সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • আলজাজিরার বিশ্লেষণ

মস্কোর একটি জাদুঘরে কাজ করেন ২৩ বছর বয়সী আলেক্সান্দর। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কিছুটা মিতব্যয়ী হয়েছেন। তবু আশা করেন, পশ্চিমাদের আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদে কিছু অপ্রত্যাশিত সুফল এনে দিতে পারে।

আলেক্সান্দর বলেন, ‘আমাদের জন্য এখন আগের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর আমাদের দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদন করতে পারে। এটা হয়তো নতুন ও ইতিবাচক কোনো কিছুর জন্য দরজা খুলে দিতে পারে।’

বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ছয় মাসে বহির্বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তিন দশকে রাশিয়া পশ্চিমা পুঁজিবাদী নীতি বেছে নেয়। পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনা থাকলেও তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী ছিল। মধ্যবিত্ত রুশ নাগরিকেরা সহজেই আকাশপথে ইউরোপে গিয়ে পশ্চিমা জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারতেন। স্মার্টফোন থেকে জিনস পর্যন্ত কিছুই বাদ যেত না। বিদেশে টাকা-পয়সার লেনদেন তারা কয়েক মিনিটে সেরে ফেলতে পারতেন। তবে এখন আর সেই দিন নেই। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন নানা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রাশিয়ার আর্থিক রিজার্ভের প্রায় অর্ধেক পশ্চিমারা অচল করে দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের বড় বড় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সুইফট নামের যে ব্যবস্থায় অর্থ লেনদেনের সুযোগ ছিল, রাশিয়ার জন্য সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রুশ জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলো বিভিন্ন বন্দর ও আকাশসীমায় যেতে পারছে না। অত্যাধুনিক অনেক প্রযুক্তিপণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও কয়লা আমদানিতেও বিভিন্ন দেশ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে ১ হাজার ২০০-এর বেশি বিদেশি কোম্পানি রাশিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম সীমিত অথবা স্থগিত করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে- অ্যাপল, ম্যাকডোনাল্ডস, আইকেইএ, ভিসা এবং মাস্টারকার্ডের মতো নামিদামি ব্র্যান্ডও।  

কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্থনীতি কি থমকে গেছে? এ প্রশ্নের মিশ্র জবাব পাওয়া যায়। একদিকে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গত বছর একই সময়ের তুলনায় চার শতাংশ কমে গেছে। পরবর্তী তিন মাসে জিডিপির এই ক্রমহ্রাসমান ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পণ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে শুধু যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে তা নয়, বরং রাশিয়ার মোটরগাড়ি উৎপাদনও অনেক কমে এসেছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, বিশেষ কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রীর বিকল্প খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন যেগুলো অতিমাত্রায় পশ্চিমা প্রযুক্তিনির্ভর, যেমন- মাইক্রোচিপস।  

তবে রুশ অর্থনীতি এখন পর্যন্ত অনেকের প্রত্যাশার চাইতে বেশি স্থিতিশীলতার প্রমাণ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে রুশ মুদ্রা রুবলের অবমূল্যায়ন ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। তারপরও এটি বছরের সবচেয়ে ভালো মুদ্রায় হিসাবে এখনো নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পেরেছে। রাশিয়ায় মূল্যস্ফীতিও গত কয়েক মাসে ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করেছে। এপ্রিলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৭.৮ শতাংশ, যা কমে আগস্টে ১৪.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

এখন পর্যন্ত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় মস্কোর জীবনযাত্রায় তেমন বড় প্রভাব পড়েনি। নির্মাণ শ্রমিকেরা রাশিয়ার রাজধানীতে বার্ষিক সড়ক সংস্কার কাজে অংশ নিচ্ছেন। শহরতলীর রেস্তোরাঁ, পানশালা ও কফির দোকানগুলোতে ভোক্তা-ক্রেতার অভাব নেই। মালিকরাও সন্তুষ্ট। বিপণিকেন্দ্রগুলোও গমগম করছে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে। মস্কো শিল্প জাদুঘরের কর্মী আলেক্সান্দর বলেন, টানা দুশ্চিন্তা করতে করতে লোকজন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাই তারা আরও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকে খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পকেটে হয়তো আগের চেয়ে কিছু হালকা, তবে একেবারে ফাঁকা তো নয়।

