শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

নেপালে ৩০ বছরে ঘটেছে ২৭ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা

নেপালে ৩০ বছরে ঘটেছে  ২৭ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা
নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • তারা এয়ারের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ১৪ আরোহীর লাশ উদ্ধার

  • গত এক দশকেই ২০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে



দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালে তারা এয়ারের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদের দেহাবশেষের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

বেসরকারি এয়ার লাইন ‘তারা এয়ার’র ওই উড়োজাহাজটি গত রোববার উড্ডয়নের ১৫ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটিতে ২২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন ভারতীয় ও তিনজন জাপানি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিমালয়কন্যা নেপালের উড়োজাহাজ খাতের রয়েছে দীর্ঘ দুভার্গ্যজনক ইতিহাস। এভিয়েশন সেফটি তথ্যের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, নেপালে ৩০ বছরে ২৭টির মতো মারাত্মক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে গত এক দশকেই ২০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়-পর্বত ঘেরা দুর্গম অঞ্চল, বৈরী আবহাওয়া, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ে বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততা, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে নেপালে প্রায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটছে।

হিমালয়সহ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ১৪ পর্বতের ৮টি নেপালে। বৈরী আবহাওয়া আর দুর্গম পাবর্ত্যময় অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজ অবতরণ করতে অত্যন্ত চৌকস ও অভিজ্ঞ বৈমানিকদেরও হিমশিম খেতে হয়।

১৯৪৯ সাল থেকে শুরু করে নেপালে বিভিন্ন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নেপালের উড়োজাহাজ খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ তিন দুর্ঘটনায় ১৯৯২ সালে পিআইএর ফ্লাইটের ১৬৭ জন, থাই এয়ারওয়েজের ১১৩ জন এবং ২০১৮ সালে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে ৫১ জন নিহত হন।  ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৭৬ আসন বিশিষ্ট বোম্বার্ডিয়ার কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটি ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজের ৭১ যাত্রীর ৫১ জনই প্রাণ হারান। ১৯৯২ সালে নেপালে পাকিস্তানের জাতীয় সংস্থা পিআইএ'র এয়ারবাস এ৩০০ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৬৭ জন নিহত হন। উড়োজাহাজটি ললিতপুরের ভাট্টেডান্ডায় বিধ্বস্ত হয়। একই বছর থাই এয়ারওয়েজের এয়ারবাস এ৩১০ ঘিয়াংফেদিতে বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ১১৩ জন আরোহী নিহত হন।

১৪ জনের লাশ উদ্ধার

নেপালে তারা এয়ারের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা এয়ারের মুখপাত্র সুদর্শন বারতৌলা ১৪ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উড়োজাহাজটি পাহাড়ে আছড়ে পরে টুকরা টুকরা হয়ে যায়। মূল ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে লাশগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

নেপাল সেনাবাহিনী গতকাল সোমবার জানিয়েছে,  উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পরে রোববার উত্তর-পশ্চিম নেপালের মুস্তাং জেলার থাসাংয়ের সানো সোয়ার ভিরে রোববার বিধ্বস্ত হওয়া যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের এলাকাটি খুবই দুর্গম হওয়ায় সেখানে একমাত্র হেলিকপ্টারে যাতায়াত সম্ভব। রোববার উজোজাহাজটি শনাক্ত হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নারায়ণ সিলওয়াল সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এয়ারের বিধ্বস্ত  উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষের ছবি পোস্ট করেছেন। রোববার সকালে উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয়। নেপালের কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রওনা দেয় ওই উড়োজাহাজটি। কিছু সময় পরই পাহাড়ি জেলা মুস্তাংয়ে যাওয়ার পর এটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বোমা হামলায় তালেবান নেতা নিহত, দায় স্বীকার আইএসের

বোমা হামলায় তালেবান নেতা নিহত, দায় স্বীকার আইএসের
তালেবানের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি। সংগৃহীত ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি ধর্মীয় শিক্ষালয়ে বোমা হামলায় তালেবানের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত হয়েছেন। তালেবান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র বিলাল কারিমি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের সম্মানিত আলেম (শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি) শত্রুদের কাপুরুষোচিত হামলায় শহীদ হয়েছেন।

চারটি তালেবান সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাকারীর এক পা ছিলো না এবং তিনি প্লাস্টিকের কৃত্রিম পায়ে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র তালেবান কর্মকর্তা বলেন, আমরা তদন্ত করছি যে, হামলাকারী কে ছিলো এবং কে তাকে শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানির ব্যক্তিগত অফিসে প্রবেশের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে এসেছিলো। এটি (হাক্কানি মৃত্যু) আফগানিস্তান ইসলামিক আমিরাতের জন্য খুব বড় একটি ক্ষতি।

তবে আইএসআইএল (আইএসআইএস) সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, হামলাকারী তার পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য থেকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

আইএসআইএল-এর একটি বিবৃতি অনুবাদ করে, তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট বলছে, তাদের (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছিলেন হাক্কানি এবং তিনি ছিলেন তালেবানের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ উকিল।

এর আগেও হাক্কানির ওপর হামলা হয়েছিলো। সর্বশেষ ২০২০ সালে হাক্কানিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটায় আইএসআইএল। ওই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন হাক্কানি।


জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুক হামলায় ৩ ভারতীয় সেনা নিহত

জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুক হামলায় ৩ ভারতীয় সেনা নিহত
কাশ্মীরে টহলরত সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুকধারীর হামলায় তিন সেনাসদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় ওই ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা গুলি ছুঁড়লে দুই বন্দুকধারী নিহত হয়।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুকেশ সিং বলেন, কয়েকজন সন্ত্রাসী পারগালের আর্মি ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেনাসদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে তিনজন সেনাসদস্য ও দুজন হামলাকারী নিহত হয়।

ক্যাম্পের নিরাপত্তা বাড়াতে সেখানে আরও সেনা পাঠানো হয়েছে, যোগ করেন মুকেশ সিং।

পুলিশ বলছে, এই হামলার পেছনে জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়্যেবার মদদ থাকতে পারে।

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক টুইটবার্তায় নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

২০১৮ সালে জম্মুর সুনজোয়ান ক্যাম্পে হামলার পর সেনা ক্যাম্পে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। এর আগে, ২০১৬ সালে উরি ক্যাম্পে একই ধরনের হামলায় ১৮ সেনা নিহত হন।


শেখ হাসিনাকে রাখি পাঠালেন মমতা

শেখ হাসিনাকে রাখি পাঠালেন মমতা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাখি পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাখি বন্ধন উপলক্ষে এই উপহার পাঠানো হয়।

বুধবার (১০ আগস্ট) সংসদ সদস্য শেখ আলাউদ্দিনের হাতে উপহার তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ।

উপহারের মধ্যে ছিল কচুরিপানা দিয়ে তৈরি রাখি, মিষ্টি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দুটি ছবি।

এ বিষয়ে গোপাল শেঠ সাংবাদিকদের বলেন, দুদেশের মৈত্রী বন্ধন আরও দৃঢ় করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নারীদের তৈরি কচুরিপানার রাখি পাঠানো হয়েছে।

উপহার গ্রহণ করতে আসা শেখ আলাউদ্দিন বলেন, দুই বাংলার বন্ধন অনেক দৃঢ়। রাখি বন্ধন সেটিকে আরও মজবুত করবে। একটি চমৎকার দিনে চমৎকার একটি উপহার আমাদের দিলেন তিনি (মমতা বন্দোপাধ্যায়)। আমি এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেবো।


২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু

২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু
২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কথা ছিলো আরব আমিরাতের দুবাইতে যাবেন রান্নার কাজ নিয়ে। সে অনুযায়ী ভারতের মুম্বাইয়ের এক স্থানীয় এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাবার ব্যবস্থা করেন চার সন্তানের মা ও বিধবা হামিদা বানু। সন্তানদের কথা চিন্তা করে অনিশ্চিত আরেক জীবনের ঝুকি নেন তিনি। রান্নার কাজ পাইয়ে দেবার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। কিন্তু আশাহত হয়ে সেখানেই আটকে পড়েন হামিনা। রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুঃখী এই নারীর গল্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে প্রকাশ্যে এসেছে হামিদা বানুর জীবনের নির্মম গল্প। এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি। তবে স্বজনদের কাছে যেতে উদগ্রীব হলেও কাগজপত্রের জটিলতায় দ্রুতই হয়তো তার ফেরা হচ্ছে না তার।

২০০২ সালে রাঁধুনির চাকরি নিয়ে দুবাইয়ে যেতে একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ২০ হাজার রুপি দেন হামিদা। চুক্তি অনুযায়ী দুবাইতে রান্নার চাকরি করতে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে অবৈধভাবে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। হতভাগ্য এই নারী জানান, দুবাইয়ে নেয়ার কথা বলে পাকিস্তানের হায়দরাবাদের একটি ঘরে তিন মাস আটকে রাখা হয় তাকে। এর কয়েক বছর পর করাচির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় হামিদার। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে স্বামীর মৃত্যু হয়। এখন তার সৎ ছেলের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি।

এসবই তিনি জানান প্রতিবেশি ওয়ালিউল্লাহ মারুফ নামের পাকিস্তানের এক ব্যক্তির কাছে। গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামিদার সাক্ষাতকারের এই ভিডিও আপলোড দেয়ার পরই আলোচনায় উঠে আসে তিনি।

ওই ভিডিও শেয়ার করেন মুম্বাইয়ে বাস করা ভারতের সাংবাদিক খালফান শেখ। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শেষ পর্যন্ত এর মাধ্যমেই হামিদার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওটি হামিদা নাতি অর্থাৎ ইয়াসমিনের ছেলে আমানের চোখে পড়ে। সে তার মাকে জানালে, তারা উদ্যোগী হয় মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

ভারতের খালফান আর পাকিস্তানের ওয়ালিউল্লাহ মিলে আয়োজন করেন ভিডিওকলের। ২০ বছর পর ভুার্চুয়ালি নিজের মেয়ে ইয়াসমিন শেখকে দেখতে ও কথার বলার সুযোগ পান হামিদা বানু। আবেগঘন ভিডিওকলে ইয়াসমিনকে তার মাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছ? তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ? এত বছর কোথায় ছিলে?’ কিন্তু হামিদা বানু এসবের উত্তরে শুধু এটুকুই বলছিলেন, ‘জানতে চেয়ো না, কোথায় ছিলাম, কোথায় আছি। তোমাদের খুব মনে পড়ে। ইচ্ছা করে আমি এখানে আসিনি। আমার কোনো বিকল্প ছিল না।’

হামিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই দশক ধরে তাকে খুঁজছিলেন তারা। তবে কোনোভাবেই সন্ধান মিলছিল না। ইয়াসমিন জানান, আগে যখন তার মা অন্য দেশে ছিলেন, তখন মাঝেমধ্যেই ফোন করতেন। তবে শেষবার দেশ ছাড়ার পর আর ফোন করেননি। খবর না পেয়ে একপর্যায়ে তারা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মা ভালো আছেন একটু জানাতো। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান না বলে রিক্রুটিং এজেন্সির লোকেরা বলতো। কিন্তু কিছুদিন পর ওই এজেন্সিকেও আর তারা খুঁজে পায়নি বলে জানায় ইয়াসমিন।

হামিদার কথা শুনে তার প্রতি সহানুভূতি আসে ওয়ালিউল্লাহর। তবে দমে যান ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের কথা চিন্তা করে। সাক্ষাৎকারে হামিদা তার মুম্বাইয়ের ঠিকানা এবং সন্তানের নাম বলেন। এতে তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়াটা একটু সহজ হয়। ওয়ালিউল্লাহ জানিয়েছেন, ভিডিও দেখে পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে হামিদা বানুর বিস্তারিত জানিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে কবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসবে তা এখনও অজানা।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য-সার সংকটের ৩ কারণ, বাংলাদেশও শঙ্কার বাইরে নয়

বিশ্বব্যাপী খাদ্য-সার সংকটের ৩ কারণ,  বাংলাদেশও শঙ্কার বাইরে নয়
প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মো: ইমরানুর রহমান

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে কানাডাভিত্তিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট। কারণগুলো হলো- সার ঘাটতি, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া।

সার ঘাটতি

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হলে খাদ্য-শস্য উৎপাদনের অপরিহার্য উপাদান সারের বৈশ্বিক চালান ব্যাহত হয়।

বিশ্বে নাইট্রোজেন সারের শীর্ষ রপ্তানিকারক এবং ফসফরাস ও পটাশিয়াম সার রপ্তানিতে দ্বিতীয় রাশিয়া। এ ছাড়া রাশিয়ার মিত্র বেলারুশও গুরুত্বপূর্ণ সার রপ্তানিকারক দেশ। পটাশিয়াম সারের বৈশ্বিক চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি রপ্তানি করে এই দুই দেশ।

রাশিয়া বছরে মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের সার রপ্তানি করত। প্রধান ক্রেতার তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ব্রাজিল।

এ ছাড়া মঙ্গোলিয়া, হন্ডুরাস, ক্যামেরুন, ঘানা, সেনেগাল এবং গুয়েতেমালাসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশ তাদের মোট সার আমদানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমারা একের পর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। এতে সংকটে পড়েছে রাশিয়া থেকে সার আমদানি করা দেশগুলো। বিপদে পড়েছে বাংলাদেশও। অন্যদিকে চীন সার রপ্তানি না করে মজুত করছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত মাসেই কানাডার কাছে সহায়তা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। এক সৌজন্য সাক্ষাতে কানাডার রাষ্ট্রদূত লিলি নিকোলাসের কাছে পটাশিয়াম রপ্তানি অব্যাহত রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে সার উৎপাদনে।

অন্য অনেক দেশের মতো জ্বালানি সংকটে রয়েছে বাংলাদেশও। উল্লেখ্য, গ্যাস সংকটে ২১ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানা কমান্ডিং এরিয়ায় সার সংকটে আগামী মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) গ্যাস উৎপাদন গত ১৯ জুলাই বন্ধ হয়ে গেছে।

সার রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান চীনের। বছরে দেশটি ১ হাজার কোটি বেশি ডলারের সার রপ্তানি করত। এখন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সার রপ্তানি না করে মজুত করছে দেশটি। ফলে সারের বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন।

বৈশ্বিক শস্য রপ্তানি

রুশ কৃষ্ণসাগর নৌবহরের ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো অবরোধ, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী খাদ্য রপ্তানির চেনা চিত্র বদলে দিয়েছে।

বিশ্বে গমের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের জোগান দেয় রাশিয়া ও ইউক্রেন। গম বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত শস্যগুলোর একটি। এছাড়া ইউক্রেন ভুট্টা, বার্লি ও সূর্যমুখী তেলের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। চলমান সংঘাতে দেশটির খাদ্যপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে সূর্যমুখী তেলে পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।

সাম্প্রতিক খাদ্য ঘাটতি

রাশিয়া ও ইউক্রেন বৈশ্বিক বাজারে বছরে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টন খাদ্যশস্য জোগান দেয়। জাতিসংঘ বলছে, করোনাভাইরাস মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে ছিল।

সাম্প্রতিককালে তাপ, খরা ও বন্যায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ভারতেও ফসলের ক্ষতি হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্রাজিলে খরা ও তুষারপাতে ফসল নষ্ট হওয়ায় কফির দাম ৭০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এসব সংকটের মুখে বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি কৃষি, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, পানি ও সেচের মতো বিষয়গুলোয় ৩ হাজার কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

খাদ্য সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কৃষ্ণসাগরে অবরোধ শিথিল করবে রাশিয়া। এতে ইউক্রেন থেকে জাহাজে খাদ্য রপ্তানির পথে আর কোনো বাধা থাকবে না। চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের মতে, বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় এই চুক্তি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।