তুরস্ক-সিরিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে জনপদের পর জনপদ। থামছে না লাশের মিছিল। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি এই ধ্বংসস্তূপেই মিলছে প্রাণের সন্ধান। বিধ্বস্ত ভবন খুঁড়ে জীবিত মানুষ এমনকি প্রাণীকে নিয়ে আসছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকাজে চোখে পড়ছে অনেক মানবিক নজির। হয়তো জীবিত মানুষেরা উদ্ধারকারীদের জড়িয়ে কাঁদছেন, অথবা উদ্ধারকারীরা জীবিত বের করে আনা শিশুকে বুকে আগলে চোখের পানি ফেলছেন। এমনকি উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের হৃদয়স্পর্শী আচরণও ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এমনই এক হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ঘটনার খবর দিয়েছেন ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আন্তন গেরাশচেঙ্কো। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে তুরস্কে বিধ্বস্ত ভবন থেকে একটি বিড়াল উদ্ধার হয়েছিল। মার্দিন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের যে উদ্ধারকারী ওই বিড়ালটিকে বের করে এনেছেন, এখন তাকে ছেড়ে যেতে চাইছে না প্রাণীটি।
A cat was saved from under the rubble in Turkey. It now refuses to leave its rescuer's side. pic.twitter.com/Nveaxu3QrG
— Anton Gerashchenko (@Gerashchenko_en) February 16, 2023
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে উদ্ধারকারী ও বিড়ালটির একটি ভিডিও পোস্ট করেন গেরাশচেঙ্কো। এতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা উদ্ধারকারীর কাঁধেই বসে আছে ‘রাবল’ নামে বিড়ালটি। মাঝে মাঝে উদ্ধারকারীর গালে আদুরে স্পর্শ দিচ্ছিল সে।
সবশেষ শনিবার রাতে বিড়ালটির আপডেট জানিয়ে আরেকটি টুইট করেন গেরাশচেঙ্কো। এতে তিনি জানান, উদ্ধারকারী আলী সাকাসই রাবল নামে বিড়ালটিকে লালন-পালনের ভার নিয়েছেন। তার নাম দেয়া হয়েছে ‘এনকাজ’। তারা একসঙ্গে সুখী জীবন কাটাক।
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত গেরাশচেঙ্কোর ওই পোস্ট দেখেছেন প্রায় ৬০ লাখ ভিউয়ার। লাভ রিঅ্যাকশন পড়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার বারেরও বেশি। এছাড়া ওই পোস্ট আবার রিটুইট (শেয়ার) করেছেন সাড়ে ১৭ হাজার ব্যবহারকারী।
I posted yesterday about a cat saved from the rubble in Turkey who refused to leave his rescuer's side.
The rescuer's name is Ali Cakas and he adopted the cat, naming him Enkaz - "rubble" in Turkish.
May they have a happy life together!
📷- jcacs_1/ Instagram pic.twitter.com/ztgbZbAHyT— Anton Gerashchenko (@Gerashchenko_en) February 17, 2023
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘কত সুন্দর ঘটনা। স্রষ্টা তাদের সহায় হোন’।
আরেকজন লিখেছেন, ‘উদ্ধার এলাকায় তাকে (আলী সাকাস) বিড়ালটির জড়িয়ে থাকার ভিডিও দেখেছি। তিনি হাসছিলেন এবং বিড়ালটিকে চুমু খাচ্ছিলেন। চমৎকার বিষয় এটা।’
অন্য এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সম্ভবত আজকের সেরা খবরটি দেখা হলো।’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে কারণ প্রথমবারের মতো ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে ইরানি উপকূলীয় অঞ্চল লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবারই প্রথম মার্কিন বাহিনী সরাসরি ইরানি জাহাজে আঘাত হানল। ইতিপূর্বে ইরানের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে কেবল বাধা দেওয়া হলেও এখন ধ্বংসাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার’ নীতির অনুমোদন দিয়েছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য ইউনিট সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তাদের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সেজন্য বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবারের হামলায় ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে ইরানি ট্যাংকারগুলোর ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করা হয়। মূলত ইরান কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ট্যাংকার ও সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রাতেই জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছেন। এছাড়া জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’ এবং উত্তর ইরাকের এরবিলের মার্কিন নজরদারি সরঞ্জাম ও মেরামত কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর অস্বীকার করেছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, অধিকাংশ ইরানি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই ‘অপারেশন থান্ডার’ পরিচালনা করছে। এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, চাবাহার, জাস্ক ও আসলুয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বিমানবাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এসব হামলার জবাবে ইরান যদি পুনরায় পাল্টা আঘাতের চেষ্টা করে, তবে দেশটির ওপর আরও কঠোর ও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি।
দোহা নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা ছিল।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে কাতার থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে।
মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।
এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।
