রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২১ চৈত্র ১৪৩২

বাল্যবিয়ে ও ত্রুটিপূর্ণ প্রসবে বাড়ছে ফিস্টুলা

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা
প্রকাশিত
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:৩৬

বাল্যবিয়ে এবং অনিয়মিত বা বিলম্বিত প্রসবের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ফিস্টুলা রোগী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী জীবনে যার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গাইবান্ধার জেলার চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলায় ১৭২ জন নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৩৮জন, সদর ৩৪, সুন্দরগঞ্জ ৩১, পলাশবাড়ী ২৭, সাদুল্লাপুর ২২, ফুলছড়িতে ১২ এবং সাঘাটা উপজেলায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ জন। এসবের মধ্যে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখা ১৮ জন।

সোমবার গাইবান্ধার একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে সাংবাদিকদের জন্য নারীদের ফিস্টুলাবিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে ফেরি প্রজেক্ট (Elimination of Genital Fistula by Capturing, Treating, Rehabillitating and Reintegrating in Bangladesh) সভায় ল্যাম্ব ও ইউএনএফপিএ-এর উদ্যোগে ফিস্টুলা নির্মূল কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। যেখানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডা. তাহেরা আকতার মনি। তিনি ফিস্টুলা রোগের কারণ, প্রতিকার এবং চিকিৎসা পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।

সভায় ল্যাম্বের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটর মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ ফিস্টুলা নির্মূল ও সচেতনতা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এ রোগে আক্রান্ত নারীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব আলোকপাত করেন।

সভায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন ও সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ যেখানে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

ফিস্টুলার কারণ ও লক্ষণ: এদিন মূল আলোচনায় ডা. তাহেরা আক্তার মনি জানান, ফিস্টুলা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রসব বা অন্য কোনো কারণে মূত্রথলী, মলাশয় বা জরায়ুর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক ছিদ্র তৈরি হয়। যার ফলে প্রস্রাব বা মল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা রোগীরা। প্রস্রাব বা পায়খানার বেগ ছাড়াই প্রস্রাব পায়খানা অনবরত ঝড়তে থাকে। বিশেষ করে মাসিকের রাস্তা দিয়ে অনবরত প্রস্রাব ঝরতে থাকে। সবসময়ই পড়নের কাপড় ভেজা থাকে। ঘন ঘন সংক্রমণ ও পেলভিক অঞ্চলে জ্বালাপোড়া করে।

এর সবচেয়ে বড় কারণ- বাধাগ্রস্ত বা দীর্ঘ প্রসব, যেখানে শিশুর অবস্থান বা মায়ের পেলভিস অপর্যাপ্ত থাকায় প্রসব সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। আর এসব অদক্ষ ধাত্রী বা প্রতিবেশীর মাধ্যমে প্রসব, জরুরি চিকিৎসার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া অন্য কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কারণ হিসেবে রয়েছে কম বয়সে গর্ভধারণ বা বাল্যবিবাহ।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ডা. মনি আরও জানান, এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেশের সব চিকিৎসাকেন্দ্রে পাওয়া যায়না। আমাদের জেলা হাসপাতালেও নেই এই চিকিৎসা। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।

এ সময় ফিস্টুলা প্রতিরোধে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ এড়িয়ে চলা, নিরাপদ প্রসব ব্যবস্থা, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর জীবনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হলো সার্জারি, যা প্রায় ৮০-৯৫% ক্ষেত্রে সফল হয়। ছোট ফিস্টুলা ক্যাথেটার বা অন্যান্য সহজ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা যায়। সার্জারির পর মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পুনর্বাসনও অপরিহার্য।

ডা. মনি বলেন, আমাদের কোনোভাবেই ১৮ বছরের আগে নারীদের বিয়ে নয় এবং ২০ বছরের আগে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


আগামীকাল থেকে শুরু হামের জরুরি টিকাদান

আপডেটেড ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় আগামীকাল সকাল ৯টায় হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালেও একজন মারা গেছেন।

হাম আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু থেকে বয়স্করা। দুপুরে ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল লতিফা রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানান, এই হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন রোগী। এখন পর্যন্ত সর্বমোট চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০৪ জনের বেশি। শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নেই। হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ড ও বেডের সংকট নেই। তবে টিকা প্রদান শুরু হলে সংক্রমণের হার কমে আসবে বলে আশার কথাও জানান তিনি।


গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

চিকিৎসক সংকট ও এক্সে-মেশিন বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘদিন অপারেশনের ডাক্তার ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। সেই সাথে নষ্ট হওয়ার পথে মূল‍্যবান মেশিনপত্র। এছাড়াও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের অপারেশনের মেশিন বন্ধ থাকায় অপারেশন করতে এসে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।

বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে বেশি টাকা খরচ করেই অপারেশন করাতে হয় রোগীদের। তাই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সবার উপযোগী করে তোলার অনুরোধ স্থানীয় জনগণের।

গ্রামীন জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষে ১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করা হয়। রোগীর চাহিদা বিবেচনায় ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনে ২০১৭ সালে রুগীদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকার কারনে ৪ লক্ষাধিক মানুষের সেবা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। এক্সরে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার সবই আছে শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। এ কারণে অপারেশনের সরঞ্জাম ও এক্সরে মেশিনের উপর ধোলার আস্তরণ পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। আর কতদিন এভাবে পড়ে থাকলে সুনজরে আসবে কর্তৃপক্ষের এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্র জানায়, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ১১৭ টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৭০ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭ জন। চিকিৎসক পদ রয়েছে ৩১ টি, আছে ১৮ জন, শূন্য রয়েছে ১১ টি, নার্সের পদ রয়েছে ৩০টি, আছে ২৯ জন, শূন্য রয়েছে ১টি, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে ১ জন, শূন্য রয়েছে ২ টি, সেকমো ২ জনই আছে, ফার্মাসিস্ট মোট ২ জন, আছ ২ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী পাঁচজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৪টি, পিয়ন চারজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৩টি, অফিস সহকারী তিনজনের একজনও নেই, নিরাপত্তা কর্মী দুই জনের একজনও নেই, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ২টি, এক্সরে একজন শূন্য, ওটিতে একজন শূন্য।

স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এক্সরে মেশিন দাও অনেকদিন হলো বন্ধু রয়েছে। অপারেশনও হয় না। একটি হাসপাতালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম এভাবে নষ্ট হচ্ছে অথচ চিকিৎসকের অভাবে চালু হচ্ছে না। কবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর পড়ে আল্লাহ ভাল জানেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে সেবার মান ভালো করার জন্য।

হাসপাতাল বাজারের বাসিন্দা তপন বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি হাসপাতাল অথচ এখানে কোন ডেলিভারি রোগীর অপারেশনই হয় না। যে এক্সরে মেশিন টা আছে সেটাও বন্ধ। এখানে আমরা কম খরচে অপারেশন করতে পারব কিন্তু তা আর হয় না। অপারেশন দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সেবা নিতে আসা অসহায় মানুষেরা। অল্প খরচে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি গাংনীর অনেক মানুষ। কতদিনে এভাবে পড়ে থেকে এগুলো নষ্ট হবে তা কেউ জানে না। দুই থেকে তিনটা চিকিৎসক নিয়োগ দিলেই এই অপারেশন থিয়েটারটি চালু হবে। কিন্তু সব নিয়োগ হয় এগুলো আর হয় না।

রাশিদা খাতুন বলেন, গাংনী সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি অপারেশন হয় না।তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মতো অসহায় মানুষকে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। তাই দ্রুত অপারেশনের ডাক্তার প্রয়োজন। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের ডাক্তার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আব্দুল বারী বলেন, কিছুদিন আগে আমার পা ভেঙে গেছে। গাংনী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম পরে জানতে পারলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে হয় না। তাই অন্য ক্লিনিক থেকে এক্সরে করিয়েছি।যদি হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা চালু থাকে তাহলে আমার অল্প খরচে হয়ে যেত। কারণ বাইরে অনেক খরচ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ধুলাবালির আস্তরণ পড়েছে এক্সরে মেশিনে। কিন্তু পদটি শূন্য থাকার কারণে এটা চালু হচ্ছে না। রুমটির দরজা থাকে তালাবদ্ধ।

কাথুলী গ্রামের আলেয়া খাতুন বলেন, আমার অল্প দিন হলো সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এটা যদি সরকারি হাসপাতালে হতো তাহলে আমার অনেক খরচ কমে যেত। প্রাইভেট ক্লিনিকে করার কারণে আমার খরচ অনেক বেড়ে গেছে জা পরিবারের জন্য একটা বড় বোঝা। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এসেছিলাম। এসে দেখি এখানে অপারেশন হয় না। তাই প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করতে হয়েছে। অনেক অসহায় পরিবার আছে যাদের সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে চরম অভাবে পড়ে যায়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব ইন সার্চ মাহাবুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন বন্ধ থাকার কারণে অত্র এলাকার জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরকার বিষয়টি দ্রুত নজরে নিয়ে শূন্য পদটি পূরণ করলে এলাকার মানুষ অনেক উপকার পাবে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন,দীর্ঘদিন এনেস্থিসিয়া ও সার্জারি ডাক্তার না থাকার কারণে অপারেশন হচ্ছে না। এনেস্থিসিয়া, সার্জারি ডাক্তারসহ যেসকল সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান হলে আমরা অতি দ্রুত অপারেশন শুরু করতে পারবো। গত ৪ বছরে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে।

তিনি আরও বলেন, আর এক্সরে মেশিন যিনি চালাতেন তিনি গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে অবসরে গেছেন। তারপর থেকেই এক্সরে বন্ধ আছে। আশা করছি অতি দ্রুত সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্য কোনো সমস্যা নেই।

মেহেরপুর-২ (৭৪ গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, সার্জারি ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে দীর্ঘদিন অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও এক্সরে কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে পদটি শুন্য থাকার কারণে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।


রাজশাহী মেডিকেলে বাড়ছে হামের প্রকোপ: একদিনে ভর্তি ২০, মৃত্যু ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েই চলেছে হামের প্রকোপ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৩২ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। এই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ জন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস।

তিনি জানান, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ৩৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া সব রোগীকে প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে হাম কি না তা পরীক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং বর্তমানে রাজশাহীতে এই পরীক্ষার সুবিধা নেই। তবে গত এক মাসে রামেক হাসপাতালে হামে নিশ্চিতভাবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুধু রাজশাহী বিভাগই নয়, খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর এবং ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার রোগীরাও বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ প্রসঙ্গে ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, রোগীর সংখ্যা যদি আরও বাড়ে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আইসোলেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।


গ্রীষ্মের গরমে শরীর সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে বাঙ্গির বহুমুখী পুষ্টিগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রচণ্ড তাপদাহ আর গ্রীষ্মের এই মৌসুমে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে পুষ্টিবিদরা এমন সব খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এমনই এক চমৎকার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হলো বাঙ্গি। কম ক্যালোরিযুক্ত এই ফলটিতে প্রায় ৯০ শতাংশই পানি, যা ডিহাইড্রেশন রোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় বাঙ্গি কেবল একটি সুস্বাদু ফলই নয়, বরং এটি সুস্বাস্থ্যের এক শক্তিশালী উৎস।

বাঙ্গির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শ্বেতকণিকা উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করে, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত বাঙ্গি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য বাঙ্গি একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। এতে থাকা উচ্চ খাদ্যআঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সহজ হয়।

হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বাঙ্গি বিশেষ কার্যকরী। ফলটিতে বিদ্যমান পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং এর ফাইবার উপাদান রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে নিয়মিত বাঙ্গি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়। একই সাথে বাঙ্গি আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য অর্থাৎ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও আশীর্বাদস্বরূপ। এটি শরীরের কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে, যার ফলে অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং বলিরেখা দূর হয়।

পাচনতন্ত্র বা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে বাঙ্গির জুড়ি নেই। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যায়। বাঙ্গিতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এসব সমস্যা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বাঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ এবং ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চোখের পেশী শক্তিশালী করে এবং বয়সের সাথে সাথে হওয়া ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।

সবশেষে, কিডনি সুরক্ষা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে বাঙ্গি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি একটি শক্তিশালী মূত্রবর্ধক ফল হওয়ায় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের সার্বিক বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি প্রতিটি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা প্রয়োজন। তাই সুস্থ ও সতেজ থাকতে এই মৌসুমে বাজারের কৃত্রিম পানীয়র পরিবর্তে পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঙ্গি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ২২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে এখন হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই শিশুর সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ ছিল।

এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৪ শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


হামের লক্ষণ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ জন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে দশজন শিশু এবং একজন যুবক রয়েছেন। তবে তারা হামে আক্রান্ত কিনা এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা।

ছয় ঋতুর দেশে তপ্ত প্রকৃতিতে এখন বসন্ত ঋতু চলছে। ঋতু অনুযায়ী অনেকেই মৌসুমি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে হাম নামক রোগের প্রাদুর্ভাব।

বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের আইসোলেশনে ভর্তি করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. গোপাল জানান, হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন শিশু ওয়ার্ডে। অপর একজন প্রাপ্ত বয়স্ক কেবিনে ভর্তি রয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলেন, আমরা রোগীদের কাছ থেকে রোগ নির্ণয় করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করছি। সেই নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেই নমুনার রির্পোট হাতে পেলে রির্পোট পেলে জানা যাবে হাম কি না। এর মধ্যে আমরা বাড়তি সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। যারা আক্রান্ত হয়ে আসছেন, তাদেরকেও আমরা আলাদা রাখছি। অন্য রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেটি ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। তাই বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগের ধরন দেখে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।


দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব: জরুরি পরিস্থিতিতে টিকা দেওয়ার বয়সসীমা কমানোর পরিকল্পনা সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত সুপারিশ অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় তা কমিয়ে ৬ মাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত জুনের শুরুতে এক মাসব্যাপী একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় সারা দেশের প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের একটি আশঙ্কাজনক দিক হলো—৯ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরী এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অনেক রোগী শনাক্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে বিশেষ এই কর্মসূচির জন্য টিকার বয়সসীমা কমানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র বিশেষ কর্মসূচির জন্যই প্রযোজ্য হবে। নিয়মিত বা রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ ৯ মাসেই অপরিবর্তিত থাকবে, কারণ এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্থায়ী কোনো নতুন সুপারিশ এখনও আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের টিকার কার্যকারিতা বয়সের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও ইমিউনোলজিস্ট ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী জানান, ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে বর্তমানের মতো জরুরি সংকট বা প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মাসের আগেও টিকা দেওয়া সম্ভব। যদিও ৬ মাস বয়সে এই টিকার কার্যকারিতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের জীবন বাঁচাতে একে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া ৩০ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার শিশু পর্যাপ্ত সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকা সংগ্রহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল সুবিধা চালুকরণ, আইসিইউ বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে সংক্রমণের চেইনটি দ্রুত ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এখন হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইপিআই কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে দেড় হাজার অতিক্রম করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান যাচাইয়ের কাজ চলছে। উল্লেখ্য যে, দেশের ৯৫ শতাংশ টিকা সহায়তা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) থেকে আসলেও গত বছরে আসা টিকার একটি বড় অংশ অব্যবহারযোগ্য রয়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার দ্রুততম সময়ে টিকাদান সম্পন্ন করাই এখন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী জুনের বিশেষ কর্মসূচিটি দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


খুলনা বিভাগে বাড়ছে হামের প্রকোপ: ১০ জেলায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়, নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সংকটে চিকিৎসকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভাগের ১০টি জেলার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইতিমধ্যে ২৬ জনের শরীরে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলায় এই সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার বাইরে অন্যান্য জেলাগুলোতেও সংক্রমণ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আউটডোরে বিপুল সংখ্যক শিশু তীব্র জ্বর, সর্দি, গায়ে ব্যথা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে আসছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই অত্যন্ত অল্পবয়সী, যাদের বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। মূলত যেসব শিশু এখনও নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আসেনি অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই এই ভাইরাসের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর দ্রুত বিস্তার ঠেকানো স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন জানিয়েছেন, হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তাই রোগীদের মূলত সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট বা উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, হামের জটিলতা হিসেবে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি থাকা তিন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এনআইসিইউ (NICU) বা নবজাতক নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তীব্র সংকট। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অধিকাংশ জেলা হাসপাতালেই পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা নেই, ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অবকাঠামো পুরোনো হওয়ায় খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। অধিদপ্তরের পরিচালক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এনআইসিইউ সংকট বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। তবে বড় জেলাগুলোতে দ্রুততম সময়ে এনআইসিইউ সাপোর্ট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো শিশুর মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণ যেমন—তীব্র জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রেখে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে হবে। দ্রুততম সময়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু না করলে এই সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


