শনিবার, ২ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

বছর শেষে করোনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

করোনা ভাইরাস।
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০০

গত ছয় মাস দেশে করোনার পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্তস্তিদায়ক। কিন্তু বছর শেষে সেই স্বস্তির জায়গায় নতুন উদ্বেগ নীতিনির্ধারকদের। করোনার অতিসংক্রমণশীল ধরন অমিক্রনের একটি উপধরন বিএফ.৭ ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব প্রবেশপথগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন না করা গেলে আবারও ডেল্টা এবং অমিক্রনের মতো অবস্থা হতে সময় নেবে না।

চীনে করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়েছে। দেশটিতে করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদার করা হয়েছে। ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সে দেশের সরকারকে। রোগীর চাপে বেহাল হাসপাতালগুলো। মরদেহ সৎকারে বেগ পেতে হচ্ছে সৎকারকর্মীদের। এরই মধ্যে চীনের শ্যানডং প্রদেশের কুইংদাও শহরের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ লাখের মতো মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্য অনেক শহরের অবস্থাও প্রায় একই। চীনে এই অবস্থার কারণ অমিক্রনের উপধরন বিএফ.৭।

তবে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে, পাশের দেশ ভারতেও এই উপধরনে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, বিএফ.৭ নামের নতুন এই ধরন এযাবতকালের সবচেয়ে অতিসংক্রমণশীল। অমিক্রনের চেয়েও চার গুণ বেশি সংক্রমক। একজন রোগী একই সময় ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যা অমিক্রণের আগের ধরনটি করতে পারত চারজনকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক আহমেদুল কবীর বলেন, চীনে বিএফ.৫-এর নতুন ধরন বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। ধরনটি অমিক্রনের চেয়ে শক্তিশালী। কম সময়ে বেশি মানুষকে এই ধরন আক্রান্ত করতে পারে। যারা টিকা নেননি তাদের জন্য এটা বেশি ভয়ঙ্কর। তাই সবাইকে দ্রুত টিকা নিতে হবে।

অধ্যাপক আহমেদুল কবীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, বর্তমানে রোগী শনাক্ত হচ্ছে খুবই কম। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ছয়জন, তার আগের দিন সাতজন। তবে এই ছয় কিংবা সাতজন সাত-আট হাজার হতে খুব বেশি সময় নাও লাগতে পারে। আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, চীনের উহানের গুটিকয়েক মানুষের কাছ থেকে সারা বিশ্বে করোনা ছড়িয়েছিল, রূপ নিয়েছিল মহামারির।

ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতার কথা তুলে ধরে আহমেদুল কবীর আরও বলেন, ‘এটা দেশে ঢুকে পড়লে জিরো থেকে হিরো হয়ে যেতে পারে এবং তাতে খুব বেশি সময় নেবে না। সুতরাং সব ধরনের তৎপরতা নেয়া হচ্ছে, সব প্রবেশপথগুলোতে সতকর্তা জারি করা, মাস্ক পরা, টিকা নেয়ার মতো…। কিন্তু আলটিমেটলি যত কিছুই করা হোক একে ঠেকানো খুব কঠিন। এর সবচেয়ে বড় ভয়ংকর দিক হচ্ছে, লক্ষণ উপসর্গহীন থাকে। যার কারণে শনাক্ত হওয়ার আগেই ছড়িয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা করলেই যে একে আটকে রাখা যাবে, তাও নয়।’

মানুষ যাতে বেশি অসুস্থ না হয়, আর মৃত্যু যেন না হয় তাই মাস্ক পরা, টিকা নেয়া, হাত ধোয়ার মতো ব্যক্তিগত সাবধানতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন অধ্যাপক আহমেদুল কবীর। অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে একটা ‘মিক্স প্রক্রিয়ার’ মধ্য দিয়েই যেতে হবে আমাদের- বলেন তিনি।

