রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

৩৮ বছর পর মিলল জওয়ানের দেহ

৩৮ বছর পর মিলল জওয়ানের দেহ
৩৮ বছর পর মিলল জওয়ানের দেহ
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সীমান্তে পাঠানো হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। তার মধ্যে ভীষণ শীতল ও বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থান সিয়াচনে পাঠানো হয় ‘অপারেশন মেঘদূত’ নামে একটি সেনাদলকে। কিন্তু টহলের সময় তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে ২০ জন সেনা মারা যান। সে সময় ১৫ জন সেনার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি পাঁচজনের দেহ আর পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে একজন হলেন চন্দ্রশেখর হারবোলা।

সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের কাছে সালতোড়ো এলাকায় নিখোঁজ হয়ে যান চন্দ্রশেখর। সেই থেকে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় বরফের চাদরে মোড়া এলাকায় পড়েছিলেন তিনি। তুষারধসে নিখোঁজ হওয়ার ৩৮ বছর পর একটি পুরোনো বাঙ্কারে মিলল হারবোলার দেহ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নাইন্টিন কুমায়ুন রেজিমেন্টের এই জওয়ানকে খুঁজে পায় রানিক্ষেতের সৈনিক গ্রুপ সেন্টার।

কুমায়ুন ব্যাটেলিয়ানের সেনার দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর দেয়া হয় শহীদ চন্দ্রশেখরের স্ত্রী শান্তি দেবীকে। সেখানে দেহাবশেষের পাশাপাশি একটি আর্মি নম্বরের ডিস্কও উদ্ধার হয়। সেই নম্বর দেখেই নিশ্চিত করা হয় যে, নিখোঁজ এই সেনা সদস্যের নামই চন্দ্রশেখর হারবোলা।

মরদেহ পাওয়ার পর এবার পরিপূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তার শেষকৃত্য করা হবে। হারবোলার স্ত্রী শান্তি দেবী বলেছেন, ‘পরিবারের থেকেও দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন আমার স্বামী। এতে আমি গর্বিত।’ শেষবার যখন তাকে সিয়াচনে পাঠানোর নির্দেশ আসে, তখন হারবোলা বাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ঘর ছেড়েছিলেন বলে জানান তার স্ত্রী। শান্তি দেবী জানান, যখন তার স্বামী নিখোঁজ হয় তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর। তার বড় মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স দেড় বছর।

আলমোড়া জেলার দ্বারহাটের হাথিগুর বিনতার বাসিন্দা চন্দ্রশেখর হারবোলা ১৯ কুমায়ুন রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। হারবোলার পাশাপাশি অন্য আরেকজন সেনার মৃতদেহ পাওয়া গেলেও তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি উদ্ধারকারীরা।


ইরানে বিক্ষোভে অর্ধশত নিহত

ইরানে বিক্ষোভে অর্ধশত নিহত
ইরানের পোশাক স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে জার্মানির বার্লিনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন প্রবাসী ইরানি নারীরা। ছবি: ডয়চে ভেলে
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • পোশাকে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন

পুলিশি হেফাজতে ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে ইরানে বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়ের রাজধানী অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গতকাল শনিবার এ তথ্য দিয়েছে। খবর এএফপির।

আইএইচআর বলছে, ইরানের উত্তর গিলান প্রদেশের রেজভানশাহর শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর দেয়া আগুনে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আমোল, উত্তর ইরানেও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম অর্ধশত মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘এর পরও মানুষ তার মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।’ দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অন্তত সাড়ে ৭০০ মানুষ আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ছয় শর বেশি মানুষ।  

ইরানের ৮০টিরও বেশি শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলমান এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

প্রবল এই বিক্ষোভ দমনে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান। ইব্রাহিম রাইসির সরকার গত শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অভিহিত করছেন সরকার ও হিজাবপন্থিরা। তারাও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, প্রভৃতি স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের মেট্রো স্টেশনে মাথার কাপড় ঠিক না থাকায় পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নৈতিকতা পুলিশ বা মোরালিটি পুলিশ কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভ্যানে তোলার পর মোরালিটি পুলিশ তাকে ব্যাটন দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে এবং গাড়ির সঙ্গে মাথা ঠুকিয়ে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, মাহসা হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

ইরানিদের জন্য ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

মাহসার মৃত্যুর পর নারীর পোশাকের স্বাধীনতার জন্য বহু দিন ধরে চলা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মাহসা আমিনি ও হিজাব আন্দোলনের নামে হ্যাশট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ও বার্তা প্রকাশ করতে থাকেন ইরানি নারীরা। এই পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

তবে বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ওপর থেকে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ‘ইরানি জনগণকে যেন বিচ্ছিন্ন ও অন্ধকারে রাখা না হয় তা নিশ্চিতে আমরা সাহায্য করতে যাচ্ছি। ইরানিদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইন্টারনেট বিধিনিষেধের আংশিক শিথিল করা হচ্ছে।’

সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত এই ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ইরানে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে। এ বিষয়ে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানি জনগণের ওপর তেহরানের নজরদারির প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। ট্রেজারি দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি ওয়ালি আদেয়েমো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জনগণকে নজরদারির জন্য তেহরানের প্রচেষ্টা মোকাবিলায় ইরানের মানুষকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাহসী ইরানিরা মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির মানুষের কাছে তথ্যের অবাধ প্রবাহের জন্য তার সমর্থন দ্বিগুণ করছে।’

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা রাইসির: ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। কেবল সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেখানে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর জেরে আন্দোলন শুরু হলেও ক্রমে তা নারীর পোশাকের স্বাধীনতা, হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

মাহসার মৃত্যুর ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, মাহসাকে পুলিশি নির্যাতন করা হয়নি। 

গুলিয়ান প্রদেশে গ্রেপ্তার ৭৩৯: ইরানে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কেবল একটি প্রদেশ থেকে ৬০ নারীসহ সাত শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। বার্তা সংস্থা তাসনিম গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে। গুলিয়ান প্রদেশের পুলিশপ্রধান জেনারেল আজিজুল্লাহ মালেকি বলেন, ৬০ জন নারীসহ মোট ৭৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  


মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে

মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে
জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • জাতিসংঘের সাধরণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর জাতিসংঘের মাধ্যমে আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। খবর এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের পরামর্শক ডেরেক চোলেট জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন কূটনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর অধিকতর চাপ প্রয়োগের পক্ষে স্বীকৃত অনেক কারণ রয়েছে।’ মিয়ানমারে চলতি মাসে এক বিমান হামলায় স্কুলের ১১ জন ছাত্রছাত্রী হত্যা এবং গত জুলাইয়ে চার বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চোলেট। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

চোলেট বলেন, তিনি মিয়ানমারের অন্যান্য সরকার এবং ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টি এখনো একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে আছে যার সুনির্দিষ্টতাও স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মিত্র দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে চোলেট বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন কীভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেবে তা নিয়ে আমাদের আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’

সামরিক জান্তা মিয়ানমারে আগামী বছরের আগস্টে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রাক্তন একাধিক সরকারের সঙ্গে চোলেট কথা বলে জানতে পেরেছেন, আসন্ন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বলেছি যে, এসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জান্তা সরকার মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখে না, রাজবন্দিদের আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে, আর অং সান সু চি মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে গত ২০ মাসে কেউ দেখেনি।’

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা টমাস অ্যান্ড্রুজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি হবে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের ওপর এ পর্যন্ত ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জান্তা সরকারের নেতারাই মূলত এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারে চলমান সংকট নিয়ে কোনো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ভারতও এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।


মাস্ক পরে বাঁশি বাজানো

মাস্ক পরে বাঁশি বাজানো
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

হংকংয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের একাধিক মাস্ক পরে বাঁশি বাজানোর একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে হাস্য-কৌতুক শুরু হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা ব্যুরো একটি বিজ্ঞাপনে ওই ভিডিও ব্যবহার করেছে।

বিবিসি জানায়, আগামী ১ অক্টোবর চীনের জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে বিজ্ঞাপনটি প্রচার করা হয়েছে। এর আগে হংকং কোভিড প্রতিরোধের লক্ষ্যে আরোপিত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে মাস্ক পরিধানের বিষয়টিও রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির আবির্ভাবের পর থেকে যে গুটিকয়েক শহর কঠোর পদক্ষেপ ধরে রেখেছে, সেগুলোর মধ্যে হংকং একটি। ‘তরুণ চীনের ভাষ্য’ শিরোনামের ভিডিওটির উপজীব্য বিষয় হংকংয়ের তারুণ্য। এতে অল্প বয়সী ছাত্রছাত্রীদের গান-বাজনা, ক্যালিগ্রাফি, মার্শাল আর্ট প্রভৃতি শৈল্পিক কার্যক্রমের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী পাঁচ মিনিটের বেশি লম্বা ভিডিওটিতে নিজেদের নৈপুণ্য দেখিয়েছে। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হংকংয়ের শিক্ষা ব্যুরো গত বুধবার ভিডিওটি প্রকাশ করে। এতে ৪৫ সেকেন্ডের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, মাস্কে মুখ ঢাকা দুই স্কুলছাত্রী পাশাপাশি বাঁশি বাজাচ্ছে। তাদের বাঁশির ওপরে আরেকটি মাস্ক দিয়ে ঢাকা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দৃশ্য নিয়ে মজা করেন অনেকে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের সাংবাদিক জেফি ল্যাম টুইটারে লিখেছেন, ‘এই শহর আমাকে চমকে দিতে কখনো ব্যর্থ হয়নি।’

ফেসবুকে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা অনেক কৌতুকের মধ্যেও সেরা হতে চলেছে।’

আরেক ব্যক্তি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা হংকংয়ের কোভিড নিয়ে আতঙ্কের নমুনা।’

কোভিড নিয়ন্ত্রণে চীনে যেমন কড়াকড়ি আছে, হংকংও সেগুলো অনুসরণ করে। বাইরে থেকে কেউ হংকংয়ে গেলে এখনো তাকে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হয়। তবে আগামী সোমবার থেকে সেই বিধিনিষেধ শিথিল করার একটা ঘোষণা গতকাল শুক্রবারই প্রচার করা হয়েছে।

 


ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৬ ছাড়িয়েছে

ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৬ ছাড়িয়েছে
হিজাব স্বাধীনতার জন্য বিক্ষোভরত এক ইরানি নারী।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইরানে পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২৬ জন মারা গেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে গতকাল শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে এবিসি নিউজ। তবে নিহত ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।

মাথায় ঠিকমতো কাপড় না পরায় মাহসার বিরুদ্ধে পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা (মোরালিটি) পুলিশ  তাকে তেহরানের একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে। তিন দিন পর হাসপাতালে কোমায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের নির্যাতনই তার মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে। আর মাহসার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা হিজাববিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানি নারীদের একটি অংশ বহুদিন ধরেই হিজাববিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করছিলেন, মাহসার মৃত্যুর জেরে সেই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুরোদমে চলছে এই আন্দোলনের স্বপক্ষে প্রচারণা ও ভিডিও বার্তা।

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে প্রথমে ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেটা ক্রমে দেশটির ৫০টির বেশি ছোট-বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। টানা ছয় দিনের এই বিক্ষোভে বেশ কয়েক জায়গায় নারীরা নিজেদের মাথার স্কার্ফ খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে পতাকা বানিয়ে রাস্তায় উড়িয়েছেন।

বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ‘ইরানে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু এখন বিক্ষোভের নামে যা হচ্ছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এগুলো বিশৃঙ্খলার কাজ।’ গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, এই রক্তাক্ত বিক্ষোভের সূত্রপাতকারী সেই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শত্রুদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনী: ইরানি সেনাবাহিনী হিজাববিরোধী বিক্ষোভকারীদের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হুঁশিয়ারি দিয়ে গতকাল বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা শত্রুদের মোকাবিলা করবে।


হিলারি ম্যান্টেলের জীবনাবসান

হিলারি ম্যান্টেলের জীবনাবসান
হিলারি ম্যান্টল।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বুকার পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ লেখক হিলারি ম্যান্টেল (৭০) শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার প্রকাশক এ কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

উল্ফ হল নামের ত্রয়ী উপন্যাস লিখে হিলারি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে তিনি টমাস ক্রমওয়েল সিরিজের প্রথম বই উল্ফ হল-এর জন্য বুকার পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১২ সালে তিনি ব্রিং আপ দ্য বডিজ বইয়ের জন্য আবার একই পুরস্কার লাভ করেন। 

হিলারির বইয়ের প্রকাশক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রিয় লেখক ডেম হিলারি ম্যান্টেলের মৃত্যুতে আমাদের হৃদয় ভেঙেছে। তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবার, বিশেষত স্বামী জেরাল্ডের প্রতি সমবেদনা। এটা একটা বিপর্যয়কর ক্ষতি আর তিনি অসাধারণ কিছু কাজ রেখে গেছেন বলে আমরা কৃতজ্ঞ।’

টমাস ক্রমওয়েল সিরিজের শেষ বই দ্য মিরর অ্যান্ড দ্য লাইট ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ফিকশন শাখায় সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ছিল। মূলত অষ্টম হেনরির আমলে টমাস ক্রমওয়েলের ক্ষমতায় আরোহণের একটি কাল্পনিক বিবরণ নিয়ে উল্ফ হল লিখেন হিলারি ম্যান্টেল। তিনি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, বইটি লিখতে তার বহু বছর গবেষণা করতে হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।