সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা বেশিদূর এগোয়নি

রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা বেশিদূর এগোয়নি
ইউক্রেনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত ২৯ জুলাই বৈঠক করে। ফাইল ছবি: রয়টার্স
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উজ্জ্বল ঝাড়বাতির নিচে গত জুনের এক রাতে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়া অঞ্চলের কয়েক ডজন রাষ্ট্রদূত জড়ো হয়েছিলেন। তারা রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপনের আয়োজনে যোগ দেন। তখনও ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর চার মাস পেরোয়নি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া নাম উল্লেখ না করে কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যারা রাশিয়া ও তার সংস্কৃতিকে বাতিল করতে চাইছে। এরপর তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, তথাকথিত রুশবিরোধী ধর্মযুদ্ধের বিরুদ্ধে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ এবং যাবতীয় সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

রাশিয়ার আয়োজনে রাষ্ট্রদূতদের ওই সমাবেশ থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, পশ্চিমা কূটনীতিকরা রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টায় হিমশিম খাচ্ছেন। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর জাতিসংঘে একটি প্রাথমিক নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের বাইরে তারা তেমন কিছু করতে পারেননি।

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ নিয়ে কিছু দেশ স্বভাবতই খুব হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। কারণ প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জাতিসংঘ এ লড়াই থামাতে পারেনি। পশ্চিমা কূটনীতিকরা স্বীকার করেন, তাদের তৎপরতা খুব সীমিত এবং রাশিয়াকে কোণঠাসা করার উদ্যোগে তারা কয়েকটি বৈঠক করার বাইরে তেমন কিছুই করতে পারেননি।

স্বাধীন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ শাখার পরিচালক রিচার্ড গোওয়ান বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে রাশিয়াকে শায়েস্তা করার উপযুক্ত পথ খুঁজে বের করা ততই কঠিন হয়ে পড়ছে।

ক্ষেত্রবিশেষে অতি সামান্য সমর্থন মিলতে পারে, এমন আশঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলো কিছু কিছু উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। কারণ কূটনীতিকরা খেয়াল করেছেন, কয়েকটি প্রস্তাবে ভোটদানে অনাগ্রহী দেশগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। এতে এটা স্পষ্ট যে, প্রকাশ্যে মস্কোর বিরোধিতা করতে অনেক দেশই রাজি নয়। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত জুনে রাশিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তদন্তের জন্য জাতিসংঘে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে মোট ৪৭ সদস্যের প্রায় অর্ধেকে এটার বিরোধিতা করতে পারেন। জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জেনেভা শাখার পরিচালক ওলাফ ওয়েইৎজেক বলেন, দেশগুলো প্রশ্ন করছে: রাশিয়াকে পরাজিত করতে আগ্রহী দেশগুলোর দলে যোগদানের বিষয়টা কি আসলেই বিচক্ষণতার পরিচায়ক হবে?

জেনেভায় রুশ মিশন বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো ভালো করেই জানে যে, রাশিয়ার বৈশ্বিক ক্ষমতার কারণেই তাকে একঘরে করা অসম্ভব।

১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতা আছে। এর মাধ্যমে তারা নিষেধাজ্ঞার মতো যেকোনো বড় পদক্ষেপ আটকে দিতে পারে। পাশাপাশি তারা পশ্চিমা কূটনীতিকদের বিভিন্ন উদ্যোগে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা ভেস্তে দিতে সমর্থ হয়েছে। মানবাধিকার পরিষদ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কারের প্রস্তাবে ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গত এপ্রিলের ভোটাভুটির আগে মস্কো বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে দেয় যে, হ্যাঁ ভোট কিংবা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টিকে তারা অবন্ধুসুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য করবে এবং এটা মস্কোর সঙ্গে ওই নির্দিষ্ট দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ সফল হয়। পক্ষে ৯৩টি দেশ, বিপক্ষে ২৪টি দেশ ভোট দেয় এবং ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড গত জুলাইয়ে মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিকে বলেন, ভুল বুঝিয়ে রাশিয়া কয়েকটি দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা বলেছে, পশ্চিমা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট হয়েছে। অন্তত ১৭টি দেশ রাশিয়ার কৌশলী হুমকি-ধমকির ভয়ে বিরুদ্ধে ভোটদানে বিরত ছিল। এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স


অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব

অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে একাধিক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সরকারবিরোধী তৎপরতার জোরালো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক ইন্ডিয়া জানায়, ইন্টারনেটে নানা খবরের মধ্যে চীনে ‘কিছু একটা ঘটছে’ জাতীয় শিরোনামের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এতে জনসাধারণ কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অথবা সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা থেকে শুরু করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তৎপরতা নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে। এসব আশঙ্কা আরও জোরালো হয় যখন চীনের বিভিন্ন অংশে যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট বাতিল, চীনের প্রেসিডেন্ট চিন পিং বহু দিন জনসমক্ষে অদৃশ্য, রাজধানী বেইজিংয়ের দিকে সামরিক গাড়িবহরের এগিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রভৃতি অনলাইনে বেশি বেশি দেখা যায়। তবে এসব বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিন পিং কি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি?

টুইটারে হাজার হাজার ফলোয়ার আছে এমন বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তার অনুসারী যিনি হচ্ছেন, তার কয়েকটি ছবিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ধরনের খবরের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি। আর টুইটারের এসব অ্যাকাউন্টের অধিকাংশই বেনামি ব্যবহারকারীদের। সামরিক কর্মকাণ্ডের যেসব ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোও অনেকটা ভাসা ভাসা ধরনের। গর্ডন জি চ্যাং নামের একজন লেখক বলেন, চীনে ৫৯ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং অভিমুখে সামরিক যানবাহনের এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যখন অনেক ধোঁয়া বেরিয়ে আসে, তখন বুঝতে হবে আগুন কোথাও না কোথাও আছে নিশ্চয়ই। চীন একটা অস্থিতিশীল জায়গা।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে লেখালেখি করেন সৌরভ ঝা টুইটারে একটি খবর শেয়ার করেছেন, আর সেটি হলো চীনের স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে গত শনিবার কোনো ফ্লাইট ছিল না। এ বিষয়ে ঝার মন্তব্য, এটা চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। লাসা গংগারের অনেক ফ্লাইটও বাতিল করা হচ্ছে। তিব্বতে সামরিক বিমানের আনাগোনা বেড়েছি কি না, যাচাই করে দেখা দরকার।

ঝার বক্তব্যে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। ওই অঞ্চলে গত দুই বছর ধরে ভারত-চীনের সামরিক বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

চীন সম্পর্কে ভালো জানেন এমন অনেকেই বলেছেন, অভ্যুত্থানের এসব খববের অস্তিত্ব এখন অবধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরে, বিশেষত ভারতে, সীমাবদ্ধ আছে- বাস্তবে নেই।

চীন গবেষক আদিল ব্রার বলেন, সি চিন পিং সম্ভবত কোয়ারেন্টাইনে আছেন। উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরখন্দে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন। হয়তো এ কারণেই তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।

সাংবাদিক জাকা জ্যাকব বলেছেন, চীনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে চিন পিংয়ের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে। কাজেই সেখানে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কম। নানা গুজব ছড়ালেও সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা কম, কারণ পিপলস লিবারেশন আর্মি দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের অধীনে কাজ করে। আর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে চিন পিং সেই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা এসব অভ্যুত্থানের গুজব নিয়ে এখনো কিছু লেখেনি। এটি চীন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিন্ন স্বার্থবিষয়ক নানা খবর নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
গত মার্চে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর আগেই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল রোববার স্বল্পপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর পিয়ংইয়ান প্রদেশের তাইচন থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় উৎক্ষেপণ করা হয় বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসির।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি গতিতে ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের মাঝে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বড় ধরনের উসকানি, যা কোরীয় উপদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

উত্তর কোরীয় ওই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর প্রতিক্রিয়ায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজু হামাদা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পিয়ংইয়ংয়ের এমন আচরণ জাপান ও আশপাশের অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

উত্তর কোরিয়া এমন সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল যখন যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসেরও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করার কথা রয়েছে। তার আগে পিয়ংইয়ংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এর আগে নিজেদের পূর্ব উপকূল বরাবর সাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছর জুনের শুরুতে এক দিনে আটটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তিন মাস পর উত্তর কোরিয়া একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। এ ধরনের পরীক্ষা চালানোয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন লঙ্ঘনের দায়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


অধিকৃত ভূখণ্ডের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো: লাভরফ

অধিকৃত ভূখণ্ডের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো: লাভরফ
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হবে তার পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘের অধিবেশনের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়াবে, এমনকি পারমাণবিক হামলা পর্যন্ত চালাতে পারে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আশঙ্কার মধ্যেই শীর্ষ রুশ কূটনীতিকের এমন বক্তব্য এল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিউইয়র্কে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে এবারের সাধারণ অধিবেশনে সবার নজরের কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়া।

কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র নিন্দা সমালোচনাকে ‍উড়িয়ে দিয়ে রুশ বাহিনীর দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূমি রাশিয়ার অংশ বানাতে গণভোট চলছে। লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হলে ইউক্রেন তার ১৫ শতাংশ ভূমি হারাবে। ইউক্রেন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই গণভোটের সপক্ষে কথা বলতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে নব্য নাৎসি শাসনে যারা দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, গণভোটে তাদের মতামতের সম্মান দেবে রাশিয়া। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে লাভরফ বলেন, রাশিয়ার সংবিধানের আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডসহ ভবিষ্যতে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোও রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সুরক্ষার অধীনে রয়েছে। তাই সব অঞ্চলের সুরক্ষায় রাশিয়ার সব আইন, মতবাদ, ধারণা এবং কৌশলগুলো প্রযোজ্য।

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ৭২৪

রাশিয়া সরকারের আংশিক সেনাসমাবেশের প্রতিবাদে যুদ্ধবিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অধিকার সংস্থা  ওভিডি-ইনফো জানায়, গত শনিবার ৩২টি শহরে ৭২৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মিছিল করা নিষিদ্ধ। এরপরও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ  চলছে।  ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়া সরকারের তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের ঘোষণার পর এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হলেন। বিবিসি জানায়, রির্জাভ সেনা তলবের ঘোষণার পর থেকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে দেশ ছাড়ার হিড়িক লেগেছে। জর্জিয়া সীমান্তে ১৮ মাইল লম্বা গাড়ির সারি দেখা গেছে। তবে ক্রেমলিন এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে মন্তব্য করেছে। রাশিয়ার নতুন নিয়মানুযায়ী, কোনো সেনা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।

ইসরায়েলের অস্ত্র পাননি জেলেনস্কি

রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়নি ইসরায়েল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরায়েলকে পাশে পায়নি কিয়েভ। বিষয়টিতে হতবাক হয়েছেন জেলেনস্কি। ফ্রান্সের সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি জানি না ইসরায়েলের কী হয়েছে। আমি সত্যি বলছি, সত্যি বলছি, আমি হতবাক, কারণ আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেননি।’

রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ‘লজিস্টিক অপারেশন’ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভকে  রসদ ‘সরবরাহে ব্যর্থতা’র কারণে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিজিনেৎসেভকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামের এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।

বিবিসি জানায়, ২০০৮ সাল থেকে জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভ রুশ সামরিক বাহিনীর রসদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি সিরিয়ায় মোতায়েন করা রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধে ৬৭ বছর বয়সী বুলগাকবের ক্ষমতা অনেকটা কমে গেছে। অনেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার জন্য তাকে দায়ী করেন।

কঠোর শাস্তির বিধান

রুশ সেনারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে কিংবা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে। রাশিয়া গত শনিবার কঠিন সাজার বিধান ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া কঠোর শাস্তির আইন পাস করল। আগের আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধের জন্য ৫ বছরের সাজার বিধান ছিল। 

রাশিয়ার কঠোর শাস্তির আইন পাসের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেনেশুনে তার দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে পাঠাচ্ছেন।’ তিনি আবারও ইউক্রেনে লড়াইরত রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের সঙ্গে সভ্য আচরণ করা হবে। কেউ জানবে না কোন পরিস্থিতিতে আপনারা আত্মসমপর্ণ করেছেন।


ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা

ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা
রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে তার মধ্যে লুগানস্কও রয়েছে। ছবি: টুইটার
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • রাশিয়ার অংশ হতে গণভোট

রাশিয়ার অংশ হতে দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ভোট নিতে সশস্ত্র রুশ সেনারা ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছে বলে খবর মিলেছে। এক ইউক্রেনীয় নারী বিবিসিকে বলেন, রুশ সেনারা ভোটারদের প্রশ্ন করে মৌখিক উত্তর শুনে নিজেরাই ফরম পূরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ ওই গণভোটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করতে রাশিয়া এমন ধোঁকাবাজির গণভোটের আয়োজন করছে।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার অংশ হতে গত শুক্রবার থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনে গণভোট শুরু হয়েছে। চারটি অঞ্চলই রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দখল করে রেখেছে। কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো এ গণভোটকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে। চারটি অঞ্চল নিয়ে নিলে ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার হয়ে যাবে। পাঁচ দিনব্যাপী গণভোটে প্রথম চার দিন ভোটারদের ঘরে গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হবে। পঞ্চম দিনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসার সুযোগ পাবেন।  জনগণের নিরাপত্তার জন্যই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে রাশিয়া দাবি করেছে। এদিকে দক্ষিণ খেরসনে শহরে মাঝখানে  ব্যালট বাক্স নিয়ে স্বশস্ত্র পাহারাদাররা লোকজনের ভোট সংগ্রহ করছে। জাপোরিঝিয়ার মেলটিপোল শহরের এক নারী জানান, তার বাড়িতে  রুশ সেনাদের সঙ্গে স্থানীয় দুই ভোটকর্মী এসে ভোট নিয়ে যায়। বাড়িপ্রতি শুধু একজনেরই ভোট নেয়া হচ্ছে। ওই  নারী জানান, তার বাবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। এতে তারা আতঙ্কিত রয়েছেন যে, ভোটের কারণে তারা হয়তো বাড়িছাড়া হতে পারেন। ইউক্রেনীয় সরকারের এক উপদেষ্টা বলেন, রাশিয়ার এমন  তথাকথিত গণভোটের আয়োজন বন্ধ করাটা খুব কঠিন। অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষের ভোট নেয়া হচ্ছে।

এদিকে জি-৭ জোট জানায়, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে জি-৭ জোট গঠিত।

বিশ্বের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ‘প্রহসনের গণভোটের’ নিন্দা জানাতে বিশ্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া গত শুক্রবার প্রাত্যহিক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্ব অবশ্যই এমন প্রহসনের গণভোটের ব্যাপারে কঠোর নিন্দা জানাবে।’

স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার বলেছেন, ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়ার অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা স্বীকৃতি দেবে না। তিনি গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। হোয়াইট হাউস থেকে বাইডেনের এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে যেন আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় সে লক্ষ্যে মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে।  ইউক্রেন ও এর জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বাইডেন জানান।

পুতিনের হুমকি ধাপ্পাবাজি নয়: ইইউ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র হামলার হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি নয় বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের মতে, যুদ্ধ বিপজ্জনক সময়ে পৌঁছেছে। রুশ বাহিনীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং পুতিনের এমন বেপরোয়া হুমকি খুবই খারাপ। বোরেল বলেন, এমন বিপজ্জনক হুমকি আসলে তা গুরুত্বের সঙ্গেই নেয়া উচিত।


অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়

অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়
কাশ্মীরের যাযাবর বাকারওয়াল উপজাতি।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ভারতশাসিত কাশ্মীরের একটি যাযাবর উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর নাম বাকারওয়াল। কিন্তু বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের মুখে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ধরে রাখতে লড়াই করছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনযুদ্ধের ছবি।  

জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে যাযাবরদের সংখ্যা কম নয়, প্রায় ৩৪ লাখ। তাদেরই একটি অংশ এই বাকারওয়াল জনগোষ্ঠী, যারা মূলত গবাদিপশু লালন-পালন করে। জম্মু ও কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে দারদউর জঙ্গলে বাকারওয়াল উপজাতির আবাস রয়েছে। তারা গ্রীষ্মকালে কাশ্মীরে ছয় মাস কাটায়, এপ্রিল মাসে উপত্যকায় চলে যায়। আবার অক্টোবরের মধ্যে তারা শীতের মাসগুলো কাটানোর জন্য জম্মুর সমভূমিতে ফিরে আসে।

সংবিধানে স্বীকৃত উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হিসেবে উল্লেখ করে ২০০১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাকারওয়ালদের ‘তফসিলি উপজাতি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।  তবে তাদের পালিত গবাদিপশুর ওপর বন্যপ্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বাকারওয়ালরা সমস্যায় পড়েছে। তাদের গবাদিপশু বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান এই জনগোষ্ঠীর একজন রাখাল লিয়াকত খান। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাইরে থেকে এসে আমাদের জীবনের সৌন্দর্যের ছবি আঁকার চেষ্টা করেন কিন্তু আসলে আমাদের জীবন ধৈর্য ও দুর্দশার গল্প।’

বাকারওয়ালদের আরেকটি প্রধান উদ্বেগ হলো বনভূমিতে তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ। অরণ্যবাসী শতাধিক পরিবারকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য গত বছর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে তারা কয়েক দশক ধরে বসবাস করছে। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি বাড়িও ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে সম্প্রদায়টি ওই এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘরে বাস করছে। অস্তিত্ব ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা অর্জন ও সহজ জীবনযাপনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হচ্ছে। প্রশাসন বনাঞ্চলে এই উপজাতি শিশুদের জন্য কমিউনিটি স্কুলও স্থাপন করেছে।