আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৫১
চাকরিচ্যুত কর্মীরা এখন যাবেন কই
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চাকরিচ্যুত কর্মীরা এখন যাবেন কই

একে তো চাকরিচ্যুতি, তার ওপর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীরা। প্রতীকী ছবি। ছবি: আনস্প্ল্যাশ

গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজনসহ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরিচ্যুত ভারতীয় কর্মীরা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কাজ না পেলে ভিসার শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে তাদের। এদিকে অর্থনৈতিক মন্দার এই দিনে নতুন কর্মসংস্থানের পথও ছোট হয়ে এসেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন বলছে, গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী চাকরি হারিয়েছেন। অ্যালফাবেট (গুগল), মাইক্রোসফট, মেটা (ফেসবুক), আমাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিমাণও ছিল বড়।

চাকরিচ্যুত এই কর্মীদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভারতীয় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। যাদের বড় অংশ ‘এইচ-১বি’ এবং ‘এল১’ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

এইচ-১বি অভিবাসী ভিসা নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি মেলে এই ভিসায়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসায় ভারত ও চীন থেকে প্রচুর কর্মী নিয়োগ দিয়ে এসেছে এতদিন।

অন্যদিকে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কিংবা বিশেষ কাজে দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান বদলের সময় এল-১এ এবং এল-১বি ভিসার মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পান।

এই ভিসার ফেরে পড়েছেন চাকরিচ্যুত ভারতীয় কর্মীরা। নতুন কাজও পাচ্ছেন না, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে। গীতা ছদ্মনামের এক চাকরিচ্যুত আমাজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে এনডিটিভি। মাত্র তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। চলতি সপ্তাহে জানলেন, ২০ মার্চ থেকে তাকে আর কাজে যেতে হবে না।

এইচ-১বি ভিসায় চাকরি হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে হয়। নয়তো পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে ভারতে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না তাদের। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান যেখানে একাধারে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিচ্ছে, তাতে এত কম সময়ে নতুন কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন তারা।

এই কর্মীদের দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বেশ কয়েকটি সংগঠন চেষ্টা করে যাচ্ছে, তবে খুব একটা সুফল মিলছে না।

সুদক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য এইচ-১বি ভিসায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক উদ্যোক্তা অজয় জেইন ভুটোরিয়া। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘ওই কর্মীদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। সম্পত্তি বিক্রি করতে হতে পারে, সন্তানের শিক্ষা ব্যহত হতে পারে। এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ বিবেচনা করা দরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর, চাকরিচ্যুতির সময় কয়েক মাস পিছিয়ে দিতে পারে।’