ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা জারির এই ঘোষণা আসে। খবর এএফপির।
শীতকালীন ঝড়ের কারণে সিরিয়া সীমান্তের কাছের তুরস্কের দুর্গম এবং বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোতে খাদ্য এবং অন্যান্য সাহায্য পৌঁছানো দুরূহ হয়ে পড়ছে।
এরদোয়ান বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে মানবিক উদ্ধারকর্মী এবং অর্থ সাহায্য পৌঁছানোসহ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ জরুরি অবস্থার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
১৯৩৯ সালের পর বিগত ৮৪ বছরের মধ্যে এটাই তুরস্কের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। কিন্তু এরদোয়ান উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বেশ ধীরগতিতে করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করে যাচ্ছেন তার বিরোধীরা।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তুরস্কের গাজিয়াতেপে উৎপন্ন হওয়া ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের ৩ হাজার ৫ শ ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আর সিরিয়ায় সরকারি ও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে মোট মৃত্যু ১৬০২।
এরদোয়ান বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি সাহায্যকারী পাঠানো হবে। এছাড়া ৫৩০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থসাহায্যও পাঠানো হবে।
সোমবার তুরস্কের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।
লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত এই নৌপথগুলোতে মুক্ত জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে এই জোটের সূচনা করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে প্রায় ৫০টি দেশকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে রিয়াদ। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিসর, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বহু দেশকে এতে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়। চূড়ান্তভাবে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস জোটের সনদে স্বাক্ষর করেছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
গালফ নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট গঠনের প্রাথমিক বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামের একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগেই সক্রিয় থাকায় নতুন এই জোট ঠিক কীভাবে তাদের সাথে সমন্বয় করবে তা এখনো পর্যালোচনাধীন।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শুধু হুথি বিদ্রোহী প্রতিরোধই নয়, লোহিত সাগরে জলদস্যুতা, অস্ত্র ও পণ্য চোরাচালান দমনে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে। জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা এর উদ্দেশ্য নয়। যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, অভিযানগত পরিকল্পনা ও সমন্বিত নৌ-অভিযানের মাধ্যমে এই জোট কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
আল মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, জোটটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হলে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বাব এল-মান্দেব প্রণালী সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। উদ্ভূত সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক বাজার ও নিজেদের তেল সরবরাহ সচল রাখতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহারের পাশাপাশি এই বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা বলয় গঠনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দমনে সমুদ্র এবং স্থলপথ উভয় দিক থেকেই এক বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ইয়েমেনি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। মূলত লোহিত সাগর পথে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রাখতে হুথিদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিতেই রিয়াদ এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে সৌদি সেনাদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য একটি স্থল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রিয়াদ একটি বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা জোট গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই জোটে ইতোমধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ প্রায় ১৪টি দেশ তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমানে ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে। তবে হুথিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই তারা এই পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে। তাদের মতে, এই বিরোধ ইরানকেন্দ্রিক নয় বরং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যতের সাথে সংশ্লিষ্ট। উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তার জন্য হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরব।
লোহিত সাগরের নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হতে রিয়াদ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামক একটি নৌ-মিশন টহল দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি যদি লোহিত সাগর পথটিও সৌদি তেলের জন্য রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে লোহিত সাগর পথের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে হুথি ও সৌদি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে। গত ২৫ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরগামী তেল পরিবহন অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এ ছাড়া সৌদি আরবের বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব গত এক মাসে চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘাত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় কমপক্ষে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবারে (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মার্চে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা না গেলেও বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন। ভাষণে তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ‘অশান্তির মেঘ সরাতে’ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা বহন করাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিবাদ থেকেই পরবর্তীকালে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। এ ছাড়া সান্ধ্য আইন বা কার্ফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে বর্তমানে সুনসারি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কার্ফিউ জারি রেখেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘আমি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকভাবে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মুখপাত্র কাফল বলেন, ‘আমরা মাঠে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১১ জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫ জনই শিশু বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ফ্রি স্টেট প্রদেশের ট্রম্পসবুর্গ এলাকার উত্তরে এন-১ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটিতে প্রায় ৬০ জন আরোহী ছিলেন। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায় এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালান। বাসের ভেতরে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশের নিচে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের ওই নির্দিষ্ট অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ যানবাহনগুলো অন্য পথে ঘুরিয়ে দেয় এবং চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার রোড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা উদঘাটনে ইতোমধ্যেই বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
জন্মহারের ক্রমাগত পতন এবং বার্ধক্যের কবলে পড়া জনগোষ্ঠীর সংকটে জাপানের নিজস্ব নাগরিকের সংখ্যা গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণবিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানে স্থায়ী জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজারে, যা গত বছরের তুলনায় ০.৭৬ শতাংশ কম।
২০০৯ সালে জনসংখ্যার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর থেকে জাপানে গত ১৭ বছর ধরে এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৬৮ সাল থেকে জনসংখ্যাবিষয়ক পরিসংখ্যান সংরক্ষণের পর এই প্রথম নিজস্ব নাগরিকের সংখ্যা ১২ কোটির মাইলফলকের নিচে নামল। বার্ষিক হ্রাসের পরিমাণ এবং শতাংশ—উভয় দিক থেকেই এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি নাগরিকসহ জাপানের সর্বমোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজারে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮ জন কম।
জাপানের এই জনতাত্ত্বিক সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যার বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। ফলে এক বছরেই দেশটির স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি। জাপানে নারী প্রতি গড় জন্মহার বর্তমানে সর্বকালের সর্বনিম্ন ১.১৪-এ অবস্থান করছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্যমতে, মোনাকোর পর জাপানের জনগোষ্ঠীই বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম, যেখানে নাগরিকদের গড় বয়স প্রায় ৫০ বছর।
তবে জাপানি নাগরিকদের সংখ্যা কমলেও দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক বিদেশি বাসিন্দার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর জাপানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। ভৌগোলিক বিচারে কেবল টোকিও, ওসাকা এবং চিবা—এই তিনটি প্রিফেকচারে জনসংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বাকি ৪৪টি প্রদেশেই জনবসতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জন্মহার বৃদ্ধি এবং তরুণদের বিবাহে আগ্রহী করতে জাপান সরকার বিভিন্ন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার পরিচালিত এআইভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ ‘টোকিও এনমুসুবি’র মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬৫ জোড়া দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু লালন-পালন সহায়তা, আবাসনে বিশেষ ভর্তুকি এবং ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের খরচে অনুদান দেওয়ার মতো নানা পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে।
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং এর বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অগ্রগতির পথে হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে একটি অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
হামাসের আলোচক দলের প্রভাবশালী সদস্য গাজি হামাদ আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংগঠনের এই নমনীয় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, গাজার সাধারণ মানুষকে অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করতেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক জাতীয় কমিটি মোতায়েন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গাজি হামাদ জোর দিয়ে বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এ দায়িত্ব পালন করবে শুধু জাতীয় কমিটিই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গাজা প্রশাসনবিষয়ক জাতীয় কমিটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ত্রের তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণের বিষয়টি তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে। গাজায় অস্ত্র রাখা, জমা করা বা তা নিয়ন্ত্রণের একক কর্তৃত্ব থাকবে শুধু এ কমিটির হাতে।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার গঠিত বিশেষ শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে গাজার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লেখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে শান্তি পর্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।’ ট্রাম্পের মতে, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই একটি ধারাবাহিকতা, যার মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে গাজায় থাকা অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের পরামর্শে এই সময়কাল বাড়ানো হতে পারে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) নামের একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, এই জাতীয় কমিটি হবে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও অরাজনৈতিক সরকার, যারা শুধু জনগণের সেবা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কের মতো দেশগুলো থাকতে পারে, যারা নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
যদিও শান্তি চুক্তির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে, তবে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি এখনো চরম উদ্বেগজনক। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করছে। ইসরায়েলি আক্রমণে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামাস ইতোমধ্যে ৬ জুলাই তাদের দীর্ঘ দুই দশকের প্রশাসনিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে গাজি হামাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্তানুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে হামাসও নিরস্ত্রীকরণের কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। বর্তমানে হামাস নেতারা কায়রোতে অবস্থান করে কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১১ জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫ জনই শিশু বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রি স্টেট প্রদেশের ট্রম্পসবুর্গ এলাকার উত্তরে এন-১ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটিতে প্রায় ৬০ জন আরোহী ছিলেন। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায় এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালান। বাসের ভেতরে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশের নিচে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের ওই নির্দিষ্ট অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ যানবাহনগুলো অন্য পথে ঘুরিয়ে দেয় এবং চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার রোড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম শৃঙ্গ ব্রড পিকে এক ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। ৮ হাজার ৪৭ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়ে আরোহণের সময় বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজার নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দলের অন্তত ১০ জন সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আলপাইন ক্লাব পাকিস্তান (এসিপি)।
নিখোঁজ আরোহীদের সন্ধানে এবং তাঁদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার ও স্থল উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসিপির তথ্যমতে, নিখোঁজ সদস্যদের মধ্যে পাকিস্তানের হুনজা অঞ্চলের পর্বতারোহী সোহেল সাখি ছাড়াও রয়েছেন নেপালের পাঁচজন, একজন মার্কিন, একজন ওমানি, একজন চীনা এবং আরও একজন বিদেশি পর্বতারোহী। এই সম্পূর্ণ অভিযানের মূল দায়িত্বে ছিলেন নেপালি বংশোদ্ভূত খ্যাতিমান পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজা।
উদ্ধার অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলপাইন ক্লাবের সদস্য কারার হায়দরি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই সরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।’ জিপিএস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধসের তোড়ে পর্বতারোহীরা মূল অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার নিচে ছিটকে পড়েছেন এবং সম্ভবত তাঁরা বর্তমানে গভীর তুষারস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
নিখোঁজ দলটি গত বুধবার ব্রড পিকের চূড়ায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল এবং শুক্রবারের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। এসিপির সাধারণ সম্পাদক আয়াজ শিগরি জানান, বৃহস্পতিবার ক্যাম্প–৩ অভিমুখে যাওয়ার পথেই তুষারধসটি আঘাত হানে। আলপাইন ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিখোঁজ পর্বতারোহীদের নিরাপদে ফিরে আসার আশা প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও বিশ্ব পর্বতারোহী সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সংহতি জানিয়েছে।
একই সময়ে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পর্বতগুলোতে আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে কে–২, গাশেরব্রুম–১ ও ব্রড পিকে আরও প্রায় দুই শতাধিক বিদেশি পর্বতারোহী ওপরের ক্যাম্পগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই আট সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক দল ৮ হাজার ৩৫ মিটার উচ্চতার গাশেরব্রুম–২ শৃঙ্গ সফলভাবে জয় করেছে। সেভেন সামিট ট্রেকস নামক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল ভোরে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
গাশেরব্রুম–২ জয়ী এই দলে ছিলেন ব্রিটিশ-পাকিস্তানি নাদিয়া আজাদ, ব্রাজিলের রোমান আন্দ্রাদে রোমানচিনি এবং নেপালের ছয়জন শেরপা। এই অভিযানের মাধ্যমে লাখপা তেম্বা শেরপা বিশ্বের ১৪টি ৮ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয়ের দুর্লভ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অন্যদিকে নাদিয়া আজাদের জন্য এটি ছিল পঞ্চম ৮ হাজার মিটার শৃঙ্গ জয়। গত বুধবার ক্যাম্প–৩ থেকে শুরু হওয়া এই চূড়ান্ত অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করে দলটি বর্তমানে নিরাপদ অবস্থানে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং এর বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। আজ শুক্রবার ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অগ্রগতির পথে হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে একটি অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
