শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
১৪ ভাদ্র ১৪৩২

দেখতে চাইলে সবুজ ধূমকেতু

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:৪৯

পৃথিবী থেকে এই প্রথমবারের মতো খালি চোখে দেখা যাবে সবুজ ধূমকেতু। ৫০ হাজার বছর পর রাতের আকাশে এর আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে।

ধূমকেতু হলো বরফ, ধুলা ও গ্যাসের সমন্বয়ে তৈরি এক মহাজাগতিক বস্তু। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জুইকি ট্রানসিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি গত বছরের ২ মার্চ বৃহস্পতি গ্রহ অতিক্রম করার সময় ধূমকেতুটির দেখা পায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুটি মহাবিশ্বের উর্ট ক্লাউড নামে একটি এলাকা থেকে এসেছে। উর্ট ক্লাউড মূলত সৌরজগতের চারপাশের এক বিশাল গোলক। যেখানে রহস্যময় বরফের বস্তুর অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ এ ধূমকেতু যখন পৃথিবীকে অতিক্রম করেছিল, তখন পৃথিবীতে নিয়ানডারথালদের বিচরণ ছিল।

ধূমকেতুটির গঠন প্রসঙ্গে ফ্রান্সের প্যারিস অবজারভেটরির জ্যোতির্পদার্থবিদ নিকোলাস বিভার বলেন, ধূমকেতুটি বরফ ও ধূলিকণায় গঠিত। এটি পেছনে সবুজ আভা ছেড়ে যায়। ধূমকেতুটির ব্যাস প্রায় এক কিলোমিটার। এর আগে ২০২০ সালে খালি চোখে দেখা যাওয়া নিউওয়াইজ নামের ধূমকেতুটির চেয়ে এটি অনেক ছোট। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে হেলি-বপ নামের যে ধূমকেতুটি পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল, সেটির ব্যাস ছিল ৬০ কিলোমিটার। বিভার বলেন, এবারের ধূমকেতুটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি পৃথিবীর অনেক কাছ দিয়ে যাবে। তাই অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১২ জানুয়ারি এটি সূর্যকে অতিক্রম করবে। এই মহাজাগতিক বস্তুটি যতই সূর্যের নিকটবর্তী হচ্ছে, ততই উজ্জ্বলতর হচ্ছে। আর আগামী ১ বা ২ ফেব্রুয়ারি এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে প্রায় ২৬ মিলিয়ন মাইলের মধ্যে চলে আসবে। এ অবস্থায় সন্ধ্যায় এটিকে ধ্রুবতারার কাছাকাছি দেখা যাবে।

নাসা জানিয়েছে, বাইনোকুলারের সাহায্যে উত্তর গোলার্ধে জানুয়ারির প্রায় প্রতিদিনই সকালের আকাশে সবুজ ধূমকেতুটি দেখা যাবে। আর দক্ষিণ গোলার্ধে এটি দৃশ্যমান হবে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন সি/২০২২ ই৩ (জেডটিএফ)। ঝাড়ুর মতো লেজ এবং উজ্জ্বল কণাগুলোর মাধ্যমে একে সহজেই অন্য তারাদের থেকে আলাদা করা যাবে।

সূত্র: সিএনএন


ইরানে এ বছর ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর : জাতিসংঘ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

জাতিসংঘ আজ শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি বছর ইরানে এ পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে ভয় দেখাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ইরান এ বছরের শুরু থেকে গতকাল ২৮ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।’ প্রকৃত পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু জুলাই মাসেই ইরান কমপক্ষে ১১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের দ্বিগুণ।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতিগত ধরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা এর শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শামদাসানি বলেন, ‘ইরানে এই মুহূর্তে ১১ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন নির্বাসিত বিরোধী দল পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন অব ইরানের (এমইকে) সদস্যপদ গ্রহণ করায় ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের’ অভিযোগে অভিযুক্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের জীবনের জন্য যে অধিকার রয়েছে, মৃত্যুদণ্ড তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।’


কমালা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার : হোয়াইট হাউস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, সিএনএন রিপোর্ট করেছে যে হ্যারিসের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক অনুমোদিত বর্ধিত সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার মেয়াদ বাতিল করেছে প্রশাসন।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার ছয় মাসের সুরক্ষার মেয়াদ ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।


মোদি ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’: ট্রাম্প

আমার ফোনেই থেমেছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বলেন তিনি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গত মে মাসে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা শুধু তার ফোনকলের মাধ্যমেই থেমেছিল।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত শুরু হলে আমি মোদিকে ফোন করি। তাকে জিজ্ঞেস করি, পাকিস্তানের সঙ্গে কী চলছে? আমি তাকে একজন অত্যন্ত ভয়ংকর মানুষ মনে করি। ফোনকলে তার রাগ ও ঘৃণা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। দুদেশের মধ্যে এই বৈরিতা অবশ্য বহু পুরোনো—শত শত বছরের শত্রুতার মতো।’
ট্রাম্প আরও জানান, সেই ফোনকলে তিনি মোদিকে সতর্ক করেছিলেন—আমি বলেছিলাম, আমি আপনাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যচুক্তি করতে চাই না। যদি সংঘাত পরমাণু যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে সেটাই আপনাদের পরিণতি হবে। আমি আরও বলেছিলাম, আগামীকাল যদি ফোন না করেন এবং সংঘাত না থামান তাহলে শুধু বাণিজ্যচুক্তিই বাতিল করব না, এমন শুল্ক আরোপ করব যাতে আপনাদের মাথা ঘুরে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। এরপর ৪ মে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’, যেখানে লস্কর-ই-তইয়বা (লেট) এবং জইশ-ই মোহাম্মদ (জেম)-এর ৭০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।
জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৭ মে শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’। পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে ভারতে ৩১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।
টানা পাঁচ দিন সংঘাত চলার পর ৯ মে দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ইসলামাবাদ এজন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিলেও নয়াদিল্লি সেই দাবি মানেনি।
সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দিল্লির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে। এই শুল্ক গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।


পাকিস্তানে বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারত চেনাব, রাভি ও শতদ্রু নদীতে পানি ছাড়ার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বন্যায় সিয়ালকোট জেলার সাম্বারিয়ালে একই পরিবারের পাঁচজন মারা গেছেন। গুজরানওয়ালা বিভাগে ১৫ জন, গুজরাটে ৪ জন, নারোয়ালে ৩ জন এবং হাফিজাবাদ জেলায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে কাসুর, নারোয়াল ও পিন্ডি ভাটিয়ান এলাকার শত শত গ্রাম। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে শত শত গবাদি পশু এবং কয়েক হাজার একর ফসল। বাহাওয়ালনগরে ডুবে গেছে বহু বাড়িঘর।

চেনাব নদীর পানি প্রবেশ করেছে চেনিওট ও ওজিরাবাদের বহু গ্রামে। লাহোরের শাহদারায় রাভি নদীতে পানির প্রবাহ ১ লাখ ৪৫ হাজার কিউসেক ছাড়িয়েছে, আর জাসারে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার কিউসেক। তবে লাহোর কমিশনার জানিয়েছেন, শীর্ষ প্রবাহ পেরিয়ে গেছে এবং পানির স্তর কমতে শুরু করেছে।

শতদ্রু নদীতেও একাধিক স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গণ্ডা সিং ওয়ালায় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার কিউসেক, আর হেড সুলেমানকিতে ১ লাখ ৯ হাজার কিউসেক। চিশতিয়ানে প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে ছয়টি রক্ষাবাঁধ। এতে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় সাত হাজার একর ফসল নষ্ট হয়েছে।

বাহাওয়ালনগরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত একশর বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৯০ হাজারের মতো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে অস্থায়ী বাঁধ, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও মাঠের ফসল।

স্থানীয় কৃষকরা ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়বে।


গাজা সিটির নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক

ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
আপডেটেড ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা সিটির আরও ভেতরে নতুন এলাকায় ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা চালিয়ে ধ্বংস করছে সেখানকার বাড়িঘর। পালাতে বাধ্য হচ্ছে বাসিন্দারা।

এর মধ্যেই গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গাজা সিটি জয় করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এ শহর খালি করতেই হবে।

গাজা সিটির বাসিন্দারা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের ট্যাংক গাজা সিটির উত্তর প্রান্তে ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ঢুকে গোলা ছুড়ে। এতে অনেকে আহত হয়। বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয় অনেক বাসিন্দা।

৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, ‘হঠাৎ খবর এল এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে লাগল। আমরা দেখলাম মানুষ আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতি না হলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির সামনেই এসে পড়বে।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে নতুন অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের শেষ ঘাঁটি সেখানে অবস্থিত বলেই দাবি তাদের।

অপরদিকে, গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের অর্ধেকই এখন এই শহরে বাস করছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সবাইকেই সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে শহরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা গত বুধবার বলেছেন, তারা সরে যাবেন না। কারণ, দক্ষিণে পালানো মানে মৃত্যুদণ্ডের সামিল।

ওদিকে, গত বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি বলেছেন, ‘গাজা সিটি খালি করাটা অনিবার্য। আমি নিশ্চিত করে জানাতে চাই, দক্ষিণাঞ্চলে বিশাল ফাঁকা এলাকা রয়েছে। মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির এবং আল-মাওয়াসিতেও ফাঁকা জায়গা আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, হোয়াইট হাউজে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে। তিনি বলেছেন, এ বছর শেষেই যুদ্ধের অবসান হবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে বৈঠক করছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে।

গত বুধবার ইসরায়েলের ট্যাংক আবার গাজা সিটির প্রান্ত থেকে জাবালিয়া এলাকায় ফিরে যায়। যদিও গাজার পূর্বদিকের শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ বছর বয়সী এক শিশুও আছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল’ করছে। গত ২২ আগাস্ট পশ্চিম গাজার সাধারণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রধান মাহমুদ আল-আসওয়াদকে হত্যা করার কথাও জানিয়েছে সেনারা। তবে হামাস তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ জোরাল হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলজুড়ে হাজারো মানুষ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করে।

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনও সাড়া দেয়নি। তবে হামাস গত সপ্তাহে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর জবাবে ইসরায়েল সেদিন থেকেই গাজায় যুদ্ধ শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধে গাজার প্রায় সব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

গাজায় ২৩৩ ইমামকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে বেড়েই চলেছে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ধ্বংস। টার্গেট করা হচ্ছে মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম, ইসলাম ধর্মের প্রচারকদের। অবকাঠামোর ধ্বংসের কারণে মসজিদ ও উপাসনালয়হীন হয়ে পড়েছে অনেক পাড়া-মহল্লা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৩৩ জন ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারককে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস করেছে ৮২৮ মসজিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৬৭টি মসজিদ। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বোমা হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে তিনটি চার্চ, হত্যা করা হয়েছে ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানকে।

গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল থাওয়াবতেহ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ ও প্রতিরোধের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করতে, ঈমান জাগ্রত রাখতে এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হত্যা ও নির্মূল করার মাধ্যমে মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলের অপরাধগুলো চিহ্নিতকারী আওয়াজ নিস্তব্ধ করা হচ্ছে।

শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অতীতের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন হচ্ছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিচয় এবং সমষ্টিগত স্মৃতি মুছে ফেলার এই প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।

গাজায় অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু

ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলায় গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ। এই উপত্যকাটিতে অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশ করতে না পারায় শিশুদের ক্রমবর্ধমানভাবে না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।


চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি অংশ নেবেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রধান দেশগুলোর কোনো শীর্ষ নেতা এতে যোগ দিচ্ছেন না।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে কিমের প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে কিম এ সফর যাচ্ছেন। তবে তিনি কতদিন চীনে অবস্থান করবেন কিংবা শি জিনপিং, পুতিন বা অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আগামী বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন ইরান, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নেতারাও। কুচকাওয়াজে চীনের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি ভাষণ দেবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ নেতা পুতিনের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতার এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান সহায়তাকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালেও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে চীনের সহায়তা অপরিহার্য। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেই কিমের এ সফর।

কিমের চীন সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কূটনীতি শুরুর প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের প্রস্তাব এখনো প্রত্যাখ্যান করে চলেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিলে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিয়ের সঙ্গে বৈঠককালে অতীতের কিমের সঙ্গে নিজের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা ভীষণ উপভোগ করেছিলাম। মনে আছে, আমি যখন সীমান্ত রেখা পার হয়েছিলাম, সবাই তখন উত্তেজনায় ফেটে পড়েছিল।’

প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে কিম তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে একাধিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন।


যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যৌন অপরাধ করে ভারতীয়রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দণ্ড সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দণ্ডের সংখ্যা ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ থেকে ১০০ মামলায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬৬ শতাংশ ও ইরাকের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংখ্যাগুলো পৃথক অপরাধীর নয়, বরং দণ্ড প্রদানের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুতর অপরাধের দণ্ডে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছে, ২০২১ সালের ২৭৩ থেকে ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালে ৫৮৮ ঘটনায় পৌঁছেছে। আলজেরীয় ও মিসরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে আরো বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২৯৩ জন ভারতীয় নাগরিক ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ২০৬ জন প্রবেশ করেছে।

এর পরও ভারতীয়রা অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে একটি ছোট অংশ। সবচেয়ে বেশি আফগানিস্তান, ইরান ও সিরিয়ার নাগরিকদের দেখা গেছে।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলোতে অবৈধ আগমনের ১৫ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের। পাঁচ হাজার ৪৭৪ জন ভারতীয় আশ্রয় আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় চার হাজার জন বৈধ ভিসাধারী (প্রধানত শিক্ষার্থী ভিসা), ৪০০ জন ছোট নৌকা ব্যবহার করে প্রবেশকারী এবং বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে গিয়ে আবেদন করেছে।

প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তে দুই হাজার ৬৯১টি প্রত্যাখ্যান, ২০টি মঞ্জুর ও বাকিগুলো বিচারাধীন।

গণমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় নাগরিকরা বৈধ অভিবাসনেও শীর্ষে রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ায় সর্বাধিকসংখ্যজ কাজ ও পর্যটন ভিসা পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী ভিসা প্রাপ্তদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রুপ। গত জুন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ১৪ জন প্রধান আবেদনকারীকে শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে আরো দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে সব বিদেশি নাগরিকের যৌন অপরাধে দণ্ড চার বছরে ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছরে যৌন অপরাধের দণ্ডের সাত ভাগের এক ভাগ (১৪.১ শতাংশ) বিদেশি নাগরিকরা পেয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে একই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে দণ্ড ৩৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এই তথ্যগুলো পুলিশ ন্যাশনাল কম্পিউটার (পিএনসি) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোল থিংকট্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া। ২০২৫ সালে শুধু ছোট নৌকায় প্রায় ২৭ হাজার ৯৯৭ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের প্রথম আগমনের পর থেকে একই সময়ে সর্বোচ্চ।


গ্রিনল্যান্ডের নুক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

গ্রিনল্যান্ডের নুক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। আজ বুধবার ডেনিশ পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, দূরের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন রানওয়ে চালুর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্লাইট বন্ধের ঘটনা ঘটলো।
কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত বছরের নভেম্বরে নুক বিমানবন্দরে নতুন রানওয়ে চালু করা হয়। এর ফলে বড় আকারের বিমানগুলো অবতরণ ও উড্ডয়নের সুযোগ পায় এবং দূরের যাত্রায় ভ্রমণকারীদের আইসল্যান্ড হয়ে বিমানে ওঠার ভোগান্তির অবসান ঘটে।
নুক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট রয়েছে।
কিন্তু, গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দরের সময়সূচি অনুসারে, আজ বুধবার সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী এবং ১১ টা ৫০ মিনিটে ডেনমার্কের বিলুন্ড শহরগামী দু’টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ডেনিশ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স উইন্ডফেল্ড এএফপিকে বলেন, ‘নুক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার জন্য আমরা গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দরকে নির্দেশনা দিয়েছি। সেখানে নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা কর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত এবং বিমানবন্দরটি নিজস্ব পদ্ধতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা মেনে চলতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।’
তবে, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

উইন্ডফেল্ড বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দর এখন মন্ত্রণালয়কে জানাবে যে, কখন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পুনরায় নিশ্চিত করতে পারবে তারা।


ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় চিঠি: ফেমার কর্মীদের বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা)’র কয়েকজন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ঐসব কর্মী প্রকাশ্যে সংস্থার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করায় প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ঘূর্ণিঝড় হারিকেন ক্যাটরিনার ২০তম বার্ষিকীতে সোমবার একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন ফেমার ১৮০ জন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মচারী। চিঠিতে তারা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে নেওয়া বাজেট কাটছাঁট, কর্মীদের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য সংস্কারের কারণে আবার সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার কারণে ২০০৫ সালের হারিকেন মোকাবিলায় ফেমার ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

চিঠিটি ১৮০ জন পাঠালেও মাত্র ৩৬ জন নিজেদের নাম প্রকাশ করেছেন। বাকিরা প্রতিশোধের ভয়ে পরিচয় গোপন রেখেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ই-মেইল পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, প্রায় ৩০ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, ফেমার কর্মীদের পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে যে তাদের অবিলম্বে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে তারা ‘কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তবে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা চালু থাকবে।’

এ বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে আবার ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি ফেমা বিলুপ্ত করতে চান এবং রাজ্যগুলোকে ‘নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করতে’ দিতে চান।

তিনি সংস্থাটিকে অদক্ষ বলে অভিযোগ করছেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলছেন, ফেমা রিপাবলিকান শাসিত রাজ্যগুলোর প্রতি ব্যাপক রাজনৈতিক পক্ষপাত করে।

২০০৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে হারিকেন ক্যাটরিনা মার্কিন উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। এতে লুইজিয়ানার নিউ অরলিয়েন্স শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এই দুর্যোগে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দুর্যোগে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে তৎক্ষণাৎ সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং বিভ্রান্তিকর যোগাযোগের কারণে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রক্রিয়া তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

এর পরের বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উন্নতি আনতে ‘পোস্ট-ক্যাটরিনা ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ (পিকেইএমআরএ) নামে একটি আইন প্রণয়ন করে কংগ্রেস।

সোমবার পাঠানো খোলা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ‘দুই দশক পরে ফেমা আবার এমন প্রক্রিয়া ও নেতৃত্ব কাঠামো চালু করছে যেসব প্রতিরোধ করার জন্যই পিকেইএমআরএ আইনটি তৈরি করা হয়েছিল।’

চিঠিতে কর্মীরা কংগ্রেসকে অনুরোধ করেছেন যাতে ফেমাকে একটি মন্ত্রিসভা পর্যায়ের স্বাধীন সংস্থায় পরিণত করা হয় এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বরখাস্ত’ থেকে এটিকে রক্ষা করা হয়।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের ব্যয় সংক্রান্ত বিধিনিষেধ চালুর কারণে ফেমা’র ‘দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কমে গেছে’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোয়েম নির্দেশ দিয়েছেন, ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের প্রতিটি ফেমা চুক্তি, অনুদান ও কাজ নিজে যাচাই করবেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘জুলাই ২০২৫-এ টেক্সাসের কেরভিলে বন্যার সময় এই নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ার প্রভাব ভীষণভাবে দেখা গেছে। তখন কাজ শুরু করতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়।’

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বাজেট কাটছাটের কারণে এই বছর ফেমা’র এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণকালীন কর্মচারি চাকরি ছেড়েছেন। মূলত ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’র বাজেট কমানোর নির্দেশনার কারণেই এমনটা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শনের মহড়া চীনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং আগামী সপ্তাহে চীনে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামে ২০-এর বেশি বিশ্বনেতাকে একত্র করবেন। এটি হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ‘গ্লোবাল সাউথ’–এর শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় মহড়া। একই সঙ্গে তা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার রাশিয়াকে আরেকটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনেও সাহায্য করবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনটি উত্তর চীনের বন্দর শহর তিয়ানজিনে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর মাধ্যমে সাত বছরের বেশি সময় পর চীনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হবে প্রথম সফর। দুই দেশ ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমানোর দিকে কাজ করছে।

শেষবার শি চিন পিং ও পুতিনের সঙ্গে মোদির একই মঞ্চে দেখা হয় গত বছরের ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার কাজানে। তখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে উপেক্ষা করেছিলেন। নয়াদিল্লিতে রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন যে মস্কো আশা করছে, শিগগিরই চীন ও ভারতের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হবে।

‘শি চিন পিং এ সম্মেলনকে ব্যবহার করতে চাইবেন একটি নতুন ও মার্কিন-নেতৃত্বাধীন নয় এমন এক বৈশ্বিক ব্যবস্থার চিত্র হিসেবে। তা ছাড়া, জানুয়ারি থেকে হোয়াইট হাউসের যেসব চেষ্টা চীন, ইরান, রাশিয়া এবং এখন ভারতকে মোকাবিলা করার জন্য করা হয়েছে, সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আনতে পারেনি’, বলেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দ্য চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার।

‘ব্রিকস ট্রাম্পকে কতটা চমকে দিয়েছে, তা দেখুন—এটি করার জন্যই মূলত এ ধরনের জোট করা হয়েছে’, বলেন এরিক ওল্যান্ডার।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেছেন, এ বছরের এসসিও সম্মেলন ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় হবে। তিনি বলেন, এই ব্লক একটি ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’।

প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাভিত্তিক এ ব্লক ছয়টি ইউরেশীয় দেশের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ১০টি স্থায়ী সদস্য এবং ১৬টি সংলাপ সহযোগী ও পর্যবেক্ষক দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে। কার্যপরিধিও নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতায় বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সম্মেলনে ‘সম্প্রসারণ’ অনেক দেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তাঁরা একমত যে বছরের পর বছর এই ব্লক সরাসরি ফলপ্রসূ সহযোগিতা দিতে পারেনি। তা ছাড়া, চীন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে সাউথ ব্লকের শক্তি প্রদর্শনের দৃশ্যমান অবস্থা দেখতে চায়, বিশেষ করে বর্তমানে যখন বিশ্ব রাজনীতি অস্থিতিশীল।

‘এসসিও ঠিক কোন লক্ষ্য নির্দেশ করে এবং এর বাস্তবায়ন কেমন—তা বেশ অস্পষ্ট। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বড় নেতাদের একত্র করতে পারে এবং তারা নিজেদের অবস্থান ও বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারেন’, বলছেন বেঙ্গালুরুর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটের ইন্দো-প্যাসিফিক রিসার্চ প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন মনোজ কেওয়ালরামানি। তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যার সমাধানে এসসিওর কার্যকারিতা খুব সীমিত।’

প্রধান সদস্য দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনো রয়েছে। গত জুনে এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সভায় যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়নি। কারণ, ভারত আপত্তি তুলেছিল যে এতে কাশ্মিরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর ২২ এপ্রিলের হামলার উল্লেখ নেই। ওই হামলা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দশকের সবচেয়ে বড় সীমান্ত সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়। সভায় ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের ঘটনায় এসসিওর নিন্দাতেও যোগ দেয়নি নয়াদিল্লি।

তবে সীমান্তে পাঁচ বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীন সম্প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে। এর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক চাপের প্রেক্ষাপটে, সম্মেলনের ফাঁকে সি ও মোদির মধ্যে ইতিবাচক বৈঠকের আশা তৈরি হয়েছে।

এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ‘ভারত সম্ভবত তার অহংকার চেপে রেখে ও এবারের এসসিও-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ভুলে গিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোবে। এখন মোদির জন্য এটাই বড় অগ্রাধিকার।’

বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, চীন–ভারত উভয় পক্ষ সীমান্তে আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে। যেমন, সৈন্য প্রত্যাহার, বাণিজ্য ও ভিসা সীমাবদ্ধতা শিথিল, জলবায়ুর মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সরকারি পর্যায়ে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন।

যদিও ওই সম্মেলন থেকে বড় কোনো নীতির ঘোষণা আসার কথা নয়, তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এ জোটকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না। ওল্যান্ডারের মতে, এই সম্মেলনের আসল গুরুত্ব হলো—এর দৃশ্যমানতা (বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি ও শক্তির প্রদর্শন)। এটি প্রকৃতপক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনের পর চীন থেকে মোদির দেশে ফেরার আশা করা হচ্ছে। আর পুতিন বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অবস্থান করবেন। রাশিয়ার বাইরে এটি হবে তার জন্য সচরাচর দৃশ্যমান নয়—এমন দীর্ঘ সময় কাটানো।

সূত্র: রয়টার্স


ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

গাজায় অভিযান বন্ধের দাবি
আপডেটেড ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ ও হামাসের হাতে আটক থাকা বাকি জিম্মিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করছেন। ওই দাবিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। খবর বিবিসির।
এতে একদিকে যেমন রয়েছে জিম্মিদের পরিবার অন্যদিকে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম নামের একটি গ্রুপ যারা অনেকদিন ধরেই জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টিতে সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছে।
তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করতে সহায়তা করেন এবং হামাসের হাতে আটক থাকা জিম্মিদেরকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন।
ধারণা করা হচ্ছে, হামাস যাদেরকে জিম্মি করে নিয়ে গিয়েছিল তাদের মাঝে ২০ জন এখনো জীবিত আছেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ চলায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দেশজুড়ে মহাসড়কগুলোতে এখন গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
তেল আবিবের উত্তরে ইয়াকুম জংশনের কাছে কোস্টাল হাইওয়ে বা রুট টুতে বিক্ষোভকারীরা সড়কের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ায় ওই মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকার গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ৬৯০ দিন ধরে সরকার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আজ এটা পরিষ্কার যে নেতানিয়াহু একটি জিনিসকেই ভয় পান। আর তা হলো জনগণের চাপ। আমরা এই যুদ্ধ আরও এক বছর আগেই শেষ করতে পারতাম এবং সকল জিম্মি ও সেনাদেরকে ফিরিতে আনতে পারতাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বারবার বেসামরিক মানুষদের বলি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
ইসরায়েলজুড়ে এই প্রতিবাদটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছে এবং ইসরায়েল সেখানে স্থল অভিযান চালানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে গতকাল দক্ষিণ গাজার একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সাংবাদিক এবং চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।
গাজায় একদিনে নিহত আরও ৮৬ ফিলিস্তিনি
গাজায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর টানা হামলায় একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৬ জন ফিলিস্তিনি। গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আহত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। গত সোমবার রাতের দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায়। বাকি ২৮ জন নিহত হয়েছেন খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সেনাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ‘সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ৮৬ জনের মরদেহ ও ৪৯২ জন আহতকে আনা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না।’
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত সোমবারের পর পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭৪৪ জনে। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি।
এদিকে গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাস দুই মাসের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২১৮ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে ত্রাণ ও খাদ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। ২৭ মে প্রথমবারের মতো গাজায় ত্রাণ নিতে যাওয়া মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়, এরপর থেকে নিয়মিতই এমন ঘটনা ঘটছে। এ সময়ের মধ্যে শুধু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ১২৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও ১৫ হাজার ৬১৫ জনের বেশি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হামাস ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। সেই হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাসের যোদ্ধারা। এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। টানা ১৫ মাসের বেশি সময় যুদ্ধ চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপে ইসরায়েল গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল।
জিম্মি হওয়া ২৫১ জনের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন এখনো জীবিত আছেন বলে ধারণা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তাদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহল একাধিকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। এমনকি জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর না করা এবং জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


ভারতে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা

‘প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে’, অমিত শাহের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই বিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলো।

বিল নিয়ে বিতর্কের মাঝে নতুন আলোড়ন ছড়িয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য। সংসদে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন সবার ওপরে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেও জবাবদিহি করতে হবে, এমনকি পদত্যাগ করতেও হতে পারে।’

এই মন্তব্য দেশটির পার্লামেন্ট ভবন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিল পেশ প্রসঙ্গে বিরোধী শিবিরের নেতারা অভিযোগ করছেন, সরকার সংবিধানের মূল কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, ‘এটি সংবিধান আক্রমণের সমান, আমরা সর্বাত্মক আন্দোলনে নামব।’

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এই বিল জনগণের কণ্ঠরোধের ফাঁদ। সরকার জনসমর্থন হারিয়ে ভয় দেখানোর পথ বেছে নিয়েছে।’

এ প্রেক্ষাপটে বিজেপির পক্ষ থেকে অমিত শাহ বলেন, ‘বিরোধীদের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। সংবিধানের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আইন ভাঙলে বা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করলে প্রধানমন্ত্রীও রেহাই পাবেন না। আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি এটাই।’

তার এই মন্তব্য বিরোধীদের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, ‘অমিত শাহ নিজেই স্বীকার করেছেন, এই বিলের পর পরিস্থিতি এমন দাঁড়াতে পারে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ অনিবার্য হবে।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গ টেনে এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদের হাতে অজান্তেই শক্তি তুলে দিলেন।’

আনন্দবাজার পত্রিকা বলেছে, ‘এই বিতর্ক থেকে স্পষ্ট, বিজেপি ভেতরেই চাপ অনুভব করছে, যা বিরোধীরা সুযোগ হিসেবে নেবে।’

এদিকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে যেমন- মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাইতেও মিছিল হয়েছে। ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নাগরিক মঞ্চগুলোও রাস্তায় নেমেছে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ করে বলে, ‘সংবিধান রক্ষা করতে না পারলে কোনো সরকার বৈধ নয়।’

অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথানত করবে না: খামেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে পরাধীন করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গত রোববার এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথানত করবে না। রাজধানী তেহরানের এক মসজিদে দেওয়া এই বক্তব্যর পরে খামেনির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষের ২ মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ওই আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও সীমিতভাবে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

বর্তমানে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করে বলেন, গত জুনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, একেবারে যুদ্ধের শুরুতেই ইরান আক্রান্ত হওয়ার পরদিনই আমেরিকার অ্যাজেন্টরা ইউরোপে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে সরকারের পতন কারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র শাসন করবেন, সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য হলো- ইরানকে নিজের ইচ্ছামতো চালানো এবং ওয়াশিংটনের ‘আনুগত্যে বাধ্য করা’।

তবে জুনের যুদ্ধ ইরানকে ভাঙ্গেনি বরং আরও শক্ত করেছে বলে মনে করেন দেশটির এই সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ‘ইরানি জাতি দেশের সেনাবাহিনী, সরকার ও ব্যবস্থার পাশে থেকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে শত্রুদের শক্তিশালী আঘাত করেছে।’

বিদেশি শক্তিগুলো এখন ভেতর থেকে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন খামেনি। তিনি বলেন, ‘শত্রুর মূল কৌশল হলো- দেশে বিভেদ তৈরি করা। আমেরিকা আর ইসরায়েলের অ্যাজেন্টরা ইরানি সমাজে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে।’

দেশবাসীর প্রশংসা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আজ আল্লাহর অশেষ কৃপায় দেশ ঐক্যবদ্ধ। মতের অমিল থাকলেও যখন দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ও শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ আসে, তখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান।’

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব আর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর থেকেই ইরান-আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন রয়েছে। তারপর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের এসব নিষেধাজ্ঞার বেশিরভাগই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরোপ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে বলেছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চাইছে; যা তেহরান বারবার অস্বীকার করেছে। গত জুনে যুদ্ধে ইরান-আমেরিকার পারমাণবিক আলোচনার ষষ্ঠ দফার বৈঠক শুরুর আগেই তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। যুদ্ধের কারণে সেই আলোচনা থমকে যায়।

মঙ্গলবার ইউরোপের তিন দেশ- ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে ইউরোপীয় শক্তিগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনবে তারা।


banner close