বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ইনটেল চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ওমর ইশরাক

ইনটেলের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ওমর ইশরাক। ছবি: ইনটেল
আপডেটেড
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন ওমর ইশরাক। তার জায়গায় বোর্ড পরিচালক ফ্র্যাংক ইয়ারিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিষয়টি জানিয়েছে ইনটেল।

চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকবেন ইশরাক। তার বিদায় সম্পর্কে ইনটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যাট গেলসিঙ্গার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাকে প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে ফিরিয়ে আনায় বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে কাজে গতিশীলতা আনতে কার্যকরী সিস্টেম তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।’

ইনটেলের নতুন চেয়ারম্যান ফ্র্যাংক ইয়ারি। ছবি: ইনটেল

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনতে ২০২১ সালে ভিএমওয়্যার থেকে ইনটেলের সিইও পদে ফেরেন গেলসিঙ্গার। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসায় পুনর্গঠন চলছিল তখন ইনটেলে। ফলস্বরূপ, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের চিপ কারখানা তৈরি করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন এই চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশি-আমেরিকান ওমর ইশরাকের লিংকডইন প্রোফাইলে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইনটেলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে প্রথম বাংলাদেশি তিনি। ইনটেলের আগে চিকিৎসাবিষয়ক ডিভাইস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের সিইও হিসেবে নয় বছর কাজ করেন।


কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির লেখা শনাক্তে নতুন টুল তৈরি করেছে ওপেন এআই। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি লেখা শনাক্তে নতুন সফটওয়্যার টুল উন্মুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। গত নভেম্বরে এই প্রতিষ্ঠানটিই চ্যাটজিপিটি তৈরি করে সাড়া ফেলে দেয়। চ্যাটবটটি এআইয়ের সাহায্যে লেখা তৈরি করে।
চ্যাটজিপিটির অত্যাচারে অতিষ্ঠরা সংখ্যায় কম না। এআইনির্ভর এই টুল ব্যবহার করে আইন পরীক্ষায় পাস থেকে শুরু করে কেউ কেউ কবিতা-প্রবন্ধ পর্যন্ত লিখছেন। আবার প্রোগ্রামিং ভাষা না জেনেই নির্ভুল প্রোগ্রামিং করছেন অনেকে, মনগড়া গবেষণাপত্র লিখতেও ওস্তাদ চ্যাটজিপিটি। এতে বিশেষ করে চটেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চ্যাটজিপিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকীগুলো চ্যাটবটটির বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কোনো লেখা শনাক্তে পাল্টা টুল তৈরি করল চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই।
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন টুলও এআই প্রযুক্তিনির্ভর। প্রশিক্ষণের জন্য একই বিষয়ে মানুষের এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেখা ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করেছে ওপেনএআই। এতে অসৎ উদ্দেশ্যে চ্যাটজিপিটি বা এমন প্রোগ্রামের তৈরি লেখা শনাক্ত করা সহজ হয়ে যাবে।
নতুন টুল এখনও নিখুঁত নয় বলে স্বীকার করেছে ওপেনএআই। এক হাজার শব্দের কম কোনো নিবন্ধ শনাক্ত করতে পারে না এটি। তা ছাড়া, এআইয়ের লেখা ফের সম্পাদনা করেও নতুন প্রোগ্রামটিকে ফাঁকি দেয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। মূলত ব্যবহারকারীদের মতামতের জন্য পরীক্ষামূলক সংস্করণটি উন্মুক্ত করা হয়।


বাংলাদেশের এমআইটি হবে শিবচরে: পলক

মঙ্গলবার মাদারীপুরের শিবচরে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০০
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘২০৪১ সালকে স্মরণীয় করে রাখতে মাদারীপুরের শিবচরে ২০ একর জায়গাজুড়ে ৪১ তলাবিশিষ্ট একটি প্রযুক্তি টাওয়ার নির্মাণ করা হবে, যা হবে বাংলাদেশের এমআইটি। এখান থেকে তৈরি হবে বিশ্ববিজয়ী প্রযুক্তিবিদ।’

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুরের শিবচরে ‘শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্‌স অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) একটি বেসরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এমআইটিকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশকে মজবুত করতে ২০৪১ সালকে সামনে রেখে একটি মিশন-ভিশন তৈরি করেছেন। যেখানে থাকছে জ্ঞানভিত্তিক বুদ্ধিদীপ্ত ও সাশ্রয়ী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। দিন দিন প্রযুক্তিবিদ ও প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী এ সময় দেশের আইসিটি খাতের উন্নতির আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিকেএসপি যেমন এ দেশে সাকিব আল হাসান তৈরি করেছে, তেমনি এক দিন বিশ্ব আইটি সেক্টরে বাংলাদেশ রাজত্ব করবে। যে কারণে মাদারীপুরের শিবচরে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির নির্মাণ শুরু হলো। এখান থেকে শত শত প্রযুক্তিবিদ তৈরি হবে, যা পুরো দেশসহ বিদেশের প্রযুক্তিকেও নেতৃত্ব দেবে।’

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, নাহিদ ইজাহার খান, খাদিজাতুল আনোয়ার ছনি, জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম খান।

বিষয়:

নিয়োগ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় জানলেন, তারই চাকরি নেই

ড্যান ল্যানিগান রায়ান। ছবি: ফেসবুক থেকে
আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুগলে তার কাজ ছিল রিক্রুটিং বা নিয়োগ দেয়া। গত শুক্রবার সে কাজটাই করছিলেন, এক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। খবরটা তখনই এল। প্রার্থী নিয়োগ দিতে গিয়ে দেখলেন নিজের চাকরিটাই নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেয়া এক পোস্টে ড্যান ল্যানিগান রায়ান বলেন সাক্ষাৎকারের মাঝে হঠাৎ কল কেটে যায়। এরপর আর গুগলের সিস্টেমে লগইন করতে পারেননি তিনি।

পোস্টে ড্যান লেখেন, ‘আরও হাজারও কর্মীর সঙ্গে গত শুক্রবার আমার চাকরিটাও চলে যায়। এমন আকস্মিকভাবে শেষ হবে, আমি ভাবিনি। কলের মাঝেই সিস্টেম থেকে আমাকে ব্লক করে দেয়া হয়।’

গুগলের সে চাকরি ড্যানের কাছে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে কাজের মতো ছিল। তিনি লিখেছেন, ‘এই তো বছরখানেক আগে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে স্বপ্নের কাজ পাই আমি। পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটছিলাম, এমন সময় নিয়োগকারী কল করে বলল কাজটি আমি পেয়েছি। এতটাই আনন্দ পেয়েছিলাম যে কুকুরটাকে চেপে ধরায় ওর শ্বাসরোধ হওয়ার জোগাড়!’

গুগলের সিস্টেম বন্ধ করে দেয়ার ১৫-২০ মিনিট পর প্রতিষ্ঠানটির ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর দেখেন ড্যান। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী ছাঁটাই এক রকম অনুমিতই ছিল। তবু আকস্মিক খবরে বিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। একই দশা ওই হাজারও কর্মীর বলে জানায় এনডিটিভি।

এদিকে অনেক ভাবনা-চিন্তার পরেই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে জানান গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যারা খতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের আলাদা ই-মেইল দিয়ে জানিয়েছি। অন্যান্য দেশের স্থানীয় আইনের কারণে প্রক্রিয়াটা একটি দীর্ঘ হতে পারে।’


মানুষের পরীক্ষায় কম্পিউটার পাস, তবে ছাত্র ভালো না

চ্যাটজিপিটি তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:৫২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাংবিধানিক আইন থেকে শুরু করে করারোপ পর্যন্ত নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক আইন অনুষদের পরীক্ষায় দিব্যি উৎরে গেল ‘চ্যাটজিপিটি’ নামের একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। পরিক্ষক অবশ্য বলেছেন, পাস করলেও আইনের ছাত্র হিসেবে তেমন ভালো না।

চ্যাটজিপিটি তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। চলতি সপ্তাহেই মাইক্রোসফটের কাছ থেকে বিপুল বিনিয়োগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো কিছু লিখে দিতে পারে চ্যাটজিপিটি। কোন প্রশ্নে কী উত্তর দিতে হবে, তা শেখাতে ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্য কাজে লাগান এর নির্মাতারা।

চ্যাটজিপিটির লেখা এত নিখুঁত যে না বলে দিলে বোঝার উপায় থাকে না কোন লেখাটি মানুষের, আর কোনটি কম্পিউটারের। অনলাইন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে সেটি ব্যবহার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন শিক্ষাবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের অধ্যাপক জোনাথান চই চ্যাটজিপিটির পরীক্ষা নেন। শিক্ষার্থীদের যে প্রশ্ন দেন, একই প্রশ্ন দিয়েছেন চ্যাটজিপিটিকে। এর মধ্যে ৯৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন এবং নিবন্ধ পড়ে ১২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়। পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি সার্বিকভাবে ‘সি+’ গ্রেড পেয়েছে।

জোনাথান চই ও তার সহকর্মীরা মিলে ‘চ্যাটজিপিটি গোজ টু ল স্কুল’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন সোমবার। সেখানে এই পরীক্ষার কথা উঠে আসে।

নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও জোনাথান মনে করেন এটা বরং শিক্ষাসহায়ক হতে পারে।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, সার্বিকভাবে চ্যাটজিপিটি নিজে খুব ভালো আইনের ছাত্র না। তবে মানুষের সঙ্গে মিলে কাজ করলে চ্যাটজিপিটির মতো প্রোগ্রাম বেশ কাজে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


টিমস-আউটলুক বন্ধ পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা

আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টিমস ও আউটলুকসহ মাইক্রোসফটের বেশ কিছু সেবা ব্যবহারে সমস্যা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীরা।

অনলাইনে কোনো সেবাবিঘ্নের তথ্য ডাউনডিটেকটর ডটকমে জানিয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা। যুক্তরাজ্যে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ইমেইল সেবা আউটলুকে সেবাবিঘ্নের তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন ডাউনডিটেকটরে।

টিমস ও এক্সবক্স লাইভসহ মাইক্রোসফটের অন্যান্য সেবার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

বিবিসি বলছে, বিশ্বব্যাপী মাইক্রোসফট টিমসের ব্যবহারকারী ২৮ কোটির বেশি। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে সেবাটি ব্যবহার করা হয়। কল, মিটিং এবং অন্যান্য সেবা বন্ধ পেলে সমস্যায় পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।

ডাউনডিটেকটরের তথ্য বলছে, ভারত ও জাপানাসহ বিশ্বের আরও কিছু দেশে সেবাগুলো ব্যবহারে সমস্যা পাওয়া গেছে।


শুধরে নিন এসব ভুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহমুদুল হাসান উৎস

মানুষ মাত্রই ভুল করে। নিজের করা ভুলের মাশুল বেশির ভাগ সময় তাকেই বহন করতে হয়। অনেক সময় সেসব ভুল ঘটে নিজের অজান্তেই। কিন্তু এমন কিছু ভুল আমরা করি, যা একটু চেষ্টা করলেই থাকা যায় নিরাপদ। আর এসব ভুল আটকে দেয়া দরকার একেবারে শুরুতেই। যেমন পাসওয়ার্ড এবং তথ্য যথাসম্ভব সুরক্ষিত রাখা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ মানুষ তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা জন্ম তারিখ বা এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যা সহজেই ভেঙে ফেলতে পারে অপরাধীরা। দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণেই বেশির ভাগ তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে সুরক্ষিত থাকার অন্যতম মন্ত্র হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। পাসওয়ার্ড কাউকে বলা যাবে না। নিজস্ব ডিভাইস, গুগল শিট বা এক্সেলে পাসওয়ার্ড লিখে রাখাও ঠিক নয়।

যেকোনো সফটওয়্যারেই পুরোনো সংস্করণগুলোতে ‘সিকিউরিটি ফিচার’ থাকে না। ফলে নিরাপত্তা প্রায় নেই বললেই চলে। অনেক মানুষই আপডেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করার কারণে প্রতারকদের শিকার হন। সব সময় নিজের ডিভাইস আপগ্রেড করে রাখা দরকার। প্রতিটি আপডেটের সঙ্গে অত্যাধুনিক সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য পাওয়া সম্ভব।

তথ্য চুরির একটি বড় কারণ ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারা। সে ক্ষেত্রে যে কেউ সে সব তথ্য পেয়ে যেতে পারে। অনেকেই কম্পিউটার লক করেন না। কেউ কেউ আবার পাবলিক নেটওয়ার্কে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে রাখেন। এই কারণে অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য সহজেই ভুল হাতে পৌঁছে যায়।

অনেক সময় মানুষ চিন্তা-ভাবনা না করেই কাউকে তথ্য পাওয়ার অধিকার দিয়ে ফেলে। অননুমোদিত অ্যাক্সেস অবশ্যই ঝুঁকি বহন করে। অননুমোদিত অ্যাক্সেস সহজেই কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, সে তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে যেকোনো সময়। ফলে নিজের ডিভাইসে অননুমোদিত অ্যাক্সেস দেয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

আজকাল, স্ক্যামাররা প্রতারণার নতুন নতুন উপায় অবলম্বন করছে। প্রায়ই ফিশিং ই-মেইল পাঠায় তারা যেকোনো মেইল আইডিতে। ই-মেইল পাওয়ার পর অনেক সময়ই মানুষ কিছু না বুঝেই ফিশিং ই-মেইল খুলে ফেলে বা মেইলে আসা র‍্যানসমওয়্যার অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করে ফেলে। সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো একটি ফিশিং ই-মেইল খোলা, এটি স্ক্যামারদের নিজের ডেটাতে অ্যাক্সেস দেয়া। কোনো সন্দেহজনক ই-মেইল খোলা যাবে না, সঙ্গের অ্যাটাচমেন্টও ডাউনলোড করা যাবে না।


ফোনের ব্যাটারি রাখুন নিরাপদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্মার্টফোন ছাড়া বর্তমান জীবন প্রায় অচল। বেশির ভাগ কাজই স্মার্টফোনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এ জন্য সবসময় স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা দিন কাজ করার জন্য অনেকেই প্রায় সারা রাত ধরে ফোনে চার্জ দেন। এই সারা রাত চার্জ দেয়ার বিষয়ে অনেক মত রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষই জানেন না সারা রাত মোবাইল চার্জ দিয়ে রাখা ঠিক না ভুল। এ বিষয়ে মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট সূত্রে জানানো হয়েছে, ফোনের ব্যাটারির আয়ু শুধু চার্জের ওপর ভিত্তি করে না। তাপমাত্রার ওঠানামা এবং গ্রাহকদের চার্জ করার অভ্যাসসহ আরও নানা কারণের ওপর তা নির্ভরশীল।

ফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি যত বেশি পুরোনো হয়, তত তার চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে। এটি রাসায়নিক কারণেই ঘটে। যে কারণে পুরোনো ফোনে বেশিক্ষণ চার্জ থাকে না। কিন্তু অতিরিক্ত চার্জ দিলেই যে ফোন ভালো থাকবে এমনটা মোটেও নয়। বরং হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই ষোলো আনার ওপর আঠারো আনা। অ্যাপল জানিয়েছে, ‘আইফোন যখন দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ চার্জে থাকে, তখন ব্যাটারির স্বাস্থ্য প্রভাবিত হতে পারে।’

স্যামসাংসহ অন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতারাও একই কথা জানিয়েছেন। ফোনকে দীর্ঘ সময় ধরে বা সারা রাত চার্জারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা উচিত নয়। হুয়াওয়ে জানিয়েছে, ফোনের ব্যাটারির স্তরকে যতটা সম্ভব মাঝামাঝি, অর্থাৎ ৩০% থেকে ৭০% রাখা কার্যকরভাবে ব্যাটারির আয়ুকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ফোনের ব্যাটারির চার্জ পূর্ণ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, সে কথা সত্যি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, একবার এটি ৯৯ শতাংশে উঠে গেলে ১০০-তে ফিরে যেতে আরও শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই এই ধ্রুবক চক্রটি ব্যাটারির জীবনকাল শেষ করে দেয়।

বেশির ভাগ ফোনেই চার্জিং রেগুলেশন অপশন থাকে। এই কারণে নিজেদের ফোনের অন্তর্নির্মিত বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার করা উচিত। আইওএস ১৩ এবং তার পরবর্তী সংস্করণের আইফোনগুলোতে অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং ফোন সম্পূর্ণ চার্জ হওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। একবার সক্ষম হয়ে গেলে, আইফোন চার্জ করার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে এবং ৮০ শতাংশ চার্জ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে।

ফোন প্লাগ ইন থাকা অবস্থায় ‘অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং’ পপ-আপে ট্যাপ করে ধরে রেখে এটিকে ওভাররাইড করা যেতে পারে। এটি ডিফল্টরূপে চালু থাকে, কিন্তু সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি হেল্থ > অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিংয়ে গিয়ে এটি চালু আছে কিনা তা দুবার চেক করা যেতে পারে। যে ধরনের ফোনই থাকুক না কেন, এর ব্যাটারি-লাইফ বৈশিষ্ট্যগুলোর থেকে সর্বাধিক থাকে। সেটিংসে ব্যাটারি বিভাগে নেভিগেট করতে হবে এবং দেখতে হবে কী কী বিকল্প পাওয়া যায়।

দৈনিক ব্যবহার যত কম হবে, ব্যাটারি তত বেশি দীর্ঘমেয়াদে চলবে। এ ছাড়া সাহায্য করার জন্য প্রযুক্তিও আছে। এর জন্য সুবিধাজনক স্বয়ংক্রিয় শাট-অফ টাইমার রয়েছে। যা ফোনকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চার্জ করতে দেয়।

এগুলো ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের জন্যও দুর্দান্ত। এই ক্যাপটিতে আঘাত করলেই বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য AccuBattery-এর মতো অ্যাপগুলোও ব্যাটারির স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখতে সাহায্য করতে পারে। এটি দেখায়, রিয়েল টাইমে, কখন চার্জ করতে হবে এবং কখন ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে আনপ্লাগ করতে হবে।

চার্জ করার আগে ব্যাটারি ০ শতাংশে নামিয়ে আনার দরকার নেই। নিজেদের ফোন যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখতে হবে। তাপ দীর্ঘ সময় ধরে ফোনের ব্যাটারির জীবনকালকে প্রভাবিত করে। তাই এটিকে নিজেদের বালিশের নিচে রেখে দেয়া সবচেয়ে খারাপ জিনিসগুলোর একটি। ঠান্ডা হলে ফোন রোদে বা বাইরে রাখার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি রাতে জেগে ফোন দেখা হয়, তা হলে ফোন সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে গেলে সেটি আনপ্লাগ করতে হবে। এটি একটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করবে না- তবে এটি অবশ্যই ক্ষতি করবে না।


এনড্রয়েড ফোনে বিজয় কি-বোর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়: জব্বার

মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

এনড্রয়েড ফোনে বিজয় কি-বোর্ড সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্র‌শ্নে তি‌নি এ কথা জানান।

এনড্রয়েড ফোনে বিজয় কি-বোর্ডের সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা নিয়ে এক প্র‌শ্নে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটা আইনের বিষয়, এ নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

এরপ‌রও সাংবা‌দিকরা প্রশ্ন কর‌লে মন্ত্রী বলেন, আমি একটি ব্যাখ্যা দেব, সেটি হচ্ছে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) একটি শব্দ ব্যবহার করেছে বাধ্যতামূলক। এই শব্দটি বিভ্রান্তিকর।

‘যেকোনো এনড্রয়েড ফোনে আপনি যেকোনো সফটওয়্যার রাখতে পারেন, আনইনস্টল করতে পারেন, ফেলে দিতে পারেন, নতুন করে ইনস্টল করতে পারেন। অতএব বাধ্যতামূলক শব্দ প্রয়োগ করার কিছু নেই, এটি বাধ্যতামূলক নয়।’

মন্ত্রী ব‌লেন, ‘কার জন্য বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে? যেটি বলা হয়েছে, যিনি উৎপাদক অথবা আমদারিকারক তিনি বাংলা লেখার সুবিধা তৈরি করে দেয়ার জন্য একটি সফওয়্যার দিয়ে দেবেন। ব্যবহারকারী সেই সফটওয়্যার ব্যবহার করবে কি করবে না, সেটি সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।’


সৌরশক্তি উৎপাদনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প সমুদ্রে

আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৫৬
নাহিদ জামান জিহান

বহু বছর ধরেই দেশে-বিদেশে খোলা জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে এই সূর্যরশ্মিকে কাজে লাগিয়েছে। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে খোলা মাঠে সোলার প্যানেল তৈরি করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হচ্ছে বহু স্থানে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৯টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প কাজ করছে। তবে সবগুলোই স্থলভূমিতে।

কিন্তু জলাশয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করে অনেক দেশেই আরও বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। স্থলভূমির চেয়ে সমুদ্রে নির্মিত সোলার প্যানেল অনেক বেশি কার্যকরী। যে কারণে এসব প্রকল্প আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলো বেশি জনপ্রিয় ও প্রয়োজন হয় প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ দুরূহ। যে কারণে বর্তমানে গ্রামীণ জনপদে ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে সোলার প্যানেল ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ ১০ হাজারের বেশি দ্বীপের একটি দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশটিতে মাত্র ১০ লাখ মানুষ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত। তাই সৌরশক্তি সেই দ্বীপগুলোকে শক্তি সরবরাহ করার একটি বিকল্প উপায়। গত কয়েক দশকে সোলার প্যানেল অনেকটা সস্তা হয়ে ওঠায় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) বলছে, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সবচেয়ে সস্তা বিকল্প হয়ে উঠছে এই সৌরশক্তি।

কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খামারগুলো প্রচুর জায়গা নেয়। ফলে চাষের জমি ও আবাসনের স্থানে এই খামার করা মুশকিল। তাই বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীরা সমুদ্রের পৃষ্ঠে সৌর প্যানেল নির্মাণের কাজ করছেন, যা কাছাকাছি উপকূলে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তবে যেসব দেশ সমুদ্রতীরবর্তী নয়, সেখানে ভাসমান এই সোলার প্যানেল সমুদ্রের পরিবর্তে হৃদ, পুকুর বা অন্য জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাড়ির ছাদের সোলার প্যানেলের চেয়ে জলাশয়ে তৈরি সোলার প্যানেল ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কারণ সমুদ্রের পানি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল এখন সিঙ্গাপুরে এবং সেটি সমুদ্রে ভাসমান সোলার প্যানেল। দ্বীপরাষ্ট্রের ৫টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এ সোলার প্যানেল। ৪৫টি ফুটবল মাঠের সমান এ সোলার প্যানেল। জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ দূষণ রোধে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যেই সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বাড়াবে সিঙ্গাপুরের সরকার।

নদ-নদী ও স্থলভাগের পরিমাণ কম হওয়ায় সিঙ্গাপুরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন কঠিন। সেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদী নেই। শক্তিশালী টার্বাইন ঘোরানোর জন্য বাতাসও অপ্রতুল। তাই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরকে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু জমির স্বল্পতা বিষয়টি বেশ কঠিন করে তুলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমুদ্রে সোলার প্যানেল নির্মাণের পথ অবলম্বন করেছে কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গাপুরের উপকূল থেকে সাগরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, রোদে ঝলমল করে হাজার হাজার সোলার প্যানেল।

পশ্চিম সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ৬০ মেগাওয়াট সোলার ফোটোভোল্টাইক ফার্মটি সেম্বকর্ণ ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি। নতুন এই ফার্মটি বছরে ৩২ কিলো টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখবে। যেখানে রাস্তা থেকে ৭ হাজার গাড়ি তুলে নিলে কমবে এই একই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ।

সমুদ্রের ওপর সূর্যের আলো একটি ভাসমান রিগ তৈরি করে। সমুদ্রের ঢেউ থাকায় প্যানেলগুলো একটি ভাসমান রিগ তৈরি করেছে, যেখানে সৌর প্যানেলগুলো একটি ভিত্তির ওপর অবস্থান নেয় যা সৌরতরঙ্গগুলো নিচে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নমনীয় হয়। একই সঙ্গে প্যানেলগুলো জলের কাছাকাছি থাকায় এদের সেলগুলো ঠাণ্ডা থাকে, যা তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করে। এ ছাড়া ঝড় বা প্রচণ্ড বাতাস ছাড়া বেশির ভাগ সময়ই সমুদ্রের প্রবাহ মসৃণ থাকায়, উইন্ডমিল বা এর মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রকল্প থেকে সমুদ্রে স্থাপিত সোলার প্যানেলের উৎপাদনের সময় ও ক্ষমতা বেশি।

সিঙ্গাপুরের উপকূলে ৪৫ হেক্টর বা ১১১ একর এলাকাজুড়ে সমুদ্রে ভাসমান ১০ লাখ ২২ হাজার সোলার প্যানেল থেকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সেখানে সোলার প্যানেলগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এগুলো ২৫ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকে। এ সোলার প্যানেল তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক থাকছে ড্রোন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আরও চারটি ভাসমান সোলার প্যানেল তৈরির কাজ চলছে। সিঙ্গাপুরের তেনগেহ রিজার্ভারে সবচেয়ে বড় এ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি অবস্থিত। এখান থেকে সিঙ্গাপুরের পানি শোধনাগারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপের মধ্যে আছে, সৌরশক্তির ব্যবহার চার গুণ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের মোট শক্তির ২ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা। পরের পাঁচ বছরে এ হার আরও এক শতাংশ বাড়ানো। এতে ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে সাড়ে তিন লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ দিতে পারবে দেশটি।


চাকরিচ্যুত কর্মীরা এখন যাবেন কই

একে তো চাকরিচ্যুতি, তার ওপর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীরা। প্রতীকী ছবি। ছবি: আনস্প্ল্যাশ
আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজনসহ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরিচ্যুত ভারতীয় কর্মীরা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কাজ না পেলে ভিসার শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে তাদের। এদিকে অর্থনৈতিক মন্দার এই দিনে নতুন কর্মসংস্থানের পথও ছোট হয়ে এসেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন বলছে, গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী চাকরি হারিয়েছেন। অ্যালফাবেট (গুগল), মাইক্রোসফট, মেটা (ফেসবুক), আমাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিমাণও ছিল বড়।

চাকরিচ্যুত এই কর্মীদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভারতীয় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। যাদের বড় অংশ ‘এইচ-১বি’ এবং ‘এল১’ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

এইচ-১বি অভিবাসী ভিসা নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি মেলে এই ভিসায়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসায় ভারত ও চীন থেকে প্রচুর কর্মী নিয়োগ দিয়ে এসেছে এতদিন।

অন্যদিকে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কিংবা বিশেষ কাজে দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান বদলের সময় এল-১এ এবং এল-১বি ভিসার মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পান।

এই ভিসার ফেরে পড়েছেন চাকরিচ্যুত ভারতীয় কর্মীরা। নতুন কাজও পাচ্ছেন না, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে। গীতা ছদ্মনামের এক চাকরিচ্যুত আমাজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে এনডিটিভি। মাত্র তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। চলতি সপ্তাহে জানলেন, ২০ মার্চ থেকে তাকে আর কাজে যেতে হবে না।

এইচ-১বি ভিসায় চাকরি হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে হয়। নয়তো পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে ভারতে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না তাদের। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান যেখানে একাধারে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিচ্ছে, তাতে এত কম সময়ে নতুন কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন তারা।

এই কর্মীদের দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বেশ কয়েকটি সংগঠন চেষ্টা করে যাচ্ছে, তবে খুব একটা সুফল মিলছে না।

