিকা দেখতে পারবেন। এতে সঠিক চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হবে।

এছাড়াও প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছে মেডিকেল ফাইল চেকার, যা ব্যবহারকারীদের মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে। ফলে সাধারণ মানুষ অজানা মেডিকেল টার্ম বুঝতে পারছে খুব সহজেই।

সিলডক.কমের উদ্যোক্তাদের মতে, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তিকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

ওয়েবসাইট: https://syldoc.com/


ভূমিকম্পে আহতদের সুষ্ঠু চিকিৎসার নির্দেশ: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ভূমিকম্পে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম

আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পৌঁছে ভূমিকম্পে আহত চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জানান, “সব হাসপাতালে বলেছি, ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসায় যেন কোনো ত্রুটি না হয়। সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে, হয়তো কাছাকাছি থাকার কারণে এই মাত্রা বেশি মনে হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় মাত্রা ছিল ৫.৭ রিখটার স্কেলে। তবে আহতের সংখ্যা সেই তুলনায় বেশি হয়েছে। ঢাকার যেসব ছাত্র আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আতঙ্কে দুই-তিন তলা থেকে লাফ দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে সুষ্ঠু চিকিৎসার চেষ্টা করছি।”

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া, আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে; তার বাবাও আহত এবং তাঁর অবস্থা গুরুতর। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে আহতদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুরের কয়েকজন আহত এবং অনেকে প্যানিকের কারণে হাসপাতালে এসেছেন। “ডাক্তাররা তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। শারীরিকভাবে আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে তিনটা পর্যন্ত ঢামেকে ৪১ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ ছয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে।


banner close