ফুরিয়েছে হাম, পোলিও, যক্ষ্মাসহ ৬ ধরনের টিকার মজুত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর জন্ম নেয় ৪০ লাখের বেশি শিশু। তাদের সুরক্ষায় ১২টি রোগ প্রতিরোধে দেয়া হয় নয় ধরনের টিকা। জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এসব টিকা পায় শিশুরা। তবে ফুরিয়েছে ৬ ধরনের টিকার মজুত। এগুলো হলো হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার, হেপাটাইসিস-বি। তবে এ সব টিকা মাঠ পর্যায়ে থাকার দাবি করেছে অধিদফতর।

মূলত, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অপারেশনার প্ল্যান--ওপি বাতিল হলে সংকটে পড়ে টিকা কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা বঞ্চিত হয় অনেক শিশু। কমে যায় টিকাদানের হার।

পরে সব ধরনের টিকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয় হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে শুধু শিশুদের টিকায় রাখা হয় ৮৪২ কোটি টাকা। সিদ্ধান্ত হয় সরাসরি কেনার পাশাপাশি টেন্ডারেও টিকা কেনার। কিন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই প্রক্রিয়া শেষ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কেটে যায় দীর্ঘ সময়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, টিকাগুলো সরাসরি ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হতো। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। সিদ্ধান্ত আসে অর্ধেক ইউইসেফের কাছ থেকে এবং অর্ধেক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বাস্তবায়না রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তা বাতিল হয়ে গেছে এর কোনও বিকল্প হাতে রাখা হয়নি। এর ফল আমরা ভোগ করছি। এখন পরিকল্পনা চলছে আবারও সরাসরি ক্রয় করতে পারি কী না। যদি হয় বাকি অর্ধেক টাকা আমরা সরাসরি ক্রয়ে ব্যয় করতে পারবো। এই ভ্যাকসিন মজুত থাকবে। যেখানে সংকট আছে সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সারাদেশেই শুরু হয়েছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।


রাজশাহীতে হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উদ্বেগ বিষয়ে হচ্ছে আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৬ মাসের নিচে, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত 'হাম কর্নার' এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৬ মাসের নিচে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডগুলোতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে রোগীরা। ওয়ার্ডগুলোর ভেতর বাইরে তিল ধারণের জায়গা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলী হোসেন জানান, ওয়ার্ডে বেড নেই। তাই তিনি তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করছেন।

এদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। এসময় তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আটটি জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা প্রদান এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ উল আলম জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী আসার সংখ্যা বেড়েছে। সীমিত আইসিইউ সুবিধা ও জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


চট্টগ্রাম বিভাগে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে শিশুমৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে এই রোগের সংক্রমণ এবং এর ফলে উদ্ভূত নিউমোনিয়ার জটিলতা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর রেশ এসে লেগেছে চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুরো বিভাগে ৯৫ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে বর্তমানে কক্সবাজারে ২৮ জন, কুমিল্লায় ১৮ জন এবং চাঁদপুরে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া চাঁদপুরের আরও দুই শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত ২৫ শিশু ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ‘পোস্ট-মিজেলস নিউমোনিয়া’ বা হাম পরবর্তী ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণের প্রধান শিকার হচ্ছে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা। মূলত যথাযথ সময়ে টিকা না নেওয়া এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। বিশেষ করে ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পরবর্তী দুই বছর বিশ্বজুড়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সেই সময়ে যেসব শিশু টিকা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, বর্তমানে তাদের মধ্যেই এই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় হাঁচি-কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বর্তমানে ১২ জন শিশু হামজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে থেকে নির্ধারিত ‘ডেঙ্গু কর্নার’কে বর্তমানে ‘হাম কর্নার’ হিসেবে রূপান্তর করেছে। চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ মাসের নিচে এবং তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছে। অনেক শিশু এতটাই ছোট যে তারা এখনো টিকার আওতাভুক্ত হওয়ার বয়সও অর্জন করেনি। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। সেখানে গত ১০ দিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে আইসিইউতে থাকা শিশুদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার ১২০টি বাড়িতে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়েছে এবং সেখানে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, টিকার কোনো সংকট নেই এবং জনসাধারণকে সচেতন করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে চমেক হাসপাতালে বিশেষ জরুরি বৈঠক করে পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

হামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হামের টিকা ক্রয়ের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যথাযথ সচেতনতা এবং দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে এই সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিটি ঘরবাড়ি ও শিশুদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


প্রথম ইন্টারন্যাশাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্স ২০২৬ এর পি-কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে হৃদরোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্স ২০২৬-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে আজ রবিবার ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে একটি বিশেষ প্রি-কনফারেন্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে চিকিৎসা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কার্ডিয়াক এমআরআই এবং এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল বায়োপসির মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও এর আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বারোপ করেন যে, হার্ট ফেইলিউর দ্রুত শনাক্তকরণ এবং রোগীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিখুঁতভাবে নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে কার্ডিয়াক এমআরআই বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ‘স্বর্ণমান’ হিসেবে স্বীকৃত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশি ও বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা আধুনিক এই প্রযুক্তিগুলো বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির এই সমন্বয় দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার মানোন্নয়নে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। স্বাগত ভাষণে কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এআই-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত প্রবন্ধ পাঠ করেন মালয়েশিয়ার ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতান কাভেরি। অনুষ্ঠানে আরও মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এভারকেয়ার হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ আতাহার আলী।

দিনের দ্বিতীয় ভাগে কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক সেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মনজুর মাহমুদ এবং ভাইস-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাফর ইকবাল জামালী। এ সময় প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জুরিচের অধ্যাপক ডা. রোবার্ট মানকা, বিএমইউর হার্ট ফেইলিউর ডিভিশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীনে মুজাহীদ মোঃ ফারুক ওসমানী এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাহিদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নানসহ খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

এই বিশেষ কর্মশালাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেখানে লাইভ ডেমোনেস্ট্রেশনের মাধ্যমে এআই-সহায়ক কার্ডিয়াক ইমেজিং ব্যাখ্যা এবং বাস্তব ক্লিনিক্যাল কেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে বাস্তব প্রয়োগের ব্যবধান কমিয়ে আনাই ছিল এই সেশনগুলোর মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা জানান, হৃদরোগ চিকিৎসায় এআই এখন বিপ্লব নিয়ে আসছে, যা চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং জটিল ডেটাসেট বিশ্লেষণে সরাসরি সহায়তা করছে। তবে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, অনেক এআই টুল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় সেগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের আগে যথাযথ যাচাই প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, রেডিয়েশন মুক্ত ও উচ্চ রেজোলিউশনের ইমেজিং সুবিধা থাকায় কার্ডিয়াক এমআরআই হার্ট ফেইলিউর রোগীদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। কর্মশালায় এআই এবং কার্ডিয়াক এমআরআই-এর সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা শনাক্তকরণ ও দ্রুত রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি প্রদর্শিত হয়। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল সৃষ্টি, তথ্য সুরক্ষা এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এই প্রি-কনফারেন্স কর্মশালাটি দেশে প্রযুক্তিনির্ভর হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


যক্ষ্মা নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

দেশের নেতৃত্বে, জনগণের শক্তিতে আমরাই পারবো যক্ষ্মা নির্মূল করতে, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা হয়।

উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. মোঃ রেহেনেওয়াজের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা একটি সংক্রামক হলেও সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব। তারা আরও বলেন, যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস প্রতিবছর ২৪ মার্চ পালিত হয়, যা যক্ষ্মা রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো যক্ষ্মা একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। তাই এ দিবস পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় আগ্রহ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষ্মা নির্মূল সম্ভব,এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা এবং সামাজিক সচেতনতার বিস্তার।


banner close