আপডেট : ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২২:৩৩
পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
প্রতিনিধি, কুমিল্লা

পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার তিতাসে মাছের প্রজেক্টের মালিকানা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে কুপিয়ে জহিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জহিরুল ইসলাম ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ঢাকার ইসলামপুরে কাপড় ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শনির আখড়ায় বসবাস করতেন। তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একটি মাছের প্রজেক্ট নিয়ে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সেখানে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাবসহ অন্যরা মাছ ধরতে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ১০জন আহত হন। পুলিশ গিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঢিলের আঘাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানান, আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহির পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পুলিশের সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাব ও অন্যরা। জহিরকে সোহরাবদের বাড়িতে ঢুকিয়ে গেট লাগিয়ে কুপিয়ে তার হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে জহিরের মৃত্যু হয়। এদিকে জহিরের মৃত্যুর খবরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেন তার স্বজনরা।

নিহত জহিরের ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের কেনা জায়গায় জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেলে জহির বাধা দেয়। এতে সাইফুল মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাম দাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। এ সময় আরও ছয়-সাতজন আহত হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচার চাই।

সাইফুল ইসলাম মেম্বার বলেন, আমার পুকুরের মাছ জোর করে ধরে নিতে এলে আমার লোকজন বাধা দেয়। তারা বাধা আমান্য করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, মাছের প্রজেক্ট নিয়ে পূর্ববিরোধ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ মাছ ধরতে গেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।