শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
২৫ পৌষ ১৪৩২

তুরস্ক-সিরিয়ায় যাচ্ছে রাশিয়ার উদ্ধারকারীরা

সিরিয়ার আলেপ্পোতে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধার তৎপরতায় ব্যস্ত উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:২৪

স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় উদ্ধার কাজের সাহায্যের জন্য রাশিয়ার উদ্ধারকারীরা যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে সিরিয়ার উদ্দেশে রাশিয়ান উদ্ধাকারীরা রওনা হবে। আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মস্কোর সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার ধ্বংস্তুপ সরাতে রাশিয়ার ৩০০ সেনাসদস্য দেশটিতে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

নুরদায়ি শহরটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এই দুটি দেশ ছাড়াও লেবানন ও সাইপ্রাসে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার দূরের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে কম্পন।

তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেবার একই মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিগত ২৫ বছরে সাতবার তুরস্কে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী বলছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

কম্পনের তীব্রতা এবারে এতই বেশি ছিল যে মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৬৬টি পরাঘাত অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর দিছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিষয়:

রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় মস্কো–ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জব্দ হওয়া পুরোনো ও জীর্ণ জাহাজটির আগের নাম ছিল ‘বেলা ওয়ান’। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। অভিযোগ ছিল, এটি ইরানের অবৈধ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ।

গত মাসে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশে যাত্রার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড প্রথমবার জাহাজটি আটকানোর চেষ্টা করে। তখন এটি গায়ানার পতাকাবাহী হিসেবে চলাচল করছিল। তবে জাহাজের ক্রুরা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে জাহাজে উঠতে দেয়নি এবং হঠাৎ করে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে দিক পরিবর্তন করে।

পরবর্তীতে জাহাজটির গায়ে রাশিয়ার পতাকা আঁকা হয় এবং রাশিয়ার শিপিং রেজিস্টারে নতুন নাম ‘মারিনেরা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কীভাবে জব্দ হলো জাহাজটি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে জানা যায়, অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও বিমানগুলো পুনর্বিন্যাস করে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে ভি-২২ অস্ট্রে বিমানগুলোকে প্রশিক্ষণ মিশনে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি রোববার মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায় দুটি এসি-১৩০ গানশিপ।

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানায়, আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ১৯০ মাইল দূরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বুধবার জাহাজটি জব্দ করা হয়। ওই সময় জাহাজটি হঠাৎ দক্ষিণ দিকে মোড় নেয়।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজে ওঠার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নেভি সিল সদস্যরা অংশ নেন। ‘নাইট স্টকারস’ নামে পরিচিত সেনাবাহিনীর ১৬০তম বিশেষ বিমান রেজিমেন্টের হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তারা অভিযানে সহায়তা দিয়েছে।

কী বলছে রাশিয়া

জাহাজ জব্দের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী অন্য দেশের বৈধভাবে নিবন্ধিত জাহাজের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। এখানে উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে সই করেনি।

জাহাজে থাকা রুশ নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রুশ আইনপ্রণেতা লিওনিদ স্লুতস্কি এই ঘটনাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এই ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা নেই। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক।

এদিকে চীনও এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।

আরও জাহাজ জব্দের ইঙ্গিত

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল পরিবহন রোধ করাই তাদের লক্ষ্য।////

তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে অন্তত ১৬টি জাহাজে তেল বা জ্বালানি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো জাহাজ এআইএস ট্রান্সমিটার বন্ধ করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জব্দ অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাশিয়ার তেল কিনলেই ৫০০% শুল্ক

রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ '৫০০ শতাংশ শুল্ক' আরোপের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন এবং ভারত-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এসব পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি ইস্যুতে ভারত দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের যোগদানের আগে আগে এই সিদ্ধান্ত নিলো যুক্তরাষ্ট্র।

