শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

প্রেমে পড়লেও কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে

প্রেমে পড়লেও কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে
ফিলিস্তিনি নারী
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মানুষ প্রেমে পড়লে প্রথমে চিন্তা করে মা-বাবাকে জানানোর কথা। কারণ দুপক্ষের অভিভাবকদের না জানালে প্রেমকে সফলভাবে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথটা মসৃণ হয় না। কিন্তু প্রেমে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম জারি করেছে ইসরায়েল। আর তাদের এই নিয়ম ফিলিস্তিনিদের জন্য।

গতকাল রোববার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি যদি পশ্চিম তীরের কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিকের প্রেমে পড়েন, তবে তাকে ইসরায়েরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। যদি তারা বিয়ে করেন তাহলে তাদের ২৭ মাস পর একটি বিরতি দিয়ে ৬ মাসের জন্য ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যেতে হবে।

নতুন নিয়মটি পশ্চিম তীরে বসবাসকারী বা পর্যটনে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য তৈরি নিয়মাবলি আরো কঠোর করার একটি অংশ। বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি এনজিও নতুন স্তরের এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।

আজ থেকে পশ্চিম তীরে চালু হওয়া নতুন নিয়মের ধারা বিবরণীতে বলা হয়, কোনো ফিলিস্তিনির সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর ৩০ দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই নিয়মের আওতায় কোটাভুক্ত হতে পারবেন ফিলিস্তিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১০০ জন শিক্ষক। অবশ্য ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কোটাই থাকছে না।

ব্যবসায়ী ও সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, এই নিয়মে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনিতেই ইসরায়েল সরকার ভিসা ও এর মেয়াদের বাড়ানোর ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করেছে। প্রায়ই পশ্চিম তীরে কয়েক মাসের বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ করতে হয়। ভিসা জটিলতায় তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আর এ নতুন নিয়ম, ভিসার ক্ষেত্রে আরেকটি খড়গ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে

মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে
জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • জাতিসংঘের সাধরণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর জাতিসংঘের মাধ্যমে আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। খবর এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের পরামর্শক ডেরেক চোলেট জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন কূটনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর অধিকতর চাপ প্রয়োগের পক্ষে স্বীকৃত অনেক কারণ রয়েছে।’ মিয়ানমারে চলতি মাসে এক বিমান হামলায় স্কুলের ১১ জন ছাত্রছাত্রী হত্যা এবং গত জুলাইয়ে চার বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চোলেট। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

চোলেট বলেন, তিনি মিয়ানমারের অন্যান্য সরকার এবং ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টি এখনো একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে আছে যার সুনির্দিষ্টতাও স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মিত্র দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে চোলেট বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন কীভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেবে তা নিয়ে আমাদের আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’

সামরিক জান্তা মিয়ানমারে আগামী বছরের আগস্টে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রাক্তন একাধিক সরকারের সঙ্গে চোলেট কথা বলে জানতে পেরেছেন, আসন্ন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বলেছি যে, এসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জান্তা সরকার মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখে না, রাজবন্দিদের আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে, আর অং সান সু চি মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে গত ২০ মাসে কেউ দেখেনি।’

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা টমাস অ্যান্ড্রুজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি হবে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের ওপর এ পর্যন্ত ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জান্তা সরকারের নেতারাই মূলত এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারে চলমান সংকট নিয়ে কোনো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ভারতও এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।


মাস্ক পরে বাঁশি বাজানো

মাস্ক পরে বাঁশি বাজানো
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

হংকংয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের একাধিক মাস্ক পরে বাঁশি বাজানোর একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে হাস্য-কৌতুক শুরু হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা ব্যুরো একটি বিজ্ঞাপনে ওই ভিডিও ব্যবহার করেছে।

বিবিসি জানায়, আগামী ১ অক্টোবর চীনের জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে বিজ্ঞাপনটি প্রচার করা হয়েছে। এর আগে হংকং কোভিড প্রতিরোধের লক্ষ্যে আরোপিত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে মাস্ক পরিধানের বিষয়টিও রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির আবির্ভাবের পর থেকে যে গুটিকয়েক শহর কঠোর পদক্ষেপ ধরে রেখেছে, সেগুলোর মধ্যে হংকং একটি। ‘তরুণ চীনের ভাষ্য’ শিরোনামের ভিডিওটির উপজীব্য বিষয় হংকংয়ের তারুণ্য। এতে অল্প বয়সী ছাত্রছাত্রীদের গান-বাজনা, ক্যালিগ্রাফি, মার্শাল আর্ট প্রভৃতি শৈল্পিক কার্যক্রমের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী পাঁচ মিনিটের বেশি লম্বা ভিডিওটিতে নিজেদের নৈপুণ্য দেখিয়েছে। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হংকংয়ের শিক্ষা ব্যুরো গত বুধবার ভিডিওটি প্রকাশ করে। এতে ৪৫ সেকেন্ডের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, মাস্কে মুখ ঢাকা দুই স্কুলছাত্রী পাশাপাশি বাঁশি বাজাচ্ছে। তাদের বাঁশির ওপরে আরেকটি মাস্ক দিয়ে ঢাকা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দৃশ্য নিয়ে মজা করেন অনেকে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের সাংবাদিক জেফি ল্যাম টুইটারে লিখেছেন, ‘এই শহর আমাকে চমকে দিতে কখনো ব্যর্থ হয়নি।’

ফেসবুকে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা অনেক কৌতুকের মধ্যেও সেরা হতে চলেছে।’

আরেক ব্যক্তি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা হংকংয়ের কোভিড নিয়ে আতঙ্কের নমুনা।’

কোভিড নিয়ন্ত্রণে চীনে যেমন কড়াকড়ি আছে, হংকংও সেগুলো অনুসরণ করে। বাইরে থেকে কেউ হংকংয়ে গেলে এখনো তাকে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হয়। তবে আগামী সোমবার থেকে সেই বিধিনিষেধ শিথিল করার একটা ঘোষণা গতকাল শুক্রবারই প্রচার করা হয়েছে।

 


ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৬ ছাড়িয়েছে

ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৬ ছাড়িয়েছে
হিজাব স্বাধীনতার জন্য বিক্ষোভরত এক ইরানি নারী।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইরানে পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২৬ জন মারা গেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে গতকাল শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে এবিসি নিউজ। তবে নিহত ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।

মাথায় ঠিকমতো কাপড় না পরায় মাহসার বিরুদ্ধে পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা (মোরালিটি) পুলিশ  তাকে তেহরানের একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে। তিন দিন পর হাসপাতালে কোমায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের নির্যাতনই তার মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে। আর মাহসার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা হিজাববিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানি নারীদের একটি অংশ বহুদিন ধরেই হিজাববিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করছিলেন, মাহসার মৃত্যুর জেরে সেই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুরোদমে চলছে এই আন্দোলনের স্বপক্ষে প্রচারণা ও ভিডিও বার্তা।

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে প্রথমে ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেটা ক্রমে দেশটির ৫০টির বেশি ছোট-বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। টানা ছয় দিনের এই বিক্ষোভে বেশ কয়েক জায়গায় নারীরা নিজেদের মাথার স্কার্ফ খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে পতাকা বানিয়ে রাস্তায় উড়িয়েছেন।

বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ‘ইরানে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু এখন বিক্ষোভের নামে যা হচ্ছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এগুলো বিশৃঙ্খলার কাজ।’ গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, এই রক্তাক্ত বিক্ষোভের সূত্রপাতকারী সেই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শত্রুদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনী: ইরানি সেনাবাহিনী হিজাববিরোধী বিক্ষোভকারীদের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হুঁশিয়ারি দিয়ে গতকাল বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা শত্রুদের মোকাবিলা করবে।


হিলারি ম্যান্টেলের জীবনাবসান

হিলারি ম্যান্টেলের জীবনাবসান
হিলারি ম্যান্টল।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বুকার পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ লেখক হিলারি ম্যান্টেল (৭০) শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার প্রকাশক এ কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

উল্ফ হল নামের ত্রয়ী উপন্যাস লিখে হিলারি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে তিনি টমাস ক্রমওয়েল সিরিজের প্রথম বই উল্ফ হল-এর জন্য বুকার পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১২ সালে তিনি ব্রিং আপ দ্য বডিজ বইয়ের জন্য আবার একই পুরস্কার লাভ করেন। 

হিলারির বইয়ের প্রকাশক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রিয় লেখক ডেম হিলারি ম্যান্টেলের মৃত্যুতে আমাদের হৃদয় ভেঙেছে। তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবার, বিশেষত স্বামী জেরাল্ডের প্রতি সমবেদনা। এটা একটা বিপর্যয়কর ক্ষতি আর তিনি অসাধারণ কিছু কাজ রেখে গেছেন বলে আমরা কৃতজ্ঞ।’

টমাস ক্রমওয়েল সিরিজের শেষ বই দ্য মিরর অ্যান্ড দ্য লাইট ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ফিকশন শাখায় সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ছিল। মূলত অষ্টম হেনরির আমলে টমাস ক্রমওয়েলের ক্ষমতায় আরোহণের একটি কাল্পনিক বিবরণ নিয়ে উল্ফ হল লিখেন হিলারি ম্যান্টেল। তিনি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, বইটি লিখতে তার বহু বছর গবেষণা করতে হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।


রাশিয়ার অংশ হতে গণভোট শুরু

রাশিয়ার অংশ হতে গণভোট শুরু
লুগানস্কে গণভোটের লিফলেট বিতরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের চার অঞ্চলে গতকাল শুক্রবার থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। রাশিয়ার সমর্থিত কর্মকর্তারা লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করছেন। এদিকে জাতিসংঘের তদন্তকারী দল ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো গণভোটের আয়োজনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে। তারা একে ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূমি কেড়ে নিতে রাশিয়ার পাঁয়তারা হিসেবে দেখছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা গণভোটকে রাশিয়ার লোক দেখানো নাটক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, রাশিয়া জানে এর ফলাফল কী হবে।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার অংশ হয়ে গেলে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়বে। কারণ রাশিয়া তখন বলতে পারবে, পশ্চিমাদের সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের এলাকায় আঘাত হানছে। তাই পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার তাদেরও রয়েছে বলে দাবি করবে রাশিয়া। এতে যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক দিকেই মোড় নিবে।

৫ দিনব্যাপী গণভোটে রুশ সমর্থিত কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোট সংগ্রহ করবেন। পঞ্চম দিনে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাররা ব্যালট প্যাপারে ভোট দেবেন।

পালাচ্ছেন রুশ পুরুষরা

যুদ্ধে ডাক পড়ার ভয়ে রাশিয়ার পুরুষদের দেশ ছেড়ে পালানোর হিড়িক লাগার খবর মিলেছে। বিবিসি জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে রিজার্ভ সেনা তলবের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে সীমান্তে রুশদের ভিড় বেড়ে গেছে। তরুণ-যুবা পুরুষরা সড়কপথে জর্জিয়া ও ফিনল্যান্ডে চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার আকাশপথে ইস্তাম্বুল, বেলগ্রেড ও দুবাইয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে রুশদের দেশ ছেড়ে পালানোর খবরকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া সরকার।

বিবিসি জানায়, জর্জিয়া সীমান্তে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কেউ কেউ মোটরবাইক কিংবা পায়ে হেঁটেও সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন। জর্জিয়ায় যেতে রুশদের ভিসা লাগে না। সে কারণে সেখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লেগেছে। ফিনল্যান্ডের সঙ্গেও ৮০০ মাইল রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে। তবে দেশটিতে যেতে ভিসা প্রয়োজন হয়। তা সত্ত্বেও রাতারাতি সেখানে ভিড় বেড়েছে বলে খবর মিলেছে।

জাতিসংঘের তদন্তে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ মিলেছে

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ করার প্রমাণ পেয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ভুক্তভোগীদের মুখে বোমা হামলা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার কথা শুনেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গতকাল জানায়, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণাদির ভিত্তিতে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তদন্ত কমিশন। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ১৫০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে। তারা ২৭টির বেশি শহর ঘোরেন। এসব শহরে তারা খুঁজে পাওয়া বিভিন্ন গণকবর ও পরিত্যক্ত টর্চার সেল পরিদর্শন করেন।

রুশদের প্রতিবাদী হতে বললেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া সরকারের সেনা সমাবেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার জন্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জেলেনস্কি গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও ভাষণে দাবি করেন, এই ছয় মাসের যুদ্ধে রাশিয়ার ৫৫ হাজার  সেনা প্রাণ হারিয়েছে। রাশিয়ার জনগণ যদি যুদ্ধে আর কোনো সেনার মৃত্যু দেখতে না চায় তাহলে তাদের প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হবে। রুশ নাগরিকদের তিরস্কার করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যে ইউক্রেনের নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতন করাসহ সব ধরনের অপরাধের অবৈধ সহযোগী হয়ে গেছেন। কারণ, আপনারা নীরব ছিলেন। আপনারা নীরব রয়েছেন।’

জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার পুরুষদের জীবন অথবা মৃত্যু যেকোনো একটি এখন বেছে নিতে হবে। আপনারা সুস্থ জীবনযাপন করবেন নাকি যুদ্ধের ময়দানে এসে পঙ্গুত্ব বরণ করবেন সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

রাশিয়ার নারীদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, আপনাদের স্বামী, সন্তান ও নাতিদের চিরতরে হারাতে চান নাকি মৃত্যু, যুদ্ধ ও এক ব্যক্তির (পুতিন) হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করবেন সে সিদ্ধান্ত এখন নিতে হবে। উল্লেখ্য, রাশিয়ায় গত বুধবার যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ চলাকালে ১৩শ’র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।