বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

রাশিয়ায় সেনা বৃদ্ধির নির্দেশ পুতিনের

রাশিয়ায় সেনা বৃদ্ধির নির্দেশ পুতিনের
ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রুশ সেনাবাহিনীতে জনবল বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী দেশটির সেনাবাহিনীতে আগামী কয়েক মাসে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার সদস্য বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে মস্কোর এ ধরনের উদ্যোগ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমানে রুশ সামরিক বাহিনীতে ১০ লাখের বেশি নিয়মিত সেনা রয়েছে। এছাড়া আরও ৯ লাখ বেসামরিক সদস্য এই বাহিনীর অধীনে কাজ করছে। পুতিনের এমন এক সময়ে সেনা বৃদ্ধির নির্দেশ দিলেন, যখন দেশটির সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। প্রেসিডেন্টের ফরমানের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ করবে। আগামী বছরের শুরুতে এটি কার্যকর হবে। রাশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, সরকার চাইলে ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে এক বছর কাজ করার জন্য আহ্বান করতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই বয়সী পুরুষেরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য। তবে কারও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকলে অথবা উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার কারণ থাকে সে ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া সমারিক বাহিনীর জন্য বেসামরিক লোকদের ডাকবে কিনা স্পষ্ট নয়। এ রকম ক্ষেত্রে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য চার মাসের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিধান রয়েছে। সূত্র: বিবিসি


সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান

সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান
গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবয়বে তৈরি মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সমুদ্রের নীল জলরাশির নিচে হঠাৎ করে কোনো মানব মূর্তি দেখলে কিছুটা ভড়কে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ মূর্তিগুলোর কারণে সমুদ্রের তলদেশটা হয়ে উঠেছে অদ্ভুত সুন্দর। নানা ভঙ্গিমায় থাকা লাইফ সাইজ মূর্তিগুলো যেন সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর সঙ্গে মিশে সমুদ্রের জীবনটাকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।

ব্রিটিশ ভাস্কর জেসন ডিকেয়ার্স টেইলর শুধু একজন শিল্পীই নন, একজন গভীর সমুদ্রের ডুবুরি ও আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার। কোনো বিশিষ্ট কিংবা জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি নন, সাধারণ মানুষের আদলেই মূর্তি তৈরি করেন জেসন টেইলর। তার বেশির ভাগ মূর্তিই লাইফ সাইজ অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা ও আকারের। বিভিন্ন মডেলের ছবি নেয়ার পর তাদের সিলিকনের অবয়ব তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে পুরো মূর্তিটি তৈরি করেন তিনি।

তবে শুধু মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই নয়, জেসনের তৈরি এসব মূর্তি সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার্থেও কাজে লাগছে। সমুদ্রে বসানোর এক বছরের মধ্যেই এগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবাল প্রাচীরে। জেসন বলেন, ‘এসব মূর্তি সমুদ্রের কোনো ক্ষতিই করবে না। উল্টো মাছ ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক জীবের কাছে এগুলো তাদের মতো করে নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করবে।’

এর আগে ২০১৬ সালে টেইলর ইউরোপের স্প্যানিশ দ্বীপের উপকূলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদের অবয়বে তৈরি মূর্তি, যা ইউরোপের প্রথম সমুদ্র তলদেশে ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০-এরও বেশি মূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক বিস্বয়কর ম্যাক্সিকোর কানকুন ভাস্কর্য উদ্যান। এগুলো শুধু পাথুরে মূর্তিই নয়, প্রবাল প্রাচীরের কাজও করছে। ম্যাক্সিকোর কানকুন উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হতে বসেছিল। তাই কানকুন কর্তৃপক্ষ জেসন টেইলরকে এই ভাস্কর্য উদ্যান তৈরির অনুরোধ জানান। যাতে করে এখানকার প্রবাল প্রাচীর রক্ষা পায়। এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র তলের ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া টেইলর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কাছে গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের পানির নিচে তৈরি করেছেন আরেকটি অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান। তার এই ভাস্কর্য উদ্যানটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বিশ্বের ২৫টি বিস্ময়কর বিষয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত।

জেসন টেইলর সবচেয়ে বড় মূর্তিটি তৈরি করেছেন বাহামাতে। যার ওজন প্রায় ৬০ টন। মূর্তিটি বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে তিনি সমুদ্রে স্থাপন করে আরেক বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই ভাস্কর্য উদ্যানগুলো পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমন অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান সমুদ্র তলের পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত
সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামের স্কুলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ। 