মস্কোভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ আন্তন তাবাখ বলেন, পণ্য রপ্তানিতে বড় ঢেউ, বিশেষত জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে, রাশিয়ার অর্থনীতিকে নিষেধাজ্ঞার প্রথম ছয় মাসে বাঁচিয়ে রেখেছে। চলতি বছর জ্বালানি বিক্রি করে আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি আয় করতে যাচ্ছে রাশিয়া।

বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাস এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কারণে রাশিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধি সম্ভবত শীর্ষে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাশিয়ার আমদানি চলতি বছরের শুরুতে অনেক কমে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। ‍রুবলের স্থিতিশীলতা ও খাদ্য এবং অন্যান্য সামগ্রীর নির্ভরযোগ্য মজুতের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি এভাবে স্বরূপে ফিরে আসতে পেরেছে।   

রাশিয়ার উদ্যোক্তাদের জন্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা একটি অপ্রত্যাশিত সুযোগের দুয়ার খুলে দিয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক উদ্যোক্তারা নতুন করে শুরু করতে পারছেন। রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো একযোগে চলে যাওয়ায় স্থানীয় কোম্পানিগুলো বাজারে নিজেদের অংশীদারি বাড়াতে পারছে। খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, পোশাক, পর্যটন ও নির্মাণ খাতে রুশ ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। ভোক্তাদের চাহিদা কমলেও সেটা স্থানান্তরিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পণ্যের চাহিদায় রূপ নিয়েছে।  


অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব

অভ্যুত্থান ও চিন পিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুজব
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে একাধিক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সরকারবিরোধী তৎপরতার জোরালো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক ইন্ডিয়া জানায়, ইন্টারনেটে নানা খবরের মধ্যে চীনে ‘কিছু একটা ঘটছে’ জাতীয় শিরোনামের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এতে জনসাধারণ কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অথবা সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা থেকে শুরু করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তৎপরতা নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে। এসব আশঙ্কা আরও জোরালো হয় যখন চীনের বিভিন্ন অংশে যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট বাতিল, চীনের প্রেসিডেন্ট চিন পিং বহু দিন জনসমক্ষে অদৃশ্য, রাজধানী বেইজিংয়ের দিকে সামরিক গাড়িবহরের এগিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রভৃতি অনলাইনে বেশি বেশি দেখা যায়। তবে এসব বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিন পিং কি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি?

টুইটারে হাজার হাজার ফলোয়ার আছে এমন বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তার অনুসারী যিনি হচ্ছেন, তার কয়েকটি ছবিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ধরনের খবরের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি। আর টুইটারের এসব অ্যাকাউন্টের অধিকাংশই বেনামি ব্যবহারকারীদের। সামরিক কর্মকাণ্ডের যেসব ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোও অনেকটা ভাসা ভাসা ধরনের। গর্ডন জি চ্যাং নামের একজন লেখক বলেন, চীনে ৫৯ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং অভিমুখে সামরিক যানবাহনের এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যখন অনেক ধোঁয়া বেরিয়ে আসে, তখন বুঝতে হবে আগুন কোথাও না কোথাও আছে নিশ্চয়ই। চীন একটা অস্থিতিশীল জায়গা।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে লেখালেখি করেন সৌরভ ঝা টুইটারে একটি খবর শেয়ার করেছেন, আর সেটি হলো চীনের স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে গত শনিবার কোনো ফ্লাইট ছিল না। এ বিষয়ে ঝার মন্তব্য, এটা চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। লাসা গংগারের অনেক ফ্লাইটও বাতিল করা হচ্ছে। তিব্বতে সামরিক বিমানের আনাগোনা বেড়েছি কি না, যাচাই করে দেখা দরকার।

