আপডেট : ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৪১
রুশ তেলের মূল্যসীমা কার্যকর
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রুশ তেলের মূল্যসীমা কার্যকর

রাশিয়ার কোজমিনো বন্দরের ঘাটে একটি তেলের ট্যাঙ্কার। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর চাপানো প্রাইস ক্যাপ বা বেঁধে দেয়া দাম গতকাল সোমবার থেকে কার্যকর করেছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো। রাশিয়া যাতে তেল বিক্রির পয়সায় ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অস্ত্র, রসদ না কিনতে পারে সে লক্ষ্যে জি-৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া দেশটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়। তারা রুশ অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল সর্বোচ্চ ৬০ মার্কিন ডলার বেঁধে দেয়।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার তেলের দাম বেঁধে দেয়ায় আগামী মাসগুলোয় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.২৫ ডলার হয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন আক্রমণ করার পর তেলের দাম যতটা বেড়েছিল তার চেয়ে বর্তমানে দাম এখনো কম রয়েছে।

জি-৭ হচ্ছে জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি জোট। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জি-৭ এ প্রতিনিধিত্ব করে। এই সাতটি দেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল স্বীকৃত বিশ্বের সাতটি মূল উন্নত অর্থনীতির দেশ। অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ। ডয়চে ভেলে জানায়, জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে নথিভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোকে এবার থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ মেনে চলতে হবে। বিমা কোম্পানি ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে। রাশিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে তেল সরবরাহের সময়ে মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের কম স্থির করা হলে তবেই এসব প্রতিষ্ঠান এমন পরিবহন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বিশ্বের জলপথে জি-৭ ও ইইউ দেশগুলোর ট্যাঙ্কারের আধিপত্য থাকায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অন্তত কিছুটা হলেও সফল হবে বলে ‘প্রাইস ক্যাপ’-এর প্রবক্তারা আশা করছেন। তবে শাস্তি এড়াতে রাশিয়া অন্য দেশের জাহাজ ব্যবহার যতটা সম্ভব ব্যবহার করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা তেলের বেঁধে দেয়া দাম মানবে না। প্রয়োজনে তারা জি-৭ বা ইইউর কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ লেওনিদ স্লাৎস্কি বলেছেন, এই উদ্যোগ নিয়ে ইইউ নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

নরওয়ের এনার্জি কনসালট্যান্সি রিস্টাড এনার্জির সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট জর্জ লিওন বিবিসি’র টুডে প্রোগ্রামের কাছে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া খুব স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা প্রাইস ক্যাপে স্বাক্ষর করা কারও কাছে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে না। সুতরাং তেলের বাজাবে সম্ভবত কিছু ঝামেলা হতে পারে। আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করবে।

অন্যদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস বলেছে, তারা তাদের উৎপাদন কমানোর নীতি অব্যাহত রাখবে। ওপেক প্লাস হচ্ছে ২৩টি তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট যার মধ্যে রাশিয়াও আছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, চীনে কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলেও তেলের দাম দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, বিধিনিষেধ শিথিলের কারণে সেদেশে তেলের চাহিদা বাড়বে।

ইউক্রেন যুদ্ধের একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অপরিশোধিত তেলের চড়া মূল্য পেট্রলের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয়কে বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ৪১ বছরের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়ে যায়।