বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

হীরার মুকুট ফেলে সন্ন্যাসিনী শিশু

আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভারতের ধনাঢ্য হীরা ব্যবসায়ীর ৮ বছরের মেয়ে দেবাংশী সাংঘভির বিপুল ঐশ্বর্য আর বিলাস-ভূষণের মধ্যেই বেড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সে এখন সাদা কাপড় পরে খালি পায়ে ভিক্ষার পাত্র হাতে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে। পুতুল খেলার বয়সেই বাবার ধনরাশি ত্যাগ করে সে সন্ন্যাসব্রত নিয়েছে।

বিবিসি জানায়, গুজরাটের সুরাত জেলার প্রখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী ধনেশ ও অমি সাংঘভি দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে বড় দেবাংশী। মাত্র ৮ বছর বয়সী দেবাংশী গত সপ্তাহে সন্ন্যাসব্রত নিয়েছে। সাংঘভির পরিবার জৈন ধর্মের অনুসারী। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্মটির ৪৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। ধর্মীয় পণ্ডিত ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জৈন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সন্ন্যাস নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও শিশুরদের, বিশেষ করে দেবাংশীর মতো এমন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানের সন্ন্যাসিনী হওয়া বিরল ঘটনা।

গুজরাটের সুরাটে গত সপ্তাহে বিরাট আড়ম্বরের সঙ্গে দেবাংশীর সন্ন্যাস দীক্ষা সম্পন্ন হয়। জৈন ধর্মের জ্যেষ্ঠ সন্ন্যাসীদের পাশাপাশি হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেবাংশীর সন্ন্যাসগ্রহণ উপলক্ষে হাতি এবং ঘোড়ার একটি বিশাল শোভাযাত্রা করা হয়। বহুমূল্য অলংকার, দামি কাপড়ে সাজিয়ে দেবাংশীকে অনুষ্ঠানস্থলে আনে তার বাবা-মা। দেবাংশীর মাথায় ছিল হীরাখচিত মুকুট। আচার-অনুষ্ঠান শেষ হলে দেবাংশীকে একেবারে ভিন্নরূপে দেখা যায়। নিরাভরণ দেবাংশী তখন সাদা শাড়ি পরিধান করে জৈন সন্ন্যাসিনীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে দেবাংশী এখন আশ্রমে থাকছে। বিবিসি জানায়, সুরাটের হীরা ব্যবসায়ী ধনেশ ও অমি সাংঘভি অত্যন্ত ধার্মিক হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এই দম্পতি শিশু অবস্থাতেই দেবাংশীকে সন্ন্যাসী করতে মনস্থির করে। পার্থিব মোহমায়া থেকে দেবাংশীকে দূরে রাখতে তারা নানা পদক্ষেপ নেয়। দেবাংশীকে কখনো টেলিভিশন, সিনেমা, শপিংমল কোথাও নিয়ে যায়নি তারা। শিশুবয়স থেকেই দেবাংশীকে তিনবেলা প্রার্থনা করতে শেখানো হয়। এমনকি দুই বছর বয়স থেকেই তাকে উপবাস করতে শেখানো হয়।

সুরাটের হীরা ব্যবসায়ী ও বিজেপি নেতা কীর্তি শাহের সঙ্গে দেবাংশীর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি জানান, দেবাংশী এখন আর বাড়ি থাকতে পারবে না। সে এখন সাদভি (সন্ন্যাসিনী)। তাকে কৃচ্ছ্র সাধন করতে হবে। দেবাংশীকে এখন সব স্থানে হেঁটে যাতায়াত করতে হবে। কোনো ধরনের যানবাহন সে ব্যবহার করতে পারবে না। মাটিতে একখণ্ড সাদা কাপড়ের ওপর তাকে ঘুমাতে হবে। সন্ধ্যার পর তার খাবার গ্রহণ করা নিষেধ। মাত্র ৮ বছর বয়সী শিশু দেবাংশীর সন্ন্যাস নেয়ার ঘটনায় কীর্তি শাহ নিজের অস্বস্তি বোধের কথা জানান। তার মতে, ১৬ বছর বয়সেও শিশুরা কলেজে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করবে তা ঠিকমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেখানে এতটুকু শিশু কীভাবে সন্ন্যাসের মতো কঠিন জীবন বেছে নেয়ার ক্ষমতা রাখে?

বিবিসি জানায়, ধনাঢ্য পরিবারের ৮ বছর বয়সী শিশুর সন্ন্যাস গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেবাংশীর মা-বাবার তীব্র সমালোচনা করেছেন। দেবাংশীর পরিবার শিশু অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে তীব্র সমালোচনা চলছে। মুম্বাইয়ে শিশু সুরক্ষা পরামর্শক নিলিমা মেহতা বিবিসিকে জানান, দেবাংশীকে নিদারুণ কঠিন জীবন পার করতে হবে। জৈন সন্ন্যাসিনীর জীবন ভয়ানক কঠিন। এদিকে ভারতের জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের প্রধান প্রিয়নক কানুনগো দেবাংশীর ঘটনাটিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সরকারের করণীয় কী তা বলতে অস্বীকার করেন।


শৈত্যঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮০০ ফ্লাইট বাতিল

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শৈত্যঝড়ের প্রভাবে ১৮০০ ফ্লাইট বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টেক্সাস থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বুধবার শৈত্যঝড়ের কবলে পড়ে।

রয়টার্স জানায়, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৯৭টি আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আর ৭৫০টি ফ্লাইট পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জানানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে বলেছে আমেরিকান এয়ারলাইনস গ্রুপ। সংস্থাটি লিখেছে, ‘চলতি সপ্তাহের শৈত্যঝড়ে আমাদের কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে, এতে বড় সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার এক টুইটে শৈত্যঝড়ের প্রভাবে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।


বাইডেনের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৫৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেলওয়ারের বাড়িতে বুধবার তল্লাশি চালিয়েছে এফবিআই। বাইডেনের আইনজীবী জানান, গোপন নথি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এমন তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বাইডেনের আইনজীবী জানান, তারা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তল্লাশি পরিকল্পনার কথা আগেই জানতেন। প্রেসিডেন্ট এ কাজে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

এর আগে বাইডেনের সাবেক অফিস ও একটি বাড়ি থেকে দফায় দফায় সরকারি গোপন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উদ্ধার করা নথিগুলো ওই সময়ের।

সিবিএস নিউজ জানায়, এসব নথিসংক্রান্ত বড় পরিসরে তদন্তকাজের অংশ হিসেবে এফবিআই বাইডেনের বাড়িতে গেছে।

বিবিসি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের ব্যাপারে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য করা হয়নি। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। এতে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

বিষয়:

এশিয়ায় মুকুট হারালেন আদানি, বিশ্বে দশেও নেই

ভারতীয় শিল্পোদ্যোক্তা গৌতম আদানি। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মুকুট হারালেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি। বুধবার আরেক দফা শেয়ারদর পতনে তার সম্ভাব্য নিট সম্পদ কমে ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে ঠেকেছে।

ফোর্বস সাময়িকীর ধনকুবেরদের তালিকায় আদানির অবস্থান এখন বিশ্বে ১৫ নম্বরে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তিনি তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

এদিকে আদানি নেমে যাওয়ায় এশিয়ায় শীর্ষ ধনী এখন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। বিশ্বে তার অবস্থান এখন নবম। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।

এনডিটিভি বলছে, হিনডেনবার্গ দুর্নীতির অভিযোগ আনলে আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য এক সপ্তাহে ৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার কমে যায়। এতে আদানির নিজের সম্পদও প্রায় চার হাজার কোটি ডলার কমেছে।

সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, খনি থেকে শুরু করে সিমেন্ট উৎপাদন পর্যন্ত আদানির বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। এখন দুর্নাম ঘুচিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

শেয়ার বাজারে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নতুন শেয়ার বিক্রি বা এফপিওর মাধ্যমে গতকালই ২৫০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করে আদানি শিল্পগোষ্ঠী। এতে অনেকে ধারণা করেন, আদানি হয়তো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে পেলেন।

গত বুধবার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে হিসাবে গোলমাল, শেয়ার কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনে হিনডেনবার্গ রিসার্চ নামের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪১৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ লিখিত জবাব দেয় আদানি গ্রুপ। অভিযোগগুলো ভারত ও দেশটির প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘পরিকল্পিত আঘাত’ বলে দাবি করে আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দেয় গ্রুপটি। হিনডেনবার্গও পাল্টা জবাব দিয়েছে, আদানি গ্রুপের জবাবকে ‘অত্যুক্তি’ উল্লেখ করে এর ‘প্রতিটি অংশ প্রত্যাখ্যান’ করে।


আদানির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে কলকাতায় মামলার আবেদন  

গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: টুইটার থেকে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আদানি গ্রুপের মালিকানাধীন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ লাইনে উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার স্থাপনের অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থা (এপিডিআর) এবং ৩০ জন ফলচাষী একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) আবেদন (পিটিশন) করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাথরগামায় নির্মাণাধীন এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে গত মঙ্গলবার দায়ের করা পিআইএলের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায় আদানি গ্রুপের মালিকানাধীন বিদুৎকেন্দ্রে উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার বসানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে ফারাক্কার ওপর দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজশ্রী ভরদ্বাজের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ওই জনস্বার্থ মামলার আবেদন (পিটিশন) আমলে নিয়েছেন।

আগামী মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পিআইএলের আবেদনকারীরা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশির ভাগই আম ও লিচু চাষের ওপর নির্ভরশীল। কাজেই তাদের মাথার ওপর দিয়ে এমন উচ্চ-ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইন নিয়ে গেলে জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। লিচু ও আমবাগানের ওপর দিয়ে এমন লাইন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই বিকল্প কোনো এলাকায় এটি স্থানান্তর করা প্রয়োজন। এ দাবি নিয়ে আগেও আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ ওই বিক্ষোভকারীদের মারধর করেছে।


হিনডেনবার্গের ধাক্কায় সাত দিনে যেভাবে ৩৪০০ কোটি ডলার হারালেন আদানি

ভারতীয় শিল্পোদ্যোক্তা গৌতম আদানি। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত এক সপ্তাহে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির নিট সম্পদ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমে গিয়েছে। এই হিসাব ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচকের। চলুন দেখা যাক গত সাত দিনে তার সম্পদহ্রাসের ঘটনাপ্রবাহ।

২৫ জানুয়ারি

গত বুধবার ভারতের শেয়ার বাজার খোলার আগে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে হিসাবে গোলমাল, শেয়ার জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনে হিনডেনবার্গ রিসার্চ নামের নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এতে দিনব্যাপী গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর কমতে থাকে। রাতারাতি তার নিট সম্পদ ৬০০ কোটি ডলার কমে যায়।

২৬ জানুয়ারি

ছুটির দিন হওয়ায় ভারতের শেয়ার বাজার বন্ধ ছিল।

২৭ জানুয়ারি

শেয়ারদরে পতন জারি থাকলেও ২৫০ কোটি ডলারের এফপিও (ফলো-অন পাবলিক অফারিং) বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যায় আদানি শিল্পগোষ্ঠী। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া হলো এফপিও। এতে আদানির সম্পদের পরিমাণ আরও ২ হাজার ৩০ কোটি ডলার কমে ৯ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে।

২৮-২৯ জানুয়ারি

হিনডেনবার্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪১৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ লিখিত জবাব দেয় আদানি গ্রুপ। অভিযোগগুলো ভারত ও দেশটির প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘পরিকল্পিত আঘাত’ বলে দাবি করে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেয় আদানি গ্রুপ। হিনডেনবার্গও পাল্টা জবাব দেয়, আদানি গ্রুপের জবাবকে ‘অত্যুক্তি’ উল্লেখ করে এর ‘প্রতিটি অংশ প্রত্যাখ্যান’ করে।

৩০ জানুয়ারি

মার্কিন টিভি চ্যানেল ‘সিএনবিসি-টিভি১৮’-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) যুগশিনদার সিং প্রতিষ্ঠানটির সাফাই গান। কেবল শেয়ারদরের অস্থিরতায় আদানি শিল্পগোষ্ঠীর মূল্য কমেনি বলে মন্তব্য করেন। এদিকে শেয়ারদরের পতন চলতে থাকে। আদানির নিট সম্পদ আরও ৮০০ কোটি ডলার কমে ৮ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারে নেমে আসে।

৩১ জানুয়ারি

আদানি শিল্পগোষ্ঠীর এফপিও ব্যর্থ হবে বলে বাজার বিশ্লেষকদের শঙ্কা ভুল প্রমাণ করে ২৫০ কোটি ডলারের শেয়ারের পুরোটাই বিক্রি হয়ে যায়।

সূত্র: সিএনবিসি


ইসরায়েলের হাইফা বন্দর কিনল আদানি গ্রুপ

গৌতম আদানি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ ১২০ কোটি মার্কিন ডলার দামে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হাইফা গত মঙ্গলবার কিনে নিয়েছে। সুউচ্চ বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করে ভূমধ্যসাগরীয় শহরটিকে পাল্টে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে ভারতীয় এই ব্যবসায়ী গ্রুপ।

এনডিটিভি জানায়, আদনি গ্রুপ ইসরায়েলে অধিকতর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে তারা হাইফা বন্দর কিনল। এছাড়া তারা তেল আবিবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাবরেটরি) চালু করতে যাচ্ছে।

আদানি গ্রুপের হাফিয়া বন্দরের মালিকানা গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আদানি গ্রুপের প্রধান গৌতম শান্তিলাল আদানি। নেতানিয়াহু হাইফা বন্দর নিয়ে আদানি গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিকে বড় মাইলফলক আখ্যা দেন এবং এতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের বহুবিধ উন্নয়নের আশা ব্যক্ত করেন।

জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিপুল পরিমাণ লোকসানের কারণে গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে সম্প্রতি বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হাইফা বন্দর ক্রয় সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সম্পাদন করল আদানি গ্রুপ।

কৌশলগত কারণে হাইফা বন্দরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে এবং সবচেয়ে বড় পর্যটকবাহী বিলাসবহুল জাহাজও (ক্রুজ শিপ) এই বন্দরে ভিড়ে। এছাড়া এটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর।

৬০ বছর বয়সী ধনকুবের গৌতম আদানি তার বিরুদ্ধে হিনডেনবার্গ রিপোর্ট সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি। তেল আবিবের চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, হাইফা বন্দর শহরের আবাসন ও নির্মাণ খাতে উন্নয়নের জন্য আদানি গ্রুপ কাজ করবে।


গুহাবন্দি পনির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালির সেরা পনিরগুলোর একটি পেকোরিনো। চাহিদাও বেশ। অথচ লোরেতো পাসিত্তির পনিরগুলোর কোনো গতি হচ্ছিল না। একে তো রেস্তোরাঁ খোলা নেই, তার ওপর বাড়তি উৎপাদন ব্যয় আর গ্রাহকদের খরচ কাটছাঁটে লোরেতোর কপালের ভাঁজ বাড়ে বৈ কমে না।

এই ঘটনা করোনাকালীন। লোরেতোর দশা ইতালির সব পেকোরিনো উৎপাদকের। পুরো শিল্প হুমকির মুখে। লোরেতো দেখলেন সামনে একটাই খোলা পথ। শত শত বছর আগে পূর্বসূরিরা যা করতেন, তিনিও তা-ই করলেন। গুহায় বন্দি করেন সব পনির।

ইতালির লাজিওর পিসিনিস্কো গ্রামে লোরেতোর পনিরের দোকান। নাম লা কাসিওস্তেরিয়া দি কাসা লরেন্স। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের সময় আমার প্রায় সবকিছু শেষ হয়ে যায়। তবে পনির মাটির নিচে রাখার এই প্রাচীন পদ্ধতির কারণে সব ফিরে পাই।’

ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি নোনতা স্বাদের পেকোরিনো নানাভাবে বাজারে আসে। পরিবেশনেও ভিন্নতা আছে। একটি সংস্করণ তৈরি হয় রাজধানী রোমের উপকণ্ঠের লাজিও অঞ্চলে। ‘পেকোরিনো রোমানো’ নামের সে পনিরের ব্যবহার ইতালিজুড়ে। নানা পদের খাবারে ব্যবহারও বেশ।

ইতালিতে দুই হাজার বছর ধরে তৈরি হচ্ছে পেকোরিনো রোমানো। দীর্ঘদিন রাখা যায় বলে রোমান সেনাদের খাবার হিসেবে উপযুক্ত ছিল। লবণ দিয়ে স্থায়িত্ব আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় মধ্যযুগে।

রোমান সাম্রাজ্যের পতন হলেও টিকে যায় পেকোরিনো রোমানো। করোনার ধাক্কাও সামলে ওঠে সহজেই। কারণ পেকোরিনোর অন্য ধরনগুলোর তুলনায় বাড়িতে এর ব্যবহার বেশি। ২০২০ সালে লকডাউন শুরু হলে পরিবারগুলো বরং মজুত করতে শুরু করে।

বিপদে পড়েন অন্যান্য পেকোরিনো বিক্রেতারা। লোরেতো পাসিত্তি বলেন, ‘করোনার সময় আমি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেছি। অনলাইনে স্টোর খুলেছি। কাজের কাজ কিছু হয়নি। এরপর উৎপাদনের ধারা বদলে দিলাম।’

২০২০ সালের জুলাইয়ে আকারে বড় পনির বানাতে শুরু করেন লোরেতো, যেন একসঙ্গে অনেক পনির সংরক্ষণ করতে পারেন। এরপর সেগুলো মধ্য ইতালির এমিলিয়া-রোমানিয়ায় চার মিটার গভীর এক চুনাপাথরের গুহায় সংরক্ষণ করা শুরু করেন।

ভূগর্ভে খাবার সংরক্ষণের প্রাচীন এই কৌশলের নাম ফোসা। এতে সময়ের সঙ্গে পনির আরও উন্নত হয়। একই পদ্ধতিতে পনির সংরক্ষণ করেন রোমের রেস্তোরাঁমালিক মাসিমো ইনোসেন্তি। তার রেস্তোরাঁর মেঝের নিচ দিয়ে চলে গেছে দুই হাজার বছরের পুরোনো এক গুহা। সেই রোমান সাম্রাজ্যের আমলের। সেখানেই পেকোরিনো সংরক্ষণ করেন তিনি।

ইনোসেন্তির রেস্তোরাঁর হেঁশেল সামলান বাংলাদেশের শাহিন গাজী। দেশে মায়ের কাছে প্রথম সি ফুড তৈরি শেখেন তিনি। ২০১০ সালে নেচ্যিতে যান শাহিন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি পেকোরিনোর ভক্ত। প্রখর স্বাদের অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে বেশ যায় এটি। সে কারণে রোমান রসনার জন্য একদম পারফেক্ট।’

লোরেতো পাসিত্তি পনির সংরক্ষণের জন্য গুহা পূর্ণ করে তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেন। এতে পনির অক্সিজেন শুষে নেয়ার সময় পায়, তা ছাড়া পরিপক্ব হলে স্বাদ-গন্ধও বাড়ে। স্বাভাবিকভাবে পনির পাঁচ থেকে ছয় মাস সংরক্ষণ করা গেলেও এই প্রক্রিয়ায় তা ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পনিরের কাঁচামালেও করোনার ধাক্কা লেগেছে। লোরেতোর দোকানের অদূরেই সেতেফ্রাতি। সেখানে ৯ পুরুষ ধরে মেষ পালন করেন মারিয়া পিয়া ও তার ভাই আন্তোনিওর পরিবার। প্রত্যেক জুনে ভেড়ার পাল নিয়ে ১৭ কিলোমিটার দূরের এক সমতল ভূমিতে যান তারা। এই ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি পেকোরিনো পনিরেই তাদের পারিবারিক ব্যবসা চলে। তবে প্রাণিখাদ্য আর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে হিমশিম খেতে শুরু করেন তারা।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় ভুট্টা উৎপাদন শুরু করে পিয়া পরিবার। বছরে উৎপাদন ১২ হাজার কেজি হলে প্রতি ১০০ কেজিতে ২০ ইউরো বাচে তাদের। ব্যয়সংকোচনে এমন অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হয় তাদের।

করোনার সময় জ্বালানিব্যয় লিটারপ্রতি আধা ইউরো থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩০ ইউরোতে ওঠে। সার্বিক খরচ ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। অথচ পনিরের দাম বড়জোর ১০ শতাংশ বাড়াতে পেরেছেন বিক্রেতারা, তা-ও বিক্রি কমেছে ২৫ শতাংশ। বিশেষ করে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় কেজিপ্রতি ৪০ ইউরোর পেকোরিনো কেনার লোক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনলাইন কিংবা ঘরে ঘরে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা না করলে অবস্থা আরও খারাপ হতো।


মিয়ানমারে দমন-পীড়ন বেড়েছে

ইয়াঙ্গুনের সড়কে মঙ্গলবার যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জান্তা সরকারের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে সেখানে কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের জান্তা সরকার গত দুই বছর ধরে বিরোধীদের ওপর বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মঙ্গলবার এ কথা জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি মনে করে, মিয়ানমারে মৌলিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলো একজোট হয়ে জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো উচিত।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ক্ষমতা নেয়ার দুই বছর বুধবার পূর্ণ হচ্ছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। জান্তা সরকার তাদের বিরুদ্ধে কাউকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। গণমাধ্যম, সভা-সংগঠন সব কিছুর ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তাকারী সংস্থার হিসাবে মিয়ানমারে গত দুই বছরে অন্তত ১৭ হাজার বিক্ষোভকারী এবং অধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জান্তা সরকারের হাতে ২৯০০ মানুষ নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, গণহত্যা এবং অন্যান্য হয়রানি চালিয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেছেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালিয়ে দুই বছর পার করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সমান অপরাধ করে যাচ্ছে তারা।আগামী আগস্ট মাসে জান্তা সরকার দেশে নির্বাচন দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। পিয়ারসন বলেন, ‘আগস্টে জালিয়াতির নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে না গিয়ে বরং মিয়ানমারের জেনারেলদের তাদের অপরাধের জন্য শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত।যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ জানায়, শুধু গত অক্টোবর মাসে মিয়ানমারে প্রায় ৫০০টি আক্রমণ বা সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মিয়ানমারের বিশ্লেষক এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেছেন, কোনো সামরিক সমাধান তো দূরে থাক, রাজনৈতিক সমাধানও সুদূর পরাহত বলে মনে হচ্ছে।

আরও বড় সহিংসতা উসকে দেবে
এদিকে মিয়ানমারে জান্তা সরকারের পরিকল্পিত নির্বাচন দেশটিতে আরও বড় সহিংসতা উসকে দেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষ দূত নোলিন হেইজার। মঙ্গলবার তিনি জানান, সামরিক সরকার পরিচালিত নির্বাচন মিয়ানমারে আরও বড় সহিংসতায় ইন্ধন জোগাবে। সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। দেশটিতে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতায় ফিরে আসার পথকে আরও কঠিন করে তুলবে।


দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে আবার আইএমএফের দরজায় পাকিস্তান

পাকিস্তানি রুপি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আবারও হাত পাতল পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকায় এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে পাকিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার পথে। বিপর্যয় ঠেকাতে তাই দেশটির সরকারের কাছে আইএমএফের দরজায় কড়া নাড়া ছাড়া আর বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ৬৫০ কোটি ডলারের ‘বেইল আউট’ সুবিধা চেয়েছে পাকিস্তান। বর্ধিত এই তহবিল সুবিধা মঞ্জুরের বিষয়ে আইএমএফ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তহবিলটি পাওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না আসা পর্যন্ত সাময়িকভাবে আর্থিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে পাকিস্তানে।

ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পরিমাণ কমেছে পাকিস্তানি রুপির মান। গত সোমবার দেশটিতে প্রতি ডলার ২৭০ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। বলা চলে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ রুপি। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে ডলারের বিনিময় হারে নিয়ন্ত্রণ উঠিয়ে নেয়ার ফলে দ্রুত নামতে থাকে পাকিস্তানি রুপির মান।

রুপির মূল্যস্ফীতি ছাড়াও পাকিস্তানে চলতি সপ্তাহে লিটারপ্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দাম ৩৫ রুপি বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এ ছাড়া কেরোসিন ও হালকা ডিজেলের মূল্য বেড়েছে ১৮ রুপি করে। গত রোববার থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই ঘোষণা দেন।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির দর বাড়ার পরপরই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানে লিটারপ্রতি পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ২৪৯ দশমিক ৮০ রুপিতে। হাইস্পিড ডিজেলের মূল্য ২৬২ দশমিক ৬০ রুপি। কেরোসিন তেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮৯ রুপিতে। আর হালকা ডিজেলের দাম ১৮৭ রুপি।

তবে অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, জ্বালানি তেলের অস্থায়ী মজুত এবং পেট্রলের ঘাটতি সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবিলম্বে নতুন মূল্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। পাকিস্তানি রুপির দরপতনের ফলে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে খাদ্যপণ্যের দামও ব্যাপক বেড়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটও দেখা দিচ্ছে।

পাকিস্তানের অর্থনীতি বাঁচাতে গত বছর আইএমএফের কাছে ৬৫০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তার আবেদন করেছিল সরকার। ওই আবেদন পর্যালোচনা শেষে দেশটিকে ১১০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও এখনো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সেই অর্থ ছাড়েনি। এই অর্থ ছাড়াও পুরো ঋণ সহায়তা পেতে দেশটির সরকারকে কিছু শর্ত দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

পাকিস্তানের বর্তমান রিজার্ভ ৩৭০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া দেশটিতে গত বছরের ভয়াবহ বন্যার পর মূল্যস্ফীতিও ব্যাপক বেড়েছে। বন্যায় দেশটিতে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী এক দশক লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়:

ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পেতে পশ্চিমা মিত্রদের বারবার তাগিদ দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সোমবার সাংবাদিকদের বাইডেন জানান, তিনি যুদ্ধবিমান পাঠাবেন না। এর আগে জার্মান সরকারও ইউক্রেনে ‍যুদ্ধবিমান পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমি জেলেনস্কি এবং দেশটির অন্যান্য সামরিক কর্মকতাদের মতে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের মতো সামরিক সহায়তা দিতে পশ্চিমাদের মনে ভয়-আতঙ্ক থাকা উচিত না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, এমন সহায়তা পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে তাদের উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন্স বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যুদ্ধবিমান হিসেবে মনে করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশ যেমন বেলজিয়াম এবং পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। অন্যদিকে ইউক্রেন এখনো সোভিয়েত আমলে নির্মিত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। যাই হোক, বাইডেন একাধিক বারই যুদ্ধবিমান নিয়ে ইউক্রেনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে তিনি ইউক্রেনের অন্যান্য সামরিক সহায়তা দিতে নজর বাড়িয়েছেন। ইউক্রেনে অত্যাধুনিক ট্যাংক পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা ছিল। তবে সে অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটি গত সপ্তাহে ইউক্রেনে অত্যাধুনিক আব্রাম৩১ ট্যাংক পাঠানো ঘোষণা দেয়। যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও তাদের অত্যাধুনিক ট্যাংক কিয়েভে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় ইউক্রেনকে তিন শতাধিক ভারী ট্যাংক দেবে পশ্চিমা দেশগুলো।


পাকিস্তানে মসজিদে হামলায় নিহত বেড়ে ১০০

পাকিস্তানে বোমায় বিধ্বস্ত মসজিদে মঙ্গলবার উদ্ধার অভিযান চলে। ছবি : এএফপি
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ১৭০ জন আহত হন। ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়েছে।

পেশোয়ারের পুলিশ লাইনস এলাকার মসজিদটিতে সোমবার জোহরের নামাজ চলাকালে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। বিবিসি জানায়, পাকিস্তানের তালেবান গোষ্ঠী মসজিদে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। যদিও প্রাথমিকভাবে তালেবানের এক কমান্ডার হামলার দায় স্বীকার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। এ দিন অন্তত ২৪ জনের মরদেহ পেয়েছেন তারা। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা নেই বলে কর্মকর্তারা জানান।

মসজিদে হতাহতদের পেশোয়ারের হাসপাতালগুলোয় নেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোয় স্বজনরা ভিড় করছেন। রয়টার্স জানায়, অ্যাম্বুলেন্সে কফিন নেয়ার সময় এক বৃদ্ধাকে তার সন্তানের জন্য আহাজারি করতে দেখা গেছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়েছে। ২০ জন পুলিশ সদস্যের দাফন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ ইজাজ খান এর আগে জানিয়েছিলেন, মসজিদে হামলার সময় ৩০০ থেকে ৪০০ পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা সেখানে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, মসজিদটি পেশোয়ারের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর (রেড জোন) একটিতে অবস্থিত। এই এলাকায় প্রাদেশিক পুলিশের সদর দপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা ও সন্ত্রাস দমন বিভাগের কার্যালয় আছে। আত্মঘাতী হামলাকারী কিভাবে একাধিক তল্লাশি চৌকি পেরিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেছে তা এখনো কর্তৃপক্ষের ধারণার বাইরে।

পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ ইজাজ খান বলেন, ‘বোমা নিয়ে হামলাকারী কম্পাউন্ডের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছে গেছেন। নিরাপত্তায় গাফিলতি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা বিস্ফোরকের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছি।’ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘আত্মঘাতী হামলাকারী নামাজের সময় প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

পেশোয়ার শহরে গত বছর কোচা রিসালদার এলাকার একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৬৩ জন নিহত হয়েছিল। তবে এবারের রক্তপাত গতবারের আঘাতকেও ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্তান তালেবান গত নভেম্বরে সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে আবারও সংহিসতার মাত্রা বেড়েছে।

বিষয়:

ভারতীয় উড়োজাহাজে ইতালীয় নারীকে নিয়ে হুলুস্থুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মাঝ আকাশে এয়ারলাইন্স ভিস্তারার উড়োজাহাজে ইতালীয় এক নারী যাত্রীকে নিয়ে হুলুস্থুল পড়েছে। উড়োজাহাজের কর্মীরা অভিযোগ করেন, ওই নারী খুবই অশোভন আচরণ করেছেন। তিনি এক কর্মীর গায়ে হাত তোলেন। আরেক কর্মীকে ঘুষি মারেন। শেষ পর্যন্ত অবাধ্য যাত্রীকে আসনে বেঁধে রাখেন তারা।

বিবিসি জানায়, ভিস্তারার উড়োজাহাজটি সোমবার আবুধাবি থেকে ভারতের মুম্বাইয়ে অবতরণ করে। এরপর ‍মুম্বাই বিমানবন্দরে ওই নারী যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য তিনি জামিনে ছাড়া পান।

ভিস্তারা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, ওই যাত্রী ইকোনমিক ক্লাস ছেড়ে বিজনেস ক্লাসের আসনে যেতে চাইলে তাকে নিষেধ করা হয়। এতেই তিনি খেপে যান। তিনি কর্মীদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করেই যাচ্ছিলেন। এদিকে ওই যাত্রীর আইনজীবী তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

বিষয়:

কাল কখন দেখবেন বিরল সবুজ ধূমকেতু

৫০ হাজার বছর পর দেখা দিয়েছে সবুজ ধূমকেতু
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

৫০ হাজার বছর পর রাতের আকাশে দেখা দিয়েছে সবুজ ধূমকেতু। আগামীকাল বুধবার এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবে। বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চল থেকে রাতে ধূমকেতুটি দেখা যাওয়ার কথা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘সি/২০২২ ই৩ (জেডটিএফ)’। জানুয়ারির শুরুতে সূর্যকে প্রদক্ষিণের পর পৃথিবীর আকাশে দেখা দেয় ধূমকেতুটি। কাল পৃথিবী থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ মাইল দূরে হবে এর অবস্থান। মহাজাগতিক মাপজোখে তা খুব বড় দূরত্ব নয়।

কেন অনন্য?

দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ৫০ হাজার বছর আগে শেষবার যখন ধূমকেতুটি দেখা যায়, পৃথিবীতে তখন নিয়ানডারথালদের বিচরণ। অর্থাৎ আধুনিক মানুষের চোখে প্রথম ধরা দিল সি/২০২২ ই৩ (জেডটিএফ)।

সবুজ কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি টেলিস্কোপে গত বছর মার্চে সবুজ ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সবুজাভ রঙ ধূমকেতুটির রাসায়নিক গঠনকে প্রতিফলিত করে। সূর্যালোক এবং কার্বন অণুর মধ্যে মিথষ্ক্রিয়ার ফলে এটি সবুজ দেখায়।

কখন ও কীভাবে দেখবেন?

ধূমকেতু দেখতে চাইলে সেরা সময় বুধবার রাত। শহুরে বাতি থেকে দূরে, তুলনামূলক আঁধার কোনো এলাকায় গিয়ে দেখার চেষ্টা করতে পারেন। তা ছাড়া, আকাশ পরিষ্কার থাকা জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয় দূরবীনে চোখ রাখলে।


banner close