বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

অধিকৃত ভূখণ্ডের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো: লাভরফ

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হবে তার পূর্ণ সুরক্ষা দেবে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘের অধিবেশনের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়াবে, এমনকি পারমাণবিক হামলা পর্যন্ত চালাতে পারে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আশঙ্কার মধ্যেই শীর্ষ রুশ কূটনীতিকের এমন বক্তব্য এল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লাভরফ গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিউইয়র্কে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে এবারের সাধারণ অধিবেশনে সবার নজরের কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়া।

কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র নিন্দা সমালোচনাকে ‍উড়িয়ে দিয়ে রুশ বাহিনীর দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূমি রাশিয়ার অংশ বানাতে গণভোট চলছে। লুগানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল গণভোটে রাশিয়ার অংশ হলে ইউক্রেন তার ১৫ শতাংশ ভূমি হারাবে। ইউক্রেন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা গণভোটকে রাশিয়ার ধোঁকাবাজি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই গণভোটের সপক্ষে কথা বলতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে নব্য নাৎসি শাসনে যারা দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, গণভোটে তাদের মতামতের সম্মান দেবে রাশিয়া। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে লাভরফ বলেন, রাশিয়ার সংবিধানের আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডসহ ভবিষ্যতে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোও রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সুরক্ষার অধীনে রয়েছে। তাই সব অঞ্চলের সুরক্ষায় রাশিয়ার সব আইন, মতবাদ, ধারণা এবং কৌশলগুলো প্রযোজ্য।

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ৭২৪

রাশিয়া সরকারের আংশিক সেনাসমাবেশের প্রতিবাদে যুদ্ধবিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অধিকার সংস্থা ওভিডি-ইনফো জানায়, গত শনিবার ৩২টি শহরে ৭২৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মিছিল করা নিষিদ্ধ। এরপরও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়া সরকারের তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের ঘোষণার পর এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হলেন। বিবিসি জানায়, রির্জাভ সেনা তলবের ঘোষণার পর থেকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে দেশ ছাড়ার হিড়িক লেগেছে। জর্জিয়া সীমান্তে ১৮ মাইল লম্বা গাড়ির সারি দেখা গেছে। তবে ক্রেমলিন এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে মন্তব্য করেছে। রাশিয়ার নতুন নিয়মানুযায়ী, কোনো সেনা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।

ইসরায়েলের অস্ত্র পাননি জেলেনস্কি

রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়নি ইসরায়েল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরায়েলকে পাশে পায়নি কিয়েভ। বিষয়টিতে হতবাক হয়েছেন জেলেনস্কি। ফ্রান্সের সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি জানি না ইসরায়েলের কী হয়েছে। আমি সত্যি বলছি, সত্যি বলছি, আমি হতবাক, কারণ আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেননি।’

রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ‘লজিস্টিক অপারেশন’ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভকে রসদ ‘সরবরাহে ব্যর্থতা’র কারণে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিজিনেৎসেভকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামের এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।

বিবিসি জানায়, ২০০৮ সাল থেকে জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকভ রুশ সামরিক বাহিনীর রসদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি সিরিয়ায় মোতায়েন করা রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধে ৬৭ বছর বয়সী বুলগাকবের ক্ষমতা অনেকটা কমে গেছে। অনেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার জন্য তাকে দায়ী করেন।

কঠোর শাস্তির বিধান

রুশ সেনারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে কিংবা যুদ্ধ করতে না চাইলে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে। রাশিয়া গত শনিবার কঠিন সাজার বিধান ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া কঠোর শাস্তির আইন পাস করল। আগের আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধের জন্য ৫ বছরের সাজার বিধান ছিল।

রাশিয়ার কঠোর শাস্তির আইন পাসের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেনেশুনে তার দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে পাঠাচ্ছেন।’ তিনি আবারও ইউক্রেনে লড়াইরত রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের সঙ্গে সভ্য আচরণ করা হবে। কেউ জানবে না কোন পরিস্থিতিতে আপনারা আত্মসমপর্ণ করেছেন।

শিরিনের মৃত্যু নিয়ে আইসিসির কাছে আল-জাজিরা

২৫ বছর ধরে আল-জাজিরার হয়ে সাংবাদিকতা করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত শিরিন আবু আকলেহ। গত ১১ মে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ছবি: আল-জাজিরা
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৩৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যার বিষয়টি তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জমা দিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।

গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে আইসিসির কাছে এ অনুরোধ জানায়।

গত ১১ মে ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অভিযানের সংবাদ সংগ্রহের সময় শিরিন আবু আকলেহ (৫১) গুলিতে নিহত হন।

শিরিন ঘটনার সময় ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট ও হেলমেট পরা ছিলেন। ফিলিস্তিনের করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিরিন একটি রুগার মিনি-১৪ রাইফেল থেকে ছোড়া ৫ দশমিক ৫৬ মিলিমিটার আর্মার পিয়ার্সিং বুলেটের আঘাতে নিহত হন। অস্ত্র ও এর ধরন, দূরত্ব এবং ইসরায়েলি সেনাদের দৃষ্টিসীমায় কোনো বাধাও ছিল না। শিরিনকে হত্যার ঠিক আগমুহূর্তে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় আশপাশের অবস্থা ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নীরব। অথচ ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি ছিল, ওই সময় গোলাগুলি চলছিল।

এ দাবি ঘটনার ওপর পাওয়া ভিডিওচিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতেই শিরিন প্রাণ হারান বলে ঘটনাস্থলে থাকা তার সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং আল-জাজিরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

আইসিসির কাছে করা এই অনুরোধটিতে আল-জাজিরার গত ছয় মাসের তদন্তের একটি বিস্তৃত বিবরণ উপস্থাপন করেছে। যেখানে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, ভিডিও ফুটেজসহ অনেক নতুন তথ্যসহ শিরিনের হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। আইসিসির কাছে জমা দেয়া অনুরোধটি ‘আল-জাজিরা এবং ফিলিস্তিনের সাংবাদিকদের ওপর ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

আল-জাজিরার আইনজীবী রডনি ডিক্সন কেসি জানান, ২০২১ সালের ৫ মে গাজায় আল-জাজিরার কার্যালয়ে বোমা হামলা ও ফিলিস্তিনে তাদের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে আইসিসির কাছে তদন্তের আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

গত ২৫ বছর ধরে শিরীন আল-জাজিরার হয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। জেরুজালেমের স্থানীয় এবং মার্কিন নাগরিক শিরিন আবু আকলেহ তার পরিবারের কাছে এবং পেশাগতভাবে একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। তিনি বিভিন্ন সময় ইসরায়েলি দখলদারত্বের খবর সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনিদের হয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন।


চীনকে অগ্রাহ্য করে তাইওয়ানে অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতা দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের আপত্তি অগ্রাহ্য করে তাইওয়ানে গেছেন এক দল অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতা। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তাইওয়ানের মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের দলটি তাইপেতে পৌঁছেছে। এই সফরকালে তাইওয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার পারস্পরিক স্বার্থের বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখপাত্র আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট তাইওয়ানের প্রতি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। ক্যানবেরার সঙ্গে তাইপের সম্পর্ক শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বেইজিং-ক্যানবেরা সম্পর্ককে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেই অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতা দলটি পাঁচ দিনের সফরে তাইওয়ান এসেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই সফরের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বেইজিং জানায়, অস্ট্রেলিয়ার উচিত ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সম্মান দেখানো। তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের প্রতি ভুল বার্তা দেয়া অস্ট্রেলিয়ার বন্ধ করা উচিত। এদিকে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলেছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থিদের সমর্থন করে অস্ট্রেলিয়া আগুন নিয়ে খেলছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ দেশটির সংবাদমাধ্যমে জানান, আইনপ্রণেতাদের সফর কোনো সরকারি সফর নয়। ছয়জনের দলটিতে মধ্য-বাম ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পাশাপাশি বিরোধী লিবারেল পার্টি ও ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতারাও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া ‘এক চীন’ নীতিকেই সমর্থন করে বলে অ্যালবানিজ জানান।

তাইওয়ান চীনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু। স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন অংশ বলে মনে করে বেইজিং। তাইওয়ানকে নিজের বাগে আনতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগেও পিছপা হবে না বলে চীন সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


ইন্দোনেশিয়ায় বিয়েবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধ করে আইন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিয়েবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে দেশটির পার্লামেন্টে মঙ্গলবার এ আইন পাস করা হয়। খবর বিবিসির।

ইন্দোনেশিয়ানদের পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানকালে বিদেশি নাগরিকরাও এ আইনের আওতায় পড়বেন।

আইন অনুসারে, সঙ্গী বা অভিভাবক কারও বিরুদ্ধে বিয়েবহির্ভূত যৌনতার অভিযোগ তুলতে পারবেন। পরকীয়াও এ আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনটি পাসে দেশটিতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনকি বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানী জাকার্তায় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই আইন নারী, এলজিবিটি ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দেশটির আইনপ্রণেতারা এ আইন পাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বলছেন, ইন্দোনেশিয়া ডাচ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই প্রথম আইনটি পুরোপুরি সংশোধন করা হলো।

এর আগে ২০১৯ সালেও একবার এ আইনের খসড়া ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে তোলা হয়। ওই বছর এ নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়।

এবার বিরোধী দলগুলো বলছে, আইনটি সমাজকে পিছিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতাও হরণ করবে।

ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে ইতোমধ্যেই যৌনতা এবং সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর ধর্মীয় আইন রয়েছে। দেশটির আচেহ প্রদেশে কঠোর ইসলামী আইনের প্রয়োগ রয়েছে। জুয়া খেলা, মদ্যপান এবং ব্যভিচারের জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। এর মধ্যে আছে বেত্রাঘাতের মতো শাস্তিও।


ইউক্রেনে ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পুরো বন্ধের পথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

হামলার পর ঘটনাস্থলের চিত্র। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৪২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রাশিয়া। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আট সপ্তাহে অষ্টমবারের মতো সোমবারের এই হামলা চালানো হলো। হামলায় ইউক্রেনের, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে ওই এলাকায় পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে কিয়েভ প্রশাসনকে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্‌লোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে কিয়েভের অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে এর আগের হামলাগুলোর চেয়ে সোমবারের আক্রমণে তুলনামূলক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর দুটি বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এই দুটো জায়গাই ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনায় ইউক্রেনকে দায়ী করে মস্কো।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ছোড়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬০টিই ভূপতিত করেছে তারা। মস্কো বলছে, তারা ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, আর সবকটিই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে।

সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্‌লোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলায় পার্শ্ববর্তী দেশ মলদোভার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রুশ হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, আবারও প্রমাণিত হলো রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ড শুধু ইউক্রেন নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি।’

এর আগেও রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় ভয়াবহ শীতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ইউক্রেনের অনেক অঞ্চলে এখন তুষারপাত হচ্ছে। ফলে ওই সব এলাকায় শূন্যেরও নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎ এবং পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বহু লোক মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


তাজমহল যেমন আছে থাকতে দিন, ইতিহাস বদলানো যায় না: সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তাজমহলের ইতিহাস ‘পুনরায় যাচাই করে’ দেখতে ‘জনস্বার্থে’ করা এক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এমআর শাহ এবং বিচারপতি সিটি রবিকুমারের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এ সময় বিচারপতি ৪০০ বছর পর নতুন করে আবার ইতিহাসের পাতা খুলে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীকে ভর্ৎসনা করেন আদালত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

তাজমহলের ইতিহাস যাচাইয়ে আবেদনটি করেছিলেন সচ্চিদানন্দ পাণ্ডে নামের এক ব্যক্তি। আদালতে তার পক্ষে লড়েছেন আইনজীবী বরুণ কুমার সিন্হা।

সোমবার এই আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আবেদনকারীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি আবেদন জানিয়েছেন, ভুল ইতিহাস পরিবর্তন করতে হবে। তার মানে আপনি নিজেই ধরে নিয়েছেন, তাজমহলের ইতিহাস ভুল।’

শুনানিতে আদালত বলেন, ‘তাজমহল ৪০০ বছর ধরে রয়েছে। ওটা যেমন আছে, থাকতে দিন। আপনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার এএসআইয়ের (প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা) ওপর ছাড়ুন। সব কিছুতে আদালতকে টেনে আনবেন না। ৪০০ বছর পর ইতিহাসের পাতা নতুন করে খোলা যায় না। প্রত্নতত্ত্বের বিষয়ে আদালতের কোনো পারদর্শিতা নেই।’

তাজমহল সম্পর্কে ছোটদের বইতে যে ইতিহাস ছাপা হয়েছে, তা আদৌ ঠিক নয় বলে দাবি করেছিলেন সচ্চিদানন্দ। নতুন করে সেই ইতিহাস খতিয়ে দেখে পাঠ্যবইয়ে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ ইতিহাসের অবতারণা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

উত্তর প্রদেশের যমুনা পাড়ে আগ্রার এই স্থাপত্যের বয়স অনেক পুরোনো। মুঘল আমলের আগে থেকেই এই মহলের অস্তিত্ব রয়েছে। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রয়াত স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশে তাজমহল তৈরি করেছিলেন বলে লেখা আছে ইতিহাসে।

তাজমহলের নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘর খুলে দেখার জন্য এর আগেও আবেদন জানিয়ে দেশটির শীর্ষ আদালতে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় বলা হয়েছিল, তাজমহলের জায়গায় আগে একটি শিব মন্দির ছিল, যার নাম তেজো মহালয়। সুপ্রিম কোর্টের একই বেঞ্চ ওই মামলাও খারিজ করে দেন।


হারিয়ে যাচ্ছে অ্যাডেলি পেঙ্গুইন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভীষণ সুন্দর এই পাখিটির প্রতি সবারই যেন একটা গোপন মমত্ববোধ রয়েছে। হাঁটা, দৌড়ানো, ওড়া, সাঁতার কাটা- সব কিছুতেই পারদর্শী এরা। তবে আগামীর পৃথিবী বোধহয় এই পাখিটিকে আর পাবে না। কেননা দ্রুতহারে হ্রাস পাচ্ছে পেঙ্গুইনের সংখ্যা।

এন্টার্কটিকার পূর্ব উপকূলে গত দশকে ৪৩ শতাংশ কমেছে বৃহদাকার অ্যাডেলি পেঙ্গুইনের সংখ্যা। অর্থাৎ সেখানকার প্রায় অর্ধেক পেঙ্গুইনই আর নেই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পুরো এন্টার্কটিকার বরফ গলে কমতে শুরু করলেও অ্যাডেলি পেঙ্গুইনের যে কলোনি, অর্থাৎ যে এলাকায় এরা বাস করে, সেখানে অতিরিক্ত বরফ পড়ছে গত কয়েক বছর ধরে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গিয়ে মারা পড়েছে অসংখ্য পেঙ্গুইন। এই পেঙ্গুইনগুলোর উচ্চতা ৭০ সেন্টিমিটার এবং ওজন চার কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত এন্টার্কটিকা হলো পেঙ্গুইনের আবাসস্থল। ওজিগুয়ালডো বা হলুদ চোখের পেঙ্গুইন, জেন্টু, চিনস্ট্র্যাপ, অ্যাডেলি, গ্যালাপাগোস, এমপ্যারর, ম্যাগেলানিকসহ মোট ১৯ প্রজাতির পেঙ্গুইনের বিচরণ সেখানে। তবে গত কয়েক দশক ধরেই অ্যাডেলির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য প্রজাতির পেঙ্গুইনের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে।

ম্যাসাচুসেটসের উডস হোল ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের তথ্য জানাচ্ছে, বিগত ৩০ বছরে অন্ততপক্ষে ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে পেঙ্গুইন কলোনির সংখ্যা।

সূত্র : বিবিসি


পৃথিবীতে ফিরলেন তারা

চীনের মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাসের মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরেছেন দেশটির তিন মহাকাশচারী। ছবি: বিবিসি
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাসের মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরেছেন তিন মহাকাশচারী।

গত রোববার ‘শেনঝো-১৪’ নামের মহাকাশ যানে করে তারা চীনের অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবতরণ করেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনের চূড়ান্ত নির্মাণকাজের তদারকি করতে নভোচারীরা গত ৫ জুন মহাকাশের উদ্দেশে রওনা হন। স্টেশনটির নির্মাণকাজ গত নভেম্বরে শেষ হয়। মহাকাশ স্টেশন ত্যাগের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তারা রোববার বিকেলে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। ল্যান্ডিং সাইটের কর্মীরা তাদের ক্যাপসুল থেকে বের করার পর জানান, তিন নভোচারীই সুস্থ আছেন। এই মিশনটি ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।

মহাকাশচারী দলটির কমান্ডার হলেন চেন ডং। অন্য দুজন হলেন- লিউ ইয়াং এবং কাই জুজে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, এই মিশনে থাকা লিউ ইয়াং হলেন চীনের প্রথম নারী মহাকাশচারী। লিউ বলেন, ‘মহাকাশ স্টেশনের স্মৃতি ভোলার নয়। মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।’

গত জুন মাস থেকে স্পেস স্টেশনটির নির্মাণকাজ সামাল দেয়া এই তিনজনের কাছ থেকে নতুন স্পেস স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিতে আরও তিন নভোচারী সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন। গত ২৯ নভেম্বর তারা তিয়াংগং স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে আগামী ছয় মাস তারা অবস্থান করবেন এবং তিয়াংগংয়ের দেখভাল করবেন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তৈরি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)’ থেকে বাদ পড়ার পর চীন স্বতন্ত্রভাবে তিয়াংগং স্টেশন নির্মাণ শুরু করে। ১৯৭০ সালে পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথে প্রথম স্যাটেলাইট স্থাপন করে চীন। গত ১০ বছরে দেশটি দুই শতাধিক রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। ইতিমধ্যে চাঁদে শিলার নমুনা সংগ্রহের জন্য ‘চাং ই-৫’ নামে একটি মনুষ্যবিহীন মিশন পাঠিয়েছে তারা। চাঁদের বুকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বড় পতাকা লাগিয়েছে চীন।


বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে

অস্ত্র বিক্রিতে রাজত্ব করেছে ৪০ মার্কিন প্রতিষ্ঠান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা সংকট থাকার পরও বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২১ সালে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী বিশ্বের ১০০ বড় প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫৯ হাজার ২০০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) গতকাল সোমবার ‘অস্ত্র খাতের ডাটাবেস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা আল-জাজিরা জানায়, ২০১৯-২০ সালে অস্ত্র বিক্রি ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২১ সালে তা আরও বেড়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিয়ে টানা সাত বছর বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। এসআইপিআরআই জানায়, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে গত বছর অস্ত্র বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরের বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসআইপিআরআইয়ের সামরিক ব্যয় এবং অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচির পরিচালক লুসি বেরৌড-সুড্রেউ জানান, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা না থাকলে গত বছর অস্ত্র বিক্রি আরও বাড়ত। বছরজুড়ে ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের অস্ত্র বিক্রি প্রভাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। এয়ার বাস এবং জেনারেল ডায়নামিক্সের মতো কিছু অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটের কথাও জানিয়েছে।

এ ছাড়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ যোগ করেছে। কারণ, পশ্চিমা দেশগুলোতে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহকারী রাশিয়া।

এসআইপিআরআই আরও জানায়, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও বেকায়দায় পড়ে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অবস্থানও তেমন সুবিধাজনক নয়। তারপরও অস্ত্র বিক্রিতে রাজত্ব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ প্রতিষ্ঠান। ওই ৪০ প্রতিষ্ঠানই ২০২১ সালে ২৯ হাজার ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে বলে এসআইপিআরআই জানিয়েছে। অস্ত্র বিক্রিতে ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন, রেথিওন টেকনোলজিস, বোয়িং, নরথ্রপ গ্রুমমান ও জেনারেল ডায়নামিকস।

এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনও ২০২১ সালে অস্ত্র বিক্রিতে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। চীনের ৮টি প্রতিষ্ঠান মোট ১০ হাজার ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির করেছে। অস্ত্র বিক্রির এই হার এক বছর আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। চীনের চারটি প্রতিষ্ঠান এসআইপিআরআইয়ের তালিকায় শীর্ষ দশে ঠাঁই পেয়েছে।


রুশ তেলের মূল্যসীমা কার্যকর

রাশিয়ার কোজমিনো বন্দরের ঘাটে একটি তেলের ট্যাঙ্কার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর চাপানো প্রাইস ক্যাপ বা বেঁধে দেয়া দাম গতকাল সোমবার থেকে কার্যকর করেছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো। রাশিয়া যাতে তেল বিক্রির পয়সায় ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অস্ত্র, রসদ না কিনতে পারে সে লক্ষ্যে জি-৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া দেশটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়। তারা রুশ অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল সর্বোচ্চ ৬০ মার্কিন ডলার বেঁধে দেয়।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার তেলের দাম বেঁধে দেয়ায় আগামী মাসগুলোয় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.২৫ ডলার হয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন আক্রমণ করার পর তেলের দাম যতটা বেড়েছিল তার চেয়ে বর্তমানে দাম এখনো কম রয়েছে।

জি-৭ হচ্ছে জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি জোট। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জি-৭ এ প্রতিনিধিত্ব করে। এই সাতটি দেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল স্বীকৃত বিশ্বের সাতটি মূল উন্নত অর্থনীতির দেশ। অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ। ডয়চে ভেলে জানায়, জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে নথিভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোকে এবার থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ মেনে চলতে হবে। বিমা কোম্পানি ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে। রাশিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে তেল সরবরাহের সময়ে মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের কম স্থির করা হলে তবেই এসব প্রতিষ্ঠান এমন পরিবহন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বিশ্বের জলপথে জি-৭ ও ইইউ দেশগুলোর ট্যাঙ্কারের আধিপত্য থাকায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অন্তত কিছুটা হলেও সফল হবে বলে ‘প্রাইস ক্যাপ’-এর প্রবক্তারা আশা করছেন। তবে শাস্তি এড়াতে রাশিয়া অন্য দেশের জাহাজ ব্যবহার যতটা সম্ভব ব্যবহার করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা তেলের বেঁধে দেয়া দাম মানবে না। প্রয়োজনে তারা জি-৭ বা ইইউর কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ লেওনিদ স্লাৎস্কি বলেছেন, এই উদ্যোগ নিয়ে ইইউ নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

নরওয়ের এনার্জি কনসালট্যান্সি রিস্টাড এনার্জির সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট জর্জ লিওন বিবিসি’র টুডে প্রোগ্রামের কাছে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া খুব স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা প্রাইস ক্যাপে স্বাক্ষর করা কারও কাছে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে না। সুতরাং তেলের বাজাবে সম্ভবত কিছু ঝামেলা হতে পারে। আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করবে।

অন্যদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস বলেছে, তারা তাদের উৎপাদন কমানোর নীতি অব্যাহত রাখবে। ওপেক প্লাস হচ্ছে ২৩টি তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট যার মধ্যে রাশিয়াও আছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, চীনে কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলেও তেলের দাম দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, বিধিনিষেধ শিথিলের কারণে সেদেশে তেলের চাহিদা বাড়বে।

ইউক্রেন যুদ্ধের একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অপরিশোধিত তেলের চড়া মূল্য পেট্রলের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয়কে বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ৪১ বছরের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়ে যায়।


মোরালিটি পুলিশ বিলুপ্তি কোনো কাজে আসবে না

ইরানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:৫২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা দেশটিতে ‘নীতি-পুলিশের’ (মোরালিটি পুলিশ) কার্যক্রম বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না। নারীর পোশাকের ওপর সরকারি বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশটির কর্তৃপক্ষ শনিবার এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে মোরালিটি পুলিশ বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করে। নারীর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিশেষভাবে হিজাব পরিধান নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পরা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মোরালিটি পুলিশ টহল দিত। তাদের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে মাহসার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, মাহসা হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ওই ঘটনার পর ইরানজুড়ে আন্দোলন ক্রমশ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেটা সরকারবিরোধী ও হিজাববিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করে। বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আন্দোলনে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকার এ আন্দোলনে দুই শতাধিক মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।


উপকূলে মিলল আড়াই হাজার মৃত সিল

মাখাচকালা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মৃত মাছগুলো পাওয়া যায়। ছবি: ডয়চে ভেলে
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দাগেস্তান প্রদেশে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে প্রায় আড়াই হাজার মৃত সিল পাওয়া গেছে। গত রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রুশ প্রজাতন্ত্রের উপকূলীয় রাজধানী মাখাচকালা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মৃত সিলগুলো পাওয়া যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো কেন এভাবে কূলে ভেসে এলো তা এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাকৃতিক কোনো কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্পিয়ান এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন সেন্টারের প্রধান জাউর গ্যাপিজভ বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে সিলগুলো মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এগুলোকে কোনোভাবে মেরে ফেলা হয়েছে বা মাছ ধরার জালে ধরা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

প্রাণী অধিকার কর্মীদের মতে, ক্যাস্পিয়ান সিল একটি বিপন্ন প্রজাতি। তাই এগুলো বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। তারা বলছেন, গত একশ’ বছরে এই প্রজাতিটির বংশবৃদ্ধির হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল নিষ্কাশনের ফলে ক্যাস্পিয়ান সাগরে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া মাছ শিকারী এবং চোরাচালান কারবারিদের কবলে পড়েও সিলের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।


মাউন্ট সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত, জাভা দ্বীপে সতর্কতা জারি

অগ্ন্যুৎপাতের ফলে দ্বীপটির হাজার হাজার বাসিন্দাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় সময় পৌনে ৩টার দিকে ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার উচ্চতার আগ্নেয়গিরিটিতে এই অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। খবর রয়টার্সের।

এ কারণে দ্বীপটির হাজারো বাসিন্দাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার এই সতর্কতা জারি করে আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে সেমেরুর নিকটস্থ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাউন্ট সেমেরুর কাছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাদেশিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রোববার ভারী বৃষ্টির কারণে আগ্নেয়গিরির লাভা দ্রুত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে সোমবার বৃষ্টি কমায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো আছে।

এ ঘটনায় এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং প্লেন চলাচলে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্ন্যুৎপাত শুরুর পর স্থানীয়রা অনেকে এলাকা ছেড়ে গেছেন। সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বাসিন্দাকে।

গত বছর সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা যায় এবং হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়।


ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও নতুন বসতি স্থাপন বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরছেন কট্টরপন্থি রাজনীতিক বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার আগের ১২ বছরের শাসনামলে দফায় দফায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ইহুদী বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলে এই দখলদারিত্ব আরও বেপরোয়া রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বা নতুন বসতি স্থাপনচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ‘আশার আলো’ জ্বালিয়ে রাখতে মার্কিন প্রশাসন ‘নিরলস’ কাজ করে যাবে।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইসরায়েলি শান্তিকামীদের’ সংগঠন ‘জে স্ট্রিট’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে ব্লিংকেন ওয়াশিংটনের এ অবস্থান জানান। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর দল। প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে তিনি জোট বেঁধেছেন উগ্রপন্থি ও দখলদারিত্বের পক্ষে থাকা কিছু দলের সঙ্গে।

ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, এক যুগের শাসনামলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে রেকর্ড ইহুদি বসতি স্থাপন করা নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরলে দখলদারিত্ব আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে, যেটা পশ্চিম তীরের পাশাপাশি পূর্ব জেরুসালেমেও দেখা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দখলদারিত্ব বা জোরপূর্বক বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে দেখা হয়। দ্বি-রাষ্ট্রনীতির আলোকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বড় বাধা মনে করা হয় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমকে।

ব্লিংকেন বলেন, ‘কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং সরকার কী নীতি মেনে চলে সেটির মাধ্যমে আমরা তাদের মানদণ্ড পরিমাপ করবো।’

ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘(ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়) দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নীতিকে ক্ষুণ্ন করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে করে যাবো। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে) বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীর দখলের দিকে অগ্রসর হওয়া, পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থায় ব্যাঘাত, ধ্বংস ও উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং সহিংসতায় উসকানি।’


banner close