২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে এখন ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপে মোট ১০টি দল সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে, যার মধ্যে আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে আগে থেকেই নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আইসিসি র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যেহেতু আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে রয়েছে, তাই র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৯-এ থাকা দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। এই সমীকরণে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল লড়াইটা চলছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। সর্বশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী, ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ৯ নম্বরে এবং ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ঠিক পরেই ১০ নম্বরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই সেপ্টেম্বরের আগে নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে টাইগাররা।
যদি সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে টেস্ট খেলুড়ে একাধিক দলকে কঠিন বাছাইপর্বের বাধা পার হতে হবে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। বিগত আসরগুলোর মতোই এবারের বাছাইপর্বে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী এই দলগুলোকে শুরুতে দুটি ভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হবে। গ্রুপ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রতিটি গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিনটি করে দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘সুপার সিক্স’ রাউন্ড। এই বাছাইপর্বের শিরোপাধারী বা চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি টুর্নামেন্টের ১১তম দল হিসেবে মূল বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেবে। তবে বাছাইপর্ব খেলা মানেই যে দলগুলো মূল বিশ্বকাপে বা নতুন নিয়মের ‘সুপার সিরিজে’ খেলার সুযোগ পাবে, বিষয়টি তেমন নয়; এর জন্য দলগুলোকে নির্দিষ্ট ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে।
আইসিসি এবার বিশ্বকাপের কাঠামোতে বেশ কিছু অভিনব পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘সুপার সিরিজ’। বাছাইপর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপে গেলেও, রানার্সআপ অর্থাৎ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দলগুলোকে নিয়ে টুর্নামেন্টের ঠিক আগেই ৩ দলের একটি বিশেষ ‘সুপার সিরিজ’ আয়োজন করবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই তিন দলের মধ্যকার লড়াইটি হবে বিশ্বকাপের সর্বশেষ বা ১২তম দল হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা। সুপার সিরিজের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সেরা দলটিকে নিয়ে মোট ১২ দলের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ আসর। আইসিসির এই নতুন কাঠামোর ফলে বাছাইপর্বে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোও বিশ্বকাপে যাওয়ার আরও একটি রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০২৭ বিশ্বকাপে ১৪টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে খেলানোর কথা থাকলেও, সম্প্রতি আইসিসি এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাছাইপর্ব ও সুপার সিরিজ পেরিয়ে আসা দলগুলোকে নিয়ে মোট ১২ দলের মূল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। মূল আসরে এই ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল এবং বাকি দলগুলোর মধ্য থেকে সামগ্রিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা পরবর্তী সেরা একটি দল—সব মিলিয়ে মোট ৭টি দল জায়গা করে নেবে ‘সুপার সেভেন’ রাউন্ডে। এরপর সুপার সেভেনের দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হবে এবং এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল মর্যাদাপূর্ণ সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আইসিসির এই নতুন ও পরিবর্তিত ফরম্যাট টুর্নামেন্টকে যেমন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে, তেমনি দর্শকদের জন্যও উপহার দেবে বাড়তি উন্মাদনা।
যোগাযোগঃ ১৯৮/সি, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮
মোবাইলঃ +8801711908757, ফোনঃ +8809602321111, (বিজ্ঞাপনঃ +8801896105707, Email: [email protected])
©দৈনিক বাংলা
