বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মায়ের প্রাণ বাঁচাল ৪ বছরের শিশু

মা ওয়েন্ডি ককারের সঙ্গে মন্টি ককার।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:১৮

দুর্ঘটনা এড়াতে চার বছরের ছোট্ট ছেলেটিকে মা শিখিয়েছিলেন, বিপদের সময় কীভাবে ফোন আনলক করে জরুরি সেবার নম্বর চেপে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা যায়। তবে প্রশিক্ষণের পরের দিনই যে ছেলে বাজিমাত করে ফেলবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি শিশুটির মা ওয়েন্ডি ককার।

বিবিসি জানায়, এই করিতকর্মা শিশুটির নাম মন্টি ককার। গণমাধ্যমের বদৌলতে ইতিমধ্যেই সে সবার কাছে সুপারহিরো বলে পরিচিতি পেয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার লন্সেস্টনের বাসিন্দা মন্টি গত ২৭ আগস্ট জাতীয় জরুরি নম্বর ০০০-তে ডায়াল করে অপারেটরদের জানায়, ‘আমার মা পড়ে গেছে। তোমরা তাড়াতাড়ি এসো।’

আর খবরটি পেয়েই প্যারামেডিকের একটি দল দ্রুত ছুটে আসে মন্টিদের বাসায়। তারপর তার মাকে তারা উদ্ধার করে। তিনি খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

প্যারামেডিক দলে ছিলেন মার্ক স্মল। তিনি জানালেন, তারা যখন মন্টিদের বাসার সামনে এসে পৌঁছেন, তখন সে জানালা থেকে হাত নাড়ছিল তাদের দেখে। তারপর তাদের বাড়ির ভেতর ঢুকতে এবং মাকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাতেও সাহায্য করে মন্টি।

এদিকে মন্টির মা ওয়েন্ডি বলেন, ‘তিনি বুঝতে পারছিলেন যে তার শরীর খুব খারাপ লাগছে। তখন তিনি তার স্বামীকে ফোন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এর আগেই তিনি পড়ে যান এবং জ্ঞান হারান।’

‘এ রকম অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রোগী পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান বা যদি আগেও তার খিঁচুনি হয়ে থাকে। এ অবস্থায় ছোট্ট শিশুটি সময় নষ্ট না করে যেভাবে ঠাণ্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে, সেটি সত্যিই অভিনব।’ বললেন মার্ক স্মল। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে আমি প্যারামেডিক হিসেবে কাজ করছি। অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ের টেলিফোন কল পেয়েছি। কিন্তু মাত্র চার বছর বয়সী শিশু যা করল, তাতে তাকে আমার আসলেই সুপারহিরো বলে মনে হচ্ছে।’

এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় মন্টি। জরুরি সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে একটি প্রশংসাপত্রও দেয়া হয়।

তবে এত কিছুর পরও খুদে মন্টি কিন্তু নিজেকে এখনো সুপারহিরো ভাবছে না। বন্ধুদের কাছেও নিজেকে শুধু ‘হিরো’ বলেই জাহির করছে।


গাজায় ইসরায়েলের টার্গেটে এখন শিশুরা

গাজায় ইসরায়লি হামলায় নিহত ৪ মাসের শিশু আহমেদ খলিল। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ জুন, ২০২৬ ১৯:১৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যায় ইসরায়েলি বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুদের টার্গেট করছে। গাজায় হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশনের প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মঙ্গলবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুরা নজিরবিহীন মৃত্যু, আঘাত ও মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হচ্ছে। গত বছর এই কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

কমিশনের মতে, শিশুদের ইচ্ছা করে নিশানা করা একটি বড় প্রমাণ। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের একটি গণহত্যার উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে। এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলিধর বলেন, ‘২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরেও শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা এবং যুদ্ধবিরতিকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে ইসরায়েল।

যুদ্ধবিরতির পরেও হামলা, নিশানায় শিশুরা

প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া পরিস্থিতির বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ব্যাপক হামলা এবং মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা আটকে দেওয়ার ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্য ও বিকাশের ক্ষতি হচ্ছে।

হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও প্রজনন কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি হামলার একটি নিয়মতান্ত্রিক চিত্র নথিবদ্ধ করেছে কমিশন। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি গাজায় দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত্রুতা পুরোপুরি শেষ হয়নি, বরং কিছুটা কমেছে।

যুদ্ধবিরতির আট মাস পরেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এতে ২৫০ জনেরও বেশি শিশুসহ এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

দখলদারি বাড়িয়েছে ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অধীনে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার কথা ছিল। সেখান থেকে ইসরায়েলের ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল উল্টো তাদের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী এখন গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল প্রথমে মানচিত্রে একটি সাময়িক ‘হলুদ রেখা’ দিয়ে দখলে থাকা এলাকা চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু সেই রেখা ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে গেছে। এর ফলে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরা আরও ছোট জায়গায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, এই রেখা অতিক্রম করা বাসিন্দাদের জন্য নিষিদ্ধ। রেখার কাছাকাছি আসার কারণে শত শত মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখন আগের হলুদ রেখা ছাড়িয়ে নতুন জমি দখলের জন্য একটি ‘কমলা রেখা’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রেখা ক্রমাগত পরিবর্তনের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে যে এটি কোথায় শুরু এবং কোথায় শেষ।

পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বর্বরতা

প্রতিবেদনে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতির ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা তীব্রভাবে বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। পশ্চিম তীরে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সম্মিলিতভাবে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা ভুলে গেল বিশ্ব?

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ২৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় অঞ্চলেই শিশুদের ব্যাপকভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক করার ঘটনা ঘটেছে। গাজার অনেক শিশুর খোঁজ এখনো মেলেনি।

দায় অস্বীকার ইসরায়েলের

তবে ইসরায়েল সরকার বরাবরের মতোই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কর্মকর্তারা।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আপত্তিকর প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন একে একটি ‘রাজনৈতিক রক্তপাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, হামাসের অপরাধ আড়াল করে কমিশন আবারও ইসরায়েলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, দখলদার শক্তির লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং এই অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা এই প্রতিবেদনে ফের প্রমাণিত হয়েছে।

অনুসন্ধান কমিশন ইসরায়েল সরকারকে গাজায় অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক ওয়ান্টেড ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করতে, ইসরায়েলে অস্ত্র হস্তান্তর বন্ধ করতে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বসতিস্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

ফিলিস্তিনের পক্ষে অবিচল সমর্থন ইরানের

ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি ইরানের অবিচল সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। গত বুধবার ভোরে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে একটি টেলিফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই টেলিফোনালাপে হামাস নেতৃত্বের শুভেচ্ছা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছে দেন বাসেম নাইম।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিরোধেরও প্রশংসা করেন তিনি ।


তাপমাত্রার রেকর্ড স্পেনে, চার দিনে প্রাণহানি ২১২

তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তি খুঁজতে ক্যানালের পানিতে ঝাঁপ দেয় তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পেনে জুন মাসে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ‘মোমো’জানিয়েছে, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তীব্র গরমে ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেনে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৩২, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

চলতি সপ্তাহে স্পেনে জুন মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রিতে।

রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। সোমবার ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব ‘উষ্ণ রাত’ মানুষের ঘুম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার অন্তত ১০ কোটি ১০ লাখ ইউরোপীয় নাগরিককে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হয় বলে জানা গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আফ্রিকার অনেক অঞ্চলের তুলনায়ও বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে। জার্মান আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও ইউরোপীয় যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের ২০২৫ সালের জনসংখ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ৩৮ কোটিরও বেশি মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবেন।

ফ্রান্স ও স্পেনসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে চরম গরমে প্রাণহানির হিসাব শুরু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। এমন আবহাওয়ার উপযোগী নয়—এমন অবকাঠামো ও নগর পরিকল্পনাও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জলবায়ু সংকটের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণের মূল্যই এখন মানবজাতিকে দিতে হচ্ছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানো বন্ধ না হলে চরম তাপমাত্রা আরও বাড়তেই থাকবে।’

ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় পুরো অংশেই তীব্র গরমের সতর্কতা জারি ছিল। ৬ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে।

এ ছাড়া, জার্মানিতে ৭ কোটি, ইতালিতে ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং যুক্তরাজ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন। বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যদিও শুক্রবার থেকে পশ্চিম ইউরোপে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে, পূর্ব ইউরোপে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্যারিস অঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তীব্র গরমে এ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলো। পুলিশ সূত্র জানায়, সাঁ-গ্রাতিয়েন শহরে নিজ বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়িতে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান তার বাবা-মা। ফ্রান্সে বুধবার ১৯৪৭ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে উষ্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেদিন জাতীয় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে, যা ১৫০ বছরে চতুর্থবারের মতো ৪০ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করল। এর আগে সোমবার দক্ষিণ ফ্রান্সের কারপঁত্রা শহরে পারিবারিক গাড়ি থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

এদিকে, প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বহু মানুষ ঘরের ভেতরের গরম সহ্য করতে না পেরে পার্কে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কেউ হ্যামকে, কেউ আবার ক্যাম্পিং ম্যাটে শুয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী মাইসাম দেকোস বলেন, ‘ফ্যান থাকা সত্ত্বেও আমার অ্যাপার্টমেন্টে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এখানে অনেক মানুষ আছে, পরিবেশও ভালো। ঘরের ভেতরের চেয়ে বাইরে থাকাই ভালো।’

অন্যদিকে ব্রাসেলসে জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত সুইমিং সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ১০ লাখের বেশি মানুষের শহরে গরম থেকে বাঁচার মতো কোনো উন্মুক্ত সুইমিং পুল, সৈকত বা জলাধার নেই।

তীব্র গরমে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য। পশ্চিম লন্ডনের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বাসিন্দাদের নিয়মিত পানি ও ফলের রস সরবরাহ করা হচ্ছে।


ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিল দিল্লি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রদান করেছে ভারত সরকার। বুধবার (২৪ জুন) দিল্লির পক্ষ থেকে জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে এই বিশেষ সম্মাননার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে দিনেশ ত্রিবেদী তাঁর বর্তমান কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ভোগ করবেন।

সরকারি ওই স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দিনেশ ত্রিবেদীকে ভারতের রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকা বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপর্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন ও সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বিদ্যমান ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামো বা প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এই বিশেষ মর্যাদা মূলত রাষ্ট্রীয় ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের প্রটোকল পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সাধারণত ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক পদধারী ও কর্মকর্তাদের অবস্থানের অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মরত কোনো হাইকমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে এমন উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিত্বের মর্যাদা প্রদান করা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনরত দিনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে দিল্লির এই বিশেষ পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে ভারতের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁর এই বর্ধিত মর্যাদা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দুই সপ্তাহেই ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ মর্যাদা হারালেন ইলন মাস্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শেয়ার বাজারে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক অভিষেকের পর বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখো-কোটিপতি হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেছিলেন ইলন মাস্ক। তবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান সংশয়ের কারণে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই মুকুট হারিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

নিউইয়র্কের ‘ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের’ সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ১৪ দিন আগে যেখানে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার, তা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল অংকের এই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনটি এখনো নিজের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

গত ১২ জুন প্রযুক্তি বিশ্বের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ন্যাসডাক শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয় ইলন মাস্কের রকেট ও স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। ব্লকবাস্টার এই আইপিওতে প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারিত হলেও তা ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যেহেতু এই কোম্পানির প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক স্বয়ং ইলন মাস্ক, তাই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ দ্রুত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করে। বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহে গত ১৬ জুনের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার দর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল।

তবে বিশ্ববাজারে প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এআই অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় এবং সুদের উচ্চ হার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এনভিডিয়া ও ইন্টেলের মতো টেক জায়ান্টদের পাশাপাশি স্পেসএক্সের শেয়ারেও বড় ধরনের ধস নামে। জুনের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ৩০ শতাংশ কমে ১৫৬ ডলারে নেমে আসে। গত ২২ জুন এক দিনেই স্পেসএক্সের ১৬ শতাংশ দরপতনের কারণে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বিলীন হয়ে যায়। এর ঠিক পরদিনই তাঁর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার দরও প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের সম্পদের এই চরম অস্থিরতার মূল কারণ তাঁর বিনিয়োগের অতি-কেন্দ্রীকরণ। তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশই এককভাবে স্পেসএক্সের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এজে বেলের’ প্রধান আর্থিক বিশ্লেষক ড্যানি হিউসন বলেন, “স্পেসএক্সের মতো শেয়ারের ক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত আবেগতাড়িত এবং মহাকাশ গবেষণার বিশাল সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছিল। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সবসময় ধৈর্য ও বাস্তবমুখী দৃষ্টি থাকা উচিত।”

আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের শেয়ার বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেসএক্সের শেয়ার যদি পুনরায় মাত্র ৬ শতাংশ ঘুরে দাঁড়ায়, তবে মাস্ক আবার ১৩ অঙ্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদায় ফিরে যেতে পারেন।


ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামত চীন-রাশিয়া-তুরস্ক, আমার অনুরোধে পিছিয়ে গেছেন: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত অনুরোধ ও কূটনৈতিক প্রভাবের কারণেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত ছিলেন। একই সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এক তুর্কি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এরদোয়ানকে ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে পছন্দ করি, তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাতে জড়াননি। তিনি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন—এমনকি হয়তো ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। কারণ, তিনি ইসরায়েলের খুব বড় ভক্ত নন। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি বাইরে ছিলেন।’ ট্রাম্পের মতে, এরদোয়ান একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাঁর অনুরোধ রাখতেই যুদ্ধের ময়দান থেকে বাইরে ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘তিনি বাইরে ছিলেন। এরদোয়ান একজন দুর্দান্ত নেতা, খুব শক্তিশালী মানুষ এবং তাঁর একটি খুব ভালো সামরিক বাহিনী আছে। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি সেটিই করেছেন।’

সংঘাত নিরসনে নিজের ব্যক্তিগত কূটনীতিকে অত্যন্ত কার্যকর দাবি করে ট্রাম্প বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। চীনের প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আর জানেন কে অসাধারণ ছিলেন? চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনিও এতে জড়াতে পারতেন। ওই অঞ্চল থেকে তিনি তাঁর তেলের অর্ধেক পান। বুঝতেই পারছেন কেন তিনি এতে জড়াতে চাইতে পারেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে এতে জড়াবেন না। আর তিনি জড়াননি। আমরা ভালো কাজ করেছি।’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই পথ অনুসরণ করেছেন দাবি করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘এবং সি চিন পিংও তা-ই করেছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালো করে দেখেন, পুতিনও তা-ই করেছেন। যদিও বলা যায়, ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্য বিষয়ও আছে। কিন্তু তাঁরা সবাই বাইরে ছিলেন। বিষয়টা বেশ বিস্ময়কর ছিল। মানুষ অবাক হয়েছিল।’

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প ইতিপূর্বেও দাবি করেছিলেন যে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নেই। এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘দেখুন, তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি। আমার হয়তো এটা বলা উচিত নয়। কারণ, মিডিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলবে, “ওহ, তিনি এরদোয়ানকে ভালোবাসেন।’ কিন্তু তিনি একজন দুর্দান্ত নেতা। খুব শক্তিশালী নেতা। খুব শক্তিশালী মানুষ।”’ তিনি মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততার কারণেই বিশ্বনেতারা তাঁর আহ্বানে এমন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ জুন, ২০২৬ ১০:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    *জরুরি অবস্থা জারি *বন্ধ স্কুল-বিমানবন্দর ও রেল চলাচল স্থগিত

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূকম্পনের ফলে রাজধানী শহরের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুল সংখ্যক মানুষ চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ভেনিজুয়েলা সরকার। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধার তৎপরতায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যে আঘাত হানে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূকম্পন। ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুর্যোগে "১০,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির ৪৪% আশঙ্কা এবং ১,০০,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির ৩০% আশঙ্কা রয়েছে"। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস এবং সমতলে মাটির স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার (লিকুইফেকশন) মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো ও রেল চলাচলের পাশাপাশি জরুরি নয় এমন সব কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রদ্রিগেজ আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে এক সাক্ষাৎকারে জানান যে কারাকাস ছাড়াও দেশের ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবোসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন। একে অপরের খোঁজ নিন।"

কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবনসহ বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার এই অভিজ্ঞতাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভেনিজুয়েলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে, যখন মানুষ সিমন বলিভারের ঐতিহাসিক কারাবোবো যুদ্ধের বিজয় উদযাপন করছিলেন। সাধারণ ছুটি থাকায় অধিকাংশ মানুষ সপরিবারে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই চরম সংকটে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করা হয়।


পশ্চিমবঙ্গে বজ্রাঘাতে ১৩ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রবল বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। একই সঙ্গে প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে কলকাতা শহর। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যানবাহন, ব্যাহত হয়েছে সড়ক চলাচল।

বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছিল। দুপুর গড়াতেই হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বজ্রপাত। কয়েক ঘণ্টার এই দুর্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বজ্রাঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, পুরুলিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায়। মাঠে কাজ করার সময়, গবাদিপশু আনতে গিয়ে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থানের সময় অনেকেই বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন।

কোচবিহারে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে একই সময়ে বজ্রপাতের একাধিক ঘটনা ঘটে।

মুর্শিদাবাদে নদীপথে চলাচলকারী একটি নৌকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়বৃষ্টির সময় নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ায় বজ্রাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন বন্ধু একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে একজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, কলকাতায় ঝড়ের তাণ্ডবে বহু এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। ধর্মতলা, মৌলালি, ডাফরিন রোড, হাইকোর্ট চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

হাইকোর্ট এলাকার পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বরেও ঝড়ের প্রভাব দেখা যায়। বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনাও ঘটে। কলকাতা পৌর কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে।

উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন। রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় বাতাসের গতি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদেরও সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খোলা মাঠ, জলাশয় ও গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।


ব্রিটেনে বন্ধ এক হাজারেরও বেশি স্কুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রিটেনে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অথবা নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (২৪ জুন) তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্দ্রতা ও অন্যান্য আবহাওয়াগত কারণে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। ফলে বাইরে অবস্থানকারী মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চরম গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে জারি করা চরম তাপমাত্রা সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে, কারণ আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন গরমের এই তীব্রতা কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষগুলো নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগেভাগে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কিছু স্কুল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়।

তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু শিক্ষা খাতেই নয়, পরিবহন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।


ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার

ফ্রান্সে গরম থেকে রেহাই পেতে জলাশয়ে নামছে মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র দাবদাহের কারণে ভুগছে পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এ অস্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বুধবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক এই চরম আবহাওয়ায় এটিই ছিল দেশটির প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেনারেটর সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল দুর্ঘটনাজনিত এবং বর্তমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে কেউ আহত হননি।’

রয়টার্সের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, পরিবহন নেটওয়ার্কে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং স্কুল ও পর্যটনস্থল বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।

আবহাওয়া সংস্থা মেটিও ফ্রান্স জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের আগস্টের তাপপ্রবাহের সঙ্গে তুলনীয়। সেই তাপপ্রবাহ ১৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে আনুমানিক ৮০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

বর্তমান তাপপ্রবাহ কত দিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত নয়। এটি ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত বিন্যাসের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যার আকৃতির কারণে দিন দিন তাপমাত্রা জমা হতে থাকে এবং আরও বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে উত্তপ্ত হচ্ছে, ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বেশি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

এই তাপপ্রবাহের কারণে নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মঘণ্টা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে যাতে শ্রমিকরা দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সময়ে খুচরা বিক্রেতারা বৈদ্যুতিক পাখা ও বহনযোগ্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণে বিকেলের কাজ নিষিদ্ধ হওয়ায় কৃষকরা রাতের বেলায় শস্য কাটছেন।

তীব্র গরম থেকে বাঁচতে জলাশয়ে ঝাঁপ দেওয়ার সময় কয়েক ডজন মানুষ ডুবে মারা গেছেন। ব্রিটেনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার পরিচালনাকারী সংস্থা বুধবার দিনের পরবর্তী সময়ে রেকর্ড ভাঙতে পারে এমন তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ উৎপাদকদের আরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।

তাপমাত্রা যখন ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠেছে, তখন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ‘রেড হিট’ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি শুধু অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য নয়, সুস্থ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

