সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত
সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামের স্কুলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ। 

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাগাইং অঞ্চলের লেট ইয়েট কোনি গ্রামে গত শুক্রবার একটি বৌদ্ধবিহারের পাশে থাকা স্কুলে এ হামলা হয়। দেশটির জান্তা সরকারের দাবি, স্কুলে বিদ্রোহীদের লুকানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে হামলা চালায়। বিবিসি জানায়, বেশির ভাগ শিশুর মরদেহ সামরিক বাহিনী নিয়ে গেছে। একই দিন গ্রামটিতে সামরিক বাহিনীর হামলায় ৬ ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের  মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও একজন নারী।   

ইউনিসেফ জানায়, হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি অবিলম্বে নিখোঁজ ১৫ শিশুকে ফিরিয়ে দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি গুলিবর্ষণে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এক ঘণ্টা ধরে স্কুল কম্পাউন্ডে গুলি চালিয়েছে। এক মিনিটের জন্যও থামেনি।’ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ শেষে প্রায় ৮০ জন সেনা স্কুলে ঢুকে বলে জানান ওই শিক্ষক।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে স্কুল ভবনে বুলেটের গর্ত এবং রক্তের দাগ দেখা যায়। দুজন স্থানীয় বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী মরদেহগুলোকে ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে একটি শহরে নিয়ে যায় এবং কবর দেয়। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। এর পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকারের দমনপীড়নে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, গত বছর ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে জান্তা সরকার মিয়ানমারে স্কুল ও শিক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ২৬০টি হামলা চালিয়েছে। তবে গত শুক্রবার স্কুলে হামলার ঘটনাতেই সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   



চিকিৎসায় নোবেল পেলেন সান্তে পাবো

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন সান্তে পাবো
সান্তে পাবো
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মানুষ কেন মানুষ, কোথা থেকে এল এই মানুষ- মানবজাতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এগুলো। আফ্রিকা থেকে এক সময় মানুষ সারা দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, সে কথা এখন অনেকেরই জানা। তবে মানবজাতির যে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্য ছিল- তা অতি সম্প্রতি জানা গেছে। ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির, বিশেষ করে নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের যোগসূত্র অনুসন্ধান করে এবং মানুষের উৎসের সন্ধান দিয়ে এবার চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সুইডিশ বিজ্ঞানী সান্তে পাবো।

চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার ঘোষণাকারী কারোলিন্‌স্কা ইনস্টিটিউট আজ সোমবার এই পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেছে, প্রাচীন মানবপ্রজাতিগুলোর জিন আজকের মানুষের মধ্যে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রাসঙ্গিক। যেমন সংক্রমণ হলে আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা জিনের এই প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শুধু তা-ই নয়, সান্তে পাবো একটি মানবপ্রজাতির সন্ধানও দিয়েছেন, পৃথিবীর বুকে প্রাচীন আমলে যাদের বিচরণ ছিল।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সান্তে পাবোর গবেষণায় বিজ্ঞানের পুরোপুরি একটি নতুন শাখার জন্ম হয়েছে- প্যালিওজজিনোমিকস।

সুইডেনের স্টকহোমে ১৯৫৫ সালে জন্ম সান্তে পাবোর। সুইডেনের উপাসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পোস্ট ডক্টরাল ফেলো করেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে ১৯৯০ সালে অধ্যাপক নিযুক্ত হন সান্তে পাবো। ১৯৯৯ সালে জার্মানির লিপজিগে গড়ে তোলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এভোল্যুশনারি অ্যানথ্রোপলজি। এখনো সেখানেই কাজ করছেন সান্তে পাবো। পাশাপাশি জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।

সান্তে পাবো তাঁর গবেষণায় আধুনিক মানুষের নিকটাত্মীয় মানবজাতিরই আরেক প্রজাতি নিয়ান্ডারথালদের জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন। মানবজাতির একটি মাত্র প্রজাতিই এখন টিকে আছে- হোমো সেপিয়েন্স, যাকে আমরা আধুনিক মানুষ হিসেবে জানি। পাবো তাঁর গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছেন যে মানুষের অন্য প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হলেও আধুনিক মানুষ তাদের জিন ঠিকই শরীরে বহন করে চলেছে। হোমো সেপিয়েন্সের শরীরে অন্য প্রজাতিগুলোর জিনের প্রবেশ ঘটেছে আজ থেকে প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে, যখন তারা আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল।

গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, আধুনিক মানুষ হোমো সেপিয়েন্সের আবির্ভাব ঘটে আজ থেকে আনুমানিক ৩ লাখ বছর আগে আফ্রিকায়। মানুষের নিকটতম আত্মীয় নিয়ান্ডারথালদের আবির্ভাব ঘটে তারও আগে আফ্রিকার বাইরে এবং ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ৪ লাখ বছর আগে থেকে ৩০ বছর আগ পর্যন্ত তাদের বিচরণ ছিল। তবে ৩০ হাজার বছর আগে তারা এই পৃথিবী বিলুপ্ত হয়ে যায়। ৭০ হাজার বছর আগে হোমো সেপিয়েন্স আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়, তারপর তারা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে নিয়ান্ডারথাল ও হোমো সেপিয়েন্স একসঙ্গেই ছিল। তবে বিলুপ্ত এই নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের সম্পর্ক কী, তা নব্বইয়ের দশকের আগ পর্যন্ত জানা যায়নি। ওই দশকে বিজ্ঞানীরা মানুষের পুরো জিন রহস্য উন্মোচনে সমর্থ হন। এতে নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের সম্পর্কের সূত্র অনুসন্ধানের পথ প্রসারিত হয়েছে।

নোবেল কমিটি বলেছে, সান্তে পাবো মানুষের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তিনি বহু বছর আগে থেকেই নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ নমূনা নিয়ে গবেষণার চেষ্টা করছিলেন। তবে খুব শিগগির তিনি অনুধাবন করেন, এই কাজ প্রায় অসাধ্য। কারণ নিয়ান্ডারথালরা বহু বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ডিএনএতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং ডিএনএগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। যাও টিকে আছে, তা ব্যাপকভাবে দুষিত। এসব ডিএনএ নমূনার সঙ্গে মিশেছে ব্যাকটেরিয়া ও সমকালীন মানুষের ডিএনএও। ফলে নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পোস্ট ডক্টোরাল শিক্ষার্থী হিসেবে জৈব রসায়নের অধ্যাপক অ্যালান উইলসনের সঙ্গে  কাজ করার সময় নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ নমুনা নিয়ে কাজ করার পদ্ধতি উদ্ভাবনে সচেষ্ট হন। অ্যালান উইলসনকে বিবর্তন জীববিদ্যার দিকপাল বলা হয়।

১৯৯০ সালে সান্তে পাবো ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে অধ্যাপনা শুরু করার পর নিয়ান্ডারথালদের মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করায় মনোনিবেশ করেন। মাইটোকন্ড্রিয়াকে বলা হয় কোষের ‘শক্তির ঘর’। এর থেকে জীবকোষ তার শক্তি পায়। তবে মাইটোকন্ড্রিয়া কেবল নিজের ডিএনএ ধারণ করে। কাজেই তুলনামূলক অত্যন্ত ক্ষুদ্র এই ডিএনএ কেবল বংশগতির খুব সামান্য তথ্য ধারণ করে রাখে। অবশ্য হাজার হাজার এমন ডিএনএ বিশ্লেষণ করলে তুলনামূলক বেশি তথ্য পাওয়া সম্ভব। সান্তে পাবো ৪০ হাজার বছর আগের এক নিয়ান্ডারথালের হাড়ের একটি অংশের কোষে টিকে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে কাজ শুরু করেন। আর এভাবে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতির জীবনরহস্য উন্মোচনের পথ খোলে। দশকের পর দশক কাজ করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ২০১০ সালে সান্তে পাবো প্রথমবারের মতো নিয়ান্ডারথালদের জিনোম সিকোয়েন্স প্রকাশ করতে সমর্থ হন। এরপর তুলনামূলক বিশ্লেষণে জানা যায়, নিয়ান্ডারথাল ও হোমো সেপিয়েন্সের পূর্বপুরুষ ছিল একই এবং সেই পূর্বপুরুষেরা ৮ লাখ বছর আগে বিচরণ করতো।

বিলুপ্ত নতুন এক মানবপ্রজাতির সন্ধান

২০০৮ সালে সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ডেনিসোভা গুহায় ৪০ হাজার বছর আগের একটি আঙুলের হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই হাড়ে অবিশ্বাস্যভাবে ডিএনএ অটুট ছিল, যা পরে সান্তে পাবো ও তাঁর দল জিনোম সিকোয়েন্স করেন। ফলাফল ছিল চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। একেবারেই অন্য রকম কোনো মানুষের ছিল সেই হাড়, যার সঙ্গে নিয়ান্ডারথাল কিংবা আধুনিক মানুষের ডিএনএর খুব কমই মিল রয়েছে। নতুন এই প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয় ডেনিসোভা। গবেষণায় আধুনিক মানুষের শরীরে ডেনিসোভাদের জিনের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। এই সম্পর্কটা প্রথম দেখা গেছে মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অংশে, যেখানকার মানুষের ডিএনএতে ৬ শতাংশ ডেনিসোভাদের ডিএনএর অস্তিত্ব রয়েছে। সান্তে পাবোর এই আবিষ্কার মানবজাতির বিবর্তনের বিষয়ে নতুন ধারণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।


ইরানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটকা পড়েছেন বহু শিক্ষার্থী

ইরানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটকা পড়েছেন বহু শিক্ষার্থী
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: অনলাইন
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর জের ধরে চলমান বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাড়ি পার্কিংয়ে আটকা পড়েছেন বহু শিক্ষার্থী।

বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল রোববার এ সংঘর্ষ ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও ধাওয়ায় শিক্ষার্থীদের দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে। দূরে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়িতে বসে সংঘর্ষের ভিডিওধারণ করার সময় যাত্রীদের ওপর গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছেন মোটরবাইকে বসা নিরাপত্তাকর্মীরা।

শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে হামলা নিরাপত্তা বাহিনী হামলা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে আমিনিকে। তবে পুলিশের দাবি, নির্যাতন নয়, আচমকা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান তিনি। আমিনির দাফনের পরই ইরানজুড়ে শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।

নরওয়েভিত্তিক এনজিও সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত দুই রাতে তেহরান ও অন্যান্য শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে সরকারও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরান সরকার বলছে, বিদেশি শত্রুরা এই আন্দোলন উসকে দিচ্ছে।


দ্বিতীয় ধাপে গড়াচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে গড়াচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
প্রথম ধাপে নিরঙ্কুশ বিজয় না পাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে গড়াচ্ছে ব্রাজিলের নির্বাচন। ছবি: অনলাইন
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থি জেইর বলসেনারো পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এবার দ্বিতীয় ধাপে মুখোমুখি হতে হবে এই দুই প্রার্থীকে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে। এই ধাপেই ব্রাজিলের জনগণকে বেছে নিতে হবে তারা এই দুজনের মধ্যে কাকে দেশটির ক্ষমতায় দেখতে চায়।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফলে খুশি দুই শিবিরই। দুর্নীতির দায়ে জেল খাটার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা লুলার জন্য এই নির্বাচন ছিল দারুণ প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে জনমত জরিপে লুলার চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা বলসেনারোও দেখিয়ে দিয়েছেন জরিপকারীরা ভুল ছিল, যেমনটা তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলা ও বলসেনারোকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হয়। এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতেও দুজনের কথার লড়াই ছিল তুঙ্গে। ভোটের আগে সর্বশেষ টেলিভিশন বিতর্কে লুলাকে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে চোর হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলেন বলসেনারো। জবাবে বলসেনারোকে পাগল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন লুলা।

নির্বাচনের আগে অ্যামাজন বনাঞ্চল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এই দুই প্রার্থী। লুলা বলেছিলেন, তিনি আমাজন জঙ্গল রক্ষায় জোর পদক্ষেপ নেবেন। তবে বলসেনারো ছিলেন অ্যামাজন উন্মুক্তের পক্ষে। তার যুক্তি ছিল, এতে ব্রাজিল অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাবে।

বলসেনারো ক্ষমাতায় থাকাকালীন ব্রাজিলে বন উজাড়ের পরিমাণ ও দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে। জলবায়ু কর্মীরা সতর্ক করেছেন, তিনি আবারও ক্ষমতায় এলে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তবে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের ক্ষমতায় থাকা লুলাও পরিবেশ রক্ষায় নিখুঁত কোনো পরিকল্পনা নেননি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।


ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • গর্ভপাতের অধিকারের স্বীকৃতি

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি বিতর্কিত আদেশ জারির মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত করানোর অধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। এটা ছিল নারী অধিকারকর্মীদের দৃষ্টিতে একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। সেই হিসেবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা নারীর অধিকারের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ওই রুলিংয়ের সারকথা হলো, বিবাহিত-অবিবাহিতনির্বিশেষে সব নারী গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবেন। ২৫ বছর বয়সী একজন একাকী মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই সিদ্ধান্ত দেন। পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্কের পরিণামে ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। কারণ ঘনিষ্ঠ অংশীদারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। সেই পুরুষ শেষ মুহূর্তে বিয়েতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এ রকম পরিস্থিতিতে সন্তান ধারণের মানে ওই নারীকে সামাজিক কলঙ্ক ও হয়রানির বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

ওই নারী আরও বলেন, সন্তান লালনের সামর্থ্য তার নেই। কারণ তিনি কর্মহীন এবং ধনী কোনো পরিবার থেকে আসেননি। তা ছাড়া একা একা একটা সন্তানকে বড় করে তুলতে তিনি মানসিকভাবেও প্রস্তুত নন। দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তিনি গর্ভপাতের অনুমতি পাননি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়ে কাঙ্ক্ষিত অনুমতি পেয়েছেন।

ভারতে ১৯৭১ সাল থেকে গর্ভপাতের বৈধতা আছে। তবে বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একপর্যায়ে সরকার গত বছর মেডিকেল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) অ্যাক্ট নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যার আওতায় ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা বিভিন্ন বিবেচনায় গর্ভপাতের অনুমতি পান। এ ক্ষেত্রে তাকে ধর্ষণের শিকার, নাবালিকা, মানসিক প্রতিবন্ধী নারী অথবা গর্ভাবস্থায় বিচ্ছেদপ্রাপ্ত বা বিধবা হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।

গর্ভপাতের বিষয়টি নিজ শরীরের ওপর নারীর অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে তাকে বাধা দেয়া সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কেবল অবিবাহিত হওয়ার কারণে একজন নারীকে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান ধারণের যাতনা থেকে মুক্তিলাভের লক্ষ্যে গর্ভপাতের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি এক ধরনের বৈষম্য। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, এ এস বোপানা ও জেবি পারদিওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ কথা বলেছেন।

ভারতের নারী অধিকারকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সর্বোচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে একজন নারী সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার পাবেন। আদালত এটাও বলেছেন যে একজন একাকী নারীরও যৌনতার অধিকার আছে। ভারতের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটা অবশ্যই ব্যতিক্রমী ধারণা।

বৈবাহিক ধর্ষণের মতো বাস্তবতার স্বীকৃতিও রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে একজন নারী যদি অনিচ্ছুক যৌনতার ফলে স্বামীর মাধ্যমেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকেন তার গর্ভপাতের অধিকার থাকা যুক্তিসংগত। তাকে ওই সন্তান জন্ম দিতে ও লালন-পালনে বাধ্য করা যাবে না। কারণ ওই সন্তান গ্রহণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না, বরং জবরদস্তিমূলক আচরণের মাধ্যমে তার ওপর এটা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল।


ফিলিস্তিনের প্রাণঘাতী বছর: নিহতের সংখ্যা ১০০

ফিলিস্তিনের প্রাণঘাতী বছর: নিহতের সংখ্যা ১০০
ইসরায়েলি বাহিনীর রকেট হামলায় গত আগস্টে প্রাণ হারান এক ফিলিস্তিনি। তার মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালের পর ২০২২ সাল ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হয়ে উঠছে। নিহতের তালিকায় ১৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধও রয়েছেন।

বিবিসি জানায়, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড় অত্যাধিক বেড়েছে। ১৮ বছরের এক ফিলিস্তিনি তরুণ গত শনিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানোর পর চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ইসরায়েলি অস্ত্রধারী বেসামরিক নাগরিকরাও গুলি করে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছেন। এ ছাড়া অল্প কয়েকটি ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা কাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এরপর থেকেই সহিংসতার তীব্রতা বাড়তে শুরু করে।

ইসরায়েলিদের ওপর আক্রমণ চালাতে গিয়ে যে ফিলিস্তিনিরা নিহত হয়েছেন তারা এই ১০০ জন মৃতের তালিকায় নেই। গত আগস্টে জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেট বলেন, অনেক ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহি প্রায় নেই বললেই চলে।

নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই শিশু। এর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ফিলিস্তিনি শিশুটির বয়স ১৪ বছর। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ বেথেলহেমের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি করে তাকে হত্যা করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি ৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি বাহিনী ওই শিশুর ভাইদের ধরে নিয়ে যেতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। ওই সময় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিশুটি মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তাদের অভিযানের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইসরায়েলিরা অভিযানের নামে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে চলতি বছরে ইসরায়েলিদের ওপরও হামলার মাত্রা বেড়েছে। গত বসন্তে আরব ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের হামলায় ১৬ ইসরায়েলি এবং দুই বিদেশি নাগরিক নিহত হন। এসব হামলার জেরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী আরও আগ্রাসী অভিযান চালায়।

বিবিসি জানায়, চলতি বছর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অশীতিপর দুই বৃদ্ধ নিহত হন। এদের একজন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক ওমর আসাদ। ইসরায়েলি বাহিনী গত জানুয়ারিকে তাকে জোর করে বেঁধে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে তার গলা টিপে ধরে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ তিনি প্রাণ হারান।

ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিতই অত্যাধিক বলপ্রয়োগ ও অত্যাচারের অভিযোগ মিলছে। অপরদিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে অস্ত্র, গোলাবারুদের পরিমাণ বেড়েছে। পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর লাগাম ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। জেনিন ও নাবলুসের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়গুলোয় অভিযান চলাকালে প্রায়ই সশস্ত্র ফিলিস্তিনি তরুণদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।