শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

‘মেরে ফেলুন, তবু মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবেন না’

‘মেরে ফেলুন, তবু মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবেন না’
দিল্লির একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে ৪ বছর বয়সী ইয়াসমিন। পড়াশোনার সুযোগ তার নেই। ছবি: বিবিসি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

চার বছরের জীবনের পুরোটাই ইয়াসমিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছে। বাংলাদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে তার জন্ম। পূর্বসূরিদের ঠিকানা মিয়ানমারের গ্রামে তার ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি অপরিচ্ছন্ন ঘর এখন তার আশ্রয়।

লাখো রোহিঙ্গার মতো ইয়াসমিনের মা-বাবাও ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যার অভিযান থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের একটি নৃগোষ্ঠী। তাদের অনেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতে গিয়ে শরণার্থীর জীবন বেছে নেন। তারপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। জাতিসংঘের বিবেচনায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশহীন জনগোষ্ঠী।

ইয়াসমিনের বাবা রহমান মিয়ানমারে ব্যবসা করতেন। সেনাবাহিনী যখন জনসাধারণের ওপর নির্মম আক্রমণ করে, তিনিও তখন পালিয়ে দেশ ছাড়েন। সেই সময় সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছিল। টানা কয়েকদিন হেঁটে চলার পর রহমান ও তার স্ত্রী মাহমুদা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে পৌঁছান। সেখানে খাবারের খুব অভাব ছিল তখন।

মিয়ানমারে স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে রহমান শঙ্কিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশে পাড়ি দেয়ার এক বছর পর ইয়াসমিনের জন্ম হয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে। কয়েক হাজার শরণার্থীকে প্রত্যন্ত দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রহমান ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেই তার শিশুসন্তান ভালো থাকবে। তাই ২০২০ সালে ইয়াসমিনের দুই বছর বয়সে পরিবারটি ভারতে পাড়ি জমায়। শরণার্থীবিয়ষক একাধিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের অনেকে ২০১২ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছে।

বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গারা সেখানে মোটামুটি ভালোভাবেই দিন কাটাচ্ছেন, আর তাদের নিয়ে বিতর্কও কম। তবে সম্প্রতি ভারতের একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং সুরক্ষা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছেন। এরপর দিল্লিতে তাদের উপস্থিতির বিষয়টি সংবাদের শিরোনাম হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা অস্বীকার করে এবং তাদের অবৈধ বিদেশি আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন অথবা বন্দিশিবিরে পাঠানো উচিত বলে জানিয়ে দেয়। সরকারের কথাবার্তায় এ রকম পরিবর্তন দেখে রহমানদের মতো আরও অনেক পরিবারে হতাশা ও অস্থিরতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবর্ণ মনে হচ্ছে। ভারত সরকার আমাদের চায় না। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেয়ে তারা বরং আমাদের মেরে ফেলুক।’

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে কোনো দেশই নিতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিয়ষক কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটকে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।’

তবে জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়াটা রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ হবে না। কারণ সেখানে বিরোধ এখনও চলমান রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখল করে নেয়। জান্তা সরকারের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে অতীতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বিপজ্জনকভাবে সমুদ্র পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। রহমানের মতো কোতিজা বেগমও ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে আসেন। না খেয়ে তিন দিন হেঁটে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। তিন সন্তান নিয়ে তিনি কক্সবাজারের একটি আশ্রয়কেন্দ্রের একটি কক্ষে থাকেন। তাদের মাথার ওপরে পলিথিনের ছাদ, তাতে বর্ষার পানি আটকায় না। ভয়াবহতার স্মৃতি এখনও আছে কোতিজার, ‘সেনারা আমাদের ঘরে ঢুকে অত্যাচার চালায়। তারা গুলি চালাতে শুরু করলে আমরা দৌড়ে পালাই। শিশুদের ধরে ধরে নদীতে ছুড়ে ফেলা হয়। সামনে যাকে পেয়েছে, তারা মেরে ফেলেছে।’

অন্য শরণার্থীদের মতো কোতিজাও খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্রের জন্য বিভিন্ন এনজিওর ওপর নির্ভরশীল। খুবই সীমিত পরিমাণে চাল-ডাল তাদের দেয়া হয়। বলেন, ‘বাচ্চাদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে পারি না। ভালো কাপড়চোপড় আর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বন্দোবস্তও নেই।’

মাঝে মাঝে কোতিজা রেশন সামগ্রী বিক্রি করে সন্তানদের জন্য কলম কেনেন। জাতিসংঘ সম্প্রতি জানায়, আন্তর্জাতিক তহবিল সরবরাহে টান পড়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কারণ, এই জনগোষ্ঠী টিকে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

কোতিজা আরও বলেন, ‘তার শিশুসন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে যায়। কিন্তু তাদের কোনো উন্নতি নেই। তারা ভালো শিক্ষা পাচ্ছে না।’

কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুরা মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা করে, বাংলাদেশের পাঠ্যক্রমে নয়। তারা একদিন নিজ দেশে ফিরে যাবে বলেই এমন ব্যবস্থা। কেউ কেউ মনে করেন, রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশিদের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যেতে না পারে, সে জন্যই পৃথক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে শিশুদের পড়ানো হচ্ছে।

দিল্লির বাসিন্দা রহমানও তার সন্তান ইয়াসমিনকে কোলে নিয়ে বলেন, ‘আমি ওকে সঠিক শিক্ষা ও উন্নততর জীবন দেয়ার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু পারি না। আমি তো এখানে চুরি করতে আসিনি, নিজের জীবন বাঁচাতে এসেছি।’

সূত্র: বিবিসি


ইরানে বিক্ষোভে নিহত ১৭

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ১৭
নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় সমন্বিত প্রতিরোধ গড়েছেন ইরানি নারী-পুরুষরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

পুলিশ হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ইরানে টানা ছয় রাতের বিক্ষোভে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

তাদের স্ক্রলে দেখানো হয়, গত কয়েক দিনের ঘটনায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্যসহ ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তথ্যটি সংবাদ আকারে প্রচার করা হয়নি। আগের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছিলেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাব্রিজ ও কাজভিন এবং রাজাভি খোরাসান প্রদেশের মাশহাদ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

ফারস প্রদেশের শিরাজে বিক্ষোভ চলাকালীন গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সংস্থাগুলো জানিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছে ইরান সরকার।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বরে নৈতিকতা পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো থেকে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব পরেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, তিনি কোমায় চলে যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, হেফাজতের নামে মাহসাকে সেখানে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। গত বুধবারও রাজধানী তেহরানে নারীরা মাথার স্কার্ফ পুড়িয়ে ফেলে ‘পোশাকের শালীনতা’র নামে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ জানায়। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।


প্রায় ২০০ তিমির মৃত্যু যে কারণে

প্রায় ২০০ তিমির মৃত্যু যে কারণে
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যের একটি সৈকতে প্রায় দুই শ পাইলট তিমির মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা গত বৃহস্পতিবার জানান, আটকে পড়া ২৩০টি তিমির মধ্যে কেবল ৩০টি জীবিত ছিল।

এতগুলো তিমি কী কারণে সেখানে আটকা পড়েছিল, আর তাদের সুরক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেত, সেসব নিয়ে প্রাণী গবেষকরা অনুসন্ধানে নেমেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি নিউজিল্যান্ডের মাসেই ইউনিভার্সিটির তিমি বিশেষজ্ঞ ক্যারেন স্টকিনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন কারণে তিমি সৈকতে আটকা পড়তে পারে। প্রাকৃতিক কারণেও এটা হয়ে থাকে। যেমন: মহাসাগরের তলদেশের আকৃতি। পাইলট তিমি ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ডলফিনগুলো প্রায়ই গণহারে আটকা পড়ে, বিশেষত দক্ষিণ গোলার্ধে। তাসমানিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন বে অঞ্চলে আগেও এমন দেখা গেছে। আর উত্তর গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কড উপসাগর এবং ম্যাসাচুসেটসে এমন ঘটতে দেখা যায়।

সাগরের যেসব অংশে মানুষের চলাচল বেশি, সেসব স্থানে জাহাজের যাতায়াত এবং রাসায়নিক দূষণও তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। এমন এলাকায় তিমিসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর একযোগে সৈকতে আটকা পড়ার ঝুঁকিও বেশি। পাশাপাশি প্রাণীগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অসুখ-বিসুখের কারণেও গণহারে আটকা পড়ে মৃত্যু হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন ঘটেছে কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্টকিন। একসঙ্গে এত তিমির মৃত্যুর এমন ঘটনা আটকানোর উপায় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নেই। বহুবিধ কারণে এমন ঘটে থাকে। তাই একক পন্থায় সমাধানের উপায় নেই। তবে আবহাওয়া সম্পর্কে আরও বিশদভাবে জানতে পারলে হয়তো কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।  


রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩০০

রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩০০
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে অন্তত ১৩০০ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করার খবর মিলেছে। ইউক্রেনে নতুন করে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গত বুধবার ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের দায়ে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন।

ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে রিজার্ভ সেনা তলবের খবরে রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হতে পারে তা আগেই আঁচ করেছিল রুশ প্রশাসন। সে জন্য গত বুধবার মস্কোর প্রসিকিউটর কার্যালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ইন্টারনেটে কেউ গণবিক্ষোভের ডাক দিলে কিংবা বিক্ষোভে অংশ নিলে তার ১৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।  

