আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩৯
যে হোটেলে একসঙ্গে দুই দেশে রাত্রিবাস করা যায়
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যে হোটেলে একসঙ্গে দুই দেশে রাত্রিবাস করা যায়

হোটেলের বেশ কিছু কক্ষের মাঝ বরাবর চলে গেছে আন্তর্জাতিক সীমানা। ছবি: হোটেল আরবেজ

‘হোটেলের ম্যানেজার এসে বললেন, আপনার রুম নম্বর নয়। আমার খুশি আর দেখে কে!’ লিখেছেন সিএনএনের ভ্রমণবিষয়ক লেখক মিকেল রস।

হোটেল আরবেজের যে কক্ষে মিকেল ছিলেন, সেটিকে অনায়াসে বিশেষ বলা চলে। মাঝ বরাবর চলে গেছে আন্তর্জাতিক সীমানা। অর্থাৎ একসঙ্গে দুই দেশে রাত্রিযাপন করেন তিনি।

অচেনা কোথাও গিয়ে কোনো ভবন চিনে নেয়ার প্রধান উপায় হলো, ঠিকানা খুঁজে চলে যাওয়া। তবে হোটেল আরবেজের একটি নয়, বরং দুটি ঠিকানা।

ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের সীমানার ঠিক ওপরে হওয়ায় এর অবস্থান দুটি ভিন্ন দেশে। নির্দিষ্ট করে বললে, ফ্রান্সের লা কিউর এবং সুইজারল্যান্ডের কিউরে।

কিছুটা রাস্টিক ধাঁচে গড়া ভবনে হোটেলটি পরিবার নিয়ন্ত্রিত। সেই উনবিংশ শতক থেকে হোটেল আরবেজের সুদীর্ঘ ইতিহাস।

হোটেল আরবেজের সামনের অংশ। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

হোটেলের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, ১৮৬২ সালে ভ্যালে অব দ্য দাপেস অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সীমানায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে রাজি হয় সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সরকার। সে বছর ৮ ডিসেম্বর দাপেস চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সীমানা পরিবর্তনে বিদ্যমান কোনো ভবনের ক্ষতি করা হবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের আশায় মসিঁয়ে পনথুস নামের এক ব্যবসায়ী সীমানার ওপরে একটি ভবন দাঁড় করান।

১৮৬৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দাপেস চুক্তি কার্যকর হয়। পনথুসের তিন তলা ভবনের নির্মাণকাজ তার আগেই শেষ হয়ে যায় বলে ভবনটি টিকে যায়।

ফরাসি অংশে একটি পানশালা এবং সুইস অংশে একটি দোকান চালু করেন পনথুস। ১৯২১ সাল পর্যন্ত দোকানটি ছিল। পনথুসের সন্তান জ্যুল-জঁ আরবেজ সে সময় ভবনটিকে ফরাসি-সুইস হোটেলে রূপ দেন, যা এখনও আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সৈনিকদের ভয়ে পালিয়ে আসাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয় হোটেলের তৃতীয় তলা। সিঁড়ির কিছু অংশ সুইস অংশে থাকায় তৃতীয় তলায় যাওয়ার সুযোগ ছিল না সৈনিকদের।

হোটেল আরবেজে দুই জন থাকার মতো কক্ষের এক রাতের ভাড়া শুরু হয়েছে ৮৯ ইউরো থেকে। চার সদস্যের এক পরিবার থাকতে চাইলে খরচ পড়বে ১২৯ ইউরো। ভবনের প্রায় সবগুলো কক্ষের মাঝ দিয়ে সীমানা চলে গেছে। নিচে সরু একটি উঠান আছে। ভবনের ফরাসি ও সুইস অংশের মাঝ বরাবর চলে গেছে সেটি।

হোটেলের খাবারঘর। ছবি: হোটেল আরবেজ

১৮৬৩ সালের একটি প্রস্তরফলক হোটেলের সুদীর্ঘ ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়। এক পাশে দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্যের (ফ্রান্স তখন তৃতীয় নেপোলিয়নের শাসনাধীন) প্রতীক ঈগল এবং অপর পাশে শ্রেফ ‘ভদ’ লেখা।

কনদে নাস্ত ট্রাভেলার সাময়িকী হোটেলটি সম্পর্কে বলেছে, খাবারঘরটি ফরাসি-সুইস সীমানায় পড়েছে। ঘরের দুই পাশে দুই দেশের পতাকা টাঙানো আছে। কিছু কিছু ঘরে অতিথিরা ফরাসি অংশে মাথা এবং দেহের বাকি অংশ সুইস অংশে রেখে ঘুমাতে যান।

মজার ব্যাপার হলো, হোটেলের হানিমুন স্যুটের বিছানার মাঝ বরাবর চলে গেছে সীমানা। আবার একটি কক্ষের পুরোটা সুইস অংশে পড়লেও বাথরুম পড়েছে ফরাসি অংশে।