সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অ্যাজমার চিকিৎসায় গবেষকদের যুগান্তকারী সাফল্য

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ২১:২৩

গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম অ্যাজমার রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করেছেন স্বাস্থ্য গবেষকরা। তাদের দাবি, অ্যাজমা রোগীদের জন্য এমন একটি ইনজেকশন তৈরি করা হয়েছে, যেটি রোগীর শরীরের একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর এর মাধ্যমে অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) রোগীরা সক্রিয়া হয়ে ওঠেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আবিষ্কৃত ওষুধটির নাম ‘বেনরালিজুমাব’। বর্তমানে এটি গুরুতর শ্বাসকষ্টের রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজের একদল গবেষক এই ওষুধটি আবিষ্কার করেছেন। তারা আশা করছেন, নতুন এই ওষুধটি যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ অ্যাজমা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে। ওষুধটিকে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গবেষকরা বলছেন, এটি অ্যাজমা ও সিওপিডি রোগীদের চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটাতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, ৫০ বছর ধরে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের মানসম্মত চিকিৎসা হিসেবে স্টেরয়েডের ব্যবহার হয়ে আসছে। এখন যে ইনজেকশনটি আবিষ্কৃত হয়েছে, সেটি স্টেরয়েডের চেয়ে বেশি কার্যকর।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকরা অ্যাজমা বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৫৮ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, অ্যাজমার আক্রমণকালে (ইগজারবেশন) অ্যাস্ট্রাজেনেকার ইনজেকশন ফ্যাসেনরা মুখে খাবার উপযোগী ‘কর্টিকোস্টেরয়েড প্রিডনিসোলোন’-এর চেয়ে বেশি কার্যকর।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তীব্র অ্যাজমায় বেনরালিজুমাব প্রয়োগের ২৮ দিন পর শ্বাসকষ্টের উপসর্গ অধিকতর ভালোভাবে কমে এসেছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মোনা বাফাডহেল এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যাজমা ও সিওপিডি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় এটি একটি যুগান্তকারী ফলাফল হতে পারে।


নির্বাচিত

এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় ২৮ মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের(ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে ২৮টি মামলায় ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী মশক নিধনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।

এসময় এডিস মশা লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে এই জরিমানা আদায় করেন। এ সময় মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাও, উত্তরা, নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকা থেকে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক ও দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশার বংশ বিস্তার ও প্রজননক্ষেত্র পরিদর্শন করবেন।

এসময় তারা বাসা-বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদ বাগান পরিদর্শন, জনসচেতনতাবিষয়ক মাইকিং, নোবালিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষক দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।


নির্বাচিত

কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, ডায়ালাইসিস সেবা মিলবে সকল জেলা-উপজেলায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করা হয়েছে। এছাড়া নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসস’কে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনা’য় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করবো। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে এ সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এছাড়াও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা; এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮৫৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার বিকেলে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে কেবল রাজধানীতেই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। এই মোট প্রাণহানির মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ১০০ জনের এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে দেশব্যাপী হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষাগারে সুনির্দিষ্টভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬ জন রোগীর শরীরে।

প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও আরোগ্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত প্রায় ছয় মাসে হাম ও এর জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা শেষে তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।


নির্বাচিত

অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ায় এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছয় সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে আহ্বায়ক এবং অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢামেক হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ও মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। তবে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন বন্ধ করে দেন এবং তাদের দেওয়া শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা ও উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে শুরু করেন। এতে তাঁর রক্তের শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’-এ আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং এর যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।


নির্বাচিত

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা: সীমাবদ্ধতা, সম্ভাবনা ও আগামীর পথ- ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী

ছবি: ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যেকোনো দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো সুস্থ নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বড় রূপান্তর ঘটলেও জনসংখ্যার অনুপাতে সরকারি হাসপাতালের শয্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এখনো বড় বাস্তবতা। এই বাস্তবতায় দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল এখন প্রায় ৬৩ শতাংশ বিশেষায়িত সেবার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি জটিলতা কিংবা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক ব্যাধি যখন বাড়ছে, তখন বেসরকারি খাতের আধুনিক ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ সুবিধাই সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক ভরসার জায়গা তৈরি করেছে।

আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রেখেই চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছে। এই অগ্রযাত্রায় ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আইএসও ৯০০১:২০১৫ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিদিন গড়ে শত শত রোগীর নির্ভুল ল্যাব টেস্ট, ২৪ ঘণ্টার কার্ডিয়াক ও ট্রমা কেয়ার ছাড়াও সংকটজনক রোগী পরিবহনে আমাদের রয়েছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিসার্ভিস। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হাসপাতালে ১০ শতাংশ ফ্রি বেড এবং বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষও আধুনিক চিকিৎসার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।শুধু তাই নয়- দক্ষ জনশক্তি ( ডাক্তার ও নার্স) তৈরি করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি ।

দেশে আধুনিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগী এখনো বিদেশে যান, যার মূল কারণ আস্থার সংকট ও দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক অভ্যাস। তবে আস্থার এই পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পেছনে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার ঘাটতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভুল-ভ্রান্তিও অনেকাংশে দায়ী। আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, সংকটাপন্ন রোগীর আইনগত অভিভাবকের বাইরেও অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত দূরসম্পর্কের স্বজন এসে চিকিৎসায় অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এতে আইসিইউ বা ইমার্জেন্সির মতো সংবেদনশীল জায়গায় সংক্রমণ বাড়ে এবং চিকিৎসকদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। সুচিকিৎসার স্বার্থেই হাসপাতালে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ মানুষের ওপর চিকিৎসার আর্থিক চাপ কমাতে জাতীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা চালু করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একজন মানুষ যখন হঠাৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হন, তখন ‘আউট অব পকেট’ খরচের ধাক্কায় পুরো পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা চালু থাকলে রোগী কোনো অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই মানসম্মত সেবা নিতে পারবেন, যা উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা কাঠামোর প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে সেবামূল্য অনেকটাই সাধারণের নাগালে চলে আসবে।

স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে মানহীন ও অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, হাসপাতালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের সহমর্মী যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল আস্থার সংকট দূর হতে পারে। সরকারি নীতি সহায়তা ও বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয়েই বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক পরিচিতি :
ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


নির্বাচিত

সাড়ে পাঁচ মাসে হামে মৃত্যু ৯৮৬, আক্রান্ত ১ লাখ ৮০ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত সাড়ে পাঁচ মাসে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ জনে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনের শরীরে। আর পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ জনের। অর্থাৎ, হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৫ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৬৪ জনের শরীরে। এ সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।


নির্বাচিত

দেশের স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বাংলাদেশের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার আওতায় থাকছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার সরঞ্জাম, শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়ক চিকিৎসা উপকরণ, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কোল্ড চেইন বজায় রাখার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, ঝপাইগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংসদসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ক্রিস্টেনসন। এর আগে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮ জন। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

বিগত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৮৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫৪ জন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১ জন। এই দীর্ঘ সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।


নির্বাচিত

আরও ১৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবং টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের যেসব সুনির্দিষ্ট এলাকায় (পকেট এরিয়া) শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে টিকাদান অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষে সরকারের মজুত থাকা ১৬ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা ব্যবহার করা হবে। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয় যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশেরই বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর। মূলত এই বয়সসীমার শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্যসচিব আজ সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ে যে সকল ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে এই ১৬ লাখ টিকা প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি শিশুকে হামের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৯১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৮১৫ জনের হামের উপসর্গ ছিল এবং ৯৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁরা কোনো ধরণের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেননি।

সংকট উত্তরণে সরকার শুধুমাত্র টিকাদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্বাচিত

ধূমপায়ীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত, বাড়ছে হৃদরোগের অদৃশ্য ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিবেশগত দূষণ ও ধূমপানের প্রভাবে মানুষের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, যারা নিয়মিত বায়ুদূষণ কিংবা ধূমপানের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশের হার অনেক বেশি। এছাড়া রক্তের এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সাথে হার্ট অ্যাটাকের একটি নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অক্সফোর্ড একাডেমিক এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালির রোমে অবস্থিত সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে একদল গবেষক হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন যে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে এই প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। এর বিপরীতে যারা হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদরোগে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ রক্তনালির অধিকারীদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।’ তাঁর মতে, গবেষণার এই ফলাফল মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদরোগের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত প্রদান করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, বায়ুদূষণ ও ধূমপানের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। যারা বায়ুদূষণ ও ধূমপান—উভয় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যারা এই কোনো ঝুঁকির মধ্যেই নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেয়নি, তবে পরিবেশগত দূষণ ও শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হলেও এর ফলাফল আধুনিক জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

বিশ্বে প্রথম মডার্নার নতুন এমআরএনএ টিকার অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের সফলতার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দিকাশি মোকাবিলায় এমআরএনএ প্রযুক্তির নতুন একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার তৈরি এই টিকাটির নাম রাখা হয়েছে ‘এমফ্লুসিভা’। মূলত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই প্রতিষেধকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মডার্নার এই টিকায় মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় শরীরে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম এবং ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা অনেক সময় প্রবীণদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, এমফ্লুসিভা এই জীবনঝুঁকি কমিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, প্রচলিত প্রতিষেধকের চেয়ে মডার্নার এই টিকাটি ইনফ্লুয়েঞ্জা দমনে অনেক বেশি শক্তিশালী।

উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই বিশেষ প্রযুক্তিতে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ফ্লু টিকা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৭৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৫৯ জনকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচ শিশুর কারও মৃত্যুই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৯৬ জনের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তসহ দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫-এ উপনীত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকা বিভাগেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

বিভাগভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন এবং বরিশালে ১১৪ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬০, ৩৭, ৩১ ও ১০ জন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার এবং সময়মতো বাচ্চাদের হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মূলত প্রান্তিক ও জনবহুল অঞ্চলগুলোতে এই রোগের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।


নির্বাচিত

পিৎজা, বার্গার, পোড়া তেলের সমুচা খেয়ে দেশটা রোগে ভরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষম খাদ্যের অভাব এবং জাঙ্ক ফুড গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্তব্য করেছেন যে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে দেশ আজ নানা রোগে জর্জরিত। শনিবার ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ এবং শিশুদের সঠিকভাবে বুকের দুধ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চিজ দিয়ে পিজা খাই, চিজ দিয়ে বার্গার খাই, পোড়া তেলের সমুচা খাই। এগুলো খেতে খেতে আজকে আমাদের দেশটা রোগে ভরে গেছে।’

শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মায়ের শাল দুধ শিশুদের জন্য উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান উৎস। বর্তমান সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্রমবর্ধমান হার এবং আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিশুকে মায়ের থেকে দূরে রাখা বা সঠিক সময়ে বুকের দুধ না দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ আর নেই কফি হাউসের সেই আড্ডাটা, ঠিক তেমনি আমাদের মাতৃ-শিশু সেবাও আজ নেই। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি।’ এই তথাকথিত আধুনিকতার কারণেই ব্রেস্ট ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগগুলো সমাজকে গ্রাস করছে বলে তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং জনসচেতনতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শুধুমাত্র দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর প্রতিটি গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

banner close