সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

এক বছরে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে ৪৮ লাখ

এক বছরে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে ৪৮ লাখ
ফেসবুক। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বর্তমানে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৫ কোটি ২৮ লাখ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে মতবিনিময় সভায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে ফেসবুক ও বিটিআরসির মধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশে ৪ কোটি ৮০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর কথা জানানো হয়েছিল। সে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত বছর আগস্টে। অর্থাৎ এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী বাড়ল ৪৮ লাখ।

গতকাল সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল গাইডেন্স’ সেবা বিনা মূল্যে দিতে মোবাইল অপারেটরদের অনুরোধ করেন। শিশু অনলাইনে কী কী দেখতে পাবে, তা ঠিক করে দেয়া যায় সেবাটির মাধ্যমে।

শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘বিটিআরসি নিজে কোনো ব্যবসা করে না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে। এটি একটি শক্তিশালী সংগঠন। সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য ইন্টারনেট সেবাকে সবার কাছে সহজলভ্য করে তোলা। দেশে ৯৮ শতাংশ এলাকায় ফোর-জি সেবা চালু রয়েছে।’

সাইবার জগতে ক্রমবর্ধমান পর্নোগ্রাফি, জালিয়াতি ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা সেল তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘বিটিআরসির শক্তিশালী ডেটাবেজ রয়েছে। যেকোনো অপারেটরের সিম ক্রয়ের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। এতে এনআইডির মাধ্যমে জানা যায় গ্রাহক কয়টি সিম ব্যবহার করছেন। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এটা বড় অগ্রগতি।’

গ্রাহকের কলড্রপের ভোগান্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় কলড্রপ হলে টাকা ফেরত পাওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ সেবাবঞ্চিত হলে হেল্পলাইন ১০০ নম্বরে ফোন করে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে।’

সভায় বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আব্দুর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।


বিআইজেএফের সভাপতি নাজনীন, সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন

বিআইজেএফের সভাপতি নাজনীন, সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন
বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের ২০২২-২৪ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) ২০২২-২৪ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিআইজেএফের প্রথম নারী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাজনীন নাহার (টেক ওয়ার্ল্ড) এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সাব্বিন হাসান (বার্তা২৪ ডটকম)।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদে সভাপতি পদে টেকওয়ার্ল্ডের নাজনীন নাহার, সহ-সভাপতি পদে কম্পিউটার বিচিত্রার ভূঁইয়া ইনাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক পদে বার্তা২৪ ডটকমের সাব্বিন হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন সময়ের সাজেদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে বিজটেকের সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ঢাকাপোস্টের আরিফুল ইসলাম, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ঢাকা মেইলের আসাদুজ্জামান লিমন এবং নির্বাহী সদস্য পদে ডিজিটাল সময়ের এনামুল করিম ও ডিজি বাংলার ইমদাদুল হক নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর চারটি পদে ভোট গ্রহণ হয়। ওই ভোটে সভাপতি পদে নাজনীন নাহার এবং সমকালের মো. জাকির হাসান সমানসংখ্যক (২৫টি করে) ভোট পেয়েছিলেন। ফলে সভাপতি পদ ছাড়াই বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিআইজেএফের নির্বাচন কমিশন। সে সময় সমান ভোট পাওয়া সভাপতি পদে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিআইজেএফের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন আবদুল্লাহ এইচ কাফি। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ আর এম মাহমুদ হোসেন ও পল্লব মোহাইমেন। আপিল বোর্ডে ছিলেন সুমন ইসলাম ও আরিফুল হাসান।


টিভি কিনবেন কোনটা

টিভি কিনবেন কোনটা
কতটা দূরত্বে বসে দেখবেন সেটি ঠিক করে টিভির সাইজ বা আকার নির্ধারণ করুন। ছবি: সংগৃহীত
সাদিকুর রহমান
প্রকাশিত

  • সাদিকুর রহমান

একে তো হাতে নানা ‘অপশন’, অপরদিকে ভাবতে হচ্ছে বাজেটের কথাও। এমন অবস্থায় কোন ধরনের ও ব্র্যান্ডের টিভি কেনাটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে—সব ছাপিয়ে সেটিই হয়ে উঠল চিন্তার মূল বিষয়।

চিন্তার বিষয় এখানেই শেষ নয়। ইদানীং ইলেকট্রনিকস পণ্য কিনতে গেলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের যুক্তি মেশানো পরামর্শও ফেলে দেয়া যায় না। ‘কিনবা যখন তখন ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রাখো। একটু বড় দেখে কিনে ফেলো, পরিবারে সদস্য বাড়লেও যাতে ব্যবহার করতে সমস্যা না হয়।’ অর্থাৎ বিষয়টা দাঁড়াল, কিছু কিছু জিনিস কেনার আগে অনেকটা ‘পরিবার পরিকল্পনা’র কাজটাও সেরে ফেলার অবস্থা।

