আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৯
ফাইনালের লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
ক্রীড়া ডেস্ক

ফাইনালের লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। জিনেদিন জিদানের সেই ঢুস আর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক বিষাদময় স্মৃতি। ২০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই একই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড যেন আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিল, যা দলের জন্য এক ‘লজ্জাজনক’ পরিণতি ডেকে এনেছে।

ফাইনালে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই ৯৩ মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর আগে ৮২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। এনজোর এই অবিবেচনাপ্রসূত ফাউলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় স্পেন। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে স্প্যানিশ আক্রমণের ঢেউ সামলাতে হিমশিম খায় আলবিসেলেস্তেরা, যার ফলশ্রুতিতে ১০৬ মিনিটে গোল হজম করে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মেসিবাহিনীকে।

লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে আর্জেন্টিনার আধিপত্য
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ফাইনালের মঞ্চে মোট ৬ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ছয়জনের মধ্যে তিনজনই আর্জেন্টিনার!

১. পেদ্রো মোনজোন (১৯৯০): জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড দেখে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
২. গুস্তাভো দেজোত্তি (১৯৯০): একই ম্যাচে মোনজোনের ২২ মিনিট পর লাল কার্ড দেখেন তিনি। নয় জনের আর্জেন্টিনা সেবার ১-০ গোলে হেরেছিল।
৩. এনজো ফার্নান্দেজ (২০২৬): ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখার লজ্জায় নাম লেখালেন তিনি।

অন্যান্য যারা লাল কার্ড দেখেছিলেন
১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জিতেছিল ফ্রান্স, কিন্তু সেই ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার মার্সেল দেশাইলি। ২০০৬ সালে ইতালির বিপক্ষে জিদানের সেই ঐতিহাসিক লাল কার্ড তো কিংবদন্তি হয়ে আছে। ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা। এরপর টানা তিনটি ফাইনাল লাল কার্ডহীন থাকলেও এনজোর সৌজন্যে ২০২৬-এ আবার সেই প্রথা ফিরে এল।

একনজরে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড প্রাপ্তরা:

  • পেদ্রো মোনজোন (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
  • গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
  • মার্সেল দেশাইলি (ফ্রান্স, ১৯৯৮)
  • জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ২০০৬)
  • জন হেইতিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস, ২০১০)
  • এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা, ২০২৬)