এবিসি নিউজ জানায়, রুশ মানবাধিকার সংস্থা ওভিডি-ইনফোর হিসাবে রাশিয়ার ৩৮ শহর থেকে প্রায় ১৩০০ জনকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী মস্কো থেকে ৫০২ জন এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ৫২৪ জনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়া ইরকুতস্ক এবং অন্য সাইবেরিয়ান শহরগুলোয় অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভুল বার্তা ছড়ালে কড়া শাস্তির হুমকি এবং পুতিনবিরোধীদের ওপর পুলিশি হয়রানির কারণে রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ তেমন একটা হতে পারে না। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী ভেসনা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। গোষ্ঠীটি টেলিগ্রাম বার্তায় রাশিয়াজুড়ে বহু মানুষকে আটক করার খবর দেয়। একটি ভিডিও ফুটেজে ইয়েকাটেরিনবার্গ শহরে পুলিশকে জোর করে বিক্ষোভকারীদের একটি বাসে তুলতে দেখা যায়।  

এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রিজার্ভ সেনা তলবের খবরের পর রাশিয়ায় বিমানের টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে। মস্কো থেকে তুরস্ক কিংবা দুবাই যাওয়ার বিমান টিকিটের দাম বেড়ে গেছে।

রাশিয়ার শাস্তি চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশে হামলা চালানোর দায়ে বিশ্বের কাছে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গত বুধবার তিনি ভিডিও ভাষণ দেন। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একমাত্র তাকেই ভার্চুয়ালি ভাষণ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। জেলেনস্কি তার পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভিডিও ভাষণটিতে ১৫ বার ‘শাস্তি’ কথাটি উল্লেখ করেন।  জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন তার ভূখণ্ড চুরি করার চেষ্টার দায়ে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করছে। হাজার মানুষ হত্যার জন্য রাশিয়াকে শাস্তি দিতে হবে। ইউক্রেনের নারী-পুরুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর দায়ে রাশিয়াকে শাস্তি দিতে হবে।’ ভাষণের একপর্যায়ে অধিবেশনে থাকা বিশ্বনেতারা দাঁড়িয়ে জেলেনস্কিকে অভিবাদন জানান। এমন দৃশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিরল। জেলেনস্কি রাশিয়াকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানান।

নিষেধাজ্ঞা চাপাতে রাজি ইইউ

রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‍ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত বুধবার এক বৈঠকে রাশিয়ার বিভিন্ন খাত ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে রাজি হন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেনাসমাবেশের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইইউ জোট। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল জানান, ২৭ দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখতেও একমত হয়েছেন।

 ৩০০ বন্দিবিনিময়

রণাঙ্গনে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেও সবাইকে চমকে দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রায় ৩০০ বন্দিবিনিময় করেছে। আল-জাজিরা জানায়, সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধে প্রথমবারের মতো এত বেশিসংখ্যক বন্দিবিনিময় হলো। সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বন্দিবিনিময় হয়।  মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মরক্কোর নাগরিকও রয়েছে। এরা ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে রাশিয়ার হাতে ধরা পড়েছিল।

রাশিয়া পাঁচজন কমান্ডারসহ ২১৫ ইউক্রেনীয়কে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইউক্রেন ৫৫ জন রুশ ও মস্কোপন্থি ইউক্রেনীয়কে মুক্তি দেয়। এর মধ্যে ইউক্রেনের নিষিদ্ধ রুশপন্থি দলের নেতা ভিক্টোর মেদভেদচুকও রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার চলছিল।

সৌদি আরব জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যস্থতায় ১০ বিদেশিকে মুক্তি দেয় রাশিয়া। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন ব্রিটিশ, দুজন মার্কিন, একজন ক্রোয়েশিয়ান, একজন মরোক্কান এবং একজন সুইডিশ নাগরিক রয়েছেন।

রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের খবর অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার খবর উত্তর কোরিয়া অস্বীকার করেছে। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, পিয়ংইয়ং এ-সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ভুয়া বলে দাবি করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এক  প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানায়, তারা কখনোই রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি করেনি, এমনকি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে যুত্তরাষ্ট্র এসব অপপ্রচার চালিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন প্রশাসন  জানায়, উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়া বিপুল অস্ত্রশস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে লাখ লাখ রকেট ও কামানের গোলা রয়েছে। মস্কো অবশ্য এ ধরনের খবর অস্বীকার করে। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া অস্ত্র লেনদেন করলে তা হবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।


সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান

সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান
গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবয়বে তৈরি মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সমুদ্রের নীল জলরাশির নিচে হঠাৎ করে কোনো মানব মূর্তি দেখলে কিছুটা ভড়কে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ মূর্তিগুলোর কারণে সমুদ্রের তলদেশটা হয়ে উঠেছে অদ্ভুত সুন্দর। নানা ভঙ্গিমায় থাকা লাইফ সাইজ মূর্তিগুলো যেন সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর সঙ্গে মিশে সমুদ্রের জীবনটাকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।

ব্রিটিশ ভাস্কর জেসন ডিকেয়ার্স টেইলর শুধু একজন শিল্পীই নন, একজন গভীর সমুদ্রের ডুবুরি ও আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার। কোনো বিশিষ্ট কিংবা জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি নন, সাধারণ মানুষের আদলেই মূর্তি তৈরি করেন জেসন টেইলর। তার বেশির ভাগ মূর্তিই লাইফ সাইজ অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা ও আকারের। বিভিন্ন মডেলের ছবি নেয়ার পর তাদের সিলিকনের অবয়ব তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে পুরো মূর্তিটি তৈরি করেন তিনি।

তবে শুধু মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই নয়, জেসনের তৈরি এসব মূর্তি সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার্থেও কাজে লাগছে। সমুদ্রে বসানোর এক বছরের মধ্যেই এগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবাল প্রাচীরে। জেসন বলেন, ‘এসব মূর্তি সমুদ্রের কোনো ক্ষতিই করবে না। উল্টো মাছ ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক জীবের কাছে এগুলো তাদের মতো করে নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করবে।’

এর আগে ২০১৬ সালে টেইলর ইউরোপের স্প্যানিশ দ্বীপের উপকূলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদের অবয়বে তৈরি মূর্তি, যা ইউরোপের প্রথম সমুদ্র তলদেশে ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০-এরও বেশি মূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক বিস্বয়কর ম্যাক্সিকোর কানকুন ভাস্কর্য উদ্যান। এগুলো শুধু পাথুরে মূর্তিই নয়, প্রবাল প্রাচীরের কাজও করছে। ম্যাক্সিকোর কানকুন উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হতে বসেছিল। তাই কানকুন কর্তৃপক্ষ জেসন টেইলরকে এই ভাস্কর্য উদ্যান তৈরির অনুরোধ জানান। যাতে করে এখানকার প্রবাল প্রাচীর রক্ষা পায়। এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র তলের ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া টেইলর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কাছে গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের পানির নিচে তৈরি করেছেন আরেকটি অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান। তার এই ভাস্কর্য উদ্যানটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বিশ্বের ২৫টি বিস্ময়কর বিষয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত।

জেসন টেইলর সবচেয়ে বড় মূর্তিটি তৈরি করেছেন বাহামাতে। যার ওজন প্রায় ৬০ টন। মূর্তিটি বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে তিনি সমুদ্রে স্থাপন করে আরেক বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই ভাস্কর্য উদ্যানগুলো পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমন অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান সমুদ্র তলের পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত
সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামের স্কুলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ। 

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাগাইং অঞ্চলের লেট ইয়েট কোনি গ্রামে গত শুক্রবার একটি বৌদ্ধবিহারের পাশে থাকা স্কুলে এ হামলা হয়। দেশটির জান্তা সরকারের দাবি, স্কুলে বিদ্রোহীদের লুকানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে হামলা চালায়। বিবিসি জানায়, বেশির ভাগ শিশুর মরদেহ সামরিক বাহিনী নিয়ে গেছে। একই দিন গ্রামটিতে সামরিক বাহিনীর হামলায় ৬ ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের  মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও একজন নারী।   

ইউনিসেফ জানায়, হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি অবিলম্বে নিখোঁজ ১৫ শিশুকে ফিরিয়ে দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি গুলিবর্ষণে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এক ঘণ্টা ধরে স্কুল কম্পাউন্ডে গুলি চালিয়েছে। এক মিনিটের জন্যও থামেনি।’ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ শেষে প্রায় ৮০ জন সেনা স্কুলে ঢুকে বলে জানান ওই শিক্ষক।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে স্কুল ভবনে বুলেটের গর্ত এবং রক্তের দাগ দেখা যায়। দুজন স্থানীয় বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী মরদেহগুলোকে ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে একটি শহরে নিয়ে যায় এবং কবর দেয়। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। এর পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকারের দমনপীড়নে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, গত বছর ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে জান্তা সরকার মিয়ানমারে স্কুল ও শিক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ২৬০টি হামলা চালিয়েছে। তবে গত শুক্রবার স্কুলে হামলার ঘটনাতেই সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।