আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:১০
মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে মামলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে মামলা

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জার্মানিতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন ফরটিফাই রাইটস গত মঙ্গলবার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আল-জাজিরা জানায়, ওই মামলায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের সময় বিরোধীদের ওপর এবং রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের তদন্তসাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরটিফাই রাইটস জানায়, মিয়ানমারের ১৬ ব্যক্তি ওই মামলা করেছেন। গত সপ্তাহে ফেডারেল প্রসিকিউটরের জার্মান কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ফরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু স্মিথ বলেন, জার্মানিতে অভিযোগ দায়ের কারণ হলো, এখানে সর্বজনীন বিচারব্যবস্থার আইন প্রচলতি। দেশটিতে গুরুতর অপরাধের বিচারের অনুমতি দেয়া হয়, সেই অপরাধ যেখানেই ঘটুক না কেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে দায়মুক্তি প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য জার্মানি একটি অনন্য অবস্থানে রয়েছে। এই অভিযোগ দায়ের এটাই প্রমাণ করে যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, গুম, নিপীড়ন, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, যা জার্মান আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত।

তিনি আরও বলেন, এই বিশ্বের ন্যায়বিচার থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সদস্যদের দায়মুক্তি পাওয়া উচিত নয় এবং তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতা দখলের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে জান্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ফরটিফাই রাইটস জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নাকচ করে দেয়। এই কারণেই জার্মানির দ্বারস্থ হয়ে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংগঠনটির দাবি, অভিযোগকারী ১৬ ব্যক্তির মধ্যে অন্তত অর্ধেকই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর। তারা ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। মামলা করা বাকিরা ২০২১ এবং ২০২২ সালে মিয়ানমারের বিভিন্ন রাজ্য এবং অঞ্চলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নৃশংসতার শিকার বলে জানিয়েছে ফরটিফাই রাইটস। তাদের মধ্যে রয়েছে আরাকানি, বর্মণ, চীন, কারেন, কারেনি ও মোন জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।

ফরটিফাই রাইটসের তদন্ত সহযোগী পাভানি নাগারাজা ভাট বলেন, ‘আমরা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে সব জাতিগত গোষ্ঠীর ওপর তাদের করা অপরাধের জন্য জবাবদিহি চেয়েছি।’ সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল, জাতিগোষ্ঠী ও পটভূমি থেকে আসার পরও সব অভিযোগকারীই অভ্যুত্থানের পর মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তারা বাড়িঘর, পরিবারের সদস্য, জীবিকা, স্বাধীনতা হারিয়েছেন। এমনকি অনেকে দেশের বাইরে থাকার পরও এখনো বাস করছেন আতঙ্কের সঙ্গে। যেসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তারা বেঁচে গেছেন তা এক কথায় ভয়াবহ। এই অভিযোগে অংশ নিয়ে অভিযোগকারীরা বলতে চেয়েছেন, তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

অভিযোগকারীদের একজন নিকি ডায়মন্ড। তিনি বর্তমানে জার্মানিতে বাস করছেন। অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও নেতারা যেসব যুদ্ধাপরাধ করেছেন জার্মানি সেসবের তদন্ত করে বিচার চাইবে বলে আমরা আস্থা রাখছি।