মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

আজারবাইজান-আর্মেনিয়ায় ফের সংঘর্ষ

আজারবাইজান-আর্মেনিয়ায় ফের সংঘর্ষ
সোটক গ্রামের কাছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে একটি সীমান্ত চৌকিতে পরিখা তৈরি করে পাহারায় আর্মেনীয় সেনাবাহিনী।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া সীমান্তবর্তী দুই দেশের সেনাদের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রুশ বার্তা সংস্থা তাস-এর বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। ২০২০ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল আজারবাইজান। কিন্তু সোমবার রাতভর এই রক্তাক্ত সংঘর্ষে সেনা নিহতের কথা জানিয়েছে আজারবাইজান। অন্যদিকে সংঘর্ষের কথা স্বীকার করলেও নিজেদের সেনা হতাহতের বিষয়ে কিছু জানায়নি আর্মেনিয়া কর্তৃপক্ষ। সংঘাতের জন্য উভয় দেশই একে অপরকে দোষারোপ করছে।

আজারবাইজান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো মর্টারসহ বিভিন্ন ক্যালিবারের অস্ত্র দিয়ে আজারবাইজানের সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়টি অবস্থান, আশ্রয়স্থল ও রিইনফোর্সমেন্ট পয়েন্টে তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে। এতে প্রাণহানি ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সীমান্তে আর্মেনিয়ার বাহিনী গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে, এই এলাকায় অস্ত্র নিয়ে এসেছে এবং গত সোমবার রাতে খনন অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সামরিক লক্ষ্যস্থলে হামলার জন্যই তারা এসব করেছে।

উল্টোদিকে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আজারবাইজানের বড় মাপের উসকানির ফলেই গোলাগুলি শুরু হয়। আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীগুলোও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি আহ্বান করেছে এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্লক কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের প্রতি আবেদন জানাবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছেও আবেদন জানাবে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্লিনকেন অবিলম্বে সহিংসতা থামানোর জন্য দুই পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ছাড়া রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর্মেনিয়ার ৪৯ জন সেনা সদস্য নিহতের কথা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দুই পক্ষকেই উত্তেজনা থেকে বিরত থাকার জন্য ও সংযম পালনের আহ্বান করছি। গত ২০২০ ও ২০২১ সালে রাশিয়া, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতৃবৃন্দের মাঝে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংঘটিত হয়েছিল, সে অনুসারে কঠোরভাবে যুদ্ধবিরতি পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাকু ও ইয়েরাভেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে মস্কো। পরিস্থিতি সমাধানে সহায়তা করার জন্য আর্মেনিয়ান নেতৃত্বের কাছ থেকে একটি আবেদন গৃহীত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে মঙ্গলবারের মধ্যেই রাশিয়ার মধ্যস্থতার যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হবে।

১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকার সময় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে প্রথম দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড বলে স্বীকৃত অঞ্চলটি দখল করে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আর্মেনীয় মানুষের বসবাস। ২০২০ সালে লড়াই করে অঞ্চলটি আর্মেনিয়ার কাছ থেকে পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আজারবাইজান। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সে সময় সংঘাতের অবসান হয়েছিল। এর পর থেকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার চুক্তির জন্য দুই দেশের নেতারা একাধিকবার মিলিত হয়েছেন।

 


ইজিউমের গণকবরে নির্যাতনের চিহ্ন: রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করেছে

ইজিউমের গণকবরে নির্যাতনের চিহ্ন: রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করেছে
নীল প্লাস্টিকের আবরণ পরা শতাধিক ইউক্রেনীয় জরুরি পরিষেবাকর্মী অস্থায়ী কবরগুলো খুঁড়ে মৃত্যুর কারণগুলো জানার চেষ্টা করছেন। ছবি: এএফপি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

খারকিভ প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিউমের বিশাল গণকবরে পাওয়া মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রুশ সেনারা খারকিভ ত্যাগ করার পর ইউক্রেনীয় সেনারা সেখানে দখল নিলে পূর্বের পাইন বন থেকে প্রচণ্ড গন্ধ বের হতে থাকে। খবর পেয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ মাটি খুঁড়ে সাড়ে চার শর মতো মরদেহ উদ্ধার করা শুরু করে। সেনা সদস্য ছাড়াও মৃতদের মধ্যে অনেক পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে।

খারকিভের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর ওলেক্সান্ডার ইলিয়েনকভ জানান, তারা বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের গলায় দড়ি পেয়েছেন। তারা নিশ্চিত এই গণকবরের বেশির ভাগকেই নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। এখানে যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এই গণকবরের বেশির ভাগ কবরের ওপরই নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি কবরের ওপর কাঠের ক্রুশ চিহ্নের ফলকে নাম লেখা ছিল।

এ বিষয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়াকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধী বলে অভিযুক্ত করেন। এই গণকবর ছাড়াও রাশিয়া যেসব অঞ্চলে দখল নিয়েছিল, সেখানকার মানুষের ওপরই নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবি করেন জেলেনস্কি। এ ছাড়াও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, চলতি মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী দ্রুত বেশ কয়টি এলাকার দখল ফিরে পেলেও যুদ্ধ এখনই শেষ হচ্ছে না বলে মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

মোদি-পুতিন বৈঠক

উজবেকিস্তানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবারের মোদি-পুতিনের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আগ্রহ ছিল বিশ্ববাসীর। তবে শুরুতেই রাশিয়াকে যুদ্ধ থামানোর আরজি জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর জবাবে পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, রাশিয়াও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে চায়।

তবে মোদিকে আশ্বস্ত করলেও এসসিও সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন জানান, ইউক্রেনের পূর্ব ডনবাস অঞ্চলকে মুক্ত করা রাশিয়ার প্রধান সামরিক লক্ষ্য ছিল। তিনি এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনও দেখছেন না এখনো। তিনি আরো বলেন, ‘এই যুদ্ধে তাড়াহুড়া করছে না রাশিয়া।’ রাশিয়ায় বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন। আমরা এখন পর্যন্ত সংযমের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও গুরুতর হবে।’

পুতিনকে বাইডেনের হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ সেনা মুক্ত হয়েছে। আরো অনেক স্থানেই রাশিয়া পিছু হটছে বলে দাবি ইউক্রেনের। এমন পরিস্থিতিতে  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শুক্রবার বিবিসির একটি সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, “িনুযায়ী ছয় হাজার বর্গ ও,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার দেখার পর এই চিন্তা পরিবর্তন করা উচিত। তবে রাশিয়া যদি ইউক্রেনে পারমাণবিক বা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ‘কঠোর পরিণাম’ ভোগ করবে।”


সাগর বাঁচাতে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর

সাগর বাঁচাতে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর
প্রবাল প্রাচীর।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইন্দোনেশিয়ার একদল পরিবেশবাদী সেখানকার সাগরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সমুদ্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রবালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের মতো দেখতে এই বিশেষ ধরনের অমেরুদণ্ডী প্রাণী সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উপযোগী পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। কিন্তু দূষণের কারণে বহু দেশের উপকূল থেকে প্রবাল হারিয়ে যেতে বসেছে। ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’ নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার সুবিশাল প্রবাল প্রাচীরটিও এখন হুমকির মুখে।

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলেও প্রবাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের চেষ্টায় সেখানে আবার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা লোহার তৈরি গম্বুজাকৃতির বেশ কয়েকটি কাঠামোর মধ্যে গবেষণাগার স্থাপন করে তাতে প্রবাল উৎপাদন করেন। পরে সেগুলো সাগরতলের প্রাকৃতিক পরিবেশে নামিয়ে দেন।

প্রত্যাশার ইংরেজি প্রতিশব্দ HOPE (হোপ)-এর আদলে ওই প্রবালগুলো সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন- নেচার কনজারভেন্সি এবং সমমনা সহযোগী সংস্থা সিবা এই প্রবাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তারা ২০২৯ সাল নাগাদ ওই অঞ্চলের ১ লাখ ৮৫ হাজার বর্গমিটারজুড়ে প্রবাল প্রাচীর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন।  

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি অংশের প্রবাল প্রাচীর ৫ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ বিষয়ে মার্স ইংক-এর প্রধান সমুদ্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, ‘প্রবাল প্রাচীর নষ্ট হয়ে গেলে সেটা পুরো সমুদ্রের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। মাছের বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যায়, যা মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যও ক্ষতিকর।’

ইন্দোনেশীয় উপকূলের প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় কৃত্রিম উপায়ে প্রবাল উৎপাদন ও সমুদ্রে প্রতিস্থাপনের বিষয়ে স্মিথ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা পাবে। পরিণামে, জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও উপকূলবাসী অনেকটা রেহাই পাবে।   


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: বিভিন্ন দেশ জনগণের জন্য কী করছে?

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: বিভিন্ন দেশ জনগণের জন্য কী করছে?
প্রতীকী ছবি
মৌসুমী সাহা
প্রকাশিত

মৌসুমী সাহা

করোনা মহামারির দাপট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম মেটাতে জেরবার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট সামাল দিতে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। এ সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য-

উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ মওকুফ করেছেন। এতে ঋণের চাপে ক্লিষ্ট লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিক্ষার্থী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবন শেষ করেও তাদের সেই ঋণের বোঝা টানতে হয়। বাইডেন প্রশাসন গত মাসে ৪৩ হাজার কোটি ডলারের ‘মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইন’ ঘোষণা করে। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে  কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে থাকা ওষুধের মূল্য হ্রাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ জ্বালানিতে কর কমানোর পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়িয়েছে। দেশটির বৃহত্তম তেল সংস্থা পেট্রোব্রাস সম্প্রতি পাম্পগুলোয় পেট্রল, ডিজেলের দাম ৭ শতাংশ কমায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত পেট্রোব্রাস চার দফায় জ্বালানির দাম কমিয়েছে।

চিলি: লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ চিলির সরকার গত জুলাইয়ে শ্রম ভর্তুকিসহ ১২০ কোটি ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে দেশটি ১ কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৭৫ লাখ মানুষের জন্য এককালীন ১২০ ডলার অর্থ দেয়ার ঘোষণা করে।

এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য

জাপান: আগামী বছরের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছর পর্যন্ত গড়ে ন্যূনতম বেতন রেকর্ড ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া জাপান সরকার বেশি দাম দিয়ে গম আমদানি করলেও দেশীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে আগের দামেই তা সরবরাহ করছে। দেশটির পার্লামেন্টে গত এপ্রিলে ১০ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের একটি বিল পাসের পর সরকার এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়।

ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হিসেবে বাজেটের ২৪ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (১৬০ কোটি মার্কিন ডলার) সমাজসেবা খাতে ব্যয়ের জন্য ফের বরাদ্দ করবে। এর মধ্যে ২ কোটি ৬ লাখ পরিবারে নগদ অর্থ বিলি করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সব আঞ্চলিক প্রশাসনকে পরিবহন ভাড়ায় ভর্তুকি দেয়ার জন্যও নির্দেশ দেবে।

ভারত: ভারত সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যে চার মাস আগে গম, চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ জারি করে। এ ছাড়া দেশটিতে আমদানি করা ভোজ্যতেলের ওপর কর কমানো হয়।  

মালয়েশিয়া: মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ। এ অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া সরকার বিভিন্ন পণ্যে ভর্তুকি এবং নগদ অর্থ সহায়তার জন্য রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত (১ হাজার ৭২৫ কোটি ডলার) খরচ করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা গত জুলাইয়ে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। আর এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমাজসেবা কর্মসূচি বাড়িয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইউএই অর্থনৈতিক সহায়তা দ্বিগুণ করেছে, অন্যদিকে সৌদি বাদশা সালমান-বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ২০ বিলিয়ন রিয়াল (৫৩৩ কোটি ডলার) নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, তুরস্ক গত বছর চাকরিজীবীদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ায়। এর ওপর এ বছর সর্বনিম্ন বেতন আরও ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপ

অস্ট্রিয়া: আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রিয়ায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিলের কিছুটা অংশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, বছরে প্রতিটি পরিবার গড়ে ৫০০ ইউরো করে পাবে।

ফ্রান্স: জ্বালানির দাম বেড়ে গেলেও ফ্রান্সে গ্যাসের বিক্রয়মূল্য গত বছরের অক্টোবরের দামেই বেঁধে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সীমিত রাখা বিদ্যুতের দাম ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে জ্বালানি বিল পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ ইউরো করে দেয়া হচ্ছে।

জার্মানি: জার্মানিতে সেপ্টেম্বরে নিয়মিত চাকরিজীবীদের জন্য সরকার এককালীন ৩০০ ইউরো করে দিচ্ছে। এ ছাড়া শীতে ঘর উষ্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনতে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে সরকারি অর্থ পেয়েছে।

স্পেন: স্পেন আগামী অক্টোবর থেকে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত গ্যাসে ভ্যাট ২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করছে। গত জুনে আইবেরীয় অঞ্চলের বাজারে বিদ্যুতের পাইকারি দাম কমাতে স্পেন ও পর্তুগাল ৮৪০ কোটি ইউরোর যৌথ পরিকল্পনার অনুমোদন করে যার আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম সীমিত রাখা হবে।

পোল্যান্ড: পোল্যান্ডে বাড়িঘর উষ্ণ রাখতে প্রচুর কয়লা ব্যবহার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে কয়লা কিনতে এককালীন ৬৩০ ইউরো দেয়া হয়। এ ছাড়া তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসে ভর্তুকি দেয়া হয়। 

নেদারল্যান্ডস: নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে জ্বালানি খরচ মেটাতে এককালীন ১ হাজার ৩০০ ইউরো ভর্তুকি দিচ্ছে ডাচ্ সরকার। এ ছাড়া দেশটি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়েছে এবং জ্বালানির ওপর ভ্যাট ৯ শতাংশ কমিয়েছে।

যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস আগামী দুই বছরের জন্য বার্ষিক জ্বালানি বিল গড়ে ২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের মধ্যে রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির মুখে গৃহস্থালি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।  


মাথায় কাপড় না দেয়ায় মরতে হলো

মাথায় কাপড় না দেয়ায় মরতে হলো
মাহসা আমিনি।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইরানে প্রচলিত আইন অনুযায়ী হিজাব পরার নিয়ম পুরোপুরি না মানায় পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা শুরু হয়েছে। নৈতিক (মোরালিটি) পুলিশ ওই তরুণীকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতন করায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসির গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে গত মঙ্গলবার মাহসাকে গ্রেপ্তার করে তুলে নেয়ার সময় পুলিশের গাড়ির তাকে মারধর করা হয়। তবে পুলিশ বলছে, মাহসা হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

মাহসার পরিবার বলছে, তিনি একজন সুস্থ তরুণী ছিলেন। তার এমন কোনো অবস্থা ছিল না, যাতে হঠাৎ করে হৃৎপিণ্ডের সমস্যা দেখা দেবে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মাহসাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। শুক্রবার মারা যাওয়ার আগে তিনি কোমায় ছিলেন।

তেহরানের পুলিশ দাবি করছে, মাহসাকে হিজাব না পরার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তাকে নির্যাতন করা হয়নি।

ইরানে মাথায় কাপড় দেয়ার পর্দাপ্রথা সব নারীর জন্য বাধ্যতামূলক। নারীরা ইসলামিক পোশাক না পরলে সেখানকার সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলোতে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এ নিয়ে বহু দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। এই তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছেন অনেক সরকারপন্থীরাও।

হিজাব নিয়ে এমন বাড়াবাড়ির জন্য অনেকে আবার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সরাসরি দুষছেন। তারা খামেনির পুরোনো একটি ভিডিও শেয়ার করে পুলিশের এই বিশেষ শাখার প্রবল সমালোচনা করছেন। ভিডিওটিতে খামেনি ‘মোরালিটি পুলিশের’ বৈধতার পক্ষে যুক্তি দেন।  ইসলামি শাসনে নারীদের অবশ্যই ইসলামি পোশাকবিধি পালন করতে বাধ্য করা উচিত বলে তিনি বক্তব্য দেন। আর মোরালিটি পুলিশের কর্তব্য হলো ইসলামি আইন মানা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা।


কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের তীব্র লড়াই, নিহত ৩০

কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের তীব্র লড়াই, নিহত ৩০
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন। বিবিসি গতকাল শনিবারি এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে।

বিবিসি জানায়, এরই মধ্যে সংঘাতপূর্ণ ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বহু মানুষকে। রেড ক্রস জানিয়েছে, সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশের সীমান্তে থেমে থেমে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু গত শুক্রবার তা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায়। ট্যাংক, কামান ও রকেট লঞ্চারসহ অন্যান্য ভারী অস্ত্র নিয়ে লড়াই চলে উভয়পক্ষের। কিরগিজস্তানের জরুরি মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, তাদের আঞ্চলিক রাজধানী বাতকেন-এ রকেট হামলা চালিয়েছে তাজিকিস্তানের যোদ্ধারা। হতাহত এড়াতে সীমান্ত এলাকা থেকে নিজেদের এক লাখ ৩৬ হাজার বেসামরিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে কিরগিজ কর্তৃপক্ষ। পাল্টা অভিযোগ এনে তাজিকিস্তান দাবি করছে, কিরগিজ বাহিনী তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী তিনটি তাজিক গ্রামে ব্যাপক গুলি চালিয়েছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। দুই দেশের মধ্যে এক হাজার কিলোমিটার যৌথ সীমানার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ নিয়ে তাদের বিরোধ চলছে। উভয় দেশেই রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি আছে এবং সরকারের সঙ্গে রয়েছে মিত্রতা। তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের শত্রুতা থামাতে মস্কো শুক্রবার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে নজিরবিহীন সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছিল।