রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

কানাডায় ২ আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত ১০, তিন প্রদেশে সতর্কতা

কানাডায় ২ আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত ১০, তিন প্রদেশে সতর্কতা
হামল্য আহতদের হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: অনলাইন
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশে দুই আততায়ীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির জেমস স্মিথ ক্রি ন্যাশন ও পাশের ওয়েলডন গ্রামের ১৩টি স্থানে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। জেমস স্মিথ ক্রি ন্যাশনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সাসকাচুয়ান ছাড়াও ম্যানিটোবা ও আলবার্টা প্রদেশে বিপজ্জনক ব্যক্তির সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে মোবাইল ফোনে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এই হামলায় জড়িত হিসেবে ড্যামিয়েন স্যান্ডারসন (৩১) ও মাইলস স্যান্ডারসন (৩০) নামে দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের আটক করা যায়নি। পুলিশ ধারণা তাদের সশস্ত্র ও বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে।

এই হামলায় সতর্কতা জানিয়ে সাসকাচুয়ান প্রদেশের রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের পক্ষ থেকে এক টুইটে বলা হয়, 'নিরাপদ স্থান ত্যাগ করবেন না। কাউকে বাসায় ঢোকানোর আগে সতর্কতা অবলম্বন করুন।' পাশাপাশি হামলাকারীদের ধরতে সড়কে সড়কে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। গাড়িচালকদের যাত্রী পরিবহনে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হামলা চালানো এলাকা জেমস স্মিথ ক্রি ন্যাশন এলাকাটি মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের আবাসস্থল, যেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস। অন্যদিকে ওয়েলডন গ্রামেও প্রায় দুই শ আদিবাসীর বসবাস।

হামলার ঘটনাকে 'ভয়ংকর ও হৃদয়বিদারক' উল্লেখ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, 'তাদের জন্য আমার সমবেদনা যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন বা যাদের প্রিয়জন হামলার শিকার হয়েছেন।'

সাসকাচুয়ান রয়্যাল পুলিশের কমান্ডিং অফিসার রোনডা ব্ল্যাকমোর বলেন, হামলাকারীরা কয়েকজনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। বাকিরা হয়তো তাদের নির্বিচারী হামলার শিকার।আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

দুই আততায়ীর এই হামলার প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ পায় স্থানীয় সময় রোববার ভোর পৌনে ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা)। সাসকাচুয়ান প্রদেশের রাজধানী রেজিনায় এই হামলা হয়। শহরটি ওয়েলডন গ্রাম থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এর পরপরই বিভিন্ন জায়গা থেকে একের পর এক হামলার খবর আসতে শুরু করে। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ওই দুই হামলাকারীকে রেজিনা শহরে শেষবারের মতো দেখা গেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ব্ল্যাকমোর বলেন, সন্দেহভাজন দুজন সম্ভবত কালো রঙের একটি নিশান রোগ গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে। তাদের কাউকে কিংবা গাড়িটি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে এবং জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে জানাতে হবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের অবস্থান ও গতিবিধি আমাদের জানা নেই। তাই প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে তথ্য পেলেই জানাতে হবে। পাশাপাশি আমরা সম্ভাব্য সর্বোচ্চসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে এ ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত করেছি।


ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা

ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সশস্ত্র রুশ সেনারা
রাশিয়ার অংশ হতে ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে তার মধ্যে লুগানস্কও রয়েছে। ছবি: টুইটার
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • রাশিয়ার অংশ হতে গণভোট

রাশিয়ার অংশ হতে দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ভোট নিতে সশস্ত্র রুশ সেনারা ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছে বলে খবর মিলেছে। এক ইউক্রেনীয় নারী বিবিসিকে বলেন, রুশ সেনারা ভোটারদের প্রশ্ন করে মৌখিক উত্তর শুনে নিজেরাই ফরম পূরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ ওই গণভোটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করতে রাশিয়া এমন ধোঁকাবাজির গণভোটের আয়োজন করছে।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার অংশ হতে গত শুক্রবার থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনে গণভোট শুরু হয়েছে। চারটি অঞ্চলই রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দখল করে রেখেছে। কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো এ গণভোটকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে। চারটি অঞ্চল নিয়ে নিলে ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার হয়ে যাবে। পাঁচ দিনব্যাপী গণভোটে প্রথম চার দিন ভোটারদের ঘরে গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হবে। পঞ্চম দিনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসার সুযোগ পাবেন।  জনগণের নিরাপত্তার জন্যই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে রাশিয়া দাবি করেছে। এদিকে দক্ষিণ খেরসনে শহরে মাঝখানে  ব্যালট বাক্স নিয়ে স্বশস্ত্র পাহারাদাররা লোকজনের ভোট সংগ্রহ করছে। জাপোরিঝিয়ার মেলটিপোল শহরের এক নারী জানান, তার বাড়িতে  রুশ সেনাদের সঙ্গে স্থানীয় দুই ভোটকর্মী এসে ভোট নিয়ে যায়। বাড়িপ্রতি শুধু একজনেরই ভোট নেয়া হচ্ছে। ওই  নারী জানান, তার বাবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। এতে তারা আতঙ্কিত রয়েছেন যে, ভোটের কারণে তারা হয়তো বাড়িছাড়া হতে পারেন। ইউক্রেনীয় সরকারের এক উপদেষ্টা বলেন, রাশিয়ার এমন  তথাকথিত গণভোটের আয়োজন বন্ধ করাটা খুব কঠিন। অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষের ভোট নেয়া হচ্ছে।

এদিকে জি-৭ জোট জানায়, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে জি-৭ জোট গঠিত।

বিশ্বের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া দখলকৃত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ‘প্রহসনের গণভোটের’ নিন্দা জানাতে বিশ্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া গত শুক্রবার প্রাত্যহিক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্ব অবশ্যই এমন প্রহসনের গণভোটের ব্যাপারে কঠোর নিন্দা জানাবে।’

স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার বলেছেন, ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়ার অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা স্বীকৃতি দেবে না। তিনি গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। হোয়াইট হাউস থেকে বাইডেনের এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে যেন আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় সে লক্ষ্যে মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে।  ইউক্রেন ও এর জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বাইডেন জানান।

পুতিনের হুমকি ধাপ্পাবাজি নয়: ইইউ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র হামলার হুমকি কোনো ধাপ্পাবাজি নয় বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের মতে, যুদ্ধ বিপজ্জনক সময়ে পৌঁছেছে। রুশ বাহিনীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং পুতিনের এমন বেপরোয়া হুমকি খুবই খারাপ। বোরেল বলেন, এমন বিপজ্জনক হুমকি আসলে তা গুরুত্বের সঙ্গেই নেয়া উচিত।


অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়

অস্তিত্বের সংকটে কাশ্মীরের বাকারওয়াল সম্প্রদায়
কাশ্মীরের যাযাবর বাকারওয়াল উপজাতি।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ভারতশাসিত কাশ্মীরের একটি যাযাবর উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর নাম বাকারওয়াল। কিন্তু বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের মুখে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ধরে রাখতে লড়াই করছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনযুদ্ধের ছবি।  

জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে যাযাবরদের সংখ্যা কম নয়, প্রায় ৩৪ লাখ। তাদেরই একটি অংশ এই বাকারওয়াল জনগোষ্ঠী, যারা মূলত গবাদিপশু লালন-পালন করে। জম্মু ও কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে দারদউর জঙ্গলে বাকারওয়াল উপজাতির আবাস রয়েছে। তারা গ্রীষ্মকালে কাশ্মীরে ছয় মাস কাটায়, এপ্রিল মাসে উপত্যকায় চলে যায়। আবার অক্টোবরের মধ্যে তারা শীতের মাসগুলো কাটানোর জন্য জম্মুর সমভূমিতে ফিরে আসে।

সংবিধানে স্বীকৃত উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হিসেবে উল্লেখ করে ২০০১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাকারওয়ালদের ‘তফসিলি উপজাতি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।  তবে তাদের পালিত গবাদিপশুর ওপর বন্যপ্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বাকারওয়ালরা সমস্যায় পড়েছে। তাদের গবাদিপশু বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান এই জনগোষ্ঠীর একজন রাখাল লিয়াকত খান। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাইরে থেকে এসে আমাদের জীবনের সৌন্দর্যের ছবি আঁকার চেষ্টা করেন কিন্তু আসলে আমাদের জীবন ধৈর্য ও দুর্দশার গল্প।’

বাকারওয়ালদের আরেকটি প্রধান উদ্বেগ হলো বনভূমিতে তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ। অরণ্যবাসী শতাধিক পরিবারকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য গত বছর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে তারা কয়েক দশক ধরে বসবাস করছে। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি বাড়িও ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে সম্প্রদায়টি ওই এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘরে বাস করছে। অস্তিত্ব ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা অর্জন ও সহজ জীবনযাপনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হচ্ছে। প্রশাসন বনাঞ্চলে এই উপজাতি শিশুদের জন্য কমিউনিটি স্কুলও স্থাপন করেছে।


সিরীয় উপকূলে নৌকাডুবি, ৭৭ আশ্রয়প্রার্থীর মৃত্যু

সিরীয় উপকূলে নৌকাডুবি, ৭৭ আশ্রয়প্রার্থীর মৃত্যু
সিরিয়ার উপকূলীয় শহর তারতাসের সাগরে ভাসমান একটি শিশুর মরদেহ তুলে আনার চেষ্টা করছেন এক উদ্ধারকর্মী। ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সিরিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কোস্টগার্ড ওই নৌকার আরোহী ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। তাদের তারতাস শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খবর বিবিসির।

সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, লেবানন থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের নিয়ে নৌকাটি সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। সাগরের উত্তাল ঢেউ ও তীব্র বাতাসের কারণে সিরিয়ার উপকূলের কাছে ওই নৌকা গত বৃহস্পতিবার ডুবে যায়। এ সময় নৌকাটিতে লেবানিজ, সিরীয় এবং ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুসহ ১২০ থেকে ১৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল। সম্ভবত তারা সাইপ্রাসে যেতে চেয়েছিল। সিরীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় লাশগুলো লেবানিজ রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  

সম্প্রতি লেবাননে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং দেশটিতে পাউন্ডের মূল্য ৯০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকহারে কমে গেছে। দেশটির জনগণ বর্তমানে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। ফলে লেবানন থেকে অবৈধ পথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শুধু লেবানন নয়, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাচ্ছেন হাজার হাজার অভিবাসী। যাওয়ার পথে প্রায় নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।


ইরানে বিক্ষোভে অর্ধশত নিহত

ইরানে বিক্ষোভে অর্ধশত নিহত
ইরানের পোশাক স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে জার্মানির বার্লিনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন প্রবাসী ইরানি নারীরা। ছবি: ডয়চে ভেলে
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • পোশাকে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন

পুলিশি হেফাজতে ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে ইরানে বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়ের রাজধানী অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গতকাল শনিবার এ তথ্য দিয়েছে। খবর এএফপির।

আইএইচআর বলছে, ইরানের উত্তর গিলান প্রদেশের রেজভানশাহর শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর দেয়া আগুনে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আমোল, উত্তর ইরানেও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম অর্ধশত মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘এর পরও মানুষ তার মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।’ দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অন্তত সাড়ে ৭০০ মানুষ আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ছয় শর বেশি মানুষ।  

ইরানের ৮০টিরও বেশি শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলমান এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

