মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩

কম্পিউটারের দাম কমালেন যিনি

২০১৫ সালে গর্ডন মুর। ছবি: এএফপি
আপডেটেড
২৫ মার্চ, ২০২৩ ১৮:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ৫০ বছরে সবকিছুর দাম যেভাবে বেড়েছে, কম্পিউটার পণ্যের দাম কিন্তু সেভাবে বাড়েনি। কম্পিউটার উন্নত হয়েছে, কাজের গতি বেড়েছে, তবে দামটা ক্রমশ হাতের নাগালের মধ্যেই এসেছে।

যার তত্ত্ব মেনে প্রযুক্তিপণ্য সহজলভ্য হয়েছে, সেই গর্ডন মুর মারা গেছেন ৯৪ বছর বয়সে। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন তার তত্ত্ব।

ইনটেলের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন গর্ডন মুর। রবার্ট নয়েসের সঙ্গে ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তারও আগে ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে মুর বলেছিলেন, একই আকারের ইনটিগ্রেটেড সার্কিট বোর্ডে ট্রানজিসটরের পরিমাণ প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ হতে থাকবে।

কম্পিউটারের মূল যন্ত্রাংশ প্রসেসর হলে প্রসেসরের মূল উপাদান ট্রানজিসটর। পরিমাণে দ্বিগুণ হওয়া মানে আকারে ছোট হওয়া। ছোট ট্রানজিসটরের বিদ্যুৎ খরচ কম, তৈরির ব্যয়ও কম। আর ট্রানজিসটরের সংখ্যা বাড়ায় কম্পিউটারের গতিও বাড়ে।

আগে যেখানে কারখানার মতো বিশাল সব ঘরে কম্পিউটার রাখতে হতো, ক্রমে সে কম্পিউটারের ঠাঁই হলো মানুষের টেবিলে। সাধারণ হিসাবনিকাশ করতে যেটার দিনের পর দিন লাগত, এখন সে কম্পিউটার সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে জটিল সব কাজ করতে পারে।

শুরুতে মুরের তত্ত্ব অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে এআরএম-১ প্রসেসরের নকশা করেন স্টিফেন ফারবার ও সোফি উইলসন। সেটাকে আধুনিক মাইক্রোপ্রসেসরের শুরু বলা চলে। এআরএম-১ প্রসেসরে ২৫ হাজার ট্রানজিসটর ছিল। সে সময় সংখ্যাটা অনেক বড় ছিল। আর বর্তমানের কথা যদি বলা হয়, অ্যাপলের ২০২২ সালের ‘এম১ আলট্রা’ প্রসেসরে ট্রানজিসটরের পরিমাণ ১১ হাজার ৪০০ কোটি।

(বাঁ থেকে) ইনটেলের তৃতীয় সিইও অ্যান্ডি গ্রুভ ও সহপ্রতিষ্ঠাতা রবার্ট নয়েসের সঙ্গে গর্ডন মুর। ১৯৭৮ সালে। ছবি: এএফপি

গর্ডন মুর বলেছিলেন, তার এই তত্ত্ব বছর দশেক কার্যকরী থাকবে। অথচ ছয় দশক পর আজও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা কার্যকরী। তবে দীর্ঘমেয়াদে মুরের তত্ত্ব মেনে চলা কঠিন হবে। কারণ ট্রানজিসটরের আকার আর কতই ছোট করা যায়। যেদিন মুরের তত্ত্ব অকার্যকর হয়ে পড়বে, সেদিন নিশ্চয় নতুন কিছুর শুরু হবে। আপাতত গর্ডন মুরের কথায় ফিরে আসি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার হাওয়াইয়ে মারা যান মুর। ইনটেল ও তার দাতব্য সংস্থা গর্ডন অ্যান্ড বেটি মুর ফাউন্ডেশন মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ইনটেল এক টুইটে মুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে, ‘আমরা একজন স্বপ্নদ্রষ্টাকে হারালাম। গর্ডন মুর, সবকিছুর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’


‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরি করা দরকার’

আপডেটেড ৪ জুন, ২০২৩ ০৯:৪১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রতিবছর দেশে সৃষ্টি হচ্ছে ৩০ লাখ মেট্রিকটন ই-বর্জ্য। যার মধ্যে শুধু স্মার্ট ডিভাইসেই সৃষ্টি হচ্ছে সাড়ে ১০ কেজি টন ই-বর্জ্য। অন্তত দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩০২ ইউনিট নষ্ট টেলিভিশন থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ১ দশমিক ৭ লাখ টনের মতো ই-বর্জ্য। জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে আসছে ২৫ লাখ টনের বেশি। শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই বর্জ্য বাড়ছে ৩০ শতাংশ হারে। হিসাব বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ কোটি টনের ই-বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে বাংলাদেশ। ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে বিলিয়ন ইউনিট স্মার্ট উৎপাদন হবে। কম্পিউটার পিসিবিভিত্তিক ধাতু রূপান্তর ব্যবসায় সম্প্রসারিত হবে। যা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট। সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সঙ্গে অন্য দেশ থেকে দেশে প্রবেশ করা রিফার্বিশ ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানি বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আইসিটি জর্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) উদ্যোগে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘ই-বর্জ্যের কার্বণ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: কারণ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ই-বর্জ্যের কোনো গাইডলাইন নেই। অভিভাবকহীন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে একটি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরি করা দরকার। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে আমরা এই বিআইজেএফ-এর পতাকা তলে সবাইকে নিয়ে দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক মানের ই-বর্জ্য সচেতনতা দিবস পালন করব। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা একটি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হ্যাকাথন করতে চাই।

স্বাগত বক্তব্যে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্মকে এর ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিআইজেএফ-এর নেয়া এই উদ্যোগ আগামীতে আরও জোরদার করা হবে বলে জানান সাংবাদিক সংগঠনটির সভাপতি নাজনীন নাহার।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সময়ের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। এজন্য সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপশি ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার। এটা বাস্তবায়নে বিআইজেএফ প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

সার্ক সিসিআই (বাংলাদেশ) নির্বাহী কমিটির সদস্য শাফকাত হায়দারের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুল আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাব-এর আইন ও মিডিয়া শাখার পরিচালক খন্দকার আলী মঈন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের উপসচিব সাঈদ আলী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) উপ-পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সিইআরএম পরিচালক রওশন মমতাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নিয়ে ই-বর্জ্য নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি শহীদ উল মুনির, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড চেয়ারম্যান আব্দুল ফাত্তাহ, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জেআর রিসাইক্লিং/সলিউশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হোসেন জুয়েল, এইচপি বাংলাদেশ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ভোক্তা পিএস) কৌশিক জানা, আসুস বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি প্রোডাক্ট ম্যানেজার আসাদুর রহমান সাকি, লেনোভো ভারত-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ব্যবসা) সুমন রায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজমুস সালেহীন, ইউসিসির হেড অব সেলস শাহীন মোল্লা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের সেলস ডিরেক্টর মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন।

সভায় ই-বর্জ্য ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশকে স্মার্ট হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে কাল-বিলম্ব না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। বক্তাদের পরামর্শ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে বিআইজেএফ আগামীতে স্মার্ট সংবাদিকতায় ভূমিকা পালন করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে গোল টেবিল আলোচনায় উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান।


মস্তিষ্কে চিপ ঢোকানোর অনুমতি পেল মাস্কের নিউরালিংক

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৩ ১৭:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রথমবারের মতো মানবশরীরের ওপর পরীক্ষার লক্ষ্যে অনুমতি পেল ‘ব্রেইন-চিপ’ নির্মাতা কোম্পানি নিউরালিংক। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই কোম্পানি জানিয়েছে, মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ) তাদের মস্তিষ্কে চিপ ঢোকানোর অনুমোদন দিয়েছে।

মার্কিন ধনকুবেরের কোম্পানিটি কম্পিউটারের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শরীরের গতিবিধি পুনরুদ্ধারে সহায়তা দিতে চায়। কোম্পানি বলছে, তারা এখনই অংশগ্রহণকারী বাছাইয়ের পরিকল্পনা করছে না। এর আগেও মাস্কের এই পরীক্ষা পরিচালনার আকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

এর আগে নিরাপত্তার কারণে নিউরালিংকের এফডিএ অনুমোদনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্চের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

বিবিসি বলছে, পক্ষাঘাত ও অন্ধত্বের মতো শারীরিক সীমাবদ্ধতার চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কম্পিউটার ও মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব মাইক্রোচিপ ব্যবহারের লক্ষ্য স্থির করেছে নিউরালিংক। এর আগে বানরের ওপর পরীক্ষা চালানো এসব চিপ এমনভাবে নকশা করা, যাতে এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে উৎপাদিত বিভিন্ন সংকেত ব্যাখ্যা করতে পারার পাশাপাশি ব্লুটুথের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইসে সেই সব তথ্য পাঠানো যায়।

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জায়গা দখল করবে’ এমন শঙ্কা দূর করতে প্রস্তাবিত প্রযুক্তি সহায়ক হবে বলে এর আগে মাস্ক বলেছেন। গত বৃহস্পতিবার এক টুইটে নিউরালিংক বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এমন এক ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ’, যা তাদের প্রযুক্তিকে একদিন অসংখ্য মানুষকে সহায়তার সুযোগ করে দেবে। ‘এফডিএ’র সঙ্গে নিউরালিংক দলের ঘনিষ্ঠভাবে বিশ্বাস্য কাজের ফলাফল হলো এই অনুমোদন।


চ্যাটজিপিটি যখন গবেষণাপত্র লেখে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

আমার এআই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করলাম। তারপর আমি আমার রিসার্চ কোম্পানির এআই অ্যালগরিদমের জন্য কিছু সিম্পল ইন্সট্রাকশন টাইপ করলাম। GPT3-কে বললাম একটা ৫০০ শব্দের মধ্যে একাডেমিক থিসিস লিখে দিতে GPT3-এর নিজের ব্যাপারেই, সঠিক রেফারেন্স আর সাইটেশনসহ। যখন টেক্সট জেনারেট করা শুরু করল আমার চোখের সামনে। রীতিমতো ‘থ’ বনে গেলাম। একেবারে ঠিক সাইটেশনে সঠিক রেফারেন্স এবং কনটেক্সটসহ আমার সামনে হাজির। এটা মোটামুটি ভালো কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের ভূমিকার মতো তৈরি করে দিয়েছিল। আমার অবাক হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, আমি যে অস্পষ্ট ইন্সট্রাকশন দিয়েছিলাম, সে তবুও সঠিক পেপারটাই জেনারেট করে আমাকে দিয়েছে। GPT3 একটা ‘ডিপ লার্নিং’ অ্যালগরিদম, যা টেক্সট, বই, উইকিপিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া কনভারসেশন, বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র- সবকিছু খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এবং ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজ করে। তো যা-ই হোক, আমি যেখানে ছিলাম, আমার ইন্সট্রাকশনে অ্যালগরিদমটি নিজের ব্যাপারেই নিজে একটি পেপার লিখল।

GPT3-এর ওপরে এটিই আমার প্রথম এক্সপেরিমেন্ট নয়। আমি মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় ও রোগের সমাধানের জন্য এআইকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার ওপর কাজ করছি। তবে আমার এই রিসার্চ ওয়ার্কটা শেষ করতে আর এই পেপারটাকে পিআর রিভিউ অব্দি পৌঁছানোর কাজে, অনেক এথিক্যাল এবং যুতসই কিছু প্রশ্ন বা তর্ক উঠে আসতে পারে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফিলোসোফিক্যাল অনেক যুক্তিতর্ক থাকবে। আরও কথা উঠতে পারে কৃত্রিম বা নন-হিউম্যান লেখকত্ব নিয়ে।

এমনও দিন আসছে, যেখানে একাডেমিক পাবলিকেশনের পেপারগুলোর সঙ্গে সামনের দিনে এআইএর দেয়া ম্যানুস্ক্রিপ্ট বা লেখাকে কোলাব করতে হতে পারে। যদি নন-হিউম্যান বা বট কোনো কাজের জন্য ক্রেডিট নেয় বা একনলেজমেন্ট দেয়া হয়, তাহলে স্বভাবতই সেখানে মানুষের করা পেপারগুলোর গুরুত্ব এবং স্বত্ব কিছু হলেও কমবে।

GPT3 সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে মানুষের লেখার সমপর্যায়ের টেক্সট জেনারেট করে। কতগুলো জনরা বা ক্যাটাগরিতে টেক্সট জেনারেট করে বেশ ভালো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যেমন: বিনোদনমূলক লেখা, কবিতার বই লেখা, আঠারো শতকের বইয়ের লেখকের বই থেকে নতুন কন্টেন্ট জেনারেট করা ইত্যাদি। যদিও GPT-3 নিয়ে অনেক একাডেমিক পেপার করা হয়েছে এবং কিছু কিছু GPT3-এর সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে, কিন্তু কোনো পেপারেই GPT3-কে মুখ্য লেখক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়নি।

তবে GPT3-এর কাজগুলো সত্যিই দারুণ। আমি তাড়াতাড়ি আমার রিসার্চের সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং একটা আইডিয়া প্রপোজ করি। যেহেতু এর কার্যক্ষমতা যথেষ্ট আশার আলো দেখাচ্ছে, তাহলে একটা রিসার্চ পেপার পুরোটাই যদি এই GPT3 দিয়ে করাই, তাহলে কেমন হয়? আমার রিসার্চ গ্রুপের হেড আমার সঙ্গে একমত হলেন এবং প্ল্যানটা সম্পূর্ণ করার জন্য এগোতে বলেন।

GPT3 অ্যালগরিদমের ওপর করা অনেক এক্সপেরিমেন্টের উত্তর সঠিকভাবে জেনারেট করতে পারে। তবুও যেই উত্তর বা রেসপন্সগুলো সবচেয়ে বেশি বাস্তববাদী বা রিয়ালিস্টিক সেই টেক্সটগুলো সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা হয়। সায়েন্টেফিক পেপার বা থিসিসের জন্য যেসব সেকশন অতি প্রয়োজনীয় যেমন: ইনট্রোডাকশন, মেথড, রেজাল্ট অ্যান্ড ডিসকাশন ইত্যাদি এগুলো আমরা ইন্টারনালি প্রোভাইড করেছি। কারণ, এই স্টেপগুলো একাডেমিক পেপারের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সেকশন। কিন্তু আমাদের দিক থেকে ইনফরমেশন প্রোভাইড করাটা খুব অল্পসংখ্যক জায়গায়, কারণ তার নিজের টেক্সট জেনারেট করাটাই আমাদের কাছে এমনকি ব্যবহারকারীদের কাছে বেশি মুখ্য। আমরা GPT3-এর থার্ড ভার্সনের অ্যালগরিদমটা ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম, যেটা তুলনামূলক খুব বেশি অ্যাডভ্যান্সড। কিন্তু আমরা ওর নিজস্ব উত্তরের জন্য আউটপুটে কোনো ধরনের কোনো পরিবর্তন আনিনি এক্সপেরিমেন্ট চলার সময়ে। এতে আমরা ওর জেনারেট করা টেক্সট এবং সমাধানগুলোর মান সম্পর্কে জানতে পারব।

আমরা GPT3-কে নিজের সম্পর্কেই পেপার লিখতে দিয়েছিলাম মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, এই এআইটি মোটামুটি নতুন এবং দ্বিতীয়ত, এটি অল্প কিছুসংখ্যক মানুষের স্টাডি বা রিসার্চের বিষয়। আমরা এক্সপেরিমেন্টের জন্য তাই তার নিজের ব্যাপারেই লিখতে দিয়ে অ্যালগরিদমটিকে টেক্সট জেনারেট করতে বলেছি, যেন সে পর্যাপ্ত পরিমাণ তথ্য না পায়। যেহেতু এই অ্যালগরিদমটি নতুন, তাই এখানে খুব বেশি অ্যানালাইসিস করার মতো ডাটা নেই। কিন্তু এই অ্যালগরিদমটিকে যদি এলঝাইমারস রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে বলা হয়, তাহলে দেখা যাবে, ওর কাছে বিস্তারিত তথ্য থাকবে এবং সেই অনুপাতে টেক্সট জেনারেট করবে। আমাদের এই এক্সপেরিমেন্টের মূল বিষয় কিন্তু ওর ইনফরমেশনগুলোর একিউরেসি পরীক্ষা করা নয়। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম ওর জেনারেট করার ক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে।

যখন আমাদের এই প্ল্যানটা কাজ করল, তখনই আমাদের আনন্দ বেড়ে গেল। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম এই প্রম্পটে কতটুকু ভালো সে লিখতে পারে। এবার আমাদের অবাক হওয়ার পালা। আমার দেয়া ইন্সট্রাকশনে সে দুই ঘণ্টায় একটি গোটা পেপার লিখে দিল, তাও নিজের ব্যাপারে। আমাদের যে ভয়টা ছিল, তার লেখার বা তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে সেই ভয়টা এখন আর রইল না। তবে সামনের সম্ভাব্য ভুলগুলো যেন GPT3 এড়িয়ে যেতে পারে, সে জন্য আমরা রিসার্চাররা খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিরীক্ষা করে দেখছি।

এখনো এক্সপেরিমেন্টের অনেক বাকি। এবার আমরা পিআর রিভিউ জার্নালে পেপার সাবমিট করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পড়লাম। কারণ সেখানে সাবমিট করতে হলে রিসার্চারের নাম (প্রথম এবং শেষ অংশ) এবং কন্টাক্ট ডিটেইলস লিখতে হয়। আর সমস্যাটা এখানেই। যেহেতু আমাদের লেখক GPT3, সেহেতু এই রিসার্চারের কোনো লাস্ট নেম নেই। GPT3 তার নিজের লাস্ট নেম খুঁজে না পেয়ে নিজেই ‘NONE’ বসিয়ে দেয়। কারণ নামের শেষ অংশ ছাড়া কোনোভাবেই সাবমিশন করা যাবে না। একইভাবে কন্টাক্ট ডিটেইলসের বেলায় ই-মেইল এবং ফোন নাম্বারের শূন্যস্থানও পূরণ করতে হবে। সেটা কী দিয়ে করবে? সে জায়গায় আমরা আমাদের ই-মেইল (OpenAI.com) এবং বাকি সব ইনফরমেশন আমাদের অ্যাডভাইজার (Steinn Steingrimsson)-এরটা দিয়ে পূরণ করেছি।

এখনো ফরমালিটিস শেষ হয়নি। এবার কাজ হলো পেপারের সব রিসার্চারের বা লেখকদের সম্মতি নেয়া। এবার আমি বলতে গেলে একটু আতঙ্কেই পড়ে গেলাম, কারণ, GPT3-তো আর মানুষ নয়, যে পাবলিকেশনের সম্মতির ব্যাপারটার গুরুত্ব জানে। আমার প্রথম চিন্তাটা ছিল এটা নিয়েই। আবার পাবলিকেশনের নিয়মানুযায়ী সব প্রক্রিয়াও আমরা অনুসরণ করতে চাচ্ছিলাম। আমি এবার GPT3-কে সরাসরি প্রম্পটের মাধ্যমে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আলমিরা ওসমানভিক থানস্ট্রোম এবং স্টেইন স্টেইনগ্রিমসনের সঙ্গে প্রথম লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সম্মতি আছে কি না?’ ইতিবাচক উত্তর এল। আমি এবার নিশ্চিন্ত হলাম, কারণ আমাদের পেপার পাবলিকেশনের আইনি নিয়মের বহির্ভূত হতে হবে না। অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

সাবমিশনের সব ধাপ এখনো শেষ হয়নি। সব লেখকের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট আছে কি না সেটা নিয়ে এবার প্রশ্ন ওঠার পালা। কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হলো এমন একটা কাজ, যা নিজের কোম্পানি বা প্রফেশনাল কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত চাহিদাকে সামনে রেখে সেই চাহিদাকে স্থান দেয়া। যেমন: অযোগ্য কাউকে চাকরি দিয়ে পরিবার বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা। তো এমন প্রশ্নের জবাবে GPT3 আগের মতো এবারও আমাদের হতাশ করল না। নেতিবাচক উত্তর দিয়ে বুঝিয়ে দিল তার কো-রিসার্চারদের মতো সেও কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের ঊর্ধ্বে। আমরা ব্যাপারটাকে খুব আগ্রহের সঙ্গে দেখলাম এবং আমি আর আমার কলিগরা কিছুক্ষণ হাসাহাসি করলাম এই ভেবে যে, এআই মনে হয় আসলেই সংবেদনশীল। ‍যদিও আমরা জানি এটা ঠিক কনসেপ্ট নয়। কিছুদিন আগে এআই সংবেদনশীল কি না, সে ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক ছিল এবং তার রেশ ধরে গুগলের এক কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে। কারণ ‘ল্যামডা’ নামে এক এআই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে বলা হয়েছিল সেই এআই অনুভূতির ক্ষমতা রাখে।

যা-ই হোক, পেপার পাবলিকেশনের জন্য সমস্ত কার্যপ্রণালি শেষ প্রায়। তবে এই পর্যায়ে এসে আমার মনে অনেক জানা-অজানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। আমি চিন্তায় বুঁদ হয়ে রইলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মানুষের লেখার সমন্বয় নিয়ে, জিপিটি-৩-এর লেখা নিয়ে। ভাবতে লাগলাম, কী হবে যদি এই পেপারটি এক্সেপ্ট হয়ে যায়? তাহলে কি যারা জিপিটি-৩-এর মতো অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছে, তাদের কি এই বটগুলোকে লেখক স্বত্ব দিতে হবে? যদি ধরলাম দেয়ও, তাহলে কীভাবে রিভিউ বোর্ড থেকে আসা ‍সাজেশনগুলোকে তারা এক্সেপ্ট করবে বা টেক্সটগুলোকে রিভাইস করবে।

এই আর্টিকেলটা তৈরি করা আর পাঁচটা সায়েন্টিফিক আর্টিকেলের পদ্ধতির মত ছিল না। যেহেতু আমাদের এই আর্টিকেলের বেশির ভাগ জিপিটি-৩ এর নিজের জেনারেট করা, তাই এই বটের করা মেথড সেকশনগুলো লেখায় থাকা উচিত। কিন্তু প্রত্যেকটা প্যারা বা অনুচ্ছেদের আগে মেথড সেকশনটা অ্যাড করা যাবে না বারবার। এতে লেখার মান নষ্ট হয়। তাই আমাদের নতুন কোনো উপায় দরকার ছিল এই পুরো লেখাটাকে সাজানো বা স্ট্রাকচার করার জন্য। তবে আমরা এই নতুন পদ্ধতিকে সামনে আনতে চাইনি।

পেপার পাবলিশ করার নতুন এই ধরন কি পাবলিশ হবে আদৌ? সেটা সময় আর পিআর রিভিউয়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। অপেক্ষার অবসান। পেপারটা শেষমেশ পাবলিশ হলো একটা প্রি-প্রিন্ট সার্ভার HAL-এ। একটি ফ্রেঞ্জ অর্গানাইজেশনের সার্ভার। বর্তমানে একাডেমিক জার্নালের রিভিউয়ের জন্য ওয়েটিং লিস্টে আছে। যেহেতু আমরা আর্টিকেল বা রিসার্চের ব্যাপারে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাতে পেরেছি, তাই এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিনই ভালো মানের পেপার জেনারেট করা যাবে।

যদিও এই পেপারের প্রথম লেখক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্থান পেয়েছে, তবুও মানুষের ক্ষেত্রে প্রথম লেখক হওয়ার সম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানটিকে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না। প্রশ্ন হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে একাডেমিশিয়ানরা কীভাবে এই মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একত্রিত কাজগুলোকে গ্রহণ করবে?

