সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

চিকিৎসা নিতে আসা ৪২ শতাংশই ক্যানসারে আক্রান্ত

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৩৩ জন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। যা শতকরা ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বুধবার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ক্যানসার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে রিপোর্টের এসব তথ্য তুলে ধরেন সহযোগী অধ্যাপক ডা মো. জহিরুল ইসলাম।

রিপোর্টে বলা হয়, রোগীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫ শতাংশ নারী। এই দুই বছর যেসব রোগী এসেছেন, তাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী সবচেয়ে বেশি। এরপর আছে স্তন, জরায়ু মুখ, অন্ত্র, পাকস্থলী, লিভার, লিম্ফ নোড, মলদ্বার, মুখগহ্বর এবং পিত্তথলি। এর মধ্যে পুরুষরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফুসফুসের ক্যানসারে এবং নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় স্তন ক্যানসারে।

বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ থেকে রোগী বেশি আসে।

অনুষ্ঠানে ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, আমরা আজকে অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করছি। পুরো রিপোর্টটি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। ন্যাশনাল ক্যানসার রেজিস্ট্রিতে বেসরকারিসহ সবাইকে যুক্ত করতে হবে। তার চেয়ে বেশি জরুরি ন্যাশনাল ক্যানসার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা রোবেদ আমিন বলেন, যদি অসংক্রামক রোগে ৬৭ শতাংশ মানুষ মারা যায়, তার ১০ শতাংশ ক্যানসারে মারা যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের প্রকৃত ক্যানসার রোগী কেমন, সেই প্রকৃত সংখ্যা আমরা জানি না। আমাদের কাছে তথ্য আছে কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সামগ্রিক যে তথ্য দরকার, একটি দেশের জন্য সেটা কিন্তু আমরা জানি না। ধরে নেয়া হচ্ছে, প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং তার ৬০ শতাংশের বেশি মারা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ক্যানসার কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কিন্তু সেখানে স্বল্প মেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি করণীয়টা ছিল না। না থাকার কারণে ক্যানসার রেজিস্ট্রি একটু পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে যারা আসছেন, তাদের কিন্তু একটি চিত্র তুলে ধরছে এই রিপোর্ট। ক্যানসার প্রতিরোধ করতে গেলে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন, কীটনাশকের ব্যবহার, যেকোনো দূষণের একটা প্রভাব আছে। আমাদের লাইফ স্টাইলের জায়গা প্রতিরোধ করার একটা বড় সুযোগ আছে। কিন্ত একটা স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম করে আমরা কিন্তু শুরুতেই শেষ করতে পারি। ক্যানসারের কারণে একটা মানুষের জীবনে যে কষ্ট হচ্ছে, সেটি লাঘব করতে পারি। আমাদের অনেকগুলো জায়গা আছে, যেখানে কাজ করার সুযোগ আছে। এই ডেটাগুলো নিয়ে কাজ করলে আমরা জানতে পারি ক্যানসার ট্রেন্ড কোনদিকে যাচ্ছে।


ফ্যাশন হাওয়ায় চলতি বছর

সাদা আইলাইনারে চোখে একরকম চাঞ্চল্যকর ভাব আসে। এ বছর চোখের সাজে সাদা আইলাইনার প্রাধান্য পাবে। ছবি: ফোর্বস
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১১
তানজিনা আলম

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে সৌন্দর্য চর্চার ধারায়। সব হাল ফ্যাশনে সবাই একই রকমভাবে অভ্যস্ত হতে পারেন না এটিও যেমন ঠিক, অন্যদিকে কিছু ফ্যাশনপ্রেমী মানুষ যেকোনো হালচাল ধারণ করতে পারেন খুব সহজেই। নতুন বছরে ফ্যাশন পরিমণ্ডলে বিরাজমান থাকতে পারে এমন কিছু বিষয়-

আইলাইনারে সাদার প্রাধান্য

সাদা আইলাইনারে চোখে একরকম চাঞ্চল্যকর ভাব আসে। চোখও দেখায় চওড়া। যারা একটু সাদামাটা মেকআপ লুক পছন্দ করেন, তারা চোখের কোণে এবং নিচের ল্যাশলাইনে ব্যবহার করলে চোখ উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত দেখাবে। আবার যারা শৈল্পিক সাজসজ্জায় দক্ষ তারাও এটি দিয়ে গ্রাফিক আইলাইনার লুক তৈরি করতে পারেন।

চিকন আই ব্রোতেও লাগবে গ্ল্যামারাস

আই ব্রো আর্টও যে একটি শিল্প, এটি তারাই বেশি স্বীকার করবেন যারা সুন্দরভাবে আই ব্রো সেট করতে গেলেই হিমশিম খান এবং হতাশ হন। তবে নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০০ সালের শুরুতে চিকন আই ব্রোই প্রাধান্য পেত। এরপর সবাই বরং এটি এড়িয়ে চলা শুরু করলেন। কিন্তু কিছু সাহসী সুন্দর নারী আছেন যারা আরও একবার চিকন আই-ব্রোর পক্ষেই যাচ্ছেন। তবে এতে নিজেকে মানাবে কি না, পরীক্ষামূলকভাবে দেখার জন্য রয়েছে অ্যাপ, রয়েছে ফিল্টার। সবার জন্য প্রযোজ্য না হলেও নির্দিষ্ট গঠনের চেহারার সঙ্গে বেশ মানানসই।

চুলের জন্য পিন বব কাট

বৈচিত্র্যপূর্ণ লেয়ার, ব্যাংস কাটের আগে চুলের জন্য বেশির ভাগ নারীই স্ট্রেইট কাট পছন্দ করতেন। পাতলা এবং সোজা চুলের জন্য এই কাটের প্রচলন শুরু হলেও ভাটা পড়েছিল মাঝে। তবে আবারও চুলকে মসৃণ এবং ঘন দেখাতে এর গ্রহণযোগ্যতা দেখিয়ে আবারও জনপ্রিয় হচ্ছে এই বব কাট।

মখমলে সাজবে নখ

স্টোন, অ্যাকুরিয়াম নেইল আর্ট, স্টাম্পিং নেইল আর্ট কিংবা স্কচ টেপ নেইল আর্ট- নেইল পালিশের পাশাপাশি এমন বিভিন্ন অনুষঙ্গ যুক্ত হচ্ছে নখের সাজে। বিরামহীনভাবে বাড়ছে ডিজাইন আর রঙের ব্যবহার। তবে নখকে খুব সাধারণ কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপস্থাপনে ভেলভেট নেইল বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। রঙের ওপর ভিত্তি করে রোজ ভেলভেট, শ্যাম্পেইন ভেলভেট, আইসি কিংবা মভ ভেলভেট বাছাই করতে পারবেন আগ্রহীরা।

তবে নখকে খুব সাধারণ কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপস্থাপনে ভেলভেট নেইল বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। ছবি: ফোর্বস



ম্যাজেন্টা রং প্রাধান্য পাবে ঠোঁটেও

বর্ষসেরা প্যানটোন রং (সারা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি রঙের মডেল, যা সর্বজনীন এবং যেকোনো ধরনের কার্যকলাপের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়) হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভিভা ম্যাজেন্টা। এ বছর ফ্যাশনে তাই এর প্রাধান্য থাকবে বেশ। কাপড়ের রঙের সঙ্গে মেকআপের ক্ষেত্রেও এই রংটি সর্বত্র দেখা যাবে। নজরকাড়া লুকের জন্য ব্লাশ থেকে ঠোঁটে ম্যাজেন্টার ব্যবহার এমনকি আইল্যাশেও থাকতে পারে এর ছোঁয়া।

কাভারেজ হোক অল্পই

চেহারা যেহেতু প্রথমেই কারও মনোযোগ আকর্ষণ করে তাই নিজের সেরা ত্বকের জেল্লা পেতে সফল মেকআপ রুটিনের প্রথম ধাপ হিসেবে নিয়মিত স্কিনকেয়ার ওপর জোর দিতে হবে। ভারী ফাউন্ডেশন মুখের লোপকূপগুলোকে আটকে দেয়। তাৎক্ষণিক দ্যুতি ছড়াবে এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ছেড়ে সাধারণ ময়েশ্চারাইজারে আসার সময়ও এখনই। সুন্দর ত্বকে ন্যূনতম মেকআপই তখন যথেষ্ট হবে।

একই পণ্যের ভিন্ন ব্যবহার

আইশ্যাডো দিয়ে ব্লাশ বা ব্লাশিংয়ের জন্য আইশ্যাডো কিংবা কালার কারেক্টর দিয়েও আইশ্যাডো। তার ওপর সামান্য হালকা গোলাপি, গোল্ডেন এবং সিলভার কালারের শিমারি হাইলাইটার দিয়ে গিল্টারি ফিনিশিং। আবার পছন্দের লিপিস্টিক দিয়ে ব্লাশ ও করেন অনেকে। আইশ্যাডো থেকে কনট্যুরিংয়ের রং বেছে নিয়ে দারুণভাবে ব্যবহার করতে পারেন অনেকেই। গতিময় এই জীবনে সময় যেন উড়ছে। তাই একই পণ্য দিয়ে দ্রুত এবং কার্যকরী লুক তৈরি করতে নিঃসংকোচে বাছাই করতে পারেন এমন পণ্য যা একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি কাজ করবে।

সূত্র: ফোর্বস


পুষ্টি উদ্যোগে তরুণরা

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কিশোর-কিশোরী আর যুবদের মধ্যে রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কিশোর-যুবারা পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে উন্নত পুষ্টি ও খাদ্যব্যবস্থাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে তরুণ ও যুবসমাজকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য, যাতে তারা অন্য অংশীজনদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে।

সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকার সুষম পুষ্টি- এ কথা সর্বজনবিদিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালে পুষ্টি নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শীর্ষ ১১টি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণের মধ্যে ছয়টিই খাদ্য ও পুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টির জোগান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

কৈশোরে শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি থাকে। এই বয়সে শরীরের ৫০% পর্যন্ত গাঠনিক বৃদ্ধি এবং চূড়ান্ত প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চতার ২০% পর্যন্ত অর্জিত হয়। তাই সঠিক শারীরিক গঠনের জন্য নিয়মমাফিক পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগান দরকার। কিশোর-কিশোরী বা যুবদের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা বয়ঃসন্ধিকালে ফলমূল, শাকসবজি কম খায় এবং চিনি, সোডিয়াম ও চর্বিজাতীয় খাবার বেশি খায়। কৈশোরের এই পুষ্টির ঘাটতি শরীরে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে পরবর্তী সময়ে তা আর সঠিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় না। দেশের কিশোর ও যুবদের একটা বড় অংশ তাদের বেড়ে ওঠার পুরোটা সময় দারিদ্র্যের বেড়াজালে বন্দি থাকে। তারা পর্যাপ্ত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে না। দারিদ্র্যসীমার আশপাশে জীবন কাটানো পরিবারগুলোর কিশোর-কিশোরীরা অপুষ্টি নিয়ে বেড়ে ওঠে।

এ রকম প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরী ও যুবদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা, জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরিতে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা একটি জরুরি বিষয়। এ জন্য বিআইআইডি (বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট) ফাউন্ডেশন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিউট্রিশন ক্লাব গড়ে তুলেছে। পুষ্টিবিষয়ক বিভিন্ন সক্রিয় উদ্যোগের মাধ্যমে ক্লাবের সদস্যরা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। অপুষ্টি দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যকর নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তি সামনে নিয়ে এসেছে নিউট্রিশন ক্লাবের সদস্যরা।

ক্লাবের সদস্যদের দক্ষতাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকে নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড বা পুষ্টি অলিম্পিয়াড আয়োজন করে আসছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত চারটি নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে দেশের সব জেলা থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উঠে আসা মেধাবী কিশোর-কিশোরী ও যুবরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রাস্তার খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মসলাদার ও সুস্বাদু এসব খাবার জনপ্রিয় হলেও সেগুলো অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয় বলে এসব খাবারে প্রাণঘাতী জীবাণু থাকতে পারে। কীভাবে এসব খাবার নিরাপদ করা যায় এবং এ জন্য সমাজ ও প্রশাসন কী ভূমিকা পালন করতে পারে অলিম্পিয়াডে, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারণা পায়।

খাদ্যশস্য, মিঠাপানির মাছ ও শাকসবজির ক্ষেত্রে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তবুও বাংলাদেশে খাদ্যের সুষম বণ্টন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা খাদ্য ও পুষ্টি বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ সমস্যার সমাধানকল্পে তরুণ উদ্যোক্তারা খাদ্যশিল্পে বিনিয়োগ করে ও তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ বৈষম্য কমিয়ে আনতে অবদান রাখতে পারেন। অলিম্পিয়াডে বিশেষজ্ঞ আলোচকরা খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ক্যারিয়ার ও ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের দিকনির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক আলোচনায় একটি বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে স্কুলের খাবার। সরকার ইতিমধ্যে স্কুলগুলোতে দুপুরের খাবার চালু করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, কিন্তু উদ্যোগ বা প্রকল্পগুলো সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল এবং এই উদ্যোগসমূহের সফল বাস্তবায়নের জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীরা ধারণা পায়। খরা, আকস্মিক বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ফলন হ্রাস- এ বিষয়গুলোও আলোচিত হয় এসব আয়োজনে।

‌এ বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকবে বলে আশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি। নিউট্রিশন ক্লাবের সদস্যরা সারা বছরই স্বাস্থ্যসচেতনতা, পুষ্টি, পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ। অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে খাদ্য, পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের বিনিময় ও নেটওয়ার্কের সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতাও করবে অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া ‘স্মার্ট স্কুল মিল’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করবে।

প্রতিযোগিতা ও সেমিনারের পরের অংশ হিসেবে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীরা প্যানেলিস্টদের সহযোগিতায় ‘ঢাকা ঘোষণা’ প্রস্তুত করবে এবং এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সবার জন্য পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুসংহত করতে সরকারকে আহ্বান জানাবে। বিজ্ঞপ্তি।


গোল্ডেন মিল্কশেকের উপকারিতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আলমগীর আলম

গোল্ডেন মিল্ক, হলুদের দুধ নামেও পরিচিত। প্রাচীন ভারতবর্ষের একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়, আজ যা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই উজ্জ্বল হলুদ পানীয়টি গতানুগতিকভাবে গরুর দুধ বা উদ্ভিদভিত্তিক দুধগুলোতে হলুদ এবং অন্যান্য মসলা যেমন দারুচিনি ও আদা সহযোগে তৈরি করা হয়। এর স্বাস্থ্য উপকারের সুনাম আছে অনেক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং অসুস্থতা রোধ করতে বিকল্প প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গোল্ডেন মিল্কের সক্রিয় উপাদান কার্কুমিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বহু শতাব্দী ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে, শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।

গোল্ডেন মিল্কের উপকারিতা

শক্তিশালী হাড় তৈরিতে অবদান রাখে: গোল্ডেন মিল্ক নিয়মিত পানে অস্টিওপেনিয়া এবং অস্টিওপোরোসিস রোধ করা সম্ভব। দুধ ও হলুদ একযোগে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য ধরে রাখবে। যার কারণে শরীরের হাড় মজবুত থাকবে।

প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যথা হ্রাস করতে পারে: গোল্ডেন মিল্কের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, ক্যানসার, বিপাক সিনড্রোম, আলঝেইমার এবং হৃদরোগসহ দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে এটি বড় ভূমিকা পালন করে।

কার্কুমিন মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) এর মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। বিডিএনএফ এমন একটি যৌগ যা মস্তিষ্ককে নতুন সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোর বিকাশে উৎসাহ দেয়। আলঝেইমারসহ মস্তিষ্কের রোগের প্রকোপ কমায়।

গোল্ডেন মিল্কের মূল উপাদানের সবগুলোই হৃদরোগের ঝুঁকি মুক্ত রাখার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম গোল্ডেন মিল্ক ভালো কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএলের স্তর কমিয়ে এইচডিএলের স্তর বাড়িয়ে দেয়। হৃদরোগের ঝুঁকি ২৩-২৫ শতাংশ কমায়। এন্ডোথেলিয়াল সুস্থ হার্টের জন্য যথাযথ কাজ করে।

গোল্ডেন মিল্কের সঙ্গে প্রতিদিন ১ গ্রাম দারুচিনি রক্তে শকর্রার মাত্রা ২৯% পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে।

কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, গোল্ডেন মিল্কের মসলা ক্যানসারের চিকিৎসায় কিছু সুবিধা দিতে পারে। গোল্ডেন মিল্ক ও দারুচিনির যৌগগুলো ক্যানসার কোষগুলোর বৃদ্ধি হ্রাস, ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলতে পারে এবং টিউমারগুলোতে নতুন রক্তনালিগুলোর বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।

গোল্ডেন মিল্ক সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সিনসিটিয়াল ভাইরাস (এইচআরএসভি), যা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। সিনামালডিহাইড ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এটি ছত্রাকজনিত কারণে শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

দীর্ঘস্থায়ী বদহজমেও এই শেক উপকার করে। হলুদ পিত্তের উৎপাদন ৬২% পর্যন্ত বাড়িয়ে ফ্যাট হজমে সাহায্য করতে পারে। পেটের মধ্যে জ্বলন প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

কীভাবে গোল্ডেন মিল্ক তৈরি করবেন

দুধ ১ কাপ (১২০ মিলি), হলুদ ১ চা-চামচ, ১ টুকরো বা ১/২ চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক চা-চামচ আদার গুঁড়া বা রস, এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া এবং এক চা-চামচ মধু।

একটি পাত্রে দুধ, হলুদ, আদা ও কালো গোলমরিচ দিয়ে জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে সেটাকে ছেঁকে একটি গ্লাসে রেখে দিন। যখন দুধ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসবে, তখন এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় বিকাল।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ। প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময়কেন্দ্র


নিপাহ ভাইরাসে ৭ জনের মৃত্যু, ঝুঁকিপূর্ণ পুরো দেশ: আইইডিসিআর

খেজুরের রসপানে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাতজন। যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন। যা গত আট বছরে সর্বোচ্চ। আর এ অবস্থায় পুরো দেশকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা বেঁচে থাকেন, তারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগেন।

তাহমিনা শিরিন বলেন, কয়েকটি জেলায় এখন পর্যন্ত রোগী পাওয়া গেলেও সবজেলাই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন অনলাইন শপে এখন খেঁজুরের রস বিক্রি হচ্ছে। তারা প্রচার করছে, তারা সব ধরনের সতর্কতা মেনে রস সংগ্রহ করছে। রসের হাড়ি ঢেকে সেটা করা হয়েছে। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, রসের হাড়ি ঢেকে সংগ্রহ করলেও সেখান থেকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত হবে না-তার প্রমাণ নেই। কারন, বাদুড়ের লালা এবং প্রস্রাব থেকে ভাইরাসটি রসের মধ্যে আসে। সুতরাং যারা বলছেন, তারা ঠিক বলছেন না। এই কথা শুনে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন-সে আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার পর নিপাহতে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা যায় সাধারণ আট থেকে নয়দিনের মধ্যে। অপরদিকে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসাদের লক্ষণ দেখা যায় ছয় থেকে ১১ দিনের মধ্যে।

নিপাহ ভাইরাসকে ‘ডেডলি ডিজিজ‘ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারন এই ভাইরাসবাহিত রোগের কোনো ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। যার কারনে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা ৭০ থেকে ১০০ ভাগ। আর যারা বেঁচে থাকেন তাদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের স্নায়বিক দুর্বলতায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের হার কম হলেও এটা অত্যন্ত বিপদজনক।

নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ডিজিজ, অর্থাৎ এটি প্রাণীবাহিত। বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস মূলত ছড়ায় বাদুড়ের মাধ্যমে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ সময়টাতে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়, আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি বাদুড় হাড়িতে মল-মূত্র ত্যাগ করায় ও রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যাওয়ায় ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা থাকে। কাঁচা রস খেলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বে যেসব রোগ মহামারি আকার নিতে পারে তার একটি তালিকা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে তালিকায় আছে নিপাহ ভাইরাসের নামও।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’ বা পিএএনএস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগে যতটা ধারণা করা হয়েছিল নিপাহ ভাইরাস তারচেয়েও বেশি সংক্রামক। যেকোনো সময়, যেকোনো জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই নিপাহ ভাইরাস বাংলাদেশ, ভারত তথা এশিয়া অঞ্চলের আরেকটি মহামারির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

আই্ইডিসিআরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত যে ১০ জন শনাক্ত হয়েছেন তারা রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও পাবনা জেলার। কোনো কোনো জেলায় একাধিক রোগীও শনাক্ত হয়েছে। এই ছয় জেলা নিয়ে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো।

আইইডিসিআরের তথ্যমতে, ২০০১ সালে প্রথম মেহেরপুরে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা চিহ্নিত হয়। এরপর ২০০৩ সালে শনাক্ত হয় নওগাঁয়। তবে পরের বছরেই সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয় ফরিদপুর জেলায়। সেখনে শনাক্ত ৩৫ জনের মধ্যে মৃত্যু হয় ২৭ জনের। এরপরই আইইডিসিআর এ নিয়ে সার্ভিলেন্স কার্যক্রম শুরু করে।

নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২০১১ সালে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশিকায় খেজুরের কাঁচা রসকে নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহন হিসেবে চিহ্নিত করে সংক্রমণ রোধ করতে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।


দেশে ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এই অসংক্রামক রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ক্যানসার ও হার্ট অ্যাটাকে। ক্যানসারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু দেশে ক্যানসার রোগীর তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার রাজধানী মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ) বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘সবার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারিনি’ উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশের সব হাসপাতাল মানসম্মত চিকিৎসা দিতে পারছে না। সেই সঙ্গে শুধু হাসপাতাল তৈরি করলে আর কিছু মেশিন কিনে দিলেই চিকিৎসা হয় না। চিকিৎসাসেবা মূলত নির্ভর করে ডাক্তার-নার্সদের ওপর। এই বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে আর ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কোয়ালিটি চিকিৎসার মান উন্নয়নে কাজ করছি।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘ক্যানসার রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। এতে বৈষম্য রয়েছে। দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা করাতে পারে না। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয় বলে অনেক অর্থ খরচ হয়। এজন্য আমরা চিকিৎসায় বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করছি।’

আর ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত (আর্লি ডিকটেশন) অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হয় তাহলে সেই রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু যখন ছড়িয়ে যায় তখন কিছু করার থাকে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কলেরা, ডায়রিয়ায় এখন আর মৃত্যু হয় না। এখন আমাদের দেশে অসংক্রামক রোগ বেড়েছে। ৬০-৭০ শতাংশ মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ক্যানসার ও হার্ট অ্যাটাকে। এছাড়া ব্রেস্ট ক্যানসারে মৃত্যু হয় ৯ শতাংশ, গলার ক্যানসারে মৃত্যু হয় ১৪ শতাংশ।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বছরে ১ লাখ লোক ক্যানসারে মারা যায়, আর আক্রান্ত হয় প্রায় দেড় লাখ। বাস্তব চিত্র এর চেয়েও খারাপ। কারণ, বহু মানুষ চিকিৎসার আওতার বাইরে থাকে। যে কারণে অনেকের তথ্য পরিসংখ্যানে নেই। আমাদের দেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসার ব্যবস্থা খুবই স্বল্প। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসায় যে বড় মাপের ব্যবস্থাপনা দরকার, সেটি আমরা দিতে পারিনি, তবে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

ক্যানসারের কারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ধূমপানে ক্যানসার বেশি হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, খাবারে দূষণ ক্যানসারের আরেক বড় কারণ। এটি এমন একটা রোগ, কোনো বয়স বা গোত্র রক্ষা পায় না।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘ক্যানসার হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকে। অনেকেই সমালোচনা করেন, কিন্তু আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে জনবল, যন্ত্রপাতি নাই। রোগী রেজিস্ট্রি নেই, যথেষ্ট পরীক্ষাও নেই। তারপরও আমরা কাজ করছি। এই হাসপাতালকে নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে। আর সীমিত সম্পদের মধ্যেও চিকিৎসক-নার্সরা কাজ করে যাচ্ছেন।’

দেশের আট বিভাগে ৮টি ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা রেখেছি। অনেকগুলো প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আমরা প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিঞা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা।


বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ভালো থাকার দাওয়াই

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:১০
সামিয়া তাসনিম

ওজন বেড়ে যাচ্ছে- অভিযোগটা এখন অনেকেরই। অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে নানা রকমের রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে। তার মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ঘুমের প্রতিবন্ধকতা, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, বিষণ্নতা, উচ্চরক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ নানা ধরনের রোগ অন্যতম। এখন স্থূলতা নিজেই একটি রোগ।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং জেনেটিক কিছু কারণে সাধারণত স্থূলতা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রধানত জিন, অন্ত্রের রোগ, ওষুধ বা মানসিক রোগের কারণে ওজনাধিক্য হয়ে থাকে। স্থূলতা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের এবং শিশুদের এটি বেশি। ২১ শতকে এটি সবচেয়ে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে।

স্থূলতা বা বাড়তি ওজন ঝরানোর জন্য ডায়েট মেনে চলতে হবে এবং সঙ্গে ব্যায়াম করতে হবে প্রতিদিন অল্প করে। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ব্যায়াম করে ওজন কমানো ঠিক নয়। এতে ব্যায়াম বন্ধ করলেই আবার স্থূলতা বেড়ে যাবে। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো প্রতিদিন একটা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলা, সঙ্গে কিছু সময় ব্যায়াম করা।

