আপডেট : ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:২০
ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও নতুন বসতি স্থাপন বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরছেন কট্টরপন্থি রাজনীতিক বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার আগের ১২ বছরের শাসনামলে দফায় দফায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ইহুদী বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলে এই দখলদারিত্ব আরও বেপরোয়া রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বা নতুন বসতি স্থাপনচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ‘আশার আলো’ জ্বালিয়ে রাখতে মার্কিন প্রশাসন ‘নিরলস’ কাজ করে যাবে।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইসরায়েলি শান্তিকামীদের’ সংগঠন ‘জে স্ট্রিট’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে ব্লিংকেন ওয়াশিংটনের এ অবস্থান জানান। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর দল। প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে তিনি জোট বেঁধেছেন উগ্রপন্থি ও দখলদারিত্বের পক্ষে থাকা কিছু দলের সঙ্গে।

ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, এক যুগের শাসনামলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে রেকর্ড ইহুদি বসতি স্থাপন করা নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরলে দখলদারিত্ব আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে, যেটা পশ্চিম তীরের পাশাপাশি পূর্ব জেরুসালেমেও দেখা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দখলদারিত্ব বা জোরপূর্বক বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে দেখা হয়। দ্বি-রাষ্ট্রনীতির আলোকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বড় বাধা মনে করা হয় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমকে।

ব্লিংকেন বলেন, ‘কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং সরকার কী নীতি মেনে চলে সেটির মাধ্যমে আমরা তাদের মানদণ্ড পরিমাপ করবো।’

ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘(ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়) দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নীতিকে ক্ষুণ্ন করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে করে যাবো। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে) বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীর দখলের দিকে অগ্রসর হওয়া, পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থায় ব্যাঘাত, ধ্বংস ও উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং সহিংসতায় উসকানি।’