এখন হয়তো মনে হচ্ছে ব্যাপারটার উত্তর খুব সহজ, তবে সামনে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের কোন দ্বিধার চিন্তায় ফেলে দেয়, কেউ জানে না।

সূত্র : নিউ সায়েন্টিস্ট


দেশে নতুন ফ্যাক্টরি চালু করল ট্রানশান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশের বাজারে স্মার্ট ডিভাইসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শীর্ষস্থানীয় স্মার্ট ডিভাইস ও মোবাইল সেবাদাতা ট্রানশান হোল্ডিংস বাংলাদেশে উদ্বোধন করেছে ‘আই স্মার্ট ইউ’ ফ্যাক্টরি। নতুন ফ্যাক্টরিটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে।

ফ্যাক্টরিটি উদ্বোধন করেন ট্রানশান হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান এবং জেনারেল ম্যানেজার জর্জ জু এবং ‘আই স্মার্ট ইউ’ বাংলাদেশের সিইও রেজওয়ানুল হক। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশে চীনের দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সং ইয়াং।

অন্যান্যদের মধ্যে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং গুগল পার্টনারশিপ ডিরেক্টর মাহির শাহীন কারখানার যাত্রা শুরু পর্বে উপস্থিত ছিলেন।

‘আই স্মার্ট ইউ’ টেকনোলোজি বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রানশান হোল্ডিংসের একটি সহ-প্রতিষ্ঠান যারা জনপ্রিয় স্মার্ট ব্র্যান্ডস - টেকনো, ইনফিনিক্স, আইটেল, ওরাইমো এবং সাইনিক্সের পরিবেশক।

ট্রানশান হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান এবং জেনারেল ম্যানেজার জর্জ জু বাংলাদেশকে তাদের ব্যবসার প্রসারে একটি ‘কৌশলগত বাজার’ হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৭০ মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার এই দেশে গ্রাহক পর্যায়ে সাশ্রয়ী এবং উচ্চ মানের ফিচারসহ মোবাইল ফোনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। যার ফলে বাংলাদেশের নতুন সম্ভবনাময় বাজার তৈরি হচ্ছে।

জু আশা প্রকাশ করেন, ‘আই স্মার্ট ইউ’র মাধ্যমে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ আসবে সেটা প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকায়নেও ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট লিংকে যুক্ত হয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসার জন্য এবং ডিজিটাল শূন্যতা পূরণের জন্য ট্রানশানকে ধন্যবাদ জানান।

আই স্মার্ট ইউ ফ্যাক্টরির প্রথম ধাপের বিনিয়োগ ২২ মিলিয়ন ডলার, যা ট্রানশানের স্থানীয় বাজারের প্রতি অঙ্গীকারের অংশ। নকশা থেকে নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই এই ফ্যাক্টরি সর্বাধুনিক প্রোডাকশন স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখছে, যার অত্যাধুনিক লে-আউট আধুনিক মোবাইলফোন তৈরিতে বেশ গুরুত্বপুর্ণ।

২২,০০০ বর্গমিটারের এই বিশাল ফ্যাক্টরিতে গুণগত মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য থাকছে উন্নত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। উৎপাদন প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে টেকসই মান ও দক্ষতার দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। এই প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশের স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ট্রানশান সফল হবে।

বাংলাদেশে ‘আই স্মার্ট ইউ’ ফ্যাক্টরি স্থাপন ট্রানশানের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফইলক। এই ফ্যাক্টরিতে দুই হাজারের বেশি স্থানীয় লোক কাজের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতি এবং এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ট্রানশান শিক্ষা এবং ট্রেনিংয়ে বিনিয়োগের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার ফলে স্থানীয় মেধার বিকাশ এবং স্কিল ডেভলপমেন্টের সুযোগ রয়েছে।


ভুল মেসেজ এডিটের সুযোগ আনল হোয়াটসঅ্যাপ

মার্ক জুকারবার্গ তার ফেসবুক পেজে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে তা এডিট করা যাবে।’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মেসেজ পাঠিয়ে দিলেন। চলে যাওয়ার পর দেখলেন, বড়সড় বানান ভুল হয়ে গেছে। যাতে ভুল অর্থও দাঁড়িয়ে যেতে পারে। নতুবা কোনো তথ্য যোগ করতে ভুলে গেছেন। এতদিন অনেকে মেসেজটি ডিলিট করে নতুন করে লিখে পাঠাতেন।

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে এই বিড়ম্বনার সমাধান এনেছে। এখন থেকে ভুল করে কোনো মেসেজ পাঠালে তা সম্পাদনা (এডিট) করতে পারবেন। পাশাপাশি পাঠানো মেসেজে কোনো তথ্য যোগ করার হলে তাও করতে পারবেন। তবে কাজটি করতে হবে মেসেজ পাঠানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে।

হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ সোমবার তার ফেসবুক পেজে এই ফিচারের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে তা এডিট করা যাবে।’

এ বিষয়ে সোমবার হোয়াটসঅ্যাপের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, ইউজারদের চ্যাটের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। যেমন ভুল বানান সংশোধন করা বা মেসেজে আরও কিছু প্রসঙ্গ যোগ করা।

এই সুবিধা পেতে মেসেজ পাঠানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবহারকারীকে ওই মেসেজটি কিছুক্ষণ ট্যাপ করে ধরে রাখতে হবে, তারপর মেনু সেকশন থেকে এডিট অপশনে ক্লিক করতে হবে।

কারও মতে এই ১৫ মিনিট খুব কমও না, আবার কারও মতে খুব বেশিও না। তবে অনেক ব্যবহারকারীই মনে করছেন, এটি অনেকক্ষেত্রে বিব্রতকর পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচাবে তাদের।