কাতারের সরবরাহের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ অন্য কয়েকটি দেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও উৎপাদন বেড়েছে। তবে এসব বিকল্প সরবরাহ কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এশিয়ার কিছু দেশ এলএনজি ব্যবহার কমিয়ে অন্য জ্বালানিতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইউরোপও তাদের মজুদ থেকে গ্যাস ব্যবহার বাড়িয়েছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গ্লোবাল রিসার্চ স্কলার আন-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে হরমুজ প্রণালির সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তার মতে, স্বাভাবিকভাবে এলএনজি রপ্তানি কবে শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস না থাকায় কাতারএনার্জি মাসে মাসে ‘ফোর্স মেজার’ বাড়াচ্ছে।
কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি—এমন দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
আন-সোফি করবো বিশেষভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে আছে। কারণ দেশটি কাতার থেকে অপেক্ষাকৃত কম এলএনজি কেনে এবং তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করে।
চীনও এখন পর্যন্ত কাতারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে পেরেছে। ইউরোপ মজুদ থেকে বেশি গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তাতে ইউরোপের মজুদও কমে যাচ্ছে।
করবোর ধারণা, আগে যে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ফিরবে, সেই অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কাস্টমস হাউসে হামলা চালিয়ে প্রবেশের চেষ্টার সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেশটির বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী এবং কাস্টমস বিভাগের একজন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীসহ মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। পাক সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
এনিয়ে আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ৩১ আগস্ট - ১ সেপ্টেম্বর রাতে বেলুচিস্তানের চাগাই জেলার নকচা এবং পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একাধিক ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে। এসব গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে ভারতের কথিত ভূমিকা ও পাকিস্তানজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলে ধরতেই এই পরিভাষা ব্যবহার করে দেশটির বাহিনী।
আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট - ১ সেপ্টেম্বর রাতে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সদস্যরা কাস্টমস হাউসে ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে সমন্বিত হামলা শুরু করে। এতে নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীব্র গোলাগুলিতে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গোলাগুলির সময় দুই কর্মকর্তা এবং কাস্টমস বিভাগের এক সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের ছয় সাহসী সন্তান নিহত হয়েছেন।’
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট কোনো সন্ত্রাসী থাকলে তাদের নির্মূল এবং স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এর আগে ৩১ আগস্ট ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপন করে এন-৪০ কোয়েটা-তাফতান মহাসড়কে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে।
নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালায়। তীব্র গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলেই ১১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের বীরভূম জেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ির প্রথম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় বিগত কয়েক বছর ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং এজন্য নিয়মিত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। এছাড়া তিনি সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে তার চাকরি পাওয়ার একটি অভিযোগও ছিল।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে রামপুরহাট থানা পুলিশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আগামী দিনে ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আরও বাড়ানো ও বহুমুখী করার ইচ্ছা রয়েছে।’ মোদি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়াতে এবং তা বহুমুখী করতে চাই।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ও এর সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সরকারি অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার মাত্র সাত দিন পর মোদির এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল গত ছয় মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ। মোদির পোস্টে বলা হয়, ‘আগামী দিনে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়াতে এবং তা বহুমুখী করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে যাবে।’
ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
মোদি বাণিজ্য বাড়ানোর মন্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তবে মন্তব্যটি আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, এটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ভারত নিজেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে এনেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন যেসব ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যেও ভারত কীভাবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াবে, সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মূলত এমন নতুন সম্ভাবনা খুঁজে দেখার কথা বলেছেন, যেগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন, বিমা, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।’
বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য বেসরকারি পক্ষগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব পক্ষকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার নানা বিধিনিষেধ ও বাস্তবতা মোকাবিলা করেই বাণিজ্য করতে হয়। ইরানের পক্ষ থেকে পরিবহন ও সামুদ্রিক বিষয়ে সহযোগিতার প্রসঙ্গে চাবাহার বন্দরের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘এই কৌশলগত বন্দরের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ‘‘একটি টেকসই পথ খুঁজে বের করা যায়’’, বিশেষ করে অঞ্চলটিতে চাবাহার বন্দরের ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।’
চাবাহার বন্দরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়ের মেয়াদ চলতি বছরের গত ২৬ এপ্রিল শেষ হয়ে যায়। ফলে ভারতকে ওই বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে হয়। চাবাহার বন্দরে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস পেজেশকিয়ানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সক্ষমতা ইরান ও ভারতের রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করতে পারলে আমরা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব।’
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় ৩ মুসলিমপ্রধান দেশের চুক্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের প্রধান বাণিজ্যিক শহর ইস্তান্বুলে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জোটের আনুষ্ঠানিক নাম জানা যায়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বলয় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে জোটটির সচিবালয় স্থাপনে সম্মত হয়েছে সদস্যদেশগুলো। প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশগুলো তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কাজ করবে। গত ৭ আগস্ট সই হওয়া ‘মক্কা চুক্তি’র লক্ষ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘এই জোট এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনবে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখবে।’ ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর এখন জরুরি ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরুর প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী সময়ে আর কারা এই জোটে যোগ দিতে পারে।
পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন পাকিস্তান, খনিজসমৃদ্ধ সৌদি আরব ও সামরিক শক্তিধর তুরস্ক তাদের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম দিয়েছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট’। তিন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ইস্তান্বুলে এ নাম ঘোষণা করা হয়।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, জোটটি ‘আন্তর্জাতিক নীতির ভিত্তিতে গঠিত। যেমন, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।’ তার মতে, এই জোটে ‘যেকোনো দেশের যোগ দেওয়ার সুযোগ’ আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এক মাসের বিরতি ভেঙে ওয়াশিংটন ও তেহরান হামলা-পাল্টা হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রথম বৈঠকে মিসর যোগ দিতে পারে।
তবে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নয়, বরং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা চার দেশের একটি দলের অংশ হিসেবে মিশর যোগ দেয়। সোমবারের বৈঠকে মিসর বা অন্য কোনো দেশ নয়, বরং চুক্তিতে সই করা তিন দেশের ওপরই ছিল পাদপ্রদীপের আলো।
গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সই করা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি এখন জোটের ঘোষণা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
ঘোষণাটিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কীভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তুরস্কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ সেলজুক বায়রাকতারুগলু।
সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ ফাইয়াদ আল রুওয়াইলি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুসারে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, যৌথ সামরিক মহড়া, যৌথ উৎপাদন ও গবেষণাসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয়।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল সচিবালয় গঠন। জোটটির পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারাকে কেউ কেউ ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করলেও অনেক স্বাধীন বিশ্লেষক এ তুলনার বিরোধিতা করেছেন।
তাদের মতে, ন্যাটোর মতো এই চুক্তির কোনো সমন্বিত কমান্ড, স্থায়ী বাহিনী বা যৌথ সামরিক কাঠামো নেই। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিস সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‘অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানোর আগে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’ তার মতে, ওই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা কম।
ইন্দোনেশিয়ার বন ও পিটভূমির আগুনের ধোঁয়ায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বাতাস। কোথাও কোথাও বায়ুদূষণের মাত্রা সহনসীমার চারগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এতে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির রোগী বাড়ছে। বিরূপ পরিস্থিতির কারণে সারাওয়াকে স্বাধীনতা দিবসের খোলা জায়গার অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ হয়েছে শত শত স্কুলও।
ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান অঞ্চলের আগুনের ধোঁয়া এসে জমেছে একই দ্বীপের মালয়েশীয় অংশ সারাওয়াকে। আগস্টের বেশিরভাগ সময়ই সেখানে ধোঁয়া ছিল। পরে তা মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের পর অঞ্চলটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ধোঁয়াশার ঘটনা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাওয়াকের ছয়টি এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। মালয়েশিয়ার এয়ার পলিউট্যান্ট ইনডেক্সে বায়ুদূষণের মাত্রা ১০০-এর বেশি হলে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। কিন্তু রাজ্যটির রাজধানী কুচিংয়ে তা এখন ৪০৭-এ পৌঁছে গেছে এবং কালিমান্তান সীমান্তের কাছের শহর সেরিয়ানে ৪০৮-এ।
কুচিংয়ের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি মিয়া এমিলিয়া হাসান জানান, চারপাশের বাতাস এত ঘন হয়ে গেছে যে ধোঁয়ার গন্ধ এড়ানোর উপায় নেই। একই সঙ্গে সবকিছুই সাদা হয়ে আছে। বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা নীল আকাশ দেখেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
হাসানের ১০ মাস বয়সি একটি মেয়ে আছে। সম্প্রতি ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বাড়ি ফেরার পরও ধোঁয়ার কারণে শিশুটির সুস্থ হতে সমস্যা হচ্ছে। পুরো মাসজুড়েই শিশুটিকে ওষুধ খেতে হয়েছে। কাশির পাশাপাশি বমিও হচ্ছে। শ্বাস নিতে না পারায় দুইবার তাকে জরুরি বিভাগে নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধোঁয়াশার কারণে দেশজুড়ে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে হাঁপানির রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১১ জনে। এর আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২১৯। একই সময়ে চোখ ওঠার রোগী ১৪৬ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২০ জনে।
ধোঁয়াশার কারণে সারাওয়াকে স্বাধীনতা দিবসের খোলা জায়গার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডগলাস উগাহ এমবাস সতর্ক করে বলেছেন, বায়ুদূষণের মাত্রা ৫০০ ছাড়ালে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। তখন জরুরি সেবাগুলো ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ রাখা হবে।
স্কুলগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মাত্রা ১০০-তে পৌঁছালেই বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। ২০০-তে পৌঁছালে স্কুল বন্ধ করতে হয়। এ কারণে ২০ ও ২১ আগস্ট কুচিং ও এর আশপাশের প্রায় ৬০০ স্কুল বন্ধ ছিল। এতে প্রায় দুই লাখ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ধোঁয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী দান্তে সাকসোনো হারবুওনো জানিয়েছেন, জুলাই ও আগস্টে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসা নিয়েছেন। বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ সরাসরি ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছেন।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বোর্নিও ও সুমাত্রায় দুই লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু জুলাইয়েই পুড়েছে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর এলাকা। পশ্চিম কালিমান্তানে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত সোমবার সেখানে হটস্পটের সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৩৭৭ এবং সক্রিয় আগুনের সংখ্যা ১০৪ হয়েছে। মধ্য কালিমান্তানেও ৫ হাজারের বেশি হটস্পট শনাক্ত করা হয়েছে।
এসব আগুনের বড় অংশই ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয় বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। পাম তেল, কৃষিকাজ এবং পাল্প ও কাগজ উৎপাদনের জন্য জমি পরিষ্কার করতে বন ও কার্বনসমৃদ্ধ পিটভূমিতে আগুন দেওয়া হয়। এ ধরনের আগুন দেওয়া ইন্দোনেশিয়ায় বেআইনি। সম্প্রতি আগুন লাগানোর অভিযোগে ৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।
এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবার দীর্ঘস্থায়ী আগুনের মৌসুম আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার গবেষক হেলেনা ভার্কি বলেন, এল নিনোর শক্তি বাড়লে অঞ্চলটিতে আরও গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাতে আগুনের আঞ্চলিক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
টানা বৃষ্টিই কেবল মাটিকে যথেষ্ট ভিজিয়ে এই আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারে। বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলাতে মানবীয় উদ্যোগ খুব বেশি কার্যকর হবে না বলে মনে করেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি বিশাল সুপারট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার ও ম্যারিস্কস গত সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে ওই দুই ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ম্যারিস্কস বলেছে, প্রায় একই সময়ে ঘটা এই দুটি ঘটনা ওমানের জলসীমায় সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আর কেপলার বলেছে, গত সপ্তাহে ট্যাংকার দুটি সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল লোড করেছিল। গত আগস্টে প্রণালীর অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে পুনরায় তেল লোড ও বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছিল সৌদি আরামকো।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক অবরোধ ও কড়াকড়ির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে উভয়পক্ষ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী ওই প্রণালী সচলে কাতার ও ওমান মধ্যস্থতা করে আসছিল। তবে এখন পর্যন্ত সমঝোতার এসব উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি।
গত জুলাইয়ের শেষভাগের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।
জাহাজ চলাচলে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ১৬.৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে গত সোমবার ভোরের দিকে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতের শিকার হয় সৌদি পতাকাবাহী ‘সিদর’ নামের সুবিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)।