প্রবল এই বিক্ষোভ দমনে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান। ইব্রাহিম রাইসির সরকার গত শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অভিহিত করছেন সরকার ও হিজাবপন্থিরা। তারাও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, প্রভৃতি স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের মেট্রো স্টেশনে মাথার কাপড় ঠিক না থাকায় পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নৈতিকতা পুলিশ বা মোরালিটি পুলিশ কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভ্যানে তোলার পর মোরালিটি পুলিশ তাকে ব্যাটন দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে এবং গাড়ির সঙ্গে মাথা ঠুকিয়ে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, মাহসা হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

ইরানিদের জন্য ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

মাহসার মৃত্যুর পর নারীর পোশাকের স্বাধীনতার জন্য বহু দিন ধরে চলা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মাহসা আমিনি ও হিজাব আন্দোলনের নামে হ্যাশট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ও বার্তা প্রকাশ করতে থাকেন ইরানি নারীরা। এই পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

তবে বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ওপর থেকে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ‘ইরানি জনগণকে যেন বিচ্ছিন্ন ও অন্ধকারে রাখা না হয় তা নিশ্চিতে আমরা সাহায্য করতে যাচ্ছি। ইরানিদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইন্টারনেট বিধিনিষেধের আংশিক শিথিল করা হচ্ছে।’

সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত এই ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ইরানে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে। এ বিষয়ে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানি জনগণের ওপর তেহরানের নজরদারির প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। ট্রেজারি দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি ওয়ালি আদেয়েমো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জনগণকে নজরদারির জন্য তেহরানের প্রচেষ্টা মোকাবিলায় ইরানের মানুষকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাহসী ইরানিরা মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির মানুষের কাছে তথ্যের অবাধ প্রবাহের জন্য তার সমর্থন দ্বিগুণ করছে।’

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা রাইসির: ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। কেবল সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেখানে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর জেরে আন্দোলন শুরু হলেও ক্রমে তা নারীর পোশাকের স্বাধীনতা, হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

মাহসার মৃত্যুর ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, মাহসাকে পুলিশি নির্যাতন করা হয়নি। 

গুলিয়ান প্রদেশে গ্রেপ্তার ৭৩৯: ইরানে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কেবল একটি প্রদেশ থেকে ৬০ নারীসহ সাত শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। বার্তা সংস্থা তাসনিম গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে। গুলিয়ান প্রদেশের পুলিশপ্রধান জেনারেল আজিজুল্লাহ মালেকি বলেন, ৬০ জন নারীসহ মোট ৭৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  


মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে

মিয়ানমারকে আরও চাপ দিতে হবে
জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • জাতিসংঘের সাধরণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর জাতিসংঘের মাধ্যমে আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। খবর এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের পরামর্শক ডেরেক চোলেট জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন কূটনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর অধিকতর চাপ প্রয়োগের পক্ষে স্বীকৃত অনেক কারণ রয়েছে।’ মিয়ানমারে চলতি মাসে এক বিমান হামলায় স্কুলের ১১ জন ছাত্রছাত্রী হত্যা এবং গত জুলাইয়ে চার বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চোলেট। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

চোলেট বলেন, তিনি মিয়ানমারের অন্যান্য সরকার এবং ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টি এখনো একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে আছে যার সুনির্দিষ্টতাও স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মিত্র দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে চোলেট বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন কীভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেবে তা নিয়ে আমাদের আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’

সামরিক জান্তা মিয়ানমারে আগামী বছরের আগস্টে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রাক্তন একাধিক সরকারের সঙ্গে চোলেট কথা বলে জানতে পেরেছেন, আসন্ন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বলেছি যে, এসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জান্তা সরকার মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখে না, রাজবন্দিদের আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে, আর অং সান সু চি মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে গত ২০ মাসে কেউ দেখেনি।’

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা টমাস অ্যান্ড্রুজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি হবে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের ওপর এ পর্যন্ত ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জান্তা সরকারের নেতারাই মূলত এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারে চলমান সংকট নিয়ে কোনো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ভারতও এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।