আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪৮
৫ হাজার টাকার ঋণ সুদ-আসলে ৫ লাখ, কৃষকের আত্মহত্যা
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

৫ হাজার টাকার ঋণ সুদ-আসলে ৫ লাখ, কৃষকের আত্মহত্যা

আত্মহত্যা। প্রতীকী ছবি

কৃষি জমি আবাদের জন্য সুদে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেয়ার তিন বছর পর কৃষকের কাছে সুদ-আসলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন ওই সুদ কারবারি। টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ওই সুদ কারবারি কৃষকের জমি দখল করে নেন। এ পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে পড়ে ওই কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তার পরিবারের। এ ঘটনায় তারা মামলা দায়ের করবেন।

এ ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আম গাছ থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই কৃষক বাবুল মল্লিকের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বাবুলের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত সুদ কারবারি লিটন শিকদার (৩৫) ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কৃষক বাবুল মল্লিক উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের চিত্তর মোড় এলাকার রসরাজ মল্লিকের ছেলে। স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ছিল তার সংসার। অন্যদিকে লিটন শিকদার উপজেলার একই ইউনিয়নের হাকাই শিকদারের ছেলে।

বাবুল মল্লিকের স্ত্রী বুলবুলি মল্লিক জানান, বছর তিনেক আগে লিটন শিকদারের কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে সই করে পাঁচ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন বাবুল মল্লিক। পেশায় কৃষক বাবুল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই টাকা আর শোধ করতে পারেননি। তবে লিটন ওই টাকার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। টাকা না পেয়ে সম্প্রতি তিনি খালি স্ট্যাম্পে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা বসিয়ে সেই টাকা দাবি করেন। টাকা না পেলে গত বুধবার বাবুল মল্লিকের দুই বিঘা কৃষিজমি দখল করে নেন লিটন। এই চাপ নিতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন কৃষক বাবুল।

বুলবুলি মল্লিক বলেন, ‘অভাবে পড়ে লিটন শিকদারের কাছ থেকে সুদে টাকা নিছিল আমার স্বামী। আমরা গরিব। দিন চলে না। ওই পাঁচ হাজার টাকা আর শোধ করতে পারি নাই। এই কারণে সে (লিটন) পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা বসায়ে আমাদের জমি দখল করেছে। এটা দেখে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা লিটন শিকদারের বিচার চাই।’

নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, ‘কৃষকের আত্মহত্যার বিষয়টি সকালে জানতে পেরেছি। তবে কী কারণে তিনি মারা গেছেন, সেটি সেভাবে জানতে পারিনি। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে বলেছি।’

স্থানীয়রা জানান, বাবুল মল্লিকের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানাজানি হতেই অভিযুক্ত লিটন শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়েছেন। শুক্রবার দুপুরে লিটন শিকদারের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা মামলা করবে। আমরা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।’