বাসার দেয়ালে ঝোলানো বা টেবিলে রাখা টেলিভিশনটা পরিবারের সদস্যের মতোই। ব্যস্ত জীবন আর স্মার্টফোনের যুগে কিছু সময়ের জন্য হলেও এই টিভির সামনেই পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। তাই টিভির গুরুত্ব এখনো হারিয়ে যায়নি।

এবার আসা যাক মূল কথায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশনও তার ধরন বদলেছে। শুরুতে যে ‘অপশন’-এর কথা বলা হয়েছে সেটিও তৈরি হয়েছে টিভির ধরন বদলানোর কারণে। নানা আকারের (ইঞ্চি) বেসিক টিভি, স্মার্ট টিভি তো আছেই, সঙ্গে অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড, টাইজেন নাকি ওয়েব ওএস হবে, সেটাও ভাবার বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিসপ্লে প্যানেল আর সাউন্ড সিস্টেম। কারণ টিভি তো দেখা আর শোনার যন্ত্র, তাই এগুলো মনমতো হওয়ার ব্যাপার থাকে। সম্প্রতি বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবকিছুর মিশেল এক টিভিতে পাওয়া কঠিন ব্যাপার। আবার কিছু টিভিতে সব পাওয়া গেলেও তা ছাড়িয়ে যায় মধ্যবিত্তের বাজেটকে। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের সমাধান পাওয়া গেল ইউটিউবে।

বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের টিভির রিভিউ দেখে নানাবিধ ‘অপশন’ ধীরে ধীরে ছোট হতে লাগল। প্রথম যে অপশনটা চূড়ান্ত করতে হয়েছে, তা হলো টিভির ডিসপ্লে প্যানেল। মূলত দুই ধরনের প্যানেলের টিভি বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায়। একটি ইন-প্লেন সুইচিং (আইপিএস), অন্যটি ভার্টিকাল অ্যালাইনমেন্ট (ভিএ)। আইপিএস প্যানেলের টিভিতে শার্পনেস ভিএর তুলনায় বেশি থাকে। ছবির রং স্পষ্ট বোঝা যায়, বিশেষ করে বেসিক রংগুলো (সাদা, কালো, লাল, নীল ও হলুদ) যেমন তেমনই দেখায়। মুভিং দৃশ্যগুলো মসৃণ হয়। বিশেষ করে খেলা দেখার সময় বা গেম খেলার জন্য এই প্যানেলের টিভি বেশ কার্যকর। অপরদিকে ভিএ প্যানেলের টিভিতে শার্পনেসের কিছুটা ঘাটতি থাকে, ছবির রংগুলো বেশ গাঢ় ও ভিভিড দেখায়। বেসিক রংগুলো বেশি গাঢ় দেখানোর ফলে চোখে লাগে। শার্পনেসের কিছুটা ঘাটতি থাকার কারণে ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলা দেখার সময় বল খুঁজতে হয়।

এবার আসা যাক সাউন্ড সিস্টেমে। ব্র্যান্ড ও দামভেদে এই জিনিসের তারতম্য হয়। সাধারণত বাজেট সাশ্রয়ী টিভিগুলোতে স্টেরিও সাউন্ড সিস্টেম থাকে। ডলবি ডিজিটাল পেতে হলে বাজেটও বাড়াতে হবে। ফেয়ার ইলেকট্রনিকস, ওয়ালটন, ভিশন, হায়ার, সিঙ্গার, বাটারফ্লাই, র‌্যাংগস, ট্রান্সকম ডিজিটাল, এসকোয়ার ইলেকট্রনিকসের গুলশান, রামপুরা, বনশ্রী এলাকার শোরুমগুলো ঘোরা হয়েছে সম্প্রতি। বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩২ ও ৪৩ ইঞ্চির ক্ষেত্রে এলজি ব্র্যান্ডের টিভিতে আইপিএস প্যানেল ও ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম একসঙ্গে পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ৩২ ইঞ্চি টিভির যে দাম পড়ে সে দামে কয়েকটি ব্র্যান্ডের ৪৩ ইঞ্চি টিভি পাওয়া যায়। অর্থাৎ বাজেট যদি ৪০-৫৫ হাজারের মধ্যে হয় এবং ৪৩ ইঞ্চি টিভি কিনতে চান, তাহলে ভিএ প্যানেলের টিভি কিনতে হবে। আর বাজেট এর বেশি থাকলে বড় আকারের পাশাপাশি আইপিএস প্যানেল ও ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমের টিভি মিলে যাবে।

কয়েকটি শোরুমে দেখা গেছে, বিক্রয় প্রতিনিধিরা টিভির প্যানেল সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা রাখেন না। সে ক্ষেত্রে প্যানেল বোঝার সহজ উপায় হলো, বিক্রিয় প্রতিনিধিকে টিভির পর্দায় হালকা চাপ দিয়ে আঙুল এদিক সেদিক নাড়াতে বলা। টিভি চালু থাকা অবস্থায় আঙুলের চাপ দেয়া স্থানে যদি সাদাটে ও রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি ভিএ প্যানেলের। আইপিএস প্যানেলে সাধারণত এমনটা হয় না।

এবার ভাবার বিষয় কত ইঞ্চি টিভি কিনবেন। এটি নির্ধারণ করতে হবে কতটা দূরে বসে টিভি দেখবেন সেটা মেপে। বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ও গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ৩-৪ ফুট দূরত্বে বসে ৩২ ইঞ্চি টিভি দেখার ভালো অভিজ্ঞতা হয়। এর বেশি ৬-৭ ফুট দূরত্বে বসে ৪৩ ইঞ্চি টিভি ভালোভাবে দেখা যায়। অর্থাৎ আপনি কতটা দূরত্বে বসে দেখবেন সেটি ঠিক করে টিভির সাইজ বা আকার নির্ধারণ করুন। এরপর বাসায় এনে দেখতে বসে যান।


প্রতি কলড্রপে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহকরা

প্রতি কলড্রপে তিনগুণ  ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহকরা
কলড্রপ হলে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মোবাইল অপারেটরদের। এ নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিটিআরসি। ছবি: দৈনিক বাংলা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বিটিআরসির নতুন নিয়ম চালু ১ অক্টোবর

মুঠোফোনে কথা বলার সময় প্রথম মিনিটে কলড্রপে হলে এখন থেকে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহকরা। এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে দেশের মোবাইল অপারেটরদের। পাশাপাশি কলড্রপের হিসাব গ্রাহক মুঠোফোনের মাধ্যমেই জানতে পারবেন। ১ অক্টোবর থেকে এ নিয়ম চালুর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

রাজধানীর রমনায় বিটিআরসির কার্যালয়ের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। ‘মোবাইলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংগঠিত কলড্রপ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিটিআরসি।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের কলড্রপের হিসাব, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার হারের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মুঠোফোন অপারেটর টেলিটকের কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে বিটিআরসির বক্তব্য হচ্ছে, টেলিটকের হিসাব চাওয়া হয়েছে। সে হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছে নেই। কিন্তু কলড্রপ হলে টেলিটককেও গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। টেলিটককে আলাদা সুবিধা দেওয়া হবে না।

এতোদিন কোনো মোবাইল অপারেটরই প্রথম কলড্রপের জন্য গ্রাহককে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতো না। অথচ বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রাহকের যত কলড্রপ হয়, তার ৬৫ শতাংশই প্রথম কলড্রপ। বর্তমানে গ্রামীণফোন ও রবি তৃতীয় থেকে সপ্তম কলড্রপের ক্ষেত্রে প্রতি কলড্রপে এক মিনিট করে ফেরত দেয়। আর বাংলালিংক দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ কলড্রপ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে অপারেটরগুলোর নিজস্ব (অননেট) কলের ক্ষেত্রে প্রথম কলড্রপের জন্য গ্রাহকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (অফনেট) কলের ক্ষেত্রে আপাতত এ নিয়ম চালু হচ্ছে না। *১২১*৭৬৫# নম্বরে ডায়াল করে গ্রাহকেরা পূর্ববর্তী দিন, সপ্তাহ ও মাসের কলড্রপের সংখ্যা জানতে পারবেন। অননেট কল ড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয় কলড্রপের ক্ষেত্রে তিনটি পালস (৩০ সেকেন্ড) এবং পরবর্তী তৃতীয় থেকে সপ্তম কলড্রপের জন্য ৪০ সেকেন্ড গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হবে।

কলড্রপের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া মিনিটগুলো পরবর্তী দিনের প্রথম কলে ব্যবহার হবে। ফেরত পাওয়া মিনিট পুরোপুরি ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা কাটা যাবে না। এ ছাড়া ফেরত দেওয়া মিনিটের বিষয়ে গ্রাহককে খুদেবার্তা পাঠিয়ে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জানাতে হবে মুঠোফোন অপারেটরদের।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ দেশের মুঠোফোন অপারেটরগুলোর চলতি বছরের মে মাসের ৩১ দিনের কলড্রপের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, মে মাসে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মোট অননেট কলড্রপ হয়েছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩২টি। এর মধ্যে প্রথম কলড্রপ ৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৭টি, দ্বিতীয় কলড্রপ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ১৭৮টি, তৃতীয় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৬টি, চতুর্থ ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৬টি, পঞ্চম ১৫ লাখ ৪১ হাজার ১৬০টি, ষষ্ঠ ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩১০টি এবং সপ্তম ১০ লাখ ২৬ হাজার। এর বাইরে অষ্টম হতে আরও কলড্রপের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২টি।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, প্রতি কলড্রপেই ১০ সেকেন্ড করে গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে অপারেটরদের। কলড্রপ শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। অপারেটরগুলোও চায় না কলড্রপ হোক। অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেই কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টেলিটকের কলড্রপের কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি, টেলিটককে আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, টেলিটকও এই নতুন নিয়মে আছে। টেলিটককে আলাদা কোনো সুযোগ দেওয় হচ্ছে না। তারা একটু পিছিয়ে আছে। তাদের একটু সময় দেওয়া হচ্ছে।

অফনেটের কলড্রপের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গ্রাহকেরা কবে পাবেন-সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর বলেন, অফনেট কলড্রপের ক্ষেত্রে কোন অপারেটর দায়ী তা বের করা কঠিন। এর জন্য টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। শিগগির এটা করা হবে।

অপারেটরগুলো গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিয়মিত দিচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি মহাপরিচালক নাসিম পারভেজ বলেন, অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক পরিদর্শন করে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম থেকে তথ্য নেওয়া হয়। অপারেটরগুলো যা খুশি তাই তথ্য দিতে পারেন না। সেখানে নিজের সুবিধার্তে তথ্য বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেনসের মাধ্যমে বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও ডাক ও টেলিযোযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে মুঠোফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা আবিস্কার

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা আবিস্কার
বিজ্ঞান পাঠশালার আয়োজনে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রের অংশগ্রহণকারীরা। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের কার্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। এই টেলিস্কোপ মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের কার্যালয়ে বিজ্ঞান পাঠশালার আয়োজনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে এমনটাই মন্তব্য করেন আলোচকেরা। এবারের পাঠচক্রের বিষয়বস্তু ছিল জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।

পাঠচক্রের প্রধান আলোচক ছিলেন বিজ্ঞান লেখক মেরাজ নাজির। আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং কবি ও ঔপন্যাসি বরুণ কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় পাঠচক্রে সম্পূরক আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন এবং আব্দুস সাত্তার খান।

পাঠচক্রে আলোচকেরা বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা আবিস্কার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। টেলিস্কোপটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিস্ময়কর কিছু ছবি পাঠিয়েছে, যেগুলো মূলত অতীতের ছবি। টেলিস্কোপটি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির বর্ণচ্ছটা, উপগ্রহ এবং গ্রহটির বলয়ের ছবি তুলেছে। মহাকাশ গবেষণায় এসব ছবি নতুনতর দিকের সূচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ও কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর গায়ানা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ফরাসি বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানির মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। গত ১২ জুলাই থেকে এটি ছবি পাঠাতে শুরু করেছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সেসব ছবি পাঠিয়েছে, সেগুলো প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগের। টেলিস্কোপটি মহাকাশ গবেষণায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বলে আলোচকেরা প্রত্যশা ব্যক্ত করেন।


পুরোনো সুবিধায় এল নতুন আইফোন

পুরোনো সুবিধায় এল নতুন আইফোন
আইফোন।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আইফোন ১৪ সিরিজের চারটি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। থাকছে জরুরি স্যাটেলাইট সংযোগ এবং গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্তের ব্যবস্থা। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান কার্যালয়ে আরও দেখানো হয় নতুন স্মার্ট ঘড়ি এবং একজোড়া ইয়ারবাডস।

নতুন আইফোনগুলোতে নতুনত্ব যে নেই, তা নয়। তবে ব্যবহারকারীর জন্য তা কতটা কাজের, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই আমরা নতুন আইফোনের ফিচারগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রে সিমকার্ড স্লট থাকছে না

অপটিক্যাল ড্রাইভ, হেডফোন জ্যাক কিংবা ইউএসবি-এ পোর্ট বাদ দিয়ে এর আগে খবরের শিরোনাম হয়েছে অ্যাপল। এবার হলো যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৪ সিরিজের স্মার্টফোন থেকে সিমকার্ড স্লট বাদ দিয়ে। মার্কিন মুলুকে সেলুলার নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে চাইলে ভরসা কেবল ই-সিম। এর আগেও আইফোনে এমন সুবিধা ছিল, তবে ঐচ্ছিক।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি সেবা

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি এসওএস সেবা থাকছে নতুন আইফোনগুলোতে। যে এলাকায় সেলুলার নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সুবিধাটি ব্যবহার করা যাবে। তবে এখনই মিলছে না, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় মিলবে। প্রথম দুই বছর সেবাটি বিনামূল্যে দেবে অ্যাপল। তারপর কত খরচ হবে, তা জানায়নি।

এবার আর ‘মিনি’ আইফোন নেই

আইফোন ১৪ সিরিজের ছোট স্মার্টফোনটির ডিসপ্লেই ৬.১ ইঞ্চির। আগেরবারের মতো এবার আর কোনো ‘মিনি’ সংস্করণ রাখেনি, তবে আগের আইফোন ১৩ মিনি কেনার সুযোগ রেখেছে। বাজারে স্মার্টফোনটির কাটতি কম, তা আগেই জানিয়েছিল বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ক্যামেরাতেই তবু কিছুটা নতুনত্ব

আগের মডেলগুলোর সঙ্গে তুলনায় নতুন আইফোনগুলোর সবচেয়ে বড় হালনাগাদ বোধ হয় ক্যামেরায়। তা-ও কেবল ‘প্রো’ মডেল দুটিতে। এতে যুক্ত হয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। অপর দুটি মডেলে সেই চিরাচরিত ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাই থাকছে।

দুর্ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় সাড়া

‘ক্র্যাশ ডিটেকশন’ নামে নতুন একটি ফিচার থাকছে আইফোন ১৪ সিরিজে। নতুন অ্যাপল ওয়াচেও তা থাকছে। ব্যবহারকারী দুর্ঘটনায় পড়লে তা শনাক্ত করবে বেশ কিছু সেন্সরের সমন্বয়ে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে খবর চলে যাবে জরুরি সেবাদাতা এবং ব্যবহারকারীর পূর্বনির্ধারিত মানুষদের কাছে।

আইফোনের চারটি মডেলের মধ্যে তুলনা


আইফোন ১৪

আইফোন ১৪ প্লাস

আইফোন ১৪ প্রো

আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স

ডিসপ্লে

৬.১ ইঞ্চি ওলেড

৬.৭ ইঞ্চি ওলেড

৬.১ ইঞ্চি সুপার রেটিনা

৬.৭ ইঞ্চি সুপার রেটিনা

আকার

৫.৭৮ x ২.৮২ x ০.৩১ ইঞ্চি

৬.৩৩ x ৩.০৭ x ০.৩১ ইঞ্চি

৫.৮১ x ২.৮১ x ০.৩১ ইঞ্চি

৬.৩৩ x ৩.০৫ x ০.৩১ ইঞ্চি

ক্যামেরা (পেছনে)

১২ (ওয়াইড), ১২ (আলট্রাওয়াইড)

১২ (ওয়াইড), ১২ (আলট্রাওয়াইড)

৪৮ (ওয়াইড), ১২ (আলট্রাওয়াইড), ১২ (টেলিফটো)

৪৮ (ওয়াইড), ১২ (আলট্রাওয়াইড), ১২ (টেলিফটো)

ক্যামেরা (সামনে)

১২ মেগাপিক্সেল

১২ মেগাপিক্সেল

১২ মেগাপিক্সেল

১২ মেগাপিক্সেল

প্রসেসর

অ্যাপল এ১৫ বায়োনিক

অ্যাপল এ১৫ বায়োনিক

অ্যাপল এ১৬ বায়োনিক

অ্যাপল এ১৬ বায়োনিক

স্টোরেজ

১২৮/২৫৬/৫১২ গিগাবাইট

১২৮/২৫৬/৫১২ গিগাবাইট

১২৮/২৫৬/৫১২ গিগাবাইট/১ টেরাবাইট

১২৮/২৫৬/৫১২ গিগাবাইট/১ টেরাবাইট

র‍্যাম

৪ গিগাবাইট

৪ গিগাবাইট

৬ গিগাবাইট

৬ গিগাবাইট

ব্যাটারি

টানা ২০ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক

টানা ২৬ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক

টানা ২৯ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক

টানা ২৯ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক

দাম

৭৯৯ থেকে ১০৯৯ ডলার

৮৯৯ থেকে ১১৯৯ ডলার

৯৯৯ থেকে ১৪৯৯ ডলার

১০৯৯ থেকে ১৫৯৯ ডলার