সুদক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য এইচ-১বি ভিসায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক উদ্যোক্তা অজয় জেইন ভুটোরিয়া। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘ওই কর্মীদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। সম্পত্তি বিক্রি করতে হতে পারে, সন্তানের শিক্ষা ব্যহত হতে পারে। এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ বিবেচনা করা দরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর, চাকরিচ্যুতির সময় কয়েক মাস পিছিয়ে দিতে পারে।’


প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে এটুআই এজেন্সি গঠন হচ্ছে

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:২৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা দিতে ‘এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই)’ নামে এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য এজেন্সি টু ইনোভেট আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এটুআই আগে প্রকল্প হিসেবে ছিল, এখন এটিকে এজেন্সি হিসেবে গঠন করা হবে।’

সচিব জানান, এটুআই আইন কার্যকর হলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে এটুআই নামে সংবিধিবদ্ধ একটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করবে। এজেন্সির প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের যেকোনো স্থানে এবং দেশের বাইরে এজেন্সির শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এজেন্সিকে জনবান্ধব সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন করতে হবে। প্রযুক্তিবিষয়ক উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে সেই গবেষণায় উদ্ভাবিত পণ্য ও সেবার মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে সহায়তা করা, প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনা ও চাহিদা সৃষ্টি এবং প্রযুত্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এটুআই এজেন্সিকে।

এ ছাড়া অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় সরকার, শিল্প, শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সেবা ও পরামর্শ দেয়া; কোনো নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রসর প্রযুক্তি সম্পর্কিত জনসচেতনতা ও চাহিদা তৈরিতে সহায়তা করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংস্থাকে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এটুআই এজেন্সিকে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এজেন্সি পরিচালনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্যদ থাকবে। পরিচালনা পর্যদকে বছরে দুটি সভা করতে হবে। এর বাইরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি থাকবে। নির্বাহী কমিটি এজেন্সির কার্যক্রমের অগ্রগতি ও আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য যেকোনো সময় সভা করতে পারবে।

এটুআই এজেন্সির একটি তহবিল থাকবে। সেখানে সরকারের অনুদান ও মঞ্জুরি, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে নেয়া ঋণ, অনুদান বা সাহায্য, তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে পাওয়া আয় বা মুনাফা, এজেন্সির সম্পত্তি ও কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয়, সেবা বা পরামর্শ দিয়ে পাওয়া আয় এবং এজেন্সির নিজস্ব উৎস থেকে পাওয়া আয় নিয়ে এই তহবিল গঠন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


কমতে কমতে টুইটারে এখন ২৩০০ কর্মী

প্রতীকী অর্থে টুইটারের বর্তমান দশা এই ছবির মতোই। ছবি: আনস্প্ল্যাশ
আপডেটেড ২১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:১২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টুইটারে এখন সক্রিয় কর্মীর সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ জন। শনিবার এক টুইটে এ কথা জানান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক।

টুইটে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন ইলন মাস্ক। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটি জানায়, টুইটারের পূর্ণকালীন কর্মীসংখ্যা কমে ১ হাজার ৩০০-তে নেমে এসেছে, যাদের মধ্যে ৫৫০ জনের কম প্রকৌশলী।

গোপন প্রাতিষ্ঠানিক নথির বরাত দিয়ে সিএনবিসি আরও জানায়, সেই ১ হাজার ৩০০ কর্মীর প্রায় ৭৫ জন ছুটিতে। ছুটিতে থাকা ওই কর্মীদের ৪০ জন প্রকৌশলী।

সিএনবিসির প্রতিবেদনের উল্লেখ করে ইলন মাস্ক বলেন, সেটি সঠিক নয়। টুইটারে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন সক্রিয় কর্মী কাজ করছেন।

এর পাশাপাশি টুইটারে কয়েক হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও অন্যান্য বিভাগে এখনও শত শত কর্মী কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন মাস্ক।

গত অক্টোবরে টুইটার কেনার পর প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন ইলন মাস্ক। সে সময় এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছিলেন তিনি।

বিষয়:

banner close