বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

মেক্সিকোতে সাড়ে ৮ মাসে রেকর্ড ১৮ সাংবাদিক খুন

মেক্সিকোতে সাড়ে ৮ মাসে রেকর্ড ১৮ সাংবাদিক খুন
মেক্সিকোতে সাংবাদিক হত্যার বিচার চেয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মেক্সিকোতে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। দেশটিতে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ১৮ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘আর্টিকেল ১৯’ এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আর্টিকেল ১৯ এর আঞ্চলিক পরিচালক লিওপোল্ডো মালডোনাডো জানান, গত সাড়ে আট মাসে নিহত ১৮ সাংবাদিকের মধ্যে নয়জনই তাদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সাল গণমাধ্যমের জন্য শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ বছর হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) আর্টিকেল ১৯ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ দেশ মেক্সিকো।

এতে আরও বলা হয়, মেক্সিকোতে সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা স্পষ্টভাবে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের অধিকার এবং অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে।

গত বছর মেক্সিকোতে ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। আর ২০২০ সালে দেশটিতে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হন। এসব ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় অর্ধেক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

আর্টিকেল ১৯ এর তথ্যমতে, মেক্সিকোতে এ বছরের প্রথমার্ধে সাংবাদিকদের ওপর মোট ৩৩১টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বেশিরভাগকেই ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হয়। এছাড়া একই সময়ে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রিপোর্ট করায় অনেককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

সংস্থাটির মতে, ২০১৮ সালে মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো যখন ক্ষমতায় ছিলেন, সে সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ৫১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। 

চলতি বছর দেশটিতে চারজন সাংবাদিককে জোরপূর্বক দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত করা হয়। এছাড়াও বছরের প্রথমার্ধে দুজনকে দেশের বাইরে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

এদিকে, মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর বারবার বলছেন, তার সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো রকম আক্রমণ করে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, আর্টিকেল ১৯ এর অভিযোগ, এ বছরের প্রথমার্ধে সংবাদমাধ্যমের ওপর হওয়া ১২৮টি হামলার বেশিরভাগের পেছনেই রাষ্ট্রীয় মদদ ছিলো। ২০০৭ সাল থেকে দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এ প্রবণতা চলে আসছে।


ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা
ইরানে নারীদের পোষাক স্বাধীনতার দাবীতে আন্দোলনকারী। ছবি: আল-জাজিরা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির ‘গাস্ত-ই এরশাদ’ বাহিনী বা নৈতিকতা পুলিশ বিভাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। গত সোমবার কানাডার অটোয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়া আন্দোলনকারীদের ওপর ইসলামিক রিপাবলিকটির সরকারের নজিরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা, প্রজাতন্ত্রের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংস্থা এর আওতায় পড়বে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কুর্দি তরুণীর মৃত্যুর দায় দেশটির নৈতিকতা পুলিশ ইউনিটের। এই মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভরত নারীদের পুলিশের নির্বিচার দমন-পীড়নের ঘটনায় এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সঠিকভাবে হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে নরওয়ের অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: গণভোটের ফলাফল শুক্রবার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: গণভোটের ফলাফল শুক্রবার
লুগানস্কে গণভোটের লিফলেট বিতরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের চার অঞ্চলে গণভোটের ফলাফল আগামী শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করতে পারেন বলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ধারণা করছে। রুশপন্থিদের নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত দিনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এ গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি বলে তীব্র নিন্দা করেছে। তবে রুশ শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে গণভোটকে বাতিল করতে পারেননি তারা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু করে রুশপন্থিরা। বিবিসি জানায়, প্রথম চার দিনে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, রুশপন্থি ভোটকর্মীরা সশস্ত্র রুশ সেনাদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের শেষ দিনে ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য স্থানীয় ৪০ লাখ ভোটারকে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্ভবত আগামী শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামন্টের সামনে গণভোটের ফলাফল তুলে ধরবেন । ব্রিটিশ মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার নেতারা প্রায় নিশ্চিতভাবে আশা করছেন, ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ার অংশ করার ঘোষণা আসলে চলমান যুদ্ধের পক্ষে দেশে জনসমর্থন বাড়বে।