রোগী বাড়লে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন আমরা সামাল দিতে পারি। সেই সঙ্গে নতুনভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নমুনার জেনোমিক সিকোয়েন্সিং করে এই বিএফ.৭ করোনাভাইরাস রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।দেশে ইতিমধ্যেই সংক্রমণ ঠেকাতে নৌ, স্থল ও আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেয়ার জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ চিন্ময় দাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, যতটুকু জানা যাচ্ছে বিএফ.৭ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আরটি-পিসিআর পরীক্ষাকে ফাঁকি দিতে পারে। অর্থাৎ পরীক্ষায় এটা শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই এখানে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সাবধানতা খুব বেশি জরুরি। পাশাপাশি সেই শুরুর সময়ের মতো অধিদপ্তরকে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করতে হবে। প্রচারে নামতে হবে এখনই। ধর্মীয় উপাসনালয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা এবার আর আগের মতো পরিস্থিতি দেখতে চাই না। আগের করোনার প্রতিটি ধরনের সময়ে সরকার আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে-সাবধানতা অবলম্বন করলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পরা কিছুটা ‘ডিলে’ করা যেত। তাই সরকারকে এবার ‘প্রোঅ্যাকটিভ’ না হয়ে ‘রিঅ্যাকটিভ’ আচরণ করতে হবে মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল বলেন, আগ বাড়িয়ে কাজ করলে সমস্যা আসার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু পুরো করোনাকালে সেটা দেখা যায়নি। তবে এবার আর এই ভুল করা যাবে না। জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আগেই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, এটা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ নয়, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে এক হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবু জামিল ফয়সাল বলেন, তাহলেই কেবল বোঝা যাবে এই অতিসংক্রমণশীল বিএফ.৭-এ কেউ শনাক্ত হলো কি না। সেই সঙ্গে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ভিড় এড়িয়ে চলা- ব্যক্তিগত সাবধানতা অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, মানুষ এমনিতে করোনা নিয়ে সচেতনতা ও সতর্কতার বিষয়গুলো ভুলে গেছে। রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সদলবলে সবাই যোগ দিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকরের দিকে যাচ্ছে তা কেউই বুঝতে পারছেন না, পারলেও পাত্তা দিচ্ছে না।


সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে, চলবে ৬ মাস: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। যক্ষ্মা, বিসিজিসহ নয়টি টিকার সবগুলো আমাদের হাতে আছে। আগামী ৬ মাস টিকা দিয়ে যেতে পারব। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে হাসপাতালের লেকচার হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘চায়না বাংলাদেশ জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারগুলো ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাকসিন দেয় নাই, যে কারণে হাম পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘(হাম প্রতিরোধক) ভ্যাকসিনের স্টক ছিল না। আমরা খুব তড়িৎ গতিতে—ওই সপ্তাহে আমরা শুরু করতে পারি নাই; কিন্তু পরের সপ্তাহ থেকে আমরা ‘গ্যাভি’ (বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের জন্য টিকা কিনতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা) সাহায্যে, ইউনিসেফের সাহায্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে আমরা সারাদেশে টিকাদান শুরু করেছি। জলাতঙ্কের টিকার একটি সংকট হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে আমরা সমাধান করেছি। একটা ক্লজ ছিল, বাইরে থেকে এই ভ্যাকসিনটা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হতো। যে কারণে সরবরাহ নিতে অনেক দেরি হয়েছিল। আমরা ওই ক্লজটা প্রত্যাহার করেছি। অ্যান্টির‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইনসেপ্টা এবং পপুলার থেকে আমরা স্থানীয়ভাবে (টিকা) সংগ্রহ শুরু করেছি।’

আগামী দেড় মাসের ভেতরে আমাদের (অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের) বাফার স্টক আসছে, যোগ করেন তিনি।

গ্রাম এলাকায় টিকার সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমএসআর এবং এডিবি ফান্ড থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।’ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ‘ছয় ট্রাক চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের ঘটনা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম না... এখনো সমস্ত মালগুলো চেক করা যায়নি, তবে আপনাদের নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি এগুলো লোহা জাতীয় জিনিস। কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের পার্ট—আমরা ভিডিওতে যা দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। সে যেই হোক না কেন, যারাই এর সঙ্গে জড়িত, যত বড় অফিসারই হোক, আমরা প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করব। যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’


হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৫৮ শিশু। বুধবার (২২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। এ ছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জন এবং ২৭ হাজার ১৬৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।


শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বিএমইউতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং সুরক্ষা জোরদারে ‘চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ (সিএএমএইচ) সার্ভিস অ্যাকশন প্ল্যান ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশ-বিদেশের চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথের সহযোগিতায় এবং ইউনিসেফের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব।

কর্মশালায় শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য আর অবহেলার সুযোগ নেই। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি।

কর্মশালায় অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদসহ বিশেষজ্ঞরা সিএএমএইচএসএএন’র আওতায় প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বৃস্তিত পরিসরে পরিচালিত হলে শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।


আজ থেকে সারা দেশে মিলবে হামের টিকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের জিন্দাপার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে।


হাম ও উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের এবং হাম সন্দেহে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৩ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১২ হাজার ৩৯৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৮১ জনের।


দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়কালে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।


রামেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন রোগী। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪৫ জন রোগী। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৬১৩ জন রোগী রামেকে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫১ জন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ২৪ ঘণ্টায় হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় আরও ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে।


একমাসে হাম ও হাম সন্দেহে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১ মাসে সারাদেশে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩২ ও হাম সন্দেহে ১৬৬ শিশুর। একই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩৯৮ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। এ সময় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩০ জন। এর পরই আছে রাজশাহী বিভাগে। এখানে হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৬ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে। এ বিভাগে ৬৪৪ জন শিশু হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে এবং এখানে গত এক মাসে কোন মৃত্যুর ঘটনা।


২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জনের।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের।

এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৮ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫২ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ৯ হাজার ৩০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের।


হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগটিতে মারা গেছে চারজন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৬১৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৮৬ জন, যা গতকাল ছিল ১২৩ জনে।

এদিকে, এ সময় হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৮৬ জন মারা গেছেন।


হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হামেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হাম সন্দেহে।

রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ জন।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।

এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র এই বিভাগেই ৭০৩ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো।

একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।


যথাযোগ্য মর্যাদায় বিএমইউতে বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লক থেকে একটি জনসচেতনামূলক র‌্যালি বের হয়। এটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, পারকিনসন্স দিবস আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই রোগের বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধি আবশ্যক। আক্রান্ত রোগীদের সচেতন করতে পারলে এবং তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে পারকিনসন্স রোগের বিষয়ে প্রিভিলেন্স, এই রোগে স্বাস্থ্যখাতে কী ধরণের প্রভাব পড়ছে এবং এই বিষয়ে এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভে করা প্রয়োজন। যাতে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো রোগ বা বৈশিষ্টে আক্রান্ত মানুষের অনুপাত জানা যায় এবং তাদের রোগ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও ঝুঁকির কারণগুলো খুঁজে বের করা যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

র‌্যালিতে বিএমইউর নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. শেখ মাহাবুব আলম, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিছ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী জান্নাত আরা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের একান্ত সচিব লুৎফর রহমান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বয়স বাড়লে অনেকেরই হাঁটাচলার গতি কমে যায় এবং হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করতে কষ্ট হয়। কিন্তু এর সঙ্গে যদি হাত-পা কাঁপা ও মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তা হলে তা পারকিনসন্স রোগের লক্ষণ। পারকিনসন্‌ সাধারণত বৃদ্ধ বয়সের রোগ; তবে কিছু ক্ষেত্রে অল্প বয়সেও পারকিনসন্স দেখা দিতে পারে।


হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের হাম পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও নিশ্চিত করেন সচিব।

গবেষক এবং পরামর্শক টিমের পরামর্শ অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বছর বয়সি বাচ্চাদের সবাইকে হামের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

দেশজুড়ে হঠাৎ বেড়ে গেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মারা গেছে ২৩ শিশু। হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৪০৯। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯১০। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬০৯ শিশু।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে হামের টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের সব শিশুদের হামের টিকা দিতে পারবে। তবে যাদের জ্বর কিংবা হাসপাতালে ভর্তি, তাদের অসুস্থ অবস্থায় টিকা নেওয়া যাবে না।


banner close