আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:১৪
সাবলা গ্রামে কুমড়া বড়িই আয়ের উৎস
আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, বগুড়া

সাবলা গ্রামে কুমড়া বড়িই আয়ের উৎস

কুমড়া বড়ি তৈরি করে রোদে দিচ্ছেন এক কারিগর। সম্প্রতি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাবলা গ্রামে। ছবি: দৈনিক বাংলা

ব্রজেন চন্দ্র মোহন্তের বয়স ৬৫। প্রতিবছর শীত এলেই তৈরি করেন কুমড়া বড়ি। এর আগে তৈরি করেছেন তার বাবা-দাদা। ব্রজেনদের পরিবারে কুমড়া বড়ি তৈরি শুধু ঐতিহ্যই নয়, জীবিকার অন্যতম উৎস।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সাবলা গ্রামের বাসিন্দা ব্রজেন চন্দ্র। এ গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দার পূর্বসূরিদের পেশা ছিল কুমড়া বড়ি তৈরি। বর্তমানে তা এ গ্রামের মানুষের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কারিগরদের দাবি, সাবলা গ্রামে প্রতি মাসে অন্তত ৩৫ লাখ টাকার কুমড়া বড়ি বিক্রি হয়।

কুমড়া বড়ি উত্তরাঞ্চলের মানুষের খাবারের একটি অংশ। মাষকলাই ও চাল কুমড়া দিয়ে তৈরি হয় কুমড়া বড়ি। মূলত শীতকালেই এটি তৈরি ও খাওয়ার চল বেশি।

সাবলা গ্রামের কুমড়া বড়ি তৈরি নিয়ে ব্রজেন চন্দ্র বলেন, এ গ্রামে প্রায় ৬৫ ঘর কুমড়া বড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। প্রত্যেক বাড়ি প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কেজি বড়ি তৈরি করে। আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় বড়ি তৈরি। চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এই বড়ি তৈরি করে বিক্রি করা হয়।

ব্রজেন চন্দ্র আরও বলেন, যখন ৫ কেজি মাষকলাইয়ের ১৫ টাকা ছিল, তখন থেকে তিনি বড়ি তৈরি করছেন। বাবার হাত ধরে এ পেশায় এসেছেন। তার সন্তানরাও একসময় কুমড়া বড়ি তৈরির হাল ধরবে।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে নাগর নদের তীরে সাবলা গ্রাম। গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী। শীতকালে গ্রামের প্রবেশমুখ থেকেই চোখে পড়ে চাটাইয়ের ওপর সারি করে বিছানো সাদা মাষকলাইয়ের তৈরি কুমড়া বড়ি। গ্রামের ভেতরে গৃহিণীরা বাড়ির ছাদে একত্রে দল বেঁধে বা কেউ কেউ মাটিতে মাদুর পেতে বড়ি তৈরির কাজ করছেন। এ কাজে নারীদের হাতের ছোঁয়াই বেশি। তবে বাড়ির পুরুষদের ভূমিকা কম নয়। তারা জাতায় কালাই পেষেন। বড়িও বানান। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছোটরাও শিখে নেয় বড়ি তৈরি।

অন্য সব ব্যবসার মতো এতেও দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে বলে জানান স্থানীয় রামকৃষ্ণ মোহন্ত। গত মৌসুমে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকার বড়ি বিক্রি করেছিলেন।

রামকৃষ্ণ বলেন, গত বছর ৫০ কেজির মাষকলাইয়ের বস্তার দাম ছিল ৩ হাজার ৮০০ টাকা। এ বছর কিনেছেন ৫ হাজার ৬০০ টাকায়। এ কারণে এবার কুমড়া বড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারিগররা জানান, প্রত্যেক ঘরে প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কেজি কুমড়া বড়ি তৈরি ও বিক্রি হয়। তারা দুই ধরনের কুমড়া বড়ি তৈরি করেন। একটি সাধারণ মানের। আর ভালোটি শুধু মাষকলাই দিয়ে তৈরি। এর দামও বেশি।

সাধারণ বড়ি পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি ১৫০ এবং ভালোটি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। খুচরা হিসাবে ভালো মানেরটি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

কাহালুর বিবির পুকুর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন পাঁচ বছর ধরে কুমড়া বড়ির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে সাবলা গ্রাম থেকে ৩ মণ বড়ি কেনেন। এখানকার বড়ির মানও ভালো।