মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

রুশ হামলার ৬ মাস: তীব্র হচ্ছে ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট

রুশ হামলার ৬ মাস: তীব্র হচ্ছে ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট
ইউরোপের বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

করোনা মহামারির দুই বছরের ভয়াবহ বির্পযয় এখনও পুরোপুরি সামলিয়ে উঠতে পারেননি ইউরোপের জনগণ। এরই মধ্যে তাদের জীবনে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দুই দেশের যুদ্ধ ইউরোপের সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। করোনায় শুরু হওয়া সংকটগুলো যেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয়দের জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা প্রায় নিশ্চিত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। এদিকে শীত এসে পড়ছে অথচ নেই পর্যাপ্ত জ্বালানি ।

খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ক্যারেফোরের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার বোমপার্ড বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকতেই আমরা এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। নিম্ন মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে।’

অনেকে গত বছর পূর্ভাবাস দিয়েছিলেন, ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে। অথচ যুদ্ধ সব হিসাবনিকাশ নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। এখন আসছে শীতে অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপ।

আগে কখনও ৯ শতাংশের মতো মুদ্রাস্ফীতি দেখেনি ইউরো জোনের দেশগুলো। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর ওপর মারাত্মক খরা, পরিবহন ব্যয় বাড়া পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ব্যবসা ও সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের।

আরও ভয়ানক হামলা

রাশিয়া আসছে দিনগুলোতে ইউক্রেনের সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোতে আরও ভয়ানক হামলা চালাতে যাচ্ছে বলে সতর্কবাতা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সতর্কবার্তা প্রকাশ করে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা এল। এবার অবশ্য যুদ্ধের কারণে স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ইউক্রেন। আজ বুধবার ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩১তম বাষির্কী । ১৯৯১ সালের ২৪ আগস্ট সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বেরিয়ে যায় ইউক্রেন। 

আজ একদিকে যেমন ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস অন্যদিকে রাশিয়ার আক্রমণের ছয় মাস পার হবে। যুদ্ধের বিভীষিকায় এবার ইউক্রেনবাসীর মনে স্বাধীনতা দিবসের কোনো আনন্দ নেই। রাশিয়ার আক্রমণ থেকে জনগণকে বাঁচাতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ বাতিল করেছে ইউক্রেন সরকার।


পারমাণবিক অস্ত্র: কার ভাণ্ডারে কত শক্তি

পারমাণবিক অস্ত্র: কার ভাণ্ডারে কত শক্তি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

নাহিদ জামান জিহান

নিত্যনতুন মারণাস্ত্র তৈরির মধ্য দিয়ে বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশগুলো নিজেদের সমরশক্তি দেখানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত রয়েছে। এসবের মধ্যে পারমাণবিক বোমা সবচেয়ে বিধ্বংসী ও মানব সভ্যতার জন্য বড় হুমকি। এমন অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলো নিজেদের শক্তি যাচাই করে দেখতে বহু পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণও চালিয়েছে পৃথিবীর বুকে। বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহে তারা নিজেদের এই বিশেষ সামর্থ্যের উল্লেখ করে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে।  

ইউক্রেন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধেও এমন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য মানুষের এমন ভয়কে অনেকটা উসকে দিয়েছে। জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিমারা পারমাণবিক হুমকি দিতে থাকলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার মতো ‘বিপুল অস্ত্রসম্ভার’ রাশিয়ার কাছেও আছে।  

অস্ত্রসম্ভার বলতে পুতিন স্পষ্টত রুশ পারমাণবিক বোমার প্রতিই ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের এই হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি নয় বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মনে করছে। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের মতে, এই যুদ্ধ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন হুমকি এলে গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।  

তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার দেখার পর এ ধরনের অস্ত্র প্রয়োগের চিন্তা পরিবর্তন করা উচিত।

বাইডেন যা-ই বলুন, এই বিধ্বংসী বোমার ব্যবহার খোদ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম করে দেখিয়েছে। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ক্ষত জাপানের ওই দুটি এলাকার মানুষ আজও বয়ে চলেছে। তবে এরপর আর কোথাও মানুষের ওপর এমন বোমা নিক্ষেপ না করলেও যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রাখেনি। বিভিন্ন সময়ে এই বোমার ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা চালাতে তারা সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বেশকিছু ভিডিও চার দশক পর সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

সিএনএন জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বায়ুমণ্ডলে পারমাণবিক বোমার ২১০টি পরীক্ষা চালায়, যার সবগুলোই একাধিক ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত এ রকম ১০ হাজার ফিল্ম সম্প্রতি প্রকাশ (ডি-ক্লাসিফায়েড) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি ভিডিও ইউটিউবে দেখার সুযোগ আছে। এসবের মধ্যে ভূপৃষ্ঠে চালানো বিভিন্ন পরীক্ষার ছবি যেমন আছে, তেমনি আছে বায়ুমণ্ডলে কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে মেঘের মধ্যে চালানো অপারেশন ডোমিনিকের ভিডিও। 

এছাড়া ১৯৪৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও পারমাণবিক বোমা বানাতে পেরেছিল। তারা ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত কাজাখস্তান, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তানে অন্তত ৭২৭টি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এই শক্তির সিংহভাগ চলে আসে রাশিয়ার দখলে। আর তাদের বিজ্ঞানীরা এই বোমার ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণার মধ্য দিয়ে এর আয়তন কমিয়ে বিধ্বংসী সামর্থ্যের ব্যাপ্তি ঘটাতে থাকে। তবে রাশিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার খবর অপ্রকাশিত রাখায় প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায়নি। 

এছাড়া উপমহাদেশের দুই বৈরী প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়েছে। এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম তাদের আণবিক ক্ষমতা অর্জনের খবর বিশ্ববাসীকে জানায়। পাকিস্তানের জন্য এটা ছিল এক অশনি সংকেত। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে হেরে যাবার পর থেকেই পাকিস্তানে চলছিল আণবিক বোমা তৈরির প্রচেষ্টা। ৮০-এর দশকের মাঝে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিও করে পাকিস্তান। ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত প্রথম নিজেদের পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায়। একই মাসে পাকিস্তানও পাঁচটি পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দেয়।  

বিশ্বের আরেক পরাক্রমশালী দেশ চীনের হাতেও রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। ১৯৬৪ সালে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় বেইজিং। এছাড়া ইসরায়েলেরও রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। তবে তারা কখনোই তাদের এই শক্তিমত্তার বিষয়ে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। সবশেষ ২০০৬ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় সাফল্য দেখায় উত্তর কোরিয়া। কিন্তু বিভিন্ন মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়মিত চালালেও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি এখনো প্রকাশ্যে আনেনি উত্তর কোরিয়া।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েনটিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশের হাতে ১৪ হাজার ৯০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে- যার মধ্যে ৬ হাজার ৮০০টির মালিক যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া পারমাণবিক শক্তি নিয়ে জার্মানি, জাপান, সুইডেন, তাইওয়ান, ব্রাজিল, ইরাক, ইরানসহ বেশকটি দেশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


ইতালির নির্বাচনে কট্টরপন্থি মেলোনির দল বিজয়ী

ইতালির নির্বাচনে কট্টরপন্থি মেলোনির দল বিজয়ী
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কট্টর-ডানপন্থি নেতা জর্জিয়া মেলোনি ইতালির নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এতে দেশটিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) প্রধান মেলোনি গতকাল সোমবার বলেছেন, তিনি ইতালির সব নাগরিকের সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

বিবিসি জানায়, গত রোববার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মেলোনির দল বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তারা সবার জন্য সরকার গড়বেন এবং জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না।

রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে গতকাল কথা বলেন মেলোনি। এ সময় তার হাতে ‘ধন্যবাদ ইতালি’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ছিল। সাময়িক ফলাফল অনুযায়ী তিনি ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থি এনরিকো লেত্তার চাইতে মেলোনি অনেক এগিয়ে রয়েছেন।

কট্টরপন্থি দল এফডিআই জনতুষ্টিবাদী ও ইউরোপের সুরক্ষাবাদী আদর্শের রাজনীতি করে। এই দলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের শিকড় রয়েছে বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এ ধরনের কট্টর-ডানপন্থি দল ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল জর্জিয়া মেলোনির দল জিতবে। আর নির্বাচনী ফলাফলে সেরকমই দেখা যাচ্ছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এফডিআই একটি জোটের নেতৃত্ব দেবে।

মেলোনির এ সাফল্যে ইতালির রাজনীতি ও সরকারি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি ইতালি। আর ইউরো জোনের এটি তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সুইডেনে কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কট্টর-ডানপন্থিরা তেমন ভালো করতে না পারলেও ইতালিতে এই আদর্শের দল বিজয়ী হওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। মেলোনির দল বিজয়ী হলেও সরকার গঠন করতে তাদের কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মেলোনি জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয় করেছেন। তার রাজনৈতিক দল ইউরোপের ইহুদি-খ্রিষ্টান ঐতিহ্যের পক্ষে প্রচার চালানোর কথা বলে থাকে। এতে দেশটির সংখ্যালঘু বিভিন্ন গোষ্ঠী উদ্বেগ জানিয়েছে।

মেলোনির ডানপন্থি জোটে মাত্তেও সালভিনির নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থি লিগ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির মধ্য-ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াও রয়েছে। তারা জোটবদ্ধভাবে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টের সিনেট ও চেম্বার অব ডেপুটিজের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

মেলোনির দল এফডিআইয়ের নাটকীয় সাফল্য জোটের অন্য শরিকদের দুর্বলতাকে আড়াল করে দিয়েছে। সালভিনির দল ৯ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছে। আরেক শরিক দল ফোরজা ইতালিয়ার প্রাপ্ত ভোট আরও কম। চার বছর আগে এফডিআই মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিল। তবে এবার তারা জাতীয় ঐক্যের সরকারের বাইরে থাকায় লাভবান হয়েছে। ওই সরকার গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে।

ইতালির পরবর্তী নেতা কে হবেন সেই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা নেবেন। আর তাতে সময় লাগবে। যদিও মেলোনি নিজের ভাবমূর্তি কিছুটা নমনীয় করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন, তার রাজনৈতিক দল প্রাক্তন ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিত্তো মুসোলিনির আদর্শে পরিচালিত বলে দুর্নাম আছে। মেলোনি অবশ্য সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষে কথাবার্তা বলেছেন, আর ইইউবিরোধী বক্তব্য দেয়া থেকেও বিরত ছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি সমকামিতার ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ইউরোপের সীমান্ত সুরক্ষা, অভিবাসীদের রুখতে উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে বড় অঙ্কের ঋণ না দেয়ার পক্ষেও তিনি বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

গত রোববারের ভোটগ্রহণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল- মাত্র ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় এটি ৯ শতাংশ কম। সিসিলি দ্বীপসহ ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল।


রাশিয়ার স্কুলে হামলা, শিশুসহ নিহত ১৫

রাশিয়ার স্কুলে হামলা, শিশুসহ নিহত ১৫
রাশিয়ার ইজেভস্ক শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী এক বন্দুকধারী হামলা করে। ছবি: বিবিসি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রাশিয়ার ইজেভস্ক শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী এক বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ২১ জন আহত হয়েছেন। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রুশ গণমাধ্যম আরটি এ খবর জানিয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মীরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকক্সান্দর ব্রেচালভও সেখানে গেছেন। বিবিসি জানায়, হামলার সময় স্কুলটিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ছিল। নিহতদের মধ্যে ৭ শিশু, দুজন শিক্ষক এবং দুজন নিরাপত্তা কর্মীও ছিলেন।

রুশ গণমাধ্যম তাস-এ প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ভেতরের দেয়ালে ও জানালায় গুলির ফুটো, মেঝেতে রক্তের দাগ এবং শিশুরা ডেস্কের নিচে কুঁকড়ে বসে আছে। নিরাপত্তা কর্মীরা পৌঁছানোর পর সব শিশু, কর্মচারী ও শিক্ষকদের স্কুল ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাশিয়ার গণমাধ্যমে গোলাগুলির সময় স্কুলভবনের ভেতরে যে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে সংক্রান্ত বেশকিছু ভিডিও দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় একজন আইনপ্রণেতা বলেন, হামলাকারীর নাম আরতেম কাজানতেভ। হামলাকারী নিজেই বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এই হামলায় তার সঙ্গে আর কেউ ছিলো না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে তাকে ক্লাসরুমে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। সে একটি নাৎসি প্রতীক সংবলিত টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় ছিলো এবং বালাকলাভা অর্থাৎ চোখ ছাড়া মুখমণ্ডল ও ঘাড় ঢেকে রাখা একটি কাপড় পরে ছিলো। তার সঙ্গে ছিলো দুটি পিস্তল।  হামলাকারী ওই স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন অঞ্চলটির প্রশাসনিক প্রধান। যে স্কুলে এই হামলা হয়েছে, সেটি ৬ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দার ইজেভস্ক শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, এর কাছেই একাধিক সরকারি ভবন আছে।


অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব

অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে একাধিক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সরকারবিরোধী তৎপরতার জোরালো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক ইন্ডিয়া জানায়, ইন্টারনেটে নানা খবরের মধ্যে চীনে ‘কিছু একটা ঘটছে’ জাতীয় শিরোনামের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এতে জনসাধারণ কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অথবা সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা থেকে শুরু করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তৎপরতা নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে। এসব আশঙ্কা আরও জোরালো হয় যখন চীনের বিভিন্ন অংশে যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট বাতিল, চীনের প্রেসিডেন্ট চিন পিং বহু দিন জনসমক্ষে অদৃশ্য, রাজধানী বেইজিংয়ের দিকে সামরিক গাড়িবহরের এগিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রভৃতি অনলাইনে বেশি বেশি দেখা যায়। তবে এসব বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিন পিং কি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি?

টুইটারে হাজার হাজার ফলোয়ার আছে এমন বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তার অনুসারী যিনি হচ্ছেন, তার কয়েকটি ছবিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ধরনের খবরের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি। আর টুইটারের এসব অ্যাকাউন্টের অধিকাংশই বেনামি ব্যবহারকারীদের। সামরিক কর্মকাণ্ডের যেসব ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোও অনেকটা ভাসা ভাসা ধরনের। গর্ডন জি চ্যাং নামের একজন লেখক বলেন, চীনে ৫৯ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং অভিমুখে সামরিক যানবাহনের এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যখন অনেক ধোঁয়া বেরিয়ে আসে, তখন বুঝতে হবে আগুন কোথাও না কোথাও আছে নিশ্চয়ই। চীন একটা অস্থিতিশীল জায়গা।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে লেখালেখি করেন সৌরভ ঝা টুইটারে একটি খবর শেয়ার করেছেন, আর সেটি হলো চীনের স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে গত শনিবার কোনো ফ্লাইট ছিল না। এ বিষয়ে ঝার মন্তব্য, এটা চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। লাসা গংগারের অনেক ফ্লাইটও বাতিল করা হচ্ছে। তিব্বতে সামরিক বিমানের আনাগোনা বেড়েছি কি না, যাচাই করে দেখা দরকার।

ঝার বক্তব্যে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। ওই অঞ্চলে গত দুই বছর ধরে ভারত-চীনের সামরিক বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

চীন সম্পর্কে ভালো জানেন এমন অনেকেই বলেছেন, অভ্যুত্থানের এসব খববের অস্তিত্ব এখন অবধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরে, বিশেষত ভারতে, সীমাবদ্ধ আছে- বাস্তবে নেই।

চীন গবেষক আদিল ব্রার বলেন, সি চিন পিং সম্ভবত কোয়ারেন্টাইনে আছেন। উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরখন্দে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন। হয়তো এ কারণেই তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।

সাংবাদিক জাকা জ্যাকব বলেছেন, চীনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে চিন পিংয়ের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে। কাজেই সেখানে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কম। নানা গুজব ছড়ালেও সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা কম, কারণ পিপলস লিবারেশন আর্মি দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের অধীনে কাজ করে। আর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে চিন পিং সেই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা এসব অভ্যুত্থানের গুজব নিয়ে এখনো কিছু লেখেনি। এটি চীন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিন্ন স্বার্থবিষয়ক নানা খবর নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
গত মার্চে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর আগেই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল রোববার স্বল্পপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর পিয়ংইয়ান প্রদেশের তাইচন থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় উৎক্ষেপণ করা হয় বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসির।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি গতিতে ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের মাঝে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বড় ধরনের উসকানি, যা কোরীয় উপদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

উত্তর কোরীয় ওই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর প্রতিক্রিয়ায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজু হামাদা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পিয়ংইয়ংয়ের এমন আচরণ জাপান ও আশপাশের অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

উত্তর কোরিয়া এমন সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল যখন যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসেরও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করার কথা রয়েছে। তার আগে পিয়ংইয়ংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এর আগে নিজেদের পূর্ব উপকূল বরাবর সাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছর জুনের শুরুতে এক দিনে আটটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তিন মাস পর উত্তর কোরিয়া একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। এ ধরনের পরীক্ষা চালানোয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন লঙ্ঘনের দায়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।