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাগাইং অঞ্চলের লেট ইয়েট কোনি গ্রামে গত শুক্রবার একটি বৌদ্ধবিহারের পাশে থাকা স্কুলে এ হামলা হয়। দেশটির জান্তা সরকারের দাবি, স্কুলে বিদ্রোহীদের লুকানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে হামলা চালায়। বিবিসি জানায়, বেশির ভাগ শিশুর মরদেহ সামরিক বাহিনী নিয়ে গেছে। একই দিন গ্রামটিতে সামরিক বাহিনীর হামলায় ৬ ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের  মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও একজন নারী।   

ইউনিসেফ জানায়, হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি অবিলম্বে নিখোঁজ ১৫ শিশুকে ফিরিয়ে দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি গুলিবর্ষণে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এক ঘণ্টা ধরে স্কুল কম্পাউন্ডে গুলি চালিয়েছে। এক মিনিটের জন্যও থামেনি।’ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ শেষে প্রায় ৮০ জন সেনা স্কুলে ঢুকে বলে জানান ওই শিক্ষক।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে স্কুল ভবনে বুলেটের গর্ত এবং রক্তের দাগ দেখা যায়। দুজন স্থানীয় বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী মরদেহগুলোকে ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে একটি শহরে নিয়ে যায় এবং কবর দেয়। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। এর পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকারের দমনপীড়নে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, গত বছর ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে জান্তা সরকার মিয়ানমারে স্কুল ও শিক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ২৬০টি হামলা চালিয়েছে। তবে গত শুক্রবার স্কুলে হামলার ঘটনাতেই সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   



ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু

ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু
তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ। ছবি: আল জাজিরা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবি

ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর জেরে কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্থানীয় কুর্দি অধিকার সংস্থা দাবি করেছে, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু হয়েছে। হেনগাও মানবাধিকার সংস্থা এক টুইট বার্তায় জানায় জানিয়েছে, আমিনির নিজ শহর সাকেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালালে দুজন নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে দিভান্ডারেহ শহরে আরও দুজন এবং দেহগোলানে পঞ্চমজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন আহত হন।

 ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরায় নৈতিক পুলিশ বা মোরালিটি পুলিশের হাতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর মৃত্যু হয় ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাজধানী তেহরানে গত মঙ্গলবার মাহসাকে গ্রেপ্তার করে তুলে নেয়ার সময় পুলিশ ভ্যানের ভেতর তাকে নির্যাতন করা হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়; এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করা হয়েছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। রাজধানী তেহরানে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির নৈতিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্নেল আহমেদ মিরজাইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে এই নিয়মের বিরুদ্ধে গত দুই দশক ধরেই বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও নারীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আর এ কারণে তাদের ওপর নির্যাতনের খড়্গও নেমে এসেছে অনেকবার। তবে এবার মাহসার মৃত্যুতে বারুদের মতো বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে নারী-পুরুষনির্বিশেষে ইরানের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

এ বিষয়ে ইরানি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ তার অফিশিয়াল টুইটারে প্রতিবাদী নারীদের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে আমরা আমাদের চুল ঢেকে রাখতে বাধ্য। তা না হলে আমরা স্কুলে যেতে পারব না, চাকরি পাব না। আমরা এই লিঙ্গ-বৈষম্যভিত্তিক শাসনের অবসান চাই।’


ইজিউমের গণকবরে নির্যাতনের চিহ্ন: রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করেছে

ইজিউমের গণকবরে নির্যাতনের চিহ্ন: রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করেছে
নীল প্লাস্টিকের আবরণ পরা শতাধিক ইউক্রেনীয় জরুরি পরিষেবাকর্মী অস্থায়ী কবরগুলো খুঁড়ে মৃত্যুর কারণগুলো জানার চেষ্টা করছেন। ছবি: এএফপি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

খারকিভ প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিউমের বিশাল গণকবরে পাওয়া মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রুশ সেনারা খারকিভ ত্যাগ করার পর ইউক্রেনীয় সেনারা সেখানে দখল নিলে পূর্বের পাইন বন থেকে প্রচণ্ড গন্ধ বের হতে থাকে। খবর পেয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ মাটি খুঁড়ে সাড়ে চার শর মতো মরদেহ উদ্ধার করা শুরু করে। সেনা সদস্য ছাড়াও মৃতদের মধ্যে অনেক পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে।

খারকিভের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর ওলেক্সান্ডার ইলিয়েনকভ জানান, তারা বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের গলায় দড়ি পেয়েছেন। তারা নিশ্চিত এই গণকবরের বেশির ভাগকেই নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। এখানে যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এই গণকবরের বেশির ভাগ কবরের ওপরই নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি কবরের ওপর কাঠের ক্রুশ চিহ্নের ফলকে নাম লেখা ছিল।

এ বিষয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়াকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধী বলে অভিযুক্ত করেন। এই গণকবর ছাড়াও রাশিয়া যেসব অঞ্চলে দখল নিয়েছিল, সেখানকার মানুষের ওপরই নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবি করেন জেলেনস্কি। এ ছাড়াও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, চলতি মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী দ্রুত বেশ কয়টি এলাকার দখল ফিরে পেলেও যুদ্ধ এখনই শেষ হচ্ছে না বলে মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

মোদি-পুতিন বৈঠক

উজবেকিস্তানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবারের মোদি-পুতিনের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আগ্রহ ছিল বিশ্ববাসীর। তবে শুরুতেই রাশিয়াকে যুদ্ধ থামানোর আরজি জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর জবাবে পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, রাশিয়াও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে চায়।

তবে মোদিকে আশ্বস্ত করলেও এসসিও সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন জানান, ইউক্রেনের পূর্ব ডনবাস অঞ্চলকে মুক্ত করা রাশিয়ার প্রধান সামরিক লক্ষ্য ছিল। তিনি এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনও দেখছেন না এখনো। তিনি আরো বলেন, ‘এই যুদ্ধে তাড়াহুড়া করছে না রাশিয়া।’ রাশিয়ায় বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন। আমরা এখন পর্যন্ত সংযমের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও গুরুতর হবে।’

পুতিনকে বাইডেনের হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ সেনা মুক্ত হয়েছে। আরো অনেক স্থানেই রাশিয়া পিছু হটছে বলে দাবি ইউক্রেনের। এমন পরিস্থিতিতে  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শুক্রবার বিবিসির একটি সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, “িনুযায়ী ছয় হাজার বর্গ ও,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার দেখার পর এই চিন্তা পরিবর্তন করা উচিত। তবে রাশিয়া যদি ইউক্রেনে পারমাণবিক বা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ‘কঠোর পরিণাম’ ভোগ করবে।”


সাগর বাঁচাতে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর

সাগর বাঁচাতে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর
প্রবাল প্রাচীর।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইন্দোনেশিয়ার একদল পরিবেশবাদী সেখানকার সাগরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সমুদ্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রবালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের মতো দেখতে এই বিশেষ ধরনের অমেরুদণ্ডী প্রাণী সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উপযোগী পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। কিন্তু দূষণের কারণে বহু দেশের উপকূল থেকে প্রবাল হারিয়ে যেতে বসেছে। ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’ নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার সুবিশাল প্রবাল প্রাচীরটিও এখন হুমকির মুখে।

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলেও প্রবাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের চেষ্টায় সেখানে আবার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা লোহার তৈরি গম্বুজাকৃতির বেশ কয়েকটি কাঠামোর মধ্যে গবেষণাগার স্থাপন করে তাতে প্রবাল উৎপাদন করেন। পরে সেগুলো সাগরতলের প্রাকৃতিক পরিবেশে নামিয়ে দেন।

প্রত্যাশার ইংরেজি প্রতিশব্দ HOPE (হোপ)-এর আদলে ওই প্রবালগুলো সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন- নেচার কনজারভেন্সি এবং সমমনা সহযোগী সংস্থা সিবা এই প্রবাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তারা ২০২৯ সাল নাগাদ ওই অঞ্চলের ১ লাখ ৮৫ হাজার বর্গমিটারজুড়ে প্রবাল প্রাচীর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন।  

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি অংশের প্রবাল প্রাচীর ৫ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ বিষয়ে মার্স ইংক-এর প্রধান সমুদ্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, ‘প্রবাল প্রাচীর নষ্ট হয়ে গেলে সেটা পুরো সমুদ্রের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। মাছের বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যায়, যা মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যও ক্ষতিকর।’

ইন্দোনেশীয় উপকূলের প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় কৃত্রিম উপায়ে প্রবাল উৎপাদন ও সমুদ্রে প্রতিস্থাপনের বিষয়ে স্মিথ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা পাবে। পরিণামে, জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও উপকূলবাসী অনেকটা রেহাই পাবে।