ঝার বক্তব্যে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। ওই অঞ্চলে গত দুই বছর ধরে ভারত-চীনের সামরিক বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

চীন সম্পর্কে ভালো জানেন এমন অনেকেই বলেছেন, অভ্যুত্থানের এসব খববের অস্তিত্ব এখন অবধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরে, বিশেষত ভারতে, সীমাবদ্ধ আছে- বাস্তবে নেই।

চীন গবেষক আদিল ব্রার বলেন, সি চিন পিং সম্ভবত কোয়ারেন্টাইনে আছেন। উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরখন্দে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন। হয়তো এ কারণেই তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।

সাংবাদিক জাকা জ্যাকব বলেছেন, চীনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে চিন পিংয়ের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে। কাজেই সেখানে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কম। নানা গুজব ছড়ালেও সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়। সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা কম, কারণ পিপলস লিবারেশন আর্মি দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের অধীনে কাজ করে। আর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে চিন পিং সেই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা এসব অভ্যুত্থানের গুজব নিয়ে এখনো কিছু লেখেনি। এটি চীন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিন্ন স্বার্থবিষয়ক নানা খবর নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
গত মার্চে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর আগেই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল রোববার স্বল্পপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর পিয়ংইয়ান প্রদেশের তাইচন থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় উৎক্ষেপণ করা হয় বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসির।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি গতিতে ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের মাঝে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বড় ধরনের উসকানি, যা কোরীয় উপদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

উত্তর কোরীয় ওই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর প্রতিক্রিয়ায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজু হামাদা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পিয়ংইয়ংয়ের এমন আচরণ জাপান ও আশপাশের অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

উত্তর কোরিয়া এমন সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল যখন যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসেরও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করার কথা রয়েছে। তার আগে পিয়ংইয়ংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এর আগে নিজেদের পূর্ব উপকূল বরাবর সাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছর জুনের শুরুতে এক দিনে আটটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তিন মাস পর উত্তর কোরিয়া একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। এ ধরনের পরীক্ষা চালানোয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন লঙ্ঘনের দায়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


অধিকৃত ভূখণ্ডের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো: লাভরফ

অধিকৃত ভূখণ্ডের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো: লাভরফ
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হবে তার পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘের অধিবেশনের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়াবে, এমনকি পারমাণবিক হামলা পর্যন্ত চালাতে পারে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আশঙ্কার মধ্যেই শীর্ষ রুশ কূটনীতিকের এমন বক্তব্য এল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিউইয়র্কে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে এবারের সাধারণ অধিবেশনে সবার নজরের কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়া।

কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র নিন্দা সমালোচনাকে ‍উড়িয়ে দিয়ে রুশ বাহিনীর দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূমি রাশিয়ার অংশ বানাতে গণভোট চলছে। লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হলে ইউক্রেন তার ১৫ শতাংশ ভূমি হারাবে। ইউক্রেন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই গণভোটের সপক্ষে কথা বলতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে নব্য নাৎসি শাসনে যারা দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, গণভোটে তাদের মতামতের সম্মান দেবে রাশিয়া। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে লাভরফ বলেন, রাশিয়ার সংবিধানের আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডসহ ভবিষ্যতে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোও রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সুরক্ষার অধীনে রয়েছে। তাই সব অঞ্চলের সুরক্ষায় রাশিয়ার সব আইন, মতবাদ, ধারণা এবং কৌশলগুলো প্রযোজ্য।

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ৭২৪

রাশিয়া সরকারের আংশিক সেনাসমাবেশের প্রতিবাদে যুদ্ধবিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অধিকার সংস্থা  ওভিডি-ইনফো জানায়, গত শনিবার ৩২টি শহরে ৭২৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মিছিল করা নিষিদ্ধ। এরপরও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ  চলছে।  ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়া সরকারের তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের ঘোষণার পর এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হলেন। বিবিসি জানায়, রির্জাভ সেনা তলবের ঘোষণার পর থেকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে দেশ ছাড়ার হিড়িক লেগেছে। জর্জিয়া সীমান্তে ১৮ মাইল লম্বা গাড়ির সারি দেখা গেছে। তবে ক্রেমলিন এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে মন্তব্য করেছে। রাশিয়ার নতুন নিয়মানুযায়ী, কোনো সেনা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।

ইসরায়েলের অস্ত্র পাননি জেলেনস্কি

রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়নি ইসরায়েল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরায়েলকে পাশে পায়নি কিয়েভ। বিষয়টিতে হতবাক হয়েছেন জেলেনস্কি। ফ্রান্সের সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি জানি না ইসরায়েলের কী হয়েছে। আমি সত্যি বলছি, সত্যি বলছি, আমি হতবাক, কারণ আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেননি।’

রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ‘লজিস্টিক অপারেশন’ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভকে  রসদ ‘সরবরাহে ব্যর্থতা’র কারণে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিজিনেৎসেভকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামের এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।

বিবিসি জানায়, ২০০৮ সাল থেকে জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভ রুশ সামরিক বাহিনীর রসদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি সিরিয়ায় মোতায়েন করা রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধে ৬৭ বছর বয়সী বুলগাকবের ক্ষমতা অনেকটা কমে গেছে। অনেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার জন্য তাকে দায়ী করেন।

কঠোর শাস্তির বিধান

রুশ সেনারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে কিংবা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে। রাশিয়া গত শনিবার কঠিন সাজার বিধান ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া কঠোর শাস্তির আইন পাস করল। আগের আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধের জন্য ৫ বছরের সাজার বিধান ছিল। 

রাশিয়ার কঠোর শাস্তির আইন পাসের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেনেশুনে তার দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে পাঠাচ্ছেন।’ তিনি আবারও ইউক্রেনে লড়াইরত রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের সঙ্গে সভ্য আচরণ করা হবে। কেউ জানবে না কোন পরিস্থিতিতে আপনারা আত্মসমপর্ণ করেছেন।


ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা

ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা
রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে তার মধ্যে লুগানস্কও রয়েছে। ছবি: টুইটার
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • রাশিয়ার অংশ হতে গণভোট

রাশিয়ার অংশ হতে দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ভোট নিতে সশস্ত্র রুশ সেনারা ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছে বলে খবর মিলেছে। এক ইউক্রেনীয় নারী বিবিসিকে বলেন, রুশ সেনারা ভোটারদের প্রশ্ন করে মৌখিক উত্তর শুনে নিজেরাই ফরম পূরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ ওই গণভোটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করতে রাশিয়া এমন ধোঁকাবাজির গণভোটের আয়োজন করছে।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার অংশ হতে গত শুক্রবার থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনে গণভোট শুরু হয়েছে। চারটি অঞ্চলই রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দখল করে রেখেছে। কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো এ গণভোটকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে। চারটি অঞ্চল নিয়ে নিলে ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার হয়ে যাবে। পাঁচ দিনব্যাপী গণভোটে প্রথম চার দিন ভোটারদের ঘরে গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হবে। পঞ্চম দিনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসার সুযোগ পাবেন।  জনগণের নিরাপত্তার জন্যই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে রাশিয়া দাবি করেছে। এদিকে দক্ষিণ খেরসনে শহরে মাঝখানে  ব্যালট বাক্স নিয়ে স্বশস্ত্র পাহারাদাররা লোকজনের ভোট সংগ্রহ করছে। জাপোরিঝিয়ার মেলটিপোল শহরের এক নারী জানান, তার বাড়িতে  রুশ সেনাদের সঙ্গে স্থানীয় দুই ভোটকর্মী এসে ভোট নিয়ে যায়। বাড়িপ্রতি শুধু একজনেরই ভোট নেয়া হচ্ছে। ওই  নারী জানান, তার বাবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। এতে তারা আতঙ্কিত রয়েছেন যে, ভোটের কারণে তারা হয়তো বাড়িছাড়া হতে পারেন। ইউক্রেনীয় সরকারের এক উপদেষ্টা বলেন, রাশিয়ার এমন  তথাকথিত গণভোটের আয়োজন বন্ধ করাটা খুব কঠিন। অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষের ভোট নেয়া হচ্ছে।

এদিকে জি-৭ জোট জানায়, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে জি-৭ জোট গঠিত।

বিশ্বের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ‘প্রহসনের গণভোটের’ নিন্দা জানাতে বিশ্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া গত শুক্রবার প্রাত্যহিক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্ব অবশ্যই এমন প্রহসনের গণভোটের ব্যাপারে কঠোর নিন্দা জানাবে।’

স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার বলেছেন, ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়ার অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা স্বীকৃতি দেবে না। তিনি গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। হোয়াইট হাউস থেকে বাইডেনের এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে যেন আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় সে লক্ষ্যে মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে।  ইউক্রেন ও এর জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বাইডেন জানান।

পুতিনের হুমকি ধাপ্পাবাজি নয়: ইইউ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র হামলার হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি নয় বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের মতে, যুদ্ধ বিপজ্জনক সময়ে পৌঁছেছে। রুশ বাহিনীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং পুতিনের এমন বেপরোয়া হুমকি খুবই খারাপ। বোরেল বলেন, এমন বিপজ্জনক হুমকি আসলে তা গুরুত্বের সঙ্গেই নেয়া উচিত।


অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়

অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়
কাশ্মীরের যাযাবর বাকারওয়াল উপজাতি।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ভারতশাসিত কাশ্মীরের একটি যাযাবর উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর নাম বাকারওয়াল। কিন্তু বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের মুখে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ধরে রাখতে লড়াই করছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনযুদ্ধের ছবি।  

জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে যাযাবরদের সংখ্যা কম নয়, প্রায় ৩৪ লাখ। তাদেরই একটি অংশ এই বাকারওয়াল জনগোষ্ঠী, যারা মূলত গবাদিপশু লালন-পালন করে। জম্মু ও কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে দারদউর জঙ্গলে বাকারওয়াল উপজাতির আবাস রয়েছে। তারা গ্রীষ্মকালে কাশ্মীরে ছয় মাস কাটায়, এপ্রিল মাসে উপত্যকায় চলে যায়। আবার অক্টোবরের মধ্যে তারা শীতের মাসগুলো কাটানোর জন্য জম্মুর সমভূমিতে ফিরে আসে।

সংবিধানে স্বীকৃত উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হিসেবে উল্লেখ করে ২০০১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাকারওয়ালদের ‘তফসিলি উপজাতি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।  তবে তাদের পালিত গবাদিপশুর ওপর বন্যপ্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বাকারওয়ালরা সমস্যায় পড়েছে। তাদের গবাদিপশু বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান এই জনগোষ্ঠীর একজন রাখাল লিয়াকত খান। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাইরে থেকে এসে আমাদের জীবনের সৌন্দর্যের ছবি আঁকার চেষ্টা করেন কিন্তু আসলে আমাদের জীবন ধৈর্য ও দুর্দশার গল্প।’

বাকারওয়ালদের আরেকটি প্রধান উদ্বেগ হলো বনভূমিতে তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ। অরণ্যবাসী শতাধিক পরিবারকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য গত বছর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে তারা কয়েক দশক ধরে বসবাস করছে। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি বাড়িও ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে সম্প্রদায়টি ওই এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘরে বাস করছে। অস্তিত্ব ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা অর্জন ও সহজ জীবনযাপনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হচ্ছে। প্রশাসন বনাঞ্চলে এই উপজাতি শিশুদের জন্য কমিউনিটি স্কুলও স্থাপন করেছে।