ব্যালেন্স ডায়েট

যে ডায়েট সব গ্রুপের খাবার দিয়ে ক্যালরি হিসাব করে করা হয়, তাকে ব্যালেন্স ডায়েট বলে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের বয়স, ওজন, উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদা ডায়েট প্ল্যান হবে।

ডায়েটের প্রয়োজনীয় বিষয়

প্রতিদিন সকালের নাশতায় উচ্চ প্রোটিন রাখবেন। কারণ ক্ষুধার হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে প্রোটিন। ফলে মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত আপনার ক্ষুধা বন্ধ থাকবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতার জন্য ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং কোলাইনের মতো অপরিহার্য পুষ্টিসমৃদ্ধ। তাই প্রতিদিন সকালে একটি ডিম সিদ্ধ রাখতে পারেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে অতিরিক্ত শর্করা-জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। যেমন আলু, মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি।

প্রতিবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করুন এবং খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি খান। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এতে তিন মাসে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ওজন হ্রাস হতে পারে। ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করুন এবং সারা দিনের খাবারকে ছয় ভাগে ভাগ করুন। রাতে ভালো ঘুম দিন। আঁশযুক্ত খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। বাইরের ভাজা-পোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভালো ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন- ওমেগা-৩, ৬ যুক্ত খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখুন, সঙ্গে শারীরিক কোনো সমস্যা যেমন রক্ত স্বল্পতা না থাকলে প্রতিদিন গ্রিন টি বা ব্ল্যাক কফি খান।

এভাবে প্রতিদিন নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ করলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ

ল্যাবএইড, গুলশান


শুরুতেই শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ক্যানসার সেরে যায়

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:৫৭
ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

একুশ শতকে মানবসভ্যতার প্রধানতম শত্রুদের একটির নাম ক্যানসার। এই মরণব্যাধির প্রতিরোধ ও চিকিৎসা এখন স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যানসারের রোগীদের বেশির ভাগই বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ ক্যানসারের রোগী রয়েছেন। প্রতিবছর দুই লাখ মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং দেড় লাখ রোগী প্রাণ হারান। সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব এবং অর্থনৈতিক অবস্থা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ক্যানসার ও এ রোগে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির মূল কারণ। ক্যানসার সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন-

ক্যানসার কী?

ক্যানসার এক ধরনের অসংক্রামক ব্যাধি। এতে আক্রান্ত রোগীর শরীরে অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধি ঘটে থাকে। আমাদের শরীরে কোষ বিভাজনের উদ্দেশ্য হলো মাতৃকোষ থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে শরীরের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত হয়। শরীরে একদিকে যেমন কোষ বিভাজনের ব্যবস্থা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে সেই কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখারও বন্দোবস্ত। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে শরীরে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন হতে থাকে। তখন শরীরে নানা ধরনের যে প্রতিক্রিয়া ও শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়; সেটিই ক্যানসার বা কর্কট রোগ।

ক্যানসার কি কোনো একক রোগ?

অনেকেই ক্যানসার বলতে বিশেষ একটি রোগ মনে করলেও এটি কোনো একক রোগ নয়, বরং সমষ্টিগত রোগের একক সাধারণ নাম। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কোষে ক্যানসার হতে পারে। একেক রকম ক্যানসারের ধরন, কারণ ও উপসর্গ একেক রকমের হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি, চিকিৎসা, রোগের ভয়াবহতা ও পরিণতিও ভিন্ন ভিন্ন।

বাংলাদেশে পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস, প্রস্টেট, মুখগহ্বর, মলাশয়সংক্রান্ত বা কলোরেক্টাল, পাকস্থলী ও লিভার ক্যানসারের হার বেশি। আর নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ, স্তন, মুখগহ্বর ও থাইরয়েডের ক্যানসার বেশি হয়ে থাকে। ক্যানসারের ভয়াবহতা নির্ভর করে এর ধরন এবং কতটুকু ছড়িয়েছে তার ওপর।

ক্যানসার কেন হয়?

ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু বিষয়কে ক্যানসারের সম্ভাব্য কারণ বা ফ্যাক্টর বলে ধরে নেয়া হয়। এগুলোকে ক্যানসারের উদ্দীপকও বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসারের উদ্দীপককে বলে কারসিনোজেন। এসবের মধ্যে রয়েছে রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও অতিবেগুণি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রে। আরও আছে কৃত্রিম রং, কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, বেনজিনজাতীয় রাসায়নিক উপাদান, এসবেসটস, কীটনাশক, বায়ুদূষণ, আফ্লাটক্সিন ইত্যাদি। কিছু জীবাণু যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, হার্পিস ভাইরাস, এইচআইভি, এইচ পাইলরি ইত্যাদিও ক্যানসারের জন্য দায়ী। পাশাপাশি তামাক, অ্যালকোহল, ভেজাল খাবার ও খাবারের প্রিজারভেটিভ এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত, অস্বাস্থ্যকর ও ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার (যেমন ফাস্টফুড) থেকেও ক্যানসার হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমবিমুখ জীবনযাপনকেও ক্যানসারের জন্য দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ কী কী?

যেহেতু ক্যানসার কোনো একক রোগ নয় তাই এর লক্ষণও বিভিন্ন ক্যানসারভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সামষ্টিকভাবে কিছু লক্ষণকে ক্যানসারের সাধারণ বিপদসংকেত হিসেবে ধরে নেয়া হয়। সেগুলো হলো-

কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে শুরু করা, রক্তস্বল্পতা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতা। মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হওয়া। যেমন- কিছুদিন ডায়রিয়া, আবার কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য। বেশ কিছুদিন ধরে (দুই সপ্তাহের বেশি) জ্বর হয়েছে, কিন্তু সেটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসায় সারছে না। খুসখুসে কাশি হয়েছে অথচ পুরোপুরি সারছে না। শরীরের কোথাও কোনো পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতি অনুভব হচ্ছে। ভাঙা কণ্ঠস্বর যা কোনো চিকিৎসায় ঠিক হচ্ছে না। শরীরের একাধিক স্থানে তিল বা আঁচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন। শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ।

উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওপরের লক্ষণগুলো সতর্কসংকেত মাত্র। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার- এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

প্রতিরোধের উপায়

ক্যানসার প্রতিরোধে কিছু অভ্যাস রপ্ত করে নিতে হবে। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যায়াম ও কায়িক বা শারীরিক পরিশ্রম ও পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ অত্যাবশ্যক। নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত যৌন অভ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। অধিক ক্যালরি, ফ্যাটযুক্ত খাবার, ধূমপান, তামাক ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়ম অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং হেপাটাইটিসের টিকা বা ভ্যাকসিন নিতে হবে। সময়মতো এবং বিপদসংকেত দেখামাত্র দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

