রোববার, ১৭ মে ২০২৬
৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের নোটিশ বিশ্বভারতীর

অমর্ত্য সেন। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৩ ২৩:০৯

জমি নিয়ে দীর্ঘদিন টানাপোড়েনের পর এবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠাল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। রোববার অমর্ত্যের শান্তিনিকেতনের ঠিকানায় পৌঁছায় সেই চিঠি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ‘প্রতীচী’র ঠিকানায় পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে আগামী ২৯ মার্চ অমর্ত্য অথবা তার কোনো প্রতিনিধি যেন বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল অ্যাডমিশন বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স হলে উপস্থিত থাকেন। সেখানেই ওই ‘বিতর্কিত’ জমি নিয়ে শুনানি হবে।

বিশ্বভারতীর ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, অমর্ত্য বিশ্বভারতীর ১৩ ডেসিমেল জমি দখল করে রেখেছেন। তাই আইন মেনে তাকে কেন ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না, সেই প্রশ্ন রাখা হয়েছে।

ওই জমি নিয়ে বিতর্ক বেশ পুরোনো। কিছুদিন আগে অর্থনীতিবিদ যখন শান্তিনিকেতনে ছিলেন, সে সময়ই তাকে একটি চিঠি পাঠায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়, শিগগিরই ১৩ ডেসিমেল জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দিতে হবে। ওই নোটিশ ঘিরে জোরালো হয় বিতর্ক। অমর্ত্য পাল্টা দাবি করেন, ওই বাড়ির জমির একটি অংশ বিশ্বভারতীর থেকে লিজ নেয়া, কিছুটা জমি কেনা। এখন মিথ্যে কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে শান্তিনিকেতনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমর্ত্যের সঙ্গে দেখা করেন। অর্থনীতিবিদের হাতে জমির মাপজোক-সংক্রান্ত কাগজপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজেই বিএলআরও অফিসে গিয়েছিলেন মমতা। এরপর বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে মমতা বলেন, ‘এভাবে মানুষকে অপমান করা যায় না।’ হুঁশিয়ারি দেন আইনিব্যবস্থা নেয়ার।

বিষয়:

রাজস্থানে চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১৭ মে, ২০২৬ ১১:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে দিল্লি অভিমুখী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায় বলে বিদেশী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বি-১ নামের ওই কামরাটিতে মোট ৬৮ জন আরোহী ছিলেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বগিটিকে ট্রেনের বাকি অংশ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত বগিটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে এবং একপর্যায়ে আগুনের তাপে পাশের কয়েকটি গাছেও আগুন ধরে যায়। বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কামরায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের কোটা স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে বিকল্প বগি যুক্ত করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে গত শুক্রবার যাত্রা শুরু করা ১২৪৩১ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটির আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর গন্তব্য থেকে মাত্র ৪৫০ কিলোমিটার দূরে থাকাকালীন এই বিপত্তি ঘটে।


ইরানে পুনরায় বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ ফাইটার জেট উড্ডয়ন করছে। ছবি:সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালানোর লক্ষ্যে সবচেয়ে 'জোরালো প্রস্তুতি' শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পরমাণু সরঞ্জামগুলো উদ্ধারের জন্য সরাসরি কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সেখানে ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি বিকল্প হিসেবে ইরানের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও নিবিড় বোমাবর্ষণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া, দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘পরিবেশ তৈরি’ করে দিতেই তারা এই অভিযান শুরু করেছিল। তবে গত মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে তাদের ঘোষিত সেই লক্ষ্যগুলো এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতেই পুনরায় হামলার এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নিতে নতুন হামলার পরিকল্পনা

গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের যৌথ প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এই নতুন হামলা চালানো হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য অভিযানের একটি বিকল্প হতে পারে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক উপাদান উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের একটি বিকল্প হিসেবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে সামরিক সূত্রগুলো সতর্ক করেছে। এতে অভিযানের এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে এবং ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কাও থাকবে।

আরেকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিমান হামলার বিকল্পও আলোচনায় আছে।

যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব আগে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সহায়তায় এই অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং দেশটির ভেতরে সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর গত মাসের শুরুতে যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তার আগ পর্যন্ত এই লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।


থাইল্যান্ডে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির উদ্ধারকর্মী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, একটি ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের পরপরই আগুনের লেলিহান শিখা বাস ও আশপাশের যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দমকল কর্মী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পুলিশ।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, উদ্ধারকারী একাধিক দল দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহনের ভেতর থেকে আহতদের বের করে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ওই এলাকা ঠান্ডা করা ও জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। হতাহতদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পুলিশ। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।


নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি নেতানিয়াহুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই হুমকি দিয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার।

নিউইয়র্ক টাইমসের দীর্ঘদিনের কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফ প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন। ১৪ জন ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষ ভুক্তভোগীর সরাসরি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের তিন দিন পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলিদের পদ্ধতিগত যৌন নির্যাতনের অনেক প্রমাণও সামনে আসছে। আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব প্রমাণ নথিবদ্ধ করেছে।

এর আগে ইসরায়েল নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনটিকে ‘ব্লাড লায়াবেল' (ইহুদিদের বিরুদ্ধে রক্তপিপাসু হিসেবে অপপ্রচার) বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার তারা এক ধাপ এগিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন’।

ইসরায়েলের দাবি, ‘আধুনিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সবচেয়ে জঘন্য ও বিকৃত মিথ্যার একটি হলো এই প্রতিবেদন।’ ইসরায়েলের হুমকির পরও নিউইয়র্ক টাইমস এবং প্রতিবেদক নিকোলাস ক্রিস্টফ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটির মুখপাত্র চার্লি স্ট্যাডটল্যান্ডার বলেন, ‘১৪ জন নারী-পুরুষের সাক্ষাৎকারের সত্যতা আমরা যত দূর সম্ভব অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে যাচাই করেছি। এমনকি ভুক্তভোগীরা যাদের বিশ্বাস করে নিজেদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা বলেছিলেন—যেমন তাদের পরিবার ও আইনজীবী—তাদের মাধ্যমেও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ ফ্যাক্ট-চেক (সত্যতা যাচাই) করা হয়েছে। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের খবর, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাধীন গবেষণা, বিভিন্ন জরিপ এবং একটি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাক্ষ্যের সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছিল।’

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল্লে রোডস হা বলেন, ‘এই হুমকি মূলত সেই পুরোনো রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য হলো স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নিজেদের বয়ানের বাইরে যাওয়া কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দেওয়া।’


চীন সফরে কী অর্জন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবশেষে মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৭ সালের পর চীনে এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম সফর। এই সময়ে দুই নেতা সম্পর্ক স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার করেছেন, নতুন বাণিজ্য সমঝোতার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে সফরের চাকচিক্য ও হাসিমুখের আড়ালে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—আসলে কে বেশি লাভবান হলেন? চীন সফরে কী অর্জন করলেন ট্রাম্প?

দুই পক্ষের দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতির আড়ালে উঁকি দিচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো কিংবা তাইওয়ান, ইরান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো গভীর মতভেদপূর্ণ ইস্যুগুলোতে আদতে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দুই নেতার বিপরীতমুখী বক্তব্যই বলে দিচ্ছে—দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা আলাদা।

গত ১৫ মার্চ বেইজিংয়ের ‘ফরবিডেন সিটি’ বা নিষিদ্ধ নগরীর পাশেই অত্যন্ত সুরক্ষিত ঝংনানহাই বাগানে চা-চক্র এবং ওয়ার্কিং লাঞ্চের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তার চীন সফর শেষ করেন। এর আগের দিন দুই নেতা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন। সফরের একপর্যায়ে তারা ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ বা ‘স্বর্গ মন্দির’ পরিদর্শনে যান—যেখানে একসময় চীনা সম্রাটরা ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন। ট্রাম্পের এই সফরে তার ছেলে এরিক ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক (টেসলা) এবং জেনসেন হুয়াংসহ (এনভিডিয়া) এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।

বৈঠক শেষে দুই নেতাই সফরটিকে অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন। ঝংনানহাইয়ের বাগানে হাঁটার পর শি জিনপিং বলেন, ‘দুই পক্ষই স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং একে অপরের উদ্বেগকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।’ মজার বিষয় হলো, শি জিনপিং এ সময় ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা)-কে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ‘চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে নিজের ‘বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি চীনের আতিথেয়তায় ‘অত্যন্ত মুগ্ধ’।” বেশ কিছু ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়ে শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিশ্চিত করেন, আগামী শরৎকালেই শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।

ঝকঝকে এই কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে আসল প্রশ্নটি কিন্তু আটকেই রইল। গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার সাক্ষাতের সময় বাণিজ্য সংঘাত বন্ধে এক বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেটার মেয়াদ আদতে বাড়ল কি না—ট্রাম্প বেইজিং ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পরও তা স্পষ্ট ছিল না।

গত বছর ট্রাম্প কিছু চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। চীনও পাল্টা জবাব দেয় এবং বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে গত বুধবার সিউলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ে মধ্যে এক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে কিছু অগ্রগতির আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

বেসেন্ট জানান, কম সংবেদনশীল চীনা পণ্যের শুল্ক কমাতে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ সহজ করতে একটি ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ গঠনের আলোচনা চলছে। অ-রাষ্ট্রীয় কোনো পক্ষ যেন শক্তিশালী এআই মডেলের নিয়ন্ত্রণ না পায়, সে বিষয়েও একটি প্রোটোকল তৈরির কথা জানান তিনি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও বৈঠক শেষে একটি ‘ট্রেড কাউন্সিল’ ও ‘ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের ঘোষণা দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মূল বিষয়গুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে বেইজিং ছাড়ার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি শির সঙ্গে শুল্ক নিয়ে কোনো কথাই বলেননি!’

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী বেশ কিছু চুক্তি সম্পন্ন হলেও চীন এখনো তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ট্রাম্পের ঘোষণা করা চীনের কাছে ২০০ বোয়িং প্লেন বিক্রির চুক্তি। যদিও প্রত্যাশা ছিল ৫০০ প্লেনের, তবুও ২০১৭ সালের পর চীনের সঙ্গে বোয়িংয়ের এটিই সবচেয়ে বড় চুক্তি।

এ ছাড়াও মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, চীন প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য (বিশেষ করে গরুর মাংস ও সয়াবিন) কিনতে রাজি হবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির মূল ভোটার দল—মার্কিন কৃষকদের সন্তুষ্ট করতে ট্রাম্পের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরান ইস্যুতেও ট্রাম্প দাবি করেন, দুই নেতার মানসিকতা একই রকম। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে চাই, ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র না পায় এবং হরমুজ প্রণালি যেন উন্মুক্ত থাকে।’ তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কেবল সংলাপ ও শান্তির ওপর জোর দিয়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে। শি জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, ‘এই ইস্যুটি সঠিকভাবে সামলানো না হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।’ বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি কমাতে রাজি করানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুখে বলানো যে তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতার ‘বিরোধিতা’ করে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, তিনি অস্ত্র বিক্রি নিয়ে শির সঙ্গে ‘বিস্তারিত’ আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদিত ১৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র চুক্তি তিনি বাতিল করবেন কি না, তা খোলসা করেননি।


ইরানে পুনরায় বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালানোর লক্ষ্যে সবচেয়ে 'জোরালো প্রস্তুতি' শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পরমাণু সরঞ্জামগুলো উদ্ধারের জন্য সরাসরি কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সেখানে ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি বিকল্প হিসেবে ইরানের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও নিবিড় বোমাবর্ষণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া, দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘পরিবেশ তৈরি’ করে দিতেই তারা এই অভিযান শুরু করেছিল। তবে গত মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে তাদের ঘোষিত সেই লক্ষ্যগুলো এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতেই পুনরায় হামলার এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নিতে নতুন হামলার পরিকল্পনা

গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের যৌথ প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এই নতুন হামলা চালানো হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য অভিযানের একটি বিকল্প হতে পারে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক উপাদান উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের একটি বিকল্প হিসেবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে সামরিক সূত্রগুলো সতর্ক করেছে। এতে অভিযানের এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে এবং ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কাও থাকবে।

আরেকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিমান হামলার বিকল্পও আলোচনায় আছে।

যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব আগে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সহায়তায় এই অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং দেশটির ভেতরে সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর গত মাসের শুরুতে যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তার আগ পর্যন্ত এই লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।


যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মতি জানিয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি বাড়াতে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বিস্তৃত আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ইসরায়েল নতুন হামলা চালিয়েছে এবং তাদের দাবি, এই হামলা যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়। খবর এএফপির।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর গোলাগুলির জবাবে লেবাননে তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল এবং দেশটির দক্ষিণে আগ্রাসন চালিয়েছে। এই আন্দোলন যুদ্ধবিরতি কূটনীতির অংশ নয়।

ইসরায়েল এবং লেবানন সরকারের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে দুই দিন ধরে বৈঠক করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, রোববার মেয়াদ শেষ হতে চলা যুদ্ধবিরতি তারা বাড়াবেন। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, আরও অগ্রগতির জন্য এই যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২ ও ৩ জুন একটি স্থায়ী রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালাবে এবং পেন্টাগন ২৯ মে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদলকে একত্রিত করবে।

লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সামরিক আলোচনা শুরু হওয়া ‌‘স্থায়ী স্থিতিশীলতা’র লক্ষ্যে ‘আমাদের নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ’ দেবে।

হিজবুল্লাহর প্রতি এক প্রচ্ছন্ন তিরস্কার জানিয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বৈরুতে একটি এনজিওর নৈশভোজে বলেন, তার দেশ ‘বিদেশি প্রকল্প বা স্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের বেপরোয়া দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট ভুগেছে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ঘটনা এমন এক যুদ্ধ নিয়ে এসেছে যা আমরা বেছে নেইনি বরং আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল ৬৮টি শহর ও গ্রাম দখল করে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। দেশটির সঙ্গে মিলে তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে মৃদুভাবে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার তার দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলোচনার পর তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, উত্থান-পতন থাকবেই কিন্তু সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৬ জন নিহত

দক্ষিণ লেবাননে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। এর আগে দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে খবর দেওয়া হয়েছিল, তবে এখন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে।

আল জাজিরা আরবি’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, লেবাননের হারুফ শহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স কেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় তিনজন প্যারামেডিকসহ মোট ছয়জন নিহত হন। এছাড়া বিমান হামলায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন।


ভারতে এবার ভাঙা হচ্ছে ৬ ঐতিহাসিক মসজিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে উন্নয়নের নামে মুসলিম ঐতিহ্যের ওপর আবারও চালানো হচ্ছে আগ্রাসী বুলডোজার নীতি। এবার ঐতিহাসিক ও মুসলিম-প্রধান এলাকা ডালমন্ডিতে রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানের কোপে পড়েছে ২২৬ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মসজিদসহ ওই এলাকার অন্তত ছয়টি পবিত্র মসজিদ। পবিত্র উপাসনালয় ও বসতভিটা হারানোর এই নির্মম সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারাণসীর অত্যন্ত জনাকীর্ণ ও প্রাচীন মুসলিম এলাকা হিসেবে পরিচিত ডালমন্ডির সরু গলিগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে একটানা চলছে প্রশাসনের বুলডোজার। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের নামে গণপূর্ত বিভাগ (পিডাব্লিউডি) ইতিমধ্যে ১০৭টি ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ মে-র মধ্যে পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে শত শত নিরীহ পরিবার। উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বাসিন্দারা জানান, হুট করে মাথার ওপর থেকে ছাদ এবং রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন দোকানপাট কেড়ে নেওয়ায় তারা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক দিকটি হলো পবিত্র মসজিদগুলোর ওপর আঘাত। স্থানীয় চৌক থানা এলাকার অন্তর্গত মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদ, মার্বেল ওয়ালি মসজিদ, আলী রেজা খান মসজিদ, নিসারান মসজিদ, রঙ্গিলে শাহ মসজিদ এবং ল্যাংড়ে হাফিজ মসজিদকে উচ্ছেদের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে বারাণসী প্রশাসন। এর মধ্যে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদটি প্রায় ২২৬ বছরের পুরনো, যা এই অঞ্চলের মুসলমানদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আবেগের সাথে জড়িয়ে রয়েছে।

বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এই ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে উন্নয়নের নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

মসজিদের সুরক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে করিমুল্লাহ বেগ মসজিদের মুয়াজ্জিন বাবু জান ক্ষোভের সাথে জানান, ‘‘আইনি ও সাংবিধানিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যদি কোনো জোরজুলুম করা হয়, তবে মুসলমানরা তা মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।’’ তিনি আরও বলেন, যদি কোনো অনিবার্য কারণে মসজিদ সরাতেই হয়, তবে তা অত্যন্ত সম্মানজনক উপায়ে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

অন্যদিকে, তীব্র প্রতিবাদের মুখে বারাণসী প্রশাসন দাবি করেছে, উচ্ছেদকৃত জমির মালিকানা যদি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে থাকে তবেই কেবল ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অন্যথায়, বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান স্থানান্তরের নিয়ম নীতি অনুযায়ী তা সরিয়ে নেওয়া হবে। এলাকাটিতে যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন ৩টি বুলডোজার এবং শতাধিক শ্রমিক দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি-যোগীর আমলে ভারতে উন্নয়নের আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিম ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের যে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু হয়েছে, বারাণসীর ডালমন্ডির এই ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। ঘরবাড়ি ও মসজিদ হারানোর আশঙ্কায় পুরো ডালমন্ডি এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।


হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে সংকটে ওমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার নতুন মোড় নিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং এর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে নতুন সংকটে পড়েছে ওমান।

বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে এই নৌপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই প্রণালির দক্ষিণ দিকে ওমানের একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ‘মুসান্দাম’ অবস্থিত হওয়ায় এই সংকটে অবধারিতভাবেই জড়িয়ে পড়েছে দেশটি।

গত শুক্রবার ভারতে এক বক্তৃতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে ওমান ও ইরানের নিজস্ব জলপথ। তিনি বলেন, ‘এই প্রণালী ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমা নেই।’

আরাগচি আরও জানান, এই প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে ইরানের এই একতরফা পরিকল্পনার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে ওমান।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। এর মাধ্যমে ইরান নিজের ইচ্ছামতো যে কোনো দেশের জাহাজ আটকে দেওয়ার অধিকার পেয়ে যাবে। তাছাড়া, টোল আদায়ের জন্য প্রতিটি জাহাজকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ অ্যাকাউন্ট খোলার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর আরোপিত জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন হতে পারে।

ইরানের এই একাধিপত্য ঠেকাতে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য মিলে ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা’ রক্ষার নীতিতে একটি পাল্টা পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা ওমানের কাছেও পেশ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ এই পশ্চিমা পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক পরিচালক লর্ড লেভেলিন এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ ওমানের রাজধানী মাসকাট সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান এভাবে টোল আদায় করতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন বিতর্ক চলছে।

ইরান ১৯৮২ সালে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশনে সই করলেও তা কখনো দেশটির সংসদে পাস হয়নি। ফলে তেহরানের দাবি, তারা এই আইনের অবাধ যাতায়াতের নিয়ম মানতে বাধ্য নয়। গত ৫ মে ইরান ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’ (পিজিএসএ) নামে একটি নতুন সরকারি সংস্থা গঠন করেছে, যার মূল লক্ষ্য এই প্রণালি থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের সমপরিমাণ মূল্যের জন্য প্রায় এক ডলার করে টোল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বেইজিং সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত যে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একই কথা বলেন।

তবে চীনের অবস্থান কিছুটা দ্বিমুখী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি) জানায়, তেহরানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর চীনের একঝাঁক তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এই জাহাজগুলো ইরানি নিয়ম মেনে চলতে রাজি হয়েছে। তবে চীন আসলে কোনো টোল দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ইরানকে টোল দিয়ে পার হবে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।’ যা থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন নৌবাহিনী প্রয়োজনে টোল দেওয়া চীনা জাহাজগুলোকে আটকে দিতে পারে।


বিশ্বের মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে তাদের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন অপতৎপরতা চালানো বন্ধ না করে, তবে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে তা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শনিবার (১৬ মে) নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতি এমনই নজিরবিহীন ও কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক এক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ইসলামাবাদের উদ্দেশে এই কড়া বার্তা দেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে দেওয়া তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্য দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গত বছর সংঘটিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি যদি সীমান্তে আবার তৈরি হয়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী তার কেমন জবাব দেবে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে গিয়ে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনারা যদি আগে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, তবে জানেন আমি কী বলেছিলাম... পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের লালন-পালন করতে থাকে এবং ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নিজেদের ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখবে নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন করে দেবে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীরের পাহালগামে একটি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা। সেই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং সন্ত্রাসবাদের সমূলে উৎপাটন করতে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে (পিওকে) অবস্থিত একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে নিখুঁত বিমান ও সামরিক হামলা বা প্রিসিশন স্ট্রাইক চালায়, যা সামরিক ইতিহাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।

ভারতের সেই আকস্মিক হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার জবাবে ভারতের পরবর্তী সমস্ত কাউন্টার-অফেনসিভ বা প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযানগুলোও এই অপারেশন সিন্দুরের অধীনেই পরিচালিত হয়েছিল। দুই দেশের এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও আকাশ যুদ্ধ টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে।

পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার পর ১০ মে সন্ধ্যায় একটি গোপন ও পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে প্রথম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই নতুন হুমকি প্রমাণ করে, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।


ট্রাম্পের বিদায়ের পরই চীন সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ ও ২০ মে তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা। এই সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ট্যাস জানিয়েছে, এই সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ একটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে। ২০০১ সালে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’-এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে পুতিন এই সফরে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি গত আড়াই দশকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। পুতিনের এই সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফরের ঠিক পরপরই পুতিনের বেইজিং যাত্রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ অর্থ বহন করে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে কিছু ইতিবাচক আলোচনা হলেও তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুর মতো বড় বিরোধগুলোর কোনো সমাধান হয়নি। ঠিক এমন একটি সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানানো ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ক্রমাগত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন এখন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদার হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২২ সাল থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মস্কো ও বেইজিং এখন একে অপরের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল। জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান দুই দেশের অর্থনীতিকে একীভূত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। পুতিনের এই সফর সেই বন্ধনকেই বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরবে, যা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের পর পুতিনের এই চীন সফর বিশ্ব রাজনীতির তিন প্রধান শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেইজিংয়ের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি ভবিষ্যতে নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। পুতিন ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক থেকে আসা সিদ্ধান্তগুলো কেবল এশিয়ায় নয়, বরং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ফলে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি এখন ১৯ মে শুরু হতে যাওয়া পুতিনের এই বেইজিং সফরের দিকে।


লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই পক্ষ। গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির প্রথম দফার মেয়াদ আগামী ১৭ মে, রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর শুক্রবার এই মেয়াদ বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক এক্স বার্তায় বলেছেন, ‘আরও অগ্রগতির লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।’ দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের পুরনো সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই আলোচনা ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে লেবানন সরকার। লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতির এই মেয়াদ বৃদ্ধি তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।’ উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২১, আহত ৪৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত ও আরও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার হামলায় এ ঘটনা ঘটে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা সংস্থা শুক্রবার (১৫ মে) জানায়, মস্কোর অব্যাহত আগ্রাসন থামার যে সামান্য আশা ছিল, এই হামলার ফলে তা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে।

রাজধানীতে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এতে নগরবাসী মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ৬৭৫টি ড্রোন ও ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৫২টি ড্রোন ও ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

কিয়েভের বাসিন্দা আন্দ্রিই বলেন, ‘চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিল।’

তিনি একটি ধসে পড়া সোভিয়েত আমলের আবাসিক ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে এ বর্ণনা দেন। তার শার্টে রক্তের দাগ দেখা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানীর অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো রয়েছে।

সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির স্থানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবনের প্রথমতলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।’

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ শুক্রবার ভোরে জানায়, হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং একজন কিশোরী রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।


banner close