ব্রিটেনের রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বুধবার ও বৃহস্পতিবার—সবচেয়ে গরম এই দুই দিনে—শুধু জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছে, কারণ অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে আনা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে পারিবারিক বাড়ির বাইরে একটি গরম গাড়ির ভেতরে মারা যাওয়া দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক কৌঁসুলি জানান, শিশুদের মা বলেছেন যে তার অজান্তেই শিশুরা গাড়ির ভেতরে ছিল।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফ্লোরেন্স, মিলান, রোম, তুরিন ও ভেরোনাসহ ১৬টি শহরের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, বিশেষ করে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তাপপ্রবাহটি সম্ভবত আগামী রোববার ও সোমবারের মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে।

তাদের মতে, তুসকানি ও এমিলিয়া অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আর লিগুরিয়ার মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে মানুষের অনুভূত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।


ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে আবারও শান্তি আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জানান, অ্যাঙ্কোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে এই আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে পুতিন অভিযোগ করেন, মূলত ইউক্রেনের একগুঁয়েমি ও উদ্যোগের অভাবে আগের আলোচনা প্রক্রিয়া মাঝপথে থমকে গিয়েছিল।

বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই আলোচনা হতে হবে ইস্তাম্বুলে হওয়া পূর্ব সমঝোতা, অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা অনুযায়ী। সবচেয়ে বড় কথা হলো যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে এ আলোচনা করা দরকার।

রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, থমকে যাওয়া এই আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে প্রমাণ করতে পারে।

গত বছর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে তিন দফায় (১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই) শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকগুলো থেকে বড় আকারের যুদ্ধবন্দি বিনিময় এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আমেরিকার আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে প্রথমে ২৮ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যা পরে সংশোধন করে ২০ দফায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ইউক্রেন কোনোভাবে নিজেদের ভূখণ্ড বা জমি রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় চুক্তিটি আটকে যায়।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আরও তিন দফা বৈঠক হয়। এর মধ্যে গত ২৩-২৪ জানুয়ারি ও ৪-৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠক দুটি আবুধাবিতে এবং গত ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এই শান্তি প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে ২০২২ সালের বসন্তকালেও ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠকে একটি খসড়া শান্তি চুক্তি প্রাথমিকভাবে সই হয়েছিল। রাশিয়া এখন সেই পুরোনো চুক্তিগুলোর সূত্র ধরে নতুন করে সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইছে।


ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে প্রতীকী ভর্ৎসনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতীকী অবস্থান নিয়ে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যেই এ পদক্ষেপ হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এএফপি জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আগে অনুমোদিত প্রস্তাবটি সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এতে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এটি একটি ‘কনকারেন্ট রেজ্যুলেশন’ হওয়ায় প্রেসিডেন্টের সইয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে না এবং এর আইনি কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

তারপরও প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং পরে লেবানন ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশকে জড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে ২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ইয়েমেন ও ইরানে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ বিল পাস করেছিল কংগ্রেস। তবে ট্রাম্প সেগুলোতে ভেটো দেন এবং কংগ্রেস তা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়।

মঙ্গলবারের ভোটের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ‘এই সিনেটররা আমার কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছেন। কিন্তু যেভাবেই হোক আমি কাজটি সম্পন্ন করব, কারণ আমি সবসময়ই তা করে থাকি।’

এ ভোটাভুটির সময় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারককে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। সম্ভাব্য ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচলের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার ভোটের আয়োজন করেন, যাতে রিপাবলিকানদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়। ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-সমাপ্তি চুক্তি—উভয় বিষয় নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ভোটের আগে দেওয়া বক্তব্যে শুমার বলেন, ‘রিপাবলিকানরা বন্ধ দরজার আড়ালে ট্রাম্পের যুদ্ধ, গোপনীয়তা ও ইরান চুক্তি নিয়ে যতই সমালোচনা করুক না কেন, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হলে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এর আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও প্রস্তাবটি পাস হয়। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে একযোগে এর পক্ষে ভোট দেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে বিরল বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

‘বিপজ্জনক সম্ভাবনা’

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিদেশে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মোতায়েনের ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের ওপর প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ অসাংবিধানিক। তাদের মতে, ট্রাম্প ঘোষিত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

প্রশাসনের আরও বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করা হলে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের দরকষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ভোটের আগে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, আলোচনার সময় প্রধান সেনাপতির ক্ষমতা সীমিত করা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সম্ভাবনা’।

তবে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার দাবি, আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যুদ্ধ চলেছে এবং ট্রাম্প বারবার নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন।

যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও কংগ্রেসে উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাতের কারণে বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত এগিয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মতবিরোধ যেসব বিষয়ে

তেহরানের একটি সড়ক। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়, হরমুজ প্রণালীর কর্তৃত্ব এবং লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে তারা একমত হতে পারছে না। দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার বলেছেন, ‘ইরান ‘‘অনির্দিষ্টকালের’’ জন্য তাদের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।’ অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় এ ধরনের কোনো ছাড় দেয়নি।

গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, এই বিষয়গুলোই ছিল তার মূল ভিত্তি। এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি ওই স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

এসবের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। পেনসিলভানিয়ার এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালোই যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, ফলে দলটি তাদের পরবর্তী ম্যাচের একদিনের পরিবর্তে দুই দিন আগে মেক্সিকোর টিজুয়ানা থেকে সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে।

যুদ্ধের প্রতি দেশের মানুষের সমর্থন কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এটি মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যা দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সামনে নিয়ে এসেছে।

রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও দুর্বল অবস্থানে আছে। বিপরীতে, মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশটির অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।

এদিকে সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যা চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিনিধি সভায় পাস হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে খোদ ট্রাম্পের দলের কিছু নেতার মধ্যেও যে গভীর উদ্বেগ জন্মেছে, এই ভোটাভুটি তারই বহিঃপ্রকাশ।

ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ (সিনেট ও প্রতিনিধি সভা) ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট বা যুদ্ধকালীন ক্ষমতা আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কোনো প্রস্তাব পাস করল। তবে এই ভোটাভুটি যুদ্ধের ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

তেলের দাম গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে জাতিসংঘের জাহাজ চলাচলবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে তারা।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য এই পথে অবাধে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সময়সীমা পার হওয়ার পর তারা জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক বা অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারে।

হরমুজ প্রণালীর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান। এই দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়ে জোর দিয়েছে এবং জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং এর আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে তারা একত্রে কাজ করবে।

ওমান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক পথ বা করিডোর তৈরি করতে তারা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে সমন্বয় করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো সফর করছেন। দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে এই প্রণালীতে কোনোভাবেই শুল্ক বা টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।’

সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দেশটির পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের রূপরেখাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বর্তমান রূপরেখা চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য প্রবেশের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটি জানান তিনি।

তবে ইরান আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি। বিদেশের ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, অবরুদ্ধ সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি স্পষ্ট করেন, এই অর্থ খরচের সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

ওয়াশিংটন এরই মধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছে। ফলে তেহরান তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি করে তাদের অর্থ নেওয়ার সুযোগ পাবে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধটিও একটি বড় অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।


দলীয় প্রতীক হারানোর শঙ্কায় মমতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ও নেতারা একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপারসন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্যের একটি সমান্তরাল ‘জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি’ ঘোষণা করেছেন। তারা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের গঠনতন্ত্রের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও ২০২২ সালের পর নতুন কমিটি করা হয়নি, যা একটি সাংগঠনিক সংকট তৈরি করেছে।

অন্যদিকে দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীসহ দলের আট শীর্ষ নেতা ও বিধায়কদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট তৃণমূল) থেকে বহিষ্কার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতোমধ্যেই উভয় পক্ষই (মমতা এবং ঋতব্রত শিবির) ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কাছে নিজেদের কমিটিকে বৈধ উল্লেখ করে চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীরা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পেয়ে গেলে মূল দল এবং এর ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, তারা কোনো নতুন প্রতীক চাইছেন না কারণ তারাই মূল দল।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় ‘জোড়া ঘাসফুল’-কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও দলীয় প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। দুটি ঘাস ও একটি ফুলের সমন্বয়ে গঠিত এই নকশাটি তৃণমূল কংগ্রেসের মূল স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর প্রতীকী রূপ হিসেবে তৃণমূলে গ্রামীণ ও সাধারণ মানুষের আবেগকে তুলে ধরে।

এই প্রতীক নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলটি ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে এবং ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির জেরে দলে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির পর সেই প্রতীকীও হাতছাড়া হতে পারে মমতার, এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


banner close