চিকিৎসায় যত বাধা

ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে বড় বাধা হলো সঠিক সময়ে রোগটি নির্ণয় না হওয়া। ক্যানসার যদি বেশি ছড়িয়ে পড়ে, চিকিৎসায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। চিকিৎসা সম্পর্কে অহেতুক ভীতি ও সচেতনতার অভাবও একটি বড় সমস্যা।

ক্যানসারের চিকিৎসা মূলত সার্জারি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি। প্রায় সব ধরনের ক্যানসারেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই চিকিৎসাগুলো দেয়া হয়। কখনো একটি, কখনো একাধিক চিকিৎসা পালা করে চলে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা করতে হয়। এসব চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক বেশি। আর চিকিৎসার খরচও সাধারণ চিকিৎসার চেয়ে বেশি। চিকিৎসার এই উচ্চব্যয় ছাড়াও অপচিকিৎসার দৌরাত্ম্য ক্যানসারের রোগীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যানসার পুরোপুরি সারে না, এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- শুরুতেই যদি ক্যানসার শনাক্ত করা যায়, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় রোগটি সেরে যায়।

আমরা করব জয়

বিশ্বে প্রতিবছর ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ মারা যান নানা ধরনের ক্যানসারে। প্রতিরোধব্যবস্থা না নিলে এটি দ্বিগুণ হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। প্রতিবছর বিশ্বে ক্যানসারে যত মানুষ মারা যান তার এক-তৃতীয়াংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পৃথিবীতে তামাক না থাকলে ৭১ শতাংশ ফুসফুসের ক্যানসার এবং ২২ শতাংশ অন্যান্য ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তাই প্রতিরোধই হওয়া উচিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান পদক্ষেপ।

সঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসায় মনোবল ধরে রাখা খুব জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বলে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাই ক্যানসার রোগীকে মানসিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। প্রতিরোধ ও শুরুতেই ক্যানসার নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

রাষ্ট্র, সংস্থা ও ব্যক্তির উদ্যোগই পারে ক্যানসারের চিকিৎসাসেবার বৈষম্য দূর করতে। ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যানসার দিবস। ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে বিশ্ব ক্যানসার সম্মেলনে দিনটিকে বিশ্ব ক্যানসার দিবস বা বিশ্ব ক্যানসার সচেতনতা দিবস বা বিশ্ব ক্যানসার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়ে আসছে নানা আয়োজনে। এ বছর ক্যানসার দিবসের প্রতিপাদ্য: ক্যানসার পরিচর্যায় বৈষম্য দূর করি। ২০২২ সাল থেকে তিন বছরের জন্য এই প্রতিপাদ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

লেখক: রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ


ক্যানসার চিকিৎসার দুরবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০১
জাকিয়া আহমেদ

ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের অত্যন্ত জরুরি এক চিকিৎসা পদ্ধতির নাম রেডিওথেরাপি। দেশের আট বিভাগে রেডিওথেরাপির যন্ত্র আছে মাত্র ২১টি। এর মধ্যে চারটি বাজেয়াপ্ত, বাকি ১৭টির মধ্যে সচল ছয়টি, আর ১১টি অচল অথবা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

দেশে কত মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ রোগে ভুগছেন। পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় আরও লাখ দেড়েক রোগী নতুন করে আক্রান্ত হন। ক্যানসারে বছরে মৃত্যু হয় প্রায় এক লাখ। সেই হিসাবে ক্যানসারে গড়ে প্রতিদিন ২৭৩ জনের মৃত্যু হয়।

দেশের একমাত্র ‘পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাদের কাছে আটটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র দুটি। এ ছাড়া এই হাসপাতালে তিন বছর ধরে এক্স-রে হয় না। ২০১০ সালের পর থেকে কখনো এমআরআই পরীক্ষাও হয়নি এখানে।

দেশে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যান বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অসংক্রামক রোগে বেশি মারা যাচ্ছেন ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীরা। অথচ দেশে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসার এমন দশার কারণ কী? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলছেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার মূল সমস্যা টাকার ছড়াছড়ি। একেকটি হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র কেনা হয়। ক্যানসারের একেকটি ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র কেনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ ‘গ্যাঞ্জাম’ হয়। ফলে ক্যানসার হাসপাতালে কয়েক দিন পরপর পরিচালক বদল হয়। আবার ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান বা রি-এজেন্টের দামও লাখের কাছাকাছি অথবা বেশি। এসব মিলিয়ে সারা দেশে ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

সেই সঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসা যেসব হাসপাতালে হয়, সেখানে জনবল খুবই সীমিত। মেশিন চালানোর মতো পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ (রেডিওথেরাপিস্ট) ও কর্মী (টেকনিশিয়ান) নেই। অনেকের পদায়ন (পোস্টিং) হয়েছে ঢাকার বাইরে, যেখানে অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেডিওথেরাপি নিয়ে দেশে অরাজকতা চলছে। বাংলাদেশের রেডিওথেরাপিস্টরা নিজেদের অনকোলজিস্ট পরিচয় দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন এবং কেমোথেরাপিও দিচ্ছেন। ক্যানসার রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি হাপসাতালের ওপর। অন্যদিকে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তদারকির জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বাকিগুলোতে পূর্ণাঙ্গ রক্তরোগ বিভাগ নেই। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামসর্বস্ব একটা বিভাগ থাকলেও সেখানে জনবলের ঘাটতি আছে। সেখান থেকে রোগীদের পাঠিয়ে দেয়া হয় (রেফার) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেমাটোলজি নামে কোনো বিভাগই নেই। খোদ রাজধানীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতেই যেখানে রক্তরোগ বিভাগ নেই, সেখানে ঢাকার বাইরে এর আশা দূর অস্ত। এমনকি দেশের সব মেডিকেল কলেজেও হেমাটোলজি বিভাগ নেই এবং নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথাও নেই। এর কারণ হিসেবে হেমাটোলজিস্টরা বলছেন, মেডিসিন এবং অন্যান্য ক্যানসার চিকিৎসক রক্তরোগ বিভাগের প্রসার ঘটাতে অনাগ্রহী। এতে নিজেদের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

সারা দেশের মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনটি রেডিওথেরাপি যন্ত্রের মধ্যে দুটিই অচল অবস্থায় রয়েছে।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি রেডিওথেরাপি যন্ত্রের মধ্যে একটি সচল রয়েছে। আরেকটি নতুন সংযোজন করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি অচল হয়ে পড়ে আছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখানে লাইনাক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন, পেট সিটি দরকার, সঙ্গে দরকার আরও জনবল। আর ব্র্যাকিথেরাপি মেশিনটি জুন থেকে অচল। একজন চিকিৎসকই সাধারণ রোগী এবং ক্যানসার রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছেন। কিন্তু এখানে পৃথক জনবল দরকার।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি বিভাগের লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মুকিতুল হুদা বলেন, এখানে কেমোথেরাপি ও সার্জারি করা গেলেও মেশিনের অভাবে রেডিওথেরাপি হয় না। এসব রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কোবাল্ট-৬০ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোবাল্ট-৬০ এবং কোবাল্ট-৬০ (ব্র্যাকিথেরাপি) দুটি যন্ত্রই সচল রয়েছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিনিয়ার যন্ত্রটি মাঝে অচল থাকলেও অতি সম্প্রতি আবার চালু হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা একটি করে কোবাল্ট-৬০ মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

তবে কেবল চিকিৎসায় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না মন্তব্য করে ক্যানসার রোগতত্ত্ব, প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ক্যানসার সেবায় এখানে বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রাথমিক প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয়, চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রশমন সেবা (প্যালিয়েটিভ কেয়ার)- সব মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দেশে ক্যানসার চিকিৎসায় যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়, তার অধিকাংশ খরচ হচ্ছে চিকিৎসায়। আর এ চিকিৎসা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলো মিলিয়ে। কিন্তু সেখানেও সব সময় সব যন্ত্র সচল নয়, নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে রোগীরা বেশি খরচ করে হলেও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা চলে যান দেশের বাইরে।

কিন্তু বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে জানিয়ে হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়। সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি বিকল। তাই যত বরাদ্দ হয় তার অর্ধেক চিকিৎসাসেবা এবং বাকি অর্ধেক প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্ত এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারের জন্য খরচ করতে হবে। ক্যানসার নির্ণয় বা স্ক্রিনিং ব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। এখন দেশে ক্যানসার চিকিৎসার রোগীর পকেট থেকে খরচ হচ্ছে ৭০ শতাংশ। তাই খুব কম রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারছে। আর বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বলেন, জাতীয় ক্যানসার কন্ট্রোল কাউন্সিল এক দশকের বেশি সময় ধরে অকেজো। ক্যানসারসংক্রান্ত পরিকল্পনাসহ সবকিছু এই কাউন্সিলের মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও গত ১২ বছরে তারা মাত্র একটি মিটিং করতে পেরেছে।

জাতীয় ক্যানসার কন্ট্রোল কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে পদাধিকারবলে রয়েছেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নিজামুল হক। কাউন্সিলের মিটিং এবং কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ নামে কোনো কাউন্সিল রয়েছে- আমার তো জানা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, হাসপাতালে শিশুদের জন্য থাকা ১৮টি শয্যা সব সময় পূর্ণ থাকে। সেখানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে চারটি। একটি অধ্যাপক, সহকারী পদ দুটি আর সহযোগী পদ একটি। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র তিনি।

এই জনবল খুবই অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, কিন্তু ঢাকায় অনেক হাসপাতালে পদের চেয়ে বেশি চিকিৎসক রয়েছেন, কেউ ঢাকা ছাড়তে চান না। কিন্তু যেখানে সত্যিকার অর্থে জনবল দরকার, সেখানে নেই।


২৮ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস

খেজুরের রসপানে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের ২৮টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ জন্য রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে ২০টি শয্যা প্রস্তুত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শেখ দাউদ আদনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের ২৮ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।

দেশে ২০০১ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারিভাবে ৩২৫ জনের দেহে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনকে বাঁচানো যায়নি।
আর চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সাত বছরের শিশু সোয়াদ খেজুরের রসের স্বাদ নিয়েছিল। পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস ধরা পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে ২৩ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত আটজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার শতকরা ৭০ শতাংশ।


সারাহ-নন্দিতার পর মরণোত্তর অঙ্গদান করলেন জামাল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে জামাল উদ্দিন নামে আরও একজন মরণোত্তর অঙ্গদান করেছেন। সারাহ ইসলাম ও নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর অঙ্গদান নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই খবর পাওয়া গেল।

৬২ বছর বয়সে মারা যাওয়া জামাল উদ্দিন থাকতেন মিরপুরে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী দুপুরে জামালের দুটি কর্নিয়া সংগ্রহ করে।

জামাল উদ্দিন রোটারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ডায়াবেটিসজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে মারা যান তিনি।

জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিন জামাল জানান, এক মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারকে মরণোত্তর অঙ্গদানের কথা বলেছিলেন জামাল।

অবশ্য জামাল উদ্দিনের কর্নিয়া দুটি কারা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নন্দিতা বড়ুয়াও অঙ্গদান করে যান। ঢাকার বাসাবোর এ বাসিন্দা দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাস (এসএলই) ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সম্মতিতে নন্দিতার কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়।

এরপর গত ৩১ জানুয়ারি বিএসএমএমইউয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের ডা. মোহাম্মদ শীষ রহমান পটুয়াখালীর দলিল লেখক আব্দুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের ডা. রাজশ্রী দাস পিরোজপুরের কলেজ শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে একটি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেন।

গত বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউয়ের অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি জানান, নন্দিতার মরদেহটি অ্যানাটমি বিভাগে সংরক্ষণ এবং শিক্ষণ প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।

গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সারাহ ইসলাম। তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় আরও দুজনের চোখে।

আরও পড়ুন: নন্দিতার কর্নিয়ায় পৃথিবী দেখছেন জান্নাতুল-আজিজ

বিষয়:

ঠাণ্ডা কাশিতে কখন যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৬
অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

প্রকৃতির মনমেজাজ কিছুটা তিরিক্ষি টাইপের এখন। রাতে শীত, দিনের বেলায় গরম। আবার যে বাতাস বইছে সেটা কখনো হিমশীতল তো কখনো গরম। এ অবস্থায় এখন অনেকেই সর্দি, কাশি বা হালকা জ্বরে ভুগছেন। ঠিক কেমন কেমন একটা আবহাওয়া। মনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরটাও একটু কেমন যেন হচ্ছে।

আমাদের মনে হতে পারে, ঠাণ্ডা সর্দি তেমন কিছু নয়। তবে সেটা ঠিক নয়। অনেক সময়েই কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। ঠিক কোন কোন লক্ষণ থাকলে আপনি চিকিৎসকের কাছে যাবেন, সে নিয়েই আজকের পরামর্শ।

যদি কাশি তিন সপ্তাহ থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিন সপ্তাহ লম্বা একটা সময়। কাশি এতদিন চললে সেটা শঙ্কার বিষয়। এত লম্বা সময়ে যদি কাশি, কফ বা সর্দি না কমে তাহলে অ্যাজমা, নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের যেকোনো অসুখ হতে পারে। তাই তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না, জলদি নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ।

কখনো কখনো মনে হবে, সর্দি-কাশি সেরে গেছে। কিন্তু কয়েক দিন পর সেটা ফিরে এল আরও শোচনীয়ভাবে। এ অবস্থা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে দ্রুতভিত্তিতে। এটা হতে পারে কোনো সংক্রমণ। হয়তো ব্রঙ্কিওলাইটিস অথবা নিউমোনিয়া।

আপনি কি আপনার কফ কিংবা লালার শ্লেষ্মার রংটা কখনো খেয়াল করেছেন? শ্লেষ্মার রং হলুদ, সবুজ কিংবা রক্তাভ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দ্রুত যেতে হবে তার কাছে।

যখন ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর হচ্ছে, তখন কি চোখে খুব চুলকাচ্ছে, সঙ্গে পানি পড়ছে চোখ দিয়ে?

মনে হতে পারে অ্যালার্জি। কিন্তু এটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ শত শতক কোল্ড ভাইরাস কিন্তু চারদিকে। এর মধ্যে জিভ ফুলে যাওয়া, মাথা হালকা মনে হলে, পেটে মোচড়ানো হলে সেটা মৌসুমি অ্যালার্জি।

গত কয়েক দিনে আপনার ওজন কমেছে কি না খেয়াল করেছেন? সময়মতো খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে, কিন্তু ওজনটা খানিকটা কমতির দিকে মনে হচ্ছে? যদি কফ, সর্দি ও কাশির সঙ্গে ওজন অনবরত কমতে থাকে তাহলে তার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ সেটা হতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা, ক্যানসারের কারণ অথবা অন্য কোনো জীবাণুর সংক্রমণ।

যখন থেকে ঠাণ্ডা কাশিতে ভুগছেন, তখন থেকেই কি বুকে শোঁ শোঁ আওয়াজ হচ্ছে? শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। আবার শরীরে নির্দিষ্ট কোনো অংশে চাপ বা ব্যথা অনুভব করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গলাব্যথা হতে পারে স্ট্রেপ থ্রোটের কারণে। নাকব্যথা হতে পারে সাইনাস সংক্রমণ হলে। কানে সংক্রমণ হলে কান দিয়ে পানি বা পুঁজ ঝরে। এ সময় চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে অবশ্যই।

লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ


নন্দিতার কর্নিয়ায় পৃথিবী দেখছেন জান্নাতুল-আজিজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিয়া বড়ুয়ার দেহগ্রহণ অনুষ্ঠানে কথা বলেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নন্দিতা বড়ুয়ার কর্নিয়ায় চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পটুয়াখালীর জেলার দলিল লেখক আবদুল আজিজ। তারা দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল (বিএসএমএমইউ) বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিয়া বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহগ্রহণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গত একমাসে মরণোত্তর চক্ষু দান প্রক্রিয়ায় ১২ জনের চোখে সফলভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই ভাল আছেন। অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ দেশের সকল মানুষকে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় গত ৩০ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়া মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাস (এসএলই) ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে মরণোত্তর দেহদানের ব্যাপারে সন্তানদের কাছে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে যান। তাই তার মৃত্যুর পর পরিবারের সম্মতিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়।

এর একদিন পরই গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শীষ রহমান পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাব- রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আব্দুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজশ্রী দাস পিরোজপুরের জেলার কাউখালি কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে একটি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, নন্দিতা বড়ুয়ার মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগে সংরক্ষণ, এবং শিক্ষণ প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সারা ইসলাম।


রং ফর্সাকারী ক্রিমে বিপদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৩
ডা. সৈয়দ সামিনা মাহ্জাবিন

‘আমি ত্বক ফর্সা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পুড়ে গেল।’ এমন কথা প্রতিদিন অন্তত একজন রোগীর কাছ থেকে হলেও আমাদের শুনতে হচ্ছে।

এসব রোগীর মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা মানসিকভাবে হতাশ হয়ে গিয়েছেন। কারণ তারা রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে উপকার পাননি, বরং ভালো ত্বকটা আরও খারাপ করেছেন। চিকিৎসকের কাছে এসেছেন সেসব ক্রিম নিয়ে, যেগুলো তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বাজার থেকে কিনেছেন।

ফর্সা হওয়ার আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাজারের এসব ক্রিম মেখে ভয়ংকর সমস্যায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে গায়ের রং খুব কমই ফর্সা হয়। এরপর ব্যবহার বন্ধ করে দিলেও ত্বকে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকের কোথাও সাদা আর কোথাও কালো হয়ে যেতে পারে।

কেন ক্ষতিকর

ফর্সা হওয়ার ক্রিমে মার্কারি, লেড, স্টেরয়েড, নানা প্রিজার্ভেটিভসহ অজস্র রাসায়নিক থাকে। এসব রাসায়নিকের কারণে ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, রং বদলে যাওয়া, কালশিটে দাগ পড়া, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে বৈকল্য, স্নায়ুজনিত সমস্যা হতে পারে।

স্টেরয়েড মেশানো ক্রিম মুখে মাখলে পাতলা হয়ে যেতে পারে ত্বক, অতিরিক্ত সূর্য-সংবেদী হতে পারে ত্বক, ব্রণ ও অবাঞ্ছিত লোম, মুখে মেছতা পড়তে পারে। পাশাপাশি মুখে, গলায়, হাতে বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জি, র‍্যাশ হয়, ত্বক শুকিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যারা নিয়মিত ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখেন, তাদের চোখে জ্বালা থেকে শুরু করে নানা রকম অসুবিধা হতে পারে। মার্কারি থেকে ত্বকের ক্ষতির পাশাপাশি সফট টিস্যুরও সমস্যা হয়, এমনকি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে।

আবার অনেক রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারের কারণে ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তাই বাজারের নামী, বেনামী রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রেগুলার স্কিন কেয়ার রুটিন করা উচিত।

লেখক: স্কিনলজিক লেজার অ্যান্ড এস্থেটিক সেন্টার


banner close