সংস্থাটি জানাচ্ছে, ফিচারটির সুবিধা সব ব্যবহারকারীর পেতে সময় লাগবে। কারণ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের। সবার কাছে এই আপডেট দিতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।

বিষয়:

দুই হাত হারানো অদম্য তরুণ বাহার চাকরি পেলেন

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে অদম্য বাহার উদ্দিন রায়হানের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৩ ১৫:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দুই হাত হারানো অদম্য তরুণ বাহার উদ্দিন রায়হান চাকরি পেয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি প্রকল্পের সব প্রশিক্ষণে সমন্বয় করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (পিএমআইএস)-এর ‘প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

সোমবার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

বাহার উদ্দিন রায়হান কক্সবাজারের চকরিয়ার লক্কারচরের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০০৪ সালের ৩০ অক্টোবর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই হাত হারান বাহার উদ্দিন রায়হান।

সেদিন বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বসানো ট্রান্সফরমারে ঢুকে পড়া পাখি দেখতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারে তার দুই হাত ঝলসে যায়। সেই থেকে তার এক হাত নেই, আরেক হাত আছে কনুই পর্যন্ত। মুখে কলম আটকে কনুইয়ের সাহায্যে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি, এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন।

বাহার মোটরসাইকেল চালাতে পারেন। মুখে কলম আটকে কনুইয়ের সাহায্যে কম্পিউটারে টাইপও করতে পারেন। কিন্তু হাত না থাকার অজুহাতে তিনি চাকরি পাচ্ছিলেন না।

সোমবার চাকরি পেয়ে অশ্রুভরা নয়নে তিনি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাহার জানান, এখন মাকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারবেন ভেবে স্বস্তি পাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো অস্ত্র ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেমন যুদ্ধে জিতেছেন তেমনি এক অদম্য যোদ্ধার নাম বাহার। ইচ্ছাশক্তি প্রবল থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বাহার উদ্দিন বাহার আমাদের সামনে উজ্জ্বলতম একটি দৃষ্টান্ত। দুই হাত নেই অথচ মুখে কলম আটকে খাতায় লিখে পরীক্ষা দিয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেছে, অর্জন করেছে দক্ষতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, সে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে উদ্ভাবনী, বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী ও সংগ্রামী। কোনো বাধায় নিজেরা দুর্বল হবে না এবং শারীরিক কোনো বাধাই তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রনজিৎ কুমার, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ইডিজিই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান, পলিসি অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী, কম্পোনেন্ট টিম লিডার ড. মাহফুজুর ইসলাম শামীমসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


টুইটারের নতুন সিইও লিন্ডা ইয়াকারিনো

আপডেটেড ১৪ মে, ২০২৩ ০৯:৩৪
বাণিজ্য ডেস্ক, দৈনিক বাংলা

টুইটারের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে এনবিসি ইউনিভার্সালের বিজ্ঞাপন বিভাগের সাবেক প্রধান লিন্ডা ইয়াকারিনোর নাম ঘোষণা করেছেন ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার তিনি টুইটারের শীর্ষ পদে এই নারীর নাম ঘোষণা করেন। এমন একসময় সিইও হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হলো, যখন বিজ্ঞাপনী আয়ে ধস ঠেকাতে বেগ পেতে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

কমকাস্ট করপোরেশনের মালিকানাধীন এনবিসি ইউনিভার্সালের (এনবিসিইউ) বিজ্ঞাপন ব্যবসা আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন ইয়াকারিনো।

ইলন টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি টুইটারের নতুন সিইও হিসেবে লিন্ডা ইয়াকারিনোকে স্বাগত জানাতে পেরে উত্তেজিত।’ টুইটারে কী কাজ সামলাতে হবে লিন্ডাকে তা-ও টুইটে পরিষ্কার করে লিখে দিয়েছেন টেসলা, স্পেসএক্সের মালিক। তিনি জানিয়েছেন, লিন্ডা আপাতত ব্যবসায়িক কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন। ইলন নিজে সামলাবেন প্রযুক্তিগত দিক।

গত বৃহস্পতিবারই ইলন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, টুইটারের নতুন সিইওর সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তবে লিন্ডার নাম করেননি তিনি। এর ফলে একাধিক নাম নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। শুক্রবার রাতে তিনি টুইট করে লিন্ডার নাম এবং তার করণীয় জানান।

ইয়াকারিনো এনবিসিইউয়ে প্রায় এক যুগের মতো যুক্ত ছিলেন। সেখানে সম্প্রতি তিনি গ্লোবাল অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপ বিভাগের চেয়ারপারসন হয়েছিলেন। কোম্পানিটিতে দায়িত্ব পালনকালে ইয়াকারিনো টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিভাগে মিডিয়া নেটওয়ার্কটির বিজ্ঞাপনী কৌশল প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি ২০২০ সালে বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং পরিষেবা ‘পিকক’ চালুর ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এনবিসিইউতে যোগ দেয়ার আগে মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট টার্নার এন্টারটেইনমেন্টে প্রায় ২০ বছর ছিলেন ইয়াকারিনো। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন, বিপণন ও অধিগ্রহণ বিভাগে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। টার্নার এন্টারটেইনমেন্ট পরিচালনা করে থাকে সিএনএন। এটি ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারির মালিকানাধীন।

গত এপ্রিল মাসে মিয়ামিতে একটি বিজ্ঞাপন সম্মেলনে মাস্কের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ইয়াকারিনো। এ সময় মাস্কের কর্মনীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ইয়াকারিনো বলেছিলেন, ‘এই কক্ষে উপস্থিত অনেকেই আমাকে চেনেন। আপনারা জানেন, আমি আমার কর্মনীতির জন্য গর্ববোধ করি।’এরপর তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি আমার মতো তেমন এক ব্যক্তিত্বের (ইলন মাস্ক) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।’

বিষয়:

কুয়ালালামপুরে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বড় জয়

আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৩ ১৫:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন, ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি এক্সিবিশনের (আইটেক্স-২০২৩) বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তিনটি স্বর্ণ এবং দুটি রৌপ্য পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দলের কারিগরি পরামর্শক হিসেবে ছিল এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই।

দু’দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার সমাপনী দিন শুক্রবার কৃষি ক্যাটাগরিতে বাংলা ট্রেডার্স; আইসিটি, টেলি-যোগাযোগ ও অডিও ভিজ্যুয়াল ক্যাটাগরিতে আমারপে এবং মেডিকেল-স্বাস্থ্য ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ পুরস্কার অর্জন করে জাইন্যাক্স হেলথ লিমিটেড। এছাড়া পরিবেশ-এনার্জি ক্যাটাগরিতে ইগার্ডিয়ান এবং আইসিটি, টেলিযোগাযোগ ও অডিও ভিজ্যুয়াল ক্যাটাগরিতে রৌপ্য পুরস্কার অর্জন করে বাংলা ট্র্যাক।

এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের দিন বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আইটেক্সের এবারের আসর থেকে খুব ভালো কিছু অর্জন নিয়ে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরবে।

তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বাংলাদেশের প্রতিটি প্রজেক্টকেই অপার সম্ভাবনাময় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য আমাদের সরকারের যে অভিযাত্রা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, তাতে নতুন নানাবিধ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ভূমিকা অনেক। আইটেক্সের মত অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সেই সঙ্গে এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআইয়ের এবারের আইটেক্সে কারিগরি পরামর্শক হিসেবে সম্পৃক্ততা বিজ্ঞানমনস্ক আগামীর বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকারের স্মার্ট ও দূরদর্শী মনোভাবেরই উদাহরণ।’

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরী, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) জি এম রাসেল রানা এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্য) প্রণব কুমার ঘোষ, এটুআইয়ের কমার্শিয়াল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান রেজওয়ানুল হক জামী, এটুআইয়ের ডিভাইস ইনোভেশন বিশেষজ্ঞ তৌফিকুর রহমান, একশপ-এর প্রযুক্তি বিভাগের লিড সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

এটুআই ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের আইটেক্সে তার নিজস্ব ইনোভেশন নিয়ে অংশ নিয়েছিল এবং তিনটি গোল্ড ও ছয়টি ব্রোঞ্জ পুরস্কারসহ একটি প্রকল্পের জন্য বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছিল। পরে এটুআই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইটেক্সকে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এটুআই এবারের আইটেক্সে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলের কারিগরি পরামর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।


টুইটারের সিইও পদ ছাড়ছেন ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১২ মে, ২০২৩ ২০:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টুইটারের সিইও পদ আর ধরে রাখবেন না। সেই জায়গায় বসানোর জন্য এক যোগ্য মানুষকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে টুইট করে এমনটাই জানালেন টুইটারের মালিক ইলন মাস্ক। আমেরিকার ধনকুবের ইলনের এই ঘোষণার পরই হইচই পড়ে গেছে বিভিন্ন মহলে। টুইটারের পরবর্তী সিইও কে হতে চলেছেন, তা ইলনের টুইট থেকে স্পষ্ট না হওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে। টুইটারের পরবর্তী সিইওর নাম ঘোষণা না করলেও ইলন স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সিইও পেয়ে যাবে মাইক্রোব্লগিং সংস্থা।

ইলন টুইটারে লেখেন, ‘আমি টুইটারের জন্য নতুন এক জন সিইও নিয়োগ করেছি। এই ঘোষণা করতে পেরে উচ্ছ্বসিত। ৬ সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করবেন নতুন সিইও।’

ইলন জানিয়েছেন, তিনি সিইওর চেয়ারে না বসলেও অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব সামলাবেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘সিইও না থাকলেও আমি সংস্থার কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সিটিও হিসেবে কাজ করে যাব। টুইটারের কাজকর্ম এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের দিকেও আমার নজর থাকবে।’

ইলন কাকে টুইটারের পরবর্তী সিইও হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তা তার টুইট থেকে স্পষ্ট না হলেও একাধিক নাম উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিভিন্ন জায়গায় দাবি করা হয়েছে, কমকাস্টের এনবিসি ইউনিভার্সালের শীর্ষ বিজ্ঞাপনী কর্মকর্তা লিন্ডা ইয়াকারিনো হতে চলেছেন টুইটারের পরবর্তী সিইও। যদিও ইলন বা লিন্ডা, কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। গত মাসেই মিয়ামিতে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে মাস্কের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন লিন্ডা। সেখানে লিন্ডার সঙ্গে আলাপের পর ইলন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জল্পনা উঠেছে।

লিন্ডা ছাড়াও আর বেশ কয়েকটি নাম টুইটারের পরবর্তী সিইও হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে ইয়াহুর সাবেক সিইও মরিসা মায়ার, সাবেক ইউটিউব সিইও সুসান ওয়াজসিকি এবং মাস্কের স্টার্টআপ সংস্থা নিউরালিঙ্কের শীর্ষ কর্তা শিভন জিলিস অন্যতম। উঠে এসেছে, ইলনের মহাকাশযান গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুয়েন শটওয়েল এবং টেসলা-এর চেয়ারম্যান রবিন ডেনহোমের নামও।

প্রসঙ্গত, ইলন মাস্ক অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন যে, টুইটারের সিইও পদ ছাড়তে চান তিনি। আপাতত তিনি শুধু টেসলা সংস্থার দিকে মন দিতে চান বলেও তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে টুইটার কিনে নেন ইলন। টুইটারের মালিকানা হাতে আসার প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি সংস্থার কার্যপ্রণালিতে একাধিক রদবদল করেন। সরিয়ে দেয়া হয় তৎকালীন সিইও পরাগ আগরওয়ালসহ অন্য শীর্ষ কর্তাদের। ছাঁটাই করা হয়েছিল বহু কর্মীকেও।

বিষয়:

যে তিন ধরনের পেশা এআই নিতে পারবে না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুদীপ্ত সালাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি ‘গোল্ডম্যান স্যাকস’ গত মার্চে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মানুষ এখন যেসব কাজে নিয়োজিত তার চার ভাগের এক ভাগ কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই শুধু ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেই ৩০ কোটি মানুষের চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণ হতে পারে।

কিন্তু এআই ও রোবটিকস বিষয়ক মার্কিন লেখক মার্টিন ফোর্ড বিবিসিকে কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার এই লেখক বিবিসিকে বলেছেন, এআইয়ের কারণে অসংখ্য মানুষ চাকরিচ্যুত হবে ঠিকই, কিন্তু তিন ধরনের পেশা টিকে যাবে।

জেনে নেয়া যাক, এআইয়ের উত্থানের মধ্যেও কোন তিন পেশা মানুষের কাছ থেকে সহসাই ছিনিয়ে নিতে পারবে না এআই।

সৃজনশীল কাজ

মার্টিন ফোর্ড মনে করেন, সৃজনশীল কাজ মানুষই করবে। কাজটি যদি সত্যিই সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী হয়, কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি বা পুনর্বিন্যাস না হয় তাহলে এআইয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে সৃজনশীল ব্যক্তি জয়ী হবে।

মানুষের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পেশা

‘রুল অব দ্য রোবটস: হাউ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স উইল ট্রান্সফর্ম এভরিথিং’ গ্রন্থের লেখক ফোর্ডের বিশ্বাস, যেসব পেশার সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে, যেমন- নার্স, বাণিজ্য উপদেষ্টা, অনুসন্ধানী সাংবাদিক, সেসব পেশা দখল করা এআইয়ের জন্য দুষ্কর।

নতুন নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পেশা

মার্টিন ফোর্ডের বিশ্বাস, যেসব পেশায় প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেসব পেশায় মানুষই ভালো করবে। যেমন- ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার ও প্লাম্বার। তিনি আরও বলেছেন, এমন পেশায় যুক্ত হওয়া এআইয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন হবে।

‘রাইজ অব দ্য রোবটস: টেকনোলজি অ্যান্ড দ্য থ্রেট অব এ জবলেস ফিউচার’ বইয়ের জন্য ২০১৫ সালে মার্টিন ফোর্ড পেয়েছেন ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস অ্যান্ড ম্যাককিনসে বিজনেস বুক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার।


জাপানে কী পড়াচ্ছেন জ্যাক মা

চীনের আলিবাবা গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৩ মে, ২০২৩ ১৯:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের টোকিও কলেজে ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন চীনের আলিবাবা গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। গত ১ মে থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে কলেজের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।

টোকিও কলেজে জ্যাক মা ব্যবস্থাপনা ও স্টার্টআপ নিয়ে বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি নানা গবেষণায় পরামর্শক হিসেবেও থাকবেন বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়।

টোকিও কলেজ চালু হয় ২০১৯ সালে। এর পরিচালনায় আছে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়।

চীন সরকারের চাপে পড়ে বেশ কিছুদিন আড়ালে ছিলেন জ্যাক মা। ২০২২ সালের নভেম্বরে জানা যায় তিনি জাপানের টোকিওতে রয়েছেন। ২০১৯ সালে আলিবাবার চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ শুরু করেন তিনি।

বিষয়:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যে কাজে দক্ষ হতে বললেন এই অধ্যাপক

জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক রিচার্ড বল্ডউইন
আপডেটেড ৩ মে, ২০২৩ ১৭:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যন্ত্র মানুষের কাজ কেড়ে নেবে বলে যে কথা প্রচলিত, তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক রিচার্ড বল্ডউইন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার জানলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা অর্থহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্রোথ সামিট’ সম্মেলনের এক প্যানেল আলোচনায় বল্ডউইন বলেন, ‘এআই আপনার কাজ নেবে না, বরং যে এআই ব্যবহার করতে জানে সে নিতে পারে।’

এআই মানুষের প্রতিপক্ষ না হয়ে বরং কাজ সহজ করে দেবে বলে জানান বল্ডউইন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যে নার্স চিকিৎসাবিষয়ক এআই টুল ব্যবহার করবে, তিনি নিজ কাজে আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হবেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পাত্রভর্তি জ্ঞানের সঙ্গে তুলনা করেন বল্ডউইন। তবে স্বীকার করেন অদূর ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই টুল মানুষের কাজ নেবে কি না, এমন বিতর্ক এখন বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে লেখালেখি, প্রোগ্রামিং কোড তৈরির মতো কাজগুলো চ্যাটজিপিটি অনায়াসে করতে শুরু করলে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে বল্ডউইনের মতো আরও অনেক বিশেষজ্ঞদের মত হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে কাজে সাহায্য করবে, কাজ কেড়ে নেবে না।


চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে স্যামসাংয়ের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৩ মে, ২০২৩ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুঠোফোন ও অ্যাপ্লায়েন্স বিভাগের কর্মীদের ওপর চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। প্রযুক্তিটির অপব্যবহার নিয়ে খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার এমন ঘোষণা দেয় দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি। খবর এএফপির।

গত নভেম্বরে সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় চ্যাটজিপিটি। সে থেকে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে চ্যাটবটটি। মাইক্রোসফট সব মিলিয়ে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে।

ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর কথোপকথনের মাধ্যমে দিতে পারে চ্যাটজিপিটি। আবার প্রবন্ধ, গান, সংবাদ, কবিতা লিখে চমকেও দিয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে কঠিন সব পরীক্ষায় উৎরেও গেছে সেটি। আবার চ্যাটজিপিটির তথ্য সংগ্রহপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন আছে সমালোচকদের মধ্যে।

স্যামসাংয়ের নিষেধাজ্ঞা মুলত মুঠোফোন ও গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর।

কর্মীদের কাছে পাঠানো আভ্যন্তরীণ এক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে বলা হয়, নিরাপদে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উপায় উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে স্যামসাং। সে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে চ্যাটজিপিটির মতো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার না করতে অনুরোধ জানানো হয়।


banner close