সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু

ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু
তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ। ছবি: আল জাজিরা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবি

ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর জেরে কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্থানীয় কুর্দি অধিকার সংস্থা দাবি করেছে, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু হয়েছে। হেনগাও মানবাধিকার সংস্থা এক টুইট বার্তায় জানায় জানিয়েছে, আমিনির নিজ শহর সাকেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালালে দুজন নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে দিভান্ডারেহ শহরে আরও দুজন এবং দেহগোলানে পঞ্চমজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন আহত হন।

 ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরায় নৈতিক পুলিশ বা মোরালিটি পুলিশের হাতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর মৃত্যু হয় ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাজধানী তেহরানে গত মঙ্গলবার মাহসাকে গ্রেপ্তার করে তুলে নেয়ার সময় পুলিশ ভ্যানের ভেতর তাকে নির্যাতন করা হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়; এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করা হয়েছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। রাজধানী তেহরানে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির নৈতিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্নেল আহমেদ মিরজাইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে এই নিয়মের বিরুদ্ধে গত দুই দশক ধরেই বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও নারীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আর এ কারণে তাদের ওপর নির্যাতনের খড়্গও নেমে এসেছে অনেকবার। তবে এবার মাহসার মৃত্যুতে বারুদের মতো বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে নারী-পুরুষনির্বিশেষে ইরানের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

এ বিষয়ে ইরানি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ তার অফিশিয়াল টুইটারে প্রতিবাদী নারীদের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে আমরা আমাদের চুল ঢেকে রাখতে বাধ্য। তা না হলে আমরা স্কুলে যেতে পারব না, চাকরি পাব না। আমরা এই লিঙ্গ-বৈষম্যভিত্তিক শাসনের অবসান চাই।’


গভর্নর জনালেন ইন্দোনেশিয়ার মাঠে নিহত ১২৫

গভর্নর জনালেন ইন্দোনেশিয়ার মাঠে নিহত ১২৫
ইন্দোনেশিয়ার কানজুরুজান স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচে হারজিত নিয়ে সংঘর্ষের পরের চিত্র। ছবি: বিবিসি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে পদদলিত হয়ে শিশুসহ অন্তত ১২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পূর্ব জাভার গভর্নর। সংঘর্ষ ও পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩২০ জন। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৭৪ বলে জানালেও পরে সংখ্যাটি কমিয়ে আনা হয়।

পূর্ব জাভার মালাং শহরের কানজুরুজান স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে দর্শক-পুলিশ সংঘর্ষে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, কানজুরুজান স্টেডিয়ামে আরেমা এফসি ও পারসেবায়া সুরায়া ক্লাবের ফুটবল ম্যাচে জয়-পরাজয় ঘিরে সহিংসতার সূত্রপাত। ম্যাচে আরেমা ২-৩ গোলে হেরে যায়। দুই দশকের বেশি সময় পর পারসেবায়ার কাছে পরাজয় মেনে নিতে পারেননি আরেমা সমর্থকরা। খেলার শেষ বাঁশি বাজতেই দলটির অন্তত ৩ হাজার সমর্থক মাঠে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।

পূর্ব জাভার পুলিশ দাবি করেছে, উত্তেজিত দর্শকদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এদিকে মাঠে পুলিশ-সমর্থকদের সংঘর্ষে আতঙ্কিত হাজারও দর্শকের মধ্যে স্টেডিয়াম থেকে বের হতে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। সেখানে পদদলিত ও দমবদ্ধ হয়ে অনেকে হতাহত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, স্টেডিয়ামটিতে ধারণক্ষমতার চাইতেও অনেক বেশি দর্শক ছিলেন। ৩৮ হাজার আসনের বিপরীতে স্টেডিয়ামে ৪২ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। ‍

পুলিশ দাবি করেছে, দর্শকরা আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছিল। অনেকে স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

এদিকে ফিফার নিয়মানুযায়ী, মাঠে নিরাপত্তা কর্মী বা পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র অথবা ‘ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী গ্যাস’ ব্যবহার করতে পারেন না। তবে পূর্ব জাভা পুলিশ বিষয়টি জানত কি না তা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, উত্তেজিত দর্শকের ওপর পুলিশ অসংখ্য কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৭৪ বলে জানিয়েছিল। পরে পূর্ব জাভার ডেপুটি গভর্নর ইমিল দারদাক মৃতের সংখ্যা ১২৫ বলে নিশ্চিত করেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও বলেন, ফুটবলের ইতিহাসে এটি একটি কালো দিন। এই ট্র্যাজেডিতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দর্শকরা বানের জলের মতো মাঠে ঢুকছে এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছে। কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে চারপাশ। চেতনা হারানো অনেক দর্শককে মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

কানজুরুহান হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। স্থানীয় আরেক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বলেছে, অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ বছরের শিশুও রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, তার দেশে এরকম মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর কোনো দিন না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ফুটবল ম্যাচগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি এ ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিআরআই লিগা-২ লিগ খেলাসহ সব খেলা বন্ধ রাখতে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশটির মানবাধিকার কমিশনার জানান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার ঘটনাসহ মাঠের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তারাও পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন হতাহতদের স্বজন-বন্ধুরা। ২২ বছরের তরুণ রায়ান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কর্মকর্তাদের অমানবিকতায় আমার অনেক বন্ধু মারা গেছে। অনেক প্রাণ অকালে ঝরে গেল। অনেক শোকাহত মানুষ গতকাল রোববার স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে ফুল রেখে নিহতদের স্মরণ করেন।


ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৭৪

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৭৪
ইন্দোনেশিয়ার মালাং শহরের কানজুরুহান ফুটবল স্টেডিয়ামে সংঘর্ষ। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল খেলায় হারজিত নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। শনিবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলের মালাং শহরের কানজুরুহান ফুটবল স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ওই স্টেডিয়ামে আরেমা এফসি ও পেরসেবায়া সুরাবায়া নামের দুটি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে খেলা চলছিল। খেলায় আরেমাকে ৩–২ গোলে হারায় পেরসেবায়া।

দেশটির পুলিশ বলছে, হেরে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে থাকা আরেমার দর্শকেরা মাঠে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাদের থামাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এতে দর্শকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় হুড়োহুড়িতে অনেকেই পদদলিত হয়ে নিহত হন।

এদিকে এই ঘটনাকে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। স্টেডিয়ামের ভেতরে ৩২ জন মারা গেছে। বাকিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। বিষয়টিরি একটি শক্তিশালী তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী জাইনুদিন আমালি এই ঘটনায় দুঃখজনক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন একটা এই ঘটনা ঘটল, যখন ফুটবলের ভক্ত–অনুরাগীরা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।


রাশিয়ার ভেটো, নীরব চীন-ভারত

রাশিয়ার ভেটো, নীরব চীন-ভারত
জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া নিন্দা প্রস্তাব

ইউক্রেনের চার অঞ্চল রুশ ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত এটি খসড়া নিন্দা প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করেছে রাশিয়া। এ প্রস্তাবে ভোটদানে চীন ও ভারত বিরত ছিল। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার বদলে বরং নীরব থাকার পথটাই তারা বেছে নিয়েছে।   

আল-জাজিরা জানায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ড টমাস গ্রিনফিল্ড গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এতে ইউক্রেন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কোনো পরিবর্তনকে স্বীকৃতি না দিতে এবং রাশিয়াকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শুক্রবার ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। রাশিয়া অধিকৃত চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে ভূখণ্ড আত্তীকরণের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়। এতে রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে ‘অবৈধ’ গণভোটের নিন্দা করতে এবং ইউক্রেনের সীমানার কোনো পরিবর্তনের প্রতি অস্বীকৃতি জানানোর আহ্বান করা হয়। ওই খসড়া প্রস্তাবে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সব রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ইতি টানার আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১০ সদস্য ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে চীন, গ্যাবন, ভারত ও ব্রাজিল ভোটদানে বিরত থাকে। ভেটো দেয়ার ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাশিয়া ওই প্রস্তাবে ভেটো দেয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া খসড়া প্রস্তাবটির বিপক্ষে হাত তোলেন। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের এসব অঞ্চলের মানুষ স্বেচ্ছায় রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাই প্রস্তাব উত্থাপন করে কোনো লাভ হবে না।  

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষে একটি দেশও ভোট দেয়নি। নীরব দেশগুলোও প্রকৃতপক্ষে রাশিয়াকে রক্ষায় ভূমিকা নেয়নি।’

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান আটক

রাশিয়া অধিকৃত জাপোরিঝিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাপরিচালককে আটক করেছে রুশ বাহিনী। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনারগোটম গতকাল শনিবার জানায়, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এনারহোদার শহরে যাওয়ার পথে ইহোর মুরাশভকে শুক্রবার বিকেলে আটক করা হয়। তাকে গাড়ি থেকে বের করে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুরাশভের পরিণতি কী হয়েছে তা বলার উপায় নেই। সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ঘিরে ক্রমাগত গোলাবর্ষণে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

৫৩ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ইউক্রেনকে আরও ৫৩ কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ ১৩০০ কোটি ডলারে দাঁড়াচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা বরাদ্দের ৫০ কোটি ডলার যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে। বাকি তিন কোটি ডলার ডেনমার্ক দিচ্ছে। পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অরূপ ব্যানার্জি বলেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে আগামী তিন বছরে ১০ হাজার বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।  


কাবুলের বিস্ফোরণে নিহত ১৯

কাবুলের বিস্ফোরণে নিহত ১৯
বোমা হামলায় আহত শিক্ষার্থীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: এএফপি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আফগানিস্তানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ৩৬জন আহত হন।

রাজধানী কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত কাজ কোচিং সেন্টারে গতকাল শুক্রবার এ বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

কাবুল পুলিশ জানায়, কোচিং সেন্টারটিতে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দিচ্ছিল। ওই সময় এক হামলাকারী সেখানে প্রবেশ করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সাধারণত শুক্রবার আফগানিস্তানে স্কুল বন্ধ থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারটি খোলা ছিল।

আল-জাজিরা জানায়, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, ছবিতে রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে এক নারীকে পাগলের মতো এ দিক-সে দিক ছুটে বেড়াতে দেখা যায়। তিনি জানান, তার ১৯ বছরের বোনকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সাদিক ঘটনার সময় নিজের বাড়িতে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি দ্রুত কোচিং সেন্টারটিতে ছুটে যান। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুরা অন্তত ৯টি মরদেহ এবং ১৫ জন আহতকে বের করে এনেছি। আরও মরদেহ শ্রেণি কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।’

কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকাটিতে সংখ্যালঘু হাজারা জনগোষ্ঠী বাস করে। শিয়া হাজারা মুসলিম জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তালেবান এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে। এর আগেও এলাকাটিতে একাধিক হামলা হয়েছে। গত বছর তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে সেখানে মেয়েদের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ৮৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

বিবিসি জানায়, কাজ কোচিং সেন্টারে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও পড়তে পারে। গত বছর আগস্টে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো মেয়েদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। এদিকে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল নাফি টাকোর বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলা অমানবিক নিষ্ঠুরতা এবং নৈতিক মানদণ্ডহীন কাজ।’

তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা অব্যাহত রেখেছে।


ইরানের বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়েই চলেছে

ইরানের বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়েই চলেছে
নরওয়ের অসলোতে ইরানের বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী আন্দোলনকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

পোশাক স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে নারী নেতৃত্বের আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে শিশুসহ অন্তত ৮৩ জনের প্রাণ গেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারি দমন-পীড়নেও থামানো যায়নি। প্রতিবাদকারীরা গত বৃহস্পতিবারও দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান, কওম, রাশত, সানানদাজ, মাসজিদ-ই-সুলেইমান ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীরা মোল্লাতন্ত্রের পতনের ডাক দিচ্ছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বিক্ষোভকারীদের সরাসরি ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে।

অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও শিল্পীসহ অন্তত ১ হাজার ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে হাজারখানেকের বেশি মানুষ। এ ছাড়া এখন সাংবাদিকদের ওপরও পুলিশ চড়াও হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এক টুইট বার্তায় ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট’ জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীগুলো অন্তত ২৮ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে একটি বিক্ষোভ চলাকালে বেশকিছু ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারী ইরানের দূতাবাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেখান থেকে পুলিশ ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে।