আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০২৩ ২০:০১
ইডিএফের পেমেন্ট বিলম্বে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দণ্ড সুদ দিতে হবে

ইডিএফের পেমেন্ট বিলম্বে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দণ্ড সুদ দিতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে রপ্তানিকারকদের জন্য নেয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে বিলম্ব হলে মেয়াদোত্তীর্ণ অংশের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দণ্ড সুদ দিতে হবে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার দিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, রপ্তানিকারকদের জন্য ইডিএফ ফান্ড থেকে নেয়া ঋণের অর্থ সময়মতো পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ রকম বিলম্ব করলে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দণ্ড সুদ বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হবে। ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যাংকগুলোর অথোরাইজড শাখাগুলো ঋণের অর্থসহ সুদ ও দণ্ড সুদ বাংলাদেশ ব্যাংককে দেবে।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক সার্কুলারে বলা হয়, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হবে রপ্তানিকারকদের। এতদিন ইডিএফ থেকে ব্যাংকগুলো ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে রপ্তানিকারকদের কাছে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করত।

২০২০ সালের ৭ এপ্রিল করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রথমবারের মতো ইডিএফ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে সুদের হার ছয় মাসের লন্ডন ইন্টার-ব্যাংক অফারড রেটের (লাইবর) সঙ্গে দেড় শতাংশ যুক্ত করে নির্ধারণ করা হতো। সে ক্ষেত্রে লাইবর রেট প্রতিদিনই ওঠানামা করায় সুদের হার ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো পড়ে যেত।

করোনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইডিএফ থেকে ঋণ নিলে লাইবর রেটের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না। সুদের হার হবে সরাসরি ২ শতাংশ। রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও প্রসারের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে তহবিলটির যাত্রা শুরু হয়। ২০০৫ সালে তহবিলটি ১০ কোটিতে উন্নীত করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে আকার বাড়িয়ে এখন ৭০০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। এই তহবিল থেকে রপ্তানিকারকরা ঋণ নিয়ে ২৭০ দিনের মধ্যে ফেরত দেন। ইডিএফ তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ সুবিধা নিয়েছেন বিজিএমইএ সদস্যরা।