ম্যারিস্কস বলেছে, এর মাত্র কয়েক মিনিট পর খাসাব থেকে আনুমানিক ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে লিবিয়ার পতাকাবাহী ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের অপর একটি ভিএলসিসি তিন-তিনটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে জাহাজে থাকা সব ক্রু নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সিও (ইউকেএমটিও) একই স্থানে হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি তেলের ট্যাংকারে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। সিদরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাহরি’ এবং সেনেগাল প্রসপারিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকোরের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তারা।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ করিডোর অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের একটি তেল ট্যাংকারকে গতিরোধ ও আটক করা হয়েছে।
দীর্ঘ ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে সামরিক মিশন শেষে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন শহর পাতায়ায় নোঙর করতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।
এই সফরের মাধ্যমে জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা ও মেরিন সদস্য বিশ্রাম ও মানসিক-শারীরিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন। মার্কিন সেনাদের এই আগমনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাঙ্গা ভাবের আশা জাগলেও, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও অবৈধ যৌন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দুটি সহযোগী নৌযানসহ লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে। থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই পর্যটন শহরে সেনাদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসের মতে, একেকজন মার্কিন সেনাসদস্য প্রতিদিন আনুমানিক ৩০ থেকে ৯১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসায়িক খাতে গতি আনবে। উল্লেখ্য, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে পাতায়া শহরটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
তবে নৌসেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে পাতায়ার প্রধান সমুদ্রসৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। থাইল্যান্ডে আইনত পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে এটি অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে বিস্তৃত। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
পাতায়ার পুলিশপ্রধান জানান, জনসমাগমস্থলে অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বিপুলসংখ্যক সেনার আগমনে যৌন শোষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই শহরের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।
নেপাল এবং চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দেশ দুটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এই চিত্র তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন। দুই দেশ মিলিয়ে বর্তমানে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জন।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সপ্তম দিনে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ জন এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দুই দেশে মোট ৪ হাজার ৪৬২ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। যেহেতু এখনো কয়েক হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাই নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের তালিকায় একটি বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ ৫৮৩ জন বিদেশি পর্যটক বিশ্বের ৩০টি ভিন্ন দেশ থেকে হিমালয়ের এই দেশটিতে ভ্রমণে এসেছিলেন। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। বন্যার পানির প্রচণ্ড তোড়ে বহু মরদেহ কয়েকশ মাইল দূরে ভেসে গেছে। হিমাগারে পর্যাপ্ত হিমাগার বা ফ্রিজার না থাকায় নেপাল কর্তৃপক্ষ আপাতত নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে গণকবরে সমাহিত করছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নেপালের ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় প্রলয়ংকরী বন্যায় বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিকের আটকে পড়ার ঘটনায় এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান চলছে। ভয়াবহ কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঘেরা বিশাল এই টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্ধারকারীরা পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির পাশাপাশি ভেতরে জরুরি ভিত্তিতে বাতাস পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিবিসি নেপালির দেওয়া তথ্যমতে, গত বুধবারের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০-এর বেশি কর্মীর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে টানেলের গভীর অভ্যন্তরে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, সেই সংখ্যাটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে এবং আপার ত্রিশুলিসহ বেশ কিছু দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের পাথর ভেঙে পথ বের করার চেষ্টা চলছে, কারণ সময় যত গড়াচ্ছে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি কাতর কণ্ঠে বলেন, "তাকে যদি খুঁজে পাওয়া যেত।" নিখোঁজ অন্য এক ব্যক্তির স্ত্রী সিতা পাণ্ডে নেপালের দৈনিক কান্তিপুরকে জানিয়েছেন, "তাঁর এখনও ৫০ শতাংশ আশা আছে যে তাঁর স্বামী বেঁচে আছেন, কারণ টানেলের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।" তবে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বজন জীবন খড়কা বলেন, "যত বেশি সময় যাচ্ছে তাঁদের আশা ততই কমে যাচ্ছে।" প্রিয়া খারেল নামের এক নারী তাঁর ভাইয়ের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তিনি জানান, "জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে মানুষ ছিল। তাই দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলে বাঁচানো সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন।"
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে নেপালেই মারা গেছেন ৯৩৯ জন। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৯২৫, যার একটি বড় অংশই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরালো করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভৌগোলিক পরিবর্তন। অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, পুরো এলাকাটি এখন চেনা দায় হয়ে পড়েছে এবং পাহাড়সম পাথরের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ভাটির জেলা চিতওয়ানেও, যেখানে নদীপথে ভেসে আসা প্রায় ৩০০ মৃতদেহ উদ্ধারের পর শনাক্তকরণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় লাশগুলো অস্থায়ীভাবে দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি পর্যায়ে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্যে কড়া সেন্সরশিপ জারি করা হয়েছে। একইভাবে নেপাল কর্তৃপক্ষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্যোগ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি বাংলা।
ইউরেশীয় দেশগুলোর জোট সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে কিরগিজস্তানে। এতে যোগ দিতে বিশবেকে গেছেন চীনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা।
সম্মেলনের মূল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ। সেখানে শি, পুতিন, পেজেশকিয়ান, মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অংশ নেওয়ার কথা আছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমা বিশ্বের পাল্টা প্রভাব হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে ২৫ বছর আগে এসসিও জোট গঠন করা হয়। এতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং মস্কোর মিত্র বেলারুশও আছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার এই জোটের সংলাপ অংশীদার।
অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও গত কয়েক বছরে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে জোটের গতি আরও বেড়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন অন্যদের পাশাপাশি মাসুদ পেজেশকিয়ান ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কোতে বিরল সফর করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সফরে ইরান ও ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসসিওর এবারের সম্মেলনটি আরেক কারণেও গুরুত্ব পাচ্ছে। জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ বর্তমানে সামরিক ও বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে আছে। চলতি মাসে ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার খাতের মধ্যে আছে স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক পরিবহন।
চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। হুমকির জবাবে তারা নিজেদের স্বার্থ ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা’ করার কথা বলেছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপিকে বলেছেন, এই জোট থেকে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাবে, তা অনিশ্চিত। সংকটের সময়ে এসব জোট সমস্যা সমাধানে তেহরানকে খুব কমই সহযোগিতা করেছে।
এসসিও জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। কিছু বিষয়ে মতবিরোধও আছে।
পণ্য পরিবহন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা আছে। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে প্রথমবার ছবি শেয়ার করেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। রোববার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দুটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তাকে ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরে দুই হাত দিয়ে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা গেছে।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় মাদুরো তার নাতি-নাতনি, শিশু-কিশোর ও প্রিয়জনদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা এখনো শক্ত রয়েছি। তোমাদের ভালোবাসায় আমাদের হৃদয় পরিপূর্ণ। আমরা শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ভেনেজুয়েলা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’
ছবিতে মাদুরোকে আগের তুলনায় বেশ শুকনো দেখা যায়। তবে, ছবিগুলো সত্যিই আটককেন্দ্রের ভেতর থেকে তোলা কি না এবং কর্তৃপক্ষ এগুলো প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিল কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আটককেন্দ্রে মাদুরোর সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। প্রতিটি কলের সর্বোচ্চ সময় ১৫ মিনিট।
গত রোববার প্রকাশ করা ছবিগুলোর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, সেগুলো গত ২৫ জুন তোলা হয়েছিল। মাদুরোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের জন্য ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার হিসেবে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় একটি তেল চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে। মাদুরোর ছবি প্রকাশের সময়ের সঙ্গে এই চুক্তির ঘোষণারও মিল রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও ‘নারকোটেররিজম’-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা মাদক পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ জুন তাদের বিচার শুরু হওয়ার কথা।