রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান

সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান
গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবয়বে তৈরি মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সমুদ্রের নীল জলরাশির নিচে হঠাৎ করে কোনো মানব মূর্তি দেখলে কিছুটা ভড়কে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ মূর্তিগুলোর কারণে সমুদ্রের তলদেশটা হয়ে উঠেছে অদ্ভুত সুন্দর। নানা ভঙ্গিমায় থাকা লাইফ সাইজ মূর্তিগুলো যেন সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর সঙ্গে মিশে সমুদ্রের জীবনটাকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।

ব্রিটিশ ভাস্কর জেসন ডিকেয়ার্স টেইলর শুধু একজন শিল্পীই নন, একজন গভীর সমুদ্রের ডুবুরি ও আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার। কোনো বিশিষ্ট কিংবা জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি নন, সাধারণ মানুষের আদলেই মূর্তি তৈরি করেন জেসন টেইলর। তার বেশির ভাগ মূর্তিই লাইফ সাইজ অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা ও আকারের। বিভিন্ন মডেলের ছবি নেয়ার পর তাদের সিলিকনের অবয়ব তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে পুরো মূর্তিটি তৈরি করেন তিনি।

তবে শুধু মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই নয়, জেসনের তৈরি এসব মূর্তি সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার্থেও কাজে লাগছে। সমুদ্রে বসানোর এক বছরের মধ্যেই এগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবাল প্রাচীরে। জেসন বলেন, ‘এসব মূর্তি সমুদ্রের কোনো ক্ষতিই করবে না। উল্টো মাছ ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক জীবের কাছে এগুলো তাদের মতো করে নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করবে।’

এর আগে ২০১৬ সালে টেইলর ইউরোপের স্প্যানিশ দ্বীপের উপকূলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদের অবয়বে তৈরি মূর্তি, যা ইউরোপের প্রথম সমুদ্র তলদেশে ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০-এরও বেশি মূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক বিস্বয়কর ম্যাক্সিকোর কানকুন ভাস্কর্য উদ্যান। এগুলো শুধু পাথুরে মূর্তিই নয়, প্রবাল প্রাচীরের কাজও করছে। ম্যাক্সিকোর কানকুন উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হতে বসেছিল। তাই কানকুন কর্তৃপক্ষ জেসন টেইলরকে এই ভাস্কর্য উদ্যান তৈরির অনুরোধ জানান। যাতে করে এখানকার প্রবাল প্রাচীর রক্ষা পায়। এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র তলের ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া টেইলর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কাছে গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের পানির নিচে তৈরি করেছেন আরেকটি অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান। তার এই ভাস্কর্য উদ্যানটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বিশ্বের ২৫টি বিস্ময়কর বিষয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত।

জেসন টেইলর সবচেয়ে বড় মূর্তিটি তৈরি করেছেন বাহামাতে। যার ওজন প্রায় ৬০ টন। মূর্তিটি বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে তিনি সমুদ্রে স্থাপন করে আরেক বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই ভাস্কর্য উদ্যানগুলো পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমন অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান সমুদ্র তলের পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।


ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৭৪

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৭৪
ইন্দোনেশিয়ার মালাং শহরের কানজুরুহান ফুটবল স্টেডিয়ামে সংঘর্ষ। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল খেলায় হারজিত নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। শনিবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলের মালাং শহরের কানজুরুহান ফুটবল স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ওই স্টেডিয়ামে আরেমা এফসি ও পেরসেবায়া সুরাবায়া নামের দুটি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে খেলা চলছিল। খেলায় আরেমাকে ৩–২ গোলে হারায় পেরসেবায়া।

দেশটির পুলিশ বলছে, হেরে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে থাকা আরেমার দর্শকেরা মাঠে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাদের থামাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এতে দর্শকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় হুড়োহুড়িতে অনেকেই পদদলিত হয়ে নিহত হন।

এদিকে এই ঘটনাকে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। স্টেডিয়ামের ভেতরে ৩২ জন মারা গেছে। বাকিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। বিষয়টিরি একটি শক্তিশালী তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী জাইনুদিন আমালি এই ঘটনায় দুঃখজনক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন একটা এই ঘটনা ঘটল, যখন ফুটবলের ভক্ত–অনুরাগীরা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।


রাশিয়ার ভেটো, নীরব চীন-ভারত

রাশিয়ার ভেটো, নীরব চীন-ভারত
জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া নিন্দা প্রস্তাব

ইউক্রেনের চার অঞ্চল রুশ ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত এটি খসড়া নিন্দা প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করেছে রাশিয়া। এ প্রস্তাবে ভোটদানে চীন ও ভারত বিরত ছিল। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার বদলে বরং নীরব থাকার পথটাই তারা বেছে নিয়েছে।   

আল-জাজিরা জানায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ড টমাস গ্রিনফিল্ড গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এতে ইউক্রেন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কোনো পরিবর্তনকে স্বীকৃতি না দিতে এবং রাশিয়াকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শুক্রবার ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। রাশিয়া অধিকৃত চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে ভূখণ্ড আত্তীকরণের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়। এতে রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে ‘অবৈধ’ গণভোটের নিন্দা করতে এবং ইউক্রেনের সীমানার কোনো পরিবর্তনের প্রতি অস্বীকৃতি জানানোর আহ্বান করা হয়। ওই খসড়া প্রস্তাবে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সব রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ইতি টানার আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১০ সদস্য ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে চীন, গ্যাবন, ভারত ও ব্রাজিল ভোটদানে বিরত থাকে। ভেটো দেয়ার ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাশিয়া ওই প্রস্তাবে ভেটো দেয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া খসড়া প্রস্তাবটির বিপক্ষে হাত তোলেন। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের এসব অঞ্চলের মানুষ স্বেচ্ছায় রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাই প্রস্তাব উত্থাপন করে কোনো লাভ হবে না।  

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষে একটি দেশও ভোট দেয়নি। নীরব দেশগুলোও প্রকৃতপক্ষে রাশিয়াকে রক্ষায় ভূমিকা নেয়নি।’

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান আটক

রাশিয়া অধিকৃত জাপোরিঝিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাপরিচালককে আটক করেছে রুশ বাহিনী। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনারগোটম গতকাল শনিবার জানায়, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এনারহোদার শহরে যাওয়ার পথে ইহোর মুরাশভকে শুক্রবার বিকেলে আটক করা হয়। তাকে গাড়ি থেকে বের করে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুরাশভের পরিণতি কী হয়েছে তা বলার উপায় নেই। সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ঘিরে ক্রমাগত গোলাবর্ষণে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

৫৩ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ইউক্রেনকে আরও ৫৩ কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ ১৩০০ কোটি ডলারে দাঁড়াচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা বরাদ্দের ৫০ কোটি ডলার যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে। বাকি তিন কোটি ডলার ডেনমার্ক দিচ্ছে। পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অরূপ ব্যানার্জি বলেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে আগামী তিন বছরে ১০ হাজার বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।  


কাবুলের বিস্ফোরণে নিহত ১৯

কাবুলের বিস্ফোরণে নিহত ১৯
বোমা হামলায় আহত শিক্ষার্থীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: এএফপি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আফগানিস্তানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ৩৬জন আহত হন।

রাজধানী কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত কাজ কোচিং সেন্টারে গতকাল শুক্রবার এ বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

কাবুল পুলিশ জানায়, কোচিং সেন্টারটিতে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দিচ্ছিল। ওই সময় এক হামলাকারী সেখানে প্রবেশ করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সাধারণত শুক্রবার আফগানিস্তানে স্কুল বন্ধ থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারটি খোলা ছিল।

আল-জাজিরা জানায়, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, ছবিতে রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে এক নারীকে পাগলের মতো এ দিক-সে দিক ছুটে বেড়াতে দেখা যায়। তিনি জানান, তার ১৯ বছরের বোনকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সাদিক ঘটনার সময় নিজের বাড়িতে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি দ্রুত কোচিং সেন্টারটিতে ছুটে যান। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুরা অন্তত ৯টি মরদেহ এবং ১৫ জন আহতকে বের করে এনেছি। আরও মরদেহ শ্রেণি কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।’

কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকাটিতে সংখ্যালঘু হাজারা জনগোষ্ঠী বাস করে। শিয়া হাজারা মুসলিম জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তালেবান এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে। এর আগেও এলাকাটিতে একাধিক হামলা হয়েছে। গত বছর তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে সেখানে মেয়েদের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ৮৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

বিবিসি জানায়, কাজ কোচিং সেন্টারে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও পড়তে পারে। গত বছর আগস্টে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো মেয়েদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। এদিকে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল নাফি টাকোর বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলা অমানবিক নিষ্ঠুরতা এবং নৈতিক মানদণ্ডহীন কাজ।’

তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা অব্যাহত রেখেছে।


ইরানের বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়েই চলেছে

ইরানের বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়েই চলেছে
নরওয়ের অসলোতে ইরানের বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী আন্দোলনকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

পোশাক স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে নারী নেতৃত্বের আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে শিশুসহ অন্তত ৮৩ জনের প্রাণ গেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারি দমন-পীড়নেও থামানো যায়নি। প্রতিবাদকারীরা গত বৃহস্পতিবারও দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান, কওম, রাশত, সানানদাজ, মাসজিদ-ই-সুলেইমান ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীরা মোল্লাতন্ত্রের পতনের ডাক দিচ্ছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বিক্ষোভকারীদের সরাসরি ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে।

অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও শিল্পীসহ অন্তত ১ হাজার ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে হাজারখানেকের বেশি মানুষ। এ ছাড়া এখন সাংবাদিকদের ওপরও পুলিশ চড়াও হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এক টুইট বার্তায় ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট’ জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীগুলো অন্তত ২৮ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে একটি বিক্ষোভ চলাকালে বেশকিছু ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারী ইরানের দূতাবাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেখান থেকে পুলিশ ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে।


থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন প্রায়ুথ

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন প্রায়ুথ
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায়ুথ চান ওচা।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায়ুথ চান ওচা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। দেশটির সাংবিধানিক আদালত গতকাল শুক্রবার এ রায় দেন। আদালত জানান, প্রায়ুথ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ৮ বছরের মেয়াদ অতিক্রম করেননি।

আল-জাজিরা জানায়, সাংবিধানিক আদালত ২৫ মিনিট বিচারের রায় পড়ে শুনান। আদালত প্রায়ুথের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ২০১৭ সাল থেকে অর্থাৎ নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকে হিসাব করা উচিত বলে জানান।  

আদালতের রায়কে ৬৮ বছর বয়সী প্রায়ুথের জন্য একটি বড় বিজয় বলে দেখা হচ্ছে। সরকারি এক মুখপাত্র জানান, প্রায়ুথ আদালতের রায়কে সম্মান করেন এবং তার পক্ষে থাকার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি আবারও কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ পার হওয়ার অভিযোগে গত মাসে সাংবিধানিক আদালত সাময়িকভাবে প্রায় প্রায়ুথকে বরখাস্ত করেছিল। প্রায়ুথের মন্ত্রিসভায় সিনিয়র উপপ্রধানমন্ত্রী প্রবিত ওংসুওয়ান তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হন এবং প্রায়ুথ নিজে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন। এদিকে থাইল্যান্ডের গণতন্ত্রপন্থিরা প্রায়ুথের প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের খবরে ‘থাইল্যান্ডের ভবিষ্যতের মৃত্যু’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। সে জন্য তারা প্রায়ুথবিরোধীদের কালো পোশাকে রাজপথে শোক পালন করার আহ্বান জানান।

২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইংলাক সিনাওয়াত্রা সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন প্রায়ুথ। ওই সময় তিনি থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি থাইল্যান্ডের নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেন। সেনা প্রবর্তিত নতুন সংবিধান অনুযায়ী, প্রায়ুথ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ আট বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। ২০১৯ সালে সামরিক সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।