হামাসের আলোচক দলের প্রভাবশালী সদস্য গাজি হামাদ আলজাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংগঠনের এই নমনীয় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, গাজার সাধারণ মানুষকে অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক জাতীয় কমিটি মোতায়েন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গাজি হামাদ জোর দিয়ে বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এ দায়িত্ব পালন করবে শুধু জাতীয় কমিটিই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গাজা প্রশাসনবিষয়ক জাতীয় কমিটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ত্রের তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণের বিষয়টি তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে। গাজায় অস্ত্র রাখা, জমা করা বা তা নিয়ন্ত্রণের একক কর্তৃত্ব থাকবে শুধু এ কমিটির হাতে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর গঠিত বিশেষ শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে গাজার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে শান্তি পর্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।’ ট্রাম্পের মতে, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই একটি ধারাবাহিকতা, যার মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে গাজায় থাকা অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের পরামর্শে এই সময়কাল বাড়ানো হতে পারে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) নামের একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, এই জাতীয় কমিটি হবে একটি প্রযুক্তি নির্ভর ও অরাজনৈতিক সরকার, যারা শুধুমাত্র জনগণের সেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কের মতো দেশগুলো থাকতে পারে, যারা নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
যদিও শান্তি চুক্তির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে, তবে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি এখনও চরম উদ্বেগজনক। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করছে। ইসরায়েলি আক্রমণে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামাস ইতোমধ্যে ৬ জুলাই তাদের দীর্ঘ দুই দশকের প্রশাসনিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে গাজি হামাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে হামাসও নিরস্ত্রীকরণের কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। বর্তমানে হামাস নেতারা কায়রোতে অবস্থান করে কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউরোপের যেকোনো দেশে গ্রেপ্তার হলে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সহায়তায় নিজেকে মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি এই মন্তব্য করেন। নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এবং বিশেষ বাহিনীর সক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে তিনি এমন একটি অভিযানের সম্ভাবনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের সামরিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ওই বাহিনীতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার চলুন, তাদের একটি নতুন মিশন দেওয়া যাক।’ মূলত বিদেশে গ্রেপ্তার হলে তাঁকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগানো হতে পারে, এমন প্রচ্ছন্ন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মূলত আইসিসির এই পরোয়ানার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই তাঁর এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করতে আইনত বাধ্য। যদিও এই বাধ্যবাধকতা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে পা রাখলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তবে সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের অনুমতি ব্যতিরেকে সেই রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাত তৈরির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
গাজায় নির্বিচার প্রাণহানি ও জাতিগত নিধনের অভিযোগে যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু, ঠিক তখনই আইসিসির পদক্ষেপ মোকাবিলায় তাঁর এই কঠোর অবস্থান আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফলে নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে। যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা গ্রেপ্তার এড়াতে এখন তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সফরসূচি নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
আধার কার্ড ভারতের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। সরকারি বিভিন্ন সেবা, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং আর্থিক কার্যক্রমে পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ভারতের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ও জনমিতিক তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সংখ্যার আধার নম্বর দিয়ে থাকে। আধার প্যান কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিকল্প নয়। তবে পরিচয় যাচাই এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিকম সেবায় কেওয়াইসি প্রক্রিয়াতেও আধার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পর আধার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের বিষয়ে আদালত নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও সরকারি বিধির আওতায় কিছু নির্দিষ্ট সেবা ও প্রকল্পে আধার চাওয়া হতে পারে।
যেসব সরকারি সুবিধায় আধারের ব্যবহার রয়েছে
আবাসন ও কৃষি সহায়তা:
বিড়ি, লৌহ আকরিক ও চুনাপাথর শ্রমিকদের আবাসন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের বিধান রয়েছে। কৃষি ও ফসলবিমা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা, ভর্তুকি এবং কিছু সরকারি কৃষি প্রকল্পেও আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই করা হয়। মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সয়েল হেলথ কার্ড কর্মসূচিতেও আধারের ব্যবহার রয়েছে।
নারী ও শিশু কল্যাণ:
সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচি, ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইসিডিএস), শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন সুবিধা এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচিতে আধার সংযুক্তির বিধান রয়েছে। নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচিতেও আধার প্রয়োজন হতে পারে।
শিক্ষা ও বৃত্তি:
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি, জাতীয় মেধাভিত্তিক বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই করা হয়। ই-পঞ্চায়েত প্রশিক্ষণসহ কিছু সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা:
জননী সুরক্ষা যোজনা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য পরিচালিত কিছু প্রকল্পে আধারের ব্যবহার রয়েছে। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পেও আধার সংযুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অতীতে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বিতরণেও আধার ব্যবহারের বিধান করা হয়েছিল।
শ্রমিক ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা:
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, মুক্ত শ্রমিক পুনর্বাসন কর্মসূচি, হর্টিকালচার বিভাগীয় বিভিন্ন সুবিধা এবং ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রমোশন স্কিমের মতো কর্মসূচিতেও আধার ব্যবহারের বিধান রয়েছে।
মিড-ডে মিল ও রেলসেবা:
ভারতের স্কুলগুলোর মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ে আধার ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায়ও কিছু ক্ষেত্রে আধারভিত্তিক যাচাই চালু করা হয়েছে।
আয়কর ও প্যান কার্ড:
আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং নতুন প্যান কার্ডের আবেদনের ক্ষেত্রে আধারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। প্যানের সঙ্গে আধার সংযুক্ত করার বিধানও রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আধার-প্যান সংযোগ না থাকলে প্যানের কার্যকারিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের রায় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো সরকারি সুবিধা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ইউআইডিএআইয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দমনে সমুদ্র এবং স্থলপথ উভয় দিক থেকেই এক বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ইয়েমেনি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। মূলত লোহিত সাগর পথে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রাখতে হুথিদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিতেই রিয়াদ এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে সৌদি সেনাদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য একটি স্থল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রিয়াদ একটি বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা জোট গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে ইতিমধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ প্রায় ১৪টি দেশ তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে। তবে হুথিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই তারা এই পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে। তাদের মতে, এই বিরোধ ইরান কেন্দ্রিক নয় বরং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যতের সাথে সংশ্লিষ্ট। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তার জন্য হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরব।
লোহিত সাগরের নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হতে রিয়াদ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামক একটি নৌ-মিশন টহল দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি যদি লোহিত সাগর পথটিও সৌদি তেলের জন্য রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে লোহিত সাগর পথের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে হুথি ও সৌদি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়েছে। গত ২৫ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরগামী তেল পরিবহণ অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এছাড়া সৌদি আরবের বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব গত এক মাসে চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ক্যানসার প্রতিষেধক বা টিকার প্রাথমিক কার্যকারিতা নিয়ে আশার আলো দেখছেন দেশটির চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এই টিকার ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, টিকা গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
টিকাটির গবেষণায় যুক্ত গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকসান্দর গিনজবার্গ গত বৃহস্পতিবার রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সেখানে তিনি প্রথম রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান যে, "টিকা গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক আছেন এবং তাঁর শরীরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, "রোগীর শরীরে এমন সক্রিয় উপাদান তৈরি হচ্ছে, যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে টিউমার ও এর মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে।"
উল্লেখ্য যে, গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্যানসার চিকিৎসার দুটি স্বতন্ত্র পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছিল। এর একটি হলো উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা চিকিৎসার জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি হলো কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্ট’। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়, যিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। গিনজবার্গ জানিয়েছেন যে, ওই রোগীকে আরও দুটি ডোজ প্রদান করা হবে এবং পুরো চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় তাঁর রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এছাড়া আরও ১০ জন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর জন্য তাদের ব্যক্তিগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষায়িত মেলানোমা টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী হবে। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি কেবল প্রথাগত চিকিৎসা নয় বরং রোগীর প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও তা ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলে। এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধটিও রোগীদের শরীরে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। একইসঙ্গে গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য নতুন ও উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।