ইরানের নির্মিত ড্রোন ধ্বংস

ওডেসা বন্দরনগরীতে ইরানের নির্মিত চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী । তারা জানায়, ইরানের নির্মিত শহীদ-১৩৬ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা করা হয়েছে। আল-জাজিরা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ওডেসায় হামলার মাত্রা বেড়েছে। কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের অভিযোগ, রাশিয়া যুদ্ধে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে। তবে মস্কো বা তেহরান তা স্বীকার করেনি। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা জাপোরিঝিয়া এবং মাইকোলেভে রাশিয়ার একাধিক রকেট হামলার খবর মিলেছে। এতে কয়েকটি আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ছুড়লে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব কী হবে

রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ছুড়লে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব কী হবে
ছবি: সংগৃহীত
মৌসুমী সাহা
প্রকাশিত

মৌসুমী সাহা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের হুমকির মতো একটি বক্তব্য দিয়েছেন। আর সেটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোয় শোরগোল পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পুতিন এমন কিছু করলে পরিণতি ভালো হবে না।

তবে প্রশ্ন হলো- পুতিন যদি পারমাণবিক বিধ্বংস শুরু করেন, বাইডেন শেষ পর্যন্ত কী করতে পারবেন? যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সমরবিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এনবিসি নিউজ কথা বলেছে। তারা বলেছেন, রাশিয়া যদি কোনো ইউক্রেনীয় শহরে পরমাণু বোমা ফেলে এবং আশপাশে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আকাশ-বাতাস বিষাক্ত করে- তখন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, পশ্চিমাদের রাশিয়াবিরোধী আগ্রাসী নীতি সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে পারমাণবিক হুমকির মুখে রেখেছে। নিজের দেশকে রক্ষার জন্য যেকোনো উপায় বেছে নিতে তিনি পিছপা হবেন না।

পুতিনের ওই বক্তব্যকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের হুমকি বিবেচনা করে পশ্চিমা দেশগুলোয় বিস্তর বাগ্‌বিতণ্ডা ও আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মনে করছে, পুতিনের হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি হতে পারে না। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট অবকাশ আছে।

এর আগে মস্কো টাইমস এক নিবন্ধে লিখেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের আশঙ্কা খুব কম। কিন্তু তাই বলে বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ারও সুযোগ নেই।

এনবিসি নিউজকে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাশিয়ার ক্ষুদ্র ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।

রাশিয়াকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র দিচ্ছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সেনা পাঠায়নি। তারা কেবল মিত্রদের সঙ্গে জোট বেঁধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে একঘরে করে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে আর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়াকে আটকাতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এনবিসিকে বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের হামলার ধরন কেমন হবে তার ওপরই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নির্ভর করবে। রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে পারমাণবিক অস্ত্র ছুড়ে শক্তি দেখাবে নাকি প্রত্যন্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর পারমাণবিক বোমা মারবে, নাকি বড় কোনো ইউক্রেনীয় শহর কিংবা ন্যাটোভুক্ত দেশে পারমাণবিক হামলা করবে সেটাই দেখার বিষয়।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ হামলার শিকার না হলে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের জবাব দেয়া কিংবা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাওয়ার মতো বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

কয়েকজন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিশ্বাস, ইউক্রেনে রাশিয়ার কোনো পারমাণবিক অস্ত্র হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রতিশোধ নেবে, এমন সম্ভাবনা খুব কম। আবার আরেক পক্ষ বলছে, এমন হলে বাইডেন ইউক্রেনে রুশ বাহিনী কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপকারী রাশিয়ার সামরিক ইউনিটের ওপর হামলা চালাবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এমন সামরিক অভিযানে গেলে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া যে মধুর হবে না, তা বলাই বাহুল্য। এতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হবে।

পেন্টাগনের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইভলিন ফারকাস একসময় রাশিয়ায় কাজ করেছেন। বর্তমানে ম্যাককেইন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ফারকাস মনে করেন, রাশিয়া যদি পারমাণবিক অস্ত্রের হামলা করেই বসে তাহলে বাইডেন রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দেবেন। তিনি পুতিনকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করবেন। তবে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ফারকাসের সঙ্গে একমত নন। তারা মনে করেন, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ রাশিয়ার পারমাণবিক হামলার কবলে না পড়লে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক অভিযান চালাবে বলে তারা মনে করেন না। 

এমন কথাবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে, বাইডেন রাশিয়ার সঙ্গে কখনো পূর্ণমাত্রায় পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে চাইবেন না। কারণ, এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও ধ্বংস নেমে আসবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাইডেনকে হয়তো পারমাণবিক যুদ্ধ করতে হবে না। কারণ, তাদের বিশ্বাস, রাশিয়া যদি এ ধরনের কোনো হামলা চালায় তাহলে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ, এমনকি যারা এ যুদ্ধ নিয়ে এখন পর্যন্ত চুপ আছে তারাসহ সবাই একত্রে প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।


পারমাণবিক অস্ত্র: কার ভাণ্ডারে কত শক্তি

পারমাণবিক অস্ত্র: কার ভাণ্ডারে কত শক্তি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

নাহিদ জামান জিহান

নিত্যনতুন মারণাস্ত্র তৈরির মধ্য দিয়ে বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশগুলো নিজেদের সমরশক্তি দেখানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত রয়েছে। এসবের মধ্যে পারমাণবিক বোমা সবচেয়ে বিধ্বংসী ও মানব সভ্যতার জন্য বড় হুমকি। এমন অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলো নিজেদের শক্তি যাচাই করে দেখতে বহু পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণও চালিয়েছে পৃথিবীর বুকে। বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহে তারা নিজেদের এই বিশেষ সামর্থ্যের উল্লেখ করে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে।  

ইউক্রেন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধেও এমন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য মানুষের এমন ভয়কে অনেকটা উসকে দিয়েছে। জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিমারা পারমাণবিক হুমকি দিতে থাকলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার মতো ‘বিপুল অস্ত্রসম্ভার’ রাশিয়ার কাছেও আছে।  

অস্ত্রসম্ভার বলতে পুতিন স্পষ্টত রুশ পারমাণবিক বোমার প্রতিই ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের এই হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি নয় বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মনে করছে। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের মতে, এই যুদ্ধ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন হুমকি এলে গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।  

তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার দেখার পর এ ধরনের অস্ত্র প্রয়োগের চিন্তা পরিবর্তন করা উচিত।

বাইডেন যা-ই বলুন, এই বিধ্বংসী বোমার ব্যবহার খোদ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম করে দেখিয়েছে। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ক্ষত জাপানের ওই দুটি এলাকার মানুষ আজও বয়ে চলেছে। তবে এরপর আর কোথাও মানুষের ওপর এমন বোমা নিক্ষেপ না করলেও যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রাখেনি। বিভিন্ন সময়ে এই বোমার ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা চালাতে তারা সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বেশকিছু ভিডিও চার দশক পর সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

সিএনএন জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বায়ুমণ্ডলে পারমাণবিক বোমার ২১০টি পরীক্ষা চালায়, যার সবগুলোই একাধিক ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত এ রকম ১০ হাজার ফিল্ম সম্প্রতি প্রকাশ (ডি-ক্লাসিফায়েড) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি ভিডিও ইউটিউবে দেখার সুযোগ আছে। এসবের মধ্যে ভূপৃষ্ঠে চালানো বিভিন্ন পরীক্ষার ছবি যেমন আছে, তেমনি আছে বায়ুমণ্ডলে কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে মেঘের মধ্যে চালানো অপারেশন ডোমিনিকের ভিডিও। 

এছাড়া ১৯৪৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও পারমাণবিক বোমা বানাতে পেরেছিল। তারা ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত কাজাখস্তান, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তানে অন্তত ৭২৭টি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এই শক্তির সিংহভাগ চলে আসে রাশিয়ার দখলে। আর তাদের বিজ্ঞানীরা এই বোমার ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণার মধ্য দিয়ে এর আয়তন কমিয়ে বিধ্বংসী সামর্থ্যের ব্যাপ্তি ঘটাতে থাকে। তবে রাশিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার খবর অপ্রকাশিত রাখায় প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায়নি। 

এছাড়া উপমহাদেশের দুই বৈরী প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়েছে। এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম তাদের আণবিক ক্ষমতা অর্জনের খবর বিশ্ববাসীকে জানায়। পাকিস্তানের জন্য এটা ছিল এক অশনি সংকেত। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে হেরে যাবার পর থেকেই পাকিস্তানে চলছিল আণবিক বোমা তৈরির প্রচেষ্টা। ৮০-এর দশকের মাঝে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিও করে পাকিস্তান। ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত প্রথম নিজেদের পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায়। একই মাসে পাকিস্তানও পাঁচটি পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দেয়।  

বিশ্বের আরেক পরাক্রমশালী দেশ চীনের হাতেও রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। ১৯৬৪ সালে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় বেইজিং। এছাড়া ইসরায়েলেরও রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। তবে তারা কখনোই তাদের এই শক্তিমত্তার বিষয়ে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। সবশেষ ২০০৬ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় সাফল্য দেখায় উত্তর কোরিয়া। কিন্তু বিভিন্ন মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়মিত চালালেও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি এখনো প্রকাশ্যে আনেনি উত্তর কোরিয়া।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েনটিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশের হাতে ১৪ হাজার ৯০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে- যার মধ্যে ৬ হাজার ৮০০টির মালিক যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া পারমাণবিক শক্তি নিয়ে জার্মানি, জাপান, সুইডেন, তাইওয়ান, ব্রাজিল, ইরাক, ইরানসহ বেশকটি দেশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


ইতালির নির্বাচনে কট্টরপন্থি মেলোনির দল বিজয়ী

ইতালির নির্বাচনে কট্টরপন্থি মেলোনির দল বিজয়ী
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কট্টর-ডানপন্থি নেতা জর্জিয়া মেলোনি ইতালির নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এতে দেশটিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) প্রধান মেলোনি গতকাল সোমবার বলেছেন, তিনি ইতালির সব নাগরিকের সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

বিবিসি জানায়, গত রোববার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মেলোনির দল বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তারা সবার জন্য সরকার গড়বেন এবং জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না।

রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে গতকাল কথা বলেন মেলোনি। এ সময় তার হাতে ‘ধন্যবাদ ইতালি’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ছিল। সাময়িক ফলাফল অনুযায়ী তিনি ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থি এনরিকো লেত্তার চাইতে মেলোনি অনেক এগিয়ে রয়েছেন।

কট্টরপন্থি দল এফডিআই জনতুষ্টিবাদী ও ইউরোপের সুরক্ষাবাদী আদর্শের রাজনীতি করে। এই দলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের শিকড় রয়েছে বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এ ধরনের কট্টর-ডানপন্থি দল ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল জর্জিয়া মেলোনির দল জিতবে। আর নির্বাচনী ফলাফলে সেরকমই দেখা যাচ্ছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এফডিআই একটি জোটের নেতৃত্ব দেবে।

মেলোনির এ সাফল্যে ইতালির রাজনীতি ও সরকারি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি ইতালি। আর ইউরো জোনের এটি তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সুইডেনে কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কট্টর-ডানপন্থিরা তেমন ভালো করতে না পারলেও ইতালিতে এই আদর্শের দল বিজয়ী হওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। মেলোনির দল বিজয়ী হলেও সরকার গঠন করতে তাদের কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মেলোনি জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয় করেছেন। তার রাজনৈতিক দল ইউরোপের ইহুদি-খ্রিষ্টান ঐতিহ্যের পক্ষে প্রচার চালানোর কথা বলে থাকে। এতে দেশটির সংখ্যালঘু বিভিন্ন গোষ্ঠী উদ্বেগ জানিয়েছে।

মেলোনির ডানপন্থি জোটে মাত্তেও সালভিনির নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থি লিগ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির মধ্য-ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াও রয়েছে। তারা জোটবদ্ধভাবে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টের সিনেট ও চেম্বার অব ডেপুটিজের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

মেলোনির দল এফডিআইয়ের নাটকীয় সাফল্য জোটের অন্য শরিকদের দুর্বলতাকে আড়াল করে দিয়েছে। সালভিনির দল ৯ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছে। আরেক শরিক দল ফোরজা ইতালিয়ার প্রাপ্ত ভোট আরও কম। চার বছর আগে এফডিআই মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিল। তবে এবার তারা জাতীয় ঐক্যের সরকারের বাইরে থাকায় লাভবান হয়েছে। ওই সরকার গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে।

ইতালির পরবর্তী নেতা কে হবেন সেই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা নেবেন। আর তাতে সময় লাগবে। যদিও মেলোনি নিজের ভাবমূর্তি কিছুটা নমনীয় করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন, তার রাজনৈতিক দল প্রাক্তন ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিত্তো মুসোলিনির আদর্শে পরিচালিত বলে দুর্নাম আছে। মেলোনি অবশ্য সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষে কথাবার্তা বলেছেন, আর ইইউবিরোধী বক্তব্য দেয়া থেকেও বিরত ছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি সমকামিতার ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ইউরোপের সীমান্ত সুরক্ষা, অভিবাসীদের রুখতে উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে বড় অঙ্কের ঋণ না দেয়ার পক্ষেও তিনি বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

গত রোববারের ভোটগ্রহণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল- মাত্র ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় এটি ৯ শতাংশ কম। সিসিলি দ্বীপসহ ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল।