ফল শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। একেক ফলের কার্যকারিতায় রয়েছে ভিন্নতা। স্বাস্থ্যকর যেসব ফল রয়েছে সেসবের মধ্যে ব্লুবেরি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক অল্প কিছু ব্লুবেরি খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কারণ এটি রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ব্লুবেরির পাশাপাশি স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, ব্ল্যাকবেরি ও চেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে অনেক বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও ফাইবার রয়েছে। ফলগুলোর এসব বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস নিউট্রিশন সংস্থার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, ব্লুবেরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধমনির দৃঢ়তা এবং অ্যানডোথেলিয়াল ফাংশন (রক্তনালিগুলো ঘিরে থাকা কোষের একটি স্তর, যা রক্তপ্রবাহ এবং পার্শ্ববর্তী টিস্যুগুলোরর মধ্যে আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে) উন্নত করতে সাহায্য করে।
আবার ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, ব্লুবেরি রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করা পরিচালনা এবং ইনসুলিন স্তর উন্নত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় আরও বলা হয়, যারা ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন অর্ধেক কাপ ব্লুবেরি খেয়েছেন, তাদের দ্রুত শেখার ক্ষমতাসহ বিভিন্ন নির্বাহী কার্যক্রমে (যেমন: সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা, মনোযোগ, কাজ পরিচালনা ইত্যাদি) উন্নতি হয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ব্লুবেরি খেয়েছেন, তারা দৈনন্দিন কাজে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি হয়।
আরেক গবেষণা ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্লুবেরি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং ত্বকের খসখসে ভাব কমাতে সাহায্য করে। এ প্রমাণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ব্লুবেরি জ্ঞানীয় দক্ষতা অবক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্লুবেরি কোনো জাদুকরী খাবার নয় এবং ডিমেনশিয়ার প্রভাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে জিনগত উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া অনেক গবেষণা জানা যায়, খাদ্য, ব্যায়াম এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জ্ঞানীয় দক্ষতা এবং স্মৃতির প্রভাব উন্নত বা অন্তত ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া যায়-
পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটির মাঝে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বহির্বিভাগ-১ এবং বহির্বিভাগ-২ এ আজ ২৭ মে বুধবার ২০২৬ইং তারিখ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা ছিল। এসময় সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ প্রায় দুইশত (১৯৮) রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। বুধবার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় বিএমইউর সম্মানিত পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, সহকারী প্রক্টর ডা. শাহরিয়ার শামস লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের সুবিধার্থে আগামী ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। বিএমইউর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আগামী ৩০ মে ২০২৬ইং তারিখের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য কে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা রয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঈদের দিন ২৮ মে ২০২৬ইং তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য জানিয়েছেন বিএমইউর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর পেশ ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল আহাদ। উক্ত ঈদের জামাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
রোগীদের সুবিধার্থে বিএমইউর বহির্বিভাগ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আগামী ২৭ মে বুধবার এবং ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে খোলা থাকবে। বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। ২৭ ও ৩০ মে বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য বিএমইউর পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমানকে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২৫ মে ২০২৬ইং তারিখ সোমবার থেকে ৩১ মে রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়ে প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা থাকবে। এছাড়া ২৭ ও ৩০ মে বহির্বিভাগ খোলা থাকবে।
পবিত্র ঈদুল আযহা ছুটি শেষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১ জুন সোমবার সম্পূর্ণভাবে খুলবে এবং ওইদিন ১ জুন ২০২৬ইং তারিখ সোমবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩ শিশুর। এ রোগ ও উপসর্গে ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃত্যু।
শনিবার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জন।
আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের মধ্যেও দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরও ১১ শিশুর। এর মধ্যে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর অন্য দুটি হামের উপসর্গ নিয়ে। শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪১৪ শিশু, আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৮৫ শিশু। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯।
নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ২৬১ জনের। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৭৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, সময়মতো চিকিৎসা এবং শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় উদ্বেগ: এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দেওয়া স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকায় শিশুর মধ্যে হামের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির শঙ্কা, অনেক শিশু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যাওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিয়মিত টিকাদান সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহিলা পরিষদ পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে– হামপ্রবণ ও দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু, মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, আক্রান্ত শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বুধবার (২০ মে) থাইরয়েড টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উদ্যোগে থাইরয়েড সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে এবং বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ কে সামনে রেখে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো থাইরয়েড স্বাস্থ্য রক্ষায় সঠিক পুষ্টি।
এসকল আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। মাননীয় উপার্চা তার বক্তব্যে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন প্রাকটিসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন এবং জন্মের পর নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষাসহ রোগ নির্ণয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, এই নতুন গাইডলাইনটি গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের জটিলতা নিরসনে, অকাল প্রসব, গর্ভপাত, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজক চিকিৎসকরা। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এটি একটি হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারডেম এর পরিচালক (একাডেমী) অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক পাঠান। মূল বক্তা ছিলেন বিইএস এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও থাইরয়েড টাস্কফোর্স এর কো-অর্ডিনেটর ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন। প্যানেল অব এক্সপার্টস ছিলেন নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী, বিএমইউ এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসনাত, জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শেখ জিনাত আরা নাসরীন, কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ হাফিজুর রহমান। সঞ্চালক ছিলেন থাইরয়েড টাস্কফোর্স ও বিইএস এর সদস্য সচিব ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ।
নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী গ্রন্থিটি মানব শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে চারটি সময়ে জন্মের পর-পরই, বয়ঃসন্ধিকালে, মায়েদের গর্ভধারণের পূর্বে এবং বয়স ৫০ হওয়ার পর-পরই অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. বারী আরো বলেন, থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ এর মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন কাঁটা ছেড়া ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়; তাতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না এবং এই পদ্ধতির কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে । টিউমার অ্যাবলেশনের পদ্ধতি দেশের মানুষের থাইরয়েড সমস্যা ও লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অবদান রাখবে।
সেমিনারে বলা হয়, গলার নিচের অংশে শ্বাসনালীর সামনে অবস্থিত প্রজাপতির আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। এটি প্রধানত দুটি হরমোন নিঃসরণ করে: থাইরক্সিন এফটি৪ এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এফটি৩। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম), হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অবসাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। হাইপারথাইরয়েডিজম: বেশি হরমোন তৈরি করলে ধড়ফড়, ওজন কমা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম হয়।
থাইরয়েড গ্রন্থিকে একটি ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যার সঠিক জ্বালানি হলো পুষ্টি। নির্দিষ্ট কিছু খনিজ ও ভিটামিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন তৈরি অসম্ভব। যে উপাদানগুলো জরুরি তা হলো আয়োডিন যেমন আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম। সেলেনিয়াম যেমন ব্রাজিল নাট, টুনা মাছ, মুরগির মাংস, সূর্যমুখীর বীজ। জিঙ্ক যেমন গরুর মাংস, কুমড়ার বীজ, ছোলা, ডাল। আয়রন ও ভিটামিন ডি। আয়রনের অভাবে থাইরয়েড এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। থাইরয়েড রোগীদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব প্রকট থাকে।
গয়ট্রোজেনিক খাবার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াবিনে গয়ট্রোজেন থাকে যা আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। তবে রান্না করলে এসব যাবারের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। খাইরয়েড রোগীরা পরিমিত পরিমাণে রান্না করা এসব সবজি খেতে পারেন। যা এড়িয়ে চলবেন তা হলো ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার (সাদা ময়দা, চিনিযুক্ত পানীয়)। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা মৃদু ব্যায়াম ইত্যাদি করা প্রয়োজন।
সেমিনারে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে থাইরয়েড রোগ নিয়ে আরও গবেষণায় উদ্যোগী হওয়ার, রোগীর সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘হাইপারটেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ মে আয়োজিত এই সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপকে একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারের অংশ হিসেবে ‘হাইপারটেনশন প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ: ইমাজিং চ্যালেঞ্জেস এন্ড ফিউচার ডাইরেকশন (Hypertension Prevention in Bangladesh: Emerging Challenges and Future Direction)’ নামক একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উল্লেখ্য, এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে “একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (Controlling Hypertension Together) ”।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী দেশের বর্তমান উচ্চ রক্তচাপ পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ২১ থেকে ২৩ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছেন, তবে এর মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এই রোগটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অঙ্গের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, ‘উচ্চ রক্তচাপ হার্ট, কিডনী, ব্রেইন, রক্তনালী, চোখসহ পাঁচটি অর্গানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ এই পাঁচটি অর্গানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ।’ তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতাসম্পন্ন ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং আক্রান্ত অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দিতে একটি আধুনিক ড্রাগ পলিসি প্রণয়ন করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেমিনারের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কেবল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, এটি রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একটি আগাম সংকেত। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ওষুধের দাম কমানোর ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং উদ্বেগজনকভাবে এটি এখন তরুণ প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ ও তামাক ব্যবহার তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।’ এটি এখন কেবল ব্যক্তিগত রোগ নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার নগরায়ন ও দূষণসহ বিভিন্ন জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ওষুধের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এ সামাদ মৃধা। তিনি জানান, বিশেষ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রতিকূলতার মাঝেও ইডিসিএল ৪৮টি ওষুধের দাম কমাতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দিতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, দেশের ৩১০টি উপজেলায় এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেই এই নীরব ঘাতক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব সূত্রে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ মে অর্ধশতাধিক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয় বলে একাধিক ভুক্তভোগী রোগী অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে অসুস্থ একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে তাদের এমন ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে যার মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, গত ৪ মে শফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। পরে ২০৩ নম্বর কক্ষের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ‘এ্যামডোক্যাল’ ট্যাবলেট প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে গেলে তাকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই মেয়াদোত্তীর্ণ ‘এ্যামডোক্যাল’ ট্যাবলেট দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিলে কমপ্লেক্সের ফার্মেসি থেকে তা নিয়ে আসি। ওষুধ খাওয়ার চারদিন পর দেখি ওষুধের মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। একটি সরকারি হাসপাতালে এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া খুবই উদ্বেগজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ওইদিন অন্তত অর্ধশতাধিক রোগীকেও দেওয়া হয়।’ একই অভিযোগ করেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার মাছুয়াবাদ ডোন এলাকার ট্রাক্টরচালক বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়মিত প্রেশারের ওষুধ খেতে হয়। ওষুধের গায়ে মেয়াদ আছে কি না তা দেখি নাই, ওষুধ খাওয়ার পর শরীর আরও খারাপ হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে ওষুধগুলো নিয়ে আসার পর জানতে পারি, ওষুধের মেয়াদ নাকি তিন মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। এমন ওষুধ কেন তারা আমাকে দিল? তাদের ভুলের কারণে আমি তো মারাও যেতে পারতাম।’
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে ওষুধ নামানোর পূর্বে চেক দেওয়া হয়, তারপরও ভুল হয়ে যেতে পারে। কেন এমন হয়েছে স্টোরকিপার ও ফার্মেসিতে আলাপ করে জানতে হবে। মেডিকেল এরর ‘চিকিৎসাজনিত ত্রুটি’ সারা পৃথিবীতে এগুলো কমবেশি হয়ে থাকে। আমরা ফেরেশতা হলে ভুল হতো না, আমরা মানুষ, মানুষের ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে।’
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিত হামে ও ৬ জনের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু। মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫৬ শিশু।
এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ২৪ শিশু।
আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৩২ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত ১ হাজার ৪৫৯ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মৃত্যু দাঁড়ালো ৪১৫ জনে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জন।
সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৪১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৫টি শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫০ জন।
একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৬ হাজার ৯৩৭ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫০ হাজার ৫০০ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে ১৮২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৪৮৯ জন।
এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ১১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনের কারণ এবং হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় রয়েছে এবং সেসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেছেন।
‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হলে আপনাদের জানানো হবে। রাষ্ট্রের একটা দায়িত্ব আছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় তদন্ত হওয়া দরকার।’
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬১ জন শিশু ল্যাব-নিশ্চিত হামের সংক্রমণে মারা গেছে। এছাড়া হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৯১ শিশু। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হলো।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৪৭ হাজার ৫৫৬ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ৭৪৬ জন।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জন মারা গেছেন। এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে, দুজন হামে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৫৩ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৮ শিশু উপসর্গ নিয়ে এবং ৫৬ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে দেশের আট বিভাগে এক হাজার ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সিলেট বিভাগে (১৮২ জন), এরপর ঢাকা বিভাগে (১২২ জন)। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৫ শিশু চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার জোগান বাড়ানো ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বিশেষ নজর না দিলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, দ্রুত টিকাদানের পাশাপাশি রোগী শনাক্ত করে আলাদা রাখা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে দেশে হাম প্রতিরোধে টিকার জোগান বাড়ানো হচ্ছে। চালু আছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিও। তারপরও সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর হার থামছে না। গত ৫২ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন টিকার চালান আসার পাশাপাশি সাপ্তাহিক সরবরাহও অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের পাঠানো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এক চালানে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। পাশাপাশি এসেছে ৯ হাজার টিডি-টিটাস টিকা। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে নতুন টিকার চালান দেশে পৌঁছাবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০টি রোগ প্রতিরোধে আগামী রোববার প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ চলমান রয়েছে। ৫ মে পর্যন্ত এক কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে ৭ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন হামে আক্রান্ত হয়ে ও বাকি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
বুধবার (৬ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৬৮ জন।
এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।
দেশে হাম ও রুবেলা পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ভাইরোলজি বিভাগে কিটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কিট স্বল্পতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্বাভাবিক পরীক্ষার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে ল্যাবটিতে সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় জমে আছে। গত মাসেও যেখানে এক দিনে সর্বোচ্চ ৭০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হতো, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিদিন মাত্র ১২০ থেকে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত ল্যাবটিতে ১১৪ প্যাকেট কিট ব্যবহার করে মোট ১০ হাজার ৫৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে ল্যাবে মাত্র ১৩টি কিট অবশিষ্ট আছে, যা দিয়ে বড়জোর ১২০০ জনের পরীক্ষা করা সম্ভব। কিট ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সারা দেশের হাসপাতালগুলো থেকে আসা সব নমুনা গ্রহণ করা হচ্ছে না, বরং অত্যন্ত জরুরি কিছু নমুনা বাছাই করে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। নমুনা জট বাড়তে থাকায় অনেক জেলা থেকে আসা রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাহায্য চেয়েছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। আগামী রোববারের মধ্যে ডব্লিউএইচও-র দিল্লি কার্যালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৩০টি কিট বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। এর কিছুদিন পর আরও ১০০টি কিট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিটের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসেই আবেদন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইপিএইচ কর্তৃপক্ষ। কিটগুলো হাতে পাওয়া মাত্রই ল্যাবে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরীক্ষা শুরু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ল্যাবে পরীক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চিকিৎসকরা উপসর্গ দেখে হাম শনাক্ত করতে পারছেন। রোগীর উচ্চ মাত্রার জ্বরের পাশাপাশি শরীরে লাল র্যাশ, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখে শিশু বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসা প্রদান করছেন। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোগ শনাক্তকরণে এমন স্থবিরতা ভবিষ্যতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিট সরবরাহ শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরশীল না রেখে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল বলে তারা মত দিয়েছেন।