গত সেপ্টেম্বরে এই কূটনীতিক বলেছিলেন, ভারতের রুশ তেল আমদানি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করাই হবে তার 'শীর্ষ অগ্রাধিকার'। দ্য হিন্দু বলছে, আগামী ১২ জানুয়ারি দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত এবং 'দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত' হিসেবে দায়িত্ব শুরু করবেন সার্জিও গোর।

এদিকে প্যারিসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসলোভ সিকোরস্কি রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমে আসায় 'সন্তোষ' প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভারতসহ কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি রাশিয়া থেকে ভারতে তেল আমদানি কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করছি, কেননা এর ফলে (রুশ প্রেসিডেন্ট) পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে অর্থের জোগান বন্ধ হচ্ছে।' সেসময় সেখানে উপস্থিত জয়শঙ্কর এই মন্তব্যের কোনো বিরোধিতা করেননি।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট গতকাল বুধবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে 'সবুজ সংকেত' দিয়েছেন, যা নিয়ে 'আগামী সপ্তাহের শুরুতেই' কংগ্রেসে ভোট হতে পারে।

তিনি বলেন, 'এই বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধে অনুপ্রাণিত হয়—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে।'

রাশিয়া ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনটি (রাশিয়া স্যাংশনস অ্যাক্ট) একটি দ্বি-দলীয় বিল, যা গত এপ্রিল মাসে সিনেটে উত্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত সিনেটের মোট ১০০ সদস্যের মধ্যে ৮৪ জন এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ১৫১ জন এটি অনুমোদন করেছেন। এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভোটে তোলা হলে বিলটি সহজেই পাস হয়ে যাবে।


জাতিসংঘের ৩১টিসহ ৬৬ সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল।

জার্মানীর একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক সংস্থাই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও প্যানেল- যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণে কাজ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা বড় পরিসরে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে- যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ‘স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্ত্ররাষ্ট্র।

যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে।


এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। এ জন্য দেশ দুইটি আলোচনা করছে বলে পাকিস্তানের দুইটি সূত্র জানিয়েছে। গত বছর উভয় দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের কয়েক মাস পর এই আলোচনা শুরু হওয়ায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান যখন তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে, তখন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে দুই মিত্র দেশ।

গত সেপ্টেম্বরে সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে উন্নত এবং পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ। অন্য সূত্রটি জানায়, জেএফ–১৭ই প্রধান বিকল্প হলেও আরও কিছু সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রথম সূত্রের দাবি, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার হবে ঋণ রূপান্তর, আর বাকি অর্থ যাবে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম কেনায়। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এ সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুর্কি বিন বান্দার বিন আবদুলআজিজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদ বলেন, জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হওয়ায় এর বাজারযোগ্যতা বেড়েছে এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচের। পাকিস্তান দাবি করেছে, গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে, আর সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও বাকিতে তেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্প্রতি পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে প্রতিরক্ষা কূটনীতি জোরদার করেছে। গত মাসে দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করে, যেখানে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও জেএফ–১৭ বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের সাফল্য অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তান ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে তার প্রতিষ্ঠান এক্সএআই। এসব ছবির বেশিরভাগই নারীদের, যাদের অনেকেই বাস্তব মানুষ। ব্যবহারকারীরা গ্রোককে নির্দেশ দিচ্ছে ওই ব্যক্তিদের ছবি থেকে ‘ডিজিটালি পোশাক খুলে দিতে’ কিংবা আপত্তিকর ভঙ্গিতে উপস্থাপন করতে।

গত সপ্তাহে একাধিক ঘটনায় এমন ছবিও দেখা গেছে, যেগুলো নাবালকদের বলে মনে করা হচ্ছে। এতে করে অনেকে এসব ছবিকে শিশু পর্নোগ্রাফি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্মিলিত ব্যবহারের ঝুঁকি সামনে এনেছে—বিশেষ করে যখন পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেইল’ না থাকে। এসব কনটেন্ট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং নারী ও শিশুদেরসহ অনেককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ইলন মাস্ক ও এক্সএআই দাবি করেছে, তারা এক্স প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্ট, বিশেষ করে শিশু যৌন নির্যাতন–সংক্রান্ত উপাদান অপসারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্যে কনটেন্ট সরানো, অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তবে এরপরও গ্রোকের জবাবে নারীদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা ছবির বন্যা থামেনি।

প্রকাশ্যে ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ‘ওক’ এআই মডেল ও সেন্সরশিপের বিরোধিতা করে আসছেন। সিএনএনকে এক্সএআই–এর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, গ্রোকের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরুদ্ধেও অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক।

গ্রোক শুরু থেকেই অন্যান্য মূলধারার এআই মডেলের তুলনায় ব্যতিক্রম ছিল, কারণ এতে যৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট অনুমোদিত—কিছু ক্ষেত্রে উৎসাহিতও করা হয়েছে। পাশাপাশি গুগলের জেমিনি বা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপরীতে গ্রোক সরাসরি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এর সঙ্গে যুক্ত।

ব্যবহারকারীরা গ্রোকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথোপকথন করতে পারলেও, প্রকাশ্য পোস্টে গ্রোককে ট্যাগ করেও অনুরোধ জানাতে পারেন, যার জবাব গ্রোক প্রকাশ্যেই দেয়।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে ‘ডিজিটালভাবে পোশাক খুলে দেওয়ার’ প্রবণতা ব্যাপক আকার নেয়। তখন অনেক ব্যবহারকারী আবিষ্কার করেন যে এক্স–এর কোনো পোস্ট বা থ্রেডের ছবি এডিট করার অনুরোধ করে গ্রোককে ট্যাগ করা যায়। শুরুতে অনেকে গ্রোককে ছবি থাকা ব্যক্তিদের বিকিনি পরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইলন মাস্ক নিজেও নিজের এবং তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিল গেটসের বিকিনি পরা ছবি পুনরায় পোস্ট করেন।

এআই শনাক্তকরণ ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান কপিলিকসের গবেষকরা জানান, এই প্রবণতার সূচনা হতে পারে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের মাধ্যমে, যারা নিজেদের যৌনভাবে উপস্থাপিত ছবি তৈরি করে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছিলেন। তবে খুব দ্রুতই ব্যবহারকারীরা এমন নারীদের ছবি নিয়েও একই ধরনের অনুরোধ জানাতে শুরু করেন, যারা কখনোই এ ধরনের ব্যবহারে সম্মতি দেননি।


৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বৈপ্লবিক নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে একাধিক জাতিসংঘ সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানান। ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘ পর্যালোচনায় এই সংস্থাগুলোকে অকার্যকর, অপচয়কারী এবং মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাহী আদেশ ১৪১৯৯-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই সংস্থাগুলো বর্তমানে নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নির্দিষ্ট মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং প্রগতিশীল মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান যে, মার্কিন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আর এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা হবে না যা থেকে আমেরিকার কোনো দৃশ্যমান অর্জন নেই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশের স্বার্থে ব্যয় করার দিন এখন শেষ। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এক সময় শান্তি ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বর্তমানে এক বিশাল ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ বা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সীমিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গোঁড়ামি এবং জেন্ডার ইক্যুইটি বা লিঙ্গ সমতার মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াকে এই সংস্থাগুলো থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নাম প্রত্যাহার করা ৬৬টি সংস্থার মধ্যে ৩১টি সরাসরি জাতিসংঘের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং বাকি ৩৫টি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), জাতিসংঘ ডেমোক্র্যাসি ফান্ড এবং জাতিসংঘ পপুলেশন ফান্ড। অন্যদিকে জাতিসংঘ বহির্ভূত সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC), এবং কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেসব সংস্থা মার্কিন স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক বা অপ্রাসঙ্গিক সেখানে কোনো ধরণের কূটনৈতিক পুঁজি বা সম্পদ নষ্ট করা হবে না। তবে যেসব ক্ষেত্রে জনগণের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা হবে, সেখানে সীমিত পরিসরে সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে আরও বেশ কিছু সংস্থার কার্যক্রম নিবিড় পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।


বাংলাদেশে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের আলোচনা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগাতে চায় ইসলামাবাদ। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সংঘাত ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার সংগ্রহ করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।

যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার এই আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌‌এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র তৈরি কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। এই বিমান আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তিরও অংশ।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে দেশের অস্ত্র শিল্পের সাফল্য। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‌‌আমাদের বিমান পরীক্ষিত, আর আমরা এত অর্ডার পাচ্ছি যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজনই হবে না।


দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য, ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ  

দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় বুধবারের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভারতের রাজধানী দিল্লির পৌর কর্তৃপক্ষ (এমসিডি) তুর্কমান গেট এলাকায় ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের পাশের একটি জমিতে অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতের দিকে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মসজিদ কমিটি উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট আগামী ২২ এপ্রিল এই জমির বিরোধসংক্রান্ত পিটিশনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ আদালতের সেই নির্দেশনা না মেনেই বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

পৌর কৃর্তপক্ষের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে পৌর কর্তৃপক্ষ আমান কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, বৈঠকের উদ্দেশ ছিল, উচ্ছেদের সময় শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছে তারা।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পৌর কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পুলিশ পরিমিত ও সীমিত বল প্রয়োগ করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।’

পুলিশের সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মধুর ভার্মা আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব বিচারিক নির্দেশনাকে আইনগত, পেশাদারত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীলভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।’

মসজিদের পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশাসন প্রায় ১৭টি বুলডোজার ব্যবহার করেছে।

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কী ছিল: দিল্লি হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে একটি পিটিশনের বিষয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেন। তুর্কমান গেট এলাকায় ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদ ও কবরস্থানের পাশের একটি জমিতে থাকা স্থাপনা অবৈধ উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই পিটিশন দায়ের করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমিত বংসাল দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ, দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শহর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডকে নোটিশ জারি করেন।

আদালত বলেন, ‘এই বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।’ নোটিশে কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে পিটিশনের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলাটি আগামী ২২ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।

২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ এ–সংক্রান্ত একটি আদেশ দেয়। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘শূন্য দশমিক ১৯৫ একরের বাইরের জমিতে থাকা সব স্থাপনা অবৈধ ও উচ্ছেদের যোগ্য। তাদের দাবি, মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনো প্রামাণিক দলিলাদি উপস্থাপন করতে পারেনি।’

শূন্য দশমিক ১৯৫ একর জমির ওপর মসজিদটির মূল অবকাঠামো অবস্থিত।


ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন

ইউক্রেন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রেসিডেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্যারিসে কোয়ালিশন অব দ্য উইলিংয়ের বৈঠকে একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর হয়। এদিকে, ইউরোপিয়ান নেতাদের আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকভ জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে অগ্রগতি আসলেও ভূমি ভাগাভাগির মতো জটিল ইস্যুগুলো সমাধানে আরও আলোচনা প্রয়োজন। তবে চলমান আলোচনার মাঝেই, গত মঙ্গলবার একে অপরের ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রচেষ্টার মাঝেও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো ও কিয়েভ। মঙ্গলবার রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউক্রেনের ৩ শতাধিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিতের দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ২ টি হিমার্স রকেটও ধ্বংসের কথা জানিয়েছে মস্কো। বিপরীতে কিয়েভের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কোস্ট্রেমা ওব্লাস্টে একটি রুশ সামরিক অস্ত্রাগারে সফল হামলা চালিয়েছে।

দুই দেশের ক্রমাগত হামলা-পালটা হামলার মাঝেই মঙ্গলবার প্যারিসে বৈঠকে বসে কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের জোট কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং। আলোচনায় উঠে আসে যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা ইস্যুর প্রসঙ্গ। সভায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কিয়েভের সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে জেলেনস্কির উপস্থিতিতে একটি ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা চাই না এমন কোনো শান্তি চুক্তি হোক , যার ফলে কিয়েভের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এটা মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও চায়না। ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত। এটা কিয়েভের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।’

যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো কিয়েভের টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা। আমরা ৩টি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি। শুরুতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের সুরক্ষায় শান্তি বাহিনী পাঠাব। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’

ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জেলেনস্কি নিজেও। জানান, ইউক্রেনের জল, আকাশ ও স্থল নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত আছে ।

মঙ্গলবার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন স্টিভ উইটকভ ও জ্যারেড কুশনার। যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে রাশিয়া ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি এসেছে বলে জানান তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে যথেষ্ট অগ্রগতি এসেছে। তবে ভূমি ভাগাভাগির মতো কিছু জটিল বিষয় আছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি আশাবাদী এই ইস্যুতে বিবাদমান পক্ষগুলো আপসে সম্মত হবে এবং আমরা সমাধানে পৌঁছাবো।’

মঙ্গলবারের আলোচনায় জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালিসহ ইউরোপের প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তবে ফ্রান্স-ব্রিটেন ছাড়া অন্য কোনো দেশ ইউক্রেনে যুদ্ধ পরবর্তী সৈন্য পাঠাতে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।


মার্কিন হামলায় নিহত ৫৭, ভেনিজুয়েলায় ৭ দিনের শোক

ভেনিজুয়েলার নিহত সেনাদের কফিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত সামরিক হামলা ও অভিযানে অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) চালানো হামলাটি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশে কারাকাসে সংঘটিত হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা। এছাড়া দুইজন বেসামরিক নারীও প্রাণ হারিয়েছেন। কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি সংবাদপত্র গ্রানমা, ‘সম্মান ও গৌরব’ শিরোনামে একটি পোস্টে অভিযানে নিহত সেনাদের বিবরণও শেয়ার করেছে।

এদিকে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবারের (৩ জানুয়ারি) হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের সম্মানে দেশব্যাপী সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেন, যে সব তরুণ ও পুরুষ–নারীরা দেশ ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে রক্ষার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সম্মানেই এই শোক।

কিউবান সরকারও তাদের নাগরিকদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত ৩২ জনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেসা লাতিনা সংস্থা জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলা সরকারের অনুরোধে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মিশন পরিচালনা করার সময় কিউবার যোদ্ধাদের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল তাদের মহান সাহসিকতা ও মর্যাদার জন্য শ্রদ্ধা জানান এবং দুই দিন জাতীয় শোকের ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দেশটিতে নিহত সেনাদের স্মরণে শোক পালন করা হয়। কিউবা ভেনিজুয়েলার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বছরের পর বছর ধরে তারা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে অভিযানে সহায়তা করার জন্য সামরিক ও পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে আসছে।


মাদুরো আমার নাচ নকল করে : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এবার এক বিচিত্র অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের অভিযোগে বর্তমানে আটক মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দাবি, এই নেতা জনসমক্ষে তার বিখ্যাত নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল রিপাবলিকানদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিজের স্বভাবসুলভ হাত দুলিয়ে নাচের ভঙ্গিমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, মাদুরো সেখানে দাঁড়িয়ে তাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাদুরোর কিছু নাচের ভিডিও হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানালেন।

মজার ছলে নাচের কথা বললেও বক্তব্যে মাদুরোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার এই নেতা লাখ লাখ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী এবং কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে তার একটি নিজস্ব নির্যাতন কক্ষ বা টর্চার চেম্বার ছিল যা এখন বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যক মানুষ হত্যার অভিযোগের সপক্ষে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি। একই সমাবেশে তিনি নিজের নাচ নিয়ে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের অস্বস্তির কথা জানিয়ে বলেন যে, মেলানিয়া এই নাচকে প্রেসিডেন্টসুলভ মনে করেন না। মেলানিয়া মনে করেন জনতা কেবল ভদ্রতা বশত হাততালি দেয়, যদিও ট্রাম্পের দাবি সাধারণ মানুষ তার এই নাচ দেখার জন্য সবসময় চিৎকার করে অনুরোধ জানায়।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার মার্কিন বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, মাদুরোকে আটকের পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


গ্রিনল্যান্ড 'দখলের' বিষয়ে যা জানাল হোয়াইট হাউস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আর্কটিক অঞ্চলে নিজ দেশের আধিপত্য নিশ্চিত করতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় দেশ এবং কানাডার নেতারা যখন যৌথভাবে দাবি করছেন যে আর্কটিক অঞ্চলটি সেখানকার স্থানীয় জনগণের মালিকানাধীন, ঠিক সেই সময়েই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক ঘোষণা এলো। বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে তাঁর দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে দেখছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর প্রভাব প্রতিহত করতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে শেষ অস্ত্র হিসেবে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে এভাবে একটি অঞ্চল দখলের প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে এবং ইউরোপীয় নেতাদের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটাতে পারে। মূলত ২০১৯ সালে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন, তবে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সফল সামরিক অভিযানের পর তাঁর এই পুরোনো আগ্রহ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছেন যে, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য এখন অবিসংবাদিত।

গ্রিনল্যান্ড দখলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বর্তমানে দ্বীপটি রাশিয়ান এবং চীনা জাহাজ দ্বারা আবৃত হয়ে আছে এবং ডেনমার্কের পক্ষে এই বিশাল এলাকাটি রক্ষা করার কোনো সামর্থ্য নেই। তিনি কলম্বিয়া ও কিউবার ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডকেও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপে বসবাসকারী প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বারবার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নন। সার্বভৌমত্ব এবং স্থানীয় মানুষের অধিকারের প্রশ্নটি উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্থিরতা ও প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইরানে বিক্ষোভের দাবানল: ২৭ প্রদেশে ছড়িয়েছে আন্দোলন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দশ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলন দেশটির মোট ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ)-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া সহিংসতায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আন্দোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের নিহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে তাঁরা দাবি করেছেন যে সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত তিনজন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের মালেকশাহী এলাকায় এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ওই প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার এলাকায় শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে স্লোগান দিলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে সরাসরি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায়, যার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই বিশাল বিক্ষোভের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে দোকানিরা প্রথম রাস্তায় নামেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ তরুণ সমাজ এই আন্দোলনে যোগ দিলে তা দাবানলের মতো পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক বছরে ইরানি মুদ্রার যে রেকর্ড দরপতন হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একদম তলানিতে ঠেকেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক এই দেউলিয়াত্বই সাধারণ মানুষকে রাজপথে জীবন বাজি রেখে নামতে বাধ্য করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বর্তমানে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে এক অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

*আলোচনায় প্রাধান্য পেল নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে প্রতিনিধিদলটি। এতে নেতৃত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন।
সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এবং এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি এরমধ্যে গ্রহণ করেছে। বিএনপি আশা করছে, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার একটি বড় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে, যারা সারাদেশে কাজ করবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক না পাঠালেও এবার তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি করবে বলে বিএনপি মনে করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রথম থেকেই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে ফিরে প্রথম জনসভাতেই ‘শান্তি ও সমঝোতা’–এই শব্দ দুটির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আগামী দিনে তারা আরও বেশি পরিমাণে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের কল্যাণে বিএনপির ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বাংলাদেশে লেবার কোড সংশোধন ও লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিল। বিএনপি ভবিষ্যতে শ্রম আইনের আরও আধুনিকায়ন ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি নির্বাচনী ব্যস্ততা ও সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তবে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপির সবসময